বাসিন্দাদের রেখেই সমুদ্রে ভেসে থাকা বাড়িটির যাত্রা
সিহানুকভিলে বিশ্বভ্রমণ থামার পর ২০০ জনেরও বেশি বাসিন্দাকে রেখেই কম্বোডিয়া ছেড়েছে Villa Vie Odyssey। বছরের পর বছর জাহাজে থাকার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া যাত্রীরা এখন আবাসন, ফ্লাইট এবং নিজেদের অর্থের কী হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন।
সূচিপত্র
- বাসিন্দাদের রেখেই সমুদ্রে ভেসে থাকা বাড়িটির যাত্রা
- যাত্রীরা যতটা পারেন, জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন
- যেভাবে এই পরিস্থিতিতে পৌঁছাল সমুদ্রযাত্রা
- জ্বালানির খরচ তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে
- আগের সতর্কসংকেতের কথা জানালেন বাসিন্দারা
- কেবিনের বড় অঙ্কের মূল্য, সঙ্গে চলমান ব্যয়
- পুনরায় গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিল কম্বোডিয়া
- হোটেলে সহায়তা, তবে তথ্যের অনুরোধের জবাব নেই
- ঋণদাতার নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্গঠনের প্রস্তাব
- মূল বিষয়গুলো
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী Hun Manet বলেছেন, জাহাজটি ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর রাতে রওনা হয়। স্থানীয় পর্যটনপ্রধান Taing Sochitkrishna জানান, এটি ৪ নভেম্বর ভোরে যাত্রা করে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজে প্রায় ৫০ জন ক্রু ছিলেন, কোনো যাত্রী ছিলেন না। প্রায় ১০০ জন সাবেক বাসিন্দা কম্বোডিয়ায় থেকে যান, আর অন্যদের বেশির ভাগই ওই অঞ্চলের অন্য কোথাও উড়ে যান।
ফ্লোরিডাভিত্তিক Villa Vie Residences বলেছে, ইরানের যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত জ্বালানির তীব্র মূল্যবৃদ্ধির কারণে তারা কার্যক্রম স্থগিত করেছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, বন্ধের আগে তাদের কাছে অর্থসহায়তার আবেদন জানানো হয়েছিল এবং সেবার পরিসর কমছিল। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জিনিসপত্র গুছিয়ে জাহাজ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Agence Kampuchea Presse-এ প্রকাশিত ৫ নভেম্বরের বিবৃতিতে Hun Manet জাহাজটির যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জাহাজ ছাড়ার জন্য কম্বোডিয়া কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়নি এবং যাত্রীদের—যাদের অনেকেই বয়স্ক—হোটেলে বিশ্রামের সুযোগ দিয়েছে।
এই সমুদ্রযাত্রা অন্তত ৭৫৫ দিন স্থায়ী হয়েছিল। যেসব বাসিন্দা নিজেদের সম্পদ বিক্রি করেছিলেন বা স্থলভাগের বাড়ি ছেড়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের জন্য এই বিঘ্নের অর্থ ছিল দৈনন্দিন আবাসন হারানো, পাশাপাশি পরিকল্পিত ভ্রমণও থেমে যাওয়া।
যাত্রীরা যতটা পারেন, জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন
জাহাজ ছাড়ার অল্প আগে, ৩ নভেম্বর যাত্রীরা নিজেদের বাকি জিনিসপত্র নিতে ফিরে যান। কেউ কেউ বলেন, যে জাহাজটি তাঁদের বাড়ি হয়ে উঠেছিল, সেখানে আর ফেরার আশা তাঁরা করছেন না।
উত্তর ক্যারোলাইনার উইলমিংটনের যাত্রী Shirine Thomas শেষ কিছু জিনিসপত্র সংগ্রহের পর কী ফেলে যাচ্ছেন, তা বর্ণনা করেন।
জাহাজে এখনো অনেক জিনিস আছে, যেগুলো সঙ্গে নিতে পারলে ভালো হতো।
কিছু বাসিন্দা জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার জন্য মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় পেয়েছিলেন; বিভিন্ন বিবরণে এই সময়সীমা প্রায় সাত ঘণ্টা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘোষণা আসার সময় যারা জাহাজের বাইরে ছিলেন, বড় জিনিসপত্র বা আসবাব নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা বিশেষ অসুবিধায় পড়েন।
কার্যক্রম বন্ধের সময় যাত্রীর সংখ্যা বহুলভাবে ২০৩ বলা হয়েছে, যদিও আরেকটি বিবরণে তা ৩০০ বলা হয়। বাসিন্দাদের বেশির ভাগই ছিলেন মার্কিন নাগরিক। তাঁদের তাৎক্ষণিক কাজগুলো ছিল বাস্তবিক: একটি ঘর খোঁজা, যাতায়াতের ব্যবস্থা করা, লাগেজে যতটা ধরে ততটা সঙ্গে নেওয়া এবং কম্বোডিয়ায় অপেক্ষা করবেন, নাকি অন্য কোথাও যাবেন তা ঠিক করা।
যেভাবে এই পরিস্থিতিতে পৌঁছাল সমুদ্রযাত্রা
Villa Vie ২০২৩ সালে জাহাজটি কেনে। ১৯৯৩ সালে নির্মিত জাহাজটি কয়েকটি ভিন্ন নামে চলেছে। পরে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে সংস্কারের পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে এর বর্তমান সমুদ্রযাত্রা শুরু হয়। পরিকল্পিত ভ্রমণসূচি ছিল তিন বছরের, যদিও কিছু গ্রাহক আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য থাকার অধিকার কিনেছিলেন।
কোম্পানিটি এরই মধ্যে আরেকটি ক্রুজ এবং দ্বিতীয় জাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা করেছিল। কিন্তু তার বদলে প্রথম আবাসিক সমুদ্রযাত্রাটি থেমে যায় কম্বোডিয়ার উপসাগরীয় উপকূলের বন্দর সিহানুকভিলে নির্ধারিত সফরের সময়।
প্রধান ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে:
- অক্টোবর ২০২৪: Odyssey বেলফাস্ট থেকে বর্তমান বিশ্বভ্রমণ শুরু করে।
- সেপ্টেম্বর ২০২৬: যাত্রী Pamela Reckamp বলেন, ভিয়েতনামের Ha Long Bay ছাড়তে জ্বালানি কমে যাওয়ায় কোম্পানি ১ মিলিয়ন ডলার চেয়েছিল।
- ২৭ অক্টোবর: Villa Vie কার্যক্রম স্থগিত এবং পুনর্গঠন ও অর্থায়নের চেষ্টা করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে।
- অক্টোবরের শেষ দিকে: কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাসিন্দাদের জাহাজ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কয়েকটি বিবরণে সরিয়ে নেওয়ার তারিখ ২৮ অক্টোবর, আরেকটিতে ১৮ অক্টোবর বলা হয়েছে।
- ১ নভেম্বর: যাত্রীদের জানানো হয়, ঋণদাতা জাহাজটির দায়িত্ব নেবে এবং ক্রুদের বেতন ও জ্বালানির খরচ বহন করবে।
- ৩ নভেম্বর: বাসিন্দারা বাকি জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন; Hun Manet বলেন, ওই রাতেই জাহাজটি রওনা হয়।
- ৫ নভেম্বর: Hun Manet যাত্রী ও জাহাজকে কম্বোডিয়ার সহায়তার কথা প্রকাশ্যে জানান।
অক্টোবরে কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণায় বিরতিটিকে সাময়িক বলে তুলে ধরা হয়েছিল। এতে বলা হয়, কোম্পানি পরবর্তী ৬০ দিনে অর্থায়নের চেষ্টা করার সময় অপরিহার্য ব্যবস্থাগুলো সচল রাখতে ক্রুরা জাহাজে থাকবেন।
জ্বালানির খরচ তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে
Villa Vie বলেছে, আগে প্রতি কেবিনের হিসাবে তাদের মাসিক জ্বালানি ব্যয় ছিল প্রায় ১,৮০০ ডলার। এশিয়ার কিছু অঞ্চলে সেই ব্যয় বেড়ে ৬,০০০ থেকে ৮,০০০ ডলারে পৌঁছেছে বলে তাদের হিসাব। কোম্পানির আরেকটি বিবরণে আগের অঙ্ক ১,৬০০ ডলার এবং নতুন ব্যয়ের সীমা ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ ডলার বলা হয়েছে।
বেশি উদ্ধৃত ১,৮০০ ডলারের ভিত্তি ধরে হিসাব করলে, প্রতি কেবিনে মাসে অতিরিক্ত ৪,২০০ থেকে ৬,২০০ ডলার ব্যয় হয়। নতুন অঙ্কটি আগের তুলনায় প্রায় ৩.৩ থেকে ৪.৪ গুণ। এগুলো জাহাজের মোট জ্বালানি ব্যয় কেবিনগুলোর মধ্যে ভাগ করে নির্ধারিত হিসাব; প্রতিটি ঘরে ব্যবহৃত জ্বালানি মাপার আলাদা মিটার নয়।
কোম্পানিটি এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য ইরানের যুদ্ধকে দায়ী করেছে। পেট্রোলিয়াম পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় জ্বালানির সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ পড়ে, যার প্রভাব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পড়ে।
Villa Vie বলেছে, যাত্রার গতি কমিয়ে এবং বন্দরে বেশি সময় কাটিয়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। এসব পদক্ষেপে ভ্রমণের গতি বদলালেও, কার্যক্রম চালু রাখার জন্য সাশ্রয় যথেষ্ট ছিল না বলে জানায় কোম্পানিটি।
আর্থিক চাপ সরাসরি যাত্রীদের ওপরও পড়ে। বাসিন্দারা বলেন, কয়েক মাস ধরে তাঁদের কাছে অর্থ দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছিল; এর মধ্যে জাহাজের পরবর্তী যাত্রাগুলোর খরচ মেটানোর জন্য অতিরিক্ত অর্থও চাওয়া হয়।
আগের সতর্কসংকেতের কথা জানালেন বাসিন্দারা
যুক্তরাষ্ট্রের যাত্রী Kit ও Randy Cassingham বলেন, ২৮ অক্টোবর কম্বোডিয়ার একটি হোটেলে ওঠার আগে তাঁরা মেনু ও খাবারের পরিমাণ কমতে দেখেছেন। ইন্টারনেট সংযোগ ছিল অনির্ভরযোগ্য, জ্বালানি বাঁচাতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আনা হয়েছিল এবং তীরে ঘোরার সময়ও কমানো হয়েছিল।
জাহাজটি ব্যাংককে পৌঁছাতে সহায়তার জন্য বাসিন্দাদের প্রত্যেককে ১,৮০০ ডলার করে দিতে বলা হয়েছিল। নির্দিষ্ট অবসরকালীন আয়ের ওপর ভিত্তি করে যাঁরা বাজেট করেছিলেন, তাঁদের জন্য এ ধরনের অনুরোধ দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বিক্রি করা জীবনযাপনে অনিশ্চিত খরচ যোগ করে।
৭৮ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন শিক্ষক Sharon Lane বলেন, তিনি নিজের বেশির ভাগ জিনিসপত্র বিক্রি করে ১৫ বছর থাকার উদ্দেশ্যে একটি কেবিনের জন্য ২ লাখ ডলার দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের জুনে তিনি জাহাজে ওঠেন এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে আগস্টে স্থলভাগে ফিরে যান।
Lane বলেন, দুপুরের খাবার ও সন্ধ্যা ৭টার কাছাকাছি পরিবেশিত রাতের খাবারের মাঝখানে খাবারের পরিমাণ কম ছিল এবং জাহাজে থাকা মানুষের সংখ্যার তুলনায় খাবারও যথেষ্ট ছিল না। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার ওপর নির্ভরশীল সহযাত্রীদের কথা ভেবে তিনি স্বেচ্ছায় জ্বালানির জন্য কয়েক শ ডলার দিয়েছিলেন বলে জানান।
কোম্পানির অর্থায়ন ব্যবস্থার বিবরণ অনুযায়ী, Villa Vie যাত্রীদের বার্ষিক ১২% থেকে ২৪% সুদে ঋণও দিয়েছিল। ইতিমধ্যে পরিচালন ব্যয় মেটাতে সহায়তা দিতে বলা বাসিন্দাদের জন্য এই সুদে ঋণ নিলে আরও একটি নিয়মিত আর্থিক দায় তৈরি হতো।
কেবিনের বড় অঙ্কের মূল্য, সঙ্গে চলমান ব্যয়
কেবিনের দাম ১১৯,৯৯৯ থেকে ৪৩৯,৯৯৯ ডলার পর্যন্ত বলা হয়েছে। কিছু যাত্রী জানান, জাহাজটির বাকি জীবনকাল ধরে থাকার জন্য স্যুইট কিনতে তাঁরা ৩ লাখ ডলারের বেশি দিয়েছেন। স্যুইটের আরেকটি উদ্ধৃত প্রারম্ভিক মূল্য ছিল ২৩০,০০০ ডলার। গ্রাহকেরা ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছিলেন; এর মধ্যে ভাড়া, বহু বছর থাকার সুযোগ এবং জাহাজের অবশিষ্ট জীবনকালের সঙ্গে যুক্ত অধিকার ছিল।
সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাসিন্দাদের নিয়মিত ফিও দিতে হতো। ফলে শুরুতে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার পরও তাঁদের থাকার পুরো সময় জ্বালানি, কর্মী ও অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করতে হতো।
জাহাজটির যাত্রী ধারণক্ষমতা বহুলভাবে ৬৫০ বলা হয়েছে, যদিও আরেকটি বিবরণে তা ৩০০ বলা হয়। ৬৫০ জনের হিসাবে ২০৩ জন বাসিন্দা ধারণক্ষমতার প্রায় ৩১%। বাসিন্দা কমে গেলে বড় জাহাজ চালানো ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহন করতে হয় ছোট একটি অর্থদাতা গোষ্ঠীকে।
পরিস্থিতির সঙ্গে ক্রুর সংখ্যাও বদলেছে। জাহাজ ছাড়ার আগের ক্রুসংখ্যা ১৪৫ থেকে ১৬০ জনের মধ্যে বলা হয়েছে; বহুল উদ্ধৃত একটি সংখ্যা ছিল ১৫৬। কম্বোডিয়া ছাড়ার সময় জাহাজে থাকা প্রায় ৫০ জনের কথা বলেছেন Sochitkrishna।
কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় কেবিন ব্যবহারের অধিকার ও জাহাজের মালিকানার সম্পর্কটি তাৎক্ষণিকভাবে সামনে আসে। বাসিন্দাদের কেনা আবাসন ও সেবা দিতে একটি কার্যকর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে, ঋণদাতার হস্তক্ষেপের খবর আর্থিক আলোচনার কেন্দ্রে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণকে নিয়ে আসে।
পুনরায় গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিল কম্বোডিয়া
Hun Manet বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে কোম্পানি আবেদন করার পর কম্বোডিয়া জাহাজটিকে বন্দরে ভিড়তে দেয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ধানের বীজ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের অনুষ্ঠানে ৫ নভেম্বর Pursat Provincial Stadium-এ তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, যাত্রীদের স্বাগত জানাতে পর্যটনমন্ত্রী নিজে সেখানে গিয়েছিলেন। বাসিন্দাদের সহায়তাকে তিনি মানবিক দায়িত্ব বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এর বিনিময়ে কম্বোডিয়ার কোনো প্রত্যাশা নেই।
সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে Hun Manet বলেন:
এটাই কম্বোডিয়ার মানুষের সংস্কৃতি ও চেতনা। কম্বোডিয়া ধনী দেশ নয়, কিন্তু অন্যরা বিপদে পড়লে আমরা সাহায্য করি এবং সমাধান খুঁজি,
সরকার জানিয়েছে, যাত্রী ও ক্রুরা তাঁদের পাওয়া সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কনস্যুলার সহায়তা ও পরবর্তী যাত্রার ব্যবস্থা নিয়ে কম্বোডিয়ার কর্তৃপক্ষ বিদেশি দূতাবাসগুলোর সঙ্গেও সমন্বয় করেছে বলে খবর রয়েছে।
২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির শুরুর দিকে অন্য বন্দরগুলো প্রবেশে অস্বীকৃতি জানানোর পর কম্বোডিয়া Westerdam-কে স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল—সে কথা স্মরণ করেন Hun Manet। Odyssey-এর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক প্রয়োজন ছিল, সমুদ্রে যার বাড়ি হওয়ার কথা ছিল সেই জাহাজের কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষকে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া।
হোটেলে সহায়তা, তবে তথ্যের অনুরোধের জবাব নেই
Villa Vie বলেছিল, বাসিন্দাদের অস্থায়ী আবাসন খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। কিছু যাত্রী অল্প সময়ের জন্য হোটেলে থাকতে পেরেছিলেন, আবার অন্যরা বলেন, তাঁরা কোনো সহায়তা পাননি বা হোটেলের ভাউচারও পাননি। পরে কোথায় থাকবেন এবং কীভাবে ফ্লাইটের ব্যবস্থা করবেন—এসব বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের নিজেদের ঠিক করতে ও খরচ বহন করতে হয়।
স্থানীয় পর্যটন কর্মকর্তাদের হিসাবে, প্রায় ১০০ জন যাত্রী সিহানুকভিলে থেকে যান। অন্যরা কম্বোডিয়ার অন্য কোথাও বা বিদেশে যান। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ধরতে চাওয়া বাসিন্দাদের প্রায়ই বড় পরিবহনকেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য স্থানান্তরযাত্রার ব্যবস্থা করতে হয়েছে, ফলে তাঁদের যাত্রায় আরেকটি ধাপ যোগ হয়।
কানাডার অন্টারিওর অবসরপ্রাপ্ত হাইস্কুল শিক্ষক, ৬৭ বছর বয়সী Mary Ann Demsar বলেন, সমুদ্রযাত্রা চলবে কি না—এ বিষয়ে মালিকেরা খুব কম তথ্য দিয়েছেন।
Villa Vie-এর মালিকদের কাছ থেকে কী ঘটছে সে বিষয়ে আমরা কোনো স্পষ্ট ধারণা পাই না," তিনি বলেন। "তাঁরা এতটাই নীরব যে আমরা শুধু কম্বোডিয়ার চমৎকার সরকার ও এখানকার প্রতিনিধিদের কাছ থেকেই তথ্য পাচ্ছি।
জাহাজ ছাড়ার পর ইমেইল বা টেলিফোনে মন্তব্যের অনুরোধে Villa Vie Residences সাড়া দেয়নি। কাছাকাছি অপেক্ষা করার খরচের সঙ্গে নতুন করে ভ্রমণ ও আবাসনের ব্যবস্থা করার ব্যয়ের তুলনা করে যাত্রীদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
ঋণদাতার নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্গঠনের প্রস্তাব
১ নভেম্বর যাত্রীদের জানানো হয়, জাহাজটির ঋণদাতা এর নিয়ন্ত্রণ নেবে, ক্রুদের বেতন দেবে এবং জ্বালানির খরচ বহন করবে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে নিলামের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। কোনো ঋণদাতা জাহাজ বিক্রি করলে, তার কাছে পাওনা অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্যই এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
Villa Vie Residences-এর প্রধান Mikael Petterson সম্ভাব্য পুনর্গঠনকাল এবং পরিচালনায় অংশীদার খুঁজে পাওয়ার কোম্পানির আশার কথা জানান।
এই প্রক্রিয়ায় ৩০ থেকে ৯০ দিন লাগবে। এই সময়ে আমাদের পুনর্গঠনের সুযোগ আছে। পরিচালনায় অংশীদার পেলে Odyssey-কে ফিরে পাওয়ার আশা এখনো কোম্পানির রয়েছে,
আগের ৬০ দিনের অর্থায়নের চেষ্টা এবং Petterson-এর পরবর্তী ৩০ থেকে ৯০ দিনের সময়সীমার হিসাব—দুটিই প্রস্তাবিত আর্থিক উদ্যোগের সময়কাল, যাত্রীদের যাত্রার নির্ধারিত সময় নয়। যাত্রী ও জাহাজের অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্যদাতাদের হিসাবে সিঙ্গাপুর ছিল সম্ভাব্য গন্তব্য, তবে কম্বোডিয়ার কর্মকর্তারা জাহাজটি কোথায় যাচ্ছিল তা নিশ্চিত করেননি।
আবাসিক সমুদ্রযাত্রা আবার কবে শুরু হবে, নিলাম হবে কি না, অর্থ ফেরত বা জাহাজে রয়ে যাওয়া জিনিসপত্র ফেরত পাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। অর্থ ফেরত বা আবার থাকার ব্যবস্থা চাইলে যাত্রীদের চুক্তি এবং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও ঋণদাতার আলোচনার ফলের ওপর নির্ভর করতে হবে।
মূল বিষয়গুলো
- যাত্রী ছাড়াই Villa Vie Odyssey ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর রাত থেকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে সিহানুকভিল ছেড়ে যায়।
- ২০০ জনেরও বেশি বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হন; প্রায় ১০০ জন কম্বোডিয়ায় থেকে যান।
- Villa Vie বলেছে, এশিয়ার কিছু অঞ্চলে প্রতি কেবিনের মাসিক জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১,৮০০ ডলার থেকে বেড়ে ৬,০০০–৮,০০০ ডলারে পৌঁছেছে।
- কার্যক্রম বন্ধের আগে যাত্রীরা বারবার অর্থসহায়তার অনুরোধ এবং সেবা কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
- কম্বোডিয়া যাত্রীদের জাহাজ থেকে নামতে ও হোটেলে বিশ্রাম নিতে দিয়েছে; জাহাজ ছাড়ার কোনো সময়সীমাও বেঁধে দেয়নি।
- যাত্রীদের ঋণদাতার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ও সম্ভাব্য নিলামের কথা জানানো হয়েছে; এদিকে কোম্পানি পুনর্গঠনের জন্য অংশীদার খুঁজছিল।
- আবার যাত্রা শুরুর বা অর্থ ফেরতের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।






