রামের চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য অপেক্ষা আরও দীর্ঘ
প্রযোজক নমিত মালহোত্রা নিশ্চিত করেছেন, ‘রামায়ণ’ পার্ট ২ ২০২৭ সালের বদলে ২০২৮ সালে মুক্তি পাবে। ফলে সীতার অপহরণ, তাঁকে উদ্ধারে রামের অভিযান এবং লঙ্কায় রাবণের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধ নিয়ে নির্মিতব্য ছবিটির জন্য অপেক্ষা বাড়ল। নিতেশ তিওয়ারি পরিচালিত প্রথম ছবিটি পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
সূচিপত্র
এর আগে ছবিটির সিক্যুয়েল ২০২৭ সালের দীপাবলিতে মুক্তির পরিকল্পনা ছিল। সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, এটি মুক্তি পাবে ২০২৮ সালের দীপাবলিতে। মালহোত্রার ভাষায়, গল্পের মহাসমাপ্তি তৈরি করতে নির্মাতারা এতে আরও এক বছর সময় পাবেন। দ্বিতীয় ছবির সুনির্দিষ্ট মুক্তির দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
রণবীর কাপুর রামের চরিত্রে, সাই পল্লবী সীতার চরিত্রে এবং যশ রাবণের চরিত্রে অভিনয় করছেন। প্রথম ছবিতে তাঁদের একসঙ্গে পরিচয়ের পর পরের অধ্যায়ের জন্য এখন প্রায় দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে; আগে পরিকল্পনা ছিল এক বছরের বিরতির।
মালহোত্রার ব্যাখ্যা শুধু মুক্তির তারিখ বদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রযোজনাটি আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য আরও বিস্তৃত করেছে, প্রথম ছবির দুটি মাস্টার সংস্করণ তৈরি করেছে এবং মহাকাব্যটি দুই ছবিতে কীভাবে ভাগ করা হবে, তা নতুন করে বিবেচনা করেছে। ইংরেজি সংস্করণের জন্য হিন্দি চিত্রনাট্যে পরিবর্তন এবং আলাদা সম্পাদনা করতে হয়েছে; শুধু সংলাপ বদলে দিলেই হয়নি।
এখনও পরিকল্পনা দুই ছবির। দর্শকের প্রতিক্রিয়ার পর কাঠামোটি নতুন করে বিবেচনা করার সুযোগও রেখেছেন মালহোত্রা, যার মধ্যে আরেকটি পর্বের প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও রয়েছে। দর্শকের জন্য তাৎক্ষণিক পরিবর্তনটি সহজ: প্রথম ছবির মুক্তির তারিখ অপরিবর্তিত থাকছে, তবে সমাপ্তি দেখতে আরও এক বছর অপেক্ষা করতে হবে।
কেন আরও এক বছর সময় চাইছেন মালহোত্রা
E! News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মালহোত্রা বলেন, প্রযোজনার ব্যাপকতা এবং প্রথম ছবিকে ঘিরে প্রত্যাশার কারণে দলটি দ্বিতীয় ছবির জন্য আরও সময় দিতে চেয়েছে। আগের সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার চেয়ে গল্পটির প্রাপ্য বলে তিনি যে মান মনে করেন, সেই অনুযায়ী সমাপ্তিটি নির্মাণ করাই তাঁর ঘোষিত অগ্রাধিকার।
প্রযোজকের ভাষায়, সিক্যুয়েলটি প্রথম ছবির তুলনায় আলাদা এবং আরও বিস্তৃত গল্প। E! News-কে তিনি অতিরিক্ত এক বছরের পক্ষে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন:
এই আকারের একটি ছবির প্রতি সুবিচার করতে আমাদের সত্যিই ওই অতিরিক্ত বছরটি দরকার বলে আমি মনে করি। পার্ট ২ যখন আসবে, তখন সেটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটি গল্প। আমরা তাড়াহুড়ো করে কাজ করতে বা নিজেদের সামর্থ্যের চেয়ে এগিয়ে যেতে চাইনি। গল্পটির প্রাপ্য অনুযায়ী সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে সমাপ্তি তুলে ধরতে চাই।
তাঁর ব্যাখ্যায় বিলম্বের সঙ্গে চূড়ান্ত ছবির ব্যাপকতা ও উপস্থাপনার যোগ রয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে মূল উদ্ধার অভিযান ও যুদ্ধের গল্প তুলে ধরার পাশাপাশি পার্ট ১-এ শুরু হওয়া নাটকীয় যাত্রারও পরিসমাপ্তি ঘটাতে হবে।
এরপর কী, আর কখন
প্রথম ছবির মুক্তির তারিখ ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বরই থাকছে। ছবিটির আরেক নাম ‘রামায়ণ: রাইজ অব আ লেজেন্ড – পার্ট ওয়ান’। সংশোধিত সময়সূচিতে প্রথম ছবির ঘোষিত প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি বহাল রেখে শুধু সিক্যুয়েলের বছর বদলানো হয়েছে।
প্রকল্পটির পরিকল্পনার প্রধান ধাপগুলো হলো:
- প্রাথমিক পরিকল্পনা: নির্মাতারা গল্পটি তিন পর্বে বলার কথা বিবেচনা করেছিলেন।
- সংশোধিত কাঠামো: গল্পটি নতুন করে সাজিয়ে দুই ছবিতে ভাগ করা হয়।
- ৫ নভেম্বর, ২০২৬: পার্ট ১ বিশ্বজুড়ে মুক্তির জন্য নির্ধারিত।
- দীপাবলি ২০২৭: পার্ট ২-এর আগের মুক্তির সময়সীমা।
- দীপাবলি ২০২৮: পার্ট ২-এর সংশোধিত মুক্তির সময়সীমা।
পরিবর্তনের ফলে দুই ছবির মধ্যে পরিকল্পিত বিরতি প্রায় এক বছর থেকে বেড়ে প্রায় দুই বছর হচ্ছে। ফলে সিক্যুয়েলের জন্য রাখা ঘটনাগুলো, যার মধ্যে রাবণের সঙ্গে রামের মুখোমুখি সংঘর্ষও রয়েছে, দেখতে দর্শকদের আরও বেশি অপেক্ষা করতে হবে।
ইংরেজি সংস্করণের জন্য কেন আলাদা সম্পাদনা দরকার হয়েছিল
Review Nation-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মালহোত্রা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকের কাছে ভারতীয় একটি ছবি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ‘রামায়ণ’-এর কাজ শুরু হয়েছিল। প্রযোজনার সময় সেই লক্ষ্য আরও বিস্তৃত হয়ে দুটি মাস্টার সংস্করণ তৈরির পরিকল্পনায় রূপ নেয়। এর মধ্যে ছিল ইংরেজি সংস্করণ, যার জন্য চিত্রনাট্যে নিজস্ব কিছু পরিবর্তন ও আলাদা সম্পাদনা করা হয়েছে। E! News-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি দুটি মাস্টার সংস্করণ, ইংরেজি সংস্করণের পৃথক সম্পাদনা এবং হিন্দি চিত্রনাট্যে পুনর্লিখনের কথা বলেছেন।
মাস্টার সংস্করণ হলো একটি ছবির সম্পূর্ণ রূপ, যেখান থেকে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির সংস্করণ তৈরি করা যায়। ডাবিংয়ে সাধারণত একই দৃশ্যক্রম রেখে অন্য ভাষায় সংলাপ বসানো হয়। আলাদা সম্পাদনার সুযোগ থাকলে নির্মাতারা দৃশ্য ও সংলাপের বিন্যাস বদলাতে পারেন, এমনকি দর্শকের কাছে তথ্য পৌঁছানোর গতিও পরিবর্তন করতে পারেন।
‘রামায়ণ’-এর ইংরেজি সংস্করণের জন্য মূল হিন্দি চিত্রনাট্যের কিছু অংশ নতুন করে লেখা এবং ছবিটি আবার সম্পাদনা করতে হয়েছে। মালহোত্রা বলেন, এই সংস্করণটিকে নিজস্ব রূপে উপস্থাপন করাই তাঁদের লক্ষ্য, যাতে আন্তর্জাতিক দর্শক তাঁদের জন্য প্রস্তুত করা উপস্থাপনার মাধ্যমে গল্পটি অনুসরণ করতে পারেন।
ইতিমধ্যে বড় পরিসরের এই প্রযোজনায় কাজটির ফলে আরও একটি সৃজনশীল চ্যালেঞ্জ যুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় ভাষাটিকে শুধু শেষ পর্যায়ের কণ্ঠ রেকর্ডিং হিসেবে না দেখে, হিন্দি ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই গল্পটি কীভাবে কাজ করে, তা দলকে বিবেচনা করতে হচ্ছে। মালহোত্রা আরও বলেছেন, ভিন্ন দর্শকের জন্য আলাদা সংস্করণ বা সবার জন্য একটি অভিন্ন সংস্করণ তৈরির বিষয়টিও নির্মাতারা বিবেচনা করতে পারেন।
দুই ছবিতে গল্পের বিন্যাস
পার্ট ১-এ তরুণ রাম এবং তাঁর ভাই লক্ষ্মণ, ভরত ও শত্রুঘ্নকে কেন্দ্র করে গল্প এগোবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে পরবর্তী উদ্ধার অভিযান ও যুদ্ধের আগের চরিত্র এবং সম্পর্কগুলোর দিকেই প্রথম ছবিতে বেশি মনোযোগ থাকবে।
পার্ট ২-এ রাবণের হাতে সীতার অপহরণ, তাঁকে ফিরিয়ে আনতে রামের চেষ্টা এবং লঙ্কায় সেই সংঘাতের কাহিনি থাকবে, যার পরিণতিতে রাবণের পরাজয় ঘটে। এসব ঘটনা সিক্যুয়েলকে আলাদা নাটকীয় রূপ দেবে: আগের পারিবারিক কাহিনি থেকে গল্প এগোবে উদ্ধার অভিযান ও সামরিক সংঘাতের দিকে।
মহাসমাপ্তিকে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে মালহোত্রার বক্তব্য এই বিভাজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রথম ছবিতে প্রধান চরিত্র ও তাদের জগৎ পরিচিত হবে; দ্বিতীয় ছবিতে মূল সংঘাতের নিষ্পত্তির ঘটনাগুলো তুলে ধরা হবে। তাই মহাকাব্যের নির্ণায়ক ঘটনাগুলো দেখানোর কথা যে পর্বে, অতিরিক্ত প্রযোজনা-সময়ও মূলত সেই ছবির জন্যই রাখা হয়েছে।
দুই ছবি থেকে কি আবার তিনটি হতে পারে?
মালহোত্রা বলেন, দুই পর্বে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্মাতারা মূলত ট্রিলজি, অর্থাৎ তিনটি ছবিতে গল্প বলার কথা বিবেচনা করেছিলেন। দর্শকের প্রতিক্রিয়ার পর পরিকল্পনাটি নতুন করে ভাবার সুযোগ তিনি রেখেছেন বলে আগের সেই কাঠামো এখনও প্রাসঙ্গিক।
প্রযোজকের ভাষায়, দর্শকের প্রতিক্রিয়া সিক্যুয়েল ও ফ্র্যাঞ্চাইজির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় দিশা দেখাতে পারে। প্রথম ছবিটি দর্শক কীভাবে গ্রহণ করেন, তা দেখে কী পরিবর্তন করা হবে এবং আরও পর্বের প্রয়োজন আছে কি না, দল তা বিবেচনা করবে।
তাই তৃতীয় ছবি নিয়ে আলোচনা চললেও ঘোষিত পরিকল্পনা এখনও দুই পর্বের। পরবর্তী বাস্তব পদক্ষেপ হলো পার্ট ১-এর মুক্তি এবং এরপর দর্শকের প্রতিক্রিয়া। সিরিজটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলে তা আসবে সেই প্রতিক্রিয়ার পর; নিশ্চিত ট্রিলজি-পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নয়।
দুই পর্বের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা
তিওয়ারি পরিচালিত ছবিতে রামের ভূমিকায় কাপুর, সীতার ভূমিকায় পল্লবী এবং রাবণের ভূমিকায় যশ অভিনয় করছেন। হনুমানের ভূমিকায় সানি দেওল এবং লক্ষ্মণের ভূমিকায় রবি দুবে রয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমে মহাকাব্যের অন্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর সঙ্গে প্রধান তিন চরিত্রের সংযোগ তৈরি হয়েছে।
কাজল আগরওয়াল, রাকুল প্রীত সিং, লারা দত্ত ও অরুণ গোভিলের নামও অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় রয়েছে। শূর্পণখার চরিত্রে অভিনয় করছেন রাকুল প্রীত সিং। দুই পর্বজুড়ে পরিবার, মিত্র ও প্রতিপক্ষকে ঘিরে গড়ে ওঠা গল্পের বিস্তৃত পরিসরই এই বড় অভিনয়শিল্পী দলের প্রতিফলন।
৫ নভেম্বর ছবিটি মুক্তির আগে অভিনেতা আল্লু অর্জুনও X-এ দলকে ছবির সাফল্য কামনা করেছেন। মুম্বাই ও যুক্তরাষ্ট্রে আগাম প্রদর্শনীতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার কথা বলা হয়েছে; গান ও ট্রেলার নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর আরও বিস্তৃত দর্শকের কাছে ছবিটি পৌঁছাবে।
বড় বাজেট, সমাপ্তির কাজ এখনও চলছে
‘রামায়ণ’-এর সঙ্গে প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপির, অর্থাৎ ৪০ বিলিয়ন রুপির বাজেটের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। অঙ্কটি কখনো পার্ট ১, কখনো পুরো প্রকল্পের বাজেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; ফলে দুই পর্বের মধ্যে অর্থ বরাদ্দের হিসাব স্পষ্ট নয়।
মালহোত্রার বক্তব্যে প্রযোজনার কয়েকটি চাহিদার কথা উঠে এসেছে: সমাপ্তি পর্বের ব্যাপকতা, আলাদা ভাষার সংস্করণ তৈরি এবং দর্শকের প্রতিক্রিয়ার পর পরিবর্তনের সম্ভাবনা। এসব বিষয়ের কারণেই মুক্তির সময়সূচি, সম্পাদনার প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত কাঠামো পাশাপাশি বিবেচনা করা হচ্ছে।
দর্শকের জন্য সবচেয়ে নিশ্চিত তথ্য হলো, প্রথম ছবি মুক্তি পাবে ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর এবং সিক্যুয়েলের সম্ভাব্য মুক্তির সময় ২০২৮ সালের দীপাবলি। নির্মাতারা সমাপ্তি তৈরি করতে নিজেদের আরও সময় দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন দর্শকের কাছে গল্পটি কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে বিকল্পও খোলা রাখছেন।
মূল তথ্য
- ‘রামায়ণ’ পার্ট ২-এর মুক্তি দীপাবলি ২০২৭ থেকে পিছিয়ে ২০২৮ সালের দীপাবলিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।
- নিতেশ তিওয়ারির পরিচালনায় পার্ট ১ পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর মুক্তি পাবে।
- নমিত মালহোত্রার মতে, অতিরিক্ত এক বছর সমাপ্তি পর্বের প্রযোজনার জন্য আরও সময় দেবে।
- প্রথম ছবির দুটি মাস্টার সংস্করণ রয়েছে; ইংরেজি সংস্করণের জন্য চিত্রনাট্যে পরিবর্তন ও আলাদা সম্পাদনা করতে হয়েছে।
- পার্ট ১-এ তরুণ রাম ও তাঁর ভাইদের কাহিনি থাকছে; সিক্যুয়েলে সীতার অপহরণ ও রাবণের সঙ্গে সংঘাত তুলে ধরা হবে।
- পরিকল্পনা এখনও দুই ছবির; তৃতীয় পর্বের সম্ভাবনা পরে বিবেচনা করা হবে এবং তা দর্শকের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।






