বিশেষায়িত আদালতের জন্য আইনি প্রস্তুতি এগোচ্ছে
কম্বোডিয়ার বিচার মন্ত্রণালয় একটি বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালতের জন্য আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ উদ্যোগের ভিত্তি হলো ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি বিচারমন্ত্রী কেওত রিথের স্বাক্ষরিত আইনের অধীনে গঠিত একটি সাংগঠনিক কমিটি। প্রস্তাবিত আদালত ব্যবসায়িক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত ফোরাম দেবে। বর্তমানে দেশটির বিচারব্যবস্থায় বিদ্যমান আদালতগুলোতেই বাণিজ্যিক মামলার বিচার হয়।
সূচিপত্র
ব্যবসায়িক বিরোধ নিষ্পত্তিতে কম্বোডিয়ার আদালত অকার্যকর—কানাডার রাষ্ট্রদূতের এমন সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে মন্ত্রণালয়। জবাবে তারা বাণিজ্যিক আদালত গঠনের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেছে। এ উদ্যোগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কারিগরি সহায়তা রয়েছে এবং দ্রুততর, আরও অনুমানযোগ্য সিদ্ধান্ত চান এমন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও এর পক্ষে।
এ কাজের পরিধি শুধু নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মধ্যে সীমিত নয়। আদালত কোন বিরোধের শুনানি করবে, কী পদ্ধতি অনুসরণ করবে এবং বিচারকদের কী ধরনের অভিজ্ঞতা থাকা দরকার—এসব নিয়ে কর্মকর্তা ও আইন পেশাজীবীরা আলোচনা করেছেন। রায় প্রকাশ, বিচারপ্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত করা এবং কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি ভাষা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ও সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
খসড়া প্রণয়নপ্রক্রিয়া নিয়ে আগের এক প্রতিবেদনে নমপেনে আদালত চালুর সম্ভাব্য সময় হিসেবে ২০২৩ সালের শেষভাগের কথা বলা হয়েছিল। এখানে বর্ণিত অগ্রগতিতে নিশ্চিত কোনো উদ্বোধনের তারিখ বা চূড়ান্তভাবে প্রণীত আইনের কথা জানানো হয়নি। তাই মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে।
মন্ত্রণালয় ও এডিবির প্রস্তুতি
বিচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী চিভ সংহাক এডিবির প্রতিনিধি ফিওনা কনেল ও বিচারপতি আনসেলমো রেয়েসের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যিক আদালতের কার্যাবলি ও প্রচলিত পদ্ধতি নিয়ে একটি আইনের খসড়া তৈরির আলোচনা করেন। এই বিধিমালায় আদালতের দায়িত্ব এবং মামলা দায়ের থেকে রায় পর্যন্ত প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।
বৈঠকের পর মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও প্রতিমন্ত্রী চিন মালিন কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বলেন:
এডিবির সহায়তায় আমরা আইনটির খসড়া তৈরির পর্যায়ে রয়েছি,
মন্ত্রণালয় বাণিজ্যিক ও শ্রম আদালতের জন্য পৃথক কমিটিও গঠন করেছে। মালিন উভয় উদ্যোগকেই বিচার বিভাগীয় সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর ভাষ্য, বিশেষায়িত আদালত বিদ্যমান ব্যবস্থায় বিচারাধীন বিরোধগুলো আরও নিবিড়ভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ দেবে।
প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে বিচারপদ্ধতি, আইনি কাঠামো ও পরিচালনাসংক্রান্ত ব্যবস্থা। দাবি দাখিল, অন্য পক্ষকে অবহিত করা, প্রমাণ উপস্থাপন এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার নিয়ম আদালতের প্রয়োজন। অর্থ আদায় বা বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন এই প্রতিষ্ঠান কতটা কার্যকর হবে, তা এসব বিষয়ই নির্ধারণ করবে।
উদ্যোগটি নিয়ে আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্ত্রণালয় ও এডিবির মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় এবং নভেম্বরে আইনের খসড়া সম্পন্ন হয়। খসড়া সম্পন্ন হলেও আদালত চালু করতে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ধাপগুলো পেরোতে হবে।
দীর্ঘদিনের প্রস্তাব
কম্বোডিয়ায় বাণিজ্যিক আদালত নিয়ে আলোচনা অন্তত ২০০৩ সাল থেকে চলে আসছে বলে জানান দেশটিতে টিলেকে অ্যান্ড গিবিনস আইন প্রতিষ্ঠানের অংশীদার জে কোহেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের প্রেক্ষাপটে সে বছর কম্বোডিয়া বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় জানায়। ২০০৭ সালে বাণিজ্যিক আদালত আইনের একটি খসড়া তৈরি হয়, কিন্তু পরে উদ্যোগটি গতি হারায়।
প্রস্তাবটি নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনার প্রধান মাইলফলকগুলো হলো:
- ২০০৩: কোহেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ডব্লিউটিওতে যোগদানের প্রেক্ষাপটে কম্বোডিয়া বাণিজ্যিক আদালত গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করছিল।
- ২০০৭: বাণিজ্যিক আদালত আইনের একটি খসড়া প্রকাশ করা হয়।
- ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি: বিচারমন্ত্রী কেওত রিথ বাণিজ্যিক আদালত সাংগঠনিক কমিটি গঠনের আইন স্বাক্ষর করেন।
- ২০২৩ সালের শেষভাগ: আগের এক প্রতিবেদনে নমপেনে প্রথম আদালত চালুর সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে এ সময়ের কথা বলা হয়েছিল।
২০০৩ সালের আলোচনা থেকে ২০২৩ সালের লক্ষ্যমাত্রা পর্যন্ত ব্যবধান ছিল প্রায় ২০ বছর। সাংগঠনিক কমিটি ও পরবর্তী খসড়া প্রণয়নকাজ দীর্ঘদিনের প্রস্তাবটিকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দিয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের বর্তমান জোর আইন প্রণয়নের প্রস্তুতির ওপরই।
কোন বিরোধের বিচার হবে এখানে?
বিচার মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র প্রস্তাবিত আদালতকে সব ধরনের ব্যবসায়িক বিরোধ নিষ্পত্তির ফোরাম হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা ফৌজদারি আদালত থেকে পৃথক হবে। মালিন আরও বলেছেন, বর্তমানে বাণিজ্যিক ও শ্রমবিরোধ দেওয়ানি আদালতে যায়। এসব আদালতে সাধারণত অধিকার, দায়বদ্ধতা ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়।
কম্বোডিয়া লজিস্টিকস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিন চানথির ভাষ্য, বাণিজ্যসংক্রান্ত বিরোধ ফৌজদারি আদালতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যদিও তাঁর মতে সেসব আদালতের বিচারকদের ব্যবসা ও বাণিজ্য বিষয়ে সব সময় যথেষ্ট ধারণা ছিল না। এ দুই বক্তব্য ব্যবসায়ীদের একটি বাস্তব উদ্বেগ তুলে ধরে: বিশেষায়িত বাণিজ্যিক ফোরাম ছাড়াই বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাণিজ্যিক বিরোধের বিচার হয়েছে।
দেওয়ানি মামলায় সাধারণত পাওনা অর্থ পরিশোধের মতো প্রতিকার চাওয়া হয়। অন্যদিকে, ফৌজদারি মামলায় কথিত অপরাধ ও সম্ভাব্য শাস্তির বিষয় থাকে। একটি ব্যবসায়িক বিরোধে চুক্তিসংক্রান্ত প্রশ্নের পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও থাকতে পারে। তাই কোন আদালতের কী এখতিয়ার, সে বিষয়ে স্পষ্ট বিধি থাকলে তা বিশেষভাবে কার্যকর হবে।
নমপেনে ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বাণিজ্যিক আদালতবিষয়ক এক সিম্পোজিয়ামে প্রস্তাবিত আদালতের এখতিয়ারের পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এডিবির কম্বোডিয়া কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যোৎস্না ভার্মা। আদালত কোন কোন মামলার শুনানি করতে পারবে, সেই আইনি সীমানাকেই এখতিয়ার বলা হয়। তিনি আরও জানতে চান, মামলার পক্ষগুলো বাণিজ্যিক আদালত বা অন্য কোনো আদালতের মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ পাবে কি না।
বিশেষায়িত বিচারক কেন চান ব্যবসায়ীরা
সিন চানথি প্রস্তাবিত আদালতের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, নিবেদিত কর্মীরা বাণিজ্য ও ব্যবসা সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা অর্জন করতে পারবেন। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণ বাণিজ্যিক রীতিনীতি ব্যাখ্যা করতে কম সময় দিতে হবে এবং বিরোধের মূল তথ্য ও আইনি দায়বদ্ধতার ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়া যাবে।
কম্বোডিয়া চেম্বার অব কমার্সের (সিসিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লিম হেং বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা গড়ে তুলতে সিসিসির সভাপতি কিথ মেং এ প্রস্তাবের উদ্যোগ নেন। তাঁর ভাষ্য, কম্বোডিয়ায় ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রায়ই সিঙ্গাপুর বা ফ্রান্সের আদালতের দ্বারস্থ হয়।
ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো এভাবে তুলে ধরেন লিম হেং:
বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত এই আদালতগুলো ন্যায্য, স্বচ্ছ ও দ্রুতভাবে কাজ করবে এবং কোনো দুর্নীতি থাকবে না—এমন ব্যবস্থা হলে আমরা স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন করব, যা আরও বেশি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করবে,
আইন বিশেষজ্ঞ সোক সাম ওইনের মতে, আলাদা ব্যবসায়িক আইন এবং আদালতের জন্য তৈরি একটি বিচারপ্রক্রিয়া বিধি প্রয়োজন হতে পারে। তাঁর বক্তব্যের বিষয় হলো, বিচারকরা কোন বিধি প্রয়োগ করবেন এবং মামলার পক্ষগুলো কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। দাবি নিষ্পত্তিতে কত সময় ও অর্থ লাগবে, তা এ দুটোর ওপরই নির্ভর করে।
প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক ও শ্রম আদালত বিদ্যমান আদালতগুলোর মামলার জট কমাবে বলেও আশা করা হচ্ছে। প্রাসঙ্গিক মামলাগুলো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠালে সেগুলো আরও নিবিড়ভাবে দেখা যাবে, পাশাপাশি অন্য বিচারকদের বিবেচনাধীন মামলার ধরনও কমবে।
প্রকাশিত রায়ে আইন বোঝা সহজ হতে পারে
বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ হিসেবে স্বচ্ছতা, অনুমানযোগ্যতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে লাগা সময়ের কথা বলেছেন কোহেন। তাঁর ভাষ্য, কম্বোডিয়ার আদালতের রায় নিয়মিত প্রকাশ করা হয় না। ফলে বিচারকরা কীভাবে আইন ব্যাখ্যা করেন, সে সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের জানার সুযোগ সীমিত।
প্রকাশিত রায়ে আদালতের সিদ্ধান্ত এবং তার কারণ তুলে ধরা হয়। কোনো চুক্তি নিয়ে বিবেচনা করার সময় আগের রায়গুলো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের বিরোধে আইনি বিধি কীভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, তা বুঝতে সাহায্য করতে পারে। এসব সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আইনজীবীরাও মক্কেলদের দায়বদ্ধতা ও মামলা করার ঝুঁকি সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারেন।
প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে নিজের আশার কথা জানিয়ে রায় প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরেন কোহেন:
আশা করা হচ্ছে, বাণিজ্যিক আদালত তাদের রায় প্রকাশ করবে, যাতে জনসাধারণ বুঝতে পারে কম্বোডিয়ার আদালতগুলো কীভাবে কম্বোডিয়ার আইন ব্যাখ্যা করছে।
তিনি আরও আশা করেন, শুনানি ও চূড়ান্ত রায়ের সময়সূচি সংক্ষিপ্ত হবে, আপিলের ভিত্তি সম্ভাব্যভাবে সীমিত হবে এবং কম্বোডিয়ার বিচারকদের বাণিজ্যিক বিষয়ে ব্যাপক অভিজ্ঞতা থাকবে। আপিলের প্রক্রিয়া সীমিত হলে কোনো পক্ষ উচ্চ আদালতে রায় পর্যালোচনার আবেদন করার জন্য যে কারণগুলো দেখাতে পারবে, তার পরিধি কমবে।
বিদেশি ভাষায় নথি দাখিল এবং এমনকি ইংরেজিতে শুনানির সম্ভাবনার কথাও বলেছেন কোহেন। আদালত কীভাবে গড়ে উঠতে পারে সে সম্পর্কে এগুলো তাঁর প্রত্যাশা; তিনি যখন এ কথা বলেন, তখন খসড়ার বিস্তারিত বিধান প্রকাশ করা হয়নি।
বিদেশে বিরোধ নিষ্পত্তির খরচ
কোহেন জানান, ২০০৯ সালে কম্বোডিয়ায় আসার সময় কিছু প্রতিষ্ঠানের চুক্তিতে বিদেশে সালিশের বিধান ছিল। কিন্তু দাবি জোরালো ও সরল বলে মনে হলেও খরচের কারণে তারা সেই প্রক্রিয়ায় যেতে পারেনি। তাঁর উল্লেখ করা পছন্দের গন্তব্যগুলোর মধ্যে ছিল সিঙ্গাপুর ও হংকং।
সালিশ এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পক্ষগুলো সাধারণ আদালতের বদলে সম্মত কোনো সিদ্ধান্তদাতার দ্বারস্থ হয়। ব্যবসায়ীরা প্রায়ই চুক্তিতে সালিশের বিধান রাখেন, যার মধ্যে কোথায় প্রক্রিয়াটি হবে, সেটিও নির্দিষ্ট থাকে।
বিদেশে আইনি প্রক্রিয়ায় আইনজীবীর ফি ও অন্যান্য খরচ যোগ হয়, যা কোনো প্রতিষ্ঠানের আদায়ের প্রত্যাশিত অর্থের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠানের চুক্তিতে সিদ্ধান্ত পাওয়ার পথ থাকলেও, সে পথে এগোনো আর্থিকভাবে যুক্তিযুক্ত নয় বলে মনে হতে পারে।
কোহেনের মতে, কম্বোডিয়ার বাণিজ্যিক আদালত স্বচ্ছতা ও দক্ষতার লক্ষ্য অর্জন করতে পারলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জড়িত আরও বিরোধ দেশটির আদালতে বিচারকদের সামনে আসবে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও দেশের ভেতরে একটি বিশেষায়িত ফোরাম পাবে, ফলে বিদেশে নিষ্পত্তির প্রয়োজন কমতে পারে।
বিনিয়োগের পর বিরোধ নিষ্পত্তির ফোরাম বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তি কার্যকর করা, পাওনা আদায় করা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে মতবিরোধ মেটানোর বাস্তবসম্মত উপায় একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন। প্রস্তাবিত আদালত ব্যবসা পরিচালনার এই দিকটি নিয়ে কাজ করবে।
নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তে এডিবির গুরুত্ব
নমপেনের সিম্পোজিয়ামে ভার্মা বলেন, বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় অন্যান্য বিচারব্যবস্থার কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা থেকে কম্বোডিয়া শিক্ষা নিতে পারে। সুস্থ ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলায় বিচার বিভাগের ভূমিকা জোরদার করতে এডিবি কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিরোধ নিষ্পত্তিব্যবস্থা থেকে ব্যবসায়ীরা কী চান, তা ব্যাখ্যা করে ভার্মা বলেন:
ব্যবসায়ীদের এমন বিরোধ নিষ্পত্তিব্যবস্থাও প্রয়োজন, যা নির্ভরযোগ্য, দক্ষ ও স্বচ্ছ।
তাঁর প্রশ্নগুলো শুধু আদালতে কোন বিষয়ের বিচার হবে, তার মধ্যে সীমিত ছিল না। বিরোধের অন্তর্নিহিত ব্যবসায়িক বিষয় বিচারকরা কীভাবে বুঝবেন এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ন্যায্যতা বজায় রেখে মামলাগুলো কীভাবে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা যায়, সেটিও এর মধ্যে ছিল।
তাই কম্বোডিয়ার প্রস্তাবে একাধিক পরস্পর-সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত একত্র হয়েছে: কারা মামলা করতে পারবেন, কোন বিচারকরা তা শুনবেন, কত দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া এগোবে এবং সিদ্ধান্তগুলো কতটা খোলামেলাভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। বাস্তবে কোনো বিরোধ বিচারকের সামনে এলে এসব বিধি কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে, তার ওপরই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছে নতুন আদালতের মূল্য নির্ভর করবে।
মূল বিষয়গুলো
- কম্বোডিয়ার বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি কমিটি বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালতের জন্য আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
- ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত আইনের অধীনে বাণিজ্যিক আদালত সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়।
- আদালতের কার্যাবলি ও পদ্ধতি নিয়ে কাজসহ কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে এডিবি।
- ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বিশেষজ্ঞ বিচারক, দ্রুত সিদ্ধান্ত, স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতিমুক্ত বিচারপ্রক্রিয়া চান।
- প্রকাশিত রায়, আপিলের সীমিত ভিত্তি এবং বিদেশি ভাষায় বিচারপ্রক্রিয়া সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে আলোচিত হয়েছে।
- আগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০২৩ সালের শেষভাগে আদালত চালু করা; এখানে বর্ণিত সর্বশেষ বক্তব্যে আইন প্রণয়নের প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে।






