জাপানের পর্যটনশিল্পে আলোড়ন তোলা মাঙ্গা
২০২৫ সালের গ্রীষ্মে জাপানের পর্যটনশিল্প—যেখানে সাধারণত এশিয়ার নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ভিড় থাকে—এক অপ্রত্যাশিত ঘটনায় আলোড়িত হয়েছে: কয়েক দশক আগের একটি মাঙ্গাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া গুজব, যাতে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে দেশটিতে ভয়াবহ ভূমিকম্প বা সুনামি আঘাত হানবে। হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং এর বাইরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ভবিষ্যদ্বাণীর কারণে ভ্রমণ বুকিংয়ে বড় ধরনের পতন, ফ্লাইট বাতিল এবং সম্ভাব্য পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কিন্তু এই ভবিষ্যদ্বাণীর উৎস কী, আর এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কি?
সূচিপত্র
- জাপানের পর্যটনশিল্পে আলোড়ন তোলা মাঙ্গা
- সূত্রপাত: একটি মাঙ্গা, স্বপ্নের ডায়েরি ও ভবিষ্যদ্বাণী
- যেভাবে ভাইরাল হলো ভবিষ্যদ্বাণী
- পর্যটনে প্রভাব: বুকিং কমেছে, ফ্লাইট ছাঁটাই
- মাঙ্গাটিতে আসলে কী বলা হয়েছে?
- বিজ্ঞান বনাম ভবিষ্যদ্বাণী: ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি সম্ভব?
- মানুষ ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বাস করে কেন?
- সরকারি প্রতিক্রিয়া: শান্ত ও যুক্তিবাদী থাকার আহ্বান
- সারসংক্ষেপ
সূত্রপাত: একটি মাঙ্গা, স্বপ্নের ডায়েরি ও ভবিষ্যদ্বাণী
গল্পের শুরু জাপানি শিল্পী রিও তাতসুকির ১৯৯৯ সালে প্রথম প্রকাশিত মাঙ্গা “ওয়াতাশি গা মিতা মিরাই” (“আমি যে ভবিষ্যৎ দেখেছি”) দিয়ে। ১৯৮০-এর দশকে তাতসুকি লিখে রাখা একাধিক স্বপ্নের ওপর মাঙ্গাটি ভিত্তি করে তৈরি; পরে তিনি সেগুলো ছবি এঁকে গ্রাফিক নভেল হিসেবে প্রকাশ করেন। স্বপ্নগুলোর একটিতে সাংকেতিকভাবে ২০১১ সালের মার্চে একটি “মহাবিপর্যয়ের” পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল—পরে দেখা যায়, তারিখটি জাপানে আঘাত হানা ভয়াবহ তোহোকু ভূমিকম্প ও সুনামির সঙ্গে মিলে যায়। ওই দুর্যোগে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিহত হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটে।
এই আপাত ভবিষ্যদ্বাণীর কারণে জাপান এবং পূর্ব এশিয়াজুড়ে তাতসুকি বিশেষ ভক্তগোষ্ঠীর মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০২১ সালে “পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ” হিসেবে পুনঃপ্রকাশিত তাঁর মাঙ্গায় একটি নতুন, অশুভ সতর্কবার্তা ছিল: “আসল বিপর্যয় আসবে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে।” হালনাগাদ সংস্করণে তাতসুকি জাপান ও ফিলিপাইনের মাঝামাঝি সমুদ্রতলের নিচে ফাটল তৈরি হওয়ার দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। সেই ফাটল থেকে ২০১১ সালের দুর্যোগের চেয়ে “তিন গুণ বড়” সুনামি সৃষ্টি হবে এবং জাপানের উপকূলের কাছে সমুদ্র “টগবগ করে ফুটবে”। নির্দিষ্ট তারিখ—২০২৫ সালের ৫ জুলাই—জল্পনা ও আতঙ্ক বাড়িয়েছে, বিশেষত মাঙ্গার আগের “ভবিষ্যদ্বাণী” সত্যি হয়েছে বলে মনে হওয়ায়।
যেভাবে ভাইরাল হলো ভবিষ্যদ্বাণী
চারটি বড় টেকটোনিক প্লেটের ওপর এবং ভূমিকম্পপ্রবণ “রিং অব ফায়ার”-এর ভেতরে অবস্থিত জাপানের কাছে ভূমিকম্প নতুন কিছু নয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ে দুর্যোগ ঘটার ধারণাটি নতুন। কয়েকটি কারণে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের ভবিষ্যদ্বাণী ছড়িয়ে পড়ে:
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার: ২০২৫ সালের শুরুর দিকে হংকং ও চীনের মূল ভূখণ্ডের প্রভাবশালী ফেংশুই বিশেষজ্ঞ ও অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার দাবিদারেরা মাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। ভাইরাল ভিডিও, #July2025Prediction-এর মতো হ্যাশট্যাগ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে টিকে থাকার সরঞ্জাম বিক্রি—সব মিলিয়ে আসন্ন বিপর্যয়ের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়।
- সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন: এশিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণীটি নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে প্রায়ই মাঙ্গার “অতীতের ভবিষ্যদ্বাণীর রেকর্ড”—২০১১ সালের ভূমিকম্প, প্রিন্সেস ডায়ানা ও ফ্রেডি মার্কারির মৃত্যু, এমনকি কোভিড-১৯ মহামারিসহ—উল্লেখ করা হয়।
- সরকারি সতর্কতা: প্রায় একই সময়ে জাপান সরকার নানকাই ট্রাফ—জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের অদূরে একটি ফল্ট অঞ্চল—নিয়ে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে আগামী ৩০ বছরে মহাভূমিকম্পের সম্ভাবনা ৭০-৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ ধরা হয়। এটি ছিল প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ঝুঁকি মূল্যায়ন, তবে কেউ কেউ একে মাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতার প্রমাণ হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করেন।
গুজব, উদ্বেগ ও ভুল তথ্যের এই নিখুঁত মিশ্রণের ফলে মানুষের ভ্রমণ-আচরণে বাস্তব প্রভাব পড়ে।
পর্যটনে প্রভাব: বুকিং কমেছে, ফ্লাইট ছাঁটাই
জাপানের পর্যটনশিল্পে এই ভবিষ্যদ্বাণীর প্রভাব ছিল বড় ধরনের, বিশেষত জাপানি পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ বাজার হংকং, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ায়। ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্স ও ফরওয়ার্ডকিজের তথ্য অনুযায়ী:
- বসন্তের ছুটিতে, এপ্রিল-মে মাসে, হংকং থেকে জাপানের ফ্লাইট বুকিং আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ কমেছে।
- ২০২৫ সালের জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের শুরুর দিকের বুকিং আগের বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ ৮৩ শতাংশ কমেছে।
- তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকেও একই ধরনের পতনের খবর পাওয়া গেছে; কিছু ভ্রমণ সংস্থা গ্রীষ্মকালীন বুকিং ৮০ শতাংশ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
হংকংভিত্তিক স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা গ্রেটার বে এয়ারলাইনস বুকিং স্থবির থাকায় সেনদাই রুটে সপ্তাহে চারটি যাওয়া-আসার ফ্লাইট কমিয়ে দুটিতে নামিয়েছে এবং তোকুশিমাগামী ফ্লাইটও কমিয়েছে। অন্যান্য বিমান সংস্থা ও ভ্রমণ সংস্থাও একই প্রবণতার কথা জানিয়েছে। অনেক ভ্রমণকারী চীনের মূল ভূখণ্ড, অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপের মতো বিকল্প গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন।
হংকংয়ের ভ্রমণ সংস্থা ডব্লিউডব্লিউপিকেজির নির্বাহী পরিচালক ইউয়েন চুন-নিং পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন:
গুজবের অব্যাহত প্রচার জাপানগামী হংকংয়ের পর্যটকদের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ছাড় ও প্রচারমূলক অফার থাকা সত্ত্বেও বুকিং না হওয়াই স্পষ্ট করে যে ভ্রমণকারীরা ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।
কিছু বাজারে আতঙ্ক ছড়ালেও জাপানে সামগ্রিক পর্যটকের সংখ্যা এখনো শক্তিশালী। জাপান ন্যাশনাল ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে রেকর্ড ১ কোটি ৫০ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক জাপান সফর করেছেন; চীনের মূল ভূখণ্ড ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে পূর্ব এশিয়ার কিছু বাজার থেকে বুকিংয়ে তীব্র পতন স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন খাতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
মাঙ্গাটিতে আসলে কী বলা হয়েছে?
“আমি যে ভবিষ্যৎ দেখেছি” কোনো গতানুগতিক দুর্যোগবিষয়ক মাঙ্গা নয়। এটি তাতসুকির ১৯৮৫ সালে লিখে রাখা ১৫টি স্বপ্নের সংকলন, যেখানে ছবির পাশাপাশি তারিখ ও সাংকেতিক বার্তা রয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি “ভবিষ্যদ্বাণী” হলো:
- ১৯৯৫ সালের কোবে ভূমিকম্প
- ২০১১ সালের তোহোকু ভূমিকম্প ও সুনামি
- প্রিন্সেস ডায়ানা ও ফ্রেডি মার্কারির মৃত্যু
- ২০২০ সালে মহামারি (কোভিড-১৯ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়)
২০২৫ সালের জুলাইয়ের ভবিষ্যদ্বাণীটিই সবচেয়ে উদ্বেগজনক: জাপান ও ফিলিপাইনের মাঝামাঝি সমুদ্রতলের নিচে বিশাল ফাটল সৃষ্টি হয়ে সুনামি ও “ফুটন্ত সমুদ্রের” দৃশ্য। ২০২১ সাল থেকে মাঙ্গাটির পুনর্মুদ্রিত সংস্করণ প্রায় ১০ লাখ কপি বিক্রি হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা তারিখ যত এগিয়ে এসেছে, এর বিশেষ ভক্তগোষ্ঠীর জনপ্রিয়তাও তত বেড়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা, এমনকি তাতসুকি নিজেও, এসব ভবিষ্যদ্বাণী আক্ষরিক অর্থে না নিতে সতর্ক করেছেন। মাইনিচি শিম্বুনকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তাতসুকি বলেন:
অকারণে প্রভাবিত না হওয়া… এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত শোনা গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞান বনাম ভবিষ্যদ্বাণী: ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি সম্ভব?
জাপান বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি। তবে ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট সময়, অবস্থান ও মাত্রা সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস দেওয়া এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরির তৎপরতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণকারী জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) বারবার জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আসন্ন কোনো বিপর্যয়ের লক্ষণ নেই।
জেএমএর মহাপরিচালক রিওইচি নোমুরা ২১ মে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে গুজব নিয়ে বলেন:
ভূমিকম্পের সঠিক সময় ও অবস্থান সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া অসম্ভব। নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে দুর্যোগের তথ্য প্রচার হলে তাতে প্রভাবিত না হতে আমরা জনগণকে আহ্বান জানাই। ভয়ের বশে অযৌক্তিক আচরণ না করারও জোর পরামর্শ দিচ্ছি।
ভূকম্পবিদেরা জানান, কয়েক দশকের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বড় ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা নিরূপণ করা সম্ভব হলেও নির্দিষ্ট দিন বা মাস চিহ্নিত করার মতো বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা এখনো নেই। লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক স্টুয়ার্ট ফিশউইক Metro.co.uk-কে বলেন:
আগামী ৩০ বছরে ৮০ শতাংশ সম্ভাবনার হিসাবটিও এই এলাকার জন্য করা পূর্বাভাসগুলোর সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি। অন্যদের হিসাবে তা প্রায় ১০-৩০ শতাংশ। কোনো নির্দিষ্ট ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট সময়, অবস্থান ও মাত্রা সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া যায় না।
জাপানের উন্নত দুর্যোগ প্রস্তুতি অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সুনামি প্রতিরোধী দেয়াল, ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণবিধি এবং ভূকম্পন শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসংবলিত দ্রুতগতির ট্রেন। এসবের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশটি অধিকাংশ দেশের চেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত। তবে ভূমিকম্পের অনিশ্চয়তা জাপানের জীবনযাত্রার বাস্তবতা, আর বিশেষজ্ঞরা নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার বদলে সাধারণ প্রস্তুতি নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
মানুষ ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বাস করে কেন?
তাতসুকির মাঙ্গার প্রভাব শুধু এর বিষয়বস্তুর কারণে নয়; যে সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে এটি পড়া হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানবিষয়ক অধ্যাপক লরা মিলার নিউজউইককে বলেন:
ভবিষ্যৎ নিয়ে গণনা ও পূর্বাভাস জনপ্রিয় সংস্কৃতির সব মাধ্যমেই রয়েছে, আরও শত শত মাঙ্গাতেও। ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্পষ্ট দুশ্চিন্তা থাকা জাপানের বাইরের মানুষের কাছে হয়তো তাতসুকির মাঙ্গাটি আবেদন তৈরি করে। উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা বা মনোযোগ দেওয়ার একটি উপায় হয়ে উঠেছে এই মাঙ্গা।
ভয়াবহ ভূমিকম্পের ইতিহাসের সঙ্গে ২০১১ সালের দুর্যোগের সম্মিলিত মানসিক আঘাত যুক্ত হওয়ায় জাপানের মানুষ সতর্কবার্তার প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল—তা যতই অবৈজ্ঞানিক হোক না কেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব দ্রুত ছড়িয়ে নিজস্ব গতিতে চলতে শুরু করায় “ভবিষ্যদ্বাণীর প্রভাব” আরও বেড়ে যায়। এই ঘটনা শুধু জাপানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; ২০১২ সালে “মায়া সভ্যতার পৃথিবী ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী” ঘিরে আতঙ্কের মতো একই ধরনের উদ্বেগের ঢেউ বিশ্বজুড়েও দেখা গেছে।
সরকারি প্রতিক্রিয়া: শান্ত ও যুক্তিবাদী থাকার আহ্বান
জাপানের কর্মকর্তারা ও স্থানীয় প্রশাসকেরা গুজবের জবাব দিতে এবং ভ্রমণকারীদের অবৈজ্ঞানিক ভবিষ্যদ্বাণীতে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানাতে দ্রুত উদ্যোগ নিয়েছেন। ২০১১ সালের ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি মিয়াগি প্রিফেকচারের গভর্নর ইয়োশিহিরো মুরাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈজ্ঞানিক গুজব ছড়িয়ে পর্যটনে প্রভাব পড়লে তা বড় সমস্যা হবে। উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই, কারণ জাপানিরা বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে না… আমি আশা করি মানুষ এসব গুজব উপেক্ষা করে এখানে বেড়াতে আসবে।
একইভাবে জাপান আবহাওয়া সংস্থা ও দুর্যোগ প্রস্তুতি বিশেষজ্ঞরা আবারও বলেছেন, ২০২৫ সালের জুলাইয়ের ভবিষ্যদ্বাণীর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কর্তৃপক্ষের বার্তা স্পষ্ট: জাপানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য প্রস্তুত থাকা সব সময়ই বুদ্ধিমানের কাজ, তবে গুজব বা কাল্পনিক ভবিষ্যদ্বাণীর ভিত্তিতে ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করার কোনো কারণ নেই।
সারসংক্ষেপ
- রিও তাতসুকির “আমি যে ভবিষ্যৎ দেখেছি” মাঙ্গাকে ঘিরে জাপানে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প বা সুনামি আঘাত হানার গুজব পূর্ব এশিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
- এই ভবিষ্যদ্বাণীর কারণে হংকং, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ভ্রমণ বুকিংয়ে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। কিছু বিমান সংস্থা ফ্লাইট কমিয়েছে এবং ভ্রমণ সংস্থাগুলো বুকিংয়ে সর্বোচ্চ ৮৩ শতাংশ পতনের কথা জানিয়েছে।
- ২০১১ সালের তোহোকু ভূমিকম্পের আপাত পূর্বাভাসের কারণে মাঙ্গাটি বিশেষ ভক্তগোষ্ঠীর মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এবং লেখক নিজেও এর স্বপ্নগুলোকে আক্ষরিক অর্থে না নিতে সতর্ক করেছেন।
- জাপান সরকার ও বৈজ্ঞানিক মহল জোর দিয়ে বলেছে, ভূমিকম্পের সঠিক সময় ও অবস্থান সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া অসম্ভব এবং ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আসন্ন কোনো বিপর্যয়ের লক্ষণ নেই।
- দুর্যোগ প্রস্তুতিতে জাপান এখনো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি; দেশটিতে উন্নত অবকাঠামো ও জরুরি ব্যবস্থা রয়েছে।
- কর্মকর্তারা ভ্রমণকারীদের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলতে, শান্ত থাকতে এবং গুজবের কারণে পরিকল্পনা বদল না করতে আহ্বান জানিয়েছেন।






