টোকিওতে অতিরিক্ত ১,৮৬৪ জন্মে বেড়েছে জাতীয় মোট
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে জাপানে জন্ম নেওয়া জাপানি শিশুদের সংখ্যা ছিল ৩২০,৪৫৮। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় তা ১,৩৭৯ বা ০.৪% বেশি। স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় ৪ নভেম্বর প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, ২০১৫ সালের পর এই প্রথম বছরের প্রথম ছয় মাসে জাতীয় জন্মসংখ্যা বেড়েছে।
সূচিপত্র
- টোকিওতে অতিরিক্ত ১,৮৬৪ জন্মে বেড়েছে জাতীয় মোট
- রাজধানীতে টানা তিন মেয়াদে বৃদ্ধি
- টোকিওর নেতৃত্বে ২৪টি প্রিফেকচারে বৃদ্ধি
- জাতীয় জন্মসংখ্যার দুটি হিসাব কেন
- বিয়ে বাড়ায় জন্মসংখ্যাও বাড়তে পারে
- টোকিও কী ধরনের সহায়তা দেয়?
- জন্মসংখ্যা বাড়লেও প্রজনন হার কম
- প্রতিটি প্রিফেকচারেই জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি
- বড় পতনের পর সামান্য পুনরুদ্ধার
- মূল তথ্য
জাতীয় বৃদ্ধির চেয়েও বেশি অবদান রেখেছে টোকিও। রাজধানীতে জন্ম হয়েছে ৪১,৭৪৫ শিশুর, যা ১,৮৬৪ বা ৪.৭% বেশি। অন্য ৪৬টি প্রিফেকচারে সম্মিলিতভাবে জন্মসংখ্যা কমেছে ৪৮৫। টোকিওর বৃদ্ধি না থাকলে জাতীয় জন্মসংখ্যা আবারও কমত।
এক দশক ধরে প্রতিবছর রেকর্ডসংখ্যক কম জন্মের পর এই উন্নতি দেখা গেল। একই সময়ে জন্মের তুলনায় মৃত্যুর কারণে জাপানের জনসংখ্যা অনেক বেশি কমছে। ২০২৬ সালে মোট জন্মসংখ্যা ২০২৫ সালের প্রায় ৬৭১,০০০-এর কাছাকাছি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৮৯৯ সালে তুলনাযোগ্য হিসাব শুরু হওয়ার পর দেশের বার্ষিক জন্মসংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছিই থাকবে।
টোকিও মেট্রোপলিটন সরকারের শিশু নীতির দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা রাজধানীর অবদান সম্পর্কে বলেন:
[বৃদ্ধিতে] টোকিওতে জন্মসংখ্যা জাতীয় প্রবণতাকে এগিয়ে নিচ্ছে।
টোকিওর পরিসংখ্যানে বৃদ্ধির গতিতেও পরিবর্তন দেখা যায়। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে সেখানে জন্মসংখ্যা মাত্র ০.৩% বেড়েছিল। পরের ছয় মাসে বৃদ্ধি ছিল ১.৭%, আর ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ৪.৭%। প্রতিটি বৃদ্ধির হিসাব আগের বছরের একই ছয় মাসের সঙ্গে তুলনা করে করা হয়েছে।
রাজধানীতে টানা তিন মেয়াদে বৃদ্ধি
টোকিওর শিশু নীতি সমন্বয় দপ্তরের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে জন্ম হয়েছিল ৩৯,৮৮১ শিশুর, যা আগের বছরের তুলনায় ১০৫ বেশি। এই সময়সীমায় ১০ বছরের মধ্যে সেটিই ছিল প্রথম বৃদ্ধি। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে জন্ম হয় ৪৫,১৮৩ শিশুর, যা ৭৫৪ বেশি।
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে এই উন্নতি টানা তিনটি ছয় মাসের মেয়াদে বজায় ছিল। মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসের প্রতিটিতেই জন্মসংখ্যা বেড়েছে। ফলে সর্বশেষ মোট সংখ্যার আগে রাজধানীতে কয়েক মাস ধরে বৃদ্ধির ধারা দেখা গেছে।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে জাপানে দেশজুড়ে নথিভুক্ত জন্মের প্রায় ১৩% ছিল টোকিওর। ৩২০,৪৫৮টির মধ্যে ৪১,৭৪৫টি ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। টোকিওতে ১,৮৬৪টি জন্ম বাড়লেও জাতীয় বৃদ্ধি ছিল ১,৩৭৯, কারণ রাজধানীর বাইরের হ্রাসের ফলে সেই বৃদ্ধির একাংশ পুষিয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক ধারাটি কীভাবে গড়ে উঠেছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
- জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৫: টোকিওতে জন্ম হয় ৩৯,৮৮১ শিশুর; আগের বছরের তুলনায় ১০৫ বা ০.৩% বেশি।
- জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৫: টোকিওতে জন্ম হয় ৪৫,১৮৩ শিশুর; ৭৫৪ বা ১.৭% বেশি।
- মার্চ থেকে জুন ২০২৬: টোকিওতে টানা চার মাস জন্মসংখ্যা বেড়েছে।
- জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬: টোকিওতে জন্ম হয় ৪১,৭৪৫ শিশুর; ১,৮৬৪ বা ৪.৭% বেশি।
- ৪ নভেম্বর ২০২৬: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় পরিসংখ্যান প্রকাশ করে এবং টোকিও সর্বশেষ ফলাফল জানায়।
টোকিওর নেতৃত্বে ২৪টি প্রিফেকচারে বৃদ্ধি
জাপানের ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে ২৪টিতে জন্মসংখ্যা বেড়েছে এবং ২৩টিতে কমেছে। আইচি ও ফুকুওকাসহ কয়েকটি নগর এলাকায়ও টোকিওর মতো বৃদ্ধি দেখা গেছে। প্রিফেকচারের মধ্যে শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে টোকিওতে।
রাজধানীর বাইরের সম্মিলিত হিসাব অবশ্য নেতিবাচক। অন্য ৪৬টি প্রিফেকচারে জন্ম হয়েছে ২৭৮,৭১৩ শিশুর, আগের বছরের ২৭৯,১৯৮-এর তুলনায় ৪৮৫ বা প্রায় ০.২% কম। কিছু এলাকার বৃদ্ধি অন্য এলাকার হ্রাসের চেয়ে কম ছিল।
তাই জাপানের জাতীয় বৃদ্ধি দুটি প্রবণতার সমন্বয়: অর্ধেকের একটু বেশি প্রিফেকচারে জন্মসংখ্যা বেড়েছে এবং সবচেয়ে বড় শহরটি বিশেষভাবে বড় অবদান রেখেছে। দেশের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে হ্রাস অব্যাহত থাকলেও জাতীয় মোট ইতিবাচক হতে পারে।
টোকিওতে জন্মের কেন্দ্রীভবন জনসংখ্যার বৃহত্তর প্রবণতার সঙ্গেও মেলে। সর্বশেষ জনশুমারির বিস্তারিত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আদমশুমারিতে আগের পাঁচ বছরে বাসিন্দার সংখ্যা বেড়েছে এমন একমাত্র প্রিফেকচার ছিল টোকিও। কোনো স্থানে কত মানুষ বসবাস করেন, তা নির্ধারণে জন্ম, মৃত্যু ও অভিবাসন—সবই ভূমিকা রাখে।
জাতীয় জন্মসংখ্যার দুটি হিসাব কেন
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনমিতিক পরিসংখ্যানে ভিন্ন পরিধির একাধিক হিসাব রয়েছে। ৩২০,৪৫৮ সংখ্যাটি জাপানে জন্ম নেওয়া জাপানি শিশুদের হিসাব। আরও বিস্তৃত প্রাথমিক হিসাবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জন্মসংখ্যা ছিল ৩৪২,০৬৮, যা আগের বছরের ৩৩৯,২৮০-এর তুলনায় ২,৭৮৮ বা ০.৮% বেশি।
বিস্তৃত প্রাথমিক হিসাবে জাপানে জন্ম নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের শিশু এবং বিদেশে জন্ম নেওয়া জাপানি নাগরিকদের শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত। তাই শুধু জাপানে জন্ম নেওয়া জাপানি শিশুদের হিসাবের চেয়ে এর মোট সংখ্যা বেশি। ওই বিস্তৃত প্রাথমিক হিসাবের পরবর্তী সরকারি পরিসংখ্যান পরে প্রকাশের কথা, তবে তারিখ জানানো হয়নি।
উভয় হিসাবেই জানুয়ারি থেকে জুনের জন্মসংখ্যা ১১ বছরের মধ্যে প্রথমবার বেড়েছে। তবে বিস্তৃত প্রাথমিক হিসাবেও টানা পঞ্চম বছরের মতো জন্মসংখ্যা ৪০০,০০০-এর নিচে ছিল।
কোন জনসমষ্টিকে হিসাবে ধরা হচ্ছে, তার ওপর বৃদ্ধির হার নির্ভর করে: জাপানের ভেতরে জাপানি জন্মের ক্ষেত্রে ০.৪% এবং বিস্তৃত প্রাথমিক হিসাবে ০.৮%। একই ছয় মাসের হিসাব নিয়ে আলোচনায় কেন দুটি মোট সংখ্যা দেখা যায়, তা বুঝতে এই সংজ্ঞাগুলো মনে রাখা জরুরি।
বিয়ে বাড়ায় জন্মসংখ্যাও বাড়তে পারে
২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিয়ের সংখ্যা বেড়েছে, যা সাম্প্রতিক জন্মবৃদ্ধির একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। দম্পতিরা পরিবার শুরু করলে বা বড় করলে পরবর্তী মাসগুলোতে বিয়ের প্রবণতা জন্মসংখ্যায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিস্তৃত প্রাথমিক পরিসংখ্যানে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিয়ে হয়েছে ২৩৮,৯৭৯টি, আগের বছরের একই সময়ে ২৩৮,৫৬১টির তুলনায় বেশি। বৃদ্ধি ছিল ৪১৮ বা ০.২%, যা ওই একই হিসাবের জন্মবৃদ্ধির হারের চেয়ে অনেক কম।
বিয়ে ও শিশুর জন্ম সাধারণত একই সময়ে ঘটে না, তাই এ দুটি সংখ্যা ভিন্ন সময়সীমা ধরে বিবেচনা করা দরকার। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে ২০২৬ সালের শুরুর দিকের জন্মসংখ্যার সম্ভাব্য সম্পর্ক রয়েছে।
বিস্তৃত প্রাথমিক হিসাবে বিবাহবিচ্ছেদ ৯৩,৭৫৫ থেকে কমে ৯০,১৭৭ হয়েছে। বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদের এই পরিসংখ্যান পরিবার গঠনে সামান্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে জন্মের হিসাবে দেখা যায়, জাতীয় পর্যায়ে সামান্য বৃদ্ধি হয়েছে, যার বড় অংশই টোকিওতে কেন্দ্রীভূত।
টোকিও কী ধরনের সহায়তা দেয়?
টোকিওর শিশু নীতি দপ্তর বিনা মূল্যে শূন্য থেকে দুই বছর বয়সী প্রথম সন্তানের শিশুযত্নসেবার ফি এবং ০১৮ সাপোর্ট কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেছে। এ কর্মসূচিতে শূন্য থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের মাসে ¥৫,০০০ দেওয়া হয়।
যোগ্য কোনো শিশুর ক্ষেত্রে পুরো এক বছরে এই মাসিক সহায়তার পরিমাণ দাঁড়ায় ¥৬০,০০০। শিশুযত্নসেবার ফি মওকুফ করলে পরিবারের নিয়মিত খরচের আরেকটি অংশ কমে, বিশেষ করে সন্তান জন্মের পর মা-বাবা কাজে ফিরলে।
মেট্রোপলিটন সরকার এসব পদক্ষেপকে সম্পর্ক, বিয়ে, সন্তান জন্ম, সন্তান লালন-পালন এবং কর্মজীবনের সঙ্গে পারিবারিক জীবন মেলানোর একটি বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে তুলে ধরে। জাতীয় পর্যায়েও শিশুভাতা ও অভিভাবকত্বকালীন ছুটিতে আর্থিক সহায়তা বাড়ানো হয়েছে।
টোকিওর সাম্প্রতিক বৃদ্ধি এসব নীতির প্রেক্ষাপটকে বাস্তব করে তুলেছে: সামান্য বৃদ্ধির পর এবার আরও বেশি শিশু জন্ম নিচ্ছে। নভেম্বরে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে প্রতিটি কর্মসূচির অবদান কতটা, তার হিসাব নেই। বিয়ের প্রবণতা, সম্ভাব্য মা-বাবার সংখ্যা এবং পরিবারের পরিস্থিতিও জন্মসংখ্যাকে প্রভাবিত করে।
পরিবারকে সহায়তা শুধু অর্থ বা শিশুযত্নসেবার ফিতেই সীমাবদ্ধ নয়। হোক্কাইডোতে রাতের কান্নার ক্যাফে ক্লান্ত মায়েদের বিশ্রামের সুযোগ দিয়েছে, আর স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুদের দেখাশোনায় সহায়তা করেছেন। এ ধরনের সেবা শিশুপালনের দৈনন্দিন চাপ কমায়, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন প্রচলিত সহায়তা পাওয়া যায় না।
জন্মসংখ্যা বাড়লেও প্রজনন হার কম
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, জাপানের মোট প্রজনন হার ২০২৫ সালে রেকর্ড সর্বনিম্ন ১.১৪-তে নেমেছে; ২০২৪ সালে তা ছিল ১.১৫। কোনো বছরে যে জন্মপ্রবণতা দেখা যায়, তা অব্যাহত থাকলে একজন নারী তাঁর জীবদ্দশায় গড়ে কত সন্তান জন্ম দেবেন, এই হার তার একটি অনুমান।
জন্মসংখ্যা ও প্রজনন হার ভিন্ন বিষয় পরিমাপ করে। নির্দিষ্ট সময়ে কত শিশু জন্মেছে, তা জানায় জন্মসংখ্যা। বিভিন্ন বয়সী নারীর সঙ্গে জন্মের সম্পর্ক তুলে ধরে প্রজনন হার। এসব বয়সী নারীর সংখ্যা বা তাঁরা কখন সন্তান নিচ্ছেন—এই পরিবর্তন দুটি পরিমাপে ভিন্ন প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২৫ সালের প্রজনন হার জাপানের জন্য উল্লেখ করা প্রতিস্থাপন-স্তর ২.০৭-এর অনেক নিচে ছিল। অভিবাসন ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে এক প্রজন্মের জায়গায় আরেক প্রজন্ম আসতে যে স্তর প্রয়োজন, সেটিই প্রতিস্থাপন-স্তর। এই ব্যবধান ছিল নারীপ্রতি ০.৯৩ সন্তান।
প্রজনন হারের পরিসংখ্যানটি ২০২৫ সালের পুরো বছরের, আর সর্বশেষ জন্মবৃদ্ধির হিসাব ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের। ২০২৬ সালের পুরো বছরের প্রজনন হার সন্তান জন্মদানের প্রবণতায় পরিবর্তনের আরও পরবর্তী একটি পরিমাপ দেবে।
প্রতিটি প্রিফেকচারেই জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি
জাপানে জন্ম নেওয়া জাপানি শিশুদের অভ্যন্তরীণ হিসাবের সঙ্গে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মৃত্যু ছিল ৭৬৬,৭৪৬টি। বিস্তৃত প্রাথমিক হিসাবে মৃত্যু ছিল ৭৭৮,৯৮২টি। অভ্যন্তরীণ হিসাবে প্রতিটি প্রিফেকচারেই জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি ছিল।
অভ্যন্তরীণ হিসাবে ৭৬৬,৭৪৬ মৃত্যু থেকে ৩২০,৪৫৮ জন্ম বাদ দিলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪৪৬,২৮৮। বিস্তৃত প্রাথমিক হিসাবে ৭৭৮,৯৮২ মৃত্যুর তুলনায় ৩৪২,০৬৮ জন্ম কম ছিল ৪৩৬,৯১৪টি।
এই ব্যবধানকে স্বাভাবিক জনসংখ্যা হ্রাস বলা হয়: মৃত্যুর সংখ্যা থেকে জন্মের সংখ্যা বাদ দিলে যে হিসাব পাওয়া যায়। বাসিন্দা জনসংখ্যার মোট পরিবর্তন হিসাব করার সময় অভিবাসন আলাদাভাবে ধরা হয়।
বিস্তৃত প্রাথমিক হিসাবে ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসের ৮৩৬,৮১৮ মৃত্যুর তুলনায় মৃত্যু ৬.৯% কমেছে। স্বাভাবিক জনসংখ্যা হ্রাস ৪৯৭,৫৩৮ থেকে কমে ৪৩৬,৯১৪ হয়েছে; ব্যবধান কমেছে ৬০,৬২৪। এই উন্নতির বেশির ভাগই এসেছে মৃত্যুর সংখ্যা কমে যাওয়ায়। জন্ম ২,৭৮৮টি বেড়ে তুলনামূলকভাবে কম অবদান রেখেছে।
দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যার চিত্রে জাপানে হ্রাস ও বার্ধক্য—দুটিই অব্যাহত। ২০২৫ সালের আদমশুমারিতে বিদেশি বাসিন্দাসহ মোট বাসিন্দা ছিল প্রায় ১২২.৯৭ মিলিয়ন, যা ২০২০ সালের তুলনায় ২.৫% কম। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের হার রেকর্ড ২৯.৪%—অর্থাৎ প্রায় ১০ জনে তিনজন এই বয়সশ্রেণির।
বড় পতনের পর সামান্য পুনরুদ্ধার
১৯৭৩ সালে জাপানে প্রায় ২.০৯ মিলিয়ন শিশুর জন্ম হয়েছিল। ২০২৫ সালে জাপানি বাসিন্দাদের মধ্যে জন্মসংখ্যা কমে ৬৭১,২৩৬-এ দাঁড়ায়, যা তুলনাযোগ্য হিসাবের মধ্যে সর্বনিম্ন বার্ষিক সংখ্যা। এই সংখ্যার ভিত্তিতে ১৯৭৩ সালের তুলনায় বার্ষিক জন্মসংখ্যা প্রায় ৬৮% কমেছে।
২০২২ সালে বার্ষিক জন্মসংখ্যা ৮০০,০০০-এর নিচে এবং ২০২৪ সালে ৭০০,০০০-এর নিচে নেমে আসে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের এই বৃদ্ধি বড় ধরনের পতনের পর এসেছে। পুরো বছরের জন্মসংখ্যা কয়েক বছর আগের স্তরে ফেরার বদলে ২০২৫ সালের মোটের কাছাকাছি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতীয় জনসংখ্যা ও সামাজিক নিরাপত্তা গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০২৩ সালে পূর্বাভাস দিয়েছিল, ২০৪০ সালের দিকে বার্ষিক জন্মসংখ্যা ৬৭০,০০০-এর পর্যায়ে নামবে। ২০২৫ সালেই তা ওই পর্যায়ে পৌঁছেছে, প্রায় ১৫ বছর আগেই। সর্বশেষ বৃদ্ধির আগে পতন কত দ্রুত এগিয়েছিল, তা এই পরিসংখ্যান দেখায়।
কর্তৃপক্ষ ২০৩০-এর দশকের শুরুর সময়কালকে জন্মসংকট মোকাবিলার শেষ সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে। পরিবারগুলোর জন্য আয়ের পরিমাণ, শিশুযত্নের খরচ, কর্মস্থল থেকে ছুটি এবং দৈনন্দিন পরিচর্যায় সহায়তার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। জাপানের জনসংখ্যার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে পরবর্তী পরীক্ষা হলো, টোকিও ও অন্যান্য নগর এলাকায় দেখা বৃদ্ধির ধারা ২০২৬ সালের বাকি সময়েও অব্যাহত থাকে কি না এবং আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে কি না।
মূল তথ্য
- ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জাপানে জন্ম নেওয়া জাপানি শিশুর সংখ্যা ছিল ৩২০,৪৫৮, যা ০.৪% বেশি। ওই সময়সীমায় ১১ বছরের মধ্যে এটাই প্রথম বৃদ্ধি।
- টোকিওতে জন্ম হয়েছে ৪১,৭৪৫ শিশুর, যা ১,৮৬৪ বা ৪.৭% বেশি। অন্য ৪৬টি প্রিফেকচারে সম্মিলিতভাবে জন্মসংখ্যা কমেছে ৪৮৫।
- বিস্তৃত প্রাথমিক হিসাবে জন্মসংখ্যা ছিল ৩৪২,০৬৮, যা ০.৮% বেশি। এতে জাপানে জন্ম নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের শিশু এবং বিদেশে জন্ম নেওয়া জাপানি নাগরিকদের শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত।
- ২৪টি প্রিফেকচারে জন্ম বেড়েছে এবং ২৩টিতে কমেছে; প্রতিটি প্রিফেকচারেই জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি ছিল।
- ২০২৫ সালে জাপানের প্রজনন হার কমে ১.১৪ হয়েছে। ২০২৬ সালের বার্ষিক জন্মসংখ্যা গত বছরের প্রায় ৬৭১,০০০-এর কাছাকাছি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।






