কেন্দ্রের হাতে থাকা ক্ষমতা নিয়ে ছয় মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক
পুলিশ, সরকারি কর্মচারী ও আর্থিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ চেয়ে নেপালের সাত মুখ্যমন্ত্রীর ছয়জন বিরাটনগরে জড়ো হয়েছেন। গান্ডাকির মুখ্যমন্ত্রী সুরেন্দ্র রাজ পাণ্ডে বলেছেন, আগের এক প্রাদেশিক বৈঠকে উত্থাপিত ১৭টি দাবির ১৬টিই এখনো অমীমাংসিত। আংশিকভাবে পূরণ হওয়া দাবিটি—ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড ছাপানোর অনুমতি—নিয়েও প্রদেশগুলোকে কেন্দ্রীয় মুদ্রণ বিভাগের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে তিনি জানান।
সূচিপত্র
- কেন্দ্রের হাতে থাকা ক্ষমতা নিয়ে ছয় মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক
- সাংবিধানিক বিরোধের তাৎপর্য
- আগের সমঝোতার দীর্ঘ তালিকার অনেক কিছুই অসম্পূর্ণ
- প্রাদেশিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই পুলিশের দায়িত্ব
- কর্মী নিয়োগে বিলম্বের প্রভাব প্রাদেশিক মন্ত্রণালয় পর্যন্ত
- প্রাদেশিক আইনে ফেডারেল বিধিনিষেধ
- জমি নিয়ে বিরোধে নির্দিষ্ট প্রকল্প আটকে
- প্রদেশভেদে অর্থায়নের দাবি ভিন্ন
- দুর্যোগ ত্রাণ ও পর্যটনে যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব
- প্রাদেশিক কর্মদক্ষতাও পরীক্ষার অংশ
- মূল বিষয়গুলো
কোশিতে আয়োজিত এই সম্মেলনে কোশি, মধেশ, বাগমতী, গান্ডাকি, লুম্বিনী ও কর্ণালির মুখ্যমন্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন। প্রাদেশিক বাজেট নিয়ে বিরোধের কারণে সুদূরপশ্চিমের মুখ্যমন্ত্রী খগরাজ ভট্ট অনুপস্থিত থাকলেও তাঁর প্রদেশের প্রধান সচিব প্রতিনিধিত্ব করছেন। ফেডারেল সরকারের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন না।
আইনি বাধা, আর্থিক ক্ষমতা এবং প্রদেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে বুধবার বিরাটনগর ঘোষণার মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হওয়ার কথা। বাগমতীর মুখ্যমন্ত্রী কিরণ থাপা মাগার বলেন, ঘোষণায় মুখ্যমন্ত্রীদের জন্য একটি অংশীদারত্ব ফোরাম গঠনের কথা থাকবে। যৌথ দুর্যোগ ত্রাণ তহবিল এবং ধর্মীয় পর্যটন সার্কিটের প্রস্তাবও রয়েছে, যা কাঠমান্ডুর কাছে দাবিদাওয়ার বাইরেও সম্মেলনের আলোচ্যসূচি বিস্তৃত করছে।
মূল অভিযোগটি হলো দায়িত্ব ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ব্যবধান। প্রাদেশিক সরকারগুলো মন্ত্রণালয় পরিচালনা করে, বাজেট অনুমোদন দেয়, আইন প্রণয়ন করে এবং উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু তাদের নেতাদের ভাষ্য, পুলিশ মোতায়েন, জ্যেষ্ঠ পদে কর্মী নিয়োগ, জমি ও রাজস্বসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এখনো ফেডারেল সরকারের হাতে।
মুখ্যমন্ত্রীদের দাবিগুলো এক নয়। মধেশ তার জনসংখ্যা ও সেবার প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ চায়। কর্ণালি ও সুদূরপশ্চিম চায় দুর্গম ভূপ্রকৃতি, দারিদ্র্য ও উন্নয়নের ঘাটতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হোক। এসব ভিন্ন অগ্রাধিকারের মধ্যে কার্যকর সমঝোতা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রদেশগুলো নিজেদের কাজের মান কীভাবে বাড়াবে, তা ব্যাখ্যা করাই তাদের অভিন্ন চ্যালেঞ্জ।
সাংবিধানিক বিরোধের তাৎপর্য
নেপালের সংবিধানে সরকারকে ফেডারেল, প্রাদেশিক ও স্থানীয়—এই তিন স্তরে ভাগ করা হয়েছে। ২৩২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, এসব স্তরের সম্পর্ক সহযোগিতা, সহাবস্থান ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। মুখ্যমন্ত্রীদের যুক্তি, আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে প্রাদেশিক দায়িত্ব পালনে কেন্দ্রের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করতে হলে এই ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।
কোশির মুখ্যমন্ত্রী হিকমত কুমার কার্কি চান, কোন ক্ষমতা কোন স্তরের, তা আইনে আরও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হোক। তাঁর উদ্বেগ বাস্তবভিত্তিক: নির্বাচিত কোনো প্রাদেশিক সরকারকে একটি সেবার জন্য দায়ী করা হতে পারে, অথচ সেই সেবা দিতে প্রয়োজনীয় কর্মী, সম্পদ বা প্রতিষ্ঠানের ওপর তার স্পষ্ট কর্তৃত্ব নাও থাকতে পারে।
আয়োজক প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কার্কি এই সম্মেলনকে কোনো নির্দিষ্ট সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়, বরং ফেডারেল ব্যবস্থা উন্নয়নের ফোরাম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নেপালি থেকে অনূদিত বক্তব্যে তিনি আইনি সীমারেখা আরও স্পষ্ট করার আহ্বান জানান:
এখন আইনে স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে, কোন ক্ষমতা ফেডারেল সরকারের, কোনটি প্রদেশের এবং কোনটি স্থানীয় স্তরের।
বাগমতীর থাপা মাগারও বলেন, কাঠমান্ডু থেকে প্রাদেশিক রাজধানীতে কর্তৃত্ব সরালেই ফেডারেল ব্যবস্থার উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। নাগরিকদের সরকারের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ, স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি এবং সিদ্ধান্তের জন্য জবাবদিহিমূলক সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। দায়িত্বের ওভারল্যাপ ও দুর্বল সমন্বয়কে তিনি বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং পারস্পরিক দোষারোপকে সমাধান হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেন।
আগের সমঝোতার দীর্ঘ তালিকার অনেক কিছুই অসম্পূর্ণ
বিরাটনগরের বৈঠকের আগে কয়েক বছর ধরে প্রাদেশিক সম্মেলন এবং ফেডারেল নেতাদের কাছে দাবি পেশ করা হয়েছে। কার্কি বলেন, নেপালি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২০৭৫ সাল থেকে উত্থাপিত অনেক বিষয়ই অমীমাংসিত রয়েছে। পাণ্ডে চান, নতুন সম্মেলনে আরেকটি তালিকা তৈরির বদলে আগের সমঝোতাগুলোর বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা হোক।
বৈঠক ও পরিকল্পিত পদক্ষেপগুলোর ধারাবাহিকতা হলো:
- ২০৭৫: প্রাদেশিক দাবিগুলোর সমন্বয়ের প্রাথমিক উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীরা পোখারায় বৈঠক করেন।
- ২০৮০ সালের ১৫ আষাঢ়: পোখারার বৈঠকে ফেডারেল সরকারের কাছে ১৭ দফা যৌথ প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়।
- ২০৮০ সালের ১৬ আষাঢ়: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল উপস্থিত জাতীয় সমন্বয় পরিষদের বৈঠকে প্রাদেশিক নেতারা তাঁদের উদ্বেগ তুলে ধরেন।
- ২০৮০ সালের ১৩ পৌষ: হেটৌড়ার এক বৈঠকে পৃথক নয় দফা যৌথ প্রস্তাব তৈরি করা হয়।
- ২০৮৩ সালের ২৭ আশ্বিন: প্রকাশিত তারিখ অনুযায়ী বিরাটনগর সম্মেলন শুরু হয়।
- উদ্বোধনের পরের বুধবার: অংশগ্রহণকারীদের বিরাটনগর ঘোষণা প্রকাশ করার কথা।
পাণ্ডের হিসাবে ১৭টি দাবির মধ্যে ১৬টি অমীমাংসিত থাকার অর্থ, ওই তালিকার প্রায় ৯৪ শতাংশ দাবিই এখনো বাকি। এতে দাবির সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোর আপেক্ষিক গুরুত্ব বা ব্যয় নয়। লাইসেন্স ছাপানোর উদাহরণটি আরও ইঙ্গিত দেয়, আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর হলেও তা অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে, যদি প্রদেশ স্বাধীনভাবে সেই দায়িত্ব পালনের উপায় না পায়।
সময়কাল নিয়ে বর্ণনায় অসংগতি রয়েছে। কোথাও প্রাদেশিক অভিজ্ঞতাকে নয় বছর বা প্রায় এক দশক বলা হয়েছে, আবার সম্মেলনের তারিখ ২০৮৩ উল্লেখ করে সংবিধান প্রণয়নের বছর বলা হয়েছে ২০৭২। এই বর্ণনাগুলো পুরোপুরি মেলে না; তাই বাস্তবায়নে কত সময় পেরিয়েছে, তা যাচাই করা হিসাব হিসেবে ধরা উচিত নয়।
প্রাদেশিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই পুলিশের দায়িত্ব
ফেডারেল কাঠামোর মধ্যে কর্মী ও কমান্ডের দায়িত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়া—পুলিশ সমন্বয়—দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর একটি। মুখ্যমন্ত্রীরা বলছেন, প্রাদেশিক পুলিশ এখনো তাঁদের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফলে জননিরাপত্তার জন্য জবাবদিহি করতে হলেও নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের নেই।
মধেশের মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণপ্রসাদ যাদব এই সমস্যার সঙ্গে ভারতের সঙ্গে প্রদেশটির উন্মুক্ত সীমান্তের যোগসূত্র টেনেছেন। তিনি বলেন, পুলিশ সমন্বয় না হওয়ায় চোরাচালান ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা কঠিন হচ্ছে। সম্পদ, সরঞ্জাম ও নথিপত্র হস্তান্তরেরও আহ্বান জানান তিনি। তাঁর যুক্তি, কার্যকর কাঠামো ছাড়া দায়িত্ব দিলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কার্যকর হতে পারে না।
পাণ্ডে একই বিষয়কে দুর্যোগ মোকাবিলার সঙ্গে যুক্ত করেন। বন্যা ও ভূমিধসের সময় মানুষ প্রাদেশিক সরকারের কাছে সহায়তা চায়, কিন্তু উদ্ধারকাজে প্রায়ই প্রথমে প্রয়োজন হয় যে বাহিনীকে, সেই পুলিশের ওপর প্রাদেশিক নেতাদের কমান্ড নেই বলে তিনি জানান। তাঁর দাবি নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীদের জন্য অতিরিক্ত এসকর্ট বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে নয়।
নেপালে ফেডারেল ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করা অর্জুন বিক সুনসারির কাপ্তানগঞ্জে ধর্মীয় উত্তেজনার ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যেখানে প্রাদেশিক পর্যায়ের জ্ঞান কাজে লাগতে পারত বলে তাঁর মত। তিনি যুক্তি দেন, কাছের বিরাটনগরে থাকা সরকার স্থানীয় সামাজিক বাস্তবতা বুঝতে পারায় দ্রুত সাড়া দিতে পারত। প্রাদেশিক কমান্ড কীভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে এটি তাঁর মূল্যায়ন; ভিন্ন কমান্ড কাঠামো থাকলে ঘটনাটি নিশ্চিতভাবে ঠেকানো বা সমাধান করা যেত—এমন প্রমাণ নয়।
বাগমতীর মুখ্যমন্ত্রী চান, পুলিশ সমন্বয়ের বিষয়ে ফেডারেল সরকারের ওপর আনুষ্ঠানিক আইনি চাপ দেওয়ার বিষয়টি সম্মেলনে বিবেচনা করা হোক। বৈঠকের বিবরণে নির্দিষ্ট কোনো আদালতি আবেদন, শুনানি বা বাধ্যতামূলক বাস্তবায়নের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
কর্মী নিয়োগে বিলম্বের প্রভাব প্রাদেশিক মন্ত্রণালয় পর্যন্ত
লুম্বিনীর মুখ্যমন্ত্রী চেত নারায়ণ আচার্য বলেন, ফেডারেল সিভিল সার্ভিস আইন এখনো সংসদে ঝুলে আছে। তাঁর যুক্তি, এই বিলম্ব অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং কর্মীদের মনোবলে আঘাত করেছে; প্রশাসনিক ক্ষমতা পুরোপুরি হস্তান্তর না হওয়ায় প্রাদেশিক কার্যক্রমও দুর্বল হয়েছে।
সিভিল সার্ভিস আইন সরকারি কর্মীদের নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি ও ব্যবস্থাপনার নিয়ম নির্ধারণ করে। প্রদেশগুলোর ক্ষেত্রে বিরোধটি দৈনন্দিন প্রশাসনেও প্রভাব ফেলে: কোনো মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত কর্মসূচি থাকতে পারে, কিন্তু তা বাস্তবায়নের জন্য স্থিতিশীল নেতৃত্ব বা পর্যাপ্ত কর্মী নাও থাকতে পারে।
প্রাদেশিক মন্ত্রণালয়ে ফেডারেল সরকার সচিব পাঠানোর চলমান প্রথা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যাদব। তিনি বলেন, প্রশাসনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও ফেডারেল সরকারের ভূমিকার মধ্যে আরও স্পষ্ট সীমারেখা থাকা প্রয়োজন।
গান্ডাকি আংশিকভাবে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছে। পাণ্ডে বলেন, সাংগঠনিক ও ব্যবস্থাপনা জরিপের মাধ্যমে প্রদেশটি প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে কর্মচারীদের ১১তম স্তরে অন্তত একটি পদ সৃষ্টি করেছে। ফেডারেল সচিব না এলে একজন জ্যেষ্ঠ প্রাদেশিক কর্মী যাতে কাজ চালিয়ে নিতে পারেন, সেটিই এর উদ্দেশ্য। সচিব পদায়ন করা হলেও তাঁদের ঘনঘন বদলি কাজের ধারাবাহিকতা ব্যাহত করে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এই পদক্ষেপে প্রাদেশিক উদ্যোগ ও তার সীমাবদ্ধতা—দুটিই স্পষ্ট। সচিব পদের নিচের স্তরে কর্মী কাঠামো শক্তিশালী করতে পারে গান্ডাকি, কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় মন্ত্রণালয়ের সচিবদের স্বাধীনভাবে নিয়োগ দিতে পারে না বলে পাণ্ডে জানান। ফেডারেল সিভিল সার্ভিস আইন কবে পাস হবে, বৈঠকের বিবরণে তার কোনো তারিখ নেই।
প্রাদেশিক আইনে ফেডারেল বিধিনিষেধ
নেপালি বর্ষপঞ্জির ২০১২ সালের পুলিশ আইন, ২০২৮ সালের শিক্ষা আইন এবং ২০৪৯ সালের বন আইনকে প্রাদেশিক পদক্ষেপ সীমিত করার জন্য ব্যবহৃত পুরোনো আইন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন পাণ্ডে। জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত আইনকেও তিনি বাধার তালিকায় রেখেছেন। এগুলো আইনি বাধা সম্পর্কে তাঁর বর্ণনা; প্রকাশিত কোনো বিচারিক রায়ের সিদ্ধান্ত নয়।
নিজেদের এখতিয়ারভুক্ত বলে বিবেচিত ক্ষেত্রগুলোতে গান্ডাকি ইতিমধ্যে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। পাণ্ডে বলেন, ফেডারেল আইনের সঙ্গে বিরোধ থাকায় প্রদেশটির বন আইন আদালতে আটকে দেওয়া হয়। বৈঠকের বিবরণে মামলাটি, আদালতের আদেশ বা পরবর্তী শুনানির কথা উল্লেখ নেই; ফলে সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি ও সময়সূচি অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
অন্যান্য প্রাদেশিক উদ্যোগও একই ধরনের জটিলতায় পড়েছে। দেশীয় মদের ব্র্যান্ডিং ও বিপণন নিয়ে গান্ডাকির ব্যবস্থা ফেডারেল আবগারি বিধানের কারণে বাধাগ্রস্ত। ঔষধি ও শিল্পকার্যে গাঁজা চাষসংক্রান্ত প্রাদেশিক আইনও ফেডারেল আইনি বিধিনিষেধের মুখে রয়েছে বলে পাণ্ডে জানান। তাই প্রাদেশিক পর্যায়ে আইন পাস হলেই যে আরও আইনি পরিবর্তন ছাড়া এসব কার্যক্রম চালানো যাবে, তা নিশ্চিত হয় না।
পাথর, নুড়ি, বালু ও খনির অধিকারের বিরোধের আর্থিক প্রভাবও রয়েছে। তিন স্তরের সরকারের মধ্যে কর্তৃত্বের ওভারল্যাপ প্রদেশের রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা সীমিত করছে বলে পাণ্ডে জানান। কোনো প্রদেশ নিজের কাজের বড় অংশ স্থানীয়ভাবে অর্থায়ন করতে চাইতে পারে, কিন্তু খনিজ উত্তোলনের অনুমতি কে দেবে এবং আয় কার প্রাপ্য—তা স্পষ্ট না হলে তাকে নির্ভরশীল থাকতে হয়।
ফেডারেল আইনের জন্য অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করা আর সম্ভব নয়, তাই গান্ডাকি নিজস্ব আইন প্রণয়ন অব্যাহত রাখবে বলে পাণ্ডে জানান। এতে অমীমাংসিত বিষয়টি স্পষ্ট হয়: প্রাদেশিক উদ্যোগ কর্তৃত্বের সীমানা যাচাই করতে পারে, কিন্তু আদালতের হস্তক্ষেপ বৃহত্তর ক্ষমতা বণ্টনের মীমাংসা না করে বাস্তবায়ন স্থগিত রাখতে পারে।
জমি নিয়ে বিরোধে নির্দিষ্ট প্রকল্প আটকে
প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের প্রভাবে অর্থ বরাদ্দ বা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও প্রকল্প কীভাবে আটকে যায়, তার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণগুলোর একটি জমি অধিগ্রহণ। প্রাদেশিক সংসদ ও মন্ত্রণালয়ের ভবনের জন্যও গান্ডাকির নিজস্ব জমি নেই বলে পাণ্ডে জানান। তাঁর ভাষ্য, সংসদ ভবনের জায়গাটি একটি সাবেক স্থানীয় উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের। প্রদেশটির মালিকানায় হস্তান্তর না করে শুধু ব্যবহারের জন্য জায়গাটি দেওয়া হয়েছে।
কোরালা সীমান্তচৌকিতে পর্যটক ও যাত্রীদের বাতাস-বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে একটি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রদেশ অর্থ বরাদ্দ করেছিল। পাণ্ডের মতে, জমিটি ফেডারেল শুল্ক দপ্তরের নামে নিবন্ধিত থাকায় শুরুতে অনুমতি দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের সঙ্গে কাজ করে প্রদেশটি এটিকে জরুরি উদ্ধারকেন্দ্র হিসেবে নির্মাণ করে।
তিনি আরও বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ঋণসহায়তাপুষ্ট মানাং ও মুস্তাংয়ের একটি আপেল উৎপাদন অঞ্চল প্রকল্প প্রয়োজনীয় জমি না পাওয়ায় বাস্তবায়ন করা যায়নি। ঋণের পরিমাণ, প্রকল্পের বাজেট বা সংশোধিত সমাপ্তির তারিখের কথা বৈঠকের বিবরণে নেই।
এসব উদাহরণ অর্থের অভাব ও কর্তৃত্বের অভাবের পার্থক্য তুলে ধরে। কোরালায় প্রদেশের অর্থ বরাদ্দ ছিল, কিন্তু জমিটি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেনি। আপেল প্রকল্পের ক্ষেত্রে অর্থায়নের ব্যবস্থা জমিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেনি। মালিকানা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া মীমাংসা না করে ব্যয়ের দায়িত্ব হস্তান্তর করলে নির্মাণ বা উৎপাদন শুরুর আগেই কর্মসূচি আটকে যেতে পারে।
প্রদেশভেদে অর্থায়নের দাবি ভিন্ন
কার্কির হিসাবে, কোশির বার্ষিক অভ্যন্তরীণ রাজস্ব প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি; বিপরীতে কর্ণালির রাজস্ব ১ বিলিয়ন রুপিরও কম। এই হিসাবে কোশির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব কর্ণালির চার গুণেরও বেশি। অঙ্কগুলো মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া আনুমানিক হিসাব; কোনো অভিন্ন অর্থবছর বা রাজস্বের বিস্তারিত বিভাজন উল্লেখ করা হয়নি।
কর্ণালির মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গল বাহাদুর শাহী বলেন, শুধু জনসংখ্যার ভিত্তিতে অর্থ বণ্টন করা যথেষ্ট নয়। বিস্তীর্ণ এলাকা, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বসতি, দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও সীমিত অবকাঠামোর কারণে কম মানুষ বসবাস করলেও ব্যয় বেশি হতে পারে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সড়ক নির্মাণ বা সেবা পৌঁছে দিতে যে খরচ হয়, শুধু বাসিন্দার সংখ্যা দিয়ে তা বোঝা যায় না।
সুদূরপশ্চিমের ভট্টও চান, অর্থ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক দুর্গমতা, দারিদ্র্য ও প্রদেশটির উন্নয়নের অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ সূচক ধরা হোক। বিরাটনগরে অনুপস্থিত থাকলেও তিনি একই উদ্বেগ জানিয়েছেন: যেসব জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছানো কঠিন, বরাদ্দে সেই ব্যয় প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
মধেশের চাপের ধরন ভিন্ন। যাদব বলেন, প্রদেশটির বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় সম্পদ ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো পর্যাপ্ত নয়। বাগমতীর তুলনায় সেখানে ভেন্টিলেটর শয্যা কম বলে তিনি উল্লেখ করলেও সংখ্যাগত তুলনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেননি। জনসংখ্যা ও সরকারি সেবার প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ হস্তান্তরের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য বণ্টনও তাঁর দাবি।
এই অবস্থানগুলো পরস্পরবিরোধী না-ও হতে পারে। সেবা প্রয়োজন এমন মানুষের সংখ্যা বোঝায় জনসংখ্যা; তাদের কাছে পৌঁছানোর ব্যয় বোঝায় ভূপ্রকৃতি; আর দারিদ্র্য ও বিদ্যমান অবকাঠামো অপূর্ণ প্রয়োজনের মাত্রা নির্দেশ করে। কোন বিষয়কে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে, সেটিই কঠিন দর-কষাকষি। সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে কোনো সম্মত সূত্র বা সংশোধিত বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়নি।
দুর্যোগ ত্রাণ ও পর্যটনে যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব
থাপা মাগার সাতটি প্রদেশকে নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। বাগমতী ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে মহাসড়ক, সেতু ও জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্ধার ও পুনর্বাসনে নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা যুক্ত ছিলেন।
প্রাদেশিক সীমানায় থেমে থাকে না—এমন সমস্যার প্রতিফলন এই প্রস্তাবে রয়েছে। একটি প্রদেশে মহাসড়ক বা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্যত্র যাতায়াত ও সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। যৌথ তহবিল একসঙ্গে সাড়া দেওয়ার জন্য অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করতে পারে, যদিও এর জন্য কত অর্থ দেওয়া হবে, কীভাবে পরিচালিত হবে বা কবে গঠন করা হবে—বৈঠকের বিবরণে তা নেই।
জলবায়ু পরিবর্তন ও আবহাওয়াজনিত দুর্যোগকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন কার্কি। আইনি বিরোধ মেটানোর প্রচেষ্টার পাশাপাশি যৌথ বিনিয়োগ ও সম্মিলিত ফলাফলের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রাদেশিক সরকার ও সংসদের সম্পর্ক জোরদার এবং প্রদেশগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আহ্বান জানান শাহী।
যাদব দুটি খসড়া নথি উপস্থাপন করেন এবং জনকপুরধাম, বিবাহ পঞ্চমী উৎসব ও মিথিলা শিল্পের সঙ্গে কোশির বরাহক্ষেত্র ও রামধুনি এবং লুম্বিনীকে যুক্ত করে পর্যটন সার্কিট গড়ার প্রস্তাব দেন। ধারণাটি আলাদাভাবে প্রচারের বদলে কয়েকটি প্রদেশের গন্তব্যকে যুক্ত করবে। ফেডারেল সরকারকে নতুন দপ্তর খোলা বন্ধ করে বিদ্যমান দপ্তরগুলো প্রদেশের হাতে তুলে দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
পর্যটন সার্কিট, অংশীদারত্ব ফোরাম ও ত্রাণ তহবিল এখনো প্রস্তাব বা ঘোষিত পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। এগুলোর কোনোটিকেই অর্থায়নসহ চালু কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বাস্তবে এগুলোর কার্যকারিতা নির্ভর করবে দায়িত্ব, আর্থিক অঙ্গীকার ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থা নিয়ে সমঝোতার ওপর।
প্রাদেশিক কর্মদক্ষতাও পরীক্ষার অংশ
মুখ্যমন্ত্রীরা স্বীকার করেছেন, ফেডারেল বিধিনিষেধই প্রাদেশিক সরকারের সব দুর্বলতার ব্যাখ্যা নয়। বাজেট ব্যবস্থাপনা, প্রকল্পে বিলম্ব ও প্রশাসনিক ব্যয়ের কার্যকারিতা পর্যালোচনার আহ্বান জানান কার্কি। আচার্যও মেনে নেন, প্রদেশগুলোর নিজেদের কিছু দুর্বলতা আছে এবং সেগুলো সংশোধন করা দরকার।
পাণ্ডের দাবি, তিন স্তরের সরকারের সম্মিলিত প্রশাসনিক ব্যয়ের ৫ শতাংশেরও কম প্রদেশগুলোর। এই দাবি প্রশাসনিক ব্যয় নিয়ে, সরকারি মোট ব্যয়ে প্রদেশগুলোর অংশ নিয়ে নয়। অন্তর্নিহিত হিসাব বা অর্থবছরের উল্লেখ নেই; তাই সরকারের ব্যয়ের তুলনা হিসেবে এটি যাচাইকৃত তথ্য প্রতিষ্ঠা করে না।
শাহী বলেন, ফেডারেল ব্যবস্থায় উন্নয়ন ও সেবা প্রদান উন্নত হয়েছে, তবে জনসাধারণের অপূর্ণ প্রত্যাশা এই ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে। ফলাফল দেখায়—এমন কাজ ও তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। সম্মেলনের বিবরণে এই দাবির পরিমাপের জন্য প্রকল্পের মোট সংখ্যা বা সেবার সূচক দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়ী করেন পাণ্ডে। তাঁর ভাষ্য, প্রাদেশিক জোটের সমীকরণ এখনো কেন্দ্রীয় নেতারা ঠিক করেন, যা অস্থিতিশীলতা বাড়ায় এবং দলের ভেতরে প্রদেশের স্বাধীনতা সীমিত করে। তাঁর সমালোচনা শুধু বর্তমান ফেডারেল প্রশাসনকে লক্ষ্য করে নয়, সব দলের প্রতি ছিল।
পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে কর্মী সমন্বয় বা কর্তৃত্ব হস্তান্তরে দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের কাছে মুখ্যমন্ত্রীরা লিখিত দাবি জমা দিয়েছিলেন বলে পাণ্ডে জানান। সম্মেলনের পর তিনি আরেকটি যৌথ বৈঠকের অনুরোধ করবেন। তাৎক্ষণিক ঘোষিত পদক্ষেপ হলো বুধবারের ঘোষণা; ফেডারেল সরকারের জবাবের তারিখ বা আইন প্রণয়নের সময়সূচি দেওয়া হয়নি। পরীক্ষা হবে, ঘোষণায় সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করে পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না এবং প্রদেশগুলো নিজেদের হাতে থাকা ক্ষমতা ও অর্থের জবাবদিহি করে কি না।
মূল বিষয়গুলো
- বিরাটনগর সম্মেলনে ছয় মুখ্যমন্ত্রী অংশ নিচ্ছেন; সুদূরপশ্চিমের প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রদেশটির প্রধান সচিব।
- পুলিশ সমন্বয়, সিভিল সার্ভিস আইন, জমির নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক বরাদ্দ প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে।
- পাণ্ডের ভাষ্য, আগের ১৭টি যৌথ দাবির মধ্যে ১৬টি এখনো অমীমাংসিত।
- মধেশ জনসংখ্যা ও সেবার প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ চায়; কর্ণালি ও সুদূরপশ্চিম ভূপ্রকৃতি, দারিদ্র্য ও উন্নয়নের প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানায়।
- মুখ্যমন্ত্রীদের অংশীদারত্ব ফোরাম, যৌথ দুর্যোগ ত্রাণ তহবিল ও পর্যটন সার্কিটের প্রস্তাব রয়েছে।
- বুধবার বিরাটনগর ঘোষণা প্রকাশের কথা থাকলেও ফেডারেল পর্যায়ে বাধ্যতামূলক বাস্তবায়নের কোনো সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
- প্রাদেশিক নেতারা বাজেট, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক কর্মদক্ষতা উন্নত করার প্রয়োজনও স্বীকার করেছেন।






