দীর্ঘ ঘুরপথের অবসান ঘটাল নতুন সেতু
তাইওয়ানের উ নদীর ওপর দাদু হেমেই সেতু ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর চালু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ২০ বছরের বেশি সময়ের দাবির পর এটি তাইচুংয়ের দাদু জেলা ও চাংহুয়া কাউন্টির হেমেই টাউনশিপের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করেছে। তাইচুংয়ের মেয়র লু শিউ-ইয়েন এবং চাংহুয়া কাউন্টির ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াং হুই-মেই বিকেল ৩টায় তাইচুং প্রান্তে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সূচিপত্র
- দীর্ঘ ঘুরপথের অবসান ঘটাল নতুন সেতু
- প্রতিবেশী এলাকাগুলোর কেন সেতুর দরকার ছিল
- সেতুটিতে কী কী সুবিধা রয়েছে
- যেভাবে উদ্বোধনের দিন এল
- সেতুর খরচ কে দিয়েছে?
- উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিয়ে বিতর্ক
- বৃহত্তর সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় সেতুটির ভূমিকা
- প্রথম জনসাধারণের পদযাত্রায় হাজারো মানুষ
- পরবর্তী যৌথ লক্ষ্য রেল যোগাযোগ
- মূল বিষয়গুলো
তাইচুং সরকার বলেছে, সেতুটি চালু হওয়ায় আগে ১০ কিলোমিটারের বেশি ঘুরে অন্তত ৩০ মিনিটে যেতে হতো—এমন একটি যাত্রায় এখন লাগবে প্রায় তিন মিনিট। ৩০ মিনিটকে শুরুর সময় ধরে হিসাব করলে সাশ্রয় হবে ২৭ মিনিট, অর্থাৎ যাত্রার সময় কমবে ৯০ শতাংশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন পথের যাত্রাসময় দুই থেকে তিন মিনিট বলে জানিয়েছে।
দুই স্থানীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার। এতে যানবাহনের জন্য চারটি লেন, মোটরসাইকেলের জন্য সুবিধা এবং পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের জন্য একটি যৌথ পথ রয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের চার মাস আগেই নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ফলে স্কুল, কর্মস্থল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে যাতায়াতকারী বাসিন্দাদের জন্য নদী পারাপারের পথ অনেক ছোট হয়েছে।
প্রতিবেশী এলাকাগুলোর কেন সেতুর দরকার ছিল
দাদু ও হেমেই উ নদীর দুই পাশে মুখোমুখি অবস্থিত। তবে কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও আগে গাড়িতে যাতায়াতকারীদের তেমন সুবিধা হতো না। সরাসরি পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দাদের প্রাদেশিক মহাসড়ক ১৭-এর ঝংশাং সেতু অথবা প্রাদেশিক মহাসড়ক ১-এর দাদু সেতু ব্যবহার করতে হতো।
এই পথগুলো যানবাহনকে দুই এলাকার বাইরে ঘুরিয়ে আবার নদীর ওপারে নিয়ে আসত। উদ্বোধনের আগে তাইচুং নির্মাণ ব্যুরোর পরিচালক চেন দা-তিয়েন বলেছিলেন, নতুন সেতু চালু হলে ১০ কিলোমিটারের বেশি ঘুরপথ এড়ানো যাবে।
একজন বাসিন্দা একই পথে যাওয়া-আসা করলে, প্রতিটি যাত্রার সময় ৩০ মিনিট থেকে কমে তিন মিনিট হলে মোট প্রায় ৫৪ মিনিট সাশ্রয় হবে। ওয়াং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানে পৌঁছানোর সুবিধাকে দৈনন্দিন জীবনের প্রধান সুফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নদীর ওপারের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ছোট এই পারাপার বাসিন্দাদের আরও সরাসরি পথ দেবে।
সেতুটিতে কী কী সুবিধা রয়েছে
সেতুটি ২২ মিটার চওড়া। দুই দিকে চলাচলের জন্য এতে চারটি লেন রয়েছে। প্রকল্পের বিবরণে মোটরসাইকেলের জন্য দুটি অগ্রাধিকার লেন এবং পশ্চিম পাশে হাঁটা ও সাইকেল চালানোর যৌথ পথের কথাও বলা হয়েছে। এতে গাড়ি ছাড়া পারাপারকারীদের জন্য জায়গা রাখা হয়েছে।
ওয়াং সম্পূর্ণ সেতুটির দৈর্ঘ্য ১,৬৯০ মিটার বলে উল্লেখ করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই দৈর্ঘ্য জানিয়েছে। উদ্বোধনের আগে প্রকাশিত বিবরণে দৈর্ঘ্য প্রায় ১,৪৪০ মিটার বলা হয়েছিল। এই দুই পরিমাপের পার্থক্যের ব্যাখ্যা কোনো কর্তৃপক্ষ দেয়নি।
পশ্চিম পাশের পথটি পরিবহন প্রকল্পে বিনোদনের সুযোগও যোগ করেছে। বাসিন্দারা উ নদীর ওপর দিয়ে হাঁটতে বা সাইকেল চালাতে এবং সূর্যাস্ত দেখতে পারবেন। উদ্বোধনের প্রস্তুতির সময় এ বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। যৌথ পথটিতে পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের জন্য জায়গা রয়েছে, যদিও সেতুটি মূলত উল্লেখযোগ্য সড়কযান চলাচলের উপযোগী করে নির্মিত।
নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে। তাইচুংয়ের প্রকল্প-সংক্রান্ত বিবরণে নির্মাণকাজের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নদীর স্রোত, জোয়ারের উচ্চতার পরিবর্তন এবং কর্মপরিবেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেতুর কাজ শেষ করার আগে নদীতে এবং নদীর আশপাশে কাজ করতে গিয়ে এসব পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে।
যেভাবে উদ্বোধনের দিন এল
লু বলেছেন, সেতু নির্মাণের দাবি উঠেছিল ২০ বছরেরও বেশি আগে। ওয়াং তাঁর সম্পৃক্ততার সূত্রপাত ২০১২ সাল থেকে বলে জানিয়েছেন, যখন তিনি আইনসভায় দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তিনি বলেন, তাইচুংয়ের আইনপ্রণেতা ইয়েন কুয়ান-হেংয়ের সঙ্গে একাধিক মেয়াদ ধরে তাঁরা প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
পরিকল্পনা ও নকশার দায়িত্ব নিয়েছিল তাইচুং। কাউন্টির ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার পর ওয়াং বলেন, দুই এলাকার সীমানা পেরিয়ে যাওয়া প্রকল্পে প্রতিবেশী স্থানীয় সরকারগুলোর সমন্বয়ের একটি ব্যবস্থা—সেন্ট্রাল তাইওয়ান রিজিওনাল গভর্ন্যান্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি তাইচুংয়ের সঙ্গে কাজ করেছেন।
প্রধান মাইলফলকগুলো হলো:
- উদ্বোধনের ২০ বছরেরও বেশি আগে: দাদু ও হেমেইয়ের মধ্যে সরাসরি সেতুর দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রচার শুরু।
- ২০১২: আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে শুরু করেন বলে জানান ওয়াং।
- জানুয়ারি ২০২৩: নির্মাণকাজ শুরু।
- ৩১ অক্টোবর ২০২৬: উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সেতুতে জনসাধারণের পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ের চার মাস আগেই কাজ শেষ হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
লু সেতুটিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ বলে উল্লেখ করেছেন। কাজ আগেভাগে শেষ করায় তাইচুংয়ের নির্মাণ দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ওয়াং। দুই নেতাই প্রকল্পটিকে যৌথ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যার জন্য শহর ও কাউন্টির সীমানা পেরিয়ে সহযোগিতা প্রয়োজন হয়েছে।
সেতুর খরচ কে দিয়েছে?
লু ও ওয়াং বলেছেন, প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলারের প্রকল্প ব্যয়ের অর্ধেকের দায়িত্ব করে নিয়েছে তাইচুং ও চাংহুয়া। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদানে এই বরাদ্দের বড় অংশ মেটানো হয়েছে, ফলে স্থানীয় সরকারগুলোকে নিজেদের তহবিল থেকে কম অর্থ দিতে হয়েছে।
চাংহুয়ার অংশের বিস্তারিত হিসাব দিয়েছেন ওয়াং: বরাদ্দ প্রায় ১.৬২০৪৮ বিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার। এর মধ্যে যোগাযোগ ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সড়ক ব্যুরো থেকে ১.২১৯১৮ বিলিয়ন এবং কাউন্টি সরকার থেকে ৪০১.৩ মিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার এসেছে। এই হিসাব অনুযায়ী, চাংহুয়ার অংশের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় অনুদান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩.২ বিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার বলেছে, যেখানে স্থানীয় সরকারগুলো প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের কথা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়টি নিজস্ব বাজেট থেকে ১.১৮৭৩৫ বিলিয়ন এবং পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে ১.২১৭৪১ বিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার সহায়তার কথা উল্লেখ করেছে। বাকি ব্যয় বহন করেছে তাইচুং ও চাংহুয়া।
দুই মন্ত্রণালয়ের অর্থের যোগফল ২.৪০৪৭৬ বিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উল্লেখ করা মোট ব্যয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ। প্রতিবেশী এলাকার মধ্যে মানুষ যেসব সড়ক যোগাযোগ ব্যবহার করেন, সেগুলোর উন্নয়নে নেওয়া ‘লিভিং সার্কেল রোড ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম কনস্ট্রাকশন প্ল্যান’-এর আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সেতু নির্মাণের দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের হাতে রেখে অর্থায়নে কেন্দ্রীয় অনুদান যুক্ত করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিয়ে বিতর্ক
উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তুং চিয়েন-হুং এবং আইনসভা ইউয়ানের ডেপুটি স্পিকার জনি চিয়াং অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন লু, ওয়াং, আইনপ্রণেতা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা। ইয়ংশুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঢোলবাদন ও ড্রাগন নাচসহ বিভিন্ন পরিবেশনা ছিল অনুষ্ঠানে।
কেন সরকারি কর্মকর্তা ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পক্ষে একজন প্রতিনিধি বক্তব্য দেবেন, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লু গরম আবহাওয়া ও অতিথিদের বিপুল সংখ্যার কথা বলেন। তিনি আইনসভার ডেপুটি স্পিকার চিয়াংকে বেছে নেন। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী তুংকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি।
সেতুর ব্যয়ের বড় অংশে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান থাকায় এ ব্যবস্থা নজর কেড়েছে। অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তুং। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের সহযোগিতা বাসিন্দাদের উপকারে আসতে পারে এবং কেন্দ্রীয় সরকার তাইওয়ানের মধ্যাঞ্চলের উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়।
লু ও ওয়াং সেতু নির্মাণে তাঁদের যৌথ অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছেন। অর্থায়নের হিসাব দেখায়, এই স্থানীয় অংশীদারত্বের জন্য উল্লেখযোগ্য জাতীয় সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। একই প্রকল্পে সরকারের বিভিন্ন স্তর অর্থ দিয়েছে।
বৃহত্তর সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় সেতুটির ভূমিকা
সেতুটি দিয়ে প্রাদেশিক মহাসড়ক ৬১ ও ৭৪, জাতীয় মহাসড়ক ১ ও ৩ এবং অন্যান্য জাতীয় ও প্রাদেশিক সড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ওয়াং এই সংযোগগুলোকে তাইচুং-চাংহুয়া ‘লিভিং এরিয়া’ গড়ার লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করেছেন, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে ৩০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছানো যাবে।
তিন মিনিটের যাত্রার হিসাবটি নতুন সেতু দিয়ে দাদু ও হেমেইয়ের মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বৃহত্তর ৩০ মিনিটের লক্ষ্যটি আশপাশের অঞ্চলজুড়ে যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। বৃহত্তর এই নেটওয়ার্কের মধ্যে সেতুটি চালকদের নদী পার হওয়ার আরও সরাসরি পথ দেবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সেতুটি চালু হলে বিদ্যমান সেতুগুলোতে যানজট কমাতেও সহায়তা হবে। আশপাশের সংযোগ সড়কের উন্নয়নকে পরবর্তী কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন চিয়াং। তিনি বলেছেন, আরও ভালো সংযোগ নিশ্চিত করতে আইনপ্রণেতারা স্থানীয় সরকার ও কাউন্সিলগুলোর সঙ্গে কাজ করবেন।
সংযোগ সড়ক সেতু থেকে আশপাশের রাস্তা বা বড় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল করে। সেগুলোর উন্নয়ন হলে নতুন সেতুর দুই প্রান্তে আসা যানবাহন আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়বে। এতে শুধু নদী পার হতে লাগা সময়ই নয়, সেতুটির সামগ্রিক সুফলও বাড়বে।
প্রথম জনসাধারণের পদযাত্রায় হাজারো মানুষ
অনুষ্ঠানের পর সেতু পার হয়ে পদযাত্রায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। আয়োজকেরা প্রায় তিন কিলোমিটারের পথ ঘোষণা করেছিলেন। নিবন্ধন বা প্রবেশমূল্যের কোনো প্রয়োজন ছিল না। অংশগ্রহণকারীরা স্ট্যাম্প সংগ্রহ করতে এবং সংগ্রহ পূর্ণ হলে সীমিতসংখ্যক স্মারক উপহার বিনিময় করতে পারতেন।
এ আয়োজনের মাধ্যমে বাসিন্দারা পথচারীদের জায়গা ও নদীর দৃশ্য উপভোগের সুযোগ পান। গাড়ি চালানোর বদলে হেঁটে বা সাইকেলে পার হতে চান—এমন মানুষের জন্য প্রকল্পটির ব্যবহারিক সুবিধাগুলোর একটি হলো পশ্চিম পাশের যৌথ পথ।
তাইচুং একটি আলোকচিত্র প্রতিযোগিতারও ঘোষণা দিয়েছে। সেরা ৩০ জন বিজয়ী প্রত্যেকে ৩,৬০০ নিউ তাইওয়ান ডলারের পিএক্স মার্ট কেনাকাটার ভাউচার পাবেন। লু সেতু থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্যের কথা তুলে ধরেন। চিয়াং প্রকল্পটির সুফল হিসেবে পর্যটন, শিল্পাঞ্চলগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের সুবিধার কথা উল্লেখ করেন।
পদযাত্রা ও প্রতিযোগিতার কারণে উদ্বোধন কেবল সড়ককেন্দ্রিক অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। নদীর প্রাকৃতিক দৃশ্যকে আকর্ষণের অংশ করে সেতুটিকে যাতায়াতের পথের পাশাপাশি জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গা হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে।
পরবর্তী যৌথ লক্ষ্য রেল যোগাযোগ
তাইচুংয়ের এমআরটি গ্রিন লাইনের দক্ষিণমুখী সম্প্রসারণ করে চাংহুয়া পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাবকে দুই সরকার সহযোগিতার আরেকটি প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরেছেন লু ও ওয়াং। ওয়াং বলেছেন, সেতু নির্মাণে যে অংশীদারত্ব কাজ করেছে, তা রেল যোগাযোগ এগিয়ে নেওয়ার একটি মডেল হতে পারে।
সেতুটি সড়কপথের একটি নির্দিষ্ট যাত্রায় তাৎক্ষণিক পরিবর্তন এনেছে। অন্যদিকে প্রস্তাবিত এমআরটি সম্প্রসারণ একই প্রশাসনিক সীমানা পেরিয়ে বাসিন্দাদের গণপরিবহন সংযোগ দেবে। পরিবহন যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হলে স্কুল, হাসপাতাল ও কর্মস্থলে পৌঁছানো সহজ হবে বলে উল্লেখ করেছেন ওয়াং।
সেতু উদ্বোধনের সময় এমআরটি সম্প্রসারণের নির্মাণ শুরুর বা শেষের কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে চিয়াংয়ের ঘোষিত অগ্রাধিকার হলো আশপাশের সংযোগব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করা। বাসিন্দারা এখন নতুন নদী পারাপারের সুবিধা পাচ্ছেন। কর্মকর্তাদের চিহ্নিত পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে রয়ে গেছে অন্য পরিবহন প্রকল্পগুলো।
মূল বিষয়গুলো
- দাদু হেমেই সেতু ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর চালু হয়েছে। এটি তাইচুংয়ের দাদু জেলা ও চাংহুয়া কাউন্টির হেমেই টাউনশিপকে যুক্ত করেছে।
- কর্মকর্তাদের ধারণা, ১০ কিলোমিটারের বেশি ঘুরপথ বাদ পড়ায় যাত্রার সময় অন্তত ৩০ মিনিট থেকে কমে প্রায় তিন মিনিট হবে।
- সেতুটিতে যানবাহনের জন্য চারটি লেন, মোটরসাইকেলের সুবিধা এবং হাঁটা ও সাইকেল চালানোর যৌথ পথ রয়েছে।
- স্থানীয় সরকারগুলো প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার বলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান থেকে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার এসেছে।
- কর্মকর্তাদের মতে, নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে এবং নির্ধারিত সময়ের চার মাস আগে শেষ হয়েছে।
- আরও ভালো সংযোগ সড়ক এবং এমআরটি গ্রিন লাইন চাংহুয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাবকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।






