কর নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে একটি মৌলিক প্রয়োজন
স্যানিটারি প্যাডের ওপর কর পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার নারী ক্ষমতায়ন ও শিশু সুরক্ষামন্ত্রী আরিফাহ ফাউজি। মাসিকের পণ্য আরও সাশ্রয়ী করার দাবিতে নারী অধিকারকর্মী, একজন আইনপ্রণেতা এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনিও যুক্ত হয়েছেন। কর অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্যাডের ওপর বর্তমানে কার্যকর মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) হার ১১%।
সূচিপত্র
- কর নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে একটি মৌলিক প্রয়োজন
- ১২% হার কীভাবে ১১% কর হয়
- সাশ্রয়ী মূল্যের বিষয়টি বিবেচনার দাবি কেন
- নিয়মিত এই ব্যয়ের ভার কার ওপর পড়ে?
- মাসিককালীন দারিদ্র্য শুধু প্যাডের দামের বিষয় নয়
- দুর্যোগ সহায়তায় মাসিকের সামগ্রী রাখতে হবে
- শ্রমিক নেতাদের ০% করের দাবি
- পর্যালোচনায় যেসব বিষয় বিবেচনা করতে হবে
- মূল বিষয়গুলো
আরিফাহ বলেছেন, স্যানিটারি প্যাড কোনো বিলাসপণ্য নয়; এটি স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে যুক্ত একটি মৌলিক জৈবিক প্রয়োজন। তাঁর যুক্তি, জরুরি পরিস্থিতিতেও প্রতিটি নারীর নিরাপদ ও উপযুক্ত মাসিকের সামগ্রী পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা মানুষের সহায়তায় তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, কর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্যানিটারি প্যাডকে করযোগ্য পণ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে এবং বর্তমানে এতে ভ্যাট অব্যাহতি নেই। ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর তাদের আনুষ্ঠানিক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ব্যাখ্যায় পণ্যগুলোকে ইন্দোনেশিয়ার বিদ্যমান ভোগকর ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছে।
এই বিতর্কে সরকারের দুটি ভিন্ন দায়িত্ব মুখোমুখি হয়েছে: জনসেবার অর্থ জোগাড় করা এবং এড়ানো যায় না এমন স্বাস্থ্যব্যয় সাশ্রয়ী রাখা। সীমিত আয়ের নারীদের জন্য স্যানিটারি প্যাড নিয়মিত কেনার পণ্য, যার সঙ্গে খাদ্য, যাতায়াত ও পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর খরচের প্রতিযোগিতা চলে।
এখন কয়েকটি প্রস্তাব সামনে আনা হচ্ছে, এর মধ্যে রয়েছে ভ্যাট অব্যাহতি, সরকারি ভর্তুকি এবং ০% করহারের দাবি। এখানে বর্ণিত বিবৃতিগুলোতে কোনো পরিবর্তন অনুমোদন বা তা কার্যকর করার তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
আরিফাহর উদ্যোগের পরিধি দোকানের দামের বাইরেও বিস্তৃত। দুর্যোগ সহায়তা বিতরণকারী সংস্থাগুলোকে মাসিকের সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাঁর মন্ত্রণালয় চাপ দিচ্ছে। কারণ, বাড়িঘর, দোকানপাট ও মৌলিক পরিষেবায় প্রবেশাধিকার ব্যাহত হলেও নারীদের এসব সামগ্রী প্রয়োজন হয়।
১২% হার কীভাবে ১১% কর হয়
কর অধিদপ্তর জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ায় বিক্রি হওয়া স্যানিটারি প্যাড করযোগ্য পণ্য, যা ইন্দোনেশিয়ার কর পরিভাষায় Barang Kena Pajak নামে পরিচিত। এগুলো বিলাসপণ্য নয়—এভাবে শ্রেণিবদ্ধ হলেও ভ্যাট অব্যাহতি পাওয়া পণ্যের তালিকায় না থাকায় এর ওপর ভ্যাট প্রযোজ্য থাকে।
এই হিসাবের সঙ্গে দুটি অঙ্ক জড়িত। ঘোষিত ভ্যাটের হার ১২%, তবে এটি বিক্রয়মূল্যের ১১/১২ অংশের সমান করভিত্তির ওপর প্রয়োগ করা হয়। এই দুই অঙ্কের গুণফলে ভ্যাটের আগের দামের ১১% কার্যকর কর দাঁড়ায়।
উদাহরণ হিসেবে, ভ্যাটের আগে ২০,০০০ রুপিয়ার একটি কাল্পনিক কেনাকাটায় ২,২০০ রুপিয়া কর দিতে হবে, ফলে মোট দাম হবে ২২,২০০ রুপিয়া। এটি হিসাব বোঝানোর উদাহরণ, কোনো নির্দিষ্ট খুচরা বিক্রয়মূল্য নয়। এতে দেখা যায়, প্রতিটি কেনাকাটায় প্রযোজ্য কর কীভাবে পরিবারের নিয়মিত ব্যয়ের অংশ হয়ে ওঠে।
কর কর্তৃপক্ষ বলেছে, ভোগের ওপর প্রযোজ্য সাধারণ ভ্যাট ব্যবস্থার মাধ্যমে এই কর আদায় করা হয়। তাদের অবস্থান বর্তমান নিয়মে পণ্যগুলোর শ্রেণিবিন্যাসের ওপর গুরুত্ব দেয়। অন্যদিকে, পরিবর্তনের পক্ষে প্রচারকারীরা বলছেন, এই শ্রেণিবিন্যাসে মাসিকের সঙ্গে যুক্ত একটি অপরিহার্য ব্যয়ের বিষয়টি যথেষ্ট বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না, তা দেখতে হবে।
সাশ্রয়ী মূল্যের বিষয়টি বিবেচনার দাবি কেন
নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতাবিষয়ক জাতীয় কমিশনের (Komnas Perempuan) উপসভাপতি দালিয়া মাদানিহ বলেছেন, মাসিকের পণ্যের ওপর কর আরোপে নারীদের বিশেষ প্রজননস্বাস্থ্য চাহিদা এখনো যথাযথভাবে বিবেচিত হয়নি। লিঙ্গসমতার নীতির ভিত্তিতে নীতিটি পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দালিয়ার উদ্বেগ বিশেষভাবে কম আয়ের নারীদের নিয়ে। নিয়মিত এই পণ্য কিনতে স্বল্প আয়ের পরিবারের বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হয়। ফলে দাম বাড়লে বা অন্য জরুরি খরচ এলে তা সামাল দেওয়ার সুযোগ কমে যায়।
প্রতিনিধি পরিষদের অষ্টম কমিশনের সদস্য সেলি আন্দ্রিয়ানি গানতিনাও সরকারকে মাসিকের পণ্য ভ্যাটমুক্ত করা অথবা রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির মাধ্যমে করের ব্যয় মেটানোর বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মাসিককে একটি অনিবার্য জৈবিক প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
"মাসিক কোনো পছন্দ নয়, জীবনধারাও নয়, কিংবা পিছিয়ে দেওয়া যায় এমন ঐচ্ছিক ব্যয়ও নয়। এটি এমন একটি জৈবিক প্রক্রিয়া, যা নারীরা এড়াতে পারেন না," বলেছেন সেলি।
সেলি বলেছেন, করনীতিতে মানুষের প্রয়োজন ও অর্থনৈতিক অবস্থার পার্থক্য বিবেচনা করা উচিত। তাঁর যুক্তি, বহু পণ্যের ক্ষেত্রে একই ভোগকর নিয়ম প্রয়োগ করা হলেও যাঁদের এসব কিনতে হয়, তাঁদের ওপর এর বোঝা ভিন্ন হতে পারে।
নিয়মিত এই ব্যয়ের ভার কার ওপর পড়ে?
সেলি বলেছেন, কম আয়ের পরিবারের নারী, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং স্কুলছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত মাসিকের পণ্য পাওয়ার সুযোগ সুরক্ষিত রাখা দরকার। তাঁর প্রস্তাবে করসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সঙ্গে এই বাস্তব প্রশ্নটি যুক্ত হয়েছে: মানুষের প্রয়োজনের সময় তারা জরুরি সামগ্রী পায় কি না।
অষ্টম কমিশনের এই আইনপ্রণেতা বলেছেন, ভোক্তাদের ওপর পড়া বোঝা নিয়ে বিতর্কে আলোচনা হওয়া উচিত। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন:
"বিষয়টি শুধু এই নয় যে করটি বিশেষভাবে নারীদের লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে কি না। আরও মৌলিক প্রশ্ন হলো, এর বোঝা আসলে কে বহন করছে," তিনি বলেন।
আরিফাহর আহ্বানেও নিরাপদ, উপযুক্ত ও সাশ্রয়ী পণ্যের প্রাপ্যতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এক প্যাকেট প্যাডের দাম কমানো এই উদ্বেগের একটি দিকের সমাধান করে। তবে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পণ্য কীভাবে বিতরণ করা হয় এবং কোথায় পাওয়া যায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
সেলি স্বীকার করেছেন, উন্নয়ন ও জনসেবার ব্যয় মেটাতে কর রাজস্ব এখনো প্রয়োজন। তবে তিনি সরকারকে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে আর্থিক নীতি—অর্থাৎ সরকারি আয় ও ব্যয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত—মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
মাসিককালীন দারিদ্র্য শুধু প্যাডের দামের বিষয় নয়
দালিয়া মাসিককালীন দারিদ্র্যকে অর্থনৈতিক বা সামাজিক বাধার কারণে মাসিকের পণ্য, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি ও তথ্য পাওয়ার সীমিত সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাই এই শব্দটি শুধু এক প্যাকেট প্যাড কেনার সামর্থ্য না থাকাকেই বোঝায় না।
কারও কাছে মাসিকের পণ্য থাকতে পারে, কিন্তু বিশুদ্ধ পানি বা মাসিক সামলানোর উপযুক্ত জায়গা নাও থাকতে পারে। আবার অন্য কারও শৌচাগারে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও সামগ্রী কেনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ নাও থাকতে পারে। এই দুই পরিস্থিতিই বোঝায়, নীতিগত প্রস্তাবগুলো কেন শুধু কর কমানোর মধ্যে সীমিত নয়।
সেলি মাসিকের পণ্যের প্রাপ্যতার সঙ্গে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, প্রজননস্বাস্থ্যসেবা ও মাসিকস্বাস্থ্য শিক্ষা যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতীয় নীতিনির্ধারণে নারীদের চাহিদা বিবেচিত হচ্ছে তা নিশ্চিত করতে আরিফাহর মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে আরও জোরালো সমন্বয়েরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দালিয়া বিষয়টিকে দারিদ্র্য দূরীকরণে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রতি ইন্দোনেশিয়ার অঙ্গীকারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, সন্তান জন্মের পর, রক্তপাতের সময় এবং গর্ভপাতের পর শোষণক্ষম পণ্যের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যগত আরও নানা পরিস্থিতিতে মানুষের এসব সামগ্রী দরকার হতে পারে।
দুর্যোগ সহায়তায় মাসিকের সামগ্রী রাখতে হবে
আরিফাহ বলেছেন, দুর্যোগ সহায়তা প্যাকেজে, যার মধ্যে মর্যাদা কিটও রয়েছে, মাসিকের পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী থাকা এসব প্যাকেজ জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটাতে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা বজায় রাখতে সহায়তা করার জন্য তৈরি করা হয়।
জরুরি সামগ্রী প্রস্তুতের সময় মাসিক হয় এমন নারীদের বিবেচনায় রাখা নিশ্চিত করতে নারী ক্ষমতায়ন ও শিশু সুরক্ষা মন্ত্রণালয় সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এসব প্যাকেজে প্যাড রাখলে ত্রাণ কার্যক্রমের মধ্যেই তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
দুর্যোগ সহায়তা ও করনীতি একই নিয়মিত প্রয়োজনের ভিন্ন পরিস্থিতি সামাল দেয়। বাজার থেকে কেনাকাটায় ভ্যাটের প্রভাব পড়ে, আর স্বাভাবিকভাবে পণ্য পাওয়ার সুযোগ ব্যাহত হলে ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে জরুরি সহায়তা পৌঁছায়। আরিফাহর অবস্থানে মাসিকস্বাস্থ্যে সহায়তা করা সরকারের দায়িত্বের আওতায় দুটিই রয়েছে।
শ্রমিক নেতাদের ০% করের দাবি
ইন্দোনেশিয়ার শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর কনফেডারেশনের (KSPI) সভাপতি এবং লেবার পার্টির সভাপতি সাইদ ইকবাল ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের এক বিবৃতিতে স্যানিটারি প্যাডের ওপর ০% করহারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি প্যাডকে মৌলিক প্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে বর্ণনা করে নারী শ্রমিক এবং কম আয়ের পরিবারের জন্য খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
শ্রমিকদের জন্য প্রস্তাবিত কর পরিবর্তনের বৃহত্তর একটি প্যাকেজের অংশ হিসেবে এই দাবি তুলেছেন ইকবাল। চাকরি শেষ হলে বা বার্ধক্যে শ্রমিকদের জন্য ব্যবহৃত সঞ্চয় সুবিধা Jaminan Hari Tua (JHT)-এর ওপর থেকে কর তুলে নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
JHT-এর ওপর কর বহাল থাকলে বিকল্প হিসেবে করমুক্তভাবে তোলা যায় এমন অর্থের সীমা ৫০ মিলিয়ন রুপিয়া থেকে বাড়িয়ে ৪০০ মিলিয়ন রুপিয়া করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তাঁর উল্লেখ করা বর্তমান সীমার তুলনায় প্রস্তাবিত সীমাটি আট গুণ।
ইকবাল ব্যক্তিগত আয়করের করমুক্ত সীমা, যা PTKP নামে পরিচিত, মাসে ৭.৫ মিলিয়ন রুপিয়ায় বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন। ধর্মীয় ছুটির ভাতা, পেনশন সুবিধা এবং চাকরি ছাড়ার ক্ষতিপূরণের ওপর কর তুলে নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি; প্রয়োজনে তা ধাপে ধাপে করা যেতে পারে। এসব দাবি আয় ও শ্রমিকদের সুবিধাসংক্রান্ত, আর স্যানিটারি প্যাডের প্রস্তাবটি কেনাকাটার ওপর আদায় করা কর নিয়ে।
পর্যালোচনায় যেসব বিষয় বিবেচনা করতে হবে
কর অধিদপ্তর বলেছে, করছাড়ের প্রস্তাবগুলো বিদ্যমান করবিধি, জনসাধারণের ওপর প্রভাব এবং সরকারি অর্থায়নে এর পরিণতির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা দরকার। অর্থাৎ, একই নীতিগত পর্যালোচনায় সাশ্রয়ী মূল্য ও সরকারি রাজস্ব—দুটিই বিবেচনায় রাখতে হবে।
সেলির প্রস্তাবিত অব্যাহতি বা ভর্তুকি এবং ইকবালের ০% করহারের দাবি—দুটিই করের বোঝা কমানোর ভিন্ন পথ। কোনো পণ্যে অব্যাহতি দিলে তা সংশ্লিষ্ট ভ্যাটের আওতার বাইরে চলে যায়, আর ভর্তুকির মাধ্যমে সরকারি সহায়তায় ব্যয় মেটানো হয়। আইনগত ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট ধরন নির্ধারণ করবে, বিক্রেতা ও ক্রেতার ক্ষেত্রে কোন পদক্ষেপ কীভাবে কাজ করবে।
আশপাশের দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার বিষয়টিও ইন্দোনেশিয়ার বিতর্কে তুলনা হিসেবে এসেছে। সেখানে স্যানিটারি প্যাডকে করের আওতাবহির্ভূত পণ্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় বাস্তব প্রস্তাবটি হলো, নিজস্ব করবিধির পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও সামাজিক সহায়তা নীতির সঙ্গে মিলিয়ে প্যাডের করব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা।
তারিখসহ ঘটনাপ্রবাহে দেখা যায়, বিদ্যমান বিধির ব্যাখ্যা থেকে আলোচনা কীভাবে সংস্কারের বিস্তৃত দাবিতে গড়িয়েছে:
- ১ নভেম্বর, ২০২৬: কর অধিদপ্তর জানায়, স্যানিটারি প্যাডে ভ্যাট অব্যাহতি নেই এবং এতে কার্যকর করের হার ১১%।
- ৩ নভেম্বর, ২০২৬: শ্রমিকদের জন্য প্রস্তাবিত করছাড়ের বৃহত্তর প্যাকেজের অংশ হিসেবে প্যাডে ০% করহারের দাবি জানান সাইদ ইকবাল।
আরিফাহ, দালিয়া ও সেলি প্রত্যেকেই মৌলিক চাহিদা, সাশ্রয়ী মূল্য এবং প্রাপ্যতার বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিয়েছেন। তাঁদের প্রস্তাবে কয়েকটি সংস্থার দায়িত্বের কথা উঠে এসেছে: করসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অর্থ মন্ত্রণালয় জড়িত, আর স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচব্যবস্থা, শিক্ষা ও দুর্যোগ সহায়তার জন্য অন্য সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন।
মূল বিষয়গুলো
- ইন্দোনেশিয়ায় স্যানিটারি প্যাডের ওপর বর্তমানে কার্যকর ভ্যাট ১১%; বিক্রয়মূল্যের ১১/১২ অংশের ওপর ১২% হার প্রয়োগ করে এই হিসাব করা হয়।
- নারী ক্ষমতায়ন ও শিশু সুরক্ষামন্ত্রী আরিফাহ ফাউজি কর পর্যালোচনা এবং দুর্যোগ সহায়তায় মাসিকের সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে।
- প্রজননস্বাস্থ্যের চাহিদা ও লিঙ্গসমতার ভিত্তিতে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে Komnas Perempuan।
- আইনপ্রণেতা সেলি আন্দ্রিয়ানি গানতিনা ভ্যাট অব্যাহতি বা সরকারি ভর্তুকির পাশাপাশি পানি, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
- KSPI ও লেবার পার্টির সভাপতি সাইদ ইকবাল ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর প্যাডে ০% করহারের দাবি জানান।
- কর কর্তৃপক্ষ বলছে, করছাড়ের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে আইনি বিধি, জনসাধারণের লাভ এবং সরকারি অর্থায়ন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।






