সংসদে জবাবদিহির দাবি
কাঠমান্ডুতে নিউজরুমে পুলিশের প্রবেশ এবং সাংবাদিকদের আটক করার ঘটনা নিয়ে সংসদীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে নেপাল জেন জেড ফ্রন্ট। কার নির্দেশে এবং কোন আইনের অধীনে এই অভিযান চালানো হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করতে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশ কমান্ডারদের তলবের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
সূচিপত্র
রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফ্রন্টের সমন্বয়ক রক্ষা বাম চারটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিনিধি পরিষদে থাকা দলগুলোর সদস্যদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন এবং ইলেকট্রনিক লেনদেন আইনের ৪৭ ধারা বাতিল বা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া। ফ্রন্টের বক্তব্য, সংবাদসূত্র শনাক্ত করতে নিউজরুমে প্রবেশ করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক সুরক্ষায় হস্তক্ষেপের শামিল।
শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ কয়েকটি নিউজরুমে প্রবেশ করে, কয়েকজন সাংবাদিককে আটক করে এবং অন্যদের আটক করার চেষ্টা চালায়। সংবাদমাধ্যমগুলো মধ্যস্থতাকারী ইনাম সাপকোটা ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। পরে সাংবাদিকদের ছেড়ে দেওয়া হলেও দায় কার, তা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছে, আর বিরোধীদলীয় নেতা গগন কুমার থাপার দাবি, পুলিশের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের দিকে ইঙ্গিত ছিল।
ফ্রন্টের যুক্তি, যেসব সরকারি সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তারা স্পষ্ট জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সংসদের তদন্ত করা উচিত। সংসদের অধিবেশন না চললেও তাদের এই আহ্বানে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয় পক্ষের ওপরই দায়িত্ব বর্তায়।
নিউজরুমে পুলিশ কেন গিয়েছিল?
সংশ্লিষ্ট নিউজরুমগুলো সাপকোটার সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের যোগাযোগ নিয়ে প্রতিবেদন করেছিল। এর মধ্যে তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিয়েছিলেন—এমন দাবিও ছিল। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হরি ফুয়াল প্রকাশ্যে সাপকোটার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সাপকোটা কয়েকজন বিচারপতির কাছে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
পুলিশের পদক্ষেপকে সংবাদসূত্র শনাক্ত করার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে ফ্রন্ট। সাংবাদিকদের জন্য সূত্রের পরিচয় গোপন রাখা গুরুত্বপূর্ণ: এতে স্পর্শকাতর বিষয়ে তথ্য থাকা ব্যক্তিরা চাপের মুখে পড়ার ঝুঁকি ছাড়াই তথ্য দিতে পারেন। ফলে সাংবাদিকদের কর্মস্থলে পুলিশের প্রবেশ সেখানে থাকা সাংবাদিকদের পাশাপাশি, যারা তাদের সঙ্গে কথা বলবেন কি না ভাবছেন, তাদেরও প্রভাবিত করে।
অভিযানটি কেবল একটি ঘটনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। পুলিশ প্রায় একই সময়ে একাধিক নিউজরুমে পৌঁছায়। তাই তদন্তে ওই পরিদর্শনগুলোর সমন্বয় কীভাবে করা হয়েছিল, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংসদীয় কমিটি খতিয়ে দেখতে পারে, কারা সেখানে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল, পুলিশের বিভিন্ন স্তরে নির্দেশ কীভাবে পৌঁছেছিল এবং কর্মকর্তারা কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিলেন।
বিভিন্ন বিবরণে তাৎক্ষণিক ঘটনাক্রমটি এভাবে তুলে ধরা হয়েছে:
- শুক্রবার সন্ধ্যা: পুলিশ কয়েকটি নিউজরুমে প্রবেশ করে, সাংবাদিকদের আটক করে এবং আরও কয়েকজনকে আটক করার চেষ্টা চালায়।
- শুক্রবার রাত, নেপালি ক্যালেন্ডারে কার্তিক ১৩: পুলিশ দ্বিতীয় একটি বিবৃতি দেয়, যা উদ্ধৃত করে পরে থাপা প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের চাপের অভিযোগ করেন।
- হস্তক্ষেপের খবর প্রকাশ্যে আসার পর: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, আটক সাংবাদিকদের ছেড়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- রোববার: জেন জেড ফ্রন্ট সংসদীয় তদন্তের দাবি জানায়, আর থাপা সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহির আহ্বান জানান।
কর্তৃপক্ষের পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যা
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উপদেষ্টা দীপা দাহাল বলেন, কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল না এবং আটকের বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানতও না। তিনি বলেন, ঘটনা জানার পর প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সরকারি প্রতিক্রিয়ার আরেকটি চিত্র তুলে ধরেছে ফ্রন্ট: প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় কিছু জানে না বলে জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে তাদের আরও তথ্য জানতে হবে এবং পুলিশ আটকের কথা অস্বীকার করে। বামের বিবৃতিতে এসব প্রতিষ্ঠান একে অপরের ওপর দায় চাপানোর অভিযোগ করা হয়।
নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি থাপা সচিবালয়ের ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর আটকের পেছনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আগ্রহের কথা জানিয়েছিল। তার আরও দাবি, শুক্রবার রাতে জারি করা পুলিশের দ্বিতীয় বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের—যিনি বালেন নামে পরিচিত—সচিবালয়ের চাপের কথা উল্লেখ ছিল। পুলিশের বিবৃতির এই বর্ণনা থাপার বক্তব্য।
অভিযানের অনুমোদন কে দিয়েছিলেন, এর আইনি ভিত্তি কী, ঠিক কতজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল এবং আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আছে কি না—এসব এখনো স্পষ্ট নয়। সংসদীয় কমিটি গঠন বা তদন্তের ফল প্রকাশের কোনো তারিখও ঘোষণা করা হয়নি।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি চার দাবি
শুধু উদ্বেগ প্রকাশ না করে সংসদে নিজেদের ভূমিকা কাজে লাগিয়ে জবাব আদায়ের আহ্বান জানিয়েছে ফ্রন্ট। তাদের প্রস্তাবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পুলিশ কমান্ডের কর্মকর্তাদের একই তদন্তে হাজির করা হবে, যাতে আইনপ্রণেতারা তাদের বক্তব্য মিলিয়ে দেখতে পারেন।
চারটি দাবিতে রাজনৈতিক জবাবদিহি, তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আইন সংশোধনের কথা বলা হয়েছে:
- ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোকে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ নেতৃত্বের কাছে যৌথভাবে ঘটনার জবাব চাইতে হবে।
- প্রতিনিধি পরিষদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর অংশগ্রহণে গঠিত সংসদীয় তদন্ত কমিটিকে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তলব করতে হবে।
- কে আটকের নির্দেশ দিয়েছিল এবং এর আইনি ভিত্তি কী ছিল, তা কমিটিকে শনাক্ত করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্তের ফল প্রকাশ করতে হবে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে হবে।
- সংসদে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক করতে হবে, তা সুরক্ষার স্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে এবং ইলেকট্রনিক লেনদেন আইনের ৪৭ ধারা বাতিল বা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
সংসদীয় তদন্ত হলো আইনপ্রণেতাদের পরিচালিত তদন্ত, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা পুলিশের নয়। ফ্রন্টের যুক্তি, নিজেদের আচরণ নিয়ে প্রশ্নের মুখে থাকা কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরের একটি সংস্থার কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
প্রস্তাবিত কমিটিকে আরও খতিয়ে দেখতে হবে, কর্মকর্তারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিলেন কি না, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো চাপ তাদের পদক্ষেপকে প্রভাবিত করেছিল কি না এবং বিভিন্ন নিউজরুমে একই সময়ে যাওয়ার আয়োজন কীভাবে করা হয়েছিল। এসব অনুসন্ধান থেকে সংসদ পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার ভিত্তি পাবে।
নির্বাহী ক্ষমতার সীমা টানার আহ্বান থাপার
রোববার সানেপায় নেপালি কংগ্রেসের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে থাপা নিউজরুমে পুলিশের হস্তক্ষেপকে সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও পুলিশ—সবারই আইন মেনে চলতে হবে।
আইনসম্মত শাসন আর রাজনৈতিক ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে আইনি ক্ষমতার ব্যবহারের পার্থক্য তুলে ধরেন কংগ্রেস সভাপতি:
আইনের শাসন আর আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে শাসন করার মধ্যে পার্থক্য আছে। আইনের শাসনের অর্থ শুধু নাগরিকদের আইন মানতে হবে, তা নয়; সরকারকেও আইন মানতে হবে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও পুলিশ—সবার জন্যই আইন সমানভাবে প্রযোজ্য।
রাজনীতির বাইরের পাঠকের জন্য বিষয়টি সরল: সন্দেহভাজন অপরাধ তদন্ত করার ক্ষমতা সরকারি কর্মকর্তাদের আছে, তবে সে জন্য তাদের নির্ধারিত ক্ষমতা ও প্রক্রিয়া মেনেই চলতে হবে। কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নির্দেশেরও আইনি ভিত্তি থাকা জরুরি।
থাপা বলেন, নিউজরুমে পুলিশের প্রবেশ নেপালের বহুদলীয় রাজনীতিবিহীন সাবেক পঞ্চায়েত শাসনামলের কথা মনে করিয়ে দেয়। তার যুক্তি, পুলিশ ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশেই কাজ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ হস্তক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক নির্দেশ ছিল। ব্যাপক সমালোচনার পরই সাংবাদিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বা আরএসপিকে সংসদীয় সংগঠনের মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার আহ্বানও জানান থাপা। তিনি বলেন, অনিয়মের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়াই যথেষ্ট নয়; বাস্তব ফল আসবে এমন তদন্ত দরকার।
নিউজরুম নিয়ে পুরোনো বিরোধ আবার সামনে
নেপালি ক্যালেন্ডারের ২০৮৩ সালের আষাঢ় ২৯ তারিখে সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ের ফটকের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার একটি অমীমাংসিত অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল।
থাপা স্মরণ করিয়ে দেন, সে সময় আরএসপি একটি বিবৃতি দিয়েছিল। তবে কাউকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। গাড়িগুলোর মালিকানা ও ফটকে সেগুলো রাখার দায় কার, তা এখন সরকারের বাইরে থেকে তদন্তের দাবি জোরালো করার যুক্তির অংশ হয়ে উঠেছে।
জবাবদিহি নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ থেকেই ফ্রন্টের বর্তমান দাবি। তাদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ নিজেদের ভূমিকা স্পষ্ট না করায় সরকারি তদন্তের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা—ফ্রন্টের ভাষায়—এরও সমালোচনা করেছে তারা। মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্ব কমিশনের, তাই পুলিশের ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকার পাশাপাশি কমিশনের প্রতিক্রিয়াও ফ্রন্টের উদ্বেগের বিষয়।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জেন জেড আন্দোলন
বামের বিবৃতিতে বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে হওয়া জেন জেড অভ্যুত্থানের ম্যান্ডেটের সঙ্গে এই হস্তক্ষেপ সাংঘর্ষিক। ফ্রন্ট সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে শুধু সাংবাদিকদের বিষয় হিসেবে নয়, ওই আন্দোলন থেকে উঠে আসা অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরছে।
ইলেকট্রনিক লেনদেন আইনের ৪৭ ধারা নিয়ে প্রস্তাবিত পদক্ষেপ এই দাবিতে আইনি দিকও যুক্ত করেছে। শুক্রবারের অভিযানের দায় নির্ধারণের পাশাপাশি, ফ্রন্ট আইনপ্রণেতাদের ওই নির্দিষ্ট ধারাটি পুনর্বিবেচনা করে বাতিল বা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে।
থাপা আলাদাভাবে বলেন, দুর্নীতি বন্ধে তরুণ প্রজন্মের দাবি ন্যায্য এবং কংগ্রেস তা সমর্থন করে। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করলে আরও ক্ষমতার অপব্যবহারের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
এই যুক্তির কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন কংগ্রেস সভাপতি:
শক্তিশালী সরকার মানে ক্ষমতাবান প্রধানমন্ত্রী নয়। এর অর্থ শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, বিধি ও আইন। এগুলো শক্তিশালী হলে প্রধানমন্ত্রী স্বাভাবিকভাবেই শক্তিশালী হন।
সরকার কীভাবে চলে, তা নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন
নিউজরুমের ঘটনাকে কর্মকর্তা আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের অন্যান্য খবরের সঙ্গে যুক্ত করেন থাপা। তিনি সেচ বিভাগের মহাপরিচালক এবং সুনকোশি মারিন ডাইভারশন প্রকল্পের প্রধানকে নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে নিয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কথা উল্লেখ করেন।
পাসপোর্ট ছাপানোর বিতর্কে কর্তৃপক্ষের অপব্যবহার তদন্ত কমিশনের প্রধানসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আট থেকে নয় ঘণ্টা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল—এমন অভিযোগের কথাও তিনি স্মরণ করেন। নির্মাণ ঠিকাদার ও সরকারি সচিবকে তাদের বাসা থেকে আটক করার ঘটনাও উল্লেখ করেন।
থাপা বলেন, সরকার প্রতিষ্ঠিত সংস্থার মাধ্যমে দায়িত্ব বণ্টন, কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা এবং দুর্নীতির বিচার করতে পারে। তিনি বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান এবং সাংবিধানিক সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা বজায় রাখার কথা বলেন।
সুশাসনে সহযোগিতা করতে এবং সরকারের সঙ্গে নীতিগত বিষয়ে আলোচনা করতে কংগ্রেস প্রস্তুত বলে জানান তিনি। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ত্রাণ ও পুনরুদ্ধারের বিষয়েও তাৎক্ষণিক মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম এবং ভাদ্র ২৩–২৪ আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সংলাপের প্রস্তাব দেন।
নিউজরুমের ঘটনার ক্ষেত্রে এখন রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত: জবাবদিহির দাবিকে এমন সংসদীয় প্রক্রিয়ায় রূপ দেওয়া হবে কি না, যেখানে ব্যাখ্যা সংগ্রহ, তদন্তের ফল প্রকাশ এবং দায় নির্ধারণ করা হবে। সংসদের অধিবেশন না চললেও এ কাজ শুরু করতে দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফ্রন্ট।
মূল কথা
- নিউজরুমে পুলিশের প্রবেশ ও সাংবাদিকদের আটকের ঘটনা নিয়ে সংসদীয় তদন্ত চায় নেপাল জেন জেড ফ্রন্ট।
- সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো মধ্যস্থতাকারী ইনাম সাপকোটা ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছে; কংগ্রেস সভাপতি গগন কুমার থাপার দাবি, পুলিশের বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের চাপের কথা বলা হয়েছিল।
- জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মকর্তা ও পুলিশ কমান্ডারদের তলব, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্তের ফল প্রকাশ এবং লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায় ফ্রন্ট।
- সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সংসদে বিতর্ক এবং ইলেকট্রনিক লেনদেন আইনের ৪৭ ধারা বাতিল বা সংশোধনের দাবিও রয়েছে।
- প্রস্তাবিত সংসদীয় তদন্তের সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।






