নতুন তামিল ছবির প্রদর্শনী শুরু হবে আরও আগে
বিজয়-নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ু সরকার নতুন তামিল ছবির প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রথম সপ্তাহে সকাল ৬টার প্রদর্শনী ফিরিয়ে আনছে। এতে প্রতিদিনের প্রদর্শনীর সময়সীমা বাড়িয়ে পরদিন রাত ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত করা হচ্ছে। ৬ নভেম্বর মুক্তির জন্য নির্ধারিত সূরিয়ার সিন এবং নয়নতারার মুকুতি আম্মান ২ এই সুবিধা পাওয়া প্রথম ছবি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূচিপত্র
- নতুন তামিল ছবির প্রদর্শনী শুরু হবে আরও আগে
- প্রদর্শনীর সময়সীমায় কী অনুমোদন রয়েছে
- আগের প্রদর্শনী কেন সীমিত করা হয়েছিল
- তামিলনাড়ুতে আগে প্রদর্শনী শুরুর দাবি প্রযোজকদের
- সিদ্ধান্তে নিরাপত্তার বিষয়টিও রয়েছে
- প্রেক্ষাগৃহমালিকদের মতে, তাঁদের ব্যবসা বদলে গেছে
- স্ট্রিমিংয়ের কারণে মুক্তির প্রথম সপ্তাহগুলোতে চাপ বাড়ছে
- কারা লাভবান হবে, আর খরচ বহন করবে কে: বিতর্ক
- মূল বিষয়গুলো
এই সিদ্ধান্তে এমন একটি ব্যবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে, যেখানে প্রেক্ষাগৃহে সাধারণত দিনে চারটি প্রদর্শনী হয় এবং প্রথমটি শুরু হয় সকাল ৯টায়। প্রযোজক ও প্রেক্ষাগৃহমালিকেরা যৌথভাবে এই পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁদের যুক্তি, দেরিতে প্রদর্শনী শুরু হওয়ায় প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর তুলনায় তামিলনাড়ু পিছিয়ে পড়ছে এবং ছবির মুক্তির ব্যস্ততম দিনগুলোতে আয় সীমিত থাকছে।
অনুমোদিত প্রদর্শনীর সংখ্যা নিয়ে সতর্কভাবে নজর রাখা দরকার। সিদ্ধান্তের প্রাথমিক বিবরণে মুক্তির প্রথম সপ্তাহে দিনে পাঁচটি এবং সপ্তাহান্তে ও জাতীয় বা রাজ্য ছুটির দিনে ছয়টি প্রদর্শনীর কথা বলা হয়েছে। তবে সরকারি আদেশের উদ্ধৃত ভাষ্যে মুক্তির প্রথম সপ্তাহে দিনে সর্বোচ্চ ছয়টি প্রদর্শনীর অনুমতি রয়েছে; স্থানীয় উৎসবের দিন, সরকারি ছুটি, শনিবার ও রবিবারেও ছয়টি প্রদর্শনীর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভেট্রি থিয়েটারের মালিক রাকেশ গোবথমনও অনুমতিটিকে ছয়টি প্রদর্শনীর সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
দর্শকদের জন্য তাৎক্ষণিক পরিবর্তনটি হলো, এখনকার সকাল ৯টার শুরুর তুলনায় নতুন তামিল ছবি তিন ঘণ্টা আগে দেখার সুযোগ। প্রেক্ষাগৃহের জন্য চারটির বদলে ছয়টি প্রদর্শনী মানে দিনে দুটি অতিরিক্ত প্রদর্শনী, অর্থাৎ একটি পর্দায় প্রদর্শনীর সংখ্যা ৫০% বাড়বে। তবে প্রকৃত টিকিট বিক্রি নির্ভর করবে দর্শক উপস্থিতির ওপর।
প্রদর্শনীর সময়সীমায় কী অনুমোদন রয়েছে
সরকারি আদেশের উদ্ধৃত ভাষ্য অনুযায়ী, এই অনুমতি তামিলনাড়ুর সব প্রেক্ষাগৃহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং নতুন তামিল ছবি মুক্তির দিন থেকে প্রথম সপ্তাহের জন্য কার্যকর। এতে স্থানীয় উৎসব ও সরকারি ছুটির পাশাপাশি শনিবার ও রবিবারেও ছয়টি প্রদর্শনীর অনুমতির কথা উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিদিনের সময়সীমা সকাল ৬টা থেকে পরদিন রাত ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত, মোট ২০ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এই সময়ের মধ্যে প্রেক্ষাগৃহগুলোকে প্রদর্শনী, বিরতি এবং দর্শক পরিবর্তনের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবস্থা করতে হবে। অনুমতিতে প্রদর্শনীর সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে; প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহের সময়সূচি নির্ভর করবে ছবির দৈর্ঘ্য ও ব্যবস্থাপনার ওপর।
আদেশে তামিলনাড়ু সিনেমা (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাবের কথাও বলা হয়েছে। এই বিধিমালায় রাজ্যের প্রেক্ষাগৃহ পরিচালনার নিয়ম রয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় প্রদর্শনীর সময়সূচি বদলানো নতুন ছবি মুক্তির জন্য নিয়মিত ব্যবস্থা চান এমন প্রদর্শকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে বর্ণিত ঘোষণায় কোনো আদেশ নম্বর, কার্যকর হওয়ার তারিখ বা সংশোধিত বিধিমালার চূড়ান্ত পাঠ উল্লেখ করা হয়নি। তাই পাঁচটি প্রদর্শনীর বিবরণ ও উদ্ধৃত ছয়টি প্রদর্শনীর সীমার মধ্যে পার্থক্যসহ বিস্তারিত বাস্তবায়ন-শর্তগুলো বুকিং প্রস্তুত করা প্রেক্ষাগৃহগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আগের প্রদর্শনী কেন সীমিত করা হয়েছিল
রোহিণী সিলভারস্ক্রিনের বাইরে অজিত কুমারের থুনিভু ছবিকে ঘিরে উদ্যাপনের সময় এক ভক্তের মৃত্যুর পর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। থুনিভু ও বিজয়ের ভারিসু একই দিনে মুক্তি পেয়েছিল, আর সেদিন বিশেষ আগাম প্রদর্শনীতে বড় জমায়েত হয়েছিল।
তামিল ফিল্ম অ্যাকটিভ প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ প্রযোজক ধনঞ্জয়ন বলেন, সকাল ৫টার প্রদর্শনীর সময় ওই মৃত্যু ঘটেছিল। তিনি জানান, ভক্তরা ভোর ৪টা থেকে জড়ো হতেন এবং বড় প্রচারণামূলক কাটআউটে উঠতেন। তাঁর মতে, নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণেই সরকার প্রদর্শনী শুরুর সময় সকাল ৯টা নির্ধারণ করেছিল।
ধনঞ্জয়ন আরও স্মরণ করেন, বিজয়ের লিও ছবির প্রযোজকেরা প্রদর্শনীর সময় নিয়ে আদালতে গিয়েছিলেন এবং আদালত সরকারের অবস্থান বহাল রেখেছিলেন। কড়াকড়ির ওই সময়ের পরই নতুন সিদ্ধান্তটি এসেছে।
পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাওয়া ঘটনাক্রম:
- ভারিসু ও থুনিভু একই সময়ে মুক্তির সঙ্গে বিশেষ প্রদর্শনী হয়েছিল, এবং রোহিণী সিলভারস্ক্রিনের বাইরে উদ্যাপনের সময় এক ভক্তের মৃত্যু হয়।
- আগের ডিএমকে সরকার আগাম প্রদর্শনী সীমিত করেছিল; সাধারণত প্রথম প্রদর্শনী শুরু হতো সকাল ৯টায়।
- প্রযোজক ও প্রেক্ষাগৃহমালিকেরা যৌথভাবে আগের সময়ে প্রদর্শনী শুরু এবং দৈনিক প্রদর্শনীর সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান।
- নতুন অনুমতিতে সকাল ৬টার প্রদর্শনী ফিরছে; সিন ও মুকুতি আম্মান ২ মুক্তির জন্য ৬ নভেম্বর নির্ধারিত হয়েছে।
তামিলনাড়ুতে আগে প্রদর্শনী শুরুর দাবি প্রযোজকদের
তামিল ফিল্ম অ্যাকটিভ প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন, তামিল ফিল্ম প্রডিউসার্স কাউন্সিল এবং তামিলনাড়ু থিয়েটার অ্যান্ড মাল্টিপ্লেক্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। সিদ্ধান্তের আগের সপ্তাহে প্রেক্ষাগৃহমালিকেরা সরকারের কাছে তাঁদের দাবি জমা দেন।
ধনঞ্জয়ন বলেন, সকাল ৯টার নিয়মটি বাস্তব সমস্যা তৈরি করেছিল, কারণ কেরালা, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং বিদেশের বাজারে সকাল ৬টায় প্রদর্শনী শুরু হতে পারত। তামিলনাড়ুর দর্শকেরা প্রেক্ষাগৃহে পৌঁছানোর আগেই অন্যত্র দর্শকেরা অনলাইনে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিতে পারতেন।
প্রযোজকদের কাছে প্রথম দিকের এসব প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা অন্যদের টিকিট কেনার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। ধনঞ্জয়ন বলেন, কিছু ভক্ত আগেভাগে ছবি দেখতে প্রতিবেশী রাজ্যের সীমান্তসংলগ্ন প্রেক্ষাগৃহেও যেতেন।
তামিলনাড়ুতে প্রথম প্রদর্শনী সকাল ৬টায় শুরু করলে, অন্য বাজারগুলোও সকাল ৬টায় শুরু হওয়ার ক্ষেত্রে এই তিন ঘণ্টার ব্যবধান দূর হবে। প্রযোজকেরা আশা করছেন, এতে স্থানীয় দর্শকেরা আগে ছবি দেখার সুযোগ পাবেন এবং প্রথম প্রদর্শনী দেখতে রাজ্যসীমা পেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমবে।
ধনঞ্জয়ন বলেন, সংগঠনগুলো মুখ্যমন্ত্রী ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীর কাছে এসব উদ্বেগ তুলে ধরেছিল। তাঁর আশা, প্রথম দিনে অতিরিক্ত প্রদর্শনী প্রযোজক ও প্রেক্ষাগৃহমালিক উভয়ের আয় বাড়াবে।
সিদ্ধান্তে নিরাপত্তার বিষয়টিও রয়েছে
ধনঞ্জয়নের যুক্তি, সকাল ৬টায় প্রদর্শনী শুরু করা আগের সকাল ৫টার প্রদর্শনীর চেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা। তাঁর ধারণা, ভক্তরা ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের পর আসবেন। এতে গভীর রাতে জমায়েত কমবে এবং পুলিশি তদারকির জন্য যথেষ্ট সময় থাকবে।
তাঁর এই ধারণায় নতুন সময়সূচির কেন্দ্রে রয়েছে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ। আগের প্রাণহানির ঘটনাটি প্রেক্ষাগৃহের বাইরে উদ্যাপনের সময় ঘটেছিল, তাই বাস্তব চ্যালেঞ্জ শুধু মিলনায়তনের ভেতরে দর্শক বসানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দর্শকদের আগমন, সারি এবং প্রবেশপথের আশপাশের কার্যক্রমও মুক্তির দিনের পরিচালনার অংশ।
দীর্ঘ কর্মপরিসর প্রেক্ষাগৃহগুলোর জন্য ব্যস্ত সময়সূচিও তৈরি করবে: শেষ অনুমোদিত প্রদর্শনীর সময়সীমা রাত ২টা ৩০ মিনিটে শেষ হবে, আর পরদিনের সময়সীমা শুরু হবে সকাল ৬টায়। প্রেক্ষাগৃহগুলো কীভাবে প্রদর্শনীর আয়োজন করবে, তার ওপর কর্মীদের কাজের চাপ এবং প্রাঙ্গণে দর্শকদের চলাচল নির্ভর করবে।
প্রেক্ষাগৃহমালিকদের মতে, তাঁদের ব্যবসা বদলে গেছে
ভেট্রি থিয়েটারের মালিক রাকেশ গোবথমন বলেন, চারটি প্রদর্শনীর বিধিনিষেধটি প্রায় ৫০ বছর আগের সরকারি আদেশ থেকে এসেছে। তাঁর যুক্তি, নিয়মটি এমন এক সময়ের সঙ্গে মানানসই ছিল, যখন ছবি সাধারণত তিন ঘণ্টার হতো এবং প্রেক্ষাগৃহে ফিল্মের রিল ব্যবহার করে কাজ চলত।
গোবথমন বলেন, বর্তমানে অনেক ছবি প্রায় দুই ঘণ্টার, আর কিছু ইংরেজি ছবি চলে প্রায় ৯০ মিনিট। ডিজিটাল প্রক্ষেপণ ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনাও কর্মী এবং পরিচালনাগত চাহিদা বদলে দিয়েছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্যান্য নিয়ম হালনাগাদের জন্যও প্রেক্ষাগৃহমালিকেরা সরকারের কাছে আবেদন করেছেন।
তামিলে কথা বলতে গিয়ে গোবথমন বর্ধিত প্রদর্শনী-সময়কে স্বাগত জানান:
আমাদের অনুরোধ অনুযায়ী সকাল ৬টা থেকে রাত ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ছয়টি প্রদর্শনীর অনুমতি দেওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত।
গোবথমন দর্শকদের অভ্যাসের পরিবর্তনের কথাও বলেন: ভক্তরা ক্রমেই মুক্তির প্রথম তিন দিনের মধ্যে ছবি দেখতে চান, আর বড় সাফল্য পাওয়া ছবিরও প্রেক্ষাগৃহে জমজমাট চলার সময়কাল মাত্র দুই বা তিন সপ্তাহ হতে পারে। তাঁর মতে, চাহিদা যখন সবচেয়ে বেশি থাকে, তখন শুরুতে বেশি প্রদর্শনী প্রেক্ষাগৃহগুলোকে দর্শকদের সেবা দিতে সাহায্য করে।
স্ট্রিমিংয়ের কারণে মুক্তির প্রথম সপ্তাহগুলোতে চাপ বাড়ছে
গোবথমনের মতে, প্রেক্ষাগৃহ ও স্ট্রিমিংয়ে মুক্তির মধ্যকার স্বল্প বিরতিই বেশি প্রদর্শনীর দাবির একটি কারণ। তিনি বলেন, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির চার সপ্তাহ পরই ছবি স্ট্রিমিং সেবায় আসতে পারে, ফলে কিছু দর্শক প্রেক্ষাগৃহের টিকিট না কিনে অপেক্ষা করেন।
স্ট্রিমিং সেবা, যা প্রায়ই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নামে পরিচিত, ইন্টারনেট সাবস্ক্রিপশন বা অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে ছবি দেখার সুযোগ দেয়। রিলিজ উইন্ডো হলো কোনো ছবির প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হওয়ার পর এসব সেবায় দেখার জন্য উপলভ্য হওয়ার আগ পর্যন্ত সময়কাল।
গোবথমন বলেন, কোনো ছবির প্রদর্শনীর তৃতীয় সপ্তাহে প্রেক্ষাগৃহগুলো ৫০:৫০ আয় ভাগাভাগির ব্যবস্থায় পৌঁছায়। সহজভাবে বললে, এই ব্যবস্থার আওতায় টিকিট বিক্রির আয়ের অর্ধেক প্রদর্শকের কাছে যায়, আর বাকি অর্ধেক যায় চুক্তির অপর পক্ষের কাছে। তাঁর যুক্তি, স্ট্রিমিংয়ে মুক্তির সময় ঘনিয়ে এলে ঠিক তখনই দর্শক কমে যায়, যখন প্রেক্ষাগৃহের জন্য ওই ভাগাভাগির ব্যবস্থা কার্যকর হয়।
তিনি তাঁর বর্ণিত চার সপ্তাহের বিরতির সঙ্গে হলিউড ও বলিউডের আট সপ্তাহের প্রচলিত ব্যবস্থার তুলনা করেন। ওই হিসাব অনুযায়ী, স্ট্রিমিংয়ে ছবি পাওয়া যাওয়ার আগে প্রেক্ষাগৃহগুলো অর্ধেক সময় পায়। তাঁর যুক্তি, মুক্তির প্রথম সপ্তাহে অতিরিক্ত প্রদর্শনী হলে চাহিদা কমে যাওয়ার আগেই প্রদর্শকেরা তা কাজে লাগাতে পারবেন।
কারা লাভবান হবে, আর খরচ বহন করবে কে: বিতর্ক
পরিচালক ও সিনেমা-বিষয়ক ভাষ্যকার কেবল শঙ্কর সম্ভাব্য লাভের বিষয়ে সীমিত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। তাঁর যুক্তি, বিশেষ প্রদর্শনী প্রধানত বড় ছবি ও সেগুলোর প্রযোজকদেরই সাহায্য করে, কারণ মুক্তির শুরুতেই বড় দর্শক টানার সম্ভাবনা এসব ছবির বেশি।
তামিলে কথা বলতে গিয়ে শঙ্কর পরিবর্তনের বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন:
এতে শুধু বড় ছবি এবং সেসব বড় ছবি নির্মাণকারী প্রযোজকেরাই লাভবান হতে পারেন।
প্রযোজক ও প্রদর্শকদের প্রত্যাশিত ব্যাপক লাভের সঙ্গে তাঁর এই মূল্যায়নের পার্থক্য রয়েছে। অতিরিক্ত প্রদর্শনীর সময়স্লট প্রেক্ষাগৃহের ধারণক্ষমতা বাড়ায়, কিন্তু সেই সময় কোন কোন ছবির মধ্যে ভাগ হবে, তার ওপরই নির্ভর করে কোন ছবি বাড়তি আয় পাবে।
টিকিটের দাম শিল্পসংশ্লিষ্টদের দাবির আরেকটি অমীমাংসিত বিষয়। গোবথমন বলেন, দাম বাড়ানোর অনুরোধ এখনো বিবেচনাধীন। তাঁর যুক্তি, পাঁচ বছর ধরে টিকিটের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বিদ্যুৎ, বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়েছে।
গোবথমনের বিশ্বাস, প্রেক্ষাগৃহ ও স্ট্রিমিংয়ের দর্শকেরা এতটাই আলাদা যে টিকিটের দাম বাড়লেও দর্শকসংখ্যা কমবে না। শঙ্কর এ বিষয়ে একমত নন। তিনি ২৫০ রুপির বেশি দাম এবং প্রতি দুই বছরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তাঁর যুক্তি, টিকিটের দাম বাড়লে দর্শকেরা প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবতে পারেন।
তাই প্রদর্শনীর অনুমতি শিল্পের একটি দাবির জবাব দিলেও টিকিটের দাম নিয়ে বিতর্ক অমীমাংসিতই থাকছে। প্রেক্ষাগৃহে আগে গিয়ে ছবি দেখা, নাকি স্ট্রিমিংয়ের জন্য অপেক্ষা করা—এই সিদ্ধান্তে সময়ের পাশাপাশি টিকিটের দামও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
মূল বিষয়গুলো
- নতুন তামিল ছবির মুক্তির প্রথম সপ্তাহে সকাল ৬টা থেকে প্রদর্শনী শুরু করা যাবে; প্রতিদিনের সময়সীমা শেষ হবে পরদিন রাত ২টা ৩০ মিনিটে।
- উদ্ধৃত আদেশে সর্বোচ্চ ছয়টি প্রদর্শনীর অনুমতি রয়েছে, তবে প্রাথমিক বিবরণে মুক্তির সপ্তাহের সাধারণ দিনগুলোতে পাঁচটির কথা বলা হয়েছে।
- নির্ধারিত ছুটি, স্থানীয় উৎসবের দিন ও সপ্তাহান্তেও ছয়টি প্রদর্শনীর অনুমতি রয়েছে।
- ৬ নভেম্বর মুক্তির জন্য নির্ধারিত সিন ও মুকুতি আম্মান ২ প্রথমে এই সুবিধা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- প্রযোজকেরা স্থানীয় দর্শকদের আগে ছবি দেখার সুযোগ ও মুক্তির প্রথম দিনে বাড়তি আয় চান; প্রেক্ষাগৃহমালিকেরাও স্ট্রিমিংয়ে ছবি মুক্তির চাপের কথা বলছেন।
- টিকিটের দাম বাড়ানোর অনুরোধ এখনো বিবেচনাধীন, আর দর্শক উপস্থিতিতে এর প্রভাব নিয়ে শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।






