আড়িপাতার মামলায় লিস্তিয়োকে বরখাস্তের পর আরিয়ো উইন্দুতো মোকে ভারপ্রাপ্ত চিফ অব স্টাফ নিয়োগ প্রাবোওর

পড়তে 10 মিনিট
Prabowo names Ariyo Windutomo acting chief of staff after Listyo dismissed in wiretapping case

প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের কেন্দ্রে সাময়িক নিয়োগ

প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর লেফটেন্যান্ট জেনারেল আরিয়ো উইন্দুতো মোকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের স্টাফ অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিয়োগ করেন। প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য জনপরিচিত ব্যক্তির ওপর কথিত অবৈধ নজরদারির তদন্তের মধ্যে লিস্তিয়ো সিগিত প্রাবোওকে বরখাস্ত করার পর এ নিয়োগ দেওয়া হয়।

সূচিপত্র
  1. প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের কেন্দ্রে সাময়িক নিয়োগ
  2. তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ
  3. যেভাবে এগিয়েছে মামলা
  4. কেন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রদ্রোহ নিয়ে আলোচনা করছেন
  5. কারা লক্ষ্যবস্তু ছিলেন, কারা জবাব চাইছেন
  6. সেনা মোতায়েনে অনিশ্চয়তার আরেকটি স্তর
  7. নিরাপদ যোগাযোগের দাবি ব্যবসায়ী নেতাদের
  8. বাজারের চাপের মধ্যে কেলেঙ্কারি
  9. রাজনৈতিক চাপ ও স্বচ্ছতার দাবি
  10. মূল বিষয়গুলো

রাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাসেতিয়ো হাদি বলেন, প্রাবোও ওই সকালে এক প্রেসিডেনশিয়াল ডিক্রিতে স্বাক্ষর করে লিস্তিয়োকে অপসারণ করেন। লিস্তিয়ো আগে জাতীয় পুলিশের প্রধান ছিলেন এবং আগের মাসেই প্রেসিডেন্টের স্টাফ অফিসে যোগ দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্টের সচিবালয়ের প্রধান আরিয়ো শূন্য পদটির দায়িত্ব সাময়িকভাবে পালন করবেন।

সাবেক প্রধানের বিরুদ্ধে টেলিফোনে আড়িপাতা, ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় বেআইনি প্রবেশ এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণ মুছে ফেলার অভিযোগের মধ্যেও এ নিয়োগে প্রেসিডেন্টের স্টাফ অফিস, সংক্ষেপে কেএসপি, সচল থাকবে। প্রাসেতিয়ো বলেন, সন্দেহভাজনদের একজন প্রেসিডেন্টের নিজের প্রশাসনে পদে থাকায় প্রাবোও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

তদন্তের পরিধি প্রেসিডেন্টের যোগাযোগের বাইরেও বিস্তৃত। পুলিশের বর্ণনায় কথিত লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে সরকার, রাজনীতি, সাংবাদিকতা, নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের ব্যক্তিরা। একই সময়ে জাকার্তায় সামরিক সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছিল, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো গোপন যোগাযোগের সুরক্ষার দাবি জানাচ্ছিল এবং কর্মকর্তারা মামলাটি রাষ্ট্রদ্রোহ পর্যন্ত গড়াতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ

জাতীয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান আসেপ সাফরুদ্দিন বলেন, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রমাণ জব্দের পর তদন্তকারীরা পুলিশের তিন সদস্যকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রথমে এলএসপি, এএসএন ও ইএইচ নামে শনাক্ত করা হলেও পরে তাঁদের নাম প্রকাশ করা হয়: লিস্তিয়ো সিগিত প্রাবোও, আহরি সোনতা নাসুতি ও একো হাদি সান্তোসো।

পুলিশের অভিযোগ, নজরদারি ২০২৫ সালের শুরুতে শুরু হয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলেছে। এ সময়ের মধ্যে লিস্তিয়ো জাতীয় পুলিশের নেতৃত্বে ছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ২০২১ সালে তাঁকে ওই পদে নিয়োগ দেন। ২০২৪ সালে প্রাবোও প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও তিনি দায়িত্বে ছিলেন।

আসেপ বলেন, কথিত নজরদারি পুলিশের তদন্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে পরিচালিত হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, এটি করা হয়েছিল:

"কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়া, কিংবা প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো তদন্ত বা অনুসন্ধান প্রক্রিয়া ছাড়া"।

বিজ্ঞাপন

তদন্তকারীদের আরও অভিযোগ, প্রমাণ আড়াল করতে সন্দেহভাজনরা অক্টোবরের শেষ দিকে আড়ি পেতে সংগ্রহ করা যোগাযোগের তথ্য থাকা ফাইল মুছে ফেলার নির্দেশ দেন। যোগাযোগ আদান-প্রদানের সময় তা সংগ্রহ করাকে আড়িপাতা বলা হয়; যথাযথ অনুমতি ছাড়া ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করাই বেআইনি প্রবেশ। এর ফলে তৈরি ফাইল মুছে ফেলাও কথিত অপরাধের অংশ।

সন্দেহভাজনদের জাকার্তায় জাতীয় পুলিশ সদর দপ্তরের আটককেন্দ্রে রাখা হয়। তাঁদের আটকের তারিখ ব্যাপকভাবে ৩ নভেম্বর বলা হলেও পুলিশের বরাত দিয়ে তাঁদের ১ নভেম্বর, রোববার আটক করার কথাও বলা হয়েছে। তিন সন্দেহভাজন অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো জবাব দেননি।

যেভাবে এগিয়েছে মামলা

কেএসপিতে নিয়োগের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লিস্তিয়োকে বরখাস্ত করা হয়। ঘটনাক্রমে কথিত নজরদারি, ফাইল মুছে ফেলার চেষ্টা এবং সামরিক মোতায়েনের তারিখ আলাদা। নভেম্বরের শুরুতে তদন্তটি জনসমক্ষে আসে।

  • ২০২১: প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর অধীনে লিস্তিয়ো জাতীয় পুলিশের প্রধান হন।
  • ২০২৫ সালের শুরু: তদন্তকারীদের ভাষ্য, অনুমোদনহীন টেলিফোন নজরদারি শুরু হয়।
  • ২০২৬ সালের অক্টোবর: লিস্তিয়ো পুলিশের নেতৃত্বের পদ থেকে প্রেসিডেন্টের স্টাফ অফিসে যান।
  • অক্টোবরের শেষ: পুলিশের অভিযোগ, সন্দেহভাজনরা আড়ি পেতে সংগ্রহ করা যোগাযোগের ফাইল মুছে ফেলার নির্দেশ দেন।
  • ২ নভেম্বর: সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আগুস সুবিয়ান্তোর নামে প্রচারিত এক সামরিক টেলিগ্রামে ব্যাপক মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
  • ৩ নভেম্বর: নজরদারি তদন্তে তিন সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ্যে জানায় পুলিশ।
  • ৪ নভেম্বর: প্রেসিডেনশিয়াল ডিক্রিতে লিস্তিয়োকে বরখাস্ত করেন প্রাবোও এবং আরিয়োকে ভারপ্রাপ্ত কেএসপি প্রধান নিয়োগ করেন।

আরিয়োর নিয়োগ সাময়িক; স্থায়ী উত্তরসূরি নিয়োগের কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। প্রাসেতিয়ো বলেন, পুলিশের কার্যক্রম চলবে এবং তদন্ত চলাকালে জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

কেন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রদ্রোহ নিয়ে আলোচনা করছেন

প্রাসেতিয়োর যুক্তি, প্রেসিডেন্টের যোগাযোগে প্রবেশাধিকার পেলে জাতীয় স্বার্থ ও দেশের নেতৃত্বের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, কথিত কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রদ্রোহের দিকে গড়াতে পারে।

প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে প্রাসেতিয়ো সরকারের উদ্বেগ ব্যাখ্যা করে বলেন:

রাষ্ট্রপ্রধানের কথা বললে, সেখানে প্রচুর অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য থাকে, যা এমন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে, যা জাতির স্বার্থকে বিপন্ন করবে।

বিজ্ঞাপন

আইন, মানবাধিকার, অভিবাসন ও সংশোধনবিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী ইউস্রিল ইহজা মাহেন্দ্র তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন দেন। ৩ নভেম্বর তিনি বলেন, তদন্তকারীরা রাষ্ট্রদ্রোহের কোনো ইঙ্গিত পাননি। ৪ নভেম্বর তাঁর নামে প্রকাশিত বক্তব্যে বলা হয়, তখনও এমন কোনো ইঙ্গিত মেলেনি; পাশাপাশি প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়, অভিযানটির উদ্দেশ্য সরকারকে অচল করে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টিকে অভ্যুত্থানচেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কহীন অপরাধমূলক আড়িপাতার মামলা বলেও তাঁকে উদ্ধৃত করা হয়।

কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা করে দেখছিল, ইন্দোনেশিয়ার দণ্ডবিধির ১৯১ ধারা প্রযোজ্য হতে পারে কি না; এ ধারায় মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। ইউস্রিল বলেন, মূল্যায়নটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। উদ্দেশ্য কী ছিল, অভিযান পরিচালনার নির্দেশ কে দিয়েছিল এবং তথ্য কীভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল, তা তদন্তকারীরা তখনও খতিয়ে দেখছিলেন।

মামলাটি ঘিরে আলোচিত আইনি কাঠামোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পুলিশ প্রবিধান নং ৫, ২০১০ সালের নতুন দণ্ডবিধি এবং ইলেকট্রনিক তথ্য ও লেনদেন আইন। এগুলো আড়িপাতা ও ইলেকট্রনিক কার্যক্রমের নিয়ম নির্ধারণ করে। পুলিশের আড়িপাতার ক্ষমতা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োগ করতে হয়; তদন্তকারীদের অভিযোগ, সেই প্রক্রিয়া পাশ কাটানো হয়েছে।

কারা লক্ষ্যবস্তু ছিলেন, কারা জবাব চাইছেন

আসেপ কথিত লক্ষ্যবস্তুর বিস্তৃত তালিকা তুলে ধরেন: প্রেসিডেন্ট, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমের ব্যক্তিত্ব, নাগরিক সমাজের সংগঠন, বেসরকারি সংস্থা এবং ব্যবসায়ীরা। ইউস্রিল বলেন, তিনি শুনেছেন কয়েকজন মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদও এর শিকার হয়েছেন, তবে মন্ত্রীদের নাম জানাতে পারেননি।

ভাইস প্রেসিডেন্ট গিবরান রাকাবুমিং রাকাও লক্ষ্যবস্তু ছিলেন কি না, তা-ও তিনি জানেন না বলে ইউস্রিল জানান। যাঁদের যোগাযোগে কথিত আড়িপাতা হয়েছে, তাঁদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা পুলিশ প্রকাশ করেনি। আসেপের ভাষ্য অনুযায়ী, এসইউ নামে শনাক্ত এক ব্যক্তিকে তখনও সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষের প্রতি নজরদারির লক্ষ্যবস্তুদের পরিচয় প্রকাশের আহ্বান জানায়। সংগঠনটির যুক্তি, জনগণের তা জানার অধিকার রয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতে নজরদারি ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করে তারা:

এই কেলেঙ্কারিকে যদি বিনা বাধায় চলতে দেওয়া হয়, তবে বিরোধীদের বশে রাখতে ব্যবহৃত গোপন পুলিশি ব্যবস্থার পথ তৈরি হতে পারে।

সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে কথিত আড়িপাতা সূত্রের সঙ্গে গোপন কথোপকথনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নাগরিক সমাজের সংগঠন ও ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত আলোচনা ও সংবেদনশীল পরিকল্পনার গোপনীয়তা নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। কথিত লক্ষ্যবস্তুর বিস্তৃতি তদন্তটিকে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

সেনা মোতায়েনে অনিশ্চয়তার আরেকটি স্তর

নজরদারি তদন্তের মধ্যে জাকার্তা ও এর আশপাশে সদস্য মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনী। নৌবাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল তুংগুল এম. হান বলেন, মোতায়েনের উদ্দেশ্য জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং রাজধানীর কাছে সামরিক মহড়ার প্রস্তুতি। সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল মুহাম্মদ নাস সেনা চলাচলকে নিয়মিত প্রক্রিয়া বলে বর্ণনা করেন।

প্রকাশ্যে জানানো সংখ্যাগুলোর মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। নৌবাহিনীর অপারেশনবিষয়ক সহকারী ভাইস অ্যাডমিরাল ইয়ায়ান সোফিয়ান বলেন, মোতায়েনে ২০,৯৮০ জন সদস্য অংশ নেন এবং আরও ১৩,১৪০ জনকে প্রস্তুত রাখা হয়। অন্যদিকে প্রচারিত এক অভ্যন্তরীণ সামরিক পরিকল্পনায় ২০,৯৮০ জনকে চার ধাপের পুরো মোতায়েনের মোট সংখ্যা বলা হয়েছে: ২,১০০ জন ইতিমধ্যে জাকার্তায়, ৫,৭৪০ জনের সেখানে পৌঁছানোর কথা এবং ১৩,১৪০ জন নিজ নিজ ঘাঁটিতে প্রস্তুত থাকবেন।

অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনার হিসাব অনুযায়ী, ৭,৮৪০ জন জাকার্তায় থাকবেন বা সেখানে পৌঁছাবেন; আর বড় দলটি অন্যত্র প্রস্তুত থাকবে। নৌবাহিনী ও মেরিন ইউনিট, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং জাভা ও লাম্পুংয়ের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সদস্য নেওয়া হয়। পরিবহনের জন্য কেআরআই মাকাসার ও কেআরআই ড. সোহরসো জাহাজ ব্যবহারের কথা ছিল; অভিযান জাকার্তা সামরিক কমান্ডের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হওয়ার কথা।

মোতায়েনের সঙ্গে আড়িপাতার তদন্তের কোনো যোগসূত্র কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি। মোতায়েনের নির্দেশটি ২ নভেম্বরের, সন্দেহভাজনদের নাম প্রকাশের এক দিন আগে।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক সানা জাফরি বলেন, লিস্তিয়োকে ঘিরে সামরিক বাহিনী ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনার আশঙ্কা থেকে এ মোতায়েন হয়ে থাকতে পারে। তিনি অনিচ্ছাকৃত উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগে প্রেসিডেন্ট সামরিক বাহিনীর ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে পারেন। সামরিক বিশ্লেষক আরিস সান্তোসোর মতে, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিক্ষোভ বেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে মেরিন সদস্যদের উপস্থিতি হতে পারে।

নিরাপদ যোগাযোগের দাবি ব্যবসায়ী নেতাদের

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বাণিজ্যিক তথ্যের নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়। গোপন বার্তায় বিনিয়োগ পরিকল্পনা, লেনদেনের বিবরণ ও ব্যবসায়িক কৌশল থাকতে পারে, যা কোম্পানিগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে হয়।

ইন্দোনেশিয়ার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, কাদিন নামে পরিচিত, এর উপসভাপতি এবং গোলকার পার্টির আইনপ্রণেতা এরউইন আকসা প্রমাণভিত্তিক তদন্তের আহ্বান জানান। বাণিজ্যিক উদ্বেগ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন:

বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপদ তথ্য, গোপন যোগাযোগ এবং আইনি নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

ইন্দোনেশিয়ায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডোনা প্রিয়াদি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অনুমানযোগ্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও আইনের শাসন বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাস্তবিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা বলার সময় এখনও আসেনি। তবে অভিযোগগুলো কর্তৃপক্ষ কীভাবে সামলায়, তা জনসাধারণের আস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রাসেতিয়ো বলেন, আইনের আওতায় নিরপেক্ষ তদন্ত করতে এবং কোনো তথ্য গোপন না রাখতে প্রাবোও জাতীয় পুলিশ প্রধান জেনারেল সুয়ুদি আরিও সেতোকে নির্দেশ দিয়েছেন। সুয়ুদি প্রেসিডেন্টকে মামলাটি সম্পর্কে জানিয়েছিলেন। আইনি ও নিরাপত্তাবিষয়ক বিষয় তদারক করা পার্লামেন্টের কমিশন ৩-ও তদন্তে সমর্থন দিয়েছে।

বাজারের চাপের মধ্যে কেলেঙ্কারি

তদন্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার সময় ইন্দোনেশিয়ার আর্থিক বাজার আগে থেকেই চাপে ছিল। ৩ নভেম্বর বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিট ৫৭৫ বিলিয়ন রুপিয়ার শেয়ার বিক্রি করেন; আগের দিন এ অঙ্ক ছিল ১১২.৫ বিলিয়ন রুপিয়া। নিট বিক্রি বলতে কেনার চেয়ে বিক্রির পরিমাণ বেশি হওয়াকে বোঝায়; হিসাব অনুযায়ী, নিট অর্থপ্রবাহ আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৫.১ গুণে পৌঁছায়।

সেদিন আইডিএক্স কম্পোজিট সূচক ৩.৭৮ শতাংশ কমে ৪,৯০৪.৩-এ দাঁড়ায়। ৪ নভেম্বর সূচক আরও ০.৯৭ শতাংশ কমে শুরু হলেও পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪,৯১৯.৮-এ বন্ধ হয়, যা আগের দিনের সমাপনী অবস্থানের চেয়ে প্রায় ০.৩২ শতাংশ বেশি।

স্যামুয়েল সিকিউরিটিজ ইন্দোনেশিয়ার গবেষণাবিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হ্যারি সু বলেন, নজরদারির অভিযোগসহ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বাজারের উদ্বেগ বাড়ছে। তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও এতে যুক্ত হয়েছে। মিরায়ে সিকিউরিটিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ রুলি আরিয়া উইসনুব্রোতোও সূচক নির্ধারক প্রতিষ্ঠান এমএসসিআইয়ের পর্যালোচনাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি এবং ইন্দোনেশিয়ার শেয়ারবাজার নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন।

বিনিয়োগকারীরা একই সঙ্গে কয়েকটি চাপের বিষয় বিবেচনা করছিলেন: রুপিয়ার দরপতন, সরকারি নীতি নিয়ে উদ্বেগ, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ মুনাফা এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। আঞ্চলিক বাজারও পড়ে যায়। ৪ নভেম্বরের লেনদেনে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৪.৫ শতাংশ কমে এবং জাপান বাদে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারের এমএসসিআই সূচক ১.৯ শতাংশ নেমে যায়।

রাজনৈতিক চাপ ও স্বচ্ছতার দাবি

খাদ্যপণ্যের দাম, তাঁর বিনা মূল্যের খাবার ও গ্রাম সমবায় কর্মসূচি এবং ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনঅসন্তোষের মধ্যে তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন প্রাবোও। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও জনসমর্থন কমে যাওয়ায় ক্ষমতায় দ্বিতীয় বছরে তাঁর ওপর চাপ বেড়েছে।

লিস্তিয়োকে সাবেক প্রেসিডেন্ট উইদোদোর ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হতো; প্রাবোওর সঙ্গে উইদোদোর সম্পর্ক এখন টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। উইদোদোর ছেলে ভাইস প্রেসিডেন্ট গিবরানকে তাঁর স্কুলের সনদ বাতিল করে আদালতের রায় দেওয়ার পর পদ থেকে সরানোর নতুন দাবিও উঠেছে। নজরদারির অভিযোগ তদন্তের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে এসব বিরোধ।

বিজ্ঞাপন

গেরিন্দ্র পার্টির মহাসচিব সুগিওনো কেলেঙ্কারিটিকে সরকারের ভেতরের অবাধ্যতা বলে বর্ণনা করেন এবং জানান, প্রাবোওর দল অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইউধোয়োনো রাজনৈতিক আচরণে সংযমের আহ্বান জানান।

৪ নভেম্বর প্রকাশিত এক বার্তায় ইউধোয়োনো প্রাবোওকে আহ্বান জানান:

"আমাদের রাজনীতিতে শালীনতা ফিরিয়ে আনুন"।

ইনস্টিটিউট ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের পুলিশ বিশ্লেষক বামবাং রুকমিন্তো তদন্তকারীদের কাছে জানতে চান, আড়ি পেতে সংগ্রহ করা তথ্য কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল এবং কারা তা পেতে আগ্রহী, তা শনাক্ত করতে। এই দাবি মামলার মূল উদ্বেগগুলোকে একসূত্রে যুক্ত করে: প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা, অন্য কথিত লক্ষ্যবস্তুর গোপনীয়তা এবং পুলিশের নজরদারির ক্ষমতা ব্যবহারের জবাবদিহি।

মূল বিষয়গুলো

  • ৪ নভেম্বর ২০২৬-এ লিস্তিয়ো সিগিত প্রাবোওকে বরখাস্ত করে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আরিয়ো উইন্দুতো মোকে ভারপ্রাপ্ত কেএসপি প্রধান নিয়োগ করেন প্রাবোও।
  • বেআইনি আড়িপাতা, ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণ মুছে ফেলার অভিযোগে পুলিশের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সন্দেহভাজন করা হয়েছে।
  • কথিত নজরদারি ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলে এবং প্রেসিডেন্টসহ সরকার, রাজনীতি, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করে।
  • কর্মকর্তারা সম্ভাব্য রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন; তবে উদ্দেশ্য ও আড়ি পেতে সংগ্রহ করা তথ্যের সম্ভাব্য ব্যবহার তদন্তাধীন ছিল।
  • নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে সামরিক বাহিনী জাকার্তার আশপাশে সেনা চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে; প্রকাশিত মোতায়েনের পরিসংখ্যানে ভিন্ন মোট সংখ্যা দেওয়া হয়েছে।
  • ইন্দোনেশিয়ার বাজারে চাপ অব্যাহত থাকার মধ্যে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো নিরাপদ যোগাযোগ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে