ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ের ছয়টি কর্মসূচি নিয়ে বড় লাইসেন্সিং চুক্তি
জার্মানির বোয়েরিঙ্গার ইনগেলহাইমের সঙ্গে ছয়টি পরীক্ষামূলক ক্যানসার কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি করেছে সিনো বায়োফার্মাসিউটিক্যাল। এতে অগ্রিম ও নিকট ভবিষ্যতে পরিশোধযোগ্য অর্থ হিসেবে ৩৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার রয়েছে। ভবিষ্যৎ মাইলফলকের সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ হতে পারে ৭০০ কোটি ডলার পর্যন্ত। এসব পণ্য বাজারে এলে বিক্রির ওপর রয়্যালটি এর বাইরে যোগ হবে।
সূচিপত্র
৪ নভেম্বর ঘোষিত চুক্তির পর হংকংয়ে সিনো বায়োফার্মের শেয়ারের দাম ৮.৫ শতাংশ বেড়ে ৫.৫৯ হংকং ডলারে দাঁড়ায়। ক্যানসারের চিকিৎসায় দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করা কর্মসূচিগুলোর অধিকার নেওয়ার বিকল্প সুযোগ পাবে বোয়েরিঙ্গার: অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট, যা শক্তিশালী ওষুধ ক্যানসার কোষের কাছে পৌঁছে দেয়, এবং টি-সেল এনগেজার, যা রোগপ্রতিরোধী কোষকে টিউমারে আক্রমণে সহায়তা করে।
ছয়টি কর্মসূচিই প্রাক্-ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে, অর্থাৎ মানুষের ওপর পরীক্ষা শুরুর আগের গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। এগুলোর প্রাথমিক উন্নয়নের দায়িত্বে থাকবে সিনো বায়োফার্ম। কর্মসূচিগুলো চুক্তিতে নির্ধারিত ক্লিনিক্যাল মাইলফলকে পৌঁছালে বোয়েরিঙ্গার লাইসেন্স নেওয়ার বিকল্প প্রয়োগ করতে পারবে। ফলে গবেষণার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই ধাপে ধাপে অঙ্গীকারের পরিধি বাড়বে।
পাঁচটি কর্মসূচি এসেছে সিনো বায়োফার্মের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান লানোভা মেডিসিনস সাংহাই থেকে। ষষ্ঠটি এসেছে আরেক সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেইজিং টাইড ফার্মাসিউটিক্যাল থেকে। কর্মসূচিগুলোর লক্ষ্য, পৃথক অণু, সম্ভাব্য ক্যানসার-ব্যবহার কিংবা বোয়েরিঙ্গারকে বিকল্প প্রয়োগের সুযোগ দেবে এমন মাইলফলকে পৌঁছানোর সময়সীমা সম্পর্কে কোম্পানিগুলো কিছু জানায়নি।
অর্থের হিসাব
আর্থিক প্যাকেজটির কয়েকটি স্তর রয়েছে। অগ্রিম ও নিকট ভবিষ্যতে পরিশোধযোগ্য অর্থ হিসেবে ৩৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার পাওয়ার অধিকারী সিনো বায়োফার্ম। বিকল্প প্রয়োগ এবং উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও বাণিজ্যিক মাইলফলকের ওপর নির্ভর করছে আরও সর্বোচ্চ ৭০০ কোটি ডলার।
দুই অঙ্ক মিলিয়ে রয়্যালটি বাদে সম্ভাব্য মোট অর্থের পরিমাণ ৭৩৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭৩৬ কোটি ডলার। ৩৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের মধ্যে অগ্রিম অর্থের পাশাপাশি নিকট ভবিষ্যতে পরিশোধযোগ্য অর্থও রয়েছে; ঘোষণায় এ দুই খাতে অর্থের বিভাজন জানানো হয়নি।
চুক্তিতে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট ঘটনা ঘটলে মাইলফলকভিত্তিক অর্থ পরিশোধ করতে হয়। ওষুধ উন্নয়নে এসব ঘটনা ক্লিনিক্যাল গবেষণায় অগ্রগতি, ওষুধ নিয়ন্ত্রকদের সিদ্ধান্ত কিংবা বাণিজ্যিক সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। প্রতিটি কর্মসূচির জন্য অর্থ পরিশোধের নির্দিষ্ট শর্ত প্রকাশ না করে কোম্পানিগুলো কেবল অর্থের খাতগুলো জানিয়েছে।
বাজারে সফলভাবে পৌঁছানো পণ্যের ভবিষ্যৎ বিক্রির ওপর ধাপভিত্তিক রয়্যালটিও পাবে সিনো বায়োফার্ম। এর হার দুই অঙ্কের শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাবে। ধাপভিত্তিক রয়্যালটিতে বিক্রির নির্ধারিত পরিমাণ বা চুক্তির অন্য শর্ত অনুযায়ী বিভিন্ন শতাংশ হার প্রযোজ্য হয়।
তাই আর্থিক ফলাফল সময়ের সঙ্গে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও গবেষণার ফলের ওপর নির্ভর করবে। প্রাথমিক পরীক্ষায় মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানোর যথেষ্ট ভিত্তি থাকতে হবে, ক্লিনিক্যাল গবেষণায় আরও উন্নয়নের পক্ষে যায় এমন ফল আসতে হবে, নিয়ন্ত্রকদের ওষুধটির অনুমোদন দিতে হবে এবং বাণিজ্যিক অর্থপ্রাপ্তি নির্ভর করবে বিক্রির জন্য সম্মত শর্তের ওপর।
ওষুধগুলোর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে?
ছয়টি কর্মসূচির ক্ষেত্রে বোয়েরিঙ্গারের সম্ভাব্য অধিকার এক রকম নয়। চারটির ক্ষেত্রে চীনের মূল ভূখণ্ড, হংকং ও ম্যাকাওয়ের বাইরে উন্নয়ন, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের একচেটিয়া অধিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে তাদের। বাকি দুটির ক্ষেত্রে বিকল্পগুলো বিশ্বব্যাপী অধিকারের জন্য।
তাই চারটি কর্মসূচির লাইসেন্সিং চুক্তিতে চীনের মূল ভূখণ্ড, হংকং ও ম্যাকাওয়ের অধিকার সিনো বায়োফার্মের হাতে থাকবে। অন্য অঞ্চলগুলোতে ওষুধের উন্নয়ন, উৎপাদনের ব্যবস্থা এবং অনুমোদিত পণ্য বাজারে আনার কাজ করবে বোয়েরিঙ্গার।
নির্ধারিত ক্লিনিক্যাল অগ্রগতি অর্জনের পর ওই অধিকার নেওয়ার সুনির্দিষ্ট সুযোগ দেবে বিকল্পের কাঠামো। ছয়টি কর্মসূচির প্রাথমিক কাজের দায়িত্ব সিনো বায়োফার্মের, আর গবেষণার প্রমাণ যত এগোবে, জার্মান কোম্পানিটি ততই ক্যানসারের ওষুধের সম্ভার বাড়ানোর সুযোগ পাবে।
রোগীদের ক্ষেত্রে, অঞ্চলভিত্তিক এই ব্যবস্থায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হতে পারে তাদের বাজারে উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণের দায়িত্ব কোন কোম্পানির হাতে থাকবে। কোনো চিকিৎসা ব্যবহারের জন্য পাওয়া যাওয়ার আগে অবশ্যই প্রাসঙ্গিক গবেষণা সম্পন্ন করতে হবে এবং অনুমোদন পেতে হবে।
ক্যানসারকে লক্ষ্য করার দুটি পদ্ধতি
অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট, সংক্ষেপে এডিসি, অ্যান্টিবডির সঙ্গে শক্তিশালী ওষুধ যুক্ত করে তৈরি হয়। অ্যান্টিবডিটি ক্যানসার কোষের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট লক্ষ্য শনাক্ত করার জন্য তৈরি করা হয়। রাসায়নিক সংযোগকারী দিয়ে এর সঙ্গে ওষুধটি যুক্ত থাকে, যাকে প্রায়ই পে-লোড বলা হয়।
এডিসিকে সহজভাবে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা হিসেবে বোঝা যায়: এর একটি অংশ লক্ষ্য শনাক্ত করতে সাহায্য করে, আরেকটি অংশ চিকিৎসার উপাদান বহন করে। পুরো ওষুধটি ক্ষতিকর প্রভাব গ্রহণযোগ্য সীমায় রেখে যথেষ্ট উপকার দেয় কি না, তা গবেষকদের পরীক্ষা করতে হয়। লক্ষ্য, পে-লোড এবং রাসায়নিক সংযোগকারীর ধরন, সবই ওষুধটির কার্যপ্রণালিকে প্রভাবিত করে।
টি-সেল এনগেজার ভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ করে। টি-সেল রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থার অংশ, যা শরীরের প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক। এই ওষুধগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে একটি টি-সেল ক্যানসার কোষের কাছে আসে এবং সেটিকে আক্রমণ করতে পারে।
দুটি প্রযুক্তিরই লক্ষ্য চিকিৎসাকে আরও নির্দিষ্টভাবে পরিচালনা করা, তবে প্রতিটি পরীক্ষামূলক ওষুধের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার নিজস্ব প্রমাণ প্রয়োজন। টিউমারের পাশাপাশি সুস্থ টিস্যুর ওপর প্রভাবও পরীক্ষা করতে হবে। আর রোগপ্রতিরোধী চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা সক্রিয় করার সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকিও খতিয়ে দেখতে হবে।
বোয়েরিঙ্গার জানিয়েছে, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে দুই কোম্পানির গবেষণার সক্ষমতা একত্র করে তাদের এডিসি ও টি-সেল এনগেজারের সম্ভার বাড়ানো হবে। ছয়টি কর্মসূচির লক্ষ্য ও সম্ভাব্য ব্যবহার এখনো জানানো হয়নি। ফলে জনসমক্ষে দেওয়া বিবরণে কোন প্রযুক্তিগুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে তা বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে কোন নির্দিষ্ট ক্যানসারের চিকিৎসায় সেগুলো ব্যবহার হতে পারে তা নয়।
চীনের জন্য ওষুধ নিয়ে শুরু হওয়া অংশীদারত্ব
২০২৪ সালের এপ্রিলে চীনের মূল ভূখণ্ডে বোয়েরিঙ্গারের ক্যানসার-ওষুধের পাইপলাইন উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণের জন্য প্রতিষ্ঠিত সহযোগিতার ভিত্তিতেই নতুন চুক্তিটি হয়েছে। ওই অংশীদারত্বে ছিল ব্রিগিম্যাডলিন, জংগের্টিনিব ও বিআই ৭৬৪৫৩২।
এরপর চীনে ফুসফুসের ক্যানসারের দুটি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে জংগের্টিনিব। এর বাজারজাতকরণের দায়িত্বে রয়েছে সিনো বায়োফার্ম। ‘ইন্ডিকেশন’ বলতে ওষুধটির অনুমোদিত নির্দিষ্ট ব্যবহার বোঝায়, যেমন কোনো নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত রোগীদের একটি নির্ধারিত গোষ্ঠীর চিকিৎসা।
এখন সম্পর্কটি দুই দিকেই এগোচ্ছে। আগের সহযোগিতায় বোয়েরিঙ্গারের ক্যানসারের ওষুধগুলো চীনের মূল ভূখণ্ডের জন্য অংশীদারত্বে এসেছিল। নতুন চুক্তিতে সিনো বায়োফার্মের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তৈরি ওষুধের সম্ভাব্য অধিকার পাচ্ছে বোয়েরিঙ্গার, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারের অধিকারও রয়েছে।
বাইরের উদ্ভাবকদের সঙ্গে সহযোগিতা এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল উন্নয়ন জোরদার করতে অক্টোবরে সাংহাইয়ে চীন গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রও খুলেছে বোয়েরিঙ্গার। নভেম্বরের চুক্তিটি ওই উদ্যোগের সঙ্গে চীনের দুই সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে আসা ছয়টি কর্মসূচিকে যুক্ত করেছে।
ছয়টি কর্মসূচির পাঁচটিই লানোভার
চুক্তির ছয়টি সম্পদের মধ্যে পাঁচটিই লানোভা থেকে এসেছে। ফলে চুক্তির গবেষণার প্রধান উৎস প্রতিষ্ঠানটি। এর সম্পৃক্ততার কারণে এর আগের একটি আন্তর্জাতিক লাইসেন্সিং চুক্তিও আলোচনায় এসেছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে পিডি-১ ও ভিইজিএফ উভয়ের ওপর কাজ করার জন্য তৈরি অ্যান্টিবডি এলএম-২৯৯-এর বিশ্বব্যাপী অধিকার মার্কের কাছে লাইসেন্স দেয় লানোভা। পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে লানোভা অধিগ্রহণের ঘোষণা দেয় সিনো বায়োফার্ম। তাই অধিগ্রহণের ঘোষণার আগেই মার্কের সঙ্গে চুক্তিটি হয়েছিল।
পিডি-১ রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে, আর ভিইজিএফ রক্তনালির বৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করে। এলএম-২৯৯-এর মতো দ্বি-নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি দুটি লক্ষ্যবস্তুর ওপর কাজ করার জন্য তৈরি। ওই আগের চুক্তিটি ছিল ভিন্ন একটি কর্মসূচি নিয়ে, বোয়েরিঙ্গারের বিকল্পের আওতায় থাকা এখনকার ছয়টি নাম-প্রকাশ না করা সম্পদ নিয়ে নয়।
সিনো বায়োফার্মের চেয়ারওম্যান থেরেসা সে বলেন, নতুন অংশীদারত্ব কোম্পানির আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন কৌশলকে এগিয়ে নিচ্ছে এবং পরবর্তী প্রজন্মের ক্যানসার চিকিৎসায় তাদের সক্ষমতার প্রতিফলন। চুক্তিটি ওই কৌশলকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো দিয়েছে: গ্রুপের ভেতরে প্রাথমিক গবেষণা, এরপর আন্তর্জাতিক অংশীদারের মাধ্যমে সম্ভাব্য উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণ।
ঘোষণার পেছনের মাইলফলক
কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনার মধ্য দিয়ে কোম্পানিগুলোর সম্পর্ক এবং লানোভার লাইসেন্সিংয়ের ইতিহাস এগিয়েছে। ৪ নভেম্বরের ঘোষণার আগে অক্টোবরে সাংহাইয়ের কেন্দ্রটি খোলা হয়। তবে ওই দুই ঘটনার সাল ঘোষণার বিবরণে উল্লেখ করা হয়নি।
- এপ্রিল ২০২৪: চীনের মূল ভূখণ্ডে বোয়েরিঙ্গারের ক্যানসার-ওষুধের পাইপলাইন নিয়ে সহযোগিতায় সম্মত হয় সিনো বায়োফার্ম ও বোয়েরিঙ্গার।
- নভেম্বর ২০২৪: এলএম-২৯৯-এর বিশ্বব্যাপী অধিকার মার্কের কাছে লাইসেন্স দেয় লানোভা।
- জুলাই ২০২৫: লানোভা অধিগ্রহণের ঘোষণা দেয় সিনো বায়োফার্ম।
- অক্টোবর: সাংহাইয়ে চীন গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র খোলে বোয়েরিঙ্গার।
- ৪ নভেম্বর: প্রাক্-ক্লিনিক্যাল পর্যায়ের ছয়টি ক্যানসার কর্মসূচি নিয়ে বিকল্প ও লাইসেন্সিং চুক্তির ঘোষণা দেয় কোম্পানি দুটি।
ক্যানসারের বাইরেও আন্তর্জাতিক লাইসেন্সিং চুক্তি করেছে সিনো বায়োফার্ম। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের মার্চে সানোফির সঙ্গে রোভাডিসিটিনিব চুক্তি এবং জুলাইয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকাকে চীনের বাইরে টিকিউসি৩৭২১-এর অধিকার দেওয়া। দীর্ঘস্থায়ী অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজের পরীক্ষামূলক ইনহেলড চিকিৎসা টিকিউসি৩৭২১। এগুলো বোয়েরিঙ্গারের ক্যানসার-ওষুধ চুক্তির বাইরে ভিন্ন ওষুধ ও অংশীদারকে ঘিরে।
রোগী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য চুক্তির তাৎপর্য
রোগীদের জন্য গবেষণার আরও কয়েকটি ধাপ বাকি। প্রাক্-ক্লিনিক্যাল কর্মসূচিগুলোকে মানুষের ওপর গবেষণায় এগোতে হবে, যেখানে নিরাপত্তা, মাত্রা ও কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন গবেষকেরা। সফল উন্নয়নে ভবিষ্যতে নতুন চিকিৎসা যুক্ত হতে পারে, তবে এই চুক্তি গবেষণা কর্মসূচি নিয়ে, প্রেসক্রিপশনের জন্য প্রস্তুত ওষুধ নিয়ে নয়।
বিনিয়োগকারীরা মূল্যায়নের জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক কাঠামো পাচ্ছেন: অগ্রিম ও নিকট ভবিষ্যতে পরিশোধযোগ্য ৩৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার, সম্ভাব্য অতিরিক্ত মাইলফলকভিত্তিক অর্থ এবং পণ্য বিক্রি হলে রয়্যালটি। শেয়ারের দাম ৮.৫ শতাংশ বাড়া এই প্যাকেজের বিষয়ে বাজারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে।
ছয়টি পৃথক কর্মসূচির অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত সিনো বায়োফার্মের পরবর্তী বাণিজ্যিক সুযোগ। ক্যানসারের দুটি চিকিৎসা প্রযুক্তিতে বিকল্প অধিকার পাচ্ছে বোয়েরিঙ্গার। অন্যদিকে চারটি কর্মসূচির আঞ্চলিক অধিকার এবং ভবিষ্যৎ পণ্যে মাইলফলকভিত্তিক অর্থ ও রয়্যালটির মাধ্যমে আর্থিক স্বার্থ ধরে রাখছে চীনা গ্রুপটি।
মূল বিষয়
- সিনো বায়োফার্ম ও বোয়েরিঙ্গারের চুক্তিতে রয়েছে প্রাক্-ক্লিনিক্যাল পর্যায়ের ছয়টি ক্যানসার কর্মসূচি; এর পাঁচটি লানোভা এবং একটি বেইজিং টাইডের।
- প্যাকেজে রয়েছে অগ্রিম ও নিকট ভবিষ্যতে পরিশোধযোগ্য ৩৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং অতিরিক্ত মাইলফলকভিত্তিক সর্বোচ্চ ৭০০ কোটি ডলার।
- ভবিষ্যতে পণ্য বিক্রি হলে দুই অঙ্কের শতাংশ পর্যন্ত ধাপভিত্তিক রয়্যালটি পাওয়া যাবে।
- চুক্তিতে নির্ধারিত ক্লিনিক্যাল মাইলফলকের পর বোয়েরিঙ্গার লাইসেন্স নেওয়ার বিকল্প প্রয়োগ করতে পারবে; চারটি কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক এবং দুটিতে বিশ্বব্যাপী অধিকার পেতে পারে তারা।
- চীনের মূল ভূখণ্ডে কোম্পানি দুটির আগে থেকেই সহযোগিতা রয়েছে। সেখানে ফুসফুসের ক্যানসারের দুটি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে জংগের্টিনিব।
- নতুন ছয়টি কর্মসূচির লক্ষ্য, সম্ভাব্য ক্যানসার-ব্যবহার এবং উন্নয়নের সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি।






