কম্বোডিয়ার ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য এডিবির ৭২ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন, গুরুত্বে নারীরা

পড়তে 7 মিনিট
ADB Approves $72 Million for Cambodia's Small Farmers, With Women at the Center

গ্রামীণ জীবিকা সুরক্ষায় ১১২.৩ মিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ

কম্বোডিয়ার প্রায় ২০০,০০০ ক্ষুদ্র কৃষককে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং নারীদের অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়তার জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৭২ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। অংশীদারদের অর্থায়ন ও কম্বোডিয়ার অবদানসহ ক্ষুদ্র কৃষকদের সহনশীল অর্থনৈতিক উন্নয়ন খাত প্রকল্পে মোট ১১২.৩ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ থাকবে।

সূচিপত্র
  1. গ্রামীণ জীবিকা সুরক্ষায় ১১২.৩ মিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ
  2. অর্থায়নের হিসাব
  3. নারীরা কেন কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার
  4. পানি ও সড়ক একই সমস্যার ভিন্ন দিক মোকাবিলা করবে
  5. ফসল উৎপাদনের বাইরেও প্রশিক্ষণ
  6. আমদানিনির্ভর সরবরাহ কমাতে অনুদান
  7. দুর্যোগের আগে কমিউনিটির প্রস্তুতি
  8. প্রকল্পটি যে পরিবর্তন আনতে চায়
  9. মূল বিষয়গুলো

এডিবির চিহ্নিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সাতটি প্রদেশের ১৮৬টি কমিউনে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এর প্রধান অবকাঠামো নির্মাণলক্ষ্য হলো সেচব্যবস্থা আধুনিকায়নের মাধ্যমে আরও ৭,০০০ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচের আওতায় আনা এবং ১৯০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক পুনর্বাসন। এসব উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, অনুদান ও কমিউনিটিভিত্তিক দুর্যোগ পরিকল্পনাও থাকবে।

প্রকল্পে নারীদের কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এডিবির তথ্য অনুযায়ী, কম্বোডিয়ার কৃষিশ্রমশক্তির ৫১ শতাংশ নারী; তবে অর্থায়ন, সহায়তা এবং অর্থনৈতিক সুযোগে তাদের প্রবেশাধিকার সীমিত। আয় উপার্জনের পাশাপাশি দুর্যোগের জন্য কমিউনিটিগুলো কীভাবে প্রস্তুতি নেবে, সে সিদ্ধান্তেও নারীদের ভূমিকা বাড়ানো কর্মসূচিটির লক্ষ্য।

কম্বোডিয়ার মোট জনসংখ্যার ৫৯ শতাংশ গ্রামীণ এলাকায় বাস করে। তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যায় ফসল এবং অবকাঠামোর ক্ষতি হতে পারে, পাশাপাশি কৃষকেরা ক্রেতাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন। কৃষিনির্ভর পরিবারের ক্ষেত্রে ফসলহানির বাইরেও আয় কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত খাবার জোগাড়ে অসুবিধার মতো পরিণতি দেখা দিতে পারে।

অর্থায়নের হিসাব

এডিবির ৭২ মিলিয়ন ডলারের প্যাকেজে রয়েছে ৫৭ মিলিয়ন ডলারের সহজ শর্তের ঋণ এবং এশীয় উন্নয়ন তহবিলের ১৫ মিলিয়ন ডলারের অনুদান। সহজ শর্তের ঋণের সুদ ও অন্যান্য শর্ত সাধারণ বাণিজ্যিক ঋণের তুলনায় সুবিধাজনক হলেও তা পরিশোধ করতে হয়। অনুদান ফেরত দিতে হয় না।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং কম্বোডিয়া সরকার আরও ৪০.৩ মিলিয়ন ডলার দেবে। ফলে প্রকল্পের মোট অর্থায়ন এডিবির নিজস্ব প্যাকেজের চেয়ে প্রায় ৫৬ শতাংশ বেশি হবে।

বিজ্ঞাপন

অর্থায়নের বিবরণ:

  • এডিবি: ৫৭ মিলিয়ন ডলারের সহজ শর্তের ঋণ এবং এশীয় উন্নয়ন তহবিলের ১৫ মিলিয়ন ডলারের অনুদান।
  • আসিয়ান অবকাঠামো তহবিল: যৌথ অর্থায়নে ২৩ মিলিয়ন ডলার।
  • গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড: ১০ মিলিয়ন ডলারের অনুদান।
  • সমৃদ্ধ ও সহনশীল এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক জাপান তহবিল: ৩ মিলিয়ন ডলারের অনুদান, যা এডিবির মাধ্যমে জাপান সরকার দেবে।
  • কম্বোডিয়া সরকার: ৪.৩ মিলিয়ন ডলারের অবদান।

অনুদান হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা তিনটি অর্থের পরিমাণ মোট ২৮ মিলিয়ন ডলার। সবচেয়ে বেশি সহায়তার প্রয়োজন এমন দেশগুলোকে এশীয় উন্নয়ন তহবিল সহায়তা দেয়। জাপানের অবদান এডিবি পরিচালিত একটি তহবিলের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

এই অর্থায়নে যৌথ অবকাঠামো খাতে ব্যয়ের পাশাপাশি কৃষক ও কমিউনিটিকে সহায়তাও রয়েছে। সেচ ও সড়ক উৎপাদন এবং বিক্রির বাস্তব প্রতিবন্ধকতা দূর করবে; আর প্রশিক্ষণ, অনুদান ও স্থানীয় পরিকল্পনা অবকাঠামো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, সম্পদ ও প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে।

নারীরা কেন কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার

কম্বোডিয়ার কৃষিশ্রমশক্তির অর্ধেকের কিছু বেশি নারী, তবে এডিবি বলছে অর্থায়ন, সহায়তামূলক সেবা এবং আয়ের সুযোগে তাদের প্রবেশাধিকার এখনো সীমিত। নারীদের নেতৃত্বাধীন ব্যবসায় সহায়তার পাশাপাশি এই সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করার লক্ষ্য রয়েছে প্রকল্পটির।

কম্বোডিয়ায় এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর ইয়াসমিন সিদ্দিকি বলেছেন, নারীসহ ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বিনিয়োগ গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা কমিউনিটিগুলোকে সুরক্ষার একটি উপায়।

“গ্রামীণ অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দরিদ্র কমিউনিটিগুলোকে সহায়তার জন্য ক্ষুদ্র কৃষকদের, বিশেষ করে নারীদের জন্য বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি,” বলেন সিদ্দিকি।

স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও উন্নয়ন কর্মসূচিতেও নারীরা যুক্ত থাকবেন। এতে প্রকল্পটির দুটি পরস্পর-সম্পর্কিত লক্ষ্য রয়েছে: অর্থনৈতিক সুযোগে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং কমিউনিটির প্রয়োজন, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারবিষয়ক সিদ্ধান্তে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।

এডিবির প্রত্যাশা, এই পদ্ধতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক কৃষি মূল্যশৃঙ্খল গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। সহজ ভাষায়, মূল্যশৃঙ্খল বলতে কৃষিপণ্য উৎপাদন, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত কাজগুলোর ধারাবাহিকতাকে বোঝায়। একে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার মানে হলো নারী ও সুবিধাবঞ্চিত কমিউনিটিসহ যাঁরা নানা বাধার মুখে পড়েন, তাঁদের এসব কাজে অংশ নেওয়া ও তা থেকে আয় করার সুযোগ করে দেওয়া।

বিজ্ঞাপন

পানি ও সড়ক একই সমস্যার ভিন্ন দিক মোকাবিলা করবে

সেচব্যবস্থা আধুনিকায়নের মাধ্যমে আরও ৭,০০০ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচের ব্যবস্থা করার লক্ষ্য রয়েছে। সেচের মাধ্যমে বৃষ্টির ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে জমিতে পানি সরবরাহ করা হয়। খরা ও তাপের ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় কঠিন চাষাবাদ পরিস্থিতি সামলাতে পানির সুযোগ পাওয়া একটি বাস্তবসম্মত সহায়তা।

সড়ক খাতে ১৯০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক পুনর্বাসন করা হবে। উৎপাদনের আগে যেমন, পরেও এসব সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ: ক্রেতার কাছে পৌঁছানো, সরবরাহ সংগ্রহ এবং কাজের জন্য যাতায়াতে কৃষকদের সড়ক দরকার। ফসল বাজারে পৌঁছাতে না পারলে পরিবারের কাছে তার অর্থনৈতিক মূল্য কমে যায়।

এডিবির ভাষ্য, সড়কের উন্নয়নের লক্ষ্য বিশেষ করে নারী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে বাজার, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা। ফলে প্রকল্পটি গ্রামীণ অবকাঠামোর অবস্থা এবং মানুষের আয়ের সম্ভাবনাকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করছে; সড়ক মেরামতকে আলাদা নির্মাণকাজ হিসেবে দেখছে না।

পরিকল্পিত প্রকল্প এলাকার পরিধি নির্দিষ্ট হলেও কয়েকটি বিষয় এখনো জানানো হয়নি: সাতটি প্রদেশের নাম, নির্মাণকাজের সময়সূচি, সমাপ্তির তারিখ, কৃষকদের আবেদনের প্রক্রিয়া কিংবা অনুদান পাওয়ার যোগ্যতার নিয়ম। পরিবারগুলো কোথায় ও কখন সহায়তা পাবে, তা এসব বিস্তারিত তথ্যের ওপর নির্ভর করবে।

ফসল উৎপাদনের বাইরেও প্রশিক্ষণ

কৃষকেরা ফসল উৎপাদন, উদ্যানচাষ, হাঁস-মুরগি পালন, পোকামাকড় চাষ ও জলজ প্রাণী পালনে কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পাবেন। উদ্যানচাষের মধ্যে ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য বাগানজাত ফসল উৎপাদন অন্তর্ভুক্ত। জলজ চাষ বলতে মাছ বা অন্যান্য জলজ প্রাণী পালন বোঝায়।

বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড থাকায় প্রকল্পটি একটি ফসল বা চাষপদ্ধতিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। উদ্ভিদ ও প্রাণী—উভয় খাতেই সহায়তা দেওয়া যাবে; এর ঘোষিত লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারে এমন পদ্ধতি কৃষকদের গ্রহণে সহায়তা করা।

প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজন মেটায়। সেচব্যবস্থার উন্নয়ন একটি বাস্তব সম্পদ সরবরাহ করে, আর কারিগরি সহায়তা কৃষকদের উৎপাদন পরিচালনার দক্ষতা বাড়ায়। প্রকল্পে এই দুটিকে একত্র করা হয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে কৃষিকাজকে ক্রেতা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার সংযোগ সড়ক।

বিজ্ঞাপন

আমদানিনির্ভর সরবরাহ কমাতে অনুদান

আমদানি করা জ্বালানি ও সারের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে কৃষকদের অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এডিবি এই সহায়তাকে দুর্যোগ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অভিঘাত—উভয় থেকে গ্রামীণ জীবিকা সুরক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।

জ্বালানি ও সার স্থানীয় কৃষিব্যয়কে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে। আমদানি করা এসব পণ্যের দাম বেড়ে গেলে বা সেগুলো পাওয়া কঠিন হয়ে পড়লে, দেশের আবহাওয়া অনুকূল থাকলেও কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। তাই এসব সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানো সেচ উন্নয়ন বা বন্যার প্রস্তুতির চেয়ে ভিন্ন ধরনের সুরক্ষা।

অনুদানের মাধ্যমে প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তাও যুক্ত হবে। কৃষকদের চাষপদ্ধতি বদলাতে জ্ঞানের পাশাপাশি সম্পদেরও প্রয়োজন হতে পারে। ঘোষিত লক্ষ্য হলো, কঠিন পরিস্থিতিতেও কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাড়িয়ে বিঘ্নের ঝুঁকিতে তাদের পড়া কমানো।

দুর্যোগের আগে কমিউনিটির প্রস্তুতি

নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী স্থানীয় আগাম সতর্কতা ও দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা তৈরি এবং বাস্তবায়নে অংশ নেবে। আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আসন্ন দুর্যোগ সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করে; আর দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনায় বিপদ এলে কমিউনিটিগুলো কী করবে, তা ঠিক করা হয়।

কমিউনিটির সহনশীলতা বৃদ্ধির পরিকল্পনায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এখানে সহনশীলতা বলতে কোনো অভিঘাতের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত হওয়া, তা সামাল দেওয়া এবং পরে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বোঝায়। প্রকল্পটি খামার, অবকাঠামো ও স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই ধারণা প্রয়োগ করবে।

তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যা একই সময়ে গ্রামীণ জীবনের একাধিক ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। উৎপাদনে ক্ষতির পাশাপাশি কোনো পরিবার সড়ক বা বাজারে প্রবেশাধিকারও হারাতে পারে। কমিউনিটি পরিকল্পনার সঙ্গে সেচ, পরিবহন উন্নয়ন এবং কৃষি সহায়তা একত্র করায় এই পরস্পর-সম্পর্কিত চাপগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও রয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও আয়ের পাশাপাশি পরিবারের খাদ্যচাহিদার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে পরিবারগুলো যাতে ভালোভাবে জীবিকা নির্বাহ এবং খাবারের প্রাপ্যতা বজায় রাখতে পারে, সেটিই প্রত্যাশিত ফল।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পটি যে পরিবর্তন আনতে চায়

লক্ষ্যভুক্ত প্রায় ২০০,০০০ কৃষকের জন্য প্রকল্পে কয়েক ধরনের সহায়তা একত্র করা হয়েছে: আরও কৃষিজমিতে পানির ব্যবস্থা, বাজারে যাওয়ার সড়ক সংযোগ মেরামত, কারিগরি দক্ষতা, অনুদান এবং স্থানীয়ভাবে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করা। চরম আবহাওয়া বা অর্থনৈতিক অভিঘাতে কৃষিনির্ভর পরিবারের জীবনে যে ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, প্রতিটি উদ্যোগ তার একটি করে দিক মোকাবিলা করবে।

একটি আলাদা উপাদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এসব কর্মকাণ্ডের সবকটিতেই নারীদের উপকৃত করার লক্ষ্য রয়েছে। এডিবির পদ্ধতিতে কৃষিতে নারীদের অংশগ্রহণকে ব্যবসার সুযোগ পাওয়া এবং কমিউনিটির সিদ্ধান্তে মতামত দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

১৮৬টি কমিউনে এই অর্থায়নকে বাস্তব উন্নয়নে রূপ দেওয়াই মূল কাজ। ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো বাস্তবায়নের পরিমাপযোগ্য সূচক দিচ্ছে, বিশেষ করে সেচের আওতায় আসা অতিরিক্ত জমি এবং পুনর্বাসিত সড়কের দৈর্ঘ্য। পাশাপাশি খাদ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা ও গ্রামীণ জীবিকা আরও সুরক্ষিত করার বৃহত্তর লক্ষ্যও রয়েছে।

মূল বিষয়গুলো

  • কম্বোডিয়ার ক্ষুদ্র কৃষকদের সহনশীল অর্থনৈতিক উন্নয়ন খাত প্রকল্পের জন্য এডিবি ৭২ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন করেছে।
  • অংশীদারদের অর্থায়ন ও কম্বোডিয়ার অবদানসহ মোট অর্থায়নের পরিমাণ ১১২.৩ মিলিয়ন ডলার।
  • সাতটি প্রদেশের ১৮৬টি কমিউনের প্রায় ২০০,০০০ ক্ষুদ্র কৃষক প্রকল্পটির লক্ষ্যগোষ্ঠী।
  • পরিকল্পনায় আরও ৭,০০০ হেক্টর জমিতে সেচের ব্যবস্থা এবং ১৯০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক পুনর্বাসন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
  • কৃষিশ্রমশক্তির ৫১ শতাংশ নারী; অর্থনৈতিক সহায়তা ও স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁরা প্রকল্পটির কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার।
  • অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, কৃষক অনুদান ও দুর্যোগ পরিকল্পনা থাকবে।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে