প্রতিটি ভাড়ার ন্যূনতম বেশি অংশ পাবেন চালকেরা
ভিয়েতনামে যাত্রীদের পরিশোধ করা অর্থের ওপর প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাপের সম্মিলিত ফি ১০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ৩২ শতাংশে সীমিত করবে গ্র্যাব। ভাড়া ও কর্তন নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যালোচনার পর ৫ নভেম্বর থেকে চালকদের প্রায় ৩৯০ কোটি ডং ফেরত দেওয়াও শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন সীমা গ্র্যাববাইকের সর্বোচ্চ ৪০.৬ শতাংশ এবং গ্র্যাবকারের ৩৯.৮১ শতাংশ ফি-অংশের স্থলাভিষিক্ত হবে।
সূচিপত্র
শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ভিয়েতনামের জাতীয় প্রতিযোগিতা কমিশন জানিয়েছে, চালকদের অভিযোগের পর গ্র্যাব ছয় ধরনের পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে। চালকদের বক্তব্য, কম বা ক্রমহ্রাসমান ভাড়া, পরিচালন ব্যয় ও বিভিন্ন কর্তনের কারণে তাঁদের আয় কমে যাচ্ছিল। যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ, চালকদের ফি, অর্থ ফেরত, আর্থিক সহায়তা এবং অ্যাপে আরও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া—এই পরিবর্তনগুলো এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে। কমিশনের প্রাথমিক পর্যালোচনার ঘোষণায় পদক্ষেপের ছয়টি ধরন, ফি গণনার পদ্ধতি ও বাস্তবায়নের তারিখ তুলে ধরা হয়েছে।
ফি ও কর পরিশোধের পর গ্র্যাববাইকের যাত্রায় যাত্রীদের দেওয়া অর্থের অন্তত ৬০.৫৯ শতাংশ এবং গ্র্যাবকারের যাত্রায় ৫৯.৬৮ শতাংশ চালকেরা পাবেন। আগে ন্যূনতম অংশ ছিল ৫২ শতাংশ। গ্র্যাবকারে ১,০০,০০০ ডং ভাড়ার যাত্রায় নতুন ন্যূনতম অনুযায়ী চালকের হাতে থাকবে প্রায় ৫৯,৬৮০ ডং, যা আগের ন্যূনতমের চেয়ে ৭,৬৮০ ডং বেশি।
ফি থেকে কমে যাওয়া আয়, ফেরত, চালকদের পুরস্কার, সহায়তা এবং যাত্রীদের প্রচারণার সম্মিলিত মূল্য গ্র্যাবের হিসাবে প্রায় ২,৯৫০.৯ বিলিয়ন ডং, অর্থাৎ ২.৯৫১ ট্রিলিয়ন ডং। এই প্যাকেজের বড় অংশই পরিকল্পিত প্রণোদনা ও প্রচারণা, অর্থ ফেরত নয়।
কেন ভাড়া ও ফি পর্যালোচনা করা হলো?
২০২৬ সালের আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে কমিশন চালকদের কাছ থেকে অভিযোগ পায়। চালকদের অভিযোগ, কিছু যাত্রায় ভাড়া কম বা ক্রমহ্রাসমান হলেও প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরোপিত একাধিক ফি ও পরিচালন ব্যয় তাঁদের বহন করতে হচ্ছিল। সেপ্টেম্বরে কয়েকজন চালক দুই দিনব্যাপী বয়কটও করেন।
গ্র্যাব কীভাবে ভাড়া, ফি, ছাড় ও কর্তন নির্ধারণ ও পরিবর্তন করে এবং এসব পরিবর্তনের কথা কীভাবে জানায়, সে বিষয়েও চালকেরা ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। তাঁদের উদ্বেগ ছিল, কত টাকা কাটা হচ্ছে—তার পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট যাত্রার হিসাব কীভাবে করা হয়েছে, তা বোঝার অসুবিধা নিয়েও।
কমিশন গ্র্যাবের কাছে নথি ও ব্যাখ্যা চায় এবং চালকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। ভিয়েতনামের অন্যান্য রাইড বুকিং কোম্পানির কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে গ্র্যাবের নীতিমালা পর্যালোচনা করে। কমিশনের প্রাথমিক পর্যালোচনায় যাত্রীর পরিশোধিত অর্থ, প্ল্যাটফর্মের চার্জ, কর এবং চালকের হাতে বাস্তবে পাওয়া অর্থের মধ্যে সামগ্রিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দুই ধরনের ফি-সীমা যেভাবে কাজ করবে
গ্র্যাবের মূল্য কাঠামোতে রয়েছে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া প্ল্যাটফর্ম ফি এবং চালকদের কাছ থেকে নেওয়া অ্যাপ ব্যবহারের ফি। যাত্রাভেদে চালকের ফি পরিবর্তিত হয়। ১০ নভেম্বর থেকে গ্র্যাববাইকের ক্ষেত্রে এর সর্বোচ্চ হার ২৮.৭৬ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশ হবে এবং গ্র্যাবকারের ক্ষেত্রে ২৮.২৮ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশ হবে। নতুন হার হবে শূন্য থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে।
যাত্রীর মোট পরিশোধের ভিত্তিতে এই শতাংশ হিসাব করা হয়। এতে যাতায়াতের ভাড়া, অতিরিক্ত চার্জ, প্ল্যাটফর্ম ফি ও কর অন্তর্ভুক্ত থাকে। হিসাবের এই ভিত্তিটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফি শুধু যাতায়াতের মূল ভাড়ার ওপর নয়, এর চেয়ে বিস্তৃত অঙ্কের ওপর প্রযোজ্য হয়।
প্ল্যাটফর্ম ফি ও অ্যাপ ব্যবহারের ফি—দুটির সম্মিলিত অঙ্কের জন্যও একটি আলাদা সীমা থাকবে। গ্র্যাব এই সম্মিলিত চার্জ যাত্রীর পরিশোধের ৩২ শতাংশের বেশি রাখবে না। কর এবং অন্যদের পক্ষে সংগ্রহ করা অর্থ এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হবে না। পরিবর্তনের পর প্রতিটি যাত্রায় গ্র্যাবের নিজস্ব অংশ ৭ থেকে ৩২ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্মিলিত ফি-সীমা গ্র্যাববাইকের ক্ষেত্রে ৮.৬ শতাংশ-পয়েন্ট এবং গ্র্যাবকারের ক্ষেত্রে ৭.৮১ শতাংশ-পয়েন্ট কমছে। শতাংশ-পয়েন্ট বলতে দুটি শতাংশের মধ্যকার ব্যবধান বোঝায়: যেমন, ৪০.৬ শতাংশ থেকে ৩২ শতাংশে নামলে তা ৮.৬ শতাংশ-পয়েন্টের হ্রাস।
চালকেরা কতটা পাবেন
ফি ও কর দেওয়ার পর গ্র্যাববাইকের চালকদের হাতে যাত্রীদের পরিশোধের ৬০.৫৯ থেকে ৮৫.৫৯ শতাংশ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্র্যাবকারের চালকদের ক্ষেত্রে এই হার হবে ৫৯.৬৮ থেকে ৮৪.৩১ শতাংশ। আগের ৫২ শতাংশ ন্যূনতম সীমার তুলনায় নতুন ন্যূনতম অংশ যথাক্রমে ৮.৫৯ ও ৭.৬৮ শতাংশ-পয়েন্ট বাড়বে।
গ্র্যাবকারে ১,০০,০০০ ডং ভাড়া থেকে ৫৯,৬৮০ ডং পাওয়া চালককে এরপরও পরিচালন ব্যয় দিতে হবে। জ্বালানি বা চার্জ দেওয়া, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ চালকের হাতে থাকা আয় থেকে মেটাতে হয়। তাই নতুন সীমায় এসব খরচ দেওয়ার আগেই চালকেরা ভাড়ার বড় অংশ পাবেন।
৩২ শতাংশের সীমা এবং চালকদের ন্যূনতম অংশ অর্থ পরিশোধের ভিন্ন দুটি দিক তুলে ধরে। হিসাবের মধ্যে কর এবং অন্যদের পক্ষে সংগ্রহ করা অর্থও রয়েছে। এ কারণেই গ্র্যাবের ফিতে ৩২ শতাংশ সীমা থাকলেও চালকের ন্যূনতম অংশ ৬৮ শতাংশের কম। যোগ্য চালকেরা যাত্রা থেকে পাওয়া আয়ের পাশাপাশি পুরস্কার ও সহায়তাও পেতে পারেন।
কারা অর্থ ফেরত পাবেন?
গ্র্যাবের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে প্রায় ০.১৩ শতাংশ যাত্রায় চালকদের সঙ্গে ভাগ করা আয়ের ৩৫ শতাংশের বেশি কাটা হয়েছে। প্রতি ১০,০০০ যাত্রায় এটি প্রায় ১৩টি যাত্রা। নির্দিষ্ট সময়ে চাহিদা ও সরবরাহের পরিবর্তন অথবা অ্যালগরিদমের ত্রুটির কারণে ফি সিস্টেমে নির্ধারিত মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যালগরিদম হলো কোনো ফলাফল, যেমন ভাড়া বা কর্তনের অঙ্ক, হিসাব করতে ব্যবহৃত কম্পিউটার নির্দেশনার সমষ্টি। গ্র্যাবের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং হিসাবের প্রক্রিয়ায় ত্রুটি—দুটিই ওই অতিরিক্ত কর্তনের কারণ।
২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর থেকে মোট প্রায় ৩৯০ কোটি ডং ফেরত দেওয়া শুরু হওয়ার কথা। গ্র্যাবে সক্রিয় থাকা চালকেরা তাঁদের চালক-ওয়ালেটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা পাবেন।
যেসব চালক চুক্তি শেষ করে স্থায়ীভাবে গ্র্যাবে কাজ করা বন্ধ করেছেন, তাঁদের খুদে বার্তা বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে। টাকা পেতে হলে ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বরের আগে তাঁদের নিজের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে হবে। কতজন চালক এতে প্রভাবিত হয়েছেন এবং প্রত্যেকে কত টাকা পাবেন, তা জানানো হয়নি।
যাত্রীদের কোন যাত্রার খরচ কমবে?
যোগ্য স্বল্প দূরত্বের যাত্রায় যাত্রীরা ১০ নভেম্বর থেকে প্ল্যাটফর্ম ফি বাবদ ১,০০০ থেকে ২,০০০ ডং কম দেবেন। গ্র্যাববাইকের ক্ষেত্রে ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত এবং গ্র্যাবকারের ক্ষেত্রে চার কিলোমিটার পর্যন্ত যাত্রায় এই ছাড় প্রযোজ্য হবে।
শর্তসাপেক্ষে, ২০২৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১০ কিলোমিটারের যোগ্য যাত্রায় মোট ভাড়ায় ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে গ্র্যাবের। স্বল্প দূরত্বের যাত্রায় প্ল্যাটফর্ম ফি কমানোর কয়েক মাস পর দীর্ঘ যাত্রার এই ছাড় শুরু হবে।
দুটি পদক্ষেপে বিলের ভিন্ন অংশ কমবে। স্বল্প যাত্রার ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্ম চার্জ নির্দিষ্ট অঙ্কে কমবে, আর দীর্ঘ যাত্রার পরিকল্পিত কর্মসূচিতে মোট ভাড়া শতাংশের হিসাবে কমবে। ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে যাত্রীদের জন্য প্রায় ১.৮০৮ ট্রিলিয়ন ডংয়ের প্রচারণারও পরিকল্পনা করেছে গ্র্যাব।
সহায়তার বাজেট কোথায় ব্যয় হবে
২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে চালকদের পুরস্কার ও সহায়তার জন্য প্রায় ৮৬০ বিলিয়ন ডং বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে গ্র্যাবের। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ব্যস্ত সময়ে আয়ের জন্য পুরস্কার, খাবারের সহায়তা, বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম এবং কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা চালকদের সহায়তা।
জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন চার্জের সহায়তায় আরও ৫২ বিলিয়ন ডং বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। চালকদের জন্য এই দুই খাতের বরাদ্দ মিলিয়ে ৯১২ বিলিয়ন ডং: পুরস্কার ও অন্যান্য সহায়তায় ৮৬০ বিলিয়ন এবং জ্বালানি খরচে ৫২ বিলিয়ন ডং।
যাত্রীদের জন্য ১.৮০৮ ট্রিলিয়ন ডংয়ের প্রচারণা চালকদের এই দুই ধরনের সম্মিলিত বরাদ্দের প্রায় দ্বিগুণ। যাত্রীদের প্রচারণা এবং চালকদের দুই সহায়তা বাজেট মিলিয়ে ২.৭২০ ট্রিলিয়ন ডং, যা ঘোষিত ২.৯৫০৯ ট্রিলিয়ন ডংয়ের প্যাকেজের প্রায় ৯২ শতাংশ। পূর্ণ হিসাবের মধ্যে অর্থ ফেরত এবং ফি কমানোর ফলে গ্র্যাবের যে আয় হবে না, সেটিও অন্তর্ভুক্ত।
এই ব্যয় পরিকল্পনায় ভাড়া ভাগের চলমান পরিবর্তনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্রান্তিক বা প্রচারণার সময়ের জন্য নির্ধারিত কর্মসূচিও রয়েছে। ফি নীতির আওতায় চালকেরা বেশি ন্যূনতম অংশ পাবেন, আর পুরস্কার ও অন্যান্য সহায়তা নির্ভর করবে প্রতিটি কর্মসূচির শর্তের ওপর।
প্রতিটি যাত্রার হিসাব আরও স্পষ্ট
১০ নভেম্বর থেকে গ্র্যাব ড্রাইভার অ্যাপ হালনাগাদ করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে চালকেরা যাত্রা থেকে আয়, ফি, কর, কর্তন এবং হাতে পাওয়া অর্থ আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন। চালকদের সঙ্গে যোগাযোগের আরও উপায় এবং কর্তন যাচাই ও আপত্তি জানানোর জন্য একটি ফরমও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কোনো যাত্রা পর্যালোচনার সময় চালকেরা যেন দেখতে পারেন, যাত্রীর পরিশোধিত অর্থ কীভাবে তাঁদের আয়ে রূপ নেয় এবং মাঝখানে কী কী চার্জ কাটা হয়। এতে যাত্রাভেদে ফি কীভাবে বদলায়, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে করা অভিযোগের সরাসরি জবাব দেওয়া হবে।
কমিশন গ্র্যাবকে পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গভাবে জানাতে এবং বাস্তবে প্রয়োগ করা নীতিমালার সঙ্গে অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে বলেছে। চার্জ যাচাইয়ের বিষয়ে চালক ও যাত্রীদের অনুরোধের সময়মতো জবাব দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে। গ্র্যাব ভিয়েতনাম জানিয়েছে, তারা পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করবে এবং ব্যবহারকারী ও চালক অংশীদারদের জানাবে।
এরপর কী হবে, আর নজরদারি করবে কে?
কয়েক মাসের অভিযোগ ও পর্যালোচনার পর পরিবর্তনগুলো আসছে। অর্থ ফেরত, ফি কমানো ও প্রচারণার জন্য শুরুর তারিখ আলাদা। গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো হলো:
- ২০২৬ সালের আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি: ভাড়া, কর্তন ও আয় নিয়ে কমিশন চালকদের অভিযোগ পায়।
- ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর: কয়েকজন চালক দুই দিনব্যাপী বয়কট করেন।
- ৫ নভেম্বর ২০২৬: চালকদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হওয়ার কথা।
- ১০ নভেম্বর ২০২৬: নতুন ফি-সীমা, যোগ্য স্বল্প যাত্রার ফি হ্রাস এবং চালকদের অ্যাপে আরও স্পষ্ট হিসাব দেখানো শুরু হওয়ার কথা।
- ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর আগে: স্থায়ীভাবে গ্র্যাব ছেড়ে যাওয়া চালকদের অর্থ ফেরত পেতে ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে হবে।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭: অন্তত ১০ কিলোমিটারের যোগ্য যাত্রায় পরিকল্পিত ১০ শতাংশ ভাড়া হ্রাস কার্যকর থাকবে।
জাতীয় প্রতিযোগিতা কমিশন বাস্তবায়নের ওপর নজর রাখবে এবং গ্র্যাবের কাছ থেকে নিয়মিত প্রতিবেদন চাইবে। তারা মূল্য নির্ধারণ, কর্তন, চালকদের হাতে থাকা আয় এবং গ্রাহকদের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করবে। প্রতিযোগিতা বা ভোক্তা সুরক্ষা আইনের লঙ্ঘনের ইঙ্গিত পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিবেচনা করবে।
কমিশন গ্র্যাব, বে এবং জিএসএমের ভোক্তা সুরক্ষা বিধি মেনে চলার বিষয়ও পরীক্ষা করেছে। ওই পরিদর্শনের বিবরণে তারা দাম, ফি ও অতিরিক্ত অর্থের তথ্য প্রকাশে ঘাটতির কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে ছিল আলাদাভাবে দেখানো হয়নি এমন চার্জ এবং আগে থেকেই নির্বাচিত অর্থের বিনিময়ে নেওয়া সেবা, যেমন যাত্রা বিমা ও কার্বন নিরপেক্ষতায় অবদান। লেনদেন নিশ্চিত করার আগে অতিরিক্ত খরচ আরও স্পষ্ট করে দেখাতে এবং যাত্রীরা যাত্রা বিমা কিনবেন বা কার্বন নিরপেক্ষতায় অবদান রাখবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে বলা হয়েছিল।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভাষ্য, পরবর্তী নজরদারিতে দেখা গেছে, অতিরিক্ত চার্জ আরও স্পষ্টভাবে দেখাতে এবং গ্রাহকদের অর্থের বিনিময়ে নেওয়া সেবা বেছে নেওয়া বা বাদ দেওয়ার সুযোগ দিতে প্ল্যাটফর্মগুলো প্রাথমিক পরিবর্তন এনেছে। এসব তথ্য প্রকাশ ও গ্রাহকের পছন্দের ওপর নজরদারি অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে কমিশন। যাত্রীদের ক্ষেত্রে এসব পরিবর্তন তাঁদের সম্মতিতে পরিশোধ করতে হওয়া বিলকে প্রভাবিত করে। চালকদের ক্ষেত্রে মূল পরিবর্তন হলো, গ্র্যাবের অংশের নিম্নতর সর্বোচ্চ সীমা এবং প্রতিটি ভাড়া কীভাবে ভাগ হয় তার আরও বিস্তারিত হিসাব।
মূল বিষয়গুলো
- ১০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে যাত্রীদের পরিশোধের ওপর প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাপের সম্মিলিত ফি ৩২ শতাংশে সীমিত করবে গ্র্যাব।
- গ্র্যাববাইক ও গ্র্যাবকার—উভয় ক্ষেত্রেই চালকদের কাছ থেকে নেওয়া অ্যাপ ব্যবহারের সর্বোচ্চ ফি ২৫ শতাংশে নামবে।
- ফি ও কর দেওয়ার পর চালকদের ন্যূনতম অংশ গ্র্যাববাইকে ৬০.৫৯ শতাংশ এবং গ্র্যাবকারে ৫৯.৬৮ শতাংশ হবে।
- অতিরিক্ত কর্তন হওয়া যাত্রার জন্য ৫ নভেম্বর থেকে প্রায় ৩৯০ কোটি ডং ফেরত দেওয়া শুরু হবে।
- যোগ্য স্বল্প দূরত্বের যাত্রায় প্ল্যাটফর্ম ফি ১,০০০ থেকে ২,০০০ ডং কমবে।
- ফি হ্রাস, অর্থ ফেরত, চালক সহায়তা ও যাত্রীদের প্রচারণাসহ প্যাকেজটির মূল্য প্রায় ২.৯৫১ ট্রিলিয়ন ডং।
- ভিয়েতনামের প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়মিত প্রতিবেদন চাইবে এবং বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে।






