সামারায় কার্যক্রম বন্ধ, কাজাখ তেলের বড় একটি রপ্তানি পথ ব্যাহত
রাশিয়ার সামারা উৎপাদন ও পরিবহন কেন্দ্রে স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলার পর ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর মস্কো সময় ০৪:০৯-এ আতিরাউ–সামারা পাইপলাইনে তেল পাঠানো সাময়িকভাবে বন্ধ করে কাজাখস্তান। এতে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানি পথ বন্ধ হয়ে যায়। পাইপলাইন পরিচালনাকারী কাজট্রান্সঅয়েলের বরাত দিয়ে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের প্রথম নয় মাসে এই পথে ৭.৫৭৩ মিলিয়ন টন কাজাখ তেল পরিবহন করা হয়েছিল।
সূচিপত্র
- সামারায় কার্যক্রম বন্ধ, কাজাখ তেলের বড় একটি রপ্তানি পথ ব্যাহত
- রাতের হামলায় কী ঘটেছিল?
- কাজাখস্তানের জন্য এই কেন্দ্র কেন গুরুত্বপূর্ণ
- সামারা দিয়ে সাধারণত কত তেল যায়?
- বিকল্প পথেও বারবার হামলা
- বিঘ্নের ধারাবাহিকতা
- চীন ও ক্যাস্পিয়ান পথ কেন দ্রুত সামারার বিকল্প হতে পারে না
- জার্মানির পথ আগেই বন্ধ হয়েছিল
- দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে কী হতে পারে
- মূল বিষয়গুলো
কাজাখস্তানের জ্বালানিমন্ত্রীর প্রতিনিধি আসেল সেরিকপায়েভা এই স্থগিতাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিশেষজ্ঞরা অবকাঠামোর কারিগরি অবস্থা পরীক্ষা করছেন। মন্ত্রণালয় আশা করেছিল, রাশিয়া শিগগিরই আবার তেল গ্রহণ শুরু করবে। তবে ঠিক কখন তা শুরু হবে, পৃথক স্থাপনাগুলোর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বা চালানের কতটা প্রভাবিত হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
এই বন্ধের প্রভাব একটি পাইপলাইনের বাইরেও বিস্তৃত। কাজাখস্তানের বৃহত্তম রপ্তানি পথ ক্যাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম (সিপিসি) বিঘ্নিত হলে দেশটি সামারা দিয়ে সরবরাহ বাড়িয়েছিল। স্থানচ্যুত চালানের কিছু অংশ সামাল দিতে ব্যবহৃত একটি পথ এবার নিজেই ব্যাহত হয়েছে।
২০২৫ সালে আতিরাউ–সামারা দিয়ে ৯.৩ মিলিয়ন টন কাজাখ তেল পরিবহন করা হয়, যা দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ১২ শতাংশ। সিপিসি দিয়ে পরিবহন করা হয় ৬৪.৮ মিলিয়ন টন। উভয় পথই রাশিয়ার অভ্যন্তরের অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। ফলে সেখানে হামলা বা কারিগরি সমস্যায় কার্যক্রম ব্যাহত হলে ঝুঁকিতে পড়ে কাজাখস্তান।
রাতের হামলায় কী ঘটেছিল?
২ নভেম্বরের আগের রাতে সামারা উৎপাদন ও পরিবহন কেন্দ্রের স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলা হয়। মস্কো সময় ০৪:০৯-এ বন্ধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়; কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় তখন সময় ছিল ০৬:০৯। দুটি সময়ই একই বন্ধের ঘটনাকে নির্দেশ করে।
সামারা অঞ্চলের গভর্নর ভ্যাচেস্লাভ ফেদোরিশচেভ হামলার জন্য ইউক্রেনীয় ড্রোনকে দায়ী করেন এবং জানান, হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। তবে কোন স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু ছিল, তা তিনি বলেননি। ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি।
স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ডের আরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। নাসার ফায়ার ইনফরমেশন ফর রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, সংক্ষেপে এফআইআরএমএসে, সামারা তেল পাম্পিং স্টেশনের আশপাশে নতুন একটি তাপীয় অসংগতি দেখা যায়। তাপীয় অসংগতি হলো এমন এলাকা, যেখান থেকে অস্বাভাবিক তীব্র তাপ নির্গত হয় এবং স্যাটেলাইট তা শনাক্ত করতে পারে। স্থানীয় সূত্রও প্রসভেতের স্টেশনের কাছে আগুন লাগার কথা জানিয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ওই রাতে দেশজুড়ে ২১২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এটি ছিল দেশব্যাপী মোট সংখ্যা। হামলার সময় সামারার কুরুমোচ বিমানবন্দরে ১০টির বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।
কাজাখস্তানের জন্য এই কেন্দ্র কেন গুরুত্বপূর্ণ
সামারা কমপ্লেক্সটির মালিক রাশিয়ার প্রধান তেল পাইপলাইন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সনেফট। এটি কাজাখস্তান ও পশ্চিম সাইবেরিয়া থেকে তেল গ্রহণ করে এবং চারটি পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে রাশিয়ার মধ্য দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল।
স্টেশনটি ২১৬ হেক্টরেরও বেশি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এখানে তেল মিশ্রণকেন্দ্র এবং সামারা-১ ও সামারা-২ নামে দুটি পাম্পিং স্টেশন রয়েছে। ৭১টি সংরক্ষণ ট্যাংকের মোট ধারণক্ষমতা ১.৬ মিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি। পাম্পিং স্টেশন পাইপলাইনে তেল এগিয়ে দেয়, আর যাত্রার বিভিন্ন ধাপের মধ্যে অপরিশোধিত তেল মজুত রাখতে সংরক্ষণ ট্যাংক কাজে লাগে।
বৃহত্তর উজেন–আতিরাউ–সামারা প্রধান পাইপলাইন ব্যবস্থার অংশ আতিরাউ–সামারা। এটি পশ্চিম কাজাখস্তানের তেলক্ষেত্রের সঙ্গে ট্রান্সনেফটের নেটওয়ার্ককে যুক্ত করেছে। সোভিয়েত আমলে পথটি গুরিয়েভ–কুইবিশেভ নামে পরিচিত ছিল; আতিরাউ ও সামারার সাবেক নাম ছিল এগুলো।
এই নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা কাজাখ তেল রাশিয়ার রপ্তানি টার্মিনাল, যেমন বাল্টিক সাগরের উস্ত-লুগা ও কৃষ্ণসাগরের নভোরসিস্কে যেতে পারে। দ্রুজবা পাইপলাইনের সঙ্গেও সংযোগ রয়েছে, যদিও নভেম্বরের হামলার আগেই জার্মান গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
সামারা দিয়ে সাধারণত কত তেল যায়?
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাজট্রান্সঅয়েলের দেওয়া ৭.৫৭৩ মিলিয়ন টনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই নয় মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৭,৭০০ টন তেল পরিবহন হয়েছে। এই পথের প্রবাহ দৈনিক ২০০,০০০ ব্যারেলেরও বেশি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। টন ওজনের একক, আর ব্যারেল আয়তনের একক; তাই রূপান্তরের হিসাব তেলের ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে।
এই পরিসংখ্যান হামলার আগের গড় প্রবাহ নির্দেশ করে। কত তেল বিলম্বিত হবে, তা নির্ভর করবে গ্রহণ স্থগিত থাকার সময়কালের ওপর এবং কতটা তেল মজুত বা অন্য পথে পাঠানো সম্ভব তার ওপর।
২০২৫ সালে সামারা দিয়ে রপ্তানি করা ৯.৩ মিলিয়ন টন ছিল ওই বছর সিপিসির ৬৪.৮ মিলিয়ন টনের প্রায় এক-সপ্তমাংশ। দুই পথ মিলিয়ে ৭৪.১ মিলিয়ন টন তেল পরিবহন করেছে। এ পরিমাণ থেকেই বোঝা যায়, যেকোনো একটি পথ বন্ধ হলে ছোট রপ্তানি পথগুলো দিয়ে সহজে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়।
বহু বছর ধরেই সামারা একটি প্রতিষ্ঠিত রপ্তানি পথ। কাজট্রান্সঅয়েলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে এই পাইপলাইন দিয়ে ৯.৪ মিলিয়ন টন তেল পরিবহন করা হয়েছিল, যা ২০২৫ সালের পরিমাণের কাছাকাছি। ফলে নভেম্বরের এই বিঘ্ন কাজাখস্তানের রপ্তানি ব্যবস্থার নিয়মিত একটি অংশকে প্রভাবিত করছে, পাশাপাশি সিপিসিতে বিধিনিষেধ দেখা দিলে ব্যবহৃত একটি পথকেও ব্যাহত করছে।
বিকল্প পথেও বারবার হামলা
২ নভেম্বরের ঘটনা সামারা কেন্দ্রে ২, ৭, ১০ ও ১১ অক্টোবর হামলার খবরের পর ঘটল। এসব ঘটনা ধরলে প্রায় এক মাসের মধ্যে কমপ্লেক্সটিতে এটি ছিল পঞ্চম হামলার খবর।
এ অঞ্চলের অন্য তেল স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। ৩০ অক্টোবর ইউক্রেনীয় এফপি-১ ড্রোন নভোকুইবিশেভস্ক শোধনাগারে হামলা চালায়। শোধনাগারটির বার্ষিক প্রায় ৮.৮ মিলিয়ন টন তেল প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা রয়েছে। শোধনাগারে অপরিশোধিত তেল থেকে পেট্রল ও ডিজেলের মতো পণ্য তৈরি হয়; সামারা কেন্দ্রের প্রধান কাজ অপরিশোধিত তেল পরিবহন, মিশ্রণ ও সংরক্ষণ।
এর আগেও অন্যত্র রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার মুখে পড়েছিল কাজাখস্তান। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সিপিসির একটি লোডিং স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশটি কিছু চালান সামারা, চীন ও ক্যাস্পিয়ান সাগরের আকতাউ বন্দরের পথে পাঠায়। ওই বিঘ্নের সময় তেল উৎপাদন প্রায় ৪৮০,০০০ টন কমেছিল বলে কর্মকর্তারা অনুমান করেন।
২০২৬ সালের গ্রীষ্মে সিপিসিতে আবার বিধিনিষেধ দেখা দিলে কাজাখস্তান আতিরাউ–সামারা ও চীনের পথে চালান বাড়ায়। আগস্টে কাজাখস্তানের জ্বালানিমন্ত্রী এ পরিবর্তনের কথা জানান। সর্বশেষ এই বন্ধের ফলে প্রধান রপ্তানি নেটওয়ার্কে আরেকটি বিঘ্ন সামাল দেওয়ার সুযোগ কমে গেল।
বিঘ্নের ধারাবাহিকতা
কাজাখস্তানের তেল রপ্তানিকারকেরা নভেম্বরে প্রবেশ করেন, যখন তাদের হাতে থাকা রপ্তানি পথগুলোতে একের পর এক পরিবর্তন এসেছে। প্রধান ঘটনাগুলো হলো:
- ২০২৫ সালের শেষ দিকে: সিপিসির একটি লোডিং স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে চালান সামারা, চীন ও আকতাউয়ের পথে পাঠানো হয়। কর্মকর্তারা উৎপাদন প্রায় ৪৮০,০০০ টন কমার কথা জানান।
- ১ মে, ২০২৬: কারিগরি বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করে দ্রুজবা দিয়ে জার্মানিতে কাজাখ তেলের পরিবহন বন্ধ করে রাশিয়া।
- ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ ভাগ ও আগস্ট: সিপিসিতে নতুন করে বিঘ্ন দেখা দিলে আতিরাউ–সামারাসহ অন্যান্য পথের ব্যবহার বাড়ায় কাজাখস্তান।
- ২, ৭, ১০ ও ১১ অক্টোবর: সামারা কেন্দ্রে হামলার খবর পাওয়া যায়।
- ২ নভেম্বর: আরেকটি ড্রোন হামলার পর মস্কো সময় ০৪:০৯-এ কাজাখ তেল গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
জুলাইয়ে সিপিসির সমস্যার মধ্যে টার্মিনালের কাছে এনআইএসএসওএস সিফনস ও মারাঠি ট্যাংকারে হামলাও ছিল। লোডিং স্থগিত করা হয় এবং ৩১ জুলাই কনসোর্টিয়াম পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ করে, যদিও সংরক্ষণাগারে তেল গ্রহণ অব্যাহত ছিল। ১ আগস্ট থেকে প্রতিদিন ১০০,০০০ টন তেল গ্রহণের খবর পাওয়া যায়।
জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে সংরক্ষণাগার রপ্তানিকারকদের কিছুটা সময় দেয়। তবে ট্যাংক পূর্ণ হয়ে গেলে অন্য কোনো পথ খুঁজতে হয়, অথবা ব্যবস্থায় প্রবেশ করা তেলের পরিমাণ কমাতে হয়।
চীন ও ক্যাস্পিয়ান পথ কেন দ্রুত সামারার বিকল্প হতে পারে না
রাশিয়ার ভূখণ্ড এড়িয়ে কাজাখস্তান তেল রপ্তানির পথ ব্যবহার করতে পারে, তবে সেসব পথে সাম্প্রতিক চালানের পরিমাণ সামারা দিয়ে পাঠানো তেলের তুলনায় অনেক কম। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে আতাসু–আলাশানকৌ পাইপলাইন দিয়ে চীনে ৯৮৪,০০০ টন কাজাখ তেল পরিবহন করা হয়। একই সময়ে আতিরাউ–সামারা দিয়ে যায় ৭.৫৭৩ মিলিয়ন টন।
অর্থাৎ একই সময়ে সামারা দিয়ে চীনের পাইপলাইনের তুলনায় প্রায় ৭.৭ গুণ বেশি কাজাখ তেল গেছে। চীনের পাইপলাইন দিয়ে কাজাখস্তানের ভেতর দিয়ে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলও পরিবহন করা হয়। তাই ওই পথে মোট প্রবাহের পরিমাণ কাজাখস্তানের নিজস্ব তেল রপ্তানির চেয়ে বেশি।
চীনে সরবরাহ বাড়াতে সীমান্তের কাছে পাইপলাইনে জায়গা থাকাই যথেষ্ট নয়। কাজাখস্তানের তেলের বড় অংশ পশ্চিমাঞ্চলে উৎপাদিত হয়। পূর্বাঞ্চলের রপ্তানি পথে পৌঁছাতে অতিরিক্ত তেলকে প্রথমে দেশজুড়ে পরিবহন করতে হবে।
আরেকটি পথ হলো আকতাউ থেকে ক্যাস্পিয়ান সাগর পেরিয়ে আজারবাইজানে যাওয়া। ট্যাংকারে অপরিশোধিত তেল সাগরের অপর পারে নেওয়ার পর তা বাকু–তিবিলিসি–জেইহান পাইপলাইনে প্রবেশ করে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত যেতে পারে। ২০২৫ সালে আকতাউ ও আজারবাইজান পথ দিয়ে প্রায় ১.৩ মিলিয়ন টন কাজাখ তেল পরিবহন করা হয়েছিল; সামারা দিয়ে গিয়েছিল ৯.৩ মিলিয়ন টন।
এই পথে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি তেল পাঠাতে যথেষ্ট ট্যাংকার, বন্দর সক্ষমতা এবং আজারবাইজানের পরবর্তী পাইপলাইনগুলোতে জায়গা দরকার। যাত্রার প্রতিটি ধাপেই অতিরিক্ত তেল সামাল দেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে। সাম্প্রতিক চালানের পরিসংখ্যান দেখায়, সামারার পুরো প্রবাহ অন্য পথে পাঠানো কত বড় পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ হবে।
জার্মানির পথ আগেই বন্ধ হয়েছিল
জার্মানি রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করার পর ২০২৩ সালে দ্রুজবা দিয়ে দেশটির শভেড্ট শোধনাগারে তেল সরবরাহ শুরু করে কাজাখস্তান। ২০২৬ সালে ওই পথ দিয়ে জার্মানিতে প্রায় ৩ মিলিয়ন টন তেল রপ্তানির পরিকল্পনা ছিল কাজাখস্তানের।
কারিগরি বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করে ১ মে থেকে ওই পরিবহন বন্ধ করে রাশিয়া। পরে কাজাখস্তান কিছু তেল উস্ত-লুগা ও সিপিসির পথে পাঠায়। সামারায় হামলার সময়ের মধ্যে রাশিয়ার পাইপলাইন নেটওয়ার্ক দিয়ে পৌঁছানো যায়, এমন একটি গন্তব্য ইতিমধ্যে হারিয়েছিলেন রপ্তানিকারকেরা।
যৌথ নেটওয়ার্কের ভেতরে কাজাখ অপরিশোধিত তেল রাশিয়ার তেলের সঙ্গে ভৌতভাবে মিশে যেতে পারে। প্রতিটি উৎপাদনকারীর তেল আলাদা প্রবাহে রেখে দেওয়ার বদলে পরিবহন ও বাণিজ্যিক নথির মাধ্যমে পরিমাণ ও উৎসের হিসাব রাখেন পরিচালনাকারীরা। কাজাখস্তানের রপ্তানি মিশ্রণটি কেবেকো নামে বাজারজাত হয়; নামটি কাজাখ এক্সপোর্ট ব্লেন্ড ক্রুড অয়েলের সংক্ষিপ্ত রূপ।
এই বাণিজ্যের বড় অংশে রাশিয়া транজিট দেশ হিসেবে কাজ করে: অন্য দেশের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর পথে তেল রাশিয়ার ভূখণ্ড অতিক্রম করে। তাই রাশিয়ার ভেতরে কোনো বিঘ্ন ঘটলে কাজাখস্তানের রপ্তানি বিলম্বিত হতে পারে, এমনকি নির্ধারিত ক্রেতা অন্য দেশে থাকলেও।
দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে কী হতে পারে
দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিবহন স্থগিত হলে তেল কোম্পানিগুলোকে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, জাহাজ চলাচলের সময়সূচি বদলাতে হবে অথবা অন্য পথে জায়গা নিশ্চিত করতে হবে। সংরক্ষণ ও বিকল্প পরিবহন পর্যাপ্ত না হলে উৎপাদকদের উৎপাদন কমাতে হতে পারে, যেমনটি সিপিসিতে আগের বিঘ্নের সময় ঘটেছিল।
কাজাখস্তানে এর আগে স্বল্প সময়ের জন্যও পরিবহন বন্ধ হয়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মাঙ্গিস্তাউ ও আতিরাউ অঞ্চলে তুষার, জমে যাওয়া বৃষ্টি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যায় ১১ জানুয়ারি মস্কো সময় ০৫:০০-এ আতিরাউ–সামারা দিয়ে পাম্পিং বন্ধ হয়ে যায়। ওই দিন ১৯:৫৯-এ কার্যক্রম আবার শুরু হয়। এবার কখন চালু হবে, তা সামারায় কারিগরি পরীক্ষার ওপর নির্ভর করছে।
শিল্প খাতের একটি অনুমানে বলা হয়েছিল, ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় পাম্পিং আবার শুরু হতে পারে। জ্বালানিমন্ত্রীর অবস্থান ছিল, শিগগিরই তেল গ্রহণ আবার শুরু হবে এবং পরীক্ষা এগোলে আরও তথ্য জানানো হবে। অল্প সময়ের সময়সূচিগত বিলম্ব, নাকি তেল অন্য পথে পাঠানোর বড় প্রয়োজন দেখা দেবে, তা জানতে রপ্তানিকারকদের এই কার্যক্রমসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য দরকার।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর মস্কো সময় ০৪:০৯-এ, অর্থাৎ আস্তানায় ০৬:০৯-এ, আতিরাউ–সামারা দিয়ে কাজাখ তেল গ্রহণ বন্ধ হয়।
- সামারা কেন্দ্রে স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলার পর স্থগিতাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে কাজাখস্তানের জ্বালানিমন্ত্রক।
- ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে এ পথে ৭.৫৭৩ মিলিয়ন টন এবং ২০২৫ সালে ৯.৩ মিলিয়ন টন তেল পরিবহন করা হয়েছিল।
- বিশেষজ্ঞরা অবকাঠামো পরীক্ষা করছিলেন; মন্ত্রণালয় চালুর নির্দিষ্ট সময় জানায়নি।
- চীন ও আকতাউ পথ বিকল্প হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেসব পথে কাজাখ তেলের চালান সামারার তুলনায় অনেক কম ছিল।
- এই বিঘ্ন এমন একটি পথকে প্রভাবিত করছে, যা সিপিসিতে আগের বিঘ্ন সামাল দিতে কাজাখস্তান ব্যবহার করেছিল।






