কর্মজীবীদের ওপর চাপ কমাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব
জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় ৭০ বছর ও তার বেশি বয়সীদের বিমাকৃত চিকিৎসা ব্যয়ের নির্ধারিত ৩০ শতাংশ বহনের আওতায় আনতে চাইছে। বর্তমানে বেশি আয়ের প্রবীণদের ক্ষেত্রে এই হার প্রযোজ্য। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বর্তমানে ১০ বা ২০ শতাংশ ব্যয় বহন করেন—এমন অনেক রোগীর খরচ বাড়বে। একই সঙ্গে কর্মজীবী প্রজন্মের বিমা প্রিমিয়াম কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
সূচিপত্র
- কর্মজীবীদের ওপর চাপ কমাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব
- প্রবীণ রোগীরা বর্তমানে কত দেন
- বয়সের চেয়ে আয়ের গুরুত্ব বাড়বে
- বর্তমানে আয়ের যোগ্যতা কীভাবে নির্ধারিত হয়
- প্রবীণদের চিকিৎসার খরচে কর্মজীবীরা কেন অবদান রাখেন
- বহির্বিভাগের ব্যয়সীমাও পর্যালোচনায়
- বছর শেষে সিদ্ধান্তের মুখে জোটের দলগুলো
- আলোচনায় নার্সিং কেয়ার ও আর্থিক আয়
- মূল বিষয়গুলো
অর্থমন্ত্রীর উপদেষ্টা সংস্থা ফিসকাল সিস্টেম কাউন্সিলের সর্বশেষ আলোচনা হয় ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর; অন্য একটি বিবরণে মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব উপস্থাপনের তারিখ ৫ নভেম্বর বলা হয়েছে। ৩০ শতাংশে যাওয়ার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা চায় মন্ত্রণালয়। বয়সভিত্তিক অভিন্ন নিয়মের চেয়ে ব্যয় বহনের সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলছে তারা।
প্রস্তাবটি ক্লিনিক বা হাসপাতালে নেওয়া অর্থের হারের বাইরেও বিস্তৃত। ৭০ বছর ও তার বেশি বয়সীদের বহির্বিভাগের চিকিৎসা ব্যয়ের বিশেষ সীমা তুলে দিতে এবং নার্সিং কেয়ার সেবার খরচের ২০ শতাংশ বহন করবেন—এমন মানুষের গোষ্ঠী বাড়াতেও চায় মন্ত্রণালয়। এতে একক চিকিৎসা-সাক্ষাতের খরচের পাশাপাশি নিয়মিত সেবা নেওয়ার সামগ্রিক ব্যয়ও প্রভাবিত হবে।
আয়ের চূড়ান্ত সীমা, বাস্তবায়নের তারিখ বা কর্মজীবীদের প্রিমিয়াম কতটা কমবে—এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। রোগীদের ব্যয় বহনের নিয়ম সংশোধনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং তাদের জোটসঙ্গী জাপান ইনোভেশন পার্টি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রবীণ রোগীরা বর্তমানে কত দেন
জাপানে রোগীর নিজ খরচে বহন করা অংশকে প্রায়ই কো-পেমেন্ট বলা হয়। বিমাকৃত চিকিৎসা ব্যয়ের যে শতাংশ রোগী সরাসরি দেন, সেটিই এই কো-পেমেন্ট। ৭০ বছরের কম বয়সীদের জন্য সাধারণ হার ৩০ শতাংশ, ৭০ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের জন্য ২০ শতাংশ এবং ৭৫ বছর থেকে ১০ শতাংশ। আয়ের নিয়মে কিছু প্রবীণকে ইতিমধ্যেই বেশি অর্থ দেওয়ার শ্রেণিতে রাখা হয়।
প্রবীণ বাসিন্দাদের চিকিৎসা বিমা পরিচালনাকারী টোকিও অ্যাসোসিয়েশন তাদের ২০২৬ সালের ব্যবস্থার সারসংক্ষেপে বর্তমান নিয়মগুলো ব্যাখ্যা করেছে। আয় ও পারিবারিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সদস্যরা ১০, ২০ বা ৩০ শতাংশ দেন। বর্তমান নিয়মে বাসিন্দা কর থেকে অব্যাহতি পাওয়া পরিবারগুলো ১০ শতাংশ দেয়।
প্রবীণদের জন্য পৃথক চিকিৎসা বিমা ব্যবস্থা সাধারণত ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের আওতায় রাখে। নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধকতা থাকা ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরাও এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। অর্থাৎ প্রস্তাবটি ভিন্ন বিমা ব্যবস্থার রোগীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য: ৭০ থেকে ৭৪ বছর বয়সীরা এবং প্রবীণদের বিমা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা।
১০,০০০ ইয়েনের বিমাকৃত চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ হলে দিতে হয় ১,০০০ ইয়েন, ২০ শতাংশ হলে ২,০০০ ইয়েন এবং ৩০ শতাংশ হলে ৩,০০০ ইয়েন। ১০ থেকে ৩০ শতাংশে গেলে প্রাথমিক পরিশোধের পরিমাণ তিন গুণ হবে। ২০ থেকে ৩০ শতাংশে গেলে তা অর্ধেক বাড়বে। তবে বড় অঙ্কের চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যয়সীমা রোগীর চূড়ান্ত পরিশোধ কমাতে পারে।
বয়সের চেয়ে আয়ের গুরুত্ব বাড়বে
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে ব্যয় বহনের সামর্থ্য আছে বলে বিবেচিত প্রবীণদের মধ্যে ৩০ শতাংশ হারে অর্থ দেওয়ার নিয়ম আরও বিস্তৃত করার কথা বলা হয়েছে। কাউন্সিলের সদস্যরা বয়সভিত্তিক অভিন্ন শ্রেণিবিভাগ পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছেন, যাতে পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য থাকা ব্যক্তিরা চিকিৎসার খরচে বেশি অবদান রাখেন।
৪ নভেম্বরের বৈঠকের পর কাউন্সিলের ফিসকাল সিস্টেম সাবকমিটির উপপ্রধান হিরোয়া মাসুদা প্রস্তাবটির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি ব্যবস্থাটিকে আর্থিকভাবে টেকসই রাখা এবং প্রজন্মগুলোর মধ্যে ব্যয় আরও ন্যায্যভাবে ভাগ করার সঙ্গে রোগীর বাড়তি অবদানের সম্পর্ক তুলে ধরেন:
প্রবীণদের চিকিৎসাব্যবস্থার স্থায়িত্ব বাড়ানো এবং কর্মজীবী প্রজন্মের সঙ্গে ভাগ করা ব্যয়ের ভারে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মাসুদা আরও বলেন, কম আয়ের মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রক্ষা করা এর পূর্বশর্ত। এ বছর ৩০ শতাংশ অর্থ দেবেন—এমন গোষ্ঠী বাড়ানোকে তিনি বড় লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন:
৩০ শতাংশ অবদানকারীর আওতা বাড়ানো এ বছরের একটি বড় লক্ষ্য।
যত দ্রুত সম্ভব নির্ধারিত ৩০ শতাংশ হার চালুর পক্ষেও বলেছে মন্ত্রণালয়। এই লক্ষ্যকে নিয়মে রূপ দিতে কোন পরিবারগুলো এর আওতায় পড়বে, কীভাবে আয় হিসাব করা হবে এবং ঘন ঘন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়—এমন রোগীদের জন্য কী সুরক্ষা থাকবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বর্তমানে আয়ের যোগ্যতা কীভাবে নির্ধারিত হয়
টোকিও অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশিকা দেখায়, মূল শতকরা হার বদলাতে হলে পরিবারের জন্য বিস্তারিত নিয়মও প্রয়োজন। প্রকাশিত মানদণ্ড অনুযায়ী, বিমাকৃত কোনো সদস্যের বাসিন্দা করযোগ্য বার্ষিক আয় অন্তত ১৪ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন হলে সাধারণত ৩০ শতাংশের শ্রেণি প্রযোজ্য হয়। তবে প্রযোজ্য আয়-নির্ধারণের নিয়মও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
২০ শতাংশের শ্রেণিতে দুটি মানদণ্ড রয়েছে। পরিবারের বিমাকৃত কোনো সদস্যের করযোগ্য আয় অন্তত ২ লাখ ৮০ হাজার ইয়েন, তবে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ইয়েনের কম হতে হবে। পাশাপাশি পেনশন থেকে আয় ও অন্যান্য মোট আয়—একজন বিমাকৃত সদস্যের পরিবারে অন্তত ২০ লাখ ইয়েন, অথবা দুই বা তার বেশি বিমাকৃত সদস্যের পরিবারে ৩২ লাখ ইয়েন হতে হবে।
এই বেশি অর্থ দেওয়ার শ্রেণিগুলোর বাইরে থাকা ব্যক্তিরা সাধারণত ১০ শতাংশ দেন। করযোগ্য আয় বলতে প্রযোজ্য ছাড় বাদ দিয়ে বাসিন্দা কর হিসাবের জন্য ব্যবহৃত অঙ্ক বোঝায়; এটি একজন ব্যক্তি মোট যত অর্থ পান, তার থেকে আলাদা হতে পারে। নির্দেশিকায় অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য পেনশন থেকে আয় ও অন্যান্য আয়ের হিসাবও ব্যবহৃত হয়, তাই এই অঙ্কগুলো ভিন্ন উদ্দেশ্যে প্রযোজ্য।
অ্যাসোসিয়েশন প্রতি বছরের ১ আগস্টে পরিশোধের হার নির্ধারণ করে। ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে কার্যকর মূল্যায়নে ২০২৬ অর্থবছরের বাসিন্দা করযোগ্য আয় ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ব্যক্তির পরিশোধের হার প্রতি মাসের আয়ের ওঠানামা অনুযায়ী বদলায় না; নির্ধারিত কর-তথ্যের ভিত্তিতে বার্ষিক মূল্যায়নের মাধ্যমে ঠিক হয়।
প্রবীণদের চিকিৎসার খরচে কর্মজীবীরা কেন অবদান রাখেন
কর্মজীবী প্রজন্মের বিমা-সংক্রান্ত বোঝা কমানোই অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত লক্ষ্য। টোকিও অ্যাসোসিয়েশনের অর্থায়নসংক্রান্ত পরিসংখ্যান দেখায়, এই বিতর্কে কর্মজীবীদের অর্থ কেন গুরুত্বপূর্ণ: রোগীদের নিজস্ব অংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে কর্মজীবীদের বিমা ব্যবস্থাগুলোর সহায়তা থেকে।
জাতীয় সরকার, টোকিও মহানগর সরকার ও পৌর সরকারগুলোর মাধ্যমে সরকারি তহবিল থেকে আসে প্রায় ৫০ শতাংশ। প্রবীণদের বিমা ব্যবস্থার সদস্যদের প্রিমিয়াম থেকে আসে প্রায় ১০ শতাংশ। এই হিসাব অনুযায়ী, কর্মজীবী প্রজন্মের সহায়তার পরিমাণ ওই ব্যবস্থার সদস্যদের দেওয়া প্রিমিয়ামের প্রায় চার গুণ।
সদস্যসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয়ও বাড়ছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন। ক্রমবর্ধমান ব্যয় প্রবীণ সদস্যদের প্রিমিয়াম এবং অন্যান্য বিমা ব্যবস্থা থেকে সংগৃহীত সহায়তা—দুইয়ের ওপরই চাপ সৃষ্টি করছে। এই চাপ কিছুটা কমাতে যেসব রোগীর সামর্থ্য আছে, তাদের কাছ থেকে সরাসরি বেশি অর্থ নিতে চায় মন্ত্রণালয়।
কর্মজীবীদের শেষ পর্যন্ত কতটা সাশ্রয় হবে, তা অবশিষ্ট বিল কর ও বিমা-অবদানের মধ্যে কীভাবে ভাগ করা হয় তার ওপরও নির্ভর করবে। এর আগে কো-পেমেন্ট নিয়ে বিতর্কে অর্থায়নের এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর তারিখের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি ব্রিফিং পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছিল, বিদ্যমান বেশি আয়ের শ্রেণির আওতা বাড়ালে কর্মজীবীদের বিমা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে।
ওই ব্রিফিংয়ে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমান কর্মজীবীদের সমতুল্য আয় আছে বলে শ্রেণিবদ্ধ প্রবীণ রোগীদের সুবিধার জন্য সরকারি অর্থায়ন নেই। আরও মানুষকে এই শ্রেণিতে আনলে কর্মজীবীদের বিমা ব্যবস্থাগুলোকে অবশিষ্ট ব্যয়ের বড় অংশ বহন করতে হবে। তাই প্রতিশ্রুত প্রিমিয়াম-ছাড়ের ক্ষেত্রে রোগীর পরিশোধের নিয়মের পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নের নিয়মও গুরুত্বপূর্ণ।
বহির্বিভাগের ব্যয়সীমাও পর্যালোচনায়
৭০ বছর ও তার বেশি বয়সীদের বহির্বিভাগের চিকিৎসা ব্যয়ের বিশেষ সীমা তুলে দেওয়ারও প্রস্তাব করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। হাসপাতালে রাত না কাটিয়ে নেওয়া চিকিৎসাকে বহির্বিভাগের সেবা বলা হয়; এর মধ্যে ক্লিনিকে পরামর্শ এবং হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াও রয়েছে।
শতকরা হার এবং ব্যয়সীমা বিলকে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। প্রতিটি বিমাকৃত ব্যয়ের কত অংশ রোগী দেবেন, তা নির্ধারণ করে হার। আর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রোগী শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ কত দেবেন, তা সীমা নির্ধারণ করে। বারবার চিকিৎসা নেওয়া কারও ক্ষেত্রে প্রতিবারের খরচ তুলনামূলক কম হলেও ব্যয়সীমায় পৌঁছানো সম্ভব।
বহির্বিভাগের বিশেষ সীমা তুলে দিলে জমে ওঠা বিল থেকে সুরক্ষার ধরন বদলাবে; একই সঙ্গে পরিশোধের শতকরা হারও বাড়তে পারে। নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়—এমন রোগীদের ভবিষ্যৎ ব্যয় হিসাব করার সময় প্রস্তাবটির এই দুই দিকই বিবেচনা করতে হবে।
কম আয়ের মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়ে মাসুদার অঙ্গীকার এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। আয়ের সুরক্ষা ও ব্যয়সীমা কীভাবে নির্ধারিত হবে, তার ওপর নির্ভর করবে বাড়তি খরচের কতটা নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়—এমন রোগীদের ওপর পড়বে।
বছর শেষে সিদ্ধান্তের মুখে জোটের দলগুলো
কর্মজীবী প্রজন্মের ওপর চাপ কমাতে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয় পর্যালোচনার পক্ষে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও জাপান ইনোভেশন পার্টি। তবে প্রবীণ রোগীদের অবদান নিয়ে তাদের অবস্থান ভিন্ন। জাপান ইনোভেশন পার্টি নির্ধারিত ৩০ শতাংশ হারের পক্ষে; অন্যদিকে প্রবীণ পরিবারগুলোর বিল বাড়ানো নিয়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে সতর্কতা রয়েছে।
স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ১৫ ও ২৫ শতাংশের মধ্যবর্তী হার চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। এতে বর্তমান ১০, ২০ ও ৩০ শতাংশের শ্রেণিগুলোর মধ্যে আরও ধাপ তৈরি হবে, যাতে ব্যয় বহনের মূল্যায়নকৃত সামর্থ্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিশোধের হার ধীরে বাড়ানো যায়।
কম আয়ের মানুষের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়ার সুরক্ষার পাশাপাশি নির্ধারিত ৩০ শতাংশ হারকেই কাঙ্ক্ষিত সাধারণ ব্যবস্থা হিসেবে চালুর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় চাপ দিয়ে যাচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে গন্তব্য কী হবে, তার পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবার কত দ্রুত সেই ব্যবস্থার দিকে যাবে—সেটিও নির্ধারিত হবে।
বিতর্কটি কয়েকটি তারিখ ধরে এগিয়েছে:
- ২১ অক্টোবর, ২০২৫: প্রবীণ রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়সহ সামাজিক নিরাপত্তা সংস্কার নিয়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও জাপান ইনোভেশন পার্টি আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করে।
- ১৩ নভেম্বর, ২০২৫: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে দেখানো হয়, বিদ্যমান বেশি আয়ের শ্রেণির আওতা বাড়ালে কীভাবে অর্থায়নের ভার কর্মজীবীদের বিমা ব্যবস্থার দিকে সরে যেতে পারে।
- ১ আগস্ট, ২০২৬: ২০২৬ অর্থবছরের বাসিন্দা করের তথ্য ব্যবহার করে টোকিও অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক রোগী-পরিশোধ মূল্যায়ন কার্যকর হয়।
- নভেম্বর ২০২৬: ফিসকাল সিস্টেম কাউন্সিলে অর্থ মন্ত্রণালয় ৩০ শতাংশ অবদানকারীর আওতা বাড়ানো এবং সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরির পক্ষে চাপ দেয়।
- ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ: রোগীদের পরিশোধের ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে জোটের দলগুলোর সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথা।
আলোচনায় নার্সিং কেয়ার ও আর্থিক আয়
মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবগুলো নার্সিং কেয়ার সেবার ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। সেবার সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে সেবার খরচের ২০ শতাংশ দেবেন—এমন ব্যবহারকারীর গোষ্ঠী বাড়াতে চায় তারা।
বছর শেষের আগে নার্সিং কেয়ার সেবাদাতাদের দেওয়া সরকারি ফি পর্যালোচনার বিষয়টিও আলোচনায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব ফি নির্ধারণ করে সেবাদাতারা বিমার আওতাভুক্ত সেবার জন্য কত অর্থ পাবেন। ব্যবহারকারীদের অবদান বাড়ালে খরচ কে বহন করবেন তা বদলায়, আর সরকারি ফি বদলালে সেবাদাতাদের আয় প্রভাবিত হয়।
তালিকাভুক্ত শেয়ারের লভ্যাংশসহ আর্থিক আয়ও ব্যবহারকারীদের ব্যয় বহনের সামর্থ্য নির্ধারণে বিবেচনার পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়। তাদের যুক্তি, আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবদান নির্ধারণ করা উচিত। এর জন্য অন্যান্য আয়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ থেকে আয় কীভাবে মূল্যায়নে যুক্ত হবে, তা নীতিনির্ধারকদের ঠিক করতে হবে।
চিকিৎসা ও নার্সিং কেয়ার—দুই ধরনের সেবা নেওয়া পরিবারের ক্ষেত্রে সম্মিলিত প্রভাবটি গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এবং কেয়ার সেবার জন্য বাড়তি অবদান ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে আরোপিত হতে পারে। মূল সিদ্ধান্তগুলো হলো: কারা বেশি দেবেন, সীমিত সামর্থ্যের মানুষের জন্য কী সুরক্ষা থাকবে এবং সংগৃহীত অর্থ অন্য অবদানকারীদের ওপর চাপ কীভাবে বদলাবে।
মূল বিষয়গুলো
- যথেষ্ট ব্যয় বহনের সামর্থ্য আছে—এমন ৭০ বছর ও তার বেশি বয়সীদের জন্য নির্ধারিত ৩০ শতাংশ চিকিৎসা ব্যয়ের দিকে যাওয়ার প্রস্তাব করেছে জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়।
- বর্তমানে ৭০ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের সাধারণ হার ২০ শতাংশ এবং ৭৫ বছর থেকে ১০ শতাংশ; তবে আয়ের ভিত্তিতে বেশি হার ইতিমধ্যেই প্রযোজ্য।
- ৭০ বছর ও তার বেশি বয়সীদের বহির্বিভাগের চিকিৎসা ব্যয়ের বিশেষ সীমা তুলে দিতে চায় মন্ত্রণালয়।
- টোকিওর প্রবীণদের ব্যবস্থায় রোগীদের অর্থ দেওয়ার পর অবশিষ্ট চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ বহন করে কর্মজীবী প্রজন্ম; সরকারি তহবিল দেয় প্রায় ৫০ শতাংশ এবং সদস্যদের প্রিমিয়াম দেয় প্রায় ১০ শতাংশ।
- কর্মজীবীদের প্রিমিয়ামের ওপর প্রভাব নির্ভর করে রোগীর বাড়তি অবদানের পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নের নিয়মের ওপরও।
- কম আয়ের মানুষের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ রক্ষা করার শর্তে জোটের দলগুলোর ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথা।






