খাদ্য কর ছাড়ের প্রস্তাব বিস্তারিত যাচাইয়ের মুখে
খাদ্যের ওপর ভোগ কর ৮% থেকে কমিয়ে দুই বছরের জন্য ১% করার আইন নিয়ে জাপানের প্রতিনিধি পরিষদের অর্থবিষয়ক কমিটি ৪ নভেম্বর আলোচনা শুরু করবে। প্রস্তাবটি ২০২৭ সালের এপ্রিলে কার্যকর হবে। আয়ের ভিত্তিতে কর্মীদের সহায়তা দেওয়াসহ বৃহত্তর একটি প্যাকেজের অংশ এটি।
সূচিপত্র
- খাদ্য কর ছাড়ের প্রস্তাব বিস্তারিত যাচাইয়ের মুখে
- কেনাকাটার সময় কী পরিবর্তন হবে?
- পরিবারগুলো কতটা সাশ্রয় করতে পারে?
- সহায়তার অর্থ কারা পাবেন?
- তাকাইচির উপস্থিতি কেন চাইছে বিরোধী দলগুলো
- সরকারি প্যাকেজের চারটি বিকল্প
- ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন কোথা থেকে আসবে?
- ৮% হারে ফেরার বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ
- সময়সূচি ও সমঝোতার চেষ্টা
- মূল বিষয়গুলো
৩০ অক্টোবর সকালে কমিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলো আলোচনার এ সময়সূচি পুনরায় নিশ্চিত করেছে। তারা ডেমোক্রেটিক পার্টি ফর দ্য পিপলের পাল্টা প্রস্তাবও পর্যালোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে। দলটি বাসিন্দা কর কমানো এবং নগদ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে, যাতে কর্মীরা বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ইয়েন সাশ্রয় করতে পারেন।
সুপারমার্কেটের বিল পরিশোধের সময় সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সমর্থন আদায় করতে পারবেন কি না, এ বিতর্কে তা যেমন দেখা হবে, তেমনি অতিরিক্ত সহায়তা কারা পাবেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে দাম নির্ধারণ করবে এবং বছরে আনুমানিক ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন ব্যয় কীভাবে মেটানো হবে, সে প্রশ্নেরও জবাব দিতে হবে।
বিরোধী দলগুলো কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই বছরে জনপ্রতি প্রায় ৮০ হাজার ইয়েন দেওয়া, স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক সহায়তা এবং প্রত্যেক নাগরিককে ৪০ হাজার ইয়েন দেওয়া। এসব প্রস্তাবে সহায়তার পরিমাণ এবং তা কত দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাবে, দুই বিষয়েই পার্থক্য রয়েছে।
কেনাকাটার সময় কী পরিবর্তন হবে?
সরকারের বিল অনুযায়ী, খাদ্যের ওপর ভোগ কর ৭ শতাংশ কমিয়ে ৮% থেকে ১% করা হবে। দুই বছর পর করের হার আবার ৮% হবে। তাকাইচি এই সাময়িক হ্রাসকে আয়ের ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি পুরোপুরি চালু হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
একটি সহজ উদাহরণে দেখা যায়, কর পরিবর্তনে কোনো কেনাকাটার খরচ কীভাবে বদলাতে পারে। কর-পূর্ব ১,০০০ ইয়েন দামের খাবার বর্তমানে ৮% করসহ ১,০৮০ ইয়েনে বিক্রি হয়। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কর-পূর্ব দাম অপরিবর্তিত রাখলে ১% করের হারে একই কেনাকাটার দাম হবে ১,০১০ ইয়েন। এতে ৭০ ইয়েন সাশ্রয় হবে, যা বর্তমান মোট দামের প্রায় ৬.৫%।
একটি পরিবারের প্রকৃত ব্যয় কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে তারা কী কিনছে এবং বিক্রেতারা কীভাবে দাম সমন্বয় করছেন তার ওপর। একই মূল্য-অনুমান ধরে, যোগ্য খাদ্যপণ্যে যে পরিবার বেশি ব্যয় করে, তাদের ইয়েনে সাশ্রয়ের পরিমাণও বেশি হবে।
তাকাইচি বলেছেন, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য খাদ্য ও পানীয়ের খরচ বিশেষভাবে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর সরকারের বক্তব্য, দাম বাড়তে থাকার মধ্যে কর কমালে মানুষ স্বস্তি পাবে।
পরিবারগুলো কতটা সাশ্রয় করতে পারে?
তাকাইচির হিসাবে, এই প্রস্তাবে পরিবারের ওপর ব্যয়ভার জনপ্রতি প্রায় ৩৬ হাজার ইয়েন কমবে। এটি সরকারের অনুমান। তবে কোনো নির্দিষ্ট কেনাকাটার ঝুড়ির দাম নির্ভর করবে করের হার এবং খাদ্য উৎপাদক ও খুচরা বিক্রেতাদের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের ওপর।
প্রস্তাবটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দাম নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী:
বিভিন্ন কারণে খুচরা দাম পরিবর্তিত হতে পারে, তাই নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। পরিবারের ওপর ব্যয়ভার জনপ্রতি প্রায় ৩৬ হাজার ইয়েন কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডেমোক্রেটিক রিফর্ম পার্টির প্রতিনিধি ইউইচি গোটো প্রশ্ন তুলেছেন, কর কমালে দামও কমবে—এই ধারণা নিয়ে। তাঁর যুক্তি, কাঁচামালের বাড়তি খরচ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো পুরোপুরি ক্রেতাদের ওপর চাপায়নি, ফলে আরও দাম বাড়ানোর চাপ রয়েছে।
কেনাকাটার সময় ভোক্তারা কী দেখবেন, তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে গোটো বলেছেন:
করসহ দাম কমার সম্ভাবনা নেই
পরিবারগুলোর জন্য চূড়ান্ত দামই বাস্তব বিষয়। কর কমালে কেনাকাটার করের অংশ কমতে পারে, কিন্তু উৎপাদন, পরিবহন বা উপকরণের খরচ বাড়লে মূল দাম বেড়ে যেতে পারে। এসব পরস্পরবিরোধী চাপ নিয়ে সরকারের অনুমান যাচাই করার সুযোগ পাবেন আইনপ্রণেতারা।
সহায়তার অর্থ কারা পাবেন?
বিলে সাময়িক খাদ্য কর হ্রাসের সঙ্গে আয়ের ভিত্তিতে কর্মীদের অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। কারা যোগ্য হবেন এবং কত অর্থ পাবেন, তা সরকারি অধ্যাদেশে নির্ধারণ করা হবে। মন্ত্রিসভার অধীন একটি টাস্কফোর্স সুবিধা কর্মসূচির ব্যবস্থা করবে।
সংসদে পাস হওয়া আইনের আওতায় সরকার কীভাবে নিয়ম নির্ধারণ করবে, তা অধ্যাদেশে বিস্তারিত বলা যায়। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অর্থের পরিমাণ নির্ধারণের দায়িত্ব ওই প্রক্রিয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়া কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে, কারণ বিলের ওপর ভোট দেওয়ার আগে আইনপ্রণেতারা পুরো প্যাকেজটি যাচাই করতে চান।
২৮ অক্টোবর সরকার অর্থবিষয়ক কমিটির পরিচালনা পর্ষদে সহায়তার অর্থ কারা পাবেন এবং কত পাবেন, সে বিষয়ে তাদের ভাবনা তুলে ধরে নথি উপস্থাপন করে। প্রস্তাবিত সহায়তার ব্যাখ্যা আরও স্পষ্ট করার জন্য বিরোধী দলগুলোর অনুরোধের পর এ উপস্থাপনা করা হয়।
কোমেইতো প্রতিনিধি ইসা শিনিচি সুবিধা কারা পাবেন, কত পাবেন এবং অর্থের জোগান কীভাবে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা চেয়েছেন। চূড়ান্ত যোগ্যতার সীমা, অর্থের পরিমাণ, তহবিলের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং কমিটির বিস্তারিত আলোচনায় তাকাইচি উপস্থিত থাকবেন কি না—ঘোষিত ব্যবস্থায় এসব নিশ্চিত করা হয়নি।
তাকাইচির উপস্থিতি কেন চাইছে বিরোধী দলগুলো
অর্থবিষয়ক কমিটির পর্যালোচনায় তাকাইচি নিজে আইনটি ব্যাখ্যা করুন, এমনটাই চাইছেন বিরোধী দলের নেতারা। তাদের দাবির মূল বিষয় হলো সুবিধা কর্মসূচির নকশা এবং সাময়িকভাবে খাদ্য কর কমানোর অর্থনৈতিক প্রভাব।
কোমেইতো প্রতিনিধি ইয়াসুহিরো নাকাগাওয়া বলেছেন, সংখ্যাগত তথ্যের অভাবে তাঁর দল ভোটের দিকে এগোতে পারছে না:
নতুন ব্যবস্থা চালুর বিলেও নির্দিষ্ট অঙ্কের উল্লেখ নেই, এমন ঘটনা নজিরবিহীন,
সিদ্ধান্তের আগে যে শর্ত পূরণ হওয়া দরকার বলে মনে করেন, তা জানিয়ে নাকাগাওয়া বলেছেন:
বিস্তারিত স্পষ্ট না হলে আমরা ভোট দিতে পারি না।
ডেমোক্রেটিক পার্টি ফর দ্য পিপলের প্রতিনিধি মোটোহিসা ফুরুকাওয়াও প্রধানমন্ত্রীকে কমিটিতে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, আইনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনির্দিষ্ট রাখা হয়েছে এবং সংসদের আলোচনায় তাঁর দল সরকারের কাছে প্রশ্ন করতে চায়। জাপানের জাতীয় সংসদকে ডায়েট বলা হয়।
ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধি হিদেকি মুরাই বলেছেন, অন্যান্য দেশের উদাহরণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করছে। তাকাইচির উপস্থিতির অনুরোধকেও দলটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকারি প্যাকেজের চারটি বিকল্প
খাদ্য করসংক্রান্ত বিলের পাশাপাশি ডেমোক্রেটিক পার্টি ফর দ্য পিপলের পাল্টা প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হবে। এতে বাসিন্দা কর কমানো এবং নগদ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে কর্মীরা বছরে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ইয়েন সাশ্রয় করতে পারেন। বাসিন্দা কর স্থানীয় কর। তাই এ পদ্ধতিতে সরকারের প্রস্তাবের তুলনায় করব্যবস্থার অন্য অংশ দিয়ে স্বস্তি দেওয়া হবে।
খাদ্য কর না কমিয়ে দুই বছরে জনপ্রতি প্রায় ৮০ হাজার ইয়েন দেওয়ার প্রস্তাব করেছে কোমেইতো। পুরো সময়ে সমানভাবে ভাগ করলে বছরে গড়ে ৪০ হাজার ইয়েন হয়। তবে প্রাপকরা কখন অর্থ পাবেন, তা নির্ভর করবে অর্থ দেওয়ার সময়সূচির ওপর।
জাপানের কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি চলতি অর্থবছরেই স্বল্প আয়ের এবং বাসিন্দা কর থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা দিতে চায়। তাদের প্রস্তাবটি করব্যবস্থার মাধ্যমে আগে থেকেই শনাক্ত করা একটি গোষ্ঠীর ওপর গুরুত্ব দেয় এবং খাদ্য কর হ্রাসের পরিকল্পিত ২০২৭ সালের এপ্রিলের শুরুর চেয়ে দ্রুত সহায়তা দিতে চায়।
ডেমোক্রেটিক রিফর্ম পার্টি প্রত্যেক নাগরিককে দ্রুত ৪০ হাজার ইয়েন দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এতে প্রত্যেক নাগরিক সমান অঙ্কের অর্থ পাবেন। অন্যদিকে, সরকারের খাদ্য কর হ্রাসে যোগ্য পণ্যে খরচের পরিমাণ অনুযায়ী সাশ্রয় হবে।
প্রস্তাবগুলোতে প্রাপক ও সময়সীমা ভিন্ন। ডেমোক্রেটিক পার্টি ফর দ্য পিপল কর্মীদের লক্ষ্য করছে, জাপানের কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি বাসিন্দা কর থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত পরিবারগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে, আর বাকি দুটি নগদ সহায়তা প্রস্তাবে জনপ্রতি বা নাগরিকপ্রতি অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তে কোন পরিবার সবচেয়ে বেশি সহায়তা পাবে, তা নির্ধারিত হবে।
৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন কোথা থেকে আসবে?
সরকারের হিসাবে, খাদ্য কর হ্রাস ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহায়তায় বছরে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন ব্যয় হবে। ঘাটতি মেটাতে সরকারি বন্ড ব্যবহার না করেই অর্থ জোগাড়ের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। সরকারি ব্যয় ও আয়ের ব্যবধান পূরণে সরকার যে ঋণ নেয়, তা-ই ঘাটতি মেটানোর বন্ড।
অর্থের উৎস খুঁজতে ভর্তুকি, বিশেষ করব্যবস্থা, কর-বহির্ভূত আয়, ব্যয় ও রাজস্ব পর্যালোচনা করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। বিশেষ করব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কার্যক্রম বা করদাতাদের জন্য আলাদা নিয়ম থাকে, যেমন কর হ্রাস বা অব্যাহতি।
বছরের শেষ দিকে বাজেট প্রণয়নের সময় বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করবে সরকার। অর্থের উৎস খোঁজার কাজ চলার মধ্যেই আইনপ্রণেতাদের কাছে সহায়তা প্যাকেজটি পর্যালোচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পরিবারগুলোর জন্য সুবিধার পরিমাণের পাশাপাশি অর্থের উৎসও গুরুত্বপূর্ণ। ভর্তুকি, কর-সুবিধা বা অন্যান্য ব্যয় পরিবর্তন করলে বিভিন্ন গোষ্ঠী ভিন্নভাবে প্রভাবিত হতে পারে। বাজেট প্রক্রিয়ায় সরকার কোন কর্মসূচি বা আয়ের উৎস ব্যবহারের প্রস্তাব দিচ্ছে, তা স্পষ্ট হবে।
৮% হারে ফেরার বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রস্তাবিত কর হ্রাসের মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দুই বছর রাখা হয়েছে। সাময়িক সুবিধা শেষ হলে হার ১% থেকে আবার ৮% হলে যোগ্য খাদ্যপণ্যে করের অংশ বেড়ে যাবে।
কর-পূর্ব ১,০০০ ইয়েন দামের খাবারের একই উদাহরণ ধরলে, মূল দাম অপরিবর্তিত থাকলে কেনাকাটার খরচ ১,০১০ ইয়েন থেকে বেড়ে ১,০৮০ ইয়েন হবে। কম দামের তুলনায় এটি ৭০ ইয়েন বা প্রায় ৬.৯% বৃদ্ধি।
হার আবার ৮% হলে কৃষি, রেস্তোরাঁ এবং পরিবারগুলোর ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন নাকাগাওয়া। তাঁর আপত্তিতে কর হ্রাস শুরুর পাশাপাশি শেষ হওয়ার বিষয়টিও বিতর্কে এসেছে।
সহায়তা কর্মসূচি চালু না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে তাকাইচির প্রস্তাবিত কর হ্রাসের সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য করের ব্যাপক হ্রাস শেষ হলে পরিবারের ওপর প্রভাব ভিন্ন হবে, কারণ সবাই প্রতিস্থাপনমূলক সহায়তার যোগ্য হবেন না এবং যারা হবেন, তাঁদের প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণও এক হবে না।
সময়সূচি ও সমঝোতার চেষ্টা
মন্ত্রিসভা বিলটি অনুমোদন করে ডায়েটে জমা দিয়েছে। চলতি সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদের সমর্থন নিয়ে বিলটি পাস করাতে চায় ক্ষমতাসীন দলগুলো। পরবর্তী নির্ধারিত ধাপ হলো ৪ নভেম্বর কমিটির পর্যালোচনা শুরু।
নির্ধারিত তারিখ ও সময়সীমার প্রধান ধাপগুলো হলো:
- ২৮ অক্টোবর: সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা ও অর্থের পরিমাণ নিয়ে সরকারের ভাবনা জানিয়ে কমিটির পরিচালনা পর্ষদে নথি উপস্থাপন করা হয়।
- ৩০ অক্টোবর: ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলো ৪ নভেম্বর আলোচনা শুরুর সময়সূচি পুনরায় নিশ্চিত করে এবং ডেমোক্রেটিক পার্টি ফর দ্য পিপলের পাল্টা প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করতে সম্মত হয়।
- ৪ নভেম্বর: অর্থবিষয়ক কমিটির আইন পর্যালোচনা শুরু করার কথা রয়েছে।
- বছরের শেষ দিকে: বাজেট প্রণয়নের সময় সরকার তহবিলের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করবে।
- এপ্রিল ২০২৭: খাদ্যের ওপর ভোগ কর দুই বছরের জন্য কমানোর প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার কথা।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও তাদের জোটসঙ্গী জাপান ইনোভেশন পার্টি মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিয়ে সমঝোতা চাইছে। জাপান ইনোভেশন পার্টির প্রতিনিধি তাকাশি এন্দো এমন একটি ব্যবস্থা গড়তে ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা মানুষকে নিরাপত্তার অনুভূতি দেবে।
কমিটির তাৎক্ষণিক কাজ হলো খাদ্য কর সাময়িকভাবে কমানোর প্রস্তাবের সঙ্গে নগদ সহায়তা ও কর ছাড়ের বিকল্পগুলো তুলনা করে দেখা। এসব সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হবে সহায়তা কখন পৌঁছাবে, কোন পরিবারগুলো তা পাবে এবং ব্যয় কীভাবে জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হবে।
মূল বিষয়গুলো
- কমিটির বিস্তারিত আলোচনা ৪ নভেম্বর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
- সরকার ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে দুই বছরের জন্য খাদ্যের ওপর ভোগ কর ৮% থেকে কমিয়ে ১% করার প্রস্তাব দিয়েছে।
- প্যাকেজে আয়ের ভিত্তিতে কর্মীদের সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে; যোগ্যতা ও অর্থের পরিমাণ অধ্যাদেশে নির্ধারণ করা হবে।
- সরকারের হিসাবে বছরে ব্যয় হবে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন। বাজেট প্রণয়নের সময় তহবিলের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
- ডেমোক্রেটিক পার্টি ফর দ্য পিপলের পাল্টা প্রস্তাবে বাসিন্দা কর কমানো ও নগদ সুবিধা দেওয়ার কথা রয়েছে, যাতে কর্মীরা বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ইয়েন সাশ্রয় করতে পারেন।
- বিরোধী দলগুলো সুবিধার নিয়ম স্পষ্ট করা, দামের সম্ভাব্য প্রভাব ব্যাখ্যা করা এবং প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরাসরি জবাব চাইছে।






