সিউলের দুই পরীক্ষায় নজরদারির ঘাটতি প্রকাশ
১২০ জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচটি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সিউল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আবেদনকারীকে ভর্তি পরীক্ষার রচনামূলক অংশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একজন তদারককারী তাঁর অস্বাভাবিক পুরু চশমা দেখে সন্দেহ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিত করেছে, চশমার ফ্রেমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ছিল এবং তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আবেদনকারীকে তিন বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সূচিপত্র
- সিউলের দুই পরীক্ষায় নজরদারির ঘাটতি প্রকাশ
- সিউল বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে চশমা শনাক্ত করে
- তল্লাশির পর চশমা বদল ধরা পড়ে ইয়নসেতে
- ভর্তি বিধিতে আসলে কী বলা আছে
- অক্টোবরের ঘটনাক্রম ও পরবর্তী নির্ধারিত পদক্ষেপ
- জাতীয় নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পৌঁছাবে
- যন্ত্রগুলো কী করতে পারে, আর কী এখনো প্রমাণিত নয়
- আগের শনাক্তকরণ ও ক্যাম্পাসভেদে ভিন্ন পদক্ষেপ
- শনাক্তকরণ ও মূল্যায়ন সংস্কার আলাদা বিতর্ক
- মূল তথ্য
ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ৩ অক্টোবর সকালে, সিউলের দংদেমুন জেলার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানবিষয়ক রচনামূলক পরীক্ষার সময়। এক সপ্তাহ পর, ১০ অক্টোবর, সোদেমুন জেলার ইয়নসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনচন ক্যাম্পাসে গণিতের রচনামূলক পরীক্ষায় আরেক আবেদনকারীকে স্মার্ট চশমা পরা অবস্থায় ধরা হয়।
দুটি ঘটনাই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইয়নসেতে আবেদনকারী সাধারণ চশমা পরে তল্লাশি পার হওয়ার পর পরীক্ষা শুরু হলে ক্যামেরা ও ব্যাটারিযুক্ত চশমা পরে নেন। এই ঘটনাক্রম একটি নির্দিষ্ট দুর্বলতা প্রকাশ করে: পরীক্ষার আগে সরঞ্জাম পরীক্ষা করলেই পরীক্ষার্থী পুরো সময় কী পরে থাকবেন, তা নিশ্চিত হয় না।
এখন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৬ অক্টোবরের মধ্যে স্মার্ট চশমা নিয়ে নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ ভিডিও বিতরণের পরিকল্পনা করেছে। নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও এসব উপকরণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হলো সাধারণ পাওয়ার চশমার মতো দেখতে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক যন্ত্র শনাক্ত করা, একই সঙ্গে নিশ্চিত অসদাচরণ এবং যন্ত্রগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সে বিষয়ে অপ্রমাণিত ধারণার মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা।
সিউল বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে চশমা শনাক্ত করে
পরীক্ষার সময় সিউল বিশ্ববিদ্যালয়ের তদারককারীর নজরে আবেদনকারীর পুরু ফ্রেমটি পড়ে। তিনি ভর্তি দপ্তরের পরীক্ষা সদর দপ্তরকে চশমাটি পরীক্ষা করতে বলেন। কর্মীরা নিশ্চিত করেন, সেটি এআই-সুবিধাযুক্ত স্মার্ট চশমা। এরপরই আবেদনকারীকে পরীক্ষাকক্ষ ছাড়তে বলা হয়।
বিভাগটিতে প্রতি আসনের বিপরীতে ২৪ জন আবেদনকারী ছিলেন; পাঁচটি আসনের জন্য আবেদন করেছিলেন ১২০ জন। এই সংখ্যা ওই বিভাগের প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরে, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। একই ভর্তি প্রক্রিয়ায় অল্প কয়েকটি আসনের জন্য প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন বলে একটি পৃথক মূল্যায়নের সততা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও বোঝা যায়।
পরীক্ষার মৌসুমের আগেই বিশ্ববিদ্যালয় এ ধরনের ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। তারা স্মার্ট চশমা কিনে তদারককারীদের যন্ত্রগুলো চিনতে প্রশিক্ষণ দেয়। এ ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় তল্লাশি ব্যবস্থার বদলে একজন তদারককারী ফ্রেমটি লক্ষ করে এবং নিশ্চিত হওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় চশমাটি শনাক্ত হয়।
প্রাথমিক তল্লাশির পর আবেদনকারী চশমা বদলেছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র যাচাইয়ের সময় তিনি সাধারণ চশমা পরেছিলেন, পরে সেটি বদলান। আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় এমন বদলের সম্ভাবনা বিবেচনা করেছিল। ঘটনার নিশ্চিত মূল তথ্য আরও সীমিত: পরীক্ষার সময় স্মার্ট চশমা শনাক্ত হয় এবং প্রার্থীকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আবেদনকারী চশমাটি পরার কথাও স্বীকার করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
তল্লাশির পর চশমা বদল ধরা পড়ে ইয়নসেতে
ইয়নসের ঘটনাটি ঘটে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও সমন্বিত ধারার গণিতের রচনামূলক পরীক্ষায়, যা ১০ অক্টোবর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়। চশমা পরা আবেদনকারীদের পরীক্ষা শুরুর আগে আলাদাভাবে যাচাই করেন তদারককারীরা, যাতে ফ্রেমগুলো স্মার্ট ডিভাইস কি না তা নির্ধারণ করা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবরণ অনুযায়ী, ওই পর্যায়ে আবেদনকারী সাধারণ চশমা পরে ছিলেন এবং পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর স্মার্ট চশমা পরেন। পরে এক তদারককারীর নজরে পড়ে যে ফ্রেমটি সাধারণ চশমার মতো দেখাচ্ছে না। তিনি পরীক্ষা সদর দপ্তরকে জানান। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামেরা ও ব্যাটারিযুক্ত চশমাটি জব্দ করে।
আবেদনকারী ডিভাইসটি পরার কথা স্বীকার করেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তিনি তা স্বীকার করেন। পরীক্ষার সময় চশমা প্রশ্ন পাঠিয়েছে, উত্তর তৈরি করেছে কিংবা পরিধানকারীকে তথ্য দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো প্রকাশিত কারিগরি বিশ্লেষণ নেই।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিবরণে প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে মিল নেই। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়নসে আবেদনকারীকে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; অন্যগুলোতে বলা হয়েছে, আরও ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় রয়েছে। আলাদা একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি বিবেচনা করছে। অযোগ্য ঘোষণা করার পরিকল্পনা, শাস্তি পর্যালোচনা এবং সম্ভাব্য অভিযোগ দায়ের—এগুলো পৃথক ধাপ; এর কোনোটিই প্রমাণ করে না যে ইতিমধ্যে ফৌজদারি মামলা হয়েছে।
ভর্তি বিধিতে আসলে কী বলা আছে
সিউল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৭ সালের ভর্তি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভর্তি প্রক্রিয়ায় অসদাচরণকারী আবেদনকারীদের প্রত্যাখ্যান করা হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, আবেদনপত্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনুপস্থিত, মিথ্যা বা অন্যভাবে অনিয়মপূর্ণ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ভর্তি বাতিল করা যেতে পারে এবং শিক্ষার্থী বাছাইয়ের ন্যায্য প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করলে আলাদা শাস্তি হতে পারে।
নথিতে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞার কথা আছে, তবে এর ভাষা সতর্কভাবে ব্যাখ্যা করা দরকার। এতে বলা হয়েছে, প্রাসঙ্গিক বিধি অনুযায়ী সিউল বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যাদের ভর্তি বাতিল হয়েছে, বাতিলের তারিখ থেকে তিন বছর পর্যন্ত তারা সিউল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবেন না।
এটি ওই আবেদনকারীর বিরুদ্ধে নেওয়া বলে জানানো ব্যবস্থার সঙ্গে এক নয়। বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, তাঁকে তিন বছর তাদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রকাশিত বিধানটি ভর্তি বাতিলের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা নিয়ে, আর প্রতিবেদনে উল্লেখিত শাস্তিটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ব্যবস্থাটি ভর্তি নির্দেশিকা অনুসরণ করে নেওয়া হয়েছে; তবে এই দুই ধরনের বিধানের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়াগত সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হয়নি।
নির্দেশিকা বা প্রতিবেদনে উল্লেখিত শাস্তি—কোনোটিই দক্ষিণ কোরিয়ার সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার ওপর দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা প্রতিষ্ঠা করে না। সরকারি নথিতে নিষেধাজ্ঞার পরিধি স্পষ্টভাবে সিউল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই সীমা পরিষ্কার রাখলে একটি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে এমন বৃহত্তর শাস্তি হিসেবে দেখানো এড়ানো যায়, যার কোনো প্রমাণ নেই।
অক্টোবরের ঘটনাক্রম ও পরবর্তী নির্ধারিত পদক্ষেপ
দুটি শনাক্তকরণের ঘটনা এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঘটে; মাঝখানে সংসদে স্মার্ট চশমা নিয়ে আলোচনা হয়। সিউল বিশ্ববিদ্যালয় ১৩ অক্টোবর জানায়, ৩ অক্টোবরের পরীক্ষায় তারা আবেদনকারীকে ধরেছিল। একটি প্রতিবেদনে অবশ্য ৩ অক্টোবরকে ঘোষণার তারিখ বলা হয়েছে; তারিখসহ বিস্তারিত বিবরণে পরীক্ষার দিন এবং পরবর্তী সময়ে জনসমক্ষে তথ্য প্রকাশের দিন আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে।
- ৩ অক্টোবর, ২০২৬: সকালে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানবিষয়ক রচনামূলক পরীক্ষায় সিউল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তদারককারী সন্দেহজনক চশমা শনাক্ত করেন। কর্মীরা চশমায় এআই প্রযুক্তি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর আবেদনকারীকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
- ৭ অক্টোবর: জাতীয় সংসদের শিক্ষা কমিটির নিরীক্ষা অধিবেশনে আইনপ্রণেতা কিম মুন-সু স্মার্ট চশমা দিয়ে কলেজ স্কলাস্টিক অ্যাবিলিটি টেস্টের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রদর্শনী করেন।
- ১০ অক্টোবর: প্রাথমিক তল্লাশির পর এক আবেদনকারী চশমা বদলেছেন বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর, সিনচনে গণিতের রচনামূলক পরীক্ষায় ইয়নসে স্মার্ট চশমা শনাক্ত করে।
- ১৩ অক্টোবর: সিউল বিশ্ববিদ্যালয় চশমা শনাক্ত করা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা প্রকাশ্যে জানায়; ইয়নসের শাস্তিমূলক পর্যালোচনা নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
- ১৬ অক্টোবরের মধ্যে: শিক্ষা মন্ত্রণালয় যন্ত্রগুলো নিয়ে পরীক্ষা তদারককারীদের নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ ভিডিও বিতরণের পরিকল্পনা করে।
১৬ অক্টোবরের তারিখটি সম্ভাব্য প্রাথমিক বিতরণের সময়, উপকরণ ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে—এমন নিশ্চয়তা নয়। ইয়নসের চূড়ান্ত শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত বা ফৌজদারি অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
জাতীয় নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পৌঁছাবে
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পিত উপকরণগুলো ২০২৭ সালের কলেজ স্কলাস্টিক অ্যাবিলিটি টেস্ট, যা সাধারণত সিএসএটি নামে পরিচিত, সেই পরীক্ষার তদারকি নিয়ে। এই জাতীয় পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব ভর্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নেওয়া রচনামূলক পরীক্ষা থেকে আলাদা।
কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর কারিকুলাম অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন এ বছরের সিএসএটি পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশে নিষিদ্ধ সামগ্রীর তালিকায় ইতিমধ্যে স্মার্ট চশমা রেখেছে। পরিকল্পিত নির্দেশনা ও ভিডিওর লক্ষ্য হলো এই নতুনভাবে আলোচনায় আসা অসদাচরণের ক্ষেত্রে তদারককারীরা কীভাবে ব্যবস্থা নেবেন, তা বোঝানো; শুধু নিষিদ্ধ সামগ্রীর তালিকায় একটি যন্ত্রের নাম যোগ করা নয়।
মন্ত্রণালয় রচনামূলক পরীক্ষা, ব্যবহারিক মূল্যায়ন ও সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর参考ের জন্যও উপকরণ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। এসব পরীক্ষা ভিন্ন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। তাই পরিকল্পনা হলো সিএসএটি পরীক্ষার অভিজ্ঞতা ভাগ করে দেওয়া, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পরীক্ষার উপযোগীভাবে তা কাজে লাগাতে পারে। এতে প্রমাণ হয় না যে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় একই ধরনের তল্লাশি পদ্ধতি গ্রহণ করবে।
৭ অক্টোবরের সংসদীয় নিরীক্ষা অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী চোই গিয়ো-জিন বলেন, কিম মুন-সুর প্রদর্শনীর পর মন্ত্রণালয় নকল ঠেকানোর ব্যবস্থা তৈরি করবে। আলাদাভাবে, মন্ত্রণালয় আঞ্চলিক শিক্ষা দপ্তরগুলোকে পরীক্ষাকক্ষে এআই চশমা নিষিদ্ধ করতে এবং অস্বাভাবিক আচরণ নজরে রাখতে নির্দেশ দিয়েছিল। পরবর্তী প্রশিক্ষণ উদ্যোগটি এসব নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে বাস্তবায়নসংক্রান্ত নির্দেশনা যোগ করছে।
যন্ত্রগুলো কী করতে পারে, আর কী এখনো প্রমাণিত নয়
স্মার্ট চশমার ছোট ক্যামেরা পরিধানকারীর সামনে যা আছে তা ধারণ করতে পারে; এরপর এআইয়ের মাধ্যমে সেই তথ্য পাঠানো বা প্রক্রিয়াজাত করা যায় এবং ব্যবহারকারীকে তথ্য জানানো যায়। পরীক্ষায় এ সক্ষমতার ফলে কোনো প্রার্থীকে দৃশ্যত ফোন হাতে না নিয়েও প্রশ্নের ছবি তোলা সম্ভব হতে পারে।
কোনো যন্ত্রের সক্ষমতা সিউলের দুটি ঘটনার ক্ষেত্রে সেটি কীভাবে ব্যবহার হয়েছে তার প্রমাণ নয়। ইয়নসের চশমায় ক্যামেরা ও ব্যাটারি ছিল বলে জানানো হয়েছে, আর সিউল বিশ্ববিদ্যালয় এআই-সুবিধা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কোনো ঘটনাতেই যন্ত্রের মডেল, সংযোগের রেকর্ড, ধারণ করা ভিডিও, তৈরি করা উত্তর বা তথ্য আদান-প্রদানের ধরন ব্যাখ্যা করা কারিগরি পরীক্ষা প্রকাশ করা হয়নি।
তাই ভর্তি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে প্রযুক্তি ব্যবহারের পুনর্গঠন থেকে আলাদা করে দেখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরীক্ষার সময় যন্ত্রগুলো পরাকে অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করেছে। প্রকাশ্য নথিতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি যে কোনো আবেদনকারী উত্তর পেয়েছেন কি না, অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, কিংবা পরীক্ষার প্রশ্নকক্ষের বাইরে পাঠানো হয়েছিল কি না।
তবু ইয়নসেতে চশমা বদলের খবর তল্লাশি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়। পরীক্ষা শুরুর আগে চশমা পরা প্রত্যেককে যাচাই করেও পরে নিষিদ্ধ চশমা পরীক্ষাকক্ষে আসা ঠেকানো যায়নি। সিউল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাও দেখায়, প্রস্তুতি কাজে লাগতে পারে: তাদের তদারককারীরা আসল যন্ত্র ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, আর একজন পরীক্ষার সময় ফ্রেমটি লক্ষ করেন।
আগের শনাক্তকরণ ও ক্যাম্পাসভেদে ভিন্ন পদক্ষেপ
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই ঘটনাগুলোর আগে অন্যান্য পরীক্ষাতেও স্মার্ট চশমা শনাক্ত হয়েছিল। মে মাসে বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা প্রকৌশলীর লাইসেন্স পরীক্ষায় তিনজন প্রার্থীকে এআই চশমা পরা অবস্থায় ধরা হয়। পরে টোয়িক পরীক্ষায় আরও দুজন শনাক্ত হন। লাইসেন্স ও ইংরেজি ভাষা পরীক্ষায় এ পাঁচটি শনাক্তকরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-সংক্রান্ত দুটি ঘটনা থেকে আলাদা।
ক্যাম্পাসগুলোতে প্রস্তুতির ধরনও ভিন্ন ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলাদা এক প্রতিবেদনে সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বলেছিল, ক্যাম্পাসে স্মার্ট চশমা দিয়ে নকল ঠেকানোর ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়নি। কোরিয়া ইউনিভার্সিটি, ইওয়া ওমেনস ইউনিভার্সিটি এবং সুংকিয়ুনকোয়ান ইউনিভার্সিটি জানিয়েছিল, তারা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে, তবে তখনো আলাদা নির্দেশিকা ছিল না। ওই বক্তব্যগুলো সেই প্রতিবেদনের সময়কার অবস্থা তুলে ধরে, অক্টোবরের ঘটনার পরের যাচাইকৃত অবস্থা নয়।
চুং-আং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুল আগের বছরের সেপ্টেম্বরে গৃহীত শিক্ষার্থী মূল্যায়ন নির্দেশিকায় পরীক্ষাকক্ষে এআই চশমা নিষিদ্ধ করেছিল। নির্দেশনায় তদারককারীদের চশমার অস্বাভাবিক পুরু ডাঁটি এবং ফ্রেম বারবার স্পর্শ করা বা নাড়াচাড়া করার দিকে নজর দিতে বলা হয়েছিল।
নির্দেশিকা তৈরির সময় পাওয়া যন্ত্রগুলোর দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করেই এসব যাচাই করা হতো। ফ্রেমের স্বাতন্ত্র্য কমলে এবং চোখে পড়ার মতো অঙ্গভঙ্গির প্রয়োজন না হলে, শুধু চেহারা দেখে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। এই পদ্ধতি এবং সিউল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণের জন্য যন্ত্র কেনার মধ্যে পার্থক্য দেখায় যে প্রতিষ্ঠানগুলো ভিন্ন বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এখনো কোনো প্রমাণ নেই যে একটি পদ্ধতিই সব মডেল নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করতে পারে।
শনাক্তকরণ ও মূল্যায়ন সংস্কার আলাদা বিতর্ক
গোয়াংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব এডুকেশনের ইমেরিটাস অধ্যাপক পার্ক নাম-গি বলেন, এআই চশমা সাধারণ চশমা থেকে আলাদা করা কঠিন হয়ে উঠলে শনাক্তকরণ যন্ত্র হয়তো একসময় অপরিহার্য হবে। পরীক্ষাকক্ষে কী ঘটে তার নথি রাখার প্রস্তাবও দেন তিনি:
পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীদের রেকর্ড করার বিষয়টিও আমাদের বিবেচনা করা উচিত,
পরীক্ষার্থীদের রেকর্ড করার প্রস্তাবটি এখনো কোনো ব্যবস্থা হিসেবে গৃহীত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়নি। নিষিদ্ধ সরঞ্জাম প্রবেশমুখে শনাক্ত করার চেয়ে এটি ভিন্ন পদক্ষেপও হবে: রেকর্ডিংয়ে চশমা বদল বা কোনো অঙ্গভঙ্গির প্রমাণ থাকতে পারে, কিন্তু যন্ত্রটি কী তথ্য প্রক্রিয়াজাত করেছে, তা এতে নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নাও হতে পারে।
কোরিয়া এআই এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মুন হিয়ং-নাম বলেন, মূল্যায়নে সমালোচনামূলক চিন্তা, সমস্যা সমাধান ও সৃজনশীলতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে এবং এআই সরঞ্জামের সহজলভ্যতা বিবেচনায় নিতে হবে। গণিত শিক্ষায় ক্যালকুলেটরের আগমনের প্রভাবের সঙ্গে তিনি এ পরিবর্তনের তুলনা করেন:
ক্যালকুলেটরের আবির্ভাব যেমন গণিত শিক্ষাকে বদলে দিয়েছিল, এআইয়ের যুগে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের পদ্ধতিতেও নতুনত্ব আনা জরুরি,
পার্ক শিক্ষার্থীদের যুক্তির প্রতিটি ধাপ নথিবদ্ধ করা এবং গবেষণার নোট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার পক্ষেও মত দেন। এসব প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো, মূল্যায়নে কী যাচাই করা উচিত তা নির্ধারণ করা। নিষিদ্ধ যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না এমন পরীক্ষায় গোপনে এআই ব্যবহারের অনুমতি এগুলো দেয় না, কিংবা সব আবেদনকারীর জন্য একই শর্ত কার্যকর করার তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের সমাধানও করে না।
বর্তমান ভর্তি-সংক্রান্ত ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে অমীমাংসিত বিষয়গুলো আরও নির্দিষ্ট: ইয়নসের চূড়ান্ত শাস্তি কী হবে, তারা অভিযোগ দায়ের করবে কি না, যন্ত্রগুলোর কারিগরি বিশ্লেষণে কী পাওয়া গেছে, এবং সিউল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বছরের নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট ভিত্তি ও পরিধি কী। জাতীয় পর্যায়ে পরবর্তী ঘোষিত পদক্ষেপ হলো তদারককারীদের জন্য নির্দেশনা বিতরণের পরিকল্পনা, যা ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে পারে।
মূল তথ্য
- ৩ অক্টোবরের প্রাকৃতিক বিজ্ঞানবিষয়ক রচনামূলক পরীক্ষায় এআই স্মার্ট চশমা পরা অবস্থায় ধরা পড়ার পর সিউল বিশ্ববিদ্যালয় এক আবেদনকারীকে সরিয়ে দেয়।
- আবেদনকারীর বিভাগে পাঁচটি আসনের জন্য ১২০ জন প্রার্থী ছিলেন; প্রতি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ২৪ জন।
- প্রাথমিক তল্লাশির পর সাধারণ চশমা বদলে স্মার্ট চশমা পরেছেন বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর, ১০ অক্টোবর ইয়নসে আরেক আবেদনকারীকে শনাক্ত করে।
- সিউল বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ওপর তিন বছরের নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছে; তাদের লিখিত নির্দেশিকায় ভর্তি বাতিলের পর ভর্তির ওপর সম্পর্কিত, তবে ভিন্ন ভাষায় লেখা বিধিনিষেধ রয়েছে।
- ইয়নসের চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৬ অক্টোবরের মধ্যে স্মার্ট চশমা নিয়ে তদারকি নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ ভিডিও বিতরণের পরিকল্পনা করেছে; বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও এসব উপকরণ দেওয়ার কথা রয়েছে।






