বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের জন্য অনুদান ৮৪৩টি কম
দক্ষিণ কোরিয়া একটি বড় মৌলিক গবেষণা কর্মসূচিতে নতুন অনুদানের সংখ্যা ২,৪৩৮ থেকে কমিয়ে ১,৫৯৫ করার পরিকল্পনা করছে। কমবে ৩৪.৬ শতাংশ। অথচ সরকার গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে মোট ব্যয় ১১.২ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ৮৪৩টি অনুদান কমে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গবেষণাগার যে অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায় এবং গবেষকদের বেতন দেয়, সেই সুযোগ সংকুচিত হবে।
সূচিপত্র
- বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের জন্য অনুদান ৮৪৩টি কম
- নতুন অনুদান কোথায় কমবে
- বড় বাজেটেও কেন নতুন প্রকল্প কম অর্থ পেতে পারে
- গবেষণাগারের বাজেটের সঙ্গে কর্মসংস্থানের বাজেটও জড়িত
- আইবিএসের বরাদ্দও আলাদাভাবে কমছে
- এআই খাতে বরাদ্দ বাড়ছে অনেক দ্রুত
- আগের কাটছাঁট এখনও বর্তমান উদ্বেগের কারণ
- সংসদে এখনও কী পরিবর্তন হতে পারে
- মূল বিষয়গুলো
প্রস্তাবিত কাটছাঁটের আওতায় রয়েছে মূল গবেষণা কর্মসূচির এ, বি ও সি—এই তিনটি ধরন। এসব অনুদানে বছরে ১০ কোটি থেকে ৩০ কোটি ওন দেওয়া হয়। অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণায় বরাদ্দ ৬৯.১ শতাংশ এবং পারমাণবিক শক্তিসহ ভবিষ্যৎ জ্বালানি গবেষণায় ৩৭.৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
বিজ্ঞান ও আইসিটি মন্ত্রণালয় বলছে, মৌলিক গবেষণার বাজেটের বড় অংশ আগেই অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর জন্য বরাদ্দ। ওই প্রতিশ্রুত অর্থ সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে নতুন অনুদানের জন্য অর্থ কমে যাচ্ছে। এর মধ্যে এমন গবেষকদের আবেদনও রয়েছে, যাঁদের বর্তমান অনুদানের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
এগুলো সরকারের একটি প্রস্তাবের হিসাব; সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনায় বরাদ্দ পরিবর্তন হতে পারে। অর্থবছর ও মোট বরাদ্দের অঙ্ক নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে: প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের জাতীয় সংসদে দেওয়া ভাষণে ৩৯.৫ ট্রিলিয়ন ওনের প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে, যা ৩৫.৫ ট্রিলিয়ন ওন থেকে বেশি; কিন্তু ঐতিহাসিক বাজেটের একটি ধারাবাহিক হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের বরাদ্দ ৩৫.৫ ট্রিলিয়ন ওন। ২০২৬ সালের ২ নভেম্বরের প্রতিবেদনে পরের বছরের অনুদানের কথা বলা হয়েছে। উপস্থাপিত হিসাবগুলোতে প্রস্তাবিত অনুদান কমানোর অঙ্ক একই রয়েছে।
নতুন অনুদান কোথায় কমবে
মূল গবেষণার তিনটি বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ছোট এ ধরনে নতুন অনুদানের সংখ্যা ১,২০৯ থেকে কমে ৮২৫ হবে। কমবে ৩৮৪টি, বা ৩১.৮ শতাংশ। প্রতিটি অনুদানে বছরে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ওন দেওয়া হয়।
বিতে বছরে ২০ কোটি ওন দেওয়া হয়। এ ধরনে নতুন অনুদান কমে ৬৭০টি হবে, যা ৩৭.৪ শতাংশ কম। সি ধরনে বছরে ৩০ কোটি ওন দেওয়া হয়; এ ধরনের অনুদান ৩৭.১ শতাংশ কমবে। ফলে এ ধরনের বড় অনুদানগুলো এ ধরনটির তুলনায় শতাংশের হিসাবে বেশি হারে কমছে।
তিনটি বিভাগ মিলিয়ে পরিকল্পিত নতুন অনুদানের সংখ্যা তুলনার বর্তমান বছরের প্রতি ১০০টির বিপরীতে প্রায় ৬৫টিতে দাঁড়াবে। পরবর্তী প্রকল্পের জন্য অনুদান খুঁজছেন এমন গবেষকদের সুযোগ এতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
মৌলিক গবেষণা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে মূল গবেষণায় প্রকল্পের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের জন্য এটি অর্থায়নের একটি বড় উৎস। মৌলিক গবেষণায় খতিয়ে দেখা হয় বিশ্ব কীভাবে কাজ করে—অনেক সময় কোনো আবিষ্কার ওষুধ, উপাদান বা বাণিজ্যিক প্রযুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা জানার আগেই।
কোনো গবেষণাগারের অনুদানের মেয়াদ শেষ হলে নতুন অনুদান পরীক্ষার পরবর্তী ধাপ চালানো এবং কাজটি যাঁরা জানেন, তাঁদের ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। অনুদান কমলে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিযোগিতা বাড়ে। আবেদনকারীর সংখ্যা ও শেষ পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার হার জানানো হয়নি।
বড় বাজেটেও কেন নতুন প্রকল্প কম অর্থ পেতে পারে
মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় মোট ব্যয় ও নতুন প্রতিশ্রুতির জন্য হাতে থাকা অর্থের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। কয়েক বছর মেয়াদি অনুদানে প্রতিটি বছরেই ব্যয় থাকে। এখন অনুদানের সংখ্যা বা পরিমাণ বাড়ালে ভবিষ্যৎ বাজেটের একটি অংশ আগেই নির্ধারিত হয়ে যায়।
২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ব্যক্তি-পর্যায়ের মৌলিক গবেষণায় নতুন করে নির্বাচিত প্রকল্পের সংখ্যা ছিল ৪,৬২৮টি, যা আগের বছরের তুলনায় ৯১৪টি বেশি। সে হিসাবে আগের মোট সংখ্যা ছিল ৩,৭১৪টি এবং বৃদ্ধি প্রায় ২৪.৬ শতাংশ।
এ ধরনে সহায়তাও বেড়েছে। অনুদানের সর্বোচ্চ মেয়াদ তিন বছর থেকে পাঁচ বছর হয়েছে, আর বছরে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৭ কোটি ওন থেকে বেড়ে ১০ কোটি ওন হয়েছে। এই সর্বোচ্চ অঙ্ক ধরে পুরো মেয়াদের অনুদানের সর্বোচ্চ পরিমাণ ২১ কোটি ওন থেকে বেড়ে ৫০ কোটি ওন হয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলছে, মৌলিক গবেষণার বরাদ্দের বেশির ভাগই বিদ্যমান প্রকল্পের সম্প্রসারিত গোষ্ঠীকে চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যয় হয়েছে। বরাদ্দের ক্ষেত্রে চলমান প্রকল্পের বাজেট সুরক্ষিত রাখার নীতিও গ্রহণ করা হয়েছে। আগে থেকেই অনুদান পাওয়া গবেষকেরা এই সুরক্ষার সুবিধা পাচ্ছেন, আর নতুন অনুদানের আবেদনকারীদের জন্য অর্থের পরিমাণ কমছে।
গবেষণাগারের বাজেটের সঙ্গে কর্মসংস্থানের বাজেটও জড়িত
চুং-আং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের অধ্যাপক ওহ কিয়ং-সু সতর্ক করে বলেছেন, এই কমানোর প্রভাব পড়বে এমন প্রতিষ্ঠিত গবেষকদের ওপর, যাঁরা সাধারণত এ কর্মসূচিতে আবেদন করেন। গবেষণাগারের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে তিনি বলেন:
কোর রিসার্চ এমন একটি কর্মসূচি, যাতে কোরিয়ার বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠিত গবেষক আবেদন করেন। প্রকল্পের সংখ্যা কমলে কিছু গবেষণাগারকে আকার ছোট করতে হওয়া বা সুযোগ হারানোর মতো বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
গবেষণা অনুদানে শুধু যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের খরচই মেটে না। এর মাধ্যমে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও পোস্টডক্টরাল গবেষকদেরও সহায়তা দেওয়া যায়। তাঁরা ডক্টরেট সম্পন্ন করার পরও গবেষণা চালিয়ে যান। অর্থায়ন শেষ হলে গবেষণাগারকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি কর্মীসংখ্যাও কমাতে হতে পারে।
মৌলিক গবেষণার ছোট অনুদানে বছরে ৫ কোটি থেকে ৭ কোটি ওন দেওয়া হয়। ওহের মতে, এ পরিমাণ সহায়তায় অর্থবহ গবেষণা চালু রাখা গবেষণাগারগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পার্থক্যটি উল্লেখযোগ্য: ৫ কোটি ওনের অনুদান মূল গবেষণার এ ধরনের বার্ষিক অর্থায়নের অর্ধেক।
পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ইউ ইন-গওন বলেছেন, এ কর্মসূচির বিকল্প গবেষণাগারগুলোর হাতে খুব কম:
বাস্তবে মূল গবেষণার বিকল্প কোনো কর্মসূচি নেই। তাই প্রকল্পের সংখ্যা কমে যাওয়া খুবই গুরুতর সমস্যা।
ইউ আরও সতর্ক করে বলেছেন, আগের বাজেট কাটছাঁটের ধাক্কা থেকে গবেষণা অঙ্গন এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। যে গবেষণাগারগুলো দল গুছিয়ে নিচ্ছে বা কাজ আবার শুরু করছে, তাদের আরেক দফা বাধার মুখে পড়লে ফল পাওয়ার আগেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ করতে হতে পারে।
আইবিএসের বরাদ্দও আলাদাভাবে কমছে
ইনস্টিটিউট ফর বেসিক সায়েন্স (আইবিএস) এর গবেষণা কেন্দ্রগুলোর পরিচালন বাজেট ১৪৭.৪ বিলিয়ন ওন থেকে কমে ১৩৯.৯ বিলিয়ন ওন হবে। উল্লেখ করা অঙ্ক অনুযায়ী কমবে ৭.৫ বিলিয়ন ওন, বা প্রায় ৫.১ শতাংশ; তবে প্রতিবেদনে হ্রাসের হার ৫.৪ শতাংশ বলা হয়েছে।
কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে মোট বাজেট কমে যাওয়ায় তা আরও বেশি গবেষক দলের মধ্যে ভাগ করতে হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইবিএসের এক কেন্দ্র পরিচালক বলেছেন, কিছু কেন্দ্রের বরাদ্দ প্রায় ২০ শতাংশ কমতে পারে।
বাইরের অনুদান জিতে হারানো প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ আইবিএস কেন্দ্রগুলোর সীমিত। এ কারণে তাদের কর্মী ও গবেষণা পরিকল্পনার জন্য পরিচালন বরাদ্দ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
কেন্দ্র পরিচালক বলেছেন, সবচেয়ে জরুরি উদ্বেগ কর্মীদের বেতন। পোস্টডক্টরাল গবেষক ও শিক্ষার্থীদের পদ চালু রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কতজনের চাকরি বা সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সে হিসাব দেওয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গবেষণা অনুদান ও আইবিএসের পরিচালন বরাদ্দ অর্থায়নের ভিন্ন ব্যবস্থা। তবে দুটিই জাতীয় বাজেটের সিদ্ধান্তকে সরাসরি গবেষক দলগুলোর কর্মী ধরে রাখা ও কাজ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করে।
এআই খাতে বরাদ্দ বাড়ছে অনেক দ্রুত
মৌলিক গবেষণা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ ৩.৬ ট্রিলিয়ন ওন, যা ৫.৯ শতাংশ বেশি। বাজেটের হিসাবে বড় গবেষণা বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে বৃদ্ধির হার এটিই সবচেয়ে কম।
এআই গবেষণায় ব্যয় প্রায় ২.৪ ট্রিলিয়ন ওন থেকে বেড়ে ৪.১ ট্রিলিয়ন ওনে দাঁড়াবে বলে জানানো হয়েছে; বৃদ্ধির হার ৬৯.১ শতাংশ। এআই ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের বৃহত্তর প্যাকেজের পরিমাণ ২১.৩ ট্রিলিয়ন ওন। এতে সেমিকন্ডাক্টর, ফিজিক্যাল এআই ও এআই ডেটা সেন্টার রয়েছে। ফিজিক্যাল এআই বলতে রোবটের মতো ভৌত জগতের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে এমন ব্যবস্থা বোঝায়।
২১.৩ ট্রিলিয়ন ওনের প্যাকেজে এআই গবেষণা বরাদ্দের চেয়ে বিস্তৃত পরিসরের বিনিয়োগ রয়েছে। এ দুই খাত আলাদা করে দেখলে বোঝা যায়, সরকারের প্রযুক্তি খাতে মোট বরাদ্দের অঙ্ক নির্দিষ্টভাবে এআই গবেষণার জন্য চিহ্নিত অর্থের চেয়ে অনেক বেশি কেন।
উল্লিখিত হারে এআই গবেষণার ব্যয় মৌলিক গবেষণা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ১২ গুণ দ্রুত বাড়বে। ভবিষ্যৎ জ্বালানি গবেষণার বরাদ্দ বাড়বে ছয় গুণেরও বেশি দ্রুত। জাতীয় গবেষণা ব্যয় বাড়লেও মৌলিক গবেষকেরা কেন অর্থায়নের সুযোগ কমে যাওয়ার মুখে পড়তে পারেন, এই তুলনাগুলো তা বুঝতে সাহায্য করে।
আগের কাটছাঁট এখনও বর্তমান উদ্বেগের কারণ
ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা লি জু-হির প্রকাশ করা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের কাটছাঁটের প্রভাব ছিল ব্যাপক। ৩৩,১৫৬টি গবেষণা প্রকল্পের মধ্যে ২৩,১৫৫টির অর্থায়ন মূল পরিকল্পিত অঙ্কের চেয়ে কমানো হয়েছিল। মোট কমানো হয়েছিল ৩.৪৮৪৭ ট্রিলিয়ন ওন।
অর্থাৎ ওই উপাত্তে প্রতি ১০টি প্রকল্পের প্রায় সাতটি পরিকল্পনার চেয়ে কম অর্থ পেয়েছে। মৌলিক গবেষণা প্রকল্পের সংখ্যাও প্রায় ২২,২০০ থেকে কমে ২১,৫০০ হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৭০০টি কমেছে।
বাজেটের ধারাবাহিকতায় আগের সংকোচন ও পরবর্তী বৃদ্ধি দেখা যায়:
- ২০২৩: ঐতিহাসিক হিসাব অনুযায়ী সরকারি গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় ছিল ৩১.১ ট্রিলিয়ন ওন।
- ২০২৪: মোট ব্যয় কমে ২৬.৫ ট্রিলিয়ন ওন হয়, আর হাজারো প্রকল্প পরিকল্পনার চেয়ে কম অর্থ পায়।
- ২০২৫: ঐতিহাসিক হিসাব অনুযায়ী মোট ব্যয় বেড়ে ২৯.৬ ট্রিলিয়ন ওন হয়। বছরের প্রথমার্ধে ব্যক্তি-পর্যায়ের মৌলিক গবেষণায় নতুন করে নির্বাচিত প্রকল্পের সংখ্যা ছিল ৪,৬২৮টি।
- ২০২৬: ঐতিহাসিক হিসাব অনুযায়ী বরাদ্দ ৩৫.৫ ট্রিলিয়ন ওন।
- ২ ডিসেম্বর: বাজেট প্রস্তাব বিবেচনার জন্য জাতীয় সংসদের যে নির্ধারিত সময়সীমার কথা বলা হয়েছে।
২০২৪ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সহায়তা কর্মসূচিকে গবেষণা ও উন্নয়ন হিসাবের শ্রেণি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে বার্ষিক মোট হিসাবের ভিত্তি বদলে গেছে। অর্থায়ন পাওয়া দলগুলোর ওপর বিঘ্নের আরও সরাসরি চিত্র দেয় প্রকল্পের হিসাব: হাজারো দলকে পরিকল্পনার চেয়ে কম অর্থে কাজ চালাতে হয়েছে।
সংসদে এখনও কী পরিবর্তন হতে পারে
জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনায় ব্যয়ের বরাদ্দ এবং নতুন অনুদানের জন্য হাতে থাকা অর্থ—দুটিই বদলানো সম্ভব। প্রস্তাবের দিকে নজর রাখা গবেষকদের জন্য ২ ডিসেম্বর তাই পরবর্তী সিদ্ধান্তের সময়সীমা।
মূল সিদ্ধান্তটি হলো, চলমান প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি পূরণে কত অর্থ রাখা হবে এবং পরবর্তী অনুদানের আবেদনকারী গবেষকদের জন্য কতটা বরাদ্দ থাকবে। মন্ত্রণালয় বিদ্যমান প্রকল্প চালিয়ে যাওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা প্রকল্প শেষ হলে অর্থায়নের শূন্যতা ঠেকাতে পর্যাপ্ত অতিরিক্ত সহায়তা চাইছেন।
গবেষণাগারের ক্ষেত্রে বাস্তব ফল নির্ভর করবে অনুদানের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়, যোগ্যতা এবং পরবর্তী বাছাইপর্বে সাফল্যের ওপর। আইবিএসের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বিষয় হলো, প্রতিটি কেন্দ্র কীভাবে তার পরিচালন বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ ও কর্মীসংখ্যা সমন্বয় করে।
তাই প্রযুক্তি খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবের পাশাপাশি অনেক মৌলিক গবেষকের জন্য সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। চূড়ান্ত বাজেটে এই ভারসাম্য বজায় থাকবে, নাকি নতুন গবেষক দল ও প্রকল্পের জন্য আরও সুযোগ তৈরি হবে, তা নির্ধারণ করবে সংসদের সিদ্ধান্ত।
মূল বিষয়গুলো
- এ, বি ও সি—এই তিন ধরনে নতুন মূল গবেষণা অনুদান ২,৪৩৮ থেকে কমে ১,৫৯৫ হবে, অর্থাৎ ৩৪.৬ শতাংশ কমবে।
- মন্ত্রণালয়ের মতে, চলমান প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি মৌলিক গবেষণার বাজেটের বেশির ভাগ নিয়ে নিচ্ছে; নতুন অনুদানের জন্য অর্থ থাকছে কম।
- মৌলিক গবেষণা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ বাড়বে ৫.৯ শতাংশ, যেখানে এআই গবেষণার বরাদ্দ বাড়বে ৬৯.১ শতাংশ।
- কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়লেও আইবিএসের গবেষণা কেন্দ্রগুলোর পরিচালন বরাদ্দ ১৪৭.৪ বিলিয়ন ওন থেকে কমে ১৩৯.৯ বিলিয়ন ওন হবে।
- গবেষকেরা গবেষণাগারের আকার ছোট হওয়া, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বাধা এবং শিক্ষার্থী ও পোস্টডক্টরাল গবেষকদের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা করছেন।
- সংসদে আলোচনার আগ পর্যন্ত হিসাবগুলো প্রস্তাব হিসেবেই রয়েছে; বাজেটের নির্ধারিত সময়সীমা হিসেবে ২ ডিসেম্বরের কথা বলা হয়েছে।






