জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় সহায়তার পরিমাণ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারে
আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম বেড়ে ভোক্তা ও রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর চাপ তৈরি করায় জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম সামাল দিতে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কম্বোডিয়া। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত এ কথা বলেন। এর কয়েক দিন পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিত পেট্রলের দাম আরও বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এতে দেখা যায়, সরকারি হস্তক্ষেপ ধাক্কা কিছুটা সামলেছে, তবে তা ঠেকাতে পারেনি।
সূচিপত্র
১১ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত নিয়মিত পেট্রলের দাম প্রতি লিটারে ৫,৩৫০ রিয়েল, যা আগের মূল্য নির্ধারণী সময়ে ছিল ৫,১৫০ রিয়েল। ডিজেলের দাম কমে প্রতি লিটারে ৫,৫৫০ রিয়েল হয়েছে, আগের দাম ছিল ৫,৬৫০ রিয়েল। মন্ত্রণালয়ের সূত্রে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বশেষ দামে পেট্রলের মূল্য পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুরু হওয়ার আগের—ফেব্রুয়ারির শেষ দিকের—দামের চেয়ে ৩৮.৯% বেশি এবং ডিজেলের দাম ৪৪% বেশি।
হুন মানেত বলেন, ভর্তুকি ও করছাড়ের মাধ্যমে সরকার জ্বালানির দাম আরও ৯% থেকে ১০% বাড়া ঠেকিয়েছে। প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের এই অর্থ শুধু পেট্রলের ভর্তুকির জন্য নয়; জ্বালানি ও বিদ্যুৎ—দুই খাতেই হস্তক্ষেপের জন্য। এর মধ্যে জ্বালানি আমদানি শুল্ক কমানো এবং বিদ্যুতের দামে সহায়তাও রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য ও পরিবারের আর্থিক অবস্থার ওপর চাপ সামাল দিতে এই ব্যয়ের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, শুল্ক ও কর থেকে আদায় করা রাজস্ব দিয়ে এসব পদক্ষেপের অর্থায়ন করা হচ্ছে। তবে সংঘাত ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতিসহ অন্যান্য প্রয়োজনও একই সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
জ্বালানি খাতে হস্তক্ষেপের পরিমাণ বোঝাতে তিনি বলেন:
মানুষের জন্য জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম সামাল দিতে এ পর্যন্ত আমাদের মোট ব্যয় প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার।
জ্বালানি পাম্পে কী বদলেছে
সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ে দুই ধরনের জ্বালানির দাম ভিন্ন পথে গেছে, যদিও দুটিরই দাম অনেক বেড়েছিল। ১১ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত নিয়মিত পেট্রলের দাম প্রতি লিটারে ২০০ রিয়েল বাড়ছে, আর ডিজেলের দাম কমছে ১০০ রিয়েল। ঘোষিত পরিবর্তনে পেট্রলের দাম ৩.৮% বেড়েছে এবং ডিজেলের দাম ১.৭% কমেছে বলে জানানো হয়েছে।
২০ লিটার পেট্রল কিনতে নতুন দামে খরচ হবে ১,০৭,০০০ রিয়েল; আগের দামে লাগত ১,০৩,০০০ রিয়েল। একই পরিমাণ ডিজেলের দাম এখন ১,১১,০০০ রিয়েল, যা আগে ছিল ১,১৩,০০০ রিয়েল। এই হিসাবগুলোতে পরিবারের বা ব্যবসার জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ অনুমান না করেই মূল্য সমন্বয়ের তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখানো হয়েছে।
সর্বশেষ পরিবর্তনের আগে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম ৫,১৫০ রিয়েল ছিল, যা সংঘাত-পূর্ব দামের চেয়ে ৩৩.৭% বেশি বলে জানানো হয়েছিল। তখন ৫,৬৫০ রিয়েল দামের ডিজেল ছিল ৪৬.৭% বেশি। পরের পরিসংখ্যানে পেট্রলের ক্ষেত্রে ৩৮.৯% এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে ৪৪% বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এতে দেখা যায়, পেট্রলের দাম আরও বেড়েছে, আর ডিজেলের দাম আগের বৃদ্ধির সামান্য অংশ পুষিয়ে কমেছে।
ডলারে হিসাব করা দামের তথ্য বিভিন্ন সূত্রে আলাদা। আগের ৫,১৫০ রিয়েল দামের পেট্রলকে কোথাও ১.২৯ ডলার, আবার কোথাও ১.২৭ ডলার বলা হয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণায় পেট্রলের দাম ১.৩১ ডলার এবং ডিজেলের দাম ১.৩৬ ডলার উল্লেখ করা হয়েছে। দুই সময়ের দাম তুলনার জন্য রিয়েলের হিসাবই ধারাবাহিক ভিত্তি দেয়।
ভর্তুকি ও করছাড়ে কীভাবে খরচ কমে
কম্বোডিয়ার পদক্ষেপে প্রতি লিটারে নির্দিষ্ট পরিমাণে ছাড়ের পাশাপাশি কয়েকটি করেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতি লিটারে নিয়মিত ৬.৫ মার্কিন সেন্ট ছাড়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার এবং ডিজেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর আরও ১ সেন্ট ছাড় যোগ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি, পরিবহন ও বিমা ব্যয় বাড়ায় সরকার পেট্রল ও ডিজেলের ওপর অতিরিক্ত করও শূন্যে নামিয়েছে। পেট্রলের বিশেষ কর ৩০% থেকে কমিয়ে ১৫% করা হয়েছে, আর ডিজেলের ক্ষেত্রে কর ৪% থেকে শূন্যে নামানো হয়েছে।
বিক্রয়ের ওপর প্রযোজ্য কর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পেট্রলের ক্ষেত্রে ১০% থেকে কমিয়ে ৪% এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে ১০% থেকে শূন্যে নামানো হয়েছে। সরকার পেট্রলের ওপর ৬% এবং ডিজেলের ওপর ১০% হারের সমতুল্য অবশিষ্ট করের বোঝা বহন করছে।
এসব পদক্ষেপ মূল্য নির্ধারণের বিভিন্ন ধাপে কাজ করে। প্রতি লিটারে ছাড় দিলে নির্দিষ্ট অঙ্কে খরচ কমে, আর করের হার কমলে সংশ্লিষ্ট করযোগ্য মূল্যের ওপর প্রযোজ্য করের পরিমাণ বদলে যায়। এগুলোকে যোগ করে চূড়ান্ত খুচরা দামের ওপর একক ছাড় হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।
হুন মানেত আরও বলেন, হস্তক্ষেপের ফলে প্রতি লিটারে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৬০০ রিয়েল দাম বাড়া ঠেকানো গেছে। উদাহরণ হিসেবে আগের পেট্রলের দাম ৫,১৫০ রিয়েল ধরলে ৯% থেকে ১০% বৃদ্ধি হতো প্রায় ৪৬৪ থেকে ৫১৫ রিয়েল। আগের ৫,৬৫০ রিয়েল দামের ডিজেলের ক্ষেত্রে তা হতো প্রায় ৫০৯ থেকে ৫৬৫ রিয়েল। এই হিসাবগুলো তাঁর বর্ণিত সহায়তার পরিমাণের সঙ্গে মোটামুটি মিলে যায়।
সরকারি সহায়তা না থাকলে দাম কোথায় উঠত—এই হিসাবটিই অনুমান করে দেখানো হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে ভোক্তারা কোনো মূল্যবৃদ্ধির মুখে পড়েননি; ফেব্রুয়ারির পর থেকে দামের পরিবর্তনই তা দেখায়।
আমদানি ব্যয় বাড়ায় চাপ আরও বেড়েছে
শুল্ক ও আবগারি বিভাগের সূত্রে দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত খনিজ জ্বালানি, তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতে কম্বোডিয়ার ব্যয় হয়েছে ৩.৩৮ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এই ব্যয় ছিল ২.৪১ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ৯৭০ মিলিয়ন ডলার, বা প্রায় ৪০.২%; যা ৪০% বৃদ্ধির হিসাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই শ্রেণিতে পেট্রল ও ডিজেলের বাইরেও পাতিত পণ্য, বিটুমিনাস পদার্থ ও খনিজ মোম রয়েছে। তাই পুরো অঙ্ককে শুধু পেট্রলপাম্পে বিক্রি হওয়া জ্বালানির ব্যয় হিসেবে দেখা উচিত নয়।
এই পরিসংখ্যানে আমদানির মূল্য পরিমাপ করা হয়েছে, পণ্যের পরিমাণ নয়। ফলে ব্যয় বৃদ্ধির কতটা বেশি দামের কারণে আর কতটা কেনা পণ্যের পরিমাণ বদলানোর কারণে হয়েছে, তা এ থেকে নির্ধারণ করা যায় না।
কম্বোডিয়া সম্পূর্ণভাবে আমদানি করা পেট্রোলিয়াম ও ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল; দেশটির সমুদ্রতলের তেলের মজুতও এখনো কাজে লাগানো হয়নি। এই নির্ভরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর এবং পণ্য দেশে আনার খরচের প্রভাব সরাসরি দেশের জ্বালানি ব্যয়ে পড়ে। ভর্তুকিতে ভোক্তার খরচ কমানো যায়, কিন্তু আমদানির মূল ব্যয় দূর হয় না।
বিদ্যুৎ খাতেও কেন সহায়তা দরকার
প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের অঙ্কে বিদ্যুৎ খাতও রয়েছে, কারণ কম্বোডিয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি অংশ জীবাশ্ম জ্বালানির দামের ওঠানামার মুখে পড়ে। হুন মানেত বলেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৩০%-এর বেশি কয়লা ও ভারী জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এসব বাজারে দামের পরিবর্তনে উৎপাদন ব্যয় ঝুঁকির মুখে পড়ে।
জলবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস আন্তর্জাতিক তেলের দামের পরিবর্তনের প্রভাব কিছুটা কমায়। খনি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সূত্রে দেওয়া পরিসংখ্যানে ২০২৫ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ৬৩.২৩% বলা হয়েছে। এর মধ্যে জলবিদ্যুৎ ৩৪.২৫%, সৌরবিদ্যুৎ ২৮.০৫% এবং বায়োমাস ০.৯২%। উল্লিখিত উপাদানগুলোর যোগফল ৬৩.২২%, যা ঘোষিত মোটের চেয়ে ০.০১ শতাংশ পয়েন্ট কম।
উৎপাদন সক্ষমতা ও উৎপাদন এক বিষয় নয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরঞ্জাম যতটা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, তা হলো সক্ষমতা; আর একটি সময়ে বাস্তবে যতটা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, তা হলো উৎপাদন। তাই জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক সক্ষমতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদনের পরিসংখ্যানকে একই হিসাবের সরাসরি তুলনীয় অংশ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ অন্তত ৭০%-এ উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে মন্ত্রণালয়ের। ২০২৫ সালের ঘোষিত ৬৩.২৩% হার থেকে ওই লক্ষ্যে পৌঁছাতে অন্তত ৬.৭৭ শতাংশ পয়েন্ট বাড়াতে হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়লে বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি অংশে আমদানি করা জ্বালানির দামের প্রভাব কমবে। তবে এতে পরিবহনের জন্য আমদানি করা পেট্রল ও ডিজেলের ওপর কম্বোডিয়ার নির্ভরতা বা কয়লা ও ভারী তেল পোড়ানো বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় সামলানোর প্রয়োজন নিজে থেকেই দূর হবে না।
পরিবহন, খাদ্য ও পারিবারিক ব্যয়ে চাপ
দামের বৃদ্ধি শুধু গাড়িচালকদের ওপর প্রভাব ফেলে না। পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা পরিচালনায় জ্বালানি ব্যয় হয়, আর বিদ্যুতের খরচ উৎপাদনে প্রভাব ফেলে। এসব ব্যয় যেন পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা ও ব্যবসার খরচের ওপর অতিরিক্ত চাপ না ফেলে, সেই লক্ষ্যেই সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
কম্বোডিয়া ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সের চীন-আসিয়ান স্টাডিজ সেন্টারের উপপরিচালক থং মেংদাভিদ বলেন, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় সরবরাহব্যবস্থা ও উৎপাদন খাতে প্রভাব ফেলছে। তাঁর মতে, খাদ্য ও কৃষিপণ্য বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে:
এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের ভেতরে মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে; সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খাদ্য ও কৃষিপণ্য,
তাঁর এই মূল্যায়নে বৃহত্তর অর্থনৈতিক চাপের কথা বলা হয়েছে, তবে এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হার বা খাদ্যের দামের পরিমাপযোগ্য পরিবর্তনের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। জ্বালানির দামসংক্রান্ত পরিসংখ্যান পাম্পে মূল্যবৃদ্ধির মাত্রা দেখায়; অন্য পণ্যের দামে এর প্রভাব ঠিক কতটা পড়েছে, তা দেখায় না।
সহায়তার কার্যকারিতা মূল্যায়নে এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানির দাম অন্যথায় যতটা বাড়ত, তার নিচে ধরে রাখতে পারলে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কমানো যায়—যদিও সংঘাতের আগের তুলনায় ভোক্তাদের বিল এখনো অনেক বেশি।
একসঙ্গে নানা চাহিদার মুখে বাজেট
হুন মানেত বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবের পাশাপাশি কম্বোডিয়াকে সীমান্ত সংঘাত ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতিও সামলাতে হচ্ছে। জ্বালানি সহায়তায় ব্যবহৃত শুল্ক ও করের রাজস্ব অন্যান্য সরকারি ব্যয়েও দরকার, যার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতও রয়েছে।
তিনি বলেন, অপ্রত্যাশিত সংঘাতের কারণে ব্যয় বেড়েছে। তিনি ভয়াবহ বন্যার কথাও জানান, যাতে সড়ক ধ্বংস হয়েছে এবং জাতীয় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ২০২৬ সালের বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় বন্যার ঘটনা ঘটেছিল বলে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে, তবে এর সুনির্দিষ্ট তারিখ বা মেরামতের আলাদা ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়নি।
সরকারের আর্থিক ব্যয় পরিমাপ হিসেবে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মোট অঙ্কটিরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই ক্রমসঞ্চিত ব্যয়ের শুরুর তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি, আর বিদ্যুৎ ভর্তুকি, জ্বালানি সহায়তা ও করছাড়ের মধ্যে ব্যয়ের বিভাজনও জানানো হয়নি। সরাসরি ব্যয় এবং করছাড়ের কারণে রাজস্ব না পাওয়া—দুটিই সরকারি অর্থব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে, তবে এগুলো হিসাবের আলাদা খাত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাতের এই অঙ্কে অন্যান্য সমস্যা মোকাবিলার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই এটি একই সময়ের সংকটগুলোর সামগ্রিক ব্যয় নয়, বরং সরকারি হস্তক্ষেপের একটি খাতের হিসাব।
যা নিশ্চিত, এরপর কী
হুন মানেতের বক্তব্য কোথায় দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ অক্টোবর বুধবার সকালে নমপেনে ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেন। আরেক প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের সমাবর্তন অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে, অন্য একটি প্রতিবেদনে সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি বাত্তামবাং প্রদেশে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বর্ণনা থেকে একটি নির্দিষ্ট স্থান বা অনুষ্ঠান সম্পর্কে একমত হওয়ার ভিত্তি পাওয়া যায় না।
তবে প্রধান ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট:
- ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিক: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতকে পরবর্তী জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির তুলনামাপক হিসেবে ধরা হয়।
- ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট: খনিজ জ্বালানি, তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি ব্যয় দাঁড়ায় ৩.৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২.৪১ বিলিয়ন ডলার।
- ৭ অক্টোবর ২০২৬: হুন মানেত বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম সামাল দিতে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।
- ১১ থেকে ২১ অক্টোবর ২০২৬: নিয়মিত পেট্রলের দাম প্রতি লিটারে ৫,৩৫০ রিয়েল এবং ডিজেলের দাম ৫,৫৫০ রিয়েল নির্ধারণ করা হয়।
- ২০৩০: নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের অংশ অন্তত ৭০%-এ উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে খনি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
হুন মানেত বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম উঁচু থাকলে ভর্তুকি চালু থাকবে। সহায়তা বন্ধের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ, বৃহত্তর সহায়তা প্যাকেজ প্রত্যাহারের মূল্যসীমা বা মোট ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ঘোষণা করা হয়নি। ঘোষিত খুচরা দাম ১১ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রযোজ্য; এরপরের দাম এখনো জানানো হয়নি।
২০২৭ সালের দিকে তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। সতর্কতার সঙ্গে তিনি বলেন:
আমরা আশা করি সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি আসবে না, তবে আমাদের আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে হবে।
তাৎক্ষণিক চিত্র হলো, কম্বোডিয়া বাজেট থেকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কার একটি অংশ সামাল দিচ্ছে, অথচ ভোক্তাদের এখনো উল্লেখযোগ্য বেশি দাম দিতে হচ্ছে। আরও কতটা সহায়তা দিতে হবে, তা আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও পদক্ষেপগুলো কত দিন চলবে তার ওপর নির্ভর করছে; কোনোটিরই এখনো নির্দিষ্ট শেষসীমা নেই।
মূল তথ্য
- হুন মানেতের ভাষ্য অনুযায়ী, ভর্তুকি ও করছাড়সহ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে।
- ১১ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পেট্রলের দাম বেড়ে প্রতি লিটারে ৫,৩৫০ রিয়েল হয়েছে, আর ডিজেলের দাম কমে ৫,৫৫০ রিয়েল হয়েছে।
- ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় পেট্রল ও ডিজেলের দাম যথাক্রমে ৩৮.৯% ও ৪৪% বেশি রয়েছে।
- ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্টে জ্বালানি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি ব্যয় দাঁড়ায় ৩.৩৮ বিলিয়ন ডলার; আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ২.৪১ বিলিয়ন ডলার।
- ২০২৫ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৬৩.২৩% নবায়নযোগ্য উৎস থেকে এসেছে বলে জানানো হয়েছে; ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার অন্তত ৭০%-এ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
- জ্বালানি সহায়তা বন্ধের কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, আর প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের অঙ্কে প্রধান খাতগুলোর ব্যয়ের বিভাজনও প্রকাশ করা হয়নি।






