আবাসনের খরচের চাপ অব্যাহত থাকায় কম অগ্রিম জমার বিষয়টি বিবেচনায়
২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ২০.৪ মিলিয়ন বর্গমিটার আবাসন নির্মাণ সম্পন্ন করতে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে আবাসন কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজনীয় অগ্রিম অর্থ কমানোর কথা ভাবছে কাজাখস্তান। প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ আর্থিক বাজার নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন সংস্থা এবং শিল্প ও নির্মাণ মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। ১৩ ও ১৪ অক্টোবর এ নির্দেশের কথা প্রকাশ করা হয়।
সূচিপত্র
- আবাসনের খরচের চাপ অব্যাহত থাকায় কম অগ্রিম জমার বিষয়টি বিবেচনায়
- বর্তমানে ক্রেতাদের কত অর্থ দিতে হয়
- সরকারের লক্ষ্য শুধু ভবন নির্মাণ নয়, বসবাসের উপযোগী বাড়ি
- নির্মাণ খাতে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি আবাসনের চাহিদা দুর্বল থাকতে পারে কেন
- কর পরিবর্তনে জমার জন্য সঞ্চয় কঠিন হতে পারে
- নির্মাতাদের সুরক্ষা ও নির্মাণের অর্থায়নে প্রবেশাধিকার
- জমার হিসাবের আরেকটি অংশ পেনশন সঞ্চয়
- প্রস্তাবিত মানদণ্ড বড় শহরের বাইরেও প্রযোজ্য
- আবাসন বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ সময়রেখা
- মূল বিষয়গুলো
২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর ১৭:৫৭-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক বাজার নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন সংস্থাকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলে “ডাউন পেমেন্টের পরিমাণ কমানোর প্রক্রিয়া চালুর জন্য অতিরিক্ত প্রস্তাব তৈরি করতে” নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের বক্তব্যটি এখানে অনূদিত হয়েছে; সরবরাহ করা সূত্রে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ বা প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময়সীমা নেই।
সম্ভাব্য এই পরিবর্তনের লক্ষ্য একটি নির্দিষ্ট বাধা: ভর্তুকিযুক্ত বন্ধকের ক্ষেত্রেও ক্রেতাকে চাবি পাওয়ার আগে কয়েক মিলিয়ন টেঙ্গে দিতে হতে পারে। ২০ মিলিয়ন টেঙ্গে দামের একটি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ১০% জমা দিতে হলে ২ মিলিয়ন টেঙ্গে জোগাড় করতে হয়। ২০% দিতে হলে সেই অঙ্ক দ্বিগুণ হয়ে ৪ মিলিয়ন টেঙ্গে হয়।
আবাসন খাতের উদ্যোক্তা এবং নির্মাণ ও সংস্কার বিশেষজ্ঞ দিলারা সেইতনুরোভার মতে, আবাসনের চাহিদা হারিয়ে যায়নি, বরং অর্থায়নের সমস্যায় সীমিত হয়েছে। তিনি অগ্রিম জমা কমানোর পক্ষে; তবে সতর্ক করেছেন, ক্রেতাদের সাশ্রয়ী ঋণ পাওয়ার সুযোগও থাকতে হবে এবং প্রকল্প শেষ করতে নির্মাতাদের পর্যাপ্ত অর্থায়ন দরকার।
তার মূল্যায়নে তিনটি চাপের বিষয় উঠে এসেছে: মূল্য সংযোজন করের হার বৃদ্ধি, নির্মাণকাজ চলাকালে বাড়ির ক্রেতাদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের ওপর কঠোর নিয়ম এবং পেনশন সঞ্চয়ে প্রবেশাধিকারে বিধিনিষেধ। একই লেনদেনের বিভিন্ন অংশে এগুলোর প্রভাব পড়ে—অ্যাপার্টমেন্টের দাম থেকে শুরু করে একটি পরিবার তার জন্য কত অর্থ দিতে পারবে, সবখানেই।
সরকার প্রস্তাব চেয়েছে, নতুন জমার হার ঘোষণা করেনি। বিকল্প কোনো হার, কার্যকর হওয়ার তারিখ বা প্রস্তাব জমার সময়সীমাও ঘোষণা করা হয়নি। সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য আপাতত বিদ্যমান কর্মসূচির শর্তই নির্ধারণ করছে, তাদের কত অর্থ সঞ্চয় করতে হবে।
বর্তমানে ক্রেতাদের কত অর্থ দিতে হয়
ওতবাসি ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক নাউরিজ কর্মসূচির নিয়মে ঋণের অঙ্কের অন্তত ২০% অগ্রিম জমা দিতে হয়। তবে ফিনিশিংয়ের কাজ সম্পন্ন এমন নতুন আবাসন কিনলে ঋণের অঙ্কের ১০% জমা দিতে হয়। ৫-১০-২০ কর্মসূচিতেও ন্যূনতম জমা ১০%।
অগ্রিম জমা হলো বাড়ির ক্রয়মূল্যের সেই অংশ, যা ক্রেতা শুরুতেই পরিশোধ করেন। বন্ধক ঋণে বাকি অর্থ মেটানো হয়; ঋণগ্রহীতা সময়ের সঙ্গে সুদসহ তা পরিশোধ করেন। দাম এবং ঋণের অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত থাকলে জমার পরিমাণ কমলে শুরুতে প্রয়োজনীয় সঞ্চয় কমে, তবে ঋণের অঙ্ক বেড়ে যায়।
২০ মিলিয়ন টেঙ্গে দামের একটি বাড়ির ক্ষেত্রে ২০% জমার বদলে ১০% জমা দিতে হলে শুরুতে প্রয়োজনীয় অর্থ ৪ মিলিয়ন থেকে কমে ২ মিলিয়ন টেঙ্গে হবে। অর্থায়ন করা অংশ ১৬ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১৮ মিলিয়ন টেঙ্গে হবে। এটি বিদ্যমান শতাংশ ধরে দেখানো একটি উদাহরণ, সরকারের ঘোষিত প্রস্তাব নয়।
দাম ধরে করা এই উদাহরণগুলো নাউরিজ কর্মসূচির প্রয়োজনীয় জমার হিসাব নয়: এর আনুষ্ঠানিক নিয়মে ন্যূনতম জমার হার ঋণের অঙ্কের শতাংশ হিসেবে নির্ধারিত।
এই পরিবর্তনে কতটা সুবিধা হবে, তা নির্ভর করবে পরিবারের আয়ের ওপরও। কোনো পরিবার কম অগ্রিম জমা জোগাড় করতে পারলেও মাসিক কিস্তি দিতে সমস্যায় পড়তে পারে। তাই কম জমা এবং সাশ্রয়ী কিস্তি কেনার প্রক্রিয়ার ভিন্ন দুটি দিকের সমাধান করে: একটি পরিবারকে কর্মসূচিতে প্রবেশের সুযোগ দেয়, অন্যটি নির্ধারণ করে তারা কিস্তি চালিয়ে যেতে পারবে কি না।
সরকারের লক্ষ্য শুধু ভবন নির্মাণ নয়, বসবাসের উপযোগী বাড়ি
পরিকল্পিত ২০.৪ মিলিয়ন বর্গমিটার আবাসন নির্মাণ সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন বেকতেনভ। বাসিন্দাদের কাছে বাড়িগুলো কী অবস্থায় পৌঁছাবে, সে বিষয়েও তার নির্দেশনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ বলেছেন, অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধাসহ আবাসন ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে:
“একই সঙ্গে আবাসন পুরোপুরি নির্মাণ শেষ করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধাসহ প্রস্তুত করতে হবে,” বলেন বেকতেনভ।
আঞ্চলিক আকিমাতগুলোকে—অর্থাৎ স্থানীয় নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে—আগেভাগে জমি প্রস্তুত করতে এবং অবকাঠামোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ করা শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে পানি, তাপ, বিদ্যুৎ, সড়ক যোগাযোগ এবং ভূমির সৌন্দর্যবর্ধন। এসব সেবা নির্ধারণ করে একটি পরিবার সদ্য নির্মিত ভবনে সত্যিই উঠতে পারবে কি না।
বন্ধক নীতির সঙ্গে এর সম্পর্ক বাস্তবিক। ক্রেতার দরকার কেনার উপযোগী শর্ত এবং বসবাসের উপযোগী বাড়ি—দুটিই। প্রকল্প সরবরাহের জন্য নির্মাতাদেরও সময়মতো ইউটিলিটি সংযোগ ও প্রস্তুত জমির ওপর নির্ভর করতে হয়। সরকারের নির্দেশনায় অর্থায়ন ও নির্মাণের প্রস্তুতি একই কর্মসূচির অংশ হয়েছে।
নির্মাণ খাতে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি আবাসনের চাহিদা দুর্বল থাকতে পারে কেন
সরকারি বৈঠক নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত নয় মাসে কাজাখস্তানের অর্থনীতি ৪.২% বেড়েছে, আর নির্মাণ খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১.৫%। এই দুই অঙ্ক ধরে হিসাব করলে নির্মাণ খাতের প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির তুলনায় প্রায় ২.৭ গুণ বেশি।
সেইতনুরোভার মতে, বড় সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প নির্মাণকাজে গতি বজায় রাখতে সহায়তা করছে, যদিও আবাসন নির্মাতা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও পরিবারগুলো অর্থায়ন সমস্যায় পড়ছে। আবাসন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রার পাশাপাশি তিনি ২০২৯ সাল পর্যন্ত ৯০ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।
নির্মাণ খাতের পরিসংখ্যানে বাড়ি কেনার চেয়ে বিস্তৃত পরিসরের কাজ অন্তর্ভুক্ত হয়। অবকাঠামো খাতে ব্যয়ের কারণে নির্মাণকর্মীরা ব্যস্ত থাকতে পারেন, অথচ পরিবারগুলো অগ্রিম জমা জোগাড় করতে বা বন্ধক ঋণের যোগ্য হতে না-ও পারে। বেসরকারি আবাসন খাত পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উপলভ্য অর্থায়নের ওপর বেশি সরাসরি নির্ভরশীল।
সেইতনুরোভার শিল্প খাতভিত্তিক হিসাব বেসরকারি বাজারে অনেক বেশি সংকটের চিত্র তুলে ধরে। তার ভাষ্য, বৈধ আবাসনের সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমেছে, প্রথম প্রান্তিকে প্রায় ১২% প্রতিষ্ঠান আবার কার্যক্রম শুরু করেছে এবং বাজারের সর্বোচ্চ ৭০% লেনদেন নগদে হয়। তিনি এগুলোকে সরকারি পরিসংখ্যান নয়, শিল্প খাতের হিসাব বলে উল্লেখ করেছেন।
তার ব্যাখ্যা হলো, বন্ধক ঋণের সীমিত সুযোগ কেনাকাটা বাধাগ্রস্ত করছে, আর একই সময়ে আবাসনের সরবরাহ কমছে। নগদ লেনদেনের এই হিসাব প্রস্তাবিত নীতির জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক: জমা কমালে সেই ক্রেতারা উপকৃত হবেন, যাদের কেনাকাটা সম্পন্ন করতে ঋণ প্রয়োজন; যারা নিজেরাই পুরো দাম দিতে পারেন, তারা নন।
কর পরিবর্তনে জমার জন্য সঞ্চয় কঠিন হতে পারে
সেইতনুরোভা ২০২৬ সালে মূল্য সংযোজন কর ১৬% হওয়াকে আরেকটি চাপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, আগে আবাসন বিক্রি করমুক্ত ছিল। মূল্য সংযোজন কর, সংক্ষেপে ভ্যাট, করযোগ্য বিক্রয়ের ওপর আরোপিত কর।
তার ভাষ্য, করের বোঝা বাড়ায় নির্মাতারা দাম ১৪% থেকে ২০% পর্যন্ত বাড়বে বলে ধারণা করছেন; এর প্রধান প্রভাব পড়তে পারে ২০২৭ ও ২০২৮ সালে। এই শতাংশগুলো সেইতনুরোভার উল্লেখ করা পূর্বাভাস, অ্যাপার্টমেন্টের দাম বাড়ানোর কোনো ঘোষিত সিদ্ধান্ত নয়।
জমার পরিমাণ নির্ভর করে প্রয়োজনীয় শতাংশ এবং বাড়ির দাম—দুটোর ওপরই। ২০ মিলিয়ন টেঙ্গের উদাহরণে তার পূর্বাভাস অনুযায়ী দাম বাড়লে তা দাঁড়াবে ২২.৮ মিলিয়ন থেকে ২৪ মিলিয়ন টেঙ্গে। জমার হার ১০% হলে ক্রেতাকে দিতে হবে ২.২৮ মিলিয়ন থেকে ২.৪ মিলিয়ন টেঙ্গে; দাম বাড়ার আগে যা ছিল ২ মিলিয়ন।
জমার হার ২০% হলে এই একই উদাহরণে অগ্রিম অর্থ ৪ মিলিয়ন টেঙ্গে থেকে বেড়ে ৪.৫৬ মিলিয়ন থেকে ৪.৮ মিলিয়ন টেঙ্গে হবে। প্রয়োজনীয় শতাংশ কমলে চাপ কমতে পারে, আর দাম বাড়লে তা উল্টো দিকে ঠেলে দেবে। ক্রেতারা শেষ পর্যন্ত কতটা সুবিধা পাবেন, তা দুটোর ওপরই নির্ভর করবে।
নির্মাতাদের সুরক্ষা ও নির্মাণের অর্থায়নে প্রবেশাধিকার
নাগরিকদের সঙ্গে করা যৌথ মালিকানা চুক্তির আওতায় সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার নিয়ে নতুন নির্মাণ বিধির কথাও উল্লেখ করেছেন সেইতনুরোভা। এসব ব্যবস্থায় বাড়ি নির্মাণ চলাকালে ক্রেতা অর্থ দিতে পারেন, ফলে নির্মাণের অগ্রগতি ও কাজ শেষ হওয়া ক্রেতার কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
তার বর্ণনা অনুযায়ী, এই বিধিতে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি থাকলেই কেবল নির্মাতাদের এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। তার মূল্যায়নে, প্রয়োজনীয় গ্যারান্টি পেতে ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যায় পড়ে এবং এতে সাশ্রয়ী আবাসনের সরবরাহ কমতে পারে।
নির্মাণ শেষ হওয়ার আগে অর্থ বিনিয়োগ করা ক্রেতাদের সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই গ্যারান্টি দেওয়া হয়। নির্মাতাদের হাতে থাকা অর্থায়নের সঙ্গে কঠোরতর শর্তের সমন্বয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেইতনুরোভা। তার সতর্কবার্তা, ক্রেতাদের অর্থে প্রবেশাধিকার হারিয়ে অন্য উৎস থেকে নির্মাণের অর্থায়ন না পেলে প্রকল্পগুলো স্থবির হয়ে যেতে পারে।
তিনি মনে করেন, ক্রয়কে সহায়তা করার ব্যবস্থার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় থাকা দরকার। তার সতর্কবার্তা আবাসন লেনদেনের দুই দিক নিয়েই: পরিবারের বাড়ি কেনার বাস্তবসম্মত পথ দরকার, আর নির্মাতাদের বিক্রি করা বাড়ি সম্পন্ন করার মতো অর্থ দরকার। প্রকল্প স্থবির হলে আরও বেশি ক্রেতা তাদের কেনা বাড়ি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, বলেন তিনি।
জমার হিসাবের আরেকটি অংশ পেনশন সঞ্চয়
সেইতনুরোভার মতে, কাজাখস্তানের ইউনিফায়েড অ্যাকিউমুলেটিভ পেনশন ফান্ড থেকে অর্থ তোলা আবাসনের জমার একটি বড় উৎস। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে উত্তোলনের পরিমাণ ৮৩% বেড়েছিল, যা বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ওই সঞ্চয়ে প্রবেশাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে।
পেনশন থেকে অর্থ তোলার নিয়মে ন্যূনতম পর্যাপ্ততার সীমা রয়েছে; এর মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, একজন ব্যক্তিকে পেনশন হিসাবে কত সঞ্চয় রেখে দিতে হবে। এই সীমা বাড়লে, হিসাবের মোট অর্থ অপরিবর্তিত থাকলেও আবাসনের জন্য তোলার উপযোগী অর্থ কমে যেতে পারে।
সেইতনুরোভা বলেন, সীমা বাড়ানোর পর ৫ জুন থেকে ১০ জুনের মধ্যে তহবিল আবাসন উন্নয়নের ৫২টি আবেদন পূরণ করেছে। পেনশন সঞ্চয়ে প্রবেশাধিকার সীমিত হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে তিনি এই সংখ্যা উল্লেখ করেন। এই উদাহরণে ওই স্বল্প সময়ে পূরণ হওয়া আবেদনের হিসাব দেওয়া হয়েছে; উত্তোলনের বৃহত্তর পরিসংখ্যানে এক বছরে পরিমাণের পরিবর্তন মাপা হয়েছে।
যে পরিবার অগ্রিম জমার জন্য পেনশনের অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, তাদের ক্ষেত্রে উত্তোলনের নিয়ম কঠোর হলে অন্য উৎস থেকে জোগাড় করতে হবে আরও বেশি অর্থ। বন্ধকের জমা কমানোয় সমস্যাটি আংশিকভাবে লাঘব হতে পারে, তবে ঋণগ্রহীতাকে কর্মসূচির যোগ্যতা ও কিস্তি পরিশোধের শর্ত পূরণ করতেই হবে।
পরিবারের ক্ষুদ্রঋণের পরিমাণও ১.৪ ট্রিলিয়ন টেঙ্গে হয়েছে বলে জানানো হয়। ক্ষুদ্রঋণ সাধারণত বন্ধক ঋণের তুলনায় ছোট অঙ্কের হয়; আবাসনসংক্রান্ত নির্দেশনার পাশাপাশি আলোচিত পারিবারিক ঋণের চিত্রে এই পরিসংখ্যানও যুক্ত হয়েছে। পরিবারগুলোর ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আবাসন অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোই সরকারের কাজ।
প্রস্তাবিত মানদণ্ড বড় শহরের বাইরেও প্রযোজ্য
কুরুলতাইয়ের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে আবাসনের জন্য একক ন্যূনতম মানদণ্ডের আহ্বান জানিয়েছেন উপপ্রধান মাকসুত নাসিবুলভ। তার প্রস্তাব রাষ্ট্রীয় অর্থে এবং অন্যান্য অর্থায়নে নির্মিত আবাসনকে অন্তর্ভুক্ত করে; ফলে আলোচনার পরিধি ক্রয়মূল্য ছাড়িয়ে বাসিন্দারা আশপাশে কী সুবিধা পাবেন, সেদিকেও বিস্তৃত হয়েছে।
নাসিবুলভ চান, আবাসনের নকশায় আলোকসজ্জা, পথচারীদের চলার পথ, ভূমির সৌন্দর্যবর্ধন, খেলার মাঠ, ক্রীড়া এলাকা এবং বিনোদনের স্থান অন্তর্ভুক্ত থাকুক। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী স্থানের প্রয়োজনের কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য, বিশেষ করে জেলা সদর ও গ্রামাঞ্চলে এসব প্রয়োজন উপেক্ষিত হচ্ছে।
নকশা ও ব্যয়ের নথিতে উল্লেখিত শর্তের সঙ্গে বাস্তবে সম্পন্ন কাজের তুলনা করে আগে নির্মিত সরকারি আবাসন যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন উপপ্রধান। এতে শুধু ভবন হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, তা নয়; প্রতিশ্রুত সুবিধাগুলো দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্ব পাবে।
নাসিবুলভ বলেছেন, প্রতিটি বসতির প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে আস্তানা ও আঞ্চলিক রাজধানীর বাইরেও এই মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত। নতুন আবাসনে অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে বেকতেনভের নির্দেশনার সঙ্গেও তার প্রস্তাবের যোগসূত্র রয়েছে: দৈনন্দিন জীবনের উপযোগী বাড়ি পাওয়ার ক্ষেত্রে বন্ধক ঋণের সুযোগ কেবল একটি দিক।
আবাসন বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ সময়রেখা
জমা কমানোর প্রস্তাবের পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে কার্যকর হওয়া পরিবর্তন ও লক্ষ্যমাত্রাও রয়েছে। ক্রেতা ও নির্মাতা উভয়ের অর্থায়ন একসঙ্গে বিবেচনার আহ্বান কেন জানাচ্ছেন সেইতনুরোভা, তা বুঝতে এই ধারাবাহিকতা সহায়ক।
- ২০২৫: সেইতনুরোভার মতে, পেনশন থেকে অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ ৮৩% বেড়েছে; আবাসনের জমার বড় উৎস ছিল পেনশন সঞ্চয়।
- ২০২৬: ভ্যাটের হার বেড়ে ১৬% হয়েছে। ভবিষ্যতে দামের ওপর চাপের কারণ হিসেবে এই কর পরিবর্তনের কথা বলেছেন সেইতনুরোভা।
- ১৩ ও ১৪ অক্টোবর, ২০২৬: আবাসনের জমা কমানোর প্রস্তাব তৈরিতে বেকতেনভের নির্দেশনার কথা প্রকাশ করা হয়।
- ২০২৬ সালের শেষ: ইউটিলিটি ও সুযোগ-সুবিধা প্রস্তুত রেখে ২০.৪ মিলিয়ন বর্গমিটার আবাসন নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্য সরকারের।
- ২০২৭ ও ২০২৮: বেশি করের বোঝার কারণে আবাসনের দামের ওপর প্রধান প্রভাব এ সময়ে দেখা দেবে বলে মনে করেন সেইতনুরোভা।
- ২০২৯ সাল পর্যন্ত: সেইতনুরোভা উল্লেখিত ৯০ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো পরিকল্পনা এ সময় পর্যন্ত চলবে।
ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রশ্ন হলো, প্রস্তাবিত পরিবর্তনে শুরুতে দিতে হওয়া অর্থ আরও সাশ্রয়ী হবে কি না। নির্মাতাদের ক্ষেত্রে কতটা আবাসন বাজারে আসবে, তা নির্ধারণে অর্থায়ন এবং প্রস্তুত অবকাঠামো সহায়ক হবে। সেইতনুরোভার মূল বক্তব্য, নির্মাণ অব্যাহত রাখার ব্যবস্থার পাশাপাশি চাহিদা বাড়ানোর সহায়তাও এগিয়ে নিতে হবে।
মূল বিষয়গুলো
- আবাসন কর্মসূচির জমা কমানোর প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন বেকতেনভ; নতুন কোনো হার বা কার্যকর হওয়ার তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
- নাউরিজ কর্মসূচিতে আনুষ্ঠানিক ন্যূনতম অগ্রিম জমা ঋণের অঙ্কের ২০%; ফিনিশিংয়ের কাজ সম্পন্ন নতুন আবাসনের ক্ষেত্রে ১০%।
- অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধাসহ ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ২০.৪ মিলিয়ন বর্গমিটার আবাসন নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্য সরকারের।
- কর ব্যয়, নির্মাতাদের অর্থায়নে বিধিনিষেধ এবং পেনশন সঞ্চয়ে কম প্রবেশাধিকার দাম ও সরবরাহের ওপর চাপ ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সেইতনুরোভা।
- বৈধ আবাসনের সরবরাহ কমে যাওয়া ও নগদে ব্যাপক কেনাকাটার বিষয়ে তার হিসাব শিল্প খাতের মূল্যায়ন, সরকারি পরিসংখ্যান নয়।
- শহর, জেলা সদর ও গ্রামাঞ্চলের জন্য আবাসনের ন্যূনতম মানদণ্ডের প্রস্তাব দিয়েছেন নাসিবুলভ।






