বিচারক নিয়োগের সময় অমীমাংসিত পারিবারিক আপিল
কাঠমান্ডু, ১ নভেম্বর। নেপালের সুপ্রিম কোর্টে জানক পাণ্ডের মনোনয়ন অনুমোদিত হলে তিনি এমন বিচারকদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, যাঁদের তাঁর স্ত্রী ও তাঁর কয়েকজন আত্মীয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির আপিলের রায় দিতে হতে পারে। তাঁর স্ত্রী মায়া পুরি (পাণ্ডে) বিশেষ আদালতে খালাস পেয়েছেন, তবে ওই আদালত তাঁর নামে নিবন্ধিত বিতর্কিত জমি বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দিয়েছে। রায়ের দুই অংশের বিরুদ্ধেই এখন আপিল করা হয়েছে।
সূচিপত্র
- বিচারক নিয়োগের সময় অমীমাংসিত পারিবারিক আপিল
- আটটি অভিযোগ ও বিচার পরিষদের ভেতরে ভিন্নমত
- জমির দুই মামলায় কী অভিযোগ
- ৮৮টি বাস্তুচ্যুত পরিবারের জন্য বরাদ্দ জমি
- মায়ার আত্মপক্ষ সমর্থন ও বিশেষ আদালতের সিদ্ধান্ত
- কেন দুই পক্ষই সুপ্রিম কোর্টে গেছে
- নৈতিক ঝুঁকি নিয়ে পাণ্ডে ও সাবেক বিচারকদের মতভেদ
- যেভাবে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে বিরোধ
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক
- মূল বিষয়গুলো
দুর্নীতি দমন কমিশন (সিআইএএ) খালাসের রায় বাতিল চায়। মায়া চান তাঁর জমি ফেরত। তাদের পাল্টাপাল্টি আপিলের বিষয়, ঝাপার দামাকে রাতুয়া ও ডিপিনি নদীর মিলনস্থলের কাছে সরকারি জমি, যা স্থানীয়ভাবে বালুওয়াটার নামে পরিচিত।
পাটান হাইকোর্টের হেতৌডা বেঞ্চের বিচারক পাণ্ডে সংসদীয় যাচাইয়ের অপেক্ষায় থাকা চার মনোনীত ব্যক্তির একজন। আগের শুক্রবার পর্যন্ত চার মনোনীত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ জমা পড়েছিল; অভিযোগ জমার শেষ তারিখ ৫ নভেম্বর। প্রত্যেক মনোনীত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কতটি অভিযোগ রয়েছে এবং কোনো অভিযোগে জমি-বিরোধের কথা বলা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ করা হয়নি।
তাৎক্ষণিক নৈতিক প্রশ্নটি শুধু পাণ্ডে নিজে মামলার শুনানিতে অংশ নেবেন কি না, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি স্বীকার করেছেন, স্ত্রীর মামলার শুনানি তিনি করতে পারবেন না। সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারকেরা বলছেন, তাঁর নিয়োগ হলে তাঁর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা একজনের পরিবারের সদস্যকে নিয়ে মামলার সিদ্ধান্ত নিতে হবে সহকর্মীদেরও।
পাণ্ডের যুক্তি, অন্য বিচারকেরা কোনো অসুবিধা ছাড়াই আপিলগুলোর শুনানি করতে পারবেন। তাঁর উপযুক্ততা নিয়ে সংসদকে এখন বিবেচনা করতে হবে, আর সুপ্রিম কোর্ট আলাদাভাবে তাঁর পরিবারের সংশ্লিষ্ট আইনি দাবিগুলোর সিদ্ধান্ত নেবে। নিয়োগপ্রক্রিয়া ও আপিলের উদ্দেশ্য আলাদা: একটিতে সম্ভাব্য বিচারকের উপযুক্ততা যাচাই করা হয়, অন্যটিতে নির্ধারিত হয় ফৌজদারি দায় ও বিতর্কিত জমির মালিকানা।
আটটি অভিযোগ ও বিচার পরিষদের ভেতরে ভিন্নমত
বিচার পরিষদ ৬ অক্টোবর রত্ন বাহাদুর বাগচাঁদ, চন্দ্র বাহাদুর সারু, জানক পাণ্ডে ও গোকর্ণ ডাঙ্গিকে সুপারিশ করে। বাগচাঁদ পোখরা হাইকোর্টের প্রধান বিচারক। সারু পাটান হাইকোর্টে দায়িত্ব পালন করেন, আর ডাঙ্গি এর আগে জনকপুর হাইকোর্টের বীরগঞ্জ অস্থায়ী বেঞ্চে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরিষদের ভেতরে সুপারিশগুলো নিয়ে আপত্তি ওঠে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি স্বপ্না প্রধান মল্ল ও পরিষদের সদস্য মহেশ কুমার নেপাল ভিন্নমতের নোট জমা দেন।
প্রধান মল্ল আপত্তি জানান যে যথেষ্ট কারণ ছাড়াই জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করা হয়েছে, বাছাইপ্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির ঘাটতি ছিল এবং নেপাল বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিত্ব ছিল না। তিনি আরও বলেন, পুরো সুপারিশপ্রক্রিয়ায় তিনি অংশ নেননি এবং এতে সম্মতও ছিলেন না। নেপাল বিশেষভাবে পাণ্ডে ও ডাঙ্গিকে সুপারিশ করার বিরোধিতা করেন।
সংসদীয় শুনানি কমিটি ২৬ অক্টোবর জনসাধারণের কাছ থেকে অভিযোগ আহ্বান করে এবং স্পষ্ট কারণ ও প্রমাণ দিতে বলে। ১০ দিনের মধ্যে কমিটির সচিবালয়ে বা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে অভিযোগ জমা দেওয়া যেত। অভিযোগকারীদের পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্য দিতে বলা হয়; পরিচয় গোপন রাখতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য গোপনীয়তার ব্যবস্থাও ছিল।
কমিটি অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করবে এবং মনোনীত ব্যক্তিদের কর্মপরিকল্পনা শুনে তাঁদের অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেবে। পাণ্ডের শুনানি পরের সপ্তাহে হওয়ার কথা। পরিষদের ভেতরের আপত্তিগুলো বাছাইপ্রক্রিয়া নিয়ে; বিচারাধীন পারিবারিক আপিলগুলো বিচারিক নৈতিকতা নিয়ে আলাদা প্রশ্ন তুলেছে।
জমির দুই মামলায় কী অভিযোগ
ব্যক্তিমালিকানায় সরকারি জমি নিবন্ধনের অভিযোগে সিআইএএ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুটি দুর্নীতির মামলা করে। একটিতে ৩৯৭ রোপানি এবং অন্যটিতে ৩৮৪ রোপানি জমির কথা বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে জমির পরিমাণ ৭৮১ রোপানি, যে কারণে বিরোধটিকে প্রায় ৮০০ রোপানির বলে বর্ণনা করা হয়। নেপালে জমির ক্ষেত্রফল মাপার প্রচলিত একক হলো রোপানি।
প্রথম মামলায় ১৭২ জন আসামি ছিলেন: ২৮ জন সরকারি কর্মচারী, জমি দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত ৩৬ জন এবং পরবর্তী সময়ে জমি কেনা ১০৮ জন। দ্বিতীয় মামলায় আসামি ছিলেন ১৮৭ জন: ৯ জন সরকারি কর্মচারী, জমি দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত ৬৫ জন এবং জমি কেনা ১১৩ জন। অনেকেই দুই মামলাতেই ছিলেন, তাই আসামির সংখ্যা যোগ করলে কারও কারও নাম দুবার গণনা হবে।
কমিশনের অভিযোগ, কর্মকর্তারা সরকারি সম্পত্তি নিবন্ধনে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং রেভতারাজ, যিনি গগন পুরি নামেও পরিচিত, ও তাঁর আত্মীয়রা ওই প্রক্রিয়া থেকে লাভবান হয়েছেন। গগন পুরি স্থানীয় মাওবাদী নেতা এবং মায়ার ভাই। তাঁদের মা দেবরূপা পুরি ও গগনের স্ত্রী কেশবতী পুরিও ওই লেনদেন-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত।
সিআইএএর ক্ষতিপূরণ দাবির পরিমাণ ৩৪৬.৬৫ মিলিয়ন রুপি বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও প্রকাশিত আরেকটি হিসাবে তা ৩৪.৬৭ মিলিয়ন রুপি। বড় অঙ্কটি নেপালি ভাষায় বিস্তারিতভাবে লেখা ৩৪ কোটি, ৬৬ লাখ ও ৫৪ হাজার রুপির সঙ্গে মেলে।
৮৮টি বাস্তুচ্যুত পরিবারের জন্য বরাদ্দ জমি
এই বিরোধের সূত্রপাত ১৯৮১ সালের বন্যায়। সে সময় রাতুয়া নদীর গতিপথ বদলে যাওয়ায় ভূমিহীনদের একটি বসতি বাস্তুচ্যুত হয়। পরে বাঁধ নির্মাণের কাজের মাধ্যমে নদীর গতিপথ আবার ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময়ের ফেলে যাওয়া জমির নিবন্ধনই তদন্তের বিষয় হয়ে ওঠে।
সিআইএএর সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত নথির উদ্ধৃত বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে নদীর মিলনস্থলের উত্তরে দামাকের ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের জমি জরিপ করে ৮৮টি বাস্তুচ্যুত পরিবারের মধ্যে বণ্টনের জন্য ভাগ করা হয়। মালিকানার সনদ দেওয়ার আগেই ভূমিহীন কমিশন বিলুপ্ত হয়ে যায়, আর জমিটি অনাবাদি পড়ে থাকে।
অবৈধ জরিপ ও ব্যক্তিমালিকানায় জমি নিবন্ধনের অভিযোগে সিআইএএ শ্রাবণ ২০৭৪ বঙ্গাব্দে, অর্থাৎ ২০১৭ সালের জুলাই ও আগস্টে, একটি অভিযোগ পায়। তদন্তে প্রায় সাত বছর লেগেছিল।
কমিশনের অভিযোগ, সরকারি জমি স্ববাসী জমি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিল; স্ববাসী বলতে ব্যক্তির দখলে রয়েছে বলে স্বীকৃত জমি বোঝায়। পুরোনো জমির নথির সঙ্গে নতুন জরিপের তথ্য মেলানোর জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতিও কমিশন চ্যালেঞ্জ করেছে। সহজ কথায়, অভিযোগ হলো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে পরিণত করা হয়েছিল।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, নিবন্ধন শুরু হয়েছিল ২০৬৬ বঙ্গাব্দে, অর্থাৎ আনুমানিক ২০০৯ ও ২০১০ সালে। পরের নেপালি পঞ্জিকা-দশকের শুরু নাগাদ পুরির গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে প্রায় ২০০ রোপানি জমি ছিল। নথিতে পুরি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে ১০০টিরও বেশি জমি হস্তান্তরের উল্লেখ রয়েছে।
মায়ার আত্মপক্ষ সমর্থন ও বিশেষ আদালতের সিদ্ধান্ত
মায়ার বক্তব্য, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জমি কিনে এবং তাঁর মাতৃকুলের কাছ থেকে উপহার পেয়ে তিনি জমির মালিক হয়েছেন। নিজের বিবৃতিতে তিনি এক বিঘা ও ১৯ কাঠা জমির কথা উল্লেখ করেন; নেপালের দক্ষিণের সমতল অঞ্চলে জমি মাপার প্রচলিত একক এগুলো।
মায়া বলেন, লেনদেনগুলো আইনসম্মত ছিল এবং তাঁর জমির মধ্যে সরকারি সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ অস্বীকার করেন:
জরিপে কোনো সরকারি বা জনসাধারণের জমি অন্তর্ভুক্ত করে আমি দুর্নীতি করিনি। যথাযথ সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে আমরা জমি পেয়েছি, আর এতে আমাদের কোনো যোগসাজশ বা স্বার্থ ছিল না।
অসৎ উদ্দেশ্য প্রমাণিত না হওয়ায় বিশেষ আদালত মায়া ও অন্যান্য জমির মালিককে খালাস দেন। তবে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ২০০২-এর ৪৭ ধারা অনুযায়ী তাঁদের নামে নিবন্ধিত বিতর্কিত জমি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন।
তাই রায়ের দুটি সুনির্দিষ্ট ফল হয়েছিল: ওই পর্যায়ে মায়া দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস পান, কিন্তু বাজেয়াপ্তের আদেশে বিতর্কিত জমি হারান। সেই ক্ষতি উল্টে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
কেন দুই পক্ষই সুপ্রিম কোর্টে গেছে
সম্পত্তি অর্জন, ব্যবহার ও হস্তান্তরে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী বলে যাদের মনে করে, বিশেষ আদালত তাদের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তা চ্যালেঞ্জ করেছে সিআইএএ। কমিশনের যুক্তি, তারা শুধু সুবিধাভোগী ছিল না; তাই তাদের খালাসের রায় বাতিল করতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছে।
কমিশনের বক্তব্য, সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানায় নিবন্ধিত করে পরে হস্তান্তর করার ফলে সরকারি অর্থ ও সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। মায়ার বক্তব্য, তাঁর জমি অধিগ্রহণ আইনসম্মত ছিল এবং বাজেয়াপ্তের আদেশ বাতিল করা উচিত। প্রমাণ ও প্রযোজ্য আইন বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্টকে এসব দাবির সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সিআইএএর আপিলটি ০৮২-সিআর-১৪৩৩ নম্বর মামলা হিসেবে চিহ্নিত। জমি-সংক্রান্ত ৭৪টি সংশ্লিষ্ট মামলার সঙ্গে এটিও তালিকাভুক্ত ছিল। এই সংখ্যা বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত বৃহত্তর মামলাগুচ্ছের পরিধি তুলে ধরে।
আলাদা রায়ের কারণে গগন পুরিও পরিণতির মুখে পড়েছেন। জমি দুর্নীতির একটি মামলায় বিশেষ আদালত তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৩,১৫২,০০০ রুপি জরিমানা করেছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিষ্পত্তি হওয়া পৃথক অর্থপাচার মামলায় আদালত ৪০.৩ মিলিয়ন রুপি পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেয়। অর্থপাচার মামলাটিও এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।
নৈতিক ঝুঁকি নিয়ে পাণ্ডে ও সাবেক বিচারকদের মতভেদ
পাণ্ডে তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং তাঁর খালাসের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিচারাধীন আপিল সুপ্রিম কোর্টের অন্য বিচারকদের কাজ করতে বাধা দেবে না।
অন্য বিচারকদের অবস্থান থেকে নিজের অবস্থান কেন আলাদা বলে মনে করেন, তা ব্যাখ্যা করে পাণ্ডে বলেন:
আমার নিজের স্ত্রীর মামলা আমি শুনতে পারি না, কিন্তু অন্যদের জন্য এতে সমস্যা হবে কেন?
ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কোনো মামলা থেকে বিচারকের সরে দাঁড়ানোকে ‘রিকিউজাল’ বলা হয়। এ ক্ষেত্রে পাণ্ডে মেনে নিয়েছেন যে স্ত্রীর মামলা থেকে তাঁকে সরে থাকতে হবে। মতভেদটি হলো, তাঁর সহকর্মীরা যে চাপের মুখে পড়তে পারেন, অথবা তাঁদের ওপর চাপ আছে বলে যে ধারণা তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে।
সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি টোপ বাহাদুর সিং বলেন, কোনো সহকর্মীর স্ত্রীর আপিলের সিদ্ধান্ত নিলে বিচারকেরা নিরপেক্ষ থাকতে চাইলেও তাঁদের স্বাধীনতা নিয়ে মানুষের ধারণা প্রভাবিত হতে পারে। পরিচিত প্রতিবেশীদের সংশ্লিষ্ট মামলা এড়িয়ে যাওয়ার কথা তিনি স্মরণ করেন।
সাবেক বিচারপতি একরাজ আচার্য বলেন, বিচারকেরা ব্যক্তিগতভাবে ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ করেছেন। তিনি সাবেক বিচারপতি ত্রিলোক প্রতাপ রানার রানা পরিবারের সদস্যদের সংশ্লিষ্ট মামলা এড়িয়ে চলার কথা এবং প্রতিবেশীদের সংশ্লিষ্ট মামলায় সিংয়ের সতর্কতার কথা উল্লেখ করেন।
রিকিউজাল কতটা বিস্তৃতভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত, তা নির্ধারণের জটিলতা তুলে ধরে আচার্য বলেন:
নৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কত দূর যাওয়া উচিত, সেটিই মূল প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য এর পরিণতি বাস্তব। মায়া জমি ফেরত চান; সিআইএএ দোষী সাব্যস্তকরণ ও সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার চায়; আর বিচারকদের তাঁর স্বামীর সঙ্গে কাজ করতে করতেই এসব দাবির সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। নিয়োগের আগে সংসদীয় শুনানিতে আইনপ্রণেতাদের এ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার সুযোগ রয়েছে।
যেভাবে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে বিরোধ
জমি-সংক্রান্ত মামলা ও মনোনয়ন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এগিয়েছে। কয়েক দশক আগের বিরোধ কীভাবে নিয়োগের তাৎক্ষণিক ইস্যু হয়ে উঠেছে, তা মূল ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট:
- ১৯৮১: বন্যা ও রাতুয়া নদীর গতিপথ বদলে যাওয়ায় ভূমিহীনদের একটি বসতি বাস্তুচ্যুত হয়।
- ১৯৮২: বাস্তুচ্যুত ৮৮টি পরিবারের জন্য জমি ভাগ করা হয়, কিন্তু ভূমিহীন কমিশন বিলুপ্ত হওয়ার আগে মালিকানার সনদ বিতরণ করা হয়নি।
- ২০১৭: অবৈধ জরিপ ও নিবন্ধনের অভিযোগে সিআইএএ একটি অভিযোগ পায়।
- ফেব্রুয়ারি ২০২৪: অর্থপাচার মামলায় গগন পুরির বিরুদ্ধে রায় দেয় বিশেষ আদালত এবং সিআইএএ জমি দুর্নীতির দুটি মামলা করে।
- ৬ অক্টোবর: বিচার পরিষদ পাণ্ডেসহ সুপ্রিম কোর্টের চার মনোনীত ব্যক্তিকে সুপারিশ করে।
- ২৬ অক্টোবর: সংসদীয় শুনানি কমিটি জনসাধারণের কাছ থেকে অভিযোগ আহ্বান করে।
- ১ নভেম্বর: আগের শুক্রবার পর্যন্ত চার মনোনীত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছিল।
- ৫ নভেম্বর: অভিযোগ জমার সময়সীমা শেষ হবে।
কমিটির পরবর্তী কাজ হলো আপত্তিগুলো খতিয়ে দেখা এবং মনোনীত ব্যক্তিদের শুনানি নেওয়া। অনুমোদন পেলে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগোবে; আর সুপ্রিম কোর্টের আপিলগুলোর বিচারিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজ চলবে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক
নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি গগন থাপা ১ নভেম্বর বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সততা কীভাবে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে তাঁর দল প্রস্তুত। প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে গঠিত এবং সেই কাঠামোর প্রভাব কী, তা বিবেচনায় নিয়ে পক্ষপাতহীন আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
তাঁর মন্তব্য মায়ার আপিলের মেরিট নিয়ে নয়, বরং বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক বিতর্ক নিয়ে। পাণ্ডের মনোনয়নে সুনির্দিষ্ট প্রশ্নগুলো আরও সীমিত: তাঁর পারিবারিক স্বার্থ কীভাবে প্রকাশ করা হবে, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো থেকে তিনি কীভাবে দূরে থাকবেন এবং তাঁর আত্মীয়দের জড়িত মামলায় সহকর্মীরা কীভাবে বিবেচনা করবেন।
আদালতের পৃথক ভূমিকার প্রতি সম্মান রেখে কমিটিকে মনোনীত ব্যক্তির মূল্যায়ন করতে হবে। মায়ার খালাসের রায় আপিলাধীন, তাঁর জমি নিয়ে বাজেয়াপ্তের বিতর্কিত আদেশ বহাল রয়েছে এবং সিআইএএ ভিন্ন ফল চেয়ে যাচ্ছে। অমীমাংসিত এসব মামলার কারণে মনোনয়নের সময়টি নৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।
মূল বিষয়গুলো
- নেপালের সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা চার বিচারকের একজন জানক পাণ্ডে।
- তাঁর স্ত্রী মায়া পুরি দুর্নীতির অভিযোগে খালাস পেয়েছেন, তবে বিশেষ আদালত তাঁর নামে থাকা বিতর্কিত জমি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছে।
- সিআইএএ খালাসের রায় চ্যালেঞ্জ করেছে, আর মায়া জমি ফেরত চান।
- দুর্নীতির দুটি মামলায় দামাকের ৩৯৭ ও ৩৮৪ রোপানি জমির কথা বলা হয়েছে; মোট পরিমাণ ৭৮১ রোপানি।
- আগের শুক্রবার পর্যন্ত চার মনোনীত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ জমা পড়েছিল; অভিযোগ জমার সময়সীমা ৫ নভেম্বর শেষ হবে।
- বিচার পরিষদের দুই সদস্য সুপারিশে ভিন্নমত জানিয়েছেন; মহেশ কুমার নেপাল বিশেষভাবে পাণ্ডে ও গোকর্ণ ডাঙ্গিকে মনোনয়নের বিরোধিতা করেন।
- পাণ্ডে মেনে নিয়েছেন যে স্ত্রীর মামলা তিনি শুনতে পারবেন না। সহকর্মীদের ওই মামলা শোনার বিষয়েও সাবেক বিচারকেরা উদ্বেগ জানিয়েছেন।






