২০২৩ সালে দায়ের করা অভিযোগে ব্যবস্থা চান বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা
মিয়ানমারের চিন সম্প্রদায়ের পাঁচজন ব্যক্তি ফিলিপাইনের আপিল আদালতের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইং ও জান্তা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে প্রসিকিউটরদের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩ নভেম্বর দায়ের করা তাঁদের আবেদনে প্রাথমিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ, সেনারা তাঁদের শহরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং আগুন নেভানোর চেষ্টা করা বাসিন্দাদের হত্যা করে।
সূচিপত্র
- ২০২৩ সালে দায়ের করা অভিযোগে ব্যবস্থা চান বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা
- চিন রাজ্যে কী ঘটেছিল বলে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন
- আপিল আদালতের কাছে কী চাওয়া হয়েছে
- অভিযোগটি যেভাবে আপিল আদালতে পৌঁছেছে
- মিয়ানমারের মামলায় ফিলিপাইনের আইন কেন গুরুত্বপূর্ণ
- ধারা ১৭ নিয়ে বিরোধ
- অভিযোগকারীদের কাছে বিলম্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ
- মূল বিষয়গুলো
আবেদনকারীরা আপিল আদালতের কাছে বিচার বিভাগকে (DOJ) তাঁদের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করতে এবং ২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল থেকে বিচারাধীন পুনর্বিবেচনার আবেদন নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা রিপাবলিক অ্যাক্ট নম্বর ৯৮৫১, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধবিষয়ক ফিলিপাইনের আইন, উল্লেখ করেছেন।
প্রক্রিয়াগতভাবে এটি এমন একটি আবেদন, যাতে অভিযোগটি কীভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে সে বিষয়ে বিচারকদের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। আবেদন মঞ্জুর করা বা মামলা চালানোর অনুমতি দিয়ে আপিল আদালতের কোনো রায় ঘোষণা করা হয়েছে বলে দাখিল-সংক্রান্ত বিবরণে উল্লেখ নেই।
মামলাটি ফিলিপাইনের বিচারকদের সামনে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন তুলে ধরেছে: কথিত নৃশংসতার শিকার ব্যক্তি ও সামরিক কর্মকর্তারা বিদেশি নাগরিক হলে এবং কর্মকর্তারা ফিলিপাইনের বাইরে থাকলে, বিদেশে সংঘটিত অপরাধের তদন্ত করতে ফিলিপাইনের প্রসিকিউটরদের বাধ্য করতে পারেন কি বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা?
চিন রাজ্যে কী ঘটেছিল বলে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন
অভিযোগকারীরা পশ্চিম মিয়ানমারের চিন রাজ্যে হামলার কথা বর্ণনা করেছেন। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চির সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এসব হামলা ঘটে। তাঁদের অভিযোগ, জান্তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের জেরে সেনারা তাঁদের শহরে আগুন ধরিয়ে প্রতিশোধ নেয়। আগুন নেভানোর চেষ্টা করা বাসিন্দাদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
আবেদনকারীদের একজন লিং লিং বলেন, ধ্বংসযজ্ঞে অভিযোগকারীদের সবার অভিন্ন জন্মশহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইনি পদক্ষেপটির পক্ষে একটি সম্প্রদায়ের সমর্থনের কথা তিনি জানান:
"আমাদের পেছনে পুরো একটি সম্প্রদায় আছে, সবাই ন্যায়বিচার চায়। এখানে উপস্থিত আমরা সবাই, আমার সহকর্মীরা, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমাদের জন্মশহর—আমরা সবাই একই শহরের মানুষ, যে শহর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে," বলেন লিং লিং।
লিং লিং আরও বলেন, ১০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অথবা নিহত হয়েছেন। তাঁর এই সংখ্যায় ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হওয়া এবং প্রাণ হারানো—দুই ধরনের মানুষই অন্তর্ভুক্ত; এই দুই গোষ্ঠীর জন্য তিনি আলাদা সংখ্যা দেননি।
আপিল আদালতের কাছে কী চাওয়া হয়েছে
৩ নভেম্বরের আবেদনটি ফিলিপাইনের আদালত বিধিমালার ৬৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী ম্যান্ডামাস ও সার্টিওরারি আবেদন। এই আইনি পরিভাষা বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপের দুই ধরনের আবেদন বোঝায়।
ম্যান্ডামাসের মাধ্যমে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে আইনত নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে বাধ্য করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়। এ ক্ষেত্রে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা তাঁদের পুনর্বিবেচনার আবেদনে ব্যবস্থা, অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা এবং প্রাথমিক তদন্ত চান। সার্টিওরারির মাধ্যমে কর্তৃত্বের কথিত বেআইনি প্রয়োগ পর্যালোচনা করতে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়। আবেদনকারীরা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির DOJ চিঠি এবং পরবর্তী যেসব পদক্ষেপকে তাঁরা পরোক্ষভাবে আবেদন নাকচ বলে বর্ণনা করেছেন, সেগুলো বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
বিচার সচিব ফ্রেডেরিক ভিদা ও প্রসিকিউটর জেনারেল রিচার্ড অ্যান্থনি ফাদুলনকে সরকারি বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগটি তাঁরা যেভাবে সামলেছেন, তা-ই চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে; আর কথিত মূল অপরাধগুলোর অভিযুক্ত হলেন মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তারা।
প্রাথমিক তদন্তের পর্যায়ে প্রসিকিউটররা আদালতে ফৌজদারি অভিযোগ আনার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি আছে কি না, তা পরীক্ষা করেন। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য এই তদন্ত আদায় করতে পারলে তাঁদের অভিযোগ প্রমাণ পর্যালোচনা এবং অভিযোগ আনা হবে কি না তা নির্ধারণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করবে।
একটি বিবরণে অভিযোগটিতে মিন অং হ্লাইং ও জান্তার আরও নয় কর্মকর্তার নাম রয়েছে বলা হয়েছে; অন্য একটি বিবরণে তাঁকে-সহ মোট নয়জন সামরিক কর্মকর্তাকে বিবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় থাকা নয়জন হলেন মিন অং হ্লাইং, ভুং সুয়ান থাং, তাই জার কিয়াও, ফিয়ো থান্ত, থান হতেইক, মিয়ো হুত হ্লাইং, সো থুন, মিয়ো জিন তুন এবং নে মিয়ো উ।
অভিযোগটি যেভাবে আপিল আদালতে পৌঁছেছে
বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের আইনি উদ্যোগ প্রসিকিউটরদের কাছে অভিযোগ দায়ের থেকে এগিয়ে এখন তাঁদের ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা যায় কি না, সেই চ্যালেঞ্জে গড়িয়েছে। তাঁদের আইনজীবীদের ভাষ্য, DOJ-এর প্রাথমিক জবাবের পর দীর্ঘসূত্রতা চলছে।
- ২৫ অক্টোবর, ২০২৩: চিনের অভিযোগকারীরা রিপাবলিক অ্যাক্ট নম্বর ৯৮৫১ অনুযায়ী ফিলিপাইনের DOJ-তে অভিযোগ দায়ের করেন।
- ফেব্রুয়ারি ২০২৪: DOJ একটি চিঠি দেয়, যা এখন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা বাতিল করাতে চাইছেন।
- ১১ এপ্রিল, ২০২৪: আবেদনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যে পুনর্বিবেচনার আবেদনটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তা দাখিল করা হয়।
- ৩১ জুলাই: বিষয়টি নিষ্পত্তির অনুরোধ জানিয়ে আইনজীবীরা DOJ-তে আবেদন করেন।
- ৩ নভেম্বর: চিনের পাঁচ অভিযোগকারী ম্যান্ডামাস ও সার্টিওরারির আবেদন নিয়ে আপিল আদালতে যান।
আবেদনে DOJ-এর এখতিয়ার-সংক্রান্ত অবস্থান এবং অভিযোগটি সামলাতে নেওয়া সময়—দুটি বিষয়েই বিচারকদের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। বিষয় দুটি পরস্পর সম্পর্কিত: বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা তাঁদের আইনি যুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং তদন্ত শুরু করার পথ চান।
মিয়ানমারের মামলায় ফিলিপাইনের আইন কেন গুরুত্বপূর্ণ
রিপাবলিক অ্যাক্ট নম্বর ৯৮৫১ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন, গণহত্যা ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধকে ফিলিপাইনের অভ্যন্তরীণ ফৌজদারি আইনের আওতায় এনেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সশস্ত্র সংঘাতের নিয়ম নির্ধারণ করে, যার মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাও রয়েছে।
বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা সর্বজনীন এখতিয়ারের নীতি উল্লেখ করেছেন। এই নীতি অনুযায়ী, কোনো কোনো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধ বিদেশে সংঘটিত হলেও এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিদেশি নাগরিক হলেও, জাতীয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে। তাঁদের যুক্তি, কথিত অপরাধের ধরন তদন্ত করার এবং প্রমাণে অভিযোগ সমর্থিত হলে বিচার করার দায় ফিলিপাইনের রয়েছে।
আবেদনকারীরা তাঁদের দাবি করা দায়ের ভিত্তি হিসেবে আইনের ২(ই) ধারা এবং আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁদের যুক্তি, সংবিধানের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা ফিলিপাইনের আইনের অংশ হয়েছে। সামরিক কর্মকর্তারা দেশের বাইরে থাকলেও তাঁদের অবস্থান অনুযায়ী প্রসিকিউটররা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা শুরু করতে পারবেন।
মামলার বিবরণে DOJ-এর এগোতে না চাওয়ার যে কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো ভূখণ্ডগত ও ব্যক্তিগত যোগসূত্র নিয়ে: কথিত অপরাধ মিয়ানমারে ঘটেছে, ভুক্তভোগী বা অভিযুক্ত—কেউই ফিলিপাইনের নাগরিক নন এবং সামরিক বিবাদীরা ফিলিপাইনে নেই।
তাই কোনো বিচার শুরু হওয়ার আগেই ফিলিপাইনের আইনের আওতা নিয়ে আদালতে বিরোধটি উঠেছে। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা বলছেন, আইনটিতে তদন্তের পথ রয়েছে; আর DOJ-এর অবস্থান অনুযায়ী, কথিত অপরাধীরা বিদেশে থাকলে সেই পথ সীমিত।
ধারা ১৭ নিয়ে বিরোধ
রিপাবলিক অ্যাক্ট নম্বর ৯৮৫১-এর ১৭ ধারা বিরোধটির কেন্দ্রবিন্দু। এই ধারায় এখতিয়ার এবং ফিলিপাইনে থাকা সন্দেহভাজন বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের উপযুক্ত আন্তর্জাতিক আদালত বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর কিংবা প্রত্যর্পণের বিষয় রয়েছে; প্রযোজ্য আইন ও চুক্তি সাপেক্ষে।
আবেদনকারীরা বলছেন, DOJ ধারাটিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছে যে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে ফিলিপাইনে উপস্থিত থাকতে হবে। প্রাথমিক তদন্তের পর্যায়ে এই শর্ত প্রয়োগের বিরোধিতা করেছেন তাঁদের আইনজীবীরা।
তাঁদের যুক্তির একটি অংশ ‘বিবাদী’ ও ‘অভিযুক্ত’ ব্যক্তির পার্থক্যের ওপর নির্ভর করছে। প্রাথমিক তদন্ত চলাকালে তদন্তাধীন ব্যক্তি বিবাদী হিসেবে বিবেচিত হন। আদালতে অভিযোগ দাখিলের পর তিনি অভিযুক্ত হন। আবেদনকারীদের বক্তব্য, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিষয়ে আইনের ভাষা বিদেশে থাকা বিবাদীদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউটরদের তদন্তে বাধা দেওয়া উচিত নয়।
বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের আইনজীবী গিলবার্ট আন্দ্রেস ধারা ১৭-এর ওপর তাঁদের নির্ভরতার সঙ্গে ফিলিপাইন সরকারের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তেকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) কাছে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে একই ধারার প্রয়োগের তুলনাও করেছেন। তিনি কর্তৃপক্ষকে আইনটি ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানান:
"রাষ্ট্র যদি অন্য মামলায় প্রয়োগ করার মতো শক্তিশালী বলে ধারা ১৭-কে বিবেচনা করে, তাহলে চিনের এই ভুক্তভোগীদের নিজেদের মামলায় তা ব্যবহারের জন্য ধারাটি দুর্বল হতে পারে না," বলেন আন্দ্রেস।
মিয়ানমার ICC-এর সদস্য নয়। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা কেন ফিলিপাইনের আইন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আন্দ্রেস এই বিষয়টি উল্লেখ করেন। তাঁদের বর্তমান আবেদনটি ফিলিপাইনের প্রসিকিউটর ও বিচারকদের উদ্দেশে, যেখানে ব্যবস্থা নেওয়ার ভিত্তি হিসেবে ফিলিপাইনের একটি আইন ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের কাছে বিলম্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ
বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা ফিলিপাইনের সংবিধানের অনুচ্ছেদ III, ধারা ১৬-ও উল্লেখ করেছেন, যেখানে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁদের আইনজীবীদের যুক্তি, অভিযোগটি DOJ যেভাবে সামলাচ্ছে, তা ওই অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া—দুটোকেই প্রভাবিত করছে।
আবেদনকারীদের আরেক আইনজীবী রোমেল বাগারেস সংবিধানপ্রদত্ত সুরক্ষা এবং অপেক্ষার মানবিক মূল্য তুলে ধরেছেন:
"মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির অধিকার কোনো সৌজন্য নয়। এটি আমাদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ III, ধারা ১৬-তে লেখা একটি নিশ্চয়তা। তিন বছর নীরব থাকা নিরপেক্ষতা নয়। বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সাক্ষীরা যখন বয়সে বড় হচ্ছেন, তখন বিলম্বের প্রতিটি মাসই তাঁদের ক্ষতির কারণ," বলেন বাগারেস।
স্বজন ও বাড়িঘর হারানো মানুষের কাছে তাৎক্ষণিক আইনি লক্ষ্য হলো এমন একটি সিদ্ধান্ত পাওয়া, যা অভিযোগটির তদন্তের পথ খুলে দেবে। অভিযোগগুলো পরীক্ষা করে ফৌজদারি অভিযোগ আনা উচিত কি না তা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রসিকিউটরদের বাধ্য করার আবেদন করেছেন তাঁরা।
এখন DOJ-এর প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের আবেদনটি বিবেচনা করতে হবে আপিল আদালতকে। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মামলায় চিন সম্প্রদায়ের কথিত ধ্বংসযজ্ঞ, ফিলিপাইনের যুদ্ধাপরাধবিষয়ক আইনের আওতা এবং অভিযোগের সময়মতো নিষ্পত্তির সাংবিধানিক দাবি—এই বিষয়গুলো একসঙ্গে এসেছে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৩ সালের অক্টোবরে দায়ের করা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের বিষয়ে ৩ নভেম্বর ফিলিপাইনের আপিল আদালতে আবেদন করেছেন চিনের পাঁচ অভিযোগকারী।
- তাঁরা অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা, প্রাথমিক তদন্ত এবং বিচারাধীন পুনর্বিবেচনার আবেদনের সিদ্ধান্ত চান।
- অভিযোগে মিয়ানমারে তাঁদের শহরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া এবং আগুন নেভানোর চেষ্টা করা বাসিন্দাদের হত্যার কথা বলা হয়েছে।
- বিদেশে বিদেশি নাগরিকদের সংঘটিত কথিত অপরাধ তদন্ত করতে ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষকে রিপাবলিক অ্যাক্ট নম্বর ৯৮৫১ বাধ্য করে কি না, তা নিয়ে আইনি বিরোধ রয়েছে।
- আবেদনকারীরা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির সাংবিধানিক অধিকারও উল্লেখ করেছেন।
- ঘোষিত অগ্রগতি হলো আবেদনটি দাখিল; আদালত আবেদন মঞ্জুর করেছে, এমন কোনো রায়ের খবর নেই।






