নদী সংকটের প্রভাব খামার, বাড়ি ও হাসপাতালে
থাইল্যান্ডের প্রাচিন বুড়ি নদী অববাহিকার বাসিন্দারা ব্যাপক মাছের মৃত্যু, ধাতুর পরীক্ষায় অস্বাভাবিক ফল এবং বন্যার পানিতে ভেসে আসা শিল্পবর্জ্য নিয়ে উদ্বেগের পর দূষণ নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল ঘোষণার দাবিতে ৩০ হাজারের বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন। ৩১ অক্টোবর মুয়াং জেলার ওয়াত হাত সাকায়ে ১০০ জনের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা, মাছচাষি ও রাক প্রাচিন বুড়ি নেটওয়ার্কের সদস্যরা প্রচারণা সংগঠিত করতে জড়ো হন।
সূচিপত্র
- নদী সংকটের প্রভাব খামার, বাড়ি ও হাসপাতালে
- এক মৌসুমের আয় হারাচ্ছেন মাছচাষিরা
- সংশোধিত পানির পরীক্ষায় যা দেখা গেছে
- ল্যান্ডফিল বন্ধ এবং পরস্পরবিরোধী ফলাফল
- অন্তত দুই বছর চলবে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ
- সন্দেহভাজন পানি ফুটিয়ে নিলেই যথেষ্ট নয় কেন
- খাদ্য সরবরাহ ও বর্জ্যের গতিপথ নিয়ে প্রশ্ন
- পাঁচ প্রদেশে বাড়ছে কারখানা পরিদর্শন
- বাসিন্দারা এখন যে সিদ্ধান্তগুলোর অপেক্ষায়
- মূল বিষয়গুলো
নেটওয়ার্কটি ৪ নভেম্বর প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব এবং জাতীয় পরিবেশ বোর্ডের সভাপতির কাছে অভিযোগ জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তারা চায়, কর্তৃপক্ষ জাতীয় পরিবেশগত গুণমান উন্নয়ন ও সংরক্ষণ আইন, বি.ই. ২৫৩৫ (১৯৯২)-এর ৫৯ ধারা প্রয়োগ করে নদী অববাহিকা ও এর উপনদীগুলোকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করুক।
কৃষকেরা জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বন্যা ও পানি নেমে যাওয়ার পর সি মহা ফোট, মুয়াং ও বান সাং জেলাজুড়ে তাদের ক্ষতি কয়েকশ মিলিয়ন বাথ ছাড়িয়েছে। নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিরা সি মাহোসোট জেলার খোক পিপ এলাকার ৭৩ বাসিন্দার শরীরে ভারী ধাতুর অস্বাভাবিক উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বুকে চাপ ও শ্বাসকষ্টের কথা জানিয়েছেন।
সরকারি তদন্তে এখন নদীর পানি, খাল, শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালির পানির সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ একটি জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র স্থাপন করেছে এবং ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের অন্তত দুই বছর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় বৈজ্ঞানিক প্রশ্নটির এখনও মীমাংসা হয়নি: কোন দূষক কোন স্থান থেকে এসেছে এবং মাছের মৃত্যুর কারণ কী। উপসরকারি মুখপাত্র লালিদা পেরিসউইওয়াতানা ২৫ অক্টোবর, ২০২৬-এ বলেন, নদীতে অ্যালুমিনিয়ামের উৎস এবং মাছের মৃত্যুর সঙ্গে এর সম্ভাব্য যোগসূত্র তদন্তকারীরা এখনও খতিয়ে দেখছেন।
এক মৌসুমের আয় হারাচ্ছেন মাছচাষিরা
মুয়াং জেলার কৃষক ফারাদন ফাসিত, যিনি ‘বিয়ার প্লা ক্রাচাং’ নামে পরিচিত, বলেন, নতুন বছরের আগে বিক্রির পরিকল্পনা থাকা চারটি খাঁচার লাল তেলাপিয়া ও নাইল তেলাপিয়া মারা গেছে। তিনি তাঁর ক্ষতির পরিমাণ পাঁচ লাখ বাথের বেশি বলে জানান। এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল একজন কৃষকের জন্য ক্ষতির অর্থ হলো, মাছের খাবারের বিল ও উৎপাদনের অন্যান্য খরচ মেটাতে যে আয়ের আশা ছিল, তা আর থাকবে না।
কৃষক প্রতিনিধি মন্টি খামরোট বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদকেরা আগে থেকেই বড় ঋণের বোঝা বহন করছিলেন এবং দুর্যোগের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতি বর্গমিটারে মাত্র ৩৯০ বাথ পেয়েছেন। তাঁর মতে, একটি মাছের খাঁচার ক্ষতিই কয়েক লাখ বাথ পর্যন্ত হতে পারে।
ক্ষতিপূরণের হার নির্ধারিত হয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ ধরে, আর কৃষকেরা তাঁদের ক্ষতির হিসাব করেন মাছ, সরঞ্জাম এবং বিক্রির আগে বিনিয়োগ করা অর্থের ভিত্তিতে। প্রতিটি খাঁচার মাপ ও ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণের বিস্তারিত তথ্য ছাড়া ক্ষতিপূরণে ঠিক কত ঘাটতি রয়েছে তা হিসাব করা যায় না। তাঁদের অভিযোগ, এই অর্থে বিনিয়োগের বড় অংশই পুষিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না।
ফারাদন কাঠামোরি ও সি মহা ফোটে উজানের কারখানাগুলোতে অপর্যাপ্ত পরিদর্শনকে দায়ী করেন। নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি বুসাবং ছাওয়ানখানহা বলেন, সংকট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে এবং পুরো অববাহিকাজুড়ে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। পাঁচ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছ থেকে অনলাইনে ও সরাসরি স্বাক্ষর সংগ্রহ করছে এই আবেদন।
সংশোধিত পানির পরীক্ষায় যা দেখা গেছে
অ্যামোনিয়া ও অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ ভুল করে অদলবদল করে প্রকাশ করায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ২৪ অক্টোবর ফলাফল সংশোধন করে। সঠিক হিসাবে অ্যামোনিয়ার ঘনত্ব প্রতি লিটারে ০.২২ থেকে ০.৪৮ মিলিগ্রাম এবং অ্যালুমিনিয়ামের ঘনত্ব প্রতি লিটারে ০.৫৫৯ থেকে ৩.৫৪৭ মিলিগ্রাম। বিভাগটি ক্ষমা চেয়ে জানায়, ভবিষ্যতে ফল প্রকাশের আগে মূল পরীক্ষাগারের নথির সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখার প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হবে।
পাঁচটি নমুনা সংগ্রহস্থলের মধ্যে দুটি স্থানকে আরও তদন্তের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। পাক নাম বান নং হোয়ি সেতুতে অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ ছিল প্রতি লিটারে ৩.৫৪৭ মিলিগ্রাম এবং কাঠাম বুরি উপজেলার প্রাচিন বুড়ি নদীর ওপর সেতুতে ছিল প্রতি লিটারে ০.৮৭৪ মিলিগ্রাম।
মাটি ও শিলায় প্রাকৃতিকভাবে অ্যালুমিনিয়াম থাকে এবং বৃষ্টির পানির প্রবাহে তা জলপথে পৌঁছাতে পারে। শিল্পকারখানার বর্জ্যপানিও এর উৎস হতে পারে। তাই অ্যালুমিনিয়ামের উৎস চিহ্নিত করতে তদন্তকারীদের পানির প্রবাহ, আশপাশের কার্যক্রম এবং প্রতিটি নমুনা সংগ্রহস্থলের রাসায়নিক অবস্থা পরীক্ষা করতে হবে।
পানির অম্লতা, কঠোরতা, দ্রবীভূত জৈব পদার্থ এবং ধাতুটির রাসায়নিক রূপের ওপর নির্ভর করে অ্যালুমিনিয়ামের প্রভাব মাছের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। কতক্ষণ সংস্পর্শে ছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অম্লতা সাধারণত পিএইচ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, আর কঠোরতা বোঝায় পানিতে দ্রবীভূত খনিজের পরিমাণ। এসব অবস্থা নির্ধারণে সাহায্য করে, কোনো পদার্থ জলজ প্রাণীর ওপর কত সহজে প্রভাব ফেলতে পারে।
বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিভাগটি নদী ও উপনদী থেকে তলানি সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে সেতুর ওই দুটি স্থানও রয়েছে। তলানি হলো নদীর তলায় জমে থাকা উপাদান, যেখানে দূষক জমা হতে পারে। তা পরীক্ষা করলে প্রবাহমান পানির নমুনায় ধরা নাও পড়তে পারে, এমন দূষণ খতিয়ে দেখতে তদন্তকারীরা সহায়তা পাবেন।
ল্যান্ডফিল বন্ধ এবং পরস্পরবিরোধী ফলাফল
সি মহা ফোট জেলার হুয়া ওয়া এলাকায় গ্রিন এনভায়রনমেন্ট টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের শিল্পবর্জ্য ল্যান্ডফিল থেকে বন্যার পানি উপচে পড়ার পর শিল্পকারখানা বিভাগ ৩৯ ধারার আদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে। উপচে পড়া পানিতে তেলের মতো একটি আস্তরণ তৈরি হয়।
রাক প্রাচিন বুড়ি নেটওয়ার্ক হুয়া ওয়া ল্যান্ডফিলের ঘটনায় পেট্রোলিয়াম হাইড্রোকার্বনের পরিমাণ প্রতি লিটারে ১১৪,৮৬০ মিলিগ্রাম বলে উল্লেখ করেছে। তবে শিল্পমন্ত্রী ভারাওয়ুত সিলপা-আর্চা বলেন, প্রাথমিক পরিদর্শনে তেলের আস্তরণ দেখা গেলেও বিষাক্ত পদার্থ শনাক্ত হয়নি। ওই ফলাফলের নমুনা সংগ্রহের বিস্তারিত তারিখ, স্থান ও পরীক্ষাগার পদ্ধতি জানানো হয়নি, ফলে দুটির মধ্যে সম্পর্ক এখনও মীমাংসিত নয়।
পেট্রোলিয়াম হাইড্রোকার্বন হলো তেল ও জ্বালানির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন পদার্থের একটি বিস্তৃত গোষ্ঠী। ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং উৎস শনাক্ত করতে তদন্তকারীদের নমুনার ঘনত্বের পাশাপাশি তার উপাদানও জানতে হবে।
আঞ্চলিক পরিবেশ দপ্তর ৭ খলং ফেট ওয়েম স্লুইস গেটের উজানের পানিও পরীক্ষা করেছে। পরিদর্শকেরা পানিকে বাদামি-কালো এবং সামান্য গন্ধযুক্ত দেখতে পান। পাঁচটি নমুনা সংগ্রহস্থলের একটিতে উদ্বায়ী জৈব যৌগের পরিমাণ ছিল প্রতি মিলিয়নে ০.৮ অংশ। এসব রাসায়নিক সহজেই বাতাসে মিশে যেতে পারে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের মূল্যায়নে, পরিমাপ করা মাত্রায় উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই।
পরিদর্শনের সময় ওই খালের পানি ছেড়ে প্রাচিন বুড়ি নদীতে মেশানোর জন্য স্লুইস গেটটি তখনও খোলা হয়নি। শিল্প এলাকা, খাল, গ্রামের পানির সরবরাহ এবং মূল নদীর মধ্যে দূষণ কীভাবে ছড়াতে পারে তা নির্ধারণের অংশ হলো এসব সংযোগের মানচিত্র তৈরি করা।
অন্তত দুই বছর চলবে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ
রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের মহাপরিচালক ডা. মন্তিয়েন কানাসাওয়াত ২৭ অক্টোবর জানান, বন্যা এবং শিল্পবর্জ্য ল্যান্ডফিল থেকে পানি চুঁইয়ে পড়ার পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর কাজের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসার প্রস্তুতি, রোগ নির্ণয়, হাসপাতালে পাঠানো এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া।
সন্দেহভাজন দূষণের উৎস থেকে দুই থেকে সাত কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা দলগুলো ৬ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত পরীক্ষা করে রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬১৩ জনের মধ্যে ৪৯৭ জন কোনো উপসর্গের কথা জানাননি এবং ১১৬ জন উপসর্গের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগেরই চুলকানি, লালচে ফুসকুড়ি ও ফোসকার মতো ত্বকের সমস্যা ছিল। বিভাগের পরিসংখ্যান ধরে হিসাব করলে, উপসর্গ রয়েছে এমন মানুষের হার প্রায় ১৯ শতাংশ।
খোক পিপের ৭৩ বাসিন্দার শরীরে ভারী ধাতুর অস্বাভাবিক উপস্থিতির যে সংখ্যা নেটওয়ার্ক উল্লেখ করেছে, তা প্রস্রাব পরীক্ষার ফল। ২৮ অক্টোবরের এক সরকারি বিবৃতিতেও এলাকাটির বাসিন্দাদের রক্তে ধাতুর মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। কোন কোন ধাতু শনাক্ত হয়েছে, ব্যক্তিভেদে সেগুলোর ঘনত্ব কত এবং দুই দলের মধ্যে কতজনের মিল রয়েছে, তা জানানো হয়নি।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সি মাহোসোট, সি মহা ফোট ও চাও ফ্রায়া অভাইফুবেত হাসপাতালের মাধ্যমে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের অন্তত দুই বছর পর্যবেক্ষণ করবে স্বাস্থ্য দলগুলো। তাৎক্ষণিক বন্যা শেষ হওয়ার পরও উপসর্গ ও পরীক্ষার ফল অনুসরণ করার সুযোগ পাবেন চিকিৎসকেরা।
প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশমন্ত্রী সুচার্ট চমক্লিন ২৮ অক্টোবর আরও পরিবেশগত পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন। দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের মহাপরিচালক সুরিন ওয়ারাকিজথামরং সারাবুরিতে আঞ্চলিক পরিবেশ দপ্তর ৭-কে খোক পিপ ও খু লাম ফান এলাকার খাল থেকে নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব দেন। এর মধ্যে গ্রামের কলের পানি তৈরিতে ব্যবহৃত অপরিশোধিত পানিও রয়েছে।
সন্দেহভাজন পানি ফুটিয়ে নিলেই যথেষ্ট নয় কেন
চিকিৎসাসেবা বিভাগ ও নোপরাত রাতচাথানি হাসপাতাল বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছে, পানি ফুটিয়ে তাতে দ্রবীভূত অ্যালুমিনিয়াম বা অন্যান্য ভারী ধাতু দূর করা যায় না। তাপে অনেক জীবাণু মারা গেলেও দ্রবীভূত ধাতু পানিতে থেকেই যায়।
চিকিৎসাসেবা বিভাগের মহাপরিচালক ডা. উইরাওয়ুত ইমসামরান স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিরাপদ বলে নিশ্চিত না করা পর্যন্ত পান করা, রান্না, ফল-সবজি ধোয়া বা দাঁত ব্রাশের কাজে দূষিত বলে সন্দেহ করা পানি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বাসিন্দারা ইতিমধ্যে বিবর্ণ, দুর্গন্ধযুক্ত কলের পানির কথা বলেছেন। পানীয় জল কিনতে বাড়তি খরচের কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।
নোপরাত রাতচাথানি হাসপাতালের পরিচালক ডা. পিয়াওয়াত লাওহাথাই ব্যাখ্যা করেন, শরীর গৃহীত অ্যালুমিনিয়ামের সামান্য অংশই শোষণ করে এবং শোষিত অ্যালুমিনিয়াম কিডনির মাধ্যমে বের করে দেয়। কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্কতা দরকার, কারণ তাঁদের শরীর থেকে এটি বের করে দেওয়ার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে বেশি মাত্রায় সংস্পর্শে থাকলে স্নায়ুতন্ত্র, হাড় ও পেশিতে প্রভাব পড়তে পারে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সন্দেহভাজন পানি ও তলানি এড়িয়ে চলতে, সংস্পর্শ এড়ানো সম্ভব না হলে বুট ও উপযুক্ত সুরক্ষা ব্যবহার করতে, ক্ষত ঢেকে রাখতে এবং পরে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে পরামর্শ দিয়েছে। বমিভাব, বমি, পেটব্যথা, ডায়রিয়া বা ত্বকে জ্বালাপোড়া হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং কীভাবে সংস্পর্শে এসেছেন তা জানাতে বলা হয়েছে। শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে হবে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞ সোন্থি কোচাওয়াত বিশুদ্ধ পানি বিতরণ, অপরিশোধিত উৎসের পানি ও পরিশোধিত কলের পানি পরীক্ষা, ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা দল এবং পরীক্ষাগারের ফল প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। তদন্ত চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত খালের পানি ব্যবহার এবং জলজ প্রাণী খাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপেরও আহ্বান জানান তিনি। এগুলো তাঁর সুপারিশ।
খাদ্য সরবরাহ ও বর্জ্যের গতিপথ নিয়ে প্রশ্ন
প্রাচিন বুড়ি প্রাদেশিক মৎস্য দপ্তর ২১ অক্টোবর চার জেলার জলজ প্রাণীর নয়টি নমুনার পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে। নয়টি নমুনার কোনোটিতেই মূল্যায়নে ব্যবহৃত মানদণ্ড অনুযায়ী পারদ, ক্যাডমিয়াম ও সিসার মাত্রা সীমা ছাড়ায়নি। ওই পরীক্ষার আওতায় অ্যালুমিনিয়াম ছিল না।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিরাপদ বলে নিশ্চিত না করা পর্যন্ত সম্ভাব্য দূষিত এলাকার জলজ প্রাণী ও কৃষিপণ্য না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ। খাদ্যশৃঙ্খলে দূষণ পৌঁছানো এবং প্রাচিন বুড়ির ডুরিয়ানের মতো ফসল নিয়ে উদ্বেগও জানিয়েছে নেটওয়ার্ক। তদন্তের বিবরণে ফসল পরীক্ষার কোনো ফল প্রকাশ করা হয়নি।
খন রাক ক্রোক সোমবুন গোষ্ঠীর পরিবেশগত অধিকারকর্মী সুমেত রিয়ানফংনাম ক্রোক সোমবুনের জমিতে ফেলে রাখা দ্রাবকের পাত্র, ইলেকট্রনিকস ও বোতলের কথা জানান। তাঁর বক্তব্য, ফেলে দেওয়া বর্জ্যস্থল থেকে বৃষ্টির পানির প্রবাহ গ্রামের পানির সরবরাহ, ধানক্ষেত, সেচখাল ও নদীতে পৌঁছাতে পারে।
সুমেত শিল্পবর্জ্যের উৎস থেকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তিস্থল পর্যন্ত নিবিড় নজরদারির আহ্বান জানান:
বর্জ্যের প্রতিটি চালানের গতিপথ শনাক্ত করা সম্ভব হওয়া উচিত,
তাঁর এই দাবি তাৎক্ষণিক পরিষ্কারের কাজকে আরও বিস্তৃত এক প্রয়োগগত সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করে: বর্জ্য কে তৈরি করেছে, কে পরিবহন করেছে এবং কোথায় ফেলার কথা ছিল, তা কর্মকর্তাদের শনাক্ত করতে হবে। নেটওয়ার্কের অভিযোগ, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের শর্ত এড়াতে লাত থাকিয়ানে শিল্পবর্জ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্পগুলোকে ছোট ছোট প্রকল্পে ভাগ করা হয়েছে।
পাঁচ প্রদেশে বাড়ছে কারখানা পরিদর্শন
ভারাওয়ুত বলেন, বর্জ্য শোধন, নিষ্পত্তি ও পুনর্ব্যবহারের কাজ করে এমন ১০৫ ও ১০৬ শ্রেণির কারখানায় ১ নভেম্বর থেকে পরিদর্শন অভিযান শুরু করবে শিল্প মন্ত্রণালয়। থাইল্যান্ডে এ ধরনের ৩,০৪৯টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ১,৫০০টির বেশি চন বুড়ি, রায়ং, ছাচোয়েংসাও, প্রাচিন বুড়ি ও সামুত প্রাকানে, যা জাতীয় মোট সংখ্যার প্রায় অর্ধেক।
পরিদর্শন দলে থাকবেন শিল্পকারখানা বিভাগ, প্রাদেশিক শিল্প ও পরিবেশ দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সেনাসদস্য ও পুলিশ। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত স্থান, জনসাধারণের অভিযোগ রয়েছে এমন স্থাপনা এবং আগে নির্দেশ দেওয়া সংশোধনমূলক কাজ শেষ করতে ব্যর্থ কারখানাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অভিযান শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে অগ্রগতির প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে মন্ত্রণালয়ের।
ভারাওয়ুত বলেন, সংশোধনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ কারখানা বন্ধের মুখে পড়তে পারে। আইনি শর্ত এড়াতে অন্য কাউকে স্বার্থ বা পদে রাখা হয়েছে কি না, এমন সম্ভাব্য নামমাত্র ব্যবস্থাও পরিদর্শকেরা খতিয়ে দেখবেন।
মন্ত্রণালয় কারখানা আইনের সংশোধনীও প্রস্তুত করছে এবং পরিবেশগত অপরাধকে অর্থপাচার আইনের অধীন পূর্ববর্তী অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে অর্থপাচার দমন দপ্তরের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনে পরিবেশগত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত অবৈধ আয় ও সম্পদ তদন্তে কর্তৃপক্ষের জন্য আরেকটি পথ খুলবে।
বাসিন্দারা এখন যে সিদ্ধান্তগুলোর অপেক্ষায়
বাসিন্দাদের প্রচারণায় শুধু আলাদা আলাদা কারখানা পরিদর্শনের দাবি নেই। দূষণের উৎস খুঁজে বের করা, এলাকাটি কতটা দূষণ সহ্য করতে পারে তা মূল্যায়ন এবং দূষণকারীকে ব্যয় বহনের নীতি প্রয়োগে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বুসাবং। এই নীতির অধীনে দূষণের জন্য দায়ীরা পরিবেশ পুনরুদ্ধারের ব্যয় বহন করবে।
এ পর্যন্ত ঘোষিত তারিখগুলো দেখায়, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষাগারের যাচাই এবং পরিকল্পিত আইন প্রয়োগ পর্যন্ত কীভাবে প্রতিক্রিয়ার পরিধি বেড়েছে:
- সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে: বন্যা ও পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে নদী অববাহিকায় ব্যাপক মাছের মৃত্যু ঘটে।
- ৬ থেকে ১৬ অক্টোবর: স্বাস্থ্য দলগুলো সন্দেহভাজন দূষণের উৎসের কাছে বসবাসকারী মানুষদের পরীক্ষা করে।
- ২৪ অক্টোবর: দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ অ্যামোনিয়া ও অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ সংশোধন করে।
- ২৭ থেকে ২৮ অক্টোবর: কর্তৃপক্ষ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও আরও পানি নমুনা পরীক্ষার ঘোষণা দেয়।
- ৩১ অক্টোবর: বাসিন্দারা ওয়াত হাত সাকায়েতে মিলিত হয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রচারণা শুরু করেন।
- ১ নভেম্বর: পাঁচ প্রদেশজুড়ে পরিদর্শন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের; এক সপ্তাহের মধ্যে অগ্রগতি জানানোর কথা।
- ৪ নভেম্বর: দূষণ নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল ঘোষণার আবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন প্রচারণাকারীরা।
দূষণ নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল ঘোষণার দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো তারিখ জানানো হয়নি, আর বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ওপর নির্ভর করছে তলানি সংগ্রহ। কৃষকদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন ক্ষতিপূরণ এবং কখন আবার মাছ চাষ শুরু করা যাবে, তা নির্ধারণের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি। পরিবারগুলোর দরকার নিরাপদ পানি এবং দূষণের সংস্পর্শে আসার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য।
হাত সাকায়ের ৭৭ বছর বয়সী বাসিন্দা সিরি ফোন বলেন, আগের বছরগুলোতে বার্ষিক বন্যা হলেও কখনও এমন গুরুতর প্রভাব পড়েনি। ক্ষতি অপূরণীয় হয়ে যাওয়ার আগে বাস্তুতন্ত্র মেরামতের জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁর উদ্বেগই আবেদনের পেছনের দাবি তুলে ধরে: পুনরুদ্ধারের কাজ তদন্তাধীন কারখানার পাশাপাশি নদী, খামার ও গ্রামের পানির ব্যবস্থাতেও পৌঁছাতে হবে।
মূল বিষয়গুলো
- প্রাচিন বুড়ি নদী অববাহিকায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল ঘোষণার দাবিতে ৩০ হাজারের বেশি স্বাক্ষর চাইছেন বাসিন্দারা।
- ১৯৯২ সালের পরিবেশ আইনের ৫৯ ধারায় ৪ নভেম্বর অভিযোগ জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
- সংশোধিত নদীর পানির পরীক্ষায় অ্যালুমিনিয়ামের মাত্রা প্রতি লিটারে ০.৫৫৯ থেকে ৩.৫৪৭ মিলিগ্রাম পাওয়া গেছে; এর উৎস ও মাছের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্ক তদন্তাধীন।
- স্বাস্থ্য দলগুলো ৬১৩ জনের পরীক্ষা করেছে; তাঁদের মধ্যে ১১৬ জনের উপসর্গ ছিল। অন্তত দুই বছর পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
- চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, পানি ফুটিয়ে দ্রবীভূত অ্যালুমিনিয়াম বা ভারী ধাতু দূর করা যায় না।
- পাঁচ প্রদেশে কারখানা পরিদর্শন ১ নভেম্বর শুরু হওয়ার কথা।






