নির্বাচন কমিশনের তারিখ ঘোষণা, বাজেট ১৭৪.৯৪ মিলিয়ন রিঙ্গিত
মালয়েশিয়ার বৃহত্তম রাজ্য আইনসভা সরাওয়াকে ৮২টি আসনের প্রতিনিধি নির্বাচনে ২০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮১ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নিতে পারবেন। রাজ্যটির ১৩তম নির্বাচন হবে ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর। নির্বাচন কমিশন (ইসি) মনোনয়নপত্র জমার তারিখ ২৮ নভেম্বর এবং আগাম ভোটের তারিখ ৮ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে।
সূচিপত্র
- নির্বাচন কমিশনের তারিখ ঘোষণা, বাজেট ১৭৪.৯৪ মিলিয়ন রিঙ্গিত
- বিধানসভা ভেঙে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত
- কারা ভোট দেওয়ার যোগ্য?
- মনোনয়নের আগেই ডাকযোগে ভোটের আবেদনের সময়সীমা
- হাজারো ভোটকক্ষ ও নির্বাচনী কর্মী
- ভোটার উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে পরিচয়পত্র স্ক্যান
- বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিপিএস, বিরোধী শিবিরে পরিবর্তন
- সরাওয়াকের অর্থনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
- পাকাতান হারাপানের ধাক্কার পর আরেক রাজ্য নির্বাচন
- মূল বিষয়গুলো
নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষ বৈঠকের পর ৬ নভেম্বর এই সময়সূচি ঘোষণা করেন ইসি চেয়ারম্যান রামলান হারুন। কমিশনের হিসাবে, নির্বাচনে ব্যয় হবে ১৭৪.৯৪ মিলিয়ন রিঙ্গিত এবং দায়িত্ব পালন করবেন ৪০ হাজার ৫০৫ জন নির্বাচনী কর্মী। রাজ্যজুড়ে থাকবে ২ হাজার ২৭টি ভোটকেন্দ্র ও ৪ হাজার ৫৮৮টি ভোটকক্ষ।
প্রিমিয়ার আবাং জোহারি ওপেংয়ের জোট গাবুঙ্গান পার্টি সারাওয়াক (জিপিএস) ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ৭৬টি আসনে জয়ের পর আরেকটি ম্যান্ডেট চাইছে। তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণসহ অর্থনীতির ওপর আরও বেশি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সরাওয়াকের প্রচেষ্টা এবারের নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ভোটকেন্দ্রে প্রযুক্তির ব্যবহারও আরও বাড়বে। ৮২টি আসনের সব ভোটকক্ষে ভোটার উপস্থিতি নথিবদ্ধ করতে ইসি অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন ভোটার অ্যাটেনড্যান্স ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে। এতে পরিচয়পত্র স্ক্যান করে উপস্থিতি নথিবদ্ধ করা হবে, তবে প্রচলিত ভোটদান পদ্ধতি অপরিবর্তিত থাকবে।
বিধানসভা ভেঙে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত
আবাং জোহারি ২৩ অক্টোবর বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন, যা ২৬ অক্টোবর কার্যকর হয়। বিধানসভার মেয়াদ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। সরাওয়াকের রাজ্য সংবিধানের ২১(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। ১২ ডিসেম্বরের ভোট সেই সময়সীমার মধ্যেই পড়ছে।
নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের আগে বিধানসভার স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত হয় ইসি। রামলান জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা নির্বাচনী পরোয়ানার তারিখ ৬ নভেম্বর। কমিশন ১৪ দিনের নির্বাচনী প্রচারপর্ব ঘোষণা করেছে।
- ২৩ অক্টোবর: আবাং জোহারি বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
- ২৬ অক্টোবর: বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় এবং ডাকযোগে ভোটের আবেদন শুরু হয়।
- ৬ নভেম্বর: ইসি নির্বাচনী সময়সূচি ঘোষণা করে এবং নির্বাচনী পরোয়ানার তারিখ নির্ধারণ করে।
- ২০ নভেম্বর: ১বি ও ১সি শ্রেণির ডাকযোগে ভোটের আবেদনের শেষ দিন।
- ২৫ নভেম্বর: ১এ শ্রেণির ডাকযোগে ভোটের আবেদনের শেষ দিন।
- ২৮ নভেম্বর: প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।
- ৮ ডিসেম্বর: আগাম ভোটগ্রহণ হবে।
- ১২ ডিসেম্বর: সাধারণ ভোটগ্রহণ হবে।
কারা ভোট দেওয়ার যোগ্য?
ইসি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের সম্পূরক ভোটার তালিকাসহ ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ করা ভোটার তালিকা ব্যবহার করবে। ভোটার তালিকা হলো ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ব্যক্তিদের সরকারি তালিকা; নির্বাচনে যোগ্যতা যাচাইয়ের ভিত্তি হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।
নিবন্ধিত ২০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮১ ভোটারের মধ্যে ২০ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৩ জন সাধারণ ভোটার। আরও ১৩ হাজার ৫৭৫ জন সামরিক সদস্য ও তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী। এ ছাড়া ১০ হাজার ৮৩৩ জন পুলিশ ও জেনারেল অপারেশনস ফোর্সের সদস্য এবং তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী। জেনারেল অপারেশনস ফোর্স পুলিশের একটি অংশ।
মোট ভোটারের প্রায় ৯৮.৮ শতাংশ সাধারণ ভোটার। তালিকাভুক্ত সামরিক ও পুলিশ—এই দুই শ্রেণির ভোটার মিলিয়ে ২৪ হাজার ৪০৮ জন, যা মোট ভোটারের প্রায় ১.২ শতাংশ। ইসির দেওয়া হিসাব থেকে এই হার নির্ণয় করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, নির্বাচনের ব্যবস্থাপনায় সাধারণ ভোটগ্রহণই সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে থাকবে।
নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ভোট শুরুর আগে মোট ভোটারসংখ্যা নির্দেশ করে। তবে প্রকৃতপক্ষে কতজন ভোট দেবেন, তা নির্ভর করবে ভোটার উপস্থিতির ওপর।
মনোনয়নের আগেই ডাকযোগে ভোটের আবেদনের সময়সীমা
দেশের ভেতর ও বিদেশের সব শ্রেণির ভোটারের জন্য ডাকযোগে ভোটের আবেদন ২৬ অক্টোবর শুরু হয়েছে। আবেদনের সময়সীমা মনোনয়নপর্বের আগেই শেষ হবে। তাই এ পদ্ধতিতে ভোট দিতে ইচ্ছুক যোগ্য ভোটারদের জন্য ২০ ও ২৫ নভেম্বর এখন সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তারিখ।
১এ শ্রেণির আবেদনের শেষ দিন ২৫ নভেম্বর। এই শ্রেণির আওতায় রয়েছেন নির্বাচনী কর্মী, ইসি সদস্য ও কর্মকর্তা, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং সংবাদমাধ্যমকর্মীরা। দায়িত্ব বা পরিস্থিতির কারণে যাঁরা অনুমোদিত কোনো শ্রেণিতে পড়েন, তাঁদের জন্য পৃথক ব্যালট প্রক্রিয়ায় ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেয় ডাকযোগে ভোট।
বিদেশে বসবাসরত মালয়েশিয়ার নাগরিকদের জন্য ১বি শ্রেণির আবেদনের শেষ দিন ২০ নভেম্বর। যোগ্য সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ১সি শ্রেণির আবেদনেরও একই সময়সীমা।
এগুলো আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা। পূরণ করা ডাকযোগে ভোটের ব্যালট ফেরত পাঠানোর শেষ তারিখ ইসির ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি। পাঠানোর ব্যবস্থা করতে আবেদনকারীদের এই তথ্য জানা দরকার হবে। বিদেশে থাকা মালয়েশীয়দের জন্য ২০ নভেম্বরের আবেদনসীমাই ঘোষিত সময়সূচির প্রথম নির্দিষ্ট তারিখ, যার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে।
হাজারো ভোটকক্ষ ও নির্বাচনী কর্মী
ইসির পরিকল্পনায় রয়েছে ১ হাজার ৯৪৫টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র, যেখানে থাকবে ৪ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ। একটি কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা হলো ভোটকক্ষ। এর ফলে একক সারির পরিবর্তে একাধিক দলে সমান্তরালভাবে ভোটারদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়।
আগাম ভোট হবে ৮২টি কেন্দ্রে, যেখানে থাকবে ১০৬টি ভোটকক্ষ। সাধারণ ও আগাম ভোটের কেন্দ্র মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ২৭টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮৮টি। মনোনয়ন গ্রহণ ও আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট গণনার জন্য ৯৭টি কেন্দ্রের কথাও জানিয়েছে কমিশন।
রামলান জানান, ৮২ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে; তাঁদের সহায়তায় থাকবেন ৩০৫ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব তাঁদের। মনোনয়ন থেকে ভোট গণনা এবং ফল ঘোষণা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার তদারকি করেন তাঁরা। ৪০ হাজার ৫০৫ জন নির্বাচনী কর্মী নিয়ে গঠিত বৃহত্তর কার্যক্রমের অংশ তাঁরা।
আনুষ্ঠানিক প্রচারপর্বে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য কমিশন ৮২টি নির্বাচনী প্রচার তদারকি দল গঠন করবে। নির্বাচন ঘোষণার সময় রামলান দলগুলোর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন:
“আনুষ্ঠানিক প্রচারপর্বে নির্বাচনী প্রচারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য ইসি ৮২টি নির্বাচনী প্রচার তদারকি দল গঠন করবে,” তিনি বলেন।
প্রতিটি দলে রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতিনিধি থাকবেন। ১৭৪.৯৪ মিলিয়ন রিঙ্গিতের প্রাক্কলিত বাজেটে নির্বাচনী কার্যক্রমের ব্যয় ধরা হয়েছে, তবে ঘোষণায় ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব দেওয়া হয়নি।
ভোটার উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে পরিচয়পত্র স্ক্যান
সরাওয়াকের ৮২টি আসনের সব ভোটকক্ষে অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন ভোটার অ্যাটেনড্যান্স বা ওসিআরভিএ ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক ব্যবহার বাড়াবে ইসি। অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন এমন প্রযুক্তি, যা ছবি বা স্ক্যান থেকে মুদ্রিত তথ্য পড়ে কম্পিউটারের ব্যবহারযোগ্য তথ্যে রূপান্তর করে।
ভোটকেন্দ্রে পরিচয়পত্র স্ক্যান করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার উপস্থিতি নথিভুক্ত করবে এ ব্যবস্থা। কর্মকর্তারা যখন ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করে তাঁর আগমন নথিবদ্ধ করবেন, তখন যাচাইয়ের ধাপটি দ্রুত সম্পন্ন করাই এর পরিকল্পিত সুবিধা।
পরীক্ষামূলক ব্যবস্থার বিস্তৃতি ব্যাখ্যা করে রামলান বলেন:
“সরাওয়াকের ৮২টি রাজ্য আসনের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সব ভোটকক্ষে এটি ব্যবহার করা হবে,” তিনি বলেন।
ইসি জানিয়েছে, প্রচলিত ভোটদান পদ্ধতি বহাল থাকবে। ভোটারদের ক্ষেত্রে ঘোষিত পরিবর্তনটি শুধু উপস্থিতি যাচাইয়ের ধাপে: স্ক্যান করে পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য নেওয়া হবে, তবে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া আগের নিয়মেই চলবে।
বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিপিএস, বিরোধী শিবিরে পরিবর্তন
২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জিপিএস বিধানসভার ৮২টি আসনের মধ্যে ৭৬টিতে জয়ী হয়। পার্টি সারাওয়াক বারসাতু (পিএসবি) চারটি এবং ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন পার্টি (ডিএপি) দুটি আসন পায়। ফলে জিপিএস ৮২টি আসনের ৭৬টিতে জিতে প্রায় ৯২.৭ শতাংশ আসন পেয়েছিল।
২০২৪ সালে পিএসবি বিলুপ্ত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিবর্তন এসেছে। দলটির সাবেক তিনজন বিধায়ক জিপিএসের শরিক প্রগ্রেসিভ ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (পিডিপি) যোগ দেন। বাতু লিনতাংয়ের প্রতিনিধি সি চি হাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হন এবং আবাং জোহারির প্রতি সমর্থন জানান।
জিপিএস গঠিত হয়েছে পার্টি পেসাকা বুমিপুতেরা বারসাতু (পিবিবি), পার্টি রাকিয়াত বারসাতু সারাওয়াক (এসইউপিপি), পার্টি রাকিয়াত সারাওয়াক (পিআরএস) এবং পিডিপিকে নিয়ে। জোটের চেয়ারম্যান ও প্রিমিয়ার—দুই দায়িত্বেই থাকা আবাং জোহারি বলেছেন, জিপিএস ৮২টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের জোট পাকাতান হারাপানের (পিএইচ) সদস্য ডিএপি কুচিং ও বাউ এলাকার সাতটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে এবং অষ্টম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। ২৮ নভেম্বর মনোনয়নের সময় চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নির্ধারিত হবে।
ঘোষিত পরিকল্পনা থেকে নির্বাচনী প্রচারের পরিধিতে পার্থক্য স্পষ্ট। জিপিএস পুরো সরাওয়াকজুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়, আর ডিএপি অল্প কয়েকটি আসনে লড়ার কথা জানিয়েছে। ২০২১ সালে ডিএপির চেয়ে বেশি বিরোধী আসন পাওয়া পিএসবি এবার আর দল হিসেবে নির্বাচনে থাকছে না।
সরাওয়াকের অর্থনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
আরও বেশি স্বায়ত্তশাসনের জন্য সরাওয়াকের প্রচেষ্টায় নির্বাচনের বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। একটি বিমান সংস্থা অধিগ্রহণ এবং একটি বন্দর ও একটি ব্যাংকের দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে রাজ্য সরকার নিজস্ব বিষয়ের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।
এই উদ্যোগগুলো অর্থনীতির বাস্তব ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত: পরিবহন যোগাযোগ, পণ্য চলাচল ও আর্থিক সেবা। মালয়েশীয় ফেডারেশনের মধ্যে আরও বড় ভূমিকার দাবি জানাতে গিয়ে সরকার এসব বাণিজ্যিক সম্পদের ওপর সরাওয়াকের নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে।
তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণও আরেকটি বড় বিষয়। সরাওয়াক সরকারের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন পেট্রোলিয়াম সারাওয়াক বিএইচডি (পেট্রোস)-এর মাধ্যমে নিজেদের মজুত সম্পদের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রক কর্তৃত্ব চাইছে রাজ্যটি।
পেট্রোসের ভূমিকা তেল ও গ্যাসসম্পদ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় জাতীয় তেল কোম্পানি পেট্রোনাসের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করছে। সহজ কথায়, সরাওয়াকে মূল্যবান তেল ও গ্যাস কার্যক্রমের নিয়ম কারা নির্ধারণ করবে, এ বিরোধ তা নিয়েই।
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারকে যাঁরা তদারকি করবেন, নির্বাচনে সেই প্রতিনিধিরাই নির্বাচিত হবেন। সরাওয়াকের অর্থনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলার মধ্যেই জিপিএস ভোটারদের কাছে নতুন ম্যান্ডেট চাইছে।
পাকাতান হারাপানের ধাক্কার পর আরেক রাজ্য নির্বাচন
আনোয়ারের পিএইচ জোটের জন্য কঠিন ফল বয়ে আনা কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনের পর সরাওয়াকে ভোট হচ্ছে। সাবাহে ভোট হয় ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর, এরপর জোহরে ২০২৬ সালের ১১ জুলাই এবং নেগেরি সেম্বিলানে ১ আগস্ট। সরাওয়াকের মনোনয়নপর্বের আগে ১৪ নভেম্বর মালাকায় ভোট হওয়ার কথা।
সাবাহে পিএইচ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২২টি আসনের মধ্যে একটিতে জয়ী হয়। তাদের নির্বাচনী শরিক গাবুঙ্গান রাকিয়াত সাবাহ (জিআরএস) সবচেয়ে বেশি আসন পায়। এতে জিআরএস চেয়ারম্যান হাজিজি নুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন।
জোহরে ফেডারেল সরকারের পিএইচ-শরিক বারিসান ন্যাশনাল (বিএন) ৫৬টি আসনের মধ্যে ৪৮টিতে জেতে; পিএইচ পায় আটটি। নেগেরি সেম্বিলানে বিএন ও তাদের নির্বাচনী শরিক পেরিকাতান ন্যাশনাল মিলে ৩৬টির মধ্যে ২৫টি আসন পায়, আর পিএইচ পায় ১১টি।
নেগেরি সেম্বিলানে আগের নির্বাচনে পিএইচের আসন ছিল ১৭টি, এবার তা কমে ১১ হয়েছে; অর্থাৎ ছয়টি আসন হারিয়েছে তারা। সরাওয়াকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আলাদা, কারণ সেখানে জিপিএসের অবস্থান আগে থেকেই শক্তিশালী এবং ডিএপি সাতটি, সম্ভাব্যভাবে আটটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
সরাওয়াকের ভোটারদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত স্থানীয়: তাঁদের আসনের প্রতিনিধিত্ব কে করবেন এবং পরবর্তী রাজ্য সরকার কোন রাজনৈতিক শক্তি গঠন করবে। পরবর্তী ধাপ হলো ডাকযোগে ভোটের আবেদনের সময়সীমা, ২৮ নভেম্বর মনোনয়ন এবং ডিসেম্বরে ভোটগ্রহণ।
মূল বিষয়গুলো
- সরাওয়াকে ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভোট হবে; মনোনয়ন ২৮ নভেম্বর এবং আগাম ভোট ৮ ডিসেম্বর।
- ইসির তালিকায় ৮২টি রাজ্য আসনে যোগ্য ভোটার ২০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮১ জন।
- ১বি ও ১সি শ্রেণির ডাকযোগে ভোটের আবেদনের শেষ দিন ২০ নভেম্বর; ১এ শ্রেণির ২৫ নভেম্বর।
- নির্বাচনে থাকবে ২ হাজার ২৭টি ভোটকেন্দ্র ও ৪ হাজার ৫৮৮টি ভোটকক্ষ; প্রাক্কলিত বাজেট ১৭৪.৯৪ মিলিয়ন রিঙ্গিত।
- ভোটার উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে পরিচয়পত্র স্ক্যানের ব্যবস্থা সব ভোটকক্ষে চালু হবে।
- ২০২১ সালে ৭৬টি আসনে জয়ী জিপিএস এবার ৮২টি আসনেই লড়ার পরিকল্পনা করেছে; ডিএপি সাতটি, সম্ভবত আটটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
- পেট্রোসের মাধ্যমে তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণসহ অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বাড়াতে সরাওয়াকের প্রচেষ্টা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অংশ।






