তিনটি আঞ্চলিক ধরনে যক্ষ্মা গবেষণায় নতুন গুরুত্ব
ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বুদি গুনাদি সাদিকিন ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর বলেন, ৭,০০০ রোগীকে নিয়ে করা গবেষণায় দেশটিতে ভৌগোলিকভাবে স্বতন্ত্র যক্ষ্মার তিনটি জিনগত ধরন শনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ আবিষ্কারের পর পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় পাওয়া ব্যাকটেরিয়ার পার্থক্য নতুন টিকা ও ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সরকার।
সূচিপত্র
- তিনটি আঞ্চলিক ধরনে যক্ষ্মা গবেষণায় নতুন গুরুত্ব
- জিনোম গবেষণায় কী পাওয়া গেছে
- রোগীদের জন্য আঞ্চলিক পার্থক্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
- এম৭২ টিকার পরীক্ষা কোন পর্যায়ে
- দ্রুত পর্যালোচনার পথ প্রস্তুত করছে বিপিওএম
- প্রাথমিক কার্যকারিতার পরিসংখ্যান কীভাবে বুঝবেন
- চিকিৎসার মেয়াদ কমানোও আরেকটি অগ্রাধিকার
- পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে ২০২৮ সালের সম্ভাবনা
- সভা-আলোচনার বাইরে পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ বুদির
- মূল বিষয়গুলো
বালি প্রদেশের বাদুংয়ে যক্ষ্মা নির্মূল উদ্যোগের অংশীদারদের ৪০তম বোর্ড সভায় বুদি এ ফলাফল ঘোষণা করেন। গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে করা গবেষণায় যক্ষ্মার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার জিনগত গঠন পরীক্ষা করতে ইলুমিনা ও অক্সফোর্ড ন্যানোপোরের জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
এ ঘোষণার সময় ইন্দোনেশিয়া এম৭২ টিকা-প্রার্থীর তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে এবং চিকিৎসার মেয়াদ কমানোর লক্ষ্যে নতুন যক্ষ্মার ওষুধের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা প্রস্তুত করছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাকটেরিয়ার ধরন কীভাবে ভিন্ন, তা বোঝার বাস্তব প্রয়োজন তৈরি করেছে এ দুই উদ্যোগ।
বুদি বলেন, পরবর্তী গবেষণায় আঞ্চলিক জিনগত পার্থক্য চিকিৎসায় সংবেদনশীলতা বা টিকার কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। এ প্রশ্নের উত্তর দেয় এমন কোনো ফলাফল মন্ত্রণালয় এখনো ঘোষণা করেনি।
এর গুরুত্ব অনেক। বুদি বছরে যক্ষ্মায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে বলেন, ভারতে পর ইন্দোনেশিয়ায় বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নতুন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়। এ অবস্থানটি রোগের প্রকোপ, অর্থাৎ নতুন রোগীর সংখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত; আর মৃত্যুর হিসাবটি রোগটির মানবিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে।
জিনোম গবেষণায় কী পাওয়া গেছে
গবেষণায় পাওয়া তথ্য পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি ধরনে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। বুদি আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে স্পষ্ট জিনগত পার্থক্যের কথা বলেন এবং ৭,০০০ রোগীর নমুনা পরীক্ষায় সহায়তার জন্য গ্লোবাল ফান্ডকে ধন্যবাদ জানান।
জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে কোনো জীবের জিনগত নির্দেশনা পড়া হয়। যক্ষ্মার ক্ষেত্রে গবেষকেরা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ পরীক্ষা করেন। এসব নির্দেশনার তুলনা করে বিভিন্ন রোগী ও স্থান থেকে সংগ্রহ করা ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে মিল-অমিল শনাক্ত করা যায়।
গবেষণায় ব্যবহৃত সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে ইলুমিনা ও অক্সফোর্ড ন্যানোপোর। এ প্রযুক্তিতে বিজ্ঞানীরা ডিএনএ পড়তে পারেন। ফলে রোগীরা কোথায় থাকেন বা তাঁদের অসুস্থতা কীভাবে প্রকাশ পায়, শুধু তার ওপর নির্ভর না করে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ব্যাকটেরিয়ার পার্থক্যের মানচিত্র তৈরির সুযোগ পেয়েছে মন্ত্রণালয়।
ভৌগোলিক এ বিন্যাস আরও গবেষণার প্রাথমিক ভিত্তি দিচ্ছে। জিনগত গোষ্ঠীগুলো ওষুধে ভিন্নভাবে সাড়া দেয় কি না এবং এসব ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসা মানুষের মধ্যে টিকার সুরক্ষা ভিন্ন হয় কি না, তা গবেষকেরা পরীক্ষা করতে পারেন। সিকোয়েন্সিংয়ের কাজ শেষ হলে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন বুদি।
রোগীদের জন্য আঞ্চলিক পার্থক্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বুদি চান, নতুন টিকা ও চিকিৎসা উদ্ভাবনের সময় ইন্দোনেশিয়ায় ছড়িয়ে থাকা ব্যাকটেরিয়ার ধরন বিবেচনায় নেওয়া হোক। কোনো ওষুধ ব্যাকটেরিয়ার নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের ওপর কাজ করে, আর টিকা শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে হুমকি চিনতে শেখায়। তাই জিনগত পার্থক্য গবেষকদের অনুসন্ধানের প্রশ্নগুলোর জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
রোগীর জন্য বাস্তব প্রশ্নটি সরল: নির্ধারিত চিকিৎসা কাজ করবে কি না এবং ভবিষ্যতের কোনো টিকা সুরক্ষা দেবে কি না। জিনগত তথ্যের সঙ্গে ক্লিনিক্যাল গবেষণার যোগসূত্র স্থাপন করলে গবেষকেরা গবেষণায় চিহ্নিত অঞ্চলগুলোতে এসব ফলাফল পরীক্ষা করতে পারবেন।
ওষুধে সংবেদনশীলতা বলতে ব্যাকটেরিয়া কোনো ওষুধের প্রতি কতটা সংবেদনশীল, তা বোঝায়। কোনো ওষুধের পরও ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকলে চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। নির্দিষ্ট কোনো ব্যাকটেরিয়ার ধরন কীভাবে সাড়া দেয়, তা বুঝতে গবেষকদের জিনগত তথ্যের সঙ্গে পরীক্ষাগার ও রোগীর ফলাফল মিলিয়ে দেখতে হবে।
টিকা ও ওষুধ উদ্ভাবনে ইন্দোনেশিয়ার অংশগ্রহণ এ যোগসূত্র তৈরির সুযোগ দিচ্ছে। সিকোয়েন্সিং প্রকল্পটি দেশে থাকা ব্যাকটেরিয়ার ধরন তুলে ধরছে; আর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় মানুষের শরীরে কোনো সম্ভাব্য পণ্যের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। বুদির প্রস্তাব হলো, ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তে যেন ইন্দোনেশিয়ার রোগের ধরন প্রতিফলিত হয়, সে জন্য গবেষণার এ দুই ধারা একত্র করা।
এম৭২ টিকার পরীক্ষা কোন পর্যায়ে
দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া, জাম্বিয়া ও মালাউইয়ের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া এম৭২-এর আন্তর্জাতিক তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার গবেষণা সহযোগীদের মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিতাস ইন্দোনেশিয়া ও ইউনিভার্সিতাস পাদজাদজারান।
২০২৫ সালের ৯ মে বুদি বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক মিলিয়ে ২,০৯৫ জনকে পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে ২,০০০-এর বেশি ইতিমধ্যে টিকার ইনজেকশন পেয়েছেন। এ সংখ্যা গবেষণার আগের ওই পর্যায়ের অংশগ্রহণের চিত্র তুলে ধরে।
ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে নিরাপত্তা, রোগ প্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া ও কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। তৃতীয় পর্যায়ে সাধারণত বড় জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে ফলাফলের তুলনা করা হয়, যাতে সম্ভাব্য টিকাটি প্রত্যাশিত সুরক্ষা দেয় কি না নির্ধারণ করা যায়; এ সময় নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণও চলতে থাকে। যক্ষ্মা প্রতিরোধী টিকার ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হলো, টিকা নিলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে কি না।
বুদি ২০২৫ সালের মে মাসে বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে সফলভাবে উদ্ভাবন সম্পন্ন হলে এম৭২-কে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার পথ খুলতে পারে। তবে তা পরীক্ষার ফলাফল ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। এতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য টিকা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করছে এবং যক্ষ্মার বড় বোঝা রয়েছে এমন একটি দেশের মানুষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
দ্রুত পর্যালোচনার পথ প্রস্তুত করছে বিপিওএম
ইন্দোনেশিয়ার খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ, যা বিপিওএম নামে পরিচিত, এম৭২-এর মূল্যায়ন দ্রুত করার উপায় বিবেচনা করছে। বিপিওএমের ওষুধ নিবন্ধন বিভাগের পরিচালক ত্রি আস্তি ইসনারিয়ানি বলেন, যৌথ মূল্যায়নের বিষয়ে সংস্থাটি ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করেছে।
বালির সভায় ত্রি আস্তি পরিকল্পিত সহযোগিতা সম্পর্কে বলেন:
এম৭২ টিকার বিষয়ে আমরা ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করেছি। প্রক্রিয়া দ্রুত করতে আমরা যৌথ মূল্যায়ন করব।
যৌথ মূল্যায়নে চিকিৎসাপণ্যের প্রমাণ পরীক্ষা করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করে। এর লক্ষ্য একই কাজের পুনরাবৃত্তি কমিয়ে মূল্যায়নকে আরও কার্যকর করা। বিপিওএম শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনের জন্য অভ্যন্তরীণ বিধিমালাও প্রণয়ন করছে। এ ব্যবস্থায় আরও প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্তে আগেভাগে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
ত্রি আস্তি বলেন, এম৭২-এর ক্ষেত্রে এ পথ ব্যবহার করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সভার পর তিনি বিপিওএমের নেতৃত্বকে জানাবেন। কোনো সিদ্ধান্ত বা অনুমোদনের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। বিপিওএম জানিয়েছে, দ্রুত পর্যালোচনার উদ্যোগের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও পণ্যের গুণমান বিবেচনা অব্যাহত থাকবে।
সংস্থাটির আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ডব্লিউএইচও তালিকাভুক্ত কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় দুই বিশেষজ্ঞকে নিয়োগ, যাঁরা ওষুধের বাজারজাতকরণ অনুমোদন ও পরীক্ষাগার নিয়ে কাজ করছেন। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও কারিগরি সহযোগিতা জোরদার হয়।
প্রাথমিক কার্যকারিতার পরিসংখ্যান কীভাবে বুঝবেন
এম৭২ নিয়ে আলোচনায় ত্রি আস্তি দ্বিতীয় পর্যায়ের গবেষণার পর প্রাথমিক কার্যকারিতার হার প্রায় ৫৪ থেকে ৫৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করেন। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার শর্তে টিকা নেওয়া অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তুলনামূলক একটি গোষ্ঠীর চেয়ে রোগের ঝুঁকি কতটা কমেছে, কার্যকারিতা দিয়ে তা মাপা হয়।
কোনো টিকার কার্যকারিতা প্রায় ৫৫ শতাংশ হলে, গবেষণাকালে তুলনামূলক গোষ্ঠীর চেয়ে টিকা নেওয়া গোষ্ঠীর মাপা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আনুমানিক ৫৫ শতাংশ কম ছিল। এ শতাংশটি গোষ্ঠীগুলোর ঝুঁকির পার্থক্য বোঝায়; ব্যক্তিভেদে সুরক্ষা ভিন্ন হতে পারে।
নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের আলোচনায় ডব্লিউএইচওর কার্যকারিতার ৫৫ শতাংশ মানদণ্ডের কথাও বলা হয়েছে। উল্লেখিত ৫৪ থেকে ৫৭ শতাংশের পরিসরে এ সংখ্যাটি রয়েছে। তাই পরীক্ষায় সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতার হার, সেই হিসাবের অনিশ্চয়তা এবং কোন ফলাফল মাপা হয়েছে, সেগুলো মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তৃতীয় পর্যায়ের গবেষণার লক্ষ্য কার্যকারিতার আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া। ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে বুদির জিনোম-সংক্রান্ত আবিষ্কার আরেকটি গবেষণা প্রশ্ন সামনে এনেছে: বিভিন্ন অঞ্চলে শনাক্ত ব্যাকটেরিয়ার গোষ্ঠীভেদে সম্ভাব্য টিকাটির কার্যকারিতা একই রকম কি না। এর উত্তর পেতে জিনগত তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্লিনিক্যাল প্রমাণ প্রয়োজন।
চিকিৎসার মেয়াদ কমানোও আরেকটি অগ্রাধিকার
ইন্দোনেশিয়া নতুন একটি যক্ষ্মার ওষুধের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছে, যার মাধ্যমে চিকিৎসার মেয়াদ কমানোর আশা করছেন কর্মকর্তারা। রোগটির বিরুদ্ধে দেশের প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে টিকা উদ্ভাবনের পাশাপাশি এ প্রচেষ্টার কথাও বলেন বুদি।
যক্ষ্মার চিকিৎসায় রোগীদের দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধ খেতে হতে পারে। কার্যকর চিকিৎসার মেয়াদ কমলে ওষুধের মাত্রা মেনে চলা, চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এবং কাজ বা পড়াশোনার পাশাপাশি চিকিৎসা চালানোর চাপ কমতে পারে। নতুন ওষুধটি কীভাবে কাজ করে, প্রস্তাবিত পরীক্ষায় তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ওষুধটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন নির্ধারণে সিকোয়েন্সিং গবেষণা সহায়ক হতে পারে। জিনগত তথ্য ও ক্লিনিক্যাল কার্যকারিতাকে বিচ্ছিন্ন বিষয় হিসেবে না দেখে চিকিৎসা উদ্ভাবনের সময় এ পার্থক্যগুলো বিবেচনায় নিতে চান বুদি।
টিকা ও ওষুধের প্রকল্প দুটি ভিন্ন চাহিদা পূরণ করে। টিকার লক্ষ্য রোগ প্রতিরোধ করা, আর ওষুধের চিকিৎসা সহায়তা করে ইতিমধ্যে অসুস্থ ব্যক্তিদের। যাঁদের আরও পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রয়োজন, তাঁদের শনাক্ত করে স্ক্রিনিং তাঁদের সেবার সঙ্গে যুক্ত করে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে ২০২৮ সালের সম্ভাবনা
ইন্দোনেশিয়ার টিকা কার্যক্রম ও নতুন জিনোম-সংক্রান্ত ঘোষণা গবেষণার কয়েকটি পর্যায়কে জুড়ে দিয়েছে। গবেষণায় অংশগ্রহণ, নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য জনসাধারণের ব্যবহারের সম্পর্ক তারিখগুলোতে স্পষ্ট:
- ৯ মে ২০২৫: বুদি বলেন, আন্তর্জাতিক এম৭২ পরীক্ষায় ইন্দোনেশিয়া ২,০৯৫ জনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং তাঁদের মধ্যে ২,০০০-এর বেশি ইতিমধ্যে ইনজেকশন পেয়েছেন।
- ৫ নভেম্বর ২০২৬: বালির সভায় বুদি ৭,০০০ যক্ষ্মা রোগীকে নিয়ে করা গবেষণায় শনাক্ত তিনটি আঞ্চলিক জিনগত ধরন ঘোষণা করেন।
- ৫ নভেম্বর ২০২৬: ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থার সঙ্গে এম৭২-এর যৌথ মূল্যায়ন এবং শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন বিবেচনার পরিকল্পনা তুলে ধরেন ত্রি আস্তি।
- ২০২৮: বুদির আগের বক্তব্যে সফল টিকা উদ্ভাবনের সম্ভাব্য সময় হিসেবে এ বছরটির কথা বলা হয়েছিল; এতে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ মুহূর্তে টিকার মূল্যায়ন, ওষুধের পরীক্ষা প্রস্তুত এবং আঞ্চলিক ব্যাকটেরিয়ার পার্থক্যের সঙ্গে চিকিৎসার ফলাফলের সম্পর্ক খতিয়ে দেখাই মূল কাজ। জনসাধারণের জন্য টিকাদান কর্মসূচি চালু করতে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে টিকার ডোজ সংগ্রহ ও পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে।
সভা-আলোচনার বাইরে পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ বুদির
বছরে যক্ষ্মায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মৃত্যুর হিসাব তুলে ধরে ইন্দোনেশিয়াকে আরও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বুদি। ফোরামে প্রতি পাঁচ মিনিট কথা বলার সময় প্রায় দুই ইন্দোনেশীয় যক্ষ্মায় মারা যান বলে উল্লেখ করে তিনি জরুরিতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত এক বছর বিলম্বিত হলে জননিরাপত্তার জন্য বড় মূল্য দিতে হতে পারে। তিনি তাঁর দলকে আলোচনা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কম সময় এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে বেশি সময় দিতে বলেন। এর মধ্যে সম্ভাবনাময় পণ্যগুলোকে রোগীদের কাছে পৌঁছানোর পথে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়াও রয়েছে।
চিকিৎসা উদ্ভাবনকে সেবায় রূপ দিতে প্রয়োজনীয় কাজ নিয়ে বুদি বলেন:
কোনো কিছুই দৈবক্রমে রোগীদের কাছে পৌঁছায় না। আমাদের রোগীদের স্ক্রিনিং করতে হবে, চিকিৎসা দিতে হবে এবং তাঁদের কাছে টিকা পৌঁছে দিতে হবে।
তাঁর বক্তব্যে জিনোম প্রকল্পের সঙ্গে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের বাস্তব প্রয়োজনের যোগসূত্র উঠে এসেছে। গবেষকদের ব্যাকটেরিয়া বুঝতে হবে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে পণ্যের মূল্যায়ন করতে হবে, আর স্বাস্থ্যসেবাকে রোগী খুঁজে বের করে চিকিৎসা দিতে হবে। টিকা ও ওষুধের গবেষণা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ তৈরি করার পাশাপাশি এসব কাজ একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়াই ইন্দোনেশিয়ার পরবর্তী দায়িত্ব।
মূল বিষয়গুলো
- ৭,০০০ যক্ষ্মা রোগীকে নিয়ে করা গবেষণায় পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি জিনগত ধরন শনাক্ত হয়েছে।
- গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে করা এ গবেষণায় ইলুমিনা ও অক্সফোর্ড ন্যানোপোরের সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
- আঞ্চলিক পার্থক্য টিকার কার্যকারিতা বা চিকিৎসায় সাড়ায় প্রভাব ফেলে কি না, তা গবেষকেরা খতিয়ে দেখবেন।
- ইন্দোনেশিয়া এম৭২ টিকার আন্তর্জাতিক তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে এবং নতুন যক্ষ্মার ওষুধের পরীক্ষা প্রস্তুত করছে।
- বিপিওএম ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থার সঙ্গে এম৭২-এর যৌথ মূল্যায়নের পরিকল্পনা করেছে এবং শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
- বুদি বছরে যক্ষ্মায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে দ্রুত নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।






