নভেম্বরের সময়সীমার মুখে উৎপাদন বন্ধ
বিশ্বজুড়ে উৎপাদন নেটওয়ার্ক ছোট করার অংশ হিসেবে ডেনিশ জুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইকো ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর দুপুর ২টায় দক্ষিণ ভিয়েতনামে তাদের বাউ ব্যাং কারখানায় উৎপাদন বন্ধ করে। এতে ১,৬১১ কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অধিকাংশ কর্মীর চুক্তি ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। নভেম্বরের বেতন ও প্রতিশ্রুত সহায়তার অর্থও ওই তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
সূচিপত্র
ইকো ভিয়েতনামের একমাত্র মালিক ইকো স্কো এ/এস ৩০ অক্টোবর ভিয়েতনামি সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কারখানা বন্ধের পদক্ষেপ আসে। সহযোগী প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ও আইনগত প্রতিনিধি পেত্র মিলান কর্মীদের এক বিজ্ঞপ্তিতে সিদ্ধান্তটি জানান।
কারখানাটি বাউ ব্যাং শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত। এলাকাটি আগে বিনহ দুয়ং প্রদেশের অংশ ছিল, এখন হো চি মিন সিটির প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত। কর্মীদের মধ্যে ২৫৯ জন বাইরের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন, যা ক্ষতিগ্রস্ত মোট কর্মীর প্রায় ১৬ শতাংশ।
কয়েক বছর ধরে চাহিদা কমে যাওয়া ও উৎপাদন সক্ষমতা অতিরিক্ত থাকাকে কারখানা বন্ধের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইকো। প্রতিষ্ঠানটি পর্তুগালের একটি কারখানাও বন্ধ করছে, যেখানে প্রায় ৬৫০ কর্মী রয়েছেন। পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক দায়িত্বে থাকা প্রায় ৪০০টি পদও কমানো হচ্ছে।
এখন কী বন্ধ হচ্ছে, আর কী চলবে?
হো চি মিন সিটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ ও শিল্পাঞ্চল কর্তৃপক্ষের (হেপজা) উপপ্রধান চুয়ং ভ্যান ফং বলেন, ডেনিশ মূল প্রতিষ্ঠান ইকো ভিয়েতনাম বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উৎপাদন বন্ধ হলেও কোম্পানির প্রয়োজনীয় বন্ধ-প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম চলবে।
কাজ শেষ করতে অল্পসংখ্যক কর্মী আরও কয়েক মাস থাকবেন। তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে থাকবে বেতন, সুবিধা, বিমার নথি ও বন্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় সামলানো। তাঁদের চাকরি অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানানো হবে।
অন্য অধিকাংশ কর্মীর চুক্তি ৩০ নভেম্বর শেষ হবে, অথবা তাঁদের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ তার আগেই শেষ হলে সেই তারিখে। ঘোষিত বেতন-ব্যবস্থা অনুযায়ী, কারখানায় উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নভেম্বরের বেতন দেওয়া হবে।
এই পর্যায়ে কীভাবে পৌঁছাল কারখানাটি
নির্মাণ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর, ২০২০ সালের এপ্রিলে ইকোর বাউ ব্যাং কারখানায় জুতা উৎপাদন শুরু হয়। কারখানাটির আয়তন ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটার, অর্থাৎ ১২ হেক্টর। বছরে ৮১ লাখ জুতা ও জুতার উপকরণ তৈরির সক্ষমতা ছিল এর।
কারখানার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮৬১ বিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং, যা প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। প্রকল্পটির নিবন্ধিত বিনিয়োগ মূলধন ছিল ৩ কোটি ৮১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। নির্মাণ ব্যয় বলতে স্থাপনা নির্মাণে খরচ বোঝায়; নিবন্ধিত মূলধন হলো প্রকল্পের জন্য নথিভুক্ত বিনিয়োগ।
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি কারখানা কীভাবে ২০২৬ সালে বন্ধের প্রক্রিয়ায় পৌঁছাল, তা গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলোতে দেখা যায়:
- অক্টোবর ২০১৯: বাউ ব্যাং শিল্পাঞ্চলে নির্মাণকাজ শুরু।
- এপ্রিল ২০২০: কারখানায় কার্যক্রম শুরু।
- ৩০ অক্টোবর ২০২৬: ইকো ভিয়েতনামের মালিক প্রতিষ্ঠান বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত জারি করে।
- ২ নভেম্বর ২০২৬: দুপুর ২টায় উৎপাদন বন্ধ হয় এবং কর্তৃপক্ষ কোম্পানি ও শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে।
- ৩০ নভেম্বর ২০২৬: অধিকাংশ কর্মীর চুক্তি শেষ হওয়ার কথা; ওই তারিখের মধ্যে নভেম্বরের বেতন ও সহায়তার অর্থ দেওয়ার কথা।
কারখানাটির ঘোষিত সক্ষমতার মধ্যে জুতা ও যন্ত্রাংশ, দুই ধরনের পণ্যই ছিল। বন্ধের আগে প্রকৃত উৎপাদনের পরিমাণ জানানো হয়নি। সক্ষমতা বলতে কোনো কারখানা সর্বোচ্চ কত উৎপাদন করতে পারে তা বোঝায়; বাস্তবে কতটা উৎপাদন বা বিক্রি হয়, তা নয়।
কর্মীদের জন্য ইকোর প্রতিশ্রুতি
বকেয়া বেতন পরিশোধ, অব্যবহৃত বার্ষিক ছুটির অর্থ দেওয়া এবং চাকরিবিষয়ক নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য পাওনা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইকো ভিয়েতনাম। নভেম্বরের বেতন-সংক্রান্ত ব্যবস্থা ঘোষণার সময় অক্টোবরের বেতন ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছিল।
আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের বাইরে সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে প্রতিটি চাকরির বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক মূল বেতনের অর্ধেক দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কোম্পানি। ঘোষিত হিসাব অনুযায়ী, চাকরির মেয়াদ ১২ মাসের কম হলে সেটিকে পূর্ণ এক বছর ধরা হবে।
এই হিসাবের জন্য চুক্তিতে উল্লেখ করা মূল বেতন ব্যবহার করা হবে। কর্মীর মোট মাসিক আয়ে ভাতা, অতিরিক্ত সময়ের কাজের পারিশ্রমিক বা অন্যান্য অর্থও থাকতে পারে। তাই অতিরিক্ত সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করবে চুক্তিতে উল্লেখিত বেতন ও কর্মীর চাকরির মেয়াদের ওপর।
কর্মীরা আনুপাতিক হারে ১৩তম মাসের বেতনও পাবেন। পঞ্জিকাবর্ষে চুক্তি শেষ হওয়ার তারিখ পর্যন্ত তাঁরা যত দিন কাজ করেছেন, সেই সময়ের ভিত্তিতে এই বার্ষিক অর্থ হিসাব করা হবে। কোম্পানির বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যমান অর্থপ্রদানের নিয়ম অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা কর্মীদেরও এই ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছে।
বিলুপ্তির কাজ শেষ করতে যেসব কর্মীকে রাখা হবে, তাঁরা কাজ করা প্রতিটি দিনের জন্য এক দিনের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত অর্থ পাবেন। যে মাসে কাজ করবেন, সেই মাসের বেতনের সঙ্গে এই অর্থ দেওয়া হবে।
হেপজা জানিয়েছে, নভেম্বরের বেতন ও সহায়তার অর্থ ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। চাকরির মেয়াদ, বেতন এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার ভিত্তিতে ব্যক্তিভেদে পাওনার পরিমাণ ভিন্ন হবে। এর মধ্যে কর্মী সরাসরি নিয়োগ পেয়েছিলেন, নাকি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, সেটিও অন্তর্ভুক্ত।
বিমার নথি ও পাওনা যাচাই
কর্মীদের সামাজিক বিমায় জমা দেওয়া অবদানের নথি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ইকো ভিয়েতনাম। ফং বলেন, কোম্পানির সামাজিক বিমার কোনো বকেয়া প্রিমিয়াম নেই।
চাকরির সময় জমা দেওয়া অবদানের হিসাব এসব নথিতে থাকে। কর্মীরা সুবিধার আবেদন করলে বা অন্য নিয়োগকর্তার কাছে গেলে নথিগুলো প্রয়োজন হয়। উৎপাদন বন্ধের পরও যে বাস্তব কাজ চলবে, এসব নথি সম্পন্ন করা তারই অংশ।
২ নভেম্বর হেপজা, হো চি মিন সিটি শ্রমিক ফেডারেশন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। কর্মীদের সুবিধাসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পেতে তাঁদের সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নগর শ্রমিক ফেডারেশনের উপপ্রধান ফুং থাই কুয়াং বলেন, চাকরি হারানো কর্মীদের তালিকা যাচাই ও তাঁদের সহায়তায় শিল্পাঞ্চল ও কোম্পানির ইউনিয়নগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নগরীর শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রম পরামর্শ ও সহায়তা কেন্দ্র ইকোর ঘোষিত নীতিমালা আইনগত শর্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে এবং তা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না নজরদারি করবে।
কাছাকাছি নিয়োগদাতাদের চাকরির সুযোগ
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কারখানার কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগের ব্যবস্থা করছে। এর মধ্যে ইকোর প্রাঙ্গণে নিয়োগদাতাদের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সাক্ষাতের সুযোগও রয়েছে। ফং বলেন, ২ নভেম্বর বিকেল থেকেই আশপাশের কোম্পানিগুলো কারখানার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে।
হেপজা প্রাথমিকভাবে অন্তত আটটি কোম্পানিকে শনাক্ত করে, যারা প্রায় ১,৬১১ কর্মী নিয়োগে আগ্রহী। আরেকটি নিয়োগ-সংক্রান্ত হিসাবে অন্তত ১২টি প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। বন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগদাতাদের আগ্রহ বোঝায় এই সংখ্যাগুলো। ইকোর কতজন কর্মী নতুন চাকরি গ্রহণ করেছেন, তা জানানো হয়নি।
নিয়োগের পরিসংখ্যানে সংখ্যাগত অসংগতিও রয়েছে। হেপজার বরাত দিয়ে সম্ভাব্য কর্মী চাহিদা ৬,৫৩০ জন বলা হয়েছে, অথচ ১২টি কোম্পানির আলাদাভাবে উল্লেখ করা চাহিদা যোগ করলে হয় ৫,৬৩০ জন। পার্থক্য ৯০০টি পদ।
সবচেয়ে বেশি ২,০০০ কর্মী চেয়েছে অ্যাম্প্যাকস ইন্টারন্যাশনাল। এরপর পাইহং ভিয়েতনাম ১,০০০ এবং সাইক্লেটেক ভিয়েতনাম ৭০০ কর্মী চেয়েছে। এই তিন প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মিলিয়ে বিস্তারিত তালিকার ৫,৬৩০টি পদের মধ্যে ৩,৭০০টি।
তালিকাভুক্ত অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডায়মন্ড ভিয়েতনাম ও ওয়েটেক্স ইন্টারন্যাশনাল ভিয়েতনাম প্রত্যেকে ৩০০ জন করে কর্মী চেয়েছে। হাইলেক্স ভিয়েতনাম টেকনোলজিও ৩০০ জন চেয়েছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ১০০ থেকে ২০০ জন পর্যন্ত কর্মী খুঁজছে। হেপজা জানিয়েছে, সহজ করা পদ্ধতিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে তারা ইউনিয়ন ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
হাজারো শূন্য পদ থাকলেও চাকরি খোঁজা কঠিন হতে পারে কেন
হো চি মিন সিটির কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যানে ইকোর কর্মীদের কাছাকাছি শিল্পখাতগুলোতে প্রতিযোগিতা বেশি দেখা যায়। হো চি মিন সিটি কর্মসংস্থান পরিষেবা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে পোশাক, বস্ত্র ও জুতা শিল্পে শূন্য পদ ছিল ১,৩০৬টি, আর আবেদনকারী ছিলেন ২,৪৭৩ জন।
প্রতি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদনকারী ছিলেন প্রায় ১.৯ জন; শূন্য পদের চেয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ১,১৬৭ জন বেশি। নভেম্বরে কারখানা বন্ধ হওয়ার আগে এই তিন খাতে কেন্দ্রটির নিয়োগ কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে এসব পরিসংখ্যান।
কাছাকাছি নিয়োগদাতাদের তালিকায় আরও বিস্তৃত পরিসরের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে অন্য জুতা কারখানায় কাজ খুঁজতে থাকা কর্মীরা, অন্য ধরনের উৎপাদনশিল্পে যেতে ইচ্ছুক ও সক্ষম কর্মীদের তুলনায়, ভিন্ন ধরনের সুযোগ পেতে পারেন।
প্রত্যেক কর্মীর জন্য পরবর্তী ধাপ হলো দায়িত্ব, বেতন ও কাজের ব্যবস্থার দিক থেকে উপযুক্ত নির্দিষ্ট চাকরির প্রস্তাব পাওয়া। বিদ্যমান চাকরির অবসান প্রক্রিয়া চলার সময় কারখানায় নিয়োগদাতাদের নিয়ে আসার কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা কর্মীদের সম্ভাব্য নিয়োগদাতাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দিচ্ছে।
ইকোর কার্যক্রমে বৃহত্তর পরিসরে সংকোচন
১৯৬৩ সালে ডেনমার্কে প্রতিষ্ঠিত ইকো খরচ কমানোর লক্ষ্যে বিদ্যমান কমসংখ্যক কারখানায় উৎপাদন কেন্দ্রীভূত করছে। কয়েক বছর ধরে চাহিদা কমলেও গ্রুপটির উৎপাদন সক্ষমতা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রয়ে গেছে, এমন ব্যাখ্যাই দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অতিরিক্ত সক্ষমতা বলতে বোঝায়, কোনো কোম্পানির এমন কারখানা ও সরঞ্জাম রয়েছে যা দিয়ে ক্রেতাদের কেনা পণ্যের চেয়ে বেশি পণ্য তৈরি করা সম্ভব। উৎপাদন কমলেও রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও স্থাপনার মতো খরচ বহাল থাকে। উৎপাদন একীভূত করলে বাকি কাজ কমসংখ্যক স্থানে কেন্দ্রীভূত হয়।
ইকোর বিক্রয়-চ্যানেলজুড়েই বিক্রি কমেছে, তবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে পতন সবচেয়ে বেশি। এ ধরনের বিক্রিতে স্বাধীন খুচরা বিক্রেতার পরিবর্তে কোম্পানি নিজেই ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করে।
পর্তুগালের কারখানা বন্ধের ফলে সেখানে কর্মরত প্রায় ৬৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক দায়িত্বে প্রায় ৪০০টি পদ কমানো হচ্ছে। ভিয়েতনামে ক্ষতিগ্রস্ত ১,৬১১ জনকে ধরলে উৎপাদনসহ অন্যান্য কার্যক্রমে ঘোষিত পদক্ষেপগুলোতে মোট প্রায় ২,৬৬০ জন কর্মী ও পদ জড়িত।
পুনর্গঠন পরিকল্পনায় ইকোর ডেনমার্কের প্রধান কার্যালয় এবং বাছাই করা বিদ্যমান কারখানাগুলোতে কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথাও রয়েছে। তবে বাউ ব্যাংয়ের কর্মীদের জন্য তাৎক্ষণিক সময়সূচি স্থানীয় ও সুনির্দিষ্ট: অধিকাংশ চুক্তি নভেম্বরে শেষ হবে, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পাওনা পরিশোধ করতে হবে এবং অল্পসংখ্যক কর্মী বন্ধের কাজ শেষ করতে সাময়িকভাবে থাকবেন।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর দুপুর ২টায় বাউ ব্যাং কারখানায় উৎপাদন বন্ধ করে ইকো।
- এতে ১,৬১১ কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ২৫৯ জন বাইরের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
- অধিকাংশ চুক্তি ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা; বন্ধের কাজের জন্য কিছু কর্মী সাময়িকভাবে থাকবেন।
- ইকো বেতন, অব্যবহৃত ছুটির অর্থ, প্রযোজ্য ক্ষতিপূরণ, চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ এবং আনুপাতিক ১৩তম মাসের বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
- হেপজা জানিয়েছে, সামাজিক বিমায় কোম্পানির কোনো বকেয়া প্রিমিয়াম নেই এবং কর্মীদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কি না তা নজরদারিতে রাখা হবে।
- কাছাকাছি ১২টি নিয়োগদাতার তালিকায় মোট ৫,৬৩০ জনের চাহিদা রয়েছে; অন্যদিকে নিয়োগের প্রাথমিক হিসাবে চাহিদা বলা হয়েছে ৬,৫৩০ জন।
- ভিয়েতনামের কারখানা বন্ধের অংশ হিসেবে পর্তুগালের একটি কারখানা বন্ধ এবং আরও প্রায় ৪০০টি পদ কমানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে।






