মিষ্টির দোকানে পরিদর্শন, সতর্কবার্তা ও খাবার ধ্বংস
তিহার উপলক্ষে দেশজুড়ে নজরদারি অভিযানে পরিদর্শন করা ৪৯৭টি মিষ্টির দোকানের মধ্যে ৪৩৩টিকে সতর্কবার্তা ও নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে নেপালের খাদ্যপ্রযুক্তি ও গুণমান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ। বিভাগটি জানিয়েছে, ২২২টি দোকানে পণ্যের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদর্শন পুরোপুরি চালু হয়েছে। পরিদর্শকেরা নষ্ট মিষ্টি, অনুপযুক্ত রং এবং মান নষ্ট হয়ে যাওয়া রান্নার তেলের বিষয়েও নজর দিচ্ছেন।
সূচিপত্র
- মিষ্টির দোকানে পরিদর্শন, সতর্কবার্তা ও খাবার ধ্বংস
- বিক্রেতাদের কী কী তথ্য প্রদর্শন করতে হবে
- কোথায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে
- কাঠমান্ডু উপত্যকায় পরিদর্শকেরা যা পেয়েছেন
- রং, রান্নাঘরের বিন্যাস ও কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ
- আগের পরিদর্শনেও বারবার একই সমস্যা
- কাঠমান্ডুতে প্রশিক্ষণের সঙ্গে চলছে প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা
- পূজার ঘি হিসেবে বিক্রি হওয়া পণ্যও যাচাই
- মূল বিষয়গুলো
এই অভিযানে ক্রেতারা কী কিনছেন, তা বিক্রেতাদের জানানো বাধ্যতামূলক করার নতুন নিয়মের সঙ্গে খাবার তৈরির প্রক্রিয়াও যাচাই করা হচ্ছে। দোকানে মিষ্টির নাম, প্রধান উপাদান, রান্নায় ব্যবহৃত তেল বা ঘি, খাওয়ার শেষ সময়সীমা এবং প্রতি কেজির দাম প্রদর্শন করতে হবে। খাবার ঘোষিত তথ্যের সঙ্গে মেলে কি না, তা যাচাই করতে পরিদর্শকেরা নমুনা সংগ্রহ করতে পারেন।
বিভাগের বিস্তারিত পরিদর্শন নথিতে দেখা যায়, এসব যাচাইয়ে পৃথক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কী কী সমস্যা ধরা পড়ে। নেপালের বিক্রম সংবৎ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২০৮২/০৬/৩১ তারিখের খাদ্য পরিদর্শনসংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিভাগটি কাঠমান্ডু উপত্যকার ছয়টি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় পরিদর্শনের কথা নথিবদ্ধ করেছে। দুটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় আট লিটার রান্নার তেল নষ্ট করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, রং এবং খাবারের সংস্পর্শে সংবাদপত্র আসার মতো সমস্যাও পাওয়া গেছে।
তিহার, যা যমপঞ্চক নামেও পরিচিত, নেপালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব। প্রদীপ, ফুল ও দেউসি-ভাইলো পরিবেশনার পাশাপাশি উৎসবের উদ্যাপনে মিষ্টি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ সময় চাহিদা বাড়ায় ব্যবসায়ীদের বেশি অর্ডার সামলাতে হয়; অন্যদিকে, ক্রেতাদের উপাদান এবং কেনা খাবার কত দিন খাওয়ার উপযোগী থাকবে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা প্রয়োজন।
সারা দেশে নোটিশের হিসাবে মান পূরণের নির্দেশ পাওয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের বিবরণে নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ও সংশোধনের নির্দেশ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যায়।
বিক্রেতাদের কী কী তথ্য প্রদর্শন করতে হবে
বিভাগটি জানিয়েছে, নতুন মানদণ্ডের ভিত্তি খাদ্য স্বাস্থ্যবিধি ও গুণমান আইন ২০২৪ এবং ভোক্তা সুরক্ষা আইন। হোটেল, মিষ্টির দোকান এবং তৈরি মিষ্টি বিক্রি করে এমন দোকানের ক্ষেত্রে এসব নির্দেশ প্রযোজ্য। সিল করা প্যাকেটে নয়, খোলা অবস্থায় প্রদর্শন করে বিক্রি করা পণ্যও এর আওতায় পড়বে।
ক্রেতারা যেখানে পণ্য বেছে নেবেন, সেখানে পাঁচটি তথ্য দৃশ্যমান রাখতে হবে:
- মিষ্টির নাম বা ধরন।
- প্রধান উপাদান, যেমন দুধ, খোয়া, শুকনো ফল, চিনি বা বেসন।
- তৈরিতে ব্যবহৃত তেল বা ঘির ধরন।
- মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ বা সর্বোত্তম ব্যবহারের শেষ তারিখ, অর্থাৎ উল্লেখিত খাওয়ার সময়সীমা।
- প্রতি কেজির দাম।
খোয়া হলো দুধ জ্বাল দিয়ে তৈরি উপাদান, যাতে এর অধিকাংশ পানি বাষ্প হয়ে যায় এবং ঘন দুধের কঠিন অংশ থেকে যায়। খোয়া ও অন্যান্য উপাদানের নাম জানালে ক্রেতারা এমন পণ্য সম্পর্কে ধারণা পান, যা দেখতে ভিন্ন রেসিপিতে তৈরি মিষ্টির মতোই মনে হতে পারে।
বিক্রয়কেন্দ্রে কাঁচা উপাদানসংক্রান্ত তথ্যও দৃশ্যমান রাখতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বিভাগটি। সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল বা ঘি ব্যবহারের তথ্য জানালে ক্রেতারা পণ্য ও দামের তুলনা করার জন্য আরও স্পষ্ট ধারণা পাবেন।
খাদ্যপ্রযুক্তি ও গুণমান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের মহাপরিচালক সঞ্জীব কুমার কর্ণ নির্দেশনার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছেন:
"আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ভোক্তাদের প্রতারিত হওয়া ঠেকানো এবং তাঁদের স্বাস্থ্যসম্মত মিষ্টি পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা," বলেন কর্ণ।
দোকানে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকলেও পরীক্ষাগারে যাচাইয়ের জন্য পরিদর্শকেরা নমুনা নিতে পারেন। বিভাগটি জানিয়েছে, ঘোষিত উপাদানের বদলে অন্য উপাদান, অখাদ্য রং বা নষ্ট তেল ব্যবহার করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির মুখে পড়তে পারে; এর মধ্যে ব্যবসা পরিচালনার লাইসেন্স বাতিলও রয়েছে।
কোথায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে
৪৩৩টি নোটিশ পাওয়া দোকানের মধ্যে লুম্বিনায় ১৭৫টি, যা প্রদেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর কোশিতে ৮৪টি, মধেশে ৫৬টি, বাগমতিতে ৫৩টি, গণ্ডকিতে ২৬টি, কর্ণালীতে ২৪টি এবং সুদূরপশ্চিমে ১৫টি দোকান রয়েছে।
লুম্বিনার সংখ্যা মোট নোটিশের প্রায় ৪০ শতাংশ। প্রতিটি প্রদেশে কতটি দোকান পরিদর্শন করা হয়েছে, বিভাগ তা জানায়নি। ফলে এই হিসাব থেকে প্রদেশভিত্তিক নিয়ম মেনে চলার হার বের করা সম্ভব নয়।
সারা দেশে পরিদর্শন করা ৪৯৭টি দোকানের মধ্যে ৪৩৩টিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ৮৭ শতাংশ। নির্ধারিত তথ্য প্রদর্শন করা ২২২টি দোকান পরিদর্শিত দোকানগুলোর প্রায় ৪৫ শতাংশ। বিভাগটি বলেছে, অভিযানের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উন্নতি করছে; কিছু দোকান নির্দেশনা পাওয়ার পর লেবেল লাগিয়েছে। তবে এই দুই হিসাবের মধ্যে দোকানভিত্তিক যোগসূত্র দেখানো কোনো বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
কর্ণ বলেন, ৩০টি কার্যালয়ের পরিদর্শকেরা স্থানীয় সরকার, জেলা প্রশাসন কার্যালয় এবং বাণিজ্য বিভাগের সঙ্গে কাজ করছিলেন। পরবর্তী পর্যায়ে যেসব প্রতিষ্ঠান এখনও নিয়ম মানেনি, তাদের শনাক্ত করা, আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা এবং প্রতিষ্ঠানে জরিমানা করার কথা তিনি জানান।
উৎসব উপলক্ষে বিভাগের বিস্তৃত নজরদারির হিসাবে ১ থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে ১,৭৫১টি স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং হোটেলও রয়েছে। এই বৃহত্তর কর্মসূচিতে ১০ লাখ ৭৬ হাজার রুপির বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছিল। এর মধ্যে মিষ্টির দোকান থেকে আদায় করা জরিমানার পরিমাণ জানানো হয়নি।
কাঠমান্ডু উপত্যকায় পরিদর্শকেরা যা পেয়েছেন
বিভাগের মুখপাত্র ডা. বালকুমারী শর্মার নামে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পরিদর্শন করা ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি নথিবদ্ধ করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজের ধরন উন্নত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; অন্যগুলোর পণ্য নষ্ট করা হয়েছে বা আরও পরীক্ষার জন্য নমুনা নেওয়া হয়েছে।
কাঠমান্ডুর গৌশালায় শ্রী মনকামনা খাজা পাসালে পরিদর্শকেরা পরিচ্ছন্নতা ও কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে সন্তোষজনক নয় এমন অবস্থা, অনুপযুক্ত রংয়ের ব্যবহার এবং অপর্যাপ্ত ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি নথিবদ্ধ করেন। বিভাগের ভ্রাম্যমাণ খাদ্য পরীক্ষাগারে একটি মিষ্টির পরীক্ষায় স্টার্চ পাওয়া যায়। তেলের মানের পাঠ ২৬.৫ হওয়ার পর প্রায় তিন লিটার রান্নার তেল নষ্ট করা হয়।
থালির শ্রী বাল গণেশ মিঠাই পাসালে খাবার ঢেকে রাখা ও মোড়ানোর জন্য সংবাদপত্রের ব্যবহার, সন্তোষজনক নয় এমন পরিচ্ছন্নতা, অকার্যকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ এবং ভাজার সরঞ্জামের বিশৃঙ্খল ব্যবহার পাওয়া যায়। একটি মিষ্টির পরীক্ষায় স্টার্চ পাওয়া যায়নি। তেলের মানের পাঠ ২৬.০ হওয়ার পর প্রায় পাঁচ লিটার তেল নষ্ট করা হয়।
তেলের এই পরিমাপকে টোটাল পোলার ম্যাটেরিয়ালস বা টিপিএম বলা হয়। বারবার ব্যবহার ও গরম করার ফলে ভাজার তেলে যে উপাদান জমে, তার পরিমাণ এটি নির্দেশ করে। শুধু রং বা চেহারার ওপর নির্ভর না করে তেলের অবস্থা যাচাইয়ে পরিদর্শকেরা এই পাঠ ব্যবহার করেন।
লগনখেলের অনুপম সুইট অ্যান্ড ফাস্ট ফুডে পরিচ্ছন্নতা সন্তোষজনক ছিল এবং তেলের টিপিএমের পাঠ ছিল ১৩.০। তবে পরিদর্শকেরা ছাপানো কাগজে তৈরি ১০০টি ব্যাগ পান এবং সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ করতে প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশ দেন। ছাপার কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি কাগজ সরাসরি খাবারের সংস্পর্শে রাখার উপযোগী নয়, কারণ এর কালি ও অন্যান্য পদার্থ খাবারে মিশে যেতে পারে।
রং, রান্নাঘরের বিন্যাস ও কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ
লগনখেলের নিউ জনকপুর সুইট অ্যান্ড ফাস্ট ফুডে খাবারের রং মেশানো প্রায় পাঁচ কেজি জিলাপির খামির এবং সংবাদপত্র দিয়ে তৈরি প্রায় দুই কেজি ব্যাগ ছিল। বিভাগটি প্রায় পাঁচ কেজি জিলাপি ও সংবাদপত্রের ব্যাগ নষ্ট করার কথা নথিবদ্ধ করেছে এবং নজরদারির জন্য একটি মতিচুর লাড্ডুর নমুনা সংগ্রহ করেছে।
যেসব খাবার রান্না, ভাজা বা ঝলসানো হয়, তাতে খাবারের রং ব্যবহার না করতে এবং সংবাদপত্র ব্যবহার বন্ধ করতে প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশ দেয় পরিদর্শকেরা। এই পর্যবেক্ষণে রান্নাঘরে উপাদান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এবং বিক্রয়কেন্দ্রে মোড়কের ব্যবহার, দুই ক্ষেত্রেই সংশোধনের প্রয়োজন উঠে এসেছে।
লগনখেলেই অবস্থিত শ্রী দেবমান সুইটসে প্রস্তুত করার জায়গা খোলা ছিল, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছিল না এবং রান্না ও থালাবাসন ধোয়ার জায়গা একই স্থানে ছিল। বনস্পতি ঘিতে মিষ্টি ভাজতে দেখেন পরিদর্শকেরা এবং ওই চর্বিজাতীয় পদার্থের নমুনা সংগ্রহ করেন। তাঁরা কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, রান্না ও ধোয়ার জায়গা আলাদা করা এবং খাবারের রং সঠিকভাবে ব্যবহারের লিখিত পদ্ধতি তৈরির নির্দেশ দেন।
সংশোধনের প্রমাণ জমা দিতে প্রতিষ্ঠানটিকে সাত দিন সময় দেওয়া হয়। ধোয়ার জায়গা রান্নার জায়গা থেকে আলাদা রাখলে নোংরা পানি, ব্যবহৃত বাসন এবং পরিষ্কারের কাজ প্রস্তুত করা খাবার থেকে দূরে রাখা যায়।
বৌদ্ধের তুষালে অবস্থিত শ্রী শিবা ফুডস প্রাইভেট লিমিটেডের চাবাহিল শাখায় পরিদর্শকেরা সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা নথিবদ্ধ করলেও কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণকে সন্তোষজনক মনে করেননি। তাঁরা তেলের একটি এবং মিষ্টির দুটি নমুনা সংগ্রহ করেন; পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি ও কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার নির্দেশ দেন।
আগের পরিদর্শনেও বারবার একই সমস্যা
মধ্যপুর থিমির পৌরসভার পরিদর্শন থেকে দেখা যায়, তিহারের আগের কয়েকটি মৌসুমেও এ ধরনের সমস্যা পাওয়া গেছে। নেপালি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২০৭৮ সালের ১৭ কার্তিকের পৌর অভিযানটি ৪ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চালানো হয়েছিল; এর মধ্যে শঙ্খধর চক ও বাখাহা বাজারও ছিল।
পর্যবেক্ষণ কমিটির সভাপতি ও উপমেয়র অঞ্জনা দেবী মাধিকার্মী ওই পরিদর্শনে নেতৃত্ব দেন। লক্ষ্মী সুইটস অ্যান্ড চাট হাউসে অখাদ্য রং দিয়ে তৈরি ৩.৬ কেজি লাল পুরি নষ্ট করে দলটি। শ্রী সিদ্ধি বিনায়ক সুইটস অ্যান্ড চাট হাউসে তিন কেজি নষ্ট মিষ্টি ধ্বংস করা হয়।
একই অভিযানে ফুটপাতের একটি দোকান থেকে পচা ও ছত্রাক ধরা ভাই মসলার তিন বস্তা জব্দ করে নষ্ট করা হয়। নিউ ধনুশা এবং ধনুশা মিঠাই ভান্ডারে লেবেলবিহীন দুধের কেকের পাঁচ প্যাকেটও নষ্ট করেন পরিদর্শকেরা।
পৌরসভার নির্দেশনায় ছিল ব্যবসার নিবন্ধন, মোড়কজাত পণ্য বিক্রির অনুমতি, মূল্যতালিকা, ওজনের সরঞ্জাম, খাবার ঢেকে রাখা এবং রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা। আগের এসব পর্যবেক্ষণ থেকে বোঝা যায়, আজকের তথ্য প্রদর্শনের নিয়মের পাশাপাশি খাবার তৈরি, সংরক্ষণ ও বিক্রির পদ্ধতিতেও বারবার সমস্যা দেখা যাচ্ছে।
পরিদর্শন নথিতে উল্লেখ করা প্রধান তারিখ ও সময়কাল:
- ২০৭৮ সালের ১৭ কার্তিক: মধ্যপুর থিমিতে তিহার উপলক্ষে আগের পরিদর্শনের বিবরণ দেওয়া হয়; এতে নষ্ট মিষ্টি ও অখাদ্য রং ব্যবহার করা পণ্য ধ্বংসের কথাও ছিল।
- ২০৮২/০৬/৩১: বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কাঠমান্ডু উপত্যকার ছয়টি প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনের তথ্য নথিবদ্ধ করা হয়।
- ১ থেকে ১৭ অক্টোবর: বিভাগের বৃহত্তর উৎসবকালীন কর্মসূচিতে ১,৭৫১টি পরিদর্শনের হিসাব দেওয়া হয়।
- ২৮ অক্টোবর: কর্ণ মিষ্টির দোকানে তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার তারিখ হিসেবে এটি উল্লেখ করেন।
বিভাগের বিবরণে তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশের তারিখ ২৮ অক্টোবর বলা হয়েছে; পাশাপাশি বৃহত্তর অভিযানের ১ থেকে ১৭ অক্টোবরের হিসাবও দেওয়া হয়েছে। এই তারিখগুলোর মধ্যে কোন বছর বা প্রতিবেদন প্রকাশের কোন সময়সীমার সম্পর্ক রয়েছে, তা ব্যাখ্যা করা হয়নি। পরবর্তী পর্যায়ের আইনি ব্যবস্থার কোনো ক্যালেন্ডার তারিখও জানানো হয়নি।
কাঠমান্ডুতে প্রশিক্ষণের সঙ্গে চলছে প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা
কাঠমান্ডু মহানগরও ‘পরিচ্ছন্ন খাবার: উৎকৃষ্ট ব্যবসা’ প্রতিপাদ্যে পরিদর্শন জোরদার করেছে। মিষ্টি প্রস্তুতকারকদের প্রশিক্ষণে খাদ্য আইন, স্বাস্থ্যবিধি, অনুমোদিত উপাদান ও রং, লেবেল, প্রক্রিয়াকরণ, বিতরণ এবং নিরাপদে খাবার তৈরির প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নগরের কৃষি ও পশুপালন বিভাগের প্রধান নুরনিধি নিয়াউপানে মিষ্টি প্রস্তুতকারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি ও স্বাস্থ্যবিধিসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে নগরীর দৃষ্টিভঙ্গি তিনি এভাবে ব্যাখ্যা করেন:
মহানগর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ভয় দেখাতে চায় না," তিনি বলেন। "তবে প্রত্যেক উদ্যোক্তার নিজের দায়িত্বের কথা মনে রাখা উচিত। স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখলে ভোক্তা ও ব্যবসা পরিচালনাকারী, উভয় পক্ষই উপকৃত হয়।
নগরীর খাদ্য নিরাপত্তা ও গুণমান কর্মসূচির উপদেষ্টা সন্তোষ গিরি বলেন, কাঠমান্ডু নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরিদর্শন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। নিউ বানেশ্বরে সাম্প্রতিক এক পরিদর্শনে দেখা যায়, অনেক ছোট হোটেল ও রেস্তোরাঁ মানদণ্ডের নিচে থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এরপর সেগুলোকে নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ এবং আইনি ব্যবস্থার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
পূজার ঘি হিসেবে বিক্রি হওয়া পণ্যও যাচাই
পূজার ঘি নামে বিক্রি হওয়া অখাদ্য চর্বিজাতীয় পদার্থের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে বিভাগটি। তিহারের সময় ঘির চাহিদা বাড়ে, কারণ পরিবারগুলো খাবারের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী প্রদীপ জ্বালানো ও ধর্মীয় আচারেও এটি ব্যবহার করে।
কর্ণ বলেন, কিছু ধর্মীয় সামগ্রীর দোকান চর্বি দিয়ে তৈরি পদার্থ ঘি নামে বিক্রি করেছে। বিভিন্ন স্থানে পরিদর্শকেরা এ ধরনের পণ্য জব্দ করেছেন; সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে বা নষ্ট করা হয়েছে।
মিষ্টি কেনার সময় ক্রেতাদের জন্য জরুরি বিষয়গুলো স্পষ্ট: উপাদানের তালিকা, ব্যবহৃত তেল বা ঘির নাম, খাওয়ার শেষ সময়সীমা এবং দাম দেখে নিন। প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদর্শন না থাকলে কেনার জন্য জরুরি তথ্য পাওয়া যায় না। নিয়ম না মানা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ভোক্তারা বিভাগে অথবা নিকটস্থ পুলিশ বা প্রশাসনিক কার্যালয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই অভিযানে বিক্রয়কেন্দ্র ও রান্নাঘর, দুই জায়গাতেই পরিবর্তন আনা জরুরি। লেবেলে ক্রেতাদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে; রান্নাঘরে তেলের অবস্থা, অনুমোদিত রং, পরিচ্ছন্নতা, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ এবং উপযোগী মোড়কের বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।
মূল বিষয়গুলো
- বিভাগটি দেশজুড়ে ৪৯৭টি মিষ্টির দোকান পরিদর্শন করে ৪৩৩টিকে নোটিশ ও নির্দেশ দিয়েছে।
- বিভাগের হিসাবে ২২২টি দোকানে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদর্শন পুরোপুরি চালু হয়েছে।
- কাঠমান্ডু উপত্যকার ছয়টি প্রতিষ্ঠানে বিস্তারিত সরকারি পরিদর্শনে মান নষ্ট হওয়া প্রায় আট লিটার রান্নার তেল ধ্বংসের কথা নথিবদ্ধ হয়েছে।
- মিষ্টির দোকানে পণ্যের নাম, প্রধান উপাদান, তেল বা ঘি, খাওয়ার শেষ সময়সীমা এবং প্রতি কেজির দাম প্রদর্শন করতে হবে।
- কাঠমান্ডুতে ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পরিদর্শন চলছে; জাতীয় পর্যায়ের যাচাইয়ে পূজার ঘি নামে বিক্রি হওয়া পদার্থও লক্ষ্যবস্তু।
- নিয়ম লঙ্ঘন অব্যাহত রাখলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিভাগের।






