ভিন্ন শর্তে চলাচলের অনুমতি পেল চার দেশ
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর বলেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের বাণিজ্যিক জাহাজকে ছাড় দিয়েছে ইরান। তবে ভারতীয় ও চীনা জাহাজের জন্য চলাচল ফি বহাল রয়েছে। কাতারের জাহাজ কোনো ফি ছাড়াই চলাচল করতে পারবে।
সূচিপত্র
- ভিন্ন শর্তে চলাচলের অনুমতি পেল চার দেশ
- ওষুধ ও রাজনৈতিক সমর্থনই ছাড়ের কারণ
- অনুমতির সঙ্গে ফি ও ছাড়পত্রের বিষয়ও রয়েছে
- তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে ভারত
- রান্নার গ্যাসের জন্য হরমুজের ওপর নির্ভরতা এখনো বেশি
- ইরানের প্রবেশব্যবস্থা ও মার্কিন নিয়ম পৃথক
- ঘোষণার আগে আট মাস ধরে চলেছে অস্থিরতা
- নাবিকেরা এখনো নিরাপত্তাঝুঁকিতে
- মূল বিষয়গুলো
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপকমিটির চেয়ারম্যান হায়াত-মোগাদ্দাম এই ব্যবস্থাগুলোকে ইরানের নির্দিষ্ট স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করেছেন: ভারত থেকে ওষুধ সংগ্রহ এবং চীনের রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়া। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে সংঘাত জলপথে চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে শুরুর আট মাসেরও বেশি সময় পর তিনি এ ঘোষণা দিলেন।
প্রণালিটি ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এবং পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ভারতের জন্য, বর্তমানে অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৩০% এই পথ দিয়ে আসে; আমদানি করা রান্নার গ্যাসের আরও বড় অংশও এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
হায়াত-মোগাদ্দাম ছাড়ের বিষয়টি তুলে ধরে দাবি করেন, মার্কিন বাহিনীও চার দেশের জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে:
আমরা বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারকে ছাড় দিয়েছি। এসব দেশের জাহাজ অবাধে চলাচল করে, আর মার্কিনিরাও সেগুলোকে বাধা দেয় না।
মার্কিন বাহিনীর আচরণ নিয়ে এই দাবির তাৎক্ষণিক কোনো স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সর্বশেষ ঘোষণার বিষয়ে ওয়াশিংটন আলাদাভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, আর ভারতীয় কর্তৃপক্ষও এই ব্যবস্থায় তাদের জাহাজ কীভাবে চলাচল করবে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানিগুলোর জন্য বাস্তব শর্তগুলো কয়েকটি পৃথক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে: চলাচলের অনুমতি, ছাড়পত্রের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, কোনো চলাচল ফি এবং রুটের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। অন্য বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ অব্যাহত রেখেও ইরান নির্বাচিত দেশগুলোকে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে।
ওষুধ ও রাজনৈতিক সমর্থনই ছাড়ের কারণ
হায়াত-মোগাদ্দামের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে ওষুধ ও ওষুধজাত পণ্য আমদানিতে সহায়তা করতেই ভারতকে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। অন্য দেশগুলোর প্রবেশ সীমিত রাখলেও ভারতের সঙ্গে জাহাজ চলাচলের সংযোগ বজায় রাখার একটি কারণ তৈরি করছে এই ব্যবস্থা।
চীনের ছাড়ের উদ্দেশ্য ভিন্ন। আইনপ্রণেতা বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধের সময় ইরান বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন চায়। ফলে একই জলপথে প্রবেশের সুযোগ জরুরি বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক—দুই ক্ষেত্রেই কাজে লাগানো হচ্ছে।
ইরান কীভাবে নিজের স্বার্থ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছে, তা ব্যাখ্যা করে হায়াত-মোগাদ্দাম বলেন:
আমরা ব্যবসা করছি, আর এই প্রতিটি ছাড়ের পেছনে আলাদা কারণ রয়েছে।
সবচেয়ে স্পষ্ট আর্থিক সুবিধাটি পাচ্ছে কাতার: দেশটির জাহাজ টোল ছাড়াই চলাচল করতে পারবে। ছাড় পাওয়া চার দেশের মধ্যে ইরাকও রয়েছে, যদিও আইনপ্রণেতা দেশটির ক্ষেত্রে ব্যবস্থাটি তুলনামূলক বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি। প্রণালিটি সাধারণভাবে আবার খুলে দেওয়ার বদলে এই ঘোষণায় পৃথক অংশীদারদের জন্য আলাদা শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুমতির সঙ্গে ফি ও ছাড়পত্রের বিষয়ও রয়েছে
ভারতীয় ও চীনা জাহাজকে ইরানের চলাচল ফি দিতে হবে। চলাচল ফি হলো কোনো রুট দিয়ে যাতায়াতের জন্য ধার্য করা অর্থ; এটি পণ্যের দাম বা জাহাজ পরিচালনার খরচের বাইরে।
জুনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস নৌবাহিনী এমন একটি চলাচলব্যবস্থা পরিচালনা করছে, যেখানে জাহাজকে পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য, পণ্যের বিবরণ ও গন্তব্য জানাতে হয়। এসব তথ্যের মাধ্যমে প্রণালিটি পার হতে চাওয়া জাহাজ যাচাই করতে পারে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
তাই জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানের সামনে আর্থিক ও প্রশাসনিক—দুই ধরনের শর্তই রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহকারী কোনো জাহাজকে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে ছাড়পত্র নিতে হতে পারে, পাশাপাশি এর পরিচালনাকারীকে প্রযোজ্য ফি দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হতে পারে।
কয়েকটি কার্যকরী বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়: ফি কত, কীভাবে তা আদায় করা হবে, ইরাকি জাহাজকে ফি দিতে হবে কি না এবং কোনো জাহাজকে ছাড় পাওয়া দেশের বলে কীভাবে নির্ধারণ করবে ইরান। চলাচলে নিষিদ্ধ দেশগুলোর পূর্ণাঙ্গ হালনাগাদ তালিকাও ইরান প্রকাশ করেনি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে ভারত
ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০% আমদানি করে। অপরিশোধিত তেলই সেই কাঁচামাল, যা শোধনাগারে পেট্রল, ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানিতে রূপান্তর করা হয়। তাই নির্ভরযোগ্য সরবরাহ পরিবহন, শিল্প ও দৈনন্দিন বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের বর্তমান অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৩০% হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে; সংঘাতের কারণে ক্রয়পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসার আগে এ হার ছিল প্রায় ৭০%। অর্থাৎ ৪০ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে, যা আগের হারের তুলনায় প্রায় ৫৭% হ্রাস।
ভারত রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিম আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা থেকে কেনাকাটা বাড়িয়েছে। ফুজাইরা ওমান উপসাগরের তীরে, হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত। ফলে সেখান থেকে এমন চালান পাওয়া যায়, যেগুলো প্রণালিটি এড়িয়ে যেতে পারে।
এই পরিবর্তনে আমদানি করা তেলের প্রয়োজন দূর হয়নি; বরং সরবরাহে বিঘ্নের ঝুঁকির ধরন বদলেছে। বর্তমান হার অনুযায়ী, আমদানি করা প্রতি ১০ ব্যারেল তেলের মধ্যে প্রায় ৩ ব্যারেল এখনো হরমুজ দিয়ে আসে। অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশের সুযোগ এসব সরবরাহ বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে, তবে জাহাজ চলাচলের খরচে ফিও যুক্ত থাকবে।
ভারতের অন্য সরবরাহকারীদের দিকে ঝোঁকার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞানীতিও জড়িয়ে গেছে। ১৬ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন, যে নিষেধাজ্ঞায় ভারত ও চীনসহ রুশ তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের পণ্যে ১০০% পর্যন্ত শুল্কের হুমকি ছিল। বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার ওপর ভারতের নির্ভরতা বাড়ার সময় এই স্থগিতাদেশ বাণিজ্যিক হুমকি প্রশমিত করে।
রান্নার গ্যাসের জন্য হরমুজের ওপর নির্ভরতা এখনো বেশি
অপরিশোধিত তেলের তুলনায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির ক্ষেত্রে ভারতের ঝুঁকি বেশি। দেশটির আমদানি করা এলপিজির প্রায় ৯০% হরমুজ দিয়ে আসে। রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে, তাই এসব চালানে বিঘ্ন ঘটলে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে বিঘ্নের চেয়ে দৈনন্দিন জীবনের অন্য ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ে।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিও গুরুত্বপূর্ণ একটি পণ্য। প্রাকৃতিক গ্যাসকে তরলে পরিণত করতে ঠান্ডা করা হয়, যাতে জাহাজে করে বিপুল পরিমাণে পরিবহন করা যায়। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ভারতের আমদানি করা এলএনজির ৫০ শতাংশের বেশি এই প্রণালি দিয়ে আসে।
এই পরিসংখ্যানগুলো ভিন্ন ভিন্ন সরবরাহের ধারা তুলে ধরে: এলপিজির শতাংশটি ভারতের আমদানি করা রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর এলএনজির পরিসংখ্যানটি কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একসঙ্গে এগুলো দেখায়, অপরিশোধিত তেলের অংশ কমালেও হরমুজের ওপর উল্লেখযোগ্য নির্ভরতা থেকে যায়।
সার আমদানিও এই রুট ব্যবহার করে, ফলে জাহাজ চলাচলের সুযোগ কৃষকদের প্রয়োজনীয় সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত। ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য এই ছাড় রান্নার জ্বালানি থেকে শুরু করে খাদ্য উৎপাদনে সহায়ক উপকরণসহ বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের প্রবেশব্যবস্থা ও মার্কিন নিয়ম পৃথক
ইরানের চলাচল ফি দেওয়ার বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ বিভাগ বলেছে, মার্কিন ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষকে অর্থ দিতে পারবে না। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন কোম্পানিগুলোকে ইরানের ফি দাবির পাশাপাশি অর্থ পরিশোধের বিধিনিষেধও বিবেচনায় রাখতে হয়।
ইরানের বন্দরে অবরোধও আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। তাদের ঘোষিত নীতিতে এসব বন্দরে প্রবেশকারী জাহাজ এবং অন্য গন্তব্যে চলাচলকারী জাহাজের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। ফলে জাহাজটি কোন দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তার পাশাপাশি গন্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
চার দেশের ছাড় কীভাবে কার্যকর হচ্ছে, সে বিষয়ে হায়াত-মোগাদ্দামের বক্তব্য ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। যাত্রাপথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরোপিত নিয়ম, অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং ইরানি বন্দরে যাতায়াতের নিয়মসহ, জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানিগুলোকে সব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।
আন্তর্জাতিক জলপথে জ্বালানির অবাধ সরবরাহ ও নৌচলাচলের স্বাধীনতার দাবি বারবার জানিয়েছে ভারত। সর্বশেষ এই ব্যবস্থা নির্বাচিত জাহাজকে চলাচলের একটি সুযোগ দিচ্ছে, তবে পৃথক অনুমতির মাধ্যমে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান।
ঘোষণার আগে আট মাস ধরে চলেছে অস্থিরতা
জাহাজ চলাচল ও কূটনীতিতে বারবার বিঘ্ন ঘটানো সংঘাতের পর নভেম্বরে এই ছাড় ঘোষণা করা হলো। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পর জুলাইয়ে আবার লড়াই শুরু হয়, ফলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে চলমান বিধিনিষেধের মধ্যেই চলাচল করতে হচ্ছে।
সংকটের বিকাশের প্রধান তারিখগুলো হলো:
- ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে, যার মধ্য দিয়ে বর্তমান সংঘাতের সূচনা হয়।
- ২ মার্চ: ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল তীব্রভাবে কমে যায়।
- এপ্রিল: যুদ্ধবিরতি হয়।
- জুন: জাহাজের পরিচয়, পণ্য ও গন্তব্যের তথ্যসংক্রান্ত ইরানি শর্তের কথা জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
- জুলাই: স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আবার লড়াই শুরু হয়।
- ৩ নভেম্বর: ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জন্য ছাড় ঘোষণা করেন হায়াত-মোগাদ্দাম।
বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় কিছু জাহাজ চলাচল অব্যাহত রেখেছে, তবে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচল আবার শুরু হয়নি। এই চার দেশের জন্য ছাড় সীমিত ব্যবস্থার আওতায় নির্বাচিত অংশীদারদের ঘোষিত প্রবেশের সুযোগ বাড়িয়েছে।
নাবিকেরা এখনো নিরাপত্তাঝুঁকিতে
সংঘাত শুরুর ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজে অন্তত ৭০টি হামলার তথ্য নথিভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থা (আইএমও)। এসব হামলায় ১৯ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। তেল, গ্যাস ও অন্যান্য বাণিজ্যে বিঘ্নের মানবিক মূল্যও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এতে।
বৃহত্তর সংঘাতে ২৪ জন ভারতীয় নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১৫ জন নাবিক। ভারতীয় নিহতদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এই ১৫ জন। এই সংখ্যা সংঘাতে নিহত ভারতীয়দের হিসাব; আর আইএমওর মোট সংখ্যাটি তাদের নির্ধারিত প্রতিবেদনকালীন সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় নিহত নাবিকদের হিসাব।
নাবিকদের জন্য চলাচলের অনুমতির পাশাপাশি সক্রিয় সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পথ চলার ঝুঁকিও রয়েছে। কখন ও আদৌ যাত্রা করবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় জাহাজ পরিচালনাকারীদের জাহাজের চলাচল, বিমা সুরক্ষা এবং নাবিকদের নিরাপত্তা বিবেচনা করতে হয়।
পশ্চিম এশিয়ার উৎপাদক দেশগুলো থেকে আসা চালানসহ, সমুদ্রপথে পরিবাহিত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হরমুজ দিয়ে যায়। সেখানে বিঘ্ন ঘটলে চালান ব্যাহত হতে পারে এবং জাহাজ চলাচলের সময়সূচি জটিল হয়ে উঠতে পারে, যার প্রভাব ছাড় পাওয়া চার দেশের বাইরের ক্রেতাদের ওপরও পড়ে।
ইরানের ঘোষণা নির্বাচিত বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে। এর বাস্তব সুবিধা নির্ভর করবে জাহাজ ছাড়পত্র পাচ্ছে কি না, প্রযোজ্য অর্থ পরিশোধের নিয়ম মানছে কি না এবং নিরাপদে যাত্রা শেষ করতে পারছে কি না, তার ওপর।
মূল বিষয়গুলো
- ইরানের ভাষ্য, ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের বিধিনিষেধ থেকে ছাড় পেয়েছে।
- ভারতীয় ও চীনা জাহাজকে চলাচল ফি দিতে হবে; কাতারের জাহাজ কোনো ফি ছাড়াই চলাচল করতে পারবে।
- ভারতের ছাড়কে ওষুধ আমদানি এবং চীনের ছাড়কে রাজনৈতিক সমর্থনের সঙ্গে যুক্ত করেছে ইরান।
- ইরানের ছাড়পত্র পদ্ধতিতে জাহাজ, পণ্য ও গন্তব্যের তথ্য দিতে হয়।
- ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৩০% এবং এলপিজি আমদানির ৯০% হরমুজ দিয়ে আসে।
- ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজে অন্তত ৭০টি হামলা এবং ১৯ জন নাবিকের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে আইএমও।






