বাড়তে থাকা সমস্যার মধ্যে ছোট্ট একটি লেবেল
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ডিপফেকে নিজেদের চেহারা ও পরিচয়ের অপব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর, কীর্তি সুরেশ ও সুনাইনা। আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁরা আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর জন্য একটি বাস্তব প্রশ্ন সামনে এনেছে: পর্দায় দেখা ব্যক্তিকে ডিজিটালভাবে তৈরি করা হয়েছে কি না, দর্শকেরা তা কত সহজে বুঝতে পারেন?
সূচিপত্র
পার্ল একাডেমির ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বিশেষজ্ঞ এবং যোগাযোগ, চলচ্চিত্র ও গেমিং বিভাগের ডিন সিবি অরুণ কুমার এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টে স্পষ্ট ও বড় অক্ষরে লেবেল দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরির জন্য আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বর্তমানে দেওয়া নোটিসগুলো চোখ এড়িয়ে যেতে পারে, ফলে বানানো কনটেন্টকে আসল ছবি, রেকর্ডিং বা সংবাদঘটনা বলে মনে হয়।
তাঁর সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ইনস্টাগ্রামের এআই ইনফো ট্যাগ। তিনি জানান, অ্যাকাউন্টের ব্যবহারকারীর নাম এবং পোস্ট করা ছবি বা ভিডিওর মাঝখানে ছোট অক্ষরে নোটিসটি দেখা যায়। তাঁর উদ্বেগ নোটিসটির দৃশ্যমানতা নিয়ে: স্ক্রল করতে করতে যে দর্শক সেটি খেয়ালই করেন না, তাঁর কাজে এই ঘোষণা তেমন আসে না।
আরও কঠোর লেবেলিংয়ের নিয়ম কেন চান, তা ব্যাখ্যা করেছেন অরুণ কুমার:
এআই কনটেন্টে স্পষ্ট ও বড় অক্ষরে লেবেল দেওয়ার জন্য আমাদের আরও কঠোর আইন দরকার, যাতে এসব কনটেন্ট আর খবরের ছদ্মবেশ নিতে না পারে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া কিছু দুর্যোগের ক্লিপ এর উদাহরণ। দর্শকেরা যখন আর বুঝতে পারেন না কোনটি বাস্তব আর কোনটি ভুয়া, তখনই আসল সমস্যা তৈরি হয়।
তাঁর প্রস্তাবে পরস্পর-সম্পর্কিত দুটি সমস্যার সমাধানের কথা রয়েছে। অভিনেতাদের পরিচয় আপত্তিকর কনটেন্টে ব্যবহার হলে তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অন্যদিকে, দর্শকেরা বানানো দৃশ্যকে সত্যি ঘটনা বলে মেনে নেওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন। চোখে পড়ার মতো লেবেল ছবিটি দেখার সময়ই দর্শককে তথ্য দেবে, সেটি বিশ্বাস করা বা শেয়ার করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই।
অভিনেতাদের ক্ষেত্রে কী ঘটেছে?
জাহ্নবী কাপুর, কীর্তি সুরেশ ও সুনাইনা সেই অভিনেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন, যাঁদের চেহারা আপত্তিকর ডিপফেক ছবি বা ভিডিওতে ব্যবহৃত হওয়ার পর তাঁরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অপব্যবহারের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও এসেছে।
ডিপফেক হলো এআই ব্যবহার করে তৈরি বা পরিবর্তিত ছবি, ভিডিও কিংবা অডিও রেকর্ডিং, যেখানে কাউকে এমন কিছু করতে বা বলতে দেখা যায় যা তিনি করেননি বা বলেননি। অভিনেতার ক্ষেত্রে চেনা মুখাবয়বের কারণে বানানো কনটেন্ট বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে, যদিও সেটি তৈরিতে ওই ব্যক্তি কখনো অংশ নেননি।
তাৎক্ষণিক সমস্যাটি হলো নিজের পরিচয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো। একজন অভিনেতা কোন চরিত্রে অভিনয় করবেন, কোন ছবি প্রকাশ করবেন এবং কোন পণ্যের প্রচার করবেন, তা নিজে বেছে নিতে পারেন। কিন্তু একটি বানানো ছবিতে তাঁকে এমন দৃশ্যে দেখানো হতে পারে, যাতে তিনি কখনো সম্মতি দেননি; দর্শকেরা প্রথমে সেটিকে আসলও মনে করতে পারেন।
অরুণ কুমারের দাবি আরও কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতার পক্ষে; নতুন কোনো নিয়ম কার্যকর হয়েছে বলে তিনি ঘোষণা দেননি। তাঁর বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো বিল, প্রয়োগের সময়সীমা বা প্রস্তাবিত শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়নি।
এআইয়ের আগেও ভুয়া ছবি তৈরি হতো
বর্তমান উদ্বেগকে অরুণ কুমার বিনোদনজগতের ছবি বিকৃত করার দীর্ঘ ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দেখছেন। আজকের এআই সরঞ্জামের আগে, বডি ডাবল, ফটোশপ এবং ক্লোনিং ও মরফিংয়ের মতো ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস কৌশল ব্যবহার করে ভুয়া দৃশ্য তৈরি করা যেত।
ক্লোনিংয়ে ছবির বা দৃশ্যধারার কোনো অংশ নকল করা হয়। মরফিংয়ে একটি ছবিকে আরেকটিতে রূপান্তর করা হয়, যার মধ্যে মুখ বা চেহারা বদলে দেওয়াও রয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাণে এ দুই কৌশল বৈধভাবে ব্যবহার করা যায়, কারণ দর্শকেরা সেখানে নির্মিত দৃশ্য দেখবেন বলেই আশা করেন। সমস্যা হয় যখন বিকৃত কনটেন্টকে কারও আচরণের বাস্তব প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
অরুণ কুমারের মতে, এআই মানুষকে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরির আরেকটি উপায় দিয়েছে। এর মধ্যে দ্রুত আর্থিক লাভের আশায় মনোযোগ ও প্রচার কাজে লাগাতে চাওয়া ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তিনি মনে করেন, প্রযুক্তিকে এর ব্যবহার দিয়ে বিচার করা উচিত এবং আপত্তিকর কনটেন্টের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনি প্রতিকার নেওয়া উচিত।
অরুণ কুমার বলেন, কনটেন্ট সরানোর জন্য বিদ্যমান আইনেই ব্যবস্থা রয়েছে:
এ ধরনের আপত্তিকর কনটেন্ট সরানোর জন্য ইতিমধ্যেই অনেক আইনি উপায় রয়েছে।
অপসারণ ও লেবেলিং একই ধারাবাহিকতার ভিন্ন দুটি পর্যায়ে কাজ করে। কোনো ছবি নিয়ে আপত্তি ওঠার পর সেটি যেন আর পাওয়া না যায়, তা নিশ্চিত করতে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর উল্লেখযোগ্য লেবেল দর্শকেরা ছবিটি পর্দায় থাকা অবস্থায় সেটি যাচাই করতে সাহায্য করে। অরুণ কুমারের বক্তব্যে দুটি বিষয়ই গুরুত্ব পেয়েছে: ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সেটি কৃত্রিমভাবে তৈরি—এ তথ্য সহজে বোঝা যায় এমনভাবে তুলে ধরা।
লেবেলের আকার কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইনস্টাগ্রামের ছোট এআই নোটিস দেখায়, কোনো তথ্য প্রকাশ করা আর সেটিকে কার্যকর করে তোলার মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। অরুণ কুমার চান, প্ল্যাটফর্মগুলো তথ্যটি এমনভাবে দেখাক, যাতে সাধারণ দর্শক ছবির আশপাশে খুঁজে না দেখেও তা বুঝতে পারেন।
দুর্যোগের ভুয়া ক্লিপ দেখায়, তারকাদের বিষয় ছাড়াও কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তব জরুরি পরিস্থিতির দৃশ্য বলে মনে হওয়া কোনো ভিডিও দেখার সময় সেটি তৈরি করা হয়েছে কি না, তা বোঝা দরকার। তা না হলে, ছবিটি এমন কোনো ঘটনা সম্পর্কে দর্শকের ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে, যা দেখানো উপায়ে কখনো ঘটেনি।
অভিনেতাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও ব্যক্তিগত। তাঁদের মুখই ভুয়া ছবিটিকে চেনা যায় এমন করে তোলে এবং মনোযোগ আকর্ষণ করে। কোনো দর্শক লেবেলটি খেয়াল না করলে, ছবিটি কীভাবে তৈরি হয়েছে জানার আগেই ওই দৃশ্যের সঙ্গে অভিনেতাকে যুক্ত করতে পারেন।
তাই অরুণ কুমারের দাবি শুধু তথ্যের উপস্থিতি নিয়ে নয়, কীভাবে তা উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেটি নিয়েও। কোনো প্ল্যাটফর্ম পোস্টের পাশে নোটিস দিতে পারে, কিন্তু সেটির আকার ও অবস্থান ঠিক করে দেয় দর্শকের চোখে সেটি পড়বে কি না। তাঁর পছন্দের মানদণ্ড সহজ: কনটেন্টটি কৃত্রিমভাবে তৈরি—এ তথ্য যেন সহজেই চোখে পড়ে।
শিল্পীদের জন্য সম্মতি আলাদা উদ্বেগের বিষয়
এআইকে সামগ্রিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা এবং কোনো শিল্পীর কাজ অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের প্রতিবাদ জানানোর মধ্যে পার্থক্যও তুলে ধরেছেন অরুণ কুমার। প্রথমটি পুরো প্রযুক্তি সম্পর্কে একটি মূল্যায়ন। দ্বিতীয়টি নির্দিষ্ট কনটেন্ট কীভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার করা হয়েছে, সেই প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত।
প্রশিক্ষণ হলো এমন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উদাহরণ থেকে এআই ব্যবস্থা বিভিন্ন ধরন বা বৈশিষ্ট্য শেখে। এসব উদাহরণের মধ্যে ছবি, লেখা, শব্দ বা ভিডিও থাকতে পারে। প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্বিগ্ন শিল্পীরা জানতে চান, তাঁদের সম্মতি ছাড়া তাঁদের সৃজনশীল কাজ সেই প্রক্রিয়ার অংশ হলে কী ঘটে।
এই উদ্বেগ শুধু দৃশ্যমান ডিপফেকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোনো অভিনেতা তাঁর বানানো উপস্থিতির প্রতিবাদ জানাতে পারেন, আবার কোনো চিত্রকর বা অন্য স্রষ্টা নতুন ছবি তৈরির এআই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তাঁর কাজ ব্যবহারের প্রতিবাদ করতে পারেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং তাঁদের আপত্তির বিষয় আলাদা হতে পারে।
অরুণ কুমারের মতে, এআইকে ঢালাওভাবে নিন্দা করলে এই পার্থক্যগুলো উপেক্ষিত হয়। তাঁর অবস্থানে বৈধ সৃজনশীল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, পাশাপাশি অনুমতি নিয়ে আপত্তিও গুরুত্ব পায়। পাঠকেরা কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করতে পারেন: এখানে কার পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে, কার কাজ নেওয়া হয়েছে এবং কী অনুমতি দেওয়া হয়েছিল?
ডিজিটাল শিল্পীরা আয়ের চাপে
অরুণ কুমারের মতে, গণমাধ্যম, ব্যবসা, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, স্থাপত্য ও ফ্যাশনে কাজ করা গ্রাফিক শিল্পীরা এআইয়ের বিস্তারের আরেকটি পরিণতির মুখে পড়ছেন। তাঁদের উদ্বেগ, কোম্পানিগুলো কিছু ধরনের দৃশ্যমান উপকরণ দ্রুত তৈরি করতে পারলে তাঁদের জীবিকা অর্জনের সুযোগ কীভাবে প্রভাবিত হবে।
অরুণ কুমার বলেন, ধৈর্য ও যত্ন নিয়ে মানুষের করা কাজের বাণিজ্যিক মূল্য কমছে, কারণ এআইয়ের তৈরি কনটেন্ট বিকল্প হিসেবে সামনে আসছে। কোনো ছবি কীভাবে তৈরি হবে, তা ঠিক করার সময় ক্লায়েন্টরা শিল্পীর দক্ষতা ও বিচারবোধের পাশাপাশি গতি ও খরচও বিবেচনা করতে পারেন।
মানুষের তৈরি কাজকে কীভাবে দেখা হয়, তার ওপরও চাপ পড়তে পারে। অরুণ কুমারের সতর্কতা, যত্ন নিয়ে তৈরি ছবি নিম্নমানের এআই কনটেন্টের সঙ্গে তুলনা করা হতে পারে। শিল্পীদের জন্য এর অর্থ, এমন এক বাজারে নিজেদের কাজের মূল্য বোঝাতে হবে, যেখানে দর্শক ও ক্লায়েন্টের সামনে দুই ধরনের কনটেন্টই ক্রমেই বেশি আসছে।
চাকরির ওপর চাপ এবং শিল্পীদের জন্য তাঁর পরামর্শ সম্পর্কে অরুণ কুমার বলেন:
বাস্তবতা হলো, এআই বিপ্লব তাঁদের কাজ কেড়ে নিচ্ছে, কারণ এটি দ্রুত কাজ করতে পারে। প্রকৃত শিল্পীরা, যাঁরা নিজেদের কাজের ধারায় আরেকটি সরঞ্জাম হিসেবে এআই ব্যবহার করতে পারেন, তাঁরাই টিকে থাকবেন এবং সফল হবেন।
কোনো সৃজনশীল প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ ছবি বা চলচ্চিত্র তৈরি হওয়া পর্যন্ত ধাপগুলোর ধারাবাহিকতাকে কাজের প্রক্রিয়া বলা হয়। অরুণ কুমারের পরামর্শ, সেই প্রক্রিয়ায় এআই কোথায় কাজে লাগতে পারে তা শিখতে হবে, পাশাপাশি কাজে মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও দক্ষতা বজায় রাখতে হবে।
যেসব শিল্পী খাপ খাইয়ে নেবেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর পূর্বাভাস আশাবাদী। তবে যাঁদের আয় এমন কাজের ওপর নির্ভরশীল, যা এআই দ্রুত করতে পারে, তাঁদের তাৎক্ষণিক চাপের কথাও তিনি স্বীকার করেছেন। বানানো উপস্থিতি থেকে সুরক্ষা চাইছেন এমন অভিনেতারা এবং কম খরচের প্রতিযোগিতার মুখে পড়া শিল্পীরা একই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব অনুভব করছেন।
মূল কথা
- জাহ্নবী কাপুর, কীর্তি সুরেশ ও সুনাইনা সেই অভিনেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন, যাঁরা ডিপফেকে নিজেদের চেহারার অপব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
- পার্ল একাডেমির ডিন ও ভিএফএক্স বিশেষজ্ঞ সিবি অরুণ কুমার এআই কনটেন্টে স্পষ্ট ও বড় অক্ষরে লেবেল দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরির আইন চান।
- তাঁর মতে, ইনস্টাগ্রামের এআই ইনফো ট্যাগের মতো ছোট নোটিস দর্শকের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
- তিনি এআইয়ের ক্ষতিকর ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সমর্থন করেন এবং শিল্পীদের কাজ সম্মতি ছাড়া ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
- তাঁর বক্তব্য, ডিজিটাল শিল্পীরা আয়ের চাপে রয়েছেন এবং তাঁদের সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় এআই যুক্ত করা শিখতে হবে।






