অভিষেকের ঠিক ১৩ বছর পর বিদায়
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মোহাম্মদ শামি। ইডেন গার্ডেন্সে ভারতের হয়ে অভিষেকের ঠিক ১৩ বছর পর এ ঘোষণা দিলেন তিনি। ৩৬ বছর বয়সী এই পেসার ৬৪ টেস্টে ২২৯ উইকেট, এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার ছয়টি কীর্তি এবং বিদেশের মাটিতে ভারতের স্মরণীয় কিছু জয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক রেকর্ড রেখে বিদায় নিচ্ছেন।
সূচিপত্র
- অভিষেকের ঠিক ১৩ বছর পর বিদায়
- ইডেন গার্ডেন্সে নয় উইকেটে গড়ে দেন মানদণ্ড
- ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানের অর্থ
- দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি স্মরণীয় পারফরম্যান্স
- যেভাবে বল সামলানো কঠিন করে তুলতেন
- চোটের কারণে শেষ টেস্ট ও বিদায়ের মধ্যে ব্যবধান
- অনুপস্থিতির মধ্যেও ঘরোয়া ক্রিকেটে উইকেট পেয়েছেন
- এবার বাংলা ও সীমিত ওভারের ক্রিকেট
- টেস্ট যাত্রা গড়ে দেওয়া তারিখগুলো
- মূল বিষয়গুলো
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের অবসরের ঘোষণায় ৬ নভেম্বর তারিখে প্রকাশিত হিসাবে, দেশের বাইরে ৪১ টেস্টে ৩০.৩৩ গড়ে শামির উইকেট ১৪৫টি। এই পরিসংখ্যান তাঁর অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে: ভারতের বাইরে উইকেট নেওয়া, যেখানে এক সফর থেকে আরেক সফরে পিচ, আবহাওয়া ও পেসারের ওপর চাপ বদলে যেতে পারে।
শামির শেষ টেস্ট ছিল ২০২৩ সালের জুনে দ্য ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। ভারতের টেস্ট দলে দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার পর তাঁর ঘোষণায় আনুষ্ঠানিকভাবে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। সীমিত ওভারের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তাঁর; ১৪ নভেম্বর থেকে শুরু হবে বাংলার পরবর্তী ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট।
ভিডিওসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদায়ের বার্তা দেন শামি। এই সংস্করণ ছাড়ার ব্যক্তিগত তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন:
সাদা জার্সিকে বিদায় জানাচ্ছি, তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলোকে কখনোই নয়।
ভিডিওতে নিজের শহর আমরোহায় ফার্মহাউসে লাল বল ও ভারতের হয়ে অভিষেকের ক্যাপ হাতে দেখা যায় তাঁকে। ক্যাপটির নম্বর ২৭৯। অবসরের তারিখে তাঁর প্রথম ম্যাচ ও বিদায় মিলে গেল, যদিও শেষ টেস্ট খেলার পর তিন বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে।
ইডেন গার্ডেন্সে নয় উইকেটে গড়ে দেন মানদণ্ড
২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করেন শামি। প্রথম ইনিংসে ৪/৭১ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৪৭ নেন তিনি। মোট ১১৮ রান দিয়ে নয় উইকেট নিয়ে অভিষেক ম্যাচ শেষ করেন; ভারত জেতে ইনিংস ও ৫১ রানে।
৪/৭১-এর মতো বোলিং পরিসংখ্যানের অর্থ, একজন বোলার ৭১ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়েছেন। পুরো টেস্টে শামির অভিষেক ম্যাচের ৯/১১৮-ই তাঁর সেরা বোলিং; টেস্টে প্রতিটি দল দুবার ব্যাট করার সুযোগ পায়।
ভারতের জয়ের ব্যবধান এত বেশি ছিল যে স্বাগতিক দলকে একবারই ব্যাট করতে হয়। ভারতের সংগ্রহের সমান হওয়ার আগেই শামির উইকেটগুলো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুবার অলআউট করতে সাহায্য করে। ক্যারিয়ারজুড়ে তাঁর আক্রমণাত্মক ভূমিকার তাৎক্ষণিক আভাস ছিল এটি।
পরে এক ইনিংসে নিজের সেরা ৬/৫৬ বোলিং করেন শামি। ৬৪ টেস্টে ব্যাট হাতে ৭৫০ রানও করেছেন, যার মধ্যে দুটি অর্ধশতক রয়েছে। তবে তাঁর প্রধান দায়িত্ব ছিল প্রতিপক্ষের জুটি ভাঙা।
ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানের অর্থ
শামির ২৭.৭১ বোলিং গড়ের অর্থ, প্রতি উইকেট নিতে তিনি প্রায় ২৮ রান দিয়েছেন। তাঁর ৫০.২৮ স্ট্রাইক রেট অনুযায়ী, গড়ে প্রায় প্রতি ৫০ বল পর একটি উইকেট পেয়েছেন। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৩.৩১; একটি ওভারে বৈধ বল থাকে ছয়টি।
প্রতিটি পরিমাপ তাঁর বোলিংয়ের আলাদা দিক তুলে ধরে। গড়ে প্রতি আউটে দেওয়া রানের হিসাব পাওয়া যায়, স্ট্রাইক রেটে বোঝা যায় তিনি কত ঘন ঘন উইকেট পেয়েছেন, আর ইকোনমি রেটে বোঝা যায় তাঁর বিপক্ষে প্রতিপক্ষ কত দ্রুত রান তুলেছে।
এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার ছয়টি কীর্তি দেখায়, ইনিংসের বড় অংশের দায়িত্ব নেওয়ার সামর্থ্য ছিল শামির। এর চারটি এসেছে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায়, যে দুই দেশে তাঁর সাফল্য দেশের বাইরে ভারতের শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল।
আইসিসির হিসাব অনুযায়ী, তাঁর ২২৯ উইকেটের মধ্যে ১৪৫টি এসেছে দেশের বাইরে, অর্থাৎ প্রায় ৬৩ শতাংশ। ৬৪ টেস্টের মধ্যে ৪১টিতে এই উইকেটগুলো পেয়েছেন, যা তাঁর মোট ম্যাচের প্রায় ৬৪ শতাংশ। অর্থাৎ, তাঁর অধিকাংশ টেস্ট এবং অধিকাংশ উইকেটই এসেছে ভারতের বাইরে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি স্মরণীয় পারফরম্যান্স
২০১৮ সালে জোহানেসবার্গে শামির করা একটি স্পেল ছিল তাঁর সেরা পারফরম্যান্সগুলোর একটি। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/২৮ নিয়ে সফরের শেষ দিকে ভারতকে সান্ত্বনাসূচক জয় এনে দিতে সাহায্য করেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতের পরের সফরে সেঞ্চুরিয়নে প্রথম টেস্টে তাঁর আট উইকেট নেওয়ার কথাও তুলে ধরেছে আইসিসি। ওই পারফরম্যান্স ভারতের আরেকটি জয়ে ভূমিকা রাখে এবং তাতে ছিল ব্যক্তিগত একটি মাইলফলক।
২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঋষভ পান্তের হাতে ক্যাচ দিয়ে কাগিসো রাবাদাকে আউট করে টেস্টে ২০০ উইকেট পূর্ণ করেন শামি। ওই আউটেই এক ইনিংসে তাঁর ষষ্ঠবারের মতো পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও পূর্ণ হয়।
নিজের ৫৫তম টেস্টে ২০০ উইকেটে পৌঁছান শামি। ভারতীয় পেসারদের মধ্যে কপিল দেব ৫০ ম্যাচে এবং জাভাগল শ্রীনাথ ৫৪ ম্যাচে এই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন। কপিলের চেয়ে পাঁচটি এবং শ্রীনাথের চেয়ে মাত্র একটি বেশি ম্যাচ লেগেছিল শামির; ফলে ভারতের পেস বোলিং ইতিহাসের দুই বড় তারকার পাশে স্থান পায় তাঁর অগ্রগতি।
যেভাবে বল সামলানো কঠিন করে তুলতেন
গতি, নির্ভুলতা ও স্থিতিশীল সিম পজিশনকে ঘিরে বোলিং সাজিয়েছিলেন শামি। ক্রিকেট বলের চারপাশে উঁচু সেলাইয়ের অংশটিই সিম। পিচে পড়ার পর এটি বলের দিক বদলে দিতে পারে, ফলে ব্যাটারের হাতে মানিয়ে নেওয়ার সময় থাকে খুব কম।
সুইং বলকে ভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে, কারণ পিচে পৌঁছানোর আগেই বল বাতাসে বাঁক নেয়। শামি দুই দিকেই বল সুইং করাতে পারতেন এবং বল পুরোনো হলেও বিপজ্জনক থাকতেন; পুরোনো বলে রিভার্স সুইং করিয়ে উইকেট খুঁজে নিতেন।
রিভার্স সুইং বলের অবস্থা ও তার গতির ওপর নির্ভর করে। ব্যাটারের জন্য বাস্তব সমস্যা হলো শেষ মুহূর্তের মুভমেন্ট: বল একদিকে যাচ্ছে মনে হলেও পরে ব্যাট বা স্টাম্পের দিকে সরে যেতে পারে।
২০১৮-১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ে এই দক্ষতাগুলো কাজে লাগান শামি। এটি ছিল দলের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন। ২০২১ ও ২০২৩ সালে ভারতকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেওয়া অভিযানেও অবদান ছিল তাঁর।
চোটের কারণে শেষ টেস্ট ও বিদায়ের মধ্যে ব্যবধান
শামির শেষ টেস্ট ছিল ২০২৩ সালের জুনে দ্য ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে; ম্যাচটি হেরে যায় ভারত। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার করান তিনি। হাঁটুর সমস্যাও তাঁর ফেরার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফেরেন তিনি। পরে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে জায়গা পান। যেকোনো সংস্করণে ভারতের হয়ে তাঁর সর্বশেষ ম্যাচ ছিল ২০২৫ সালের মার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনাল, যে ম্যাচে জেতে ভারত।
তাই অবসরের ঘোষণা আসে জাতীয় দল থেকে দুই দফা দূরে থাকার পর: টেস্ট না খেলে তিন বছরেরও বেশি সময় এবং কোনো সংস্করণেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলে প্রায় ২০ মাস।
ভারতের পেসার হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শামি প্রত্যাবর্তনের পেছনের পরিশ্রমের কথা তুলে ধরেন:
এরপর থেকে প্রতিটি উইকেট, প্রতিটি সংগ্রাম, প্রতিটি চোট ও প্রতিটি প্রত্যাবর্তন আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে।
অনুপস্থিতির মধ্যেও ঘরোয়া ক্রিকেটে উইকেট পেয়েছেন
ভারতের দলে ফেরার সম্ভাবনা নাগালের বাইরে থাকলেও বাংলা শামিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলার সুযোগ দিয়েছে। চলতি রঞ্জি ট্রফি মৌসুমে তিন ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এর আগে দিলীপ ট্রফিতে ইস্ট জোনের হয়ে তিন ম্যাচে সাত উইকেট পেয়েছিলেন।
সব মিলিয়ে ছয়টি ঘরোয়া ম্যাচে তাঁর উইকেট ২১টি। রঞ্জিতে বাংলার হয়ে কল্যাণীতে দিল্লির বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়াও ছিল তাঁর পারফরম্যান্সের অংশ।
তবু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের দলে তাঁকে রাখেনি ভারত। ওই সিরিজের আগে চার দিন করে চলা তিন ম্যাচের জন্য ভারত 'এ' দলেও জায়গা হয়নি তাঁর।
তৎকালীন প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরের মন্তব্যের পর তাঁর ফিটনেসের হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার প্রত্যাশার বিষয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছিলেন শামি। উত্তরাখণ্ডের বিপক্ষে বাংলার রঞ্জি ম্যাচের আগে পেসারটি ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন:
নির্বাচন আমার হাতে নয়। ফিটনেস নিয়ে সমস্যা থাকলে বাংলার হয়ে এখানে খেলতে আসতাম না।
তাঁর বক্তব্য ছিল, ম্যাচ খেলার মধ্য দিয়েই প্রস্তুতির প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। অবসরের ঘোষণায় আরেকটি টেস্ট খেলার সম্ভাবনা শেষ হলো, তবে অন্য ক্রিকেটে খেলার পরিকল্পনা খোলা থাকল।
এবার বাংলা ও সীমিত ওভারের ক্রিকেট
অবসরের ঘোষণার দিনই ২০২৬-২৭ মৌসুমের সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফির জন্য ১৯ সদস্যের বাংলার দলে জায়গা পান শামি। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর; টেস্ট থেকে বিদায়ের মাত্র আট দিন পরই তাঁর পরবর্তী নির্ধারিত খেলা।
সীমিত ওভারের ক্রিকেট, ঘরোয়া ক্রিকেট ও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। ফিটনেস থাকলে চার দিনের ম্যাচও খেলতে আগ্রহী। টেস্ট থেকে অবসর ভারতের দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সংস্করণে তাঁর অংশগ্রহণের ইতি টানছে, তবে অন্য প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ থাকছে।
ছোট সংস্করণে তাঁর আন্তর্জাতিক রেকর্ড: ১০৮ ওয়ানডেতে ২০৬ উইকেট এবং ২৫ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২৭ উইকেট। খেলা চালিয়ে গেলে নির্বাচনের জন্য তাঁকে বিবেচনায় রাখা যাবে, যদিও ভারতের হয়ে আবার কবে খেলবেন, সে তারিখ জানানো হয়নি।
সতীর্থ, কোচ, পরিবার ও সমর্থকদের পাশাপাশি ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড এবং ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শামি। তাঁর প্রতিভায় আস্থা রাখা ও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার কৃতিত্ব দিয়েছেন এই দুই সংস্থাকে।
টেস্ট যাত্রা গড়ে দেওয়া তারিখগুলো
কলকাতায় দুর্দান্ত অভিষেক থেকে বিদেশের মাটিতে জয় এবং চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে শেষ ম্যাচ—সব মিলিয়ে বিস্তৃত ছিল শামির ক্যারিয়ার। যেদিন শুরু, ঠিক সেই দিনটির বার্ষিকীতেই আনুষ্ঠানিক বিদায় জানালেন তিনি।
- ৬ নভেম্বর, ২০১৩: ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক; নেন নয় উইকেট।
- জানুয়ারি ২০১৮: জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/২৮ নিয়ে ভারতকে জিততে সাহায্য করেন।
- ২০১৮-১৯: অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ে খেলেন।
- ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১: সেঞ্চুরিয়নে কাগিসো রাবাদাকে আউট করে টেস্টে ২০০ উইকেট পূর্ণ করেন।
- জুন ২০২৩: বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেন শেষ টেস্ট।
- মার্চ ২০২৫: চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের হয়ে সর্বশেষ খেলেন।
- ৬ নভেম্বর, ২০২৬: অভিষেকের ঠিক ১৩ বছর পর টেস্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।
ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার অর্থ কী, সে কথায় ফিরেই বিদায়ের বার্তা শেষ করেন শামি:
টেস্টে হয়তো আমার শেষ বলটি ইতিমধ্যেই করা হয়ে গেছে, কিন্তু ভারতের হয়ে খেলার গর্ব আমার হৃদয়ে সবসময় বেঁচে থাকবে।
মূল বিষয়গুলো
- ৬৪ টেস্টে ২৭.৭১ গড়ে ২২৯ উইকেট নিয়ে অবসর নিচ্ছেন শামি।
- আইসিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের বাইরে ৪১ টেস্টে নিয়েছেন ১৪৫ উইকেট।
- তাঁর ক্যারিয়ারে এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার ছয়টি কীর্তি এবং অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয় রয়েছে।
- তাঁর শেষ টেস্ট ছিল ২০২৩ সালের জুনে দ্য ওভালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল।
- সীমিত ওভারের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর; সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে বাংলার দলে জায়গা পেয়েছেন।
- ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১৪ নভেম্বর।






