আগের দিনের উত্থান হারাল তাইএক্স
বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রির চাপে ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর তাইওয়ানের প্রধান শেয়ারসূচক সর্বোচ্চ ৯৮০.৫১ পয়েন্ট কমে ৪৬,০৫৫.০৭-এ নেমে আসে। এতে আগের দিনের বড় উত্থান মুছে যায়। তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি)-র শেয়ার ৩৫ তাইওয়ান ডলার কমে ২,৩৯০ তাইওয়ান ডলারে নামে। অন্যদিকে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাইওয়ান ডলারের দর ৩২.৫ তাইওয়ান ডলার ছাড়িয়ে দুর্বল হয়।
সূচিপত্র
- আগের দিনের উত্থান হারাল তাইএক্স
- যেভাবে বাড়ল দরপতন
- চাপের প্রধান কারণ টিএসএমসি ও মিডিয়াটেক
- আর্থিক খাতের শেয়ারের উত্থান, ছোট কোম্পানির গতি হারানো
- বিপরীতমুখী ইউএমসি ও উইন সেমিকন্ডাক্টরস
- শুরুর উত্থানের পর দুর্বল তাইওয়ান ডলার
- ফেডের বিরতিতেও প্রযুক্তি শেয়ারে কেন স্বস্তি ফিরল না
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে নজর
- মূল বিষয়গুলো
তাইএক্স ৪৭,০১৪.৮৭ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে, যা আগের দিনের চেয়ে মাত্র ২০.৭১ পয়েন্ট কম। পরে দরপতন বেড়ে আগের দিনের সমাপনী অবস্থানের তুলনায় প্রায় ২.০৮ শতাংশে পৌঁছায়। ২৮ অক্টোবর সূচকটি ৯৩৯.৩৫ পয়েন্ট বেড়েছিল। অর্থাৎ, এ দিনের সর্বোচ্চ পতন আগের দিনের পুরো উত্থানকে ৪১.১৬ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়।
মিডিয়াটেক ও হোন হাইয়ের শেয়ারেও চাপ পড়ে। মিডিয়াটেকের দর সর্বোচ্চ ২৩৫ তাইওয়ান ডলার কমে ৪,০০০ তাইওয়ান ডলারে নামে। হোন হাইয়ের দর কমে ৪.৫০ তাইওয়ান ডলার, দাঁড়ায় ২৪৭ তাইওয়ান ডলারে। আর্থিক খাতের শেয়ার এবং কয়েকটি প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ার বাড়লেও এ দরপতনে প্রধান সূচক আরও নিচে নামে।
২৮ অক্টোবর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পর এবং যুক্তরাষ্ট্রের চারটি প্রধান শেয়ারসূচকই সেদিনের লেনদেন শেষে বাড়ার পর এই বিক্রির চাপ আসে। ফলে তাইওয়ানের বাজার আগের মার্কিন লেনদেনের বিপরীত দিকে চলে। বিনিয়োগকারীরা প্রযুক্তি কোম্পানির আয়, উচ্চ মার্কিন বন্ডের ফলন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যয়ের বিপরীতে সম্ভাব্য মুনাফা নিয়েও ভাবছিলেন।
এ পরিসংখ্যানগুলো লেনদেন চলাকালীন অবস্থার চিত্র তুলে ধরে। তাইএক্সের চূড়ান্ত সমাপনী অবস্থান ও বিনিময় হারের চূড়ান্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে পরে বাজার কতটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।
যেভাবে বাড়ল দরপতন
২৯ অক্টোবর লেনদেন শুরু হয় আগের দিনের ৪৭,০৩৫.৫৮ পয়েন্টের সমাপনী অবস্থান থেকে সামান্য নেমে। এরপর দিনের শুরুর লেনদেনে সূচক ৪৭,০০০-এর নিচে নামে এবং পরে ৪৬,৫০২-এর কাছাকাছি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা-রেখাও ভেঙে নিচে চলে যায়।
সকালের লেনদেনে পরিস্থিতি কত দ্রুত বদলেছে, তা ধারাবাহিক ঘটনাগুলোতে দেখা যায়:
- ২৮ অক্টোবর: তাইএক্স ৯৩৯.৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ৪৭,০০০-এর স্তরে ফিরে আসে।
- ২৯ অক্টোবর লেনদেনের শুরু: সূচক ২০.৭১ পয়েন্ট কমে ৪৭,০১৪.৮৭-এ নামে।
- দিনের শুরুর লেনদেন: সূচক নেমে ৪৬,৮২৬.৬৮-এ পৌঁছায়। লেনদেন শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে লেনদেনের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলার ছাড়িয়ে যায়।
- সকাল ১০টা ৫৪ মিনিট: তাইএক্স ছিল ৪৬,৩৩০.৬৭ পয়েন্টে, ৭০৪.৯১ পয়েন্ট বা ১.৫ শতাংশ কম। লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৭০.৬০৯ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলার।
- দিনের লেনদেনে: উল্লেখ করা সর্বোচ্চ পতন ছিল ৯৮০.৫১ পয়েন্ট; সূচক নেমে আসে ৪৬,০৫৫.০৭-এ।
বিক্রির চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজার ৪৬,১৪৬ পয়েন্টের একটি নিম্ন অবস্থানও অতিক্রম করে। এ পরিসংখ্যানগুলো পতনের বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরে: শুরুতে ২০০ পয়েন্টের বেশি পতন থেকে তা প্রায় ১,০০০ পয়েন্টে পৌঁছে যায়।
৪৬,৫০২-এর কাছাকাছি রেখাটি ছিল ত্রৈমাসিক চলমান গড়, যা প্রায় তিন মাসের দৈনিক শেয়ারের দরকে গড় করে। বর্তমান সূচক সাম্প্রতিক প্রবণতার তুলনায় কোথায় আছে, তা বুঝতে ব্যবসায়ীরা এটি ব্যবহার করেন। এর নিচে নেমে যাওয়ায় বাজার এ নির্দেশক রেখা এবং আরও দৃশ্যমান ৪৭,০০০-এর স্তর, দুটোরই নিচে চলে যায়।
চাপের প্রধান কারণ টিএসএমসি ও মিডিয়াটেক
টিএসএমসির শেয়ার লেনদেন শুরু হয় ২,৪২০ তাইওয়ান ডলারে, যা আগের দিনের ২,৪২৫ তাইওয়ান ডলারের সমাপনী দরের চেয়ে ৫ তাইওয়ান ডলার কম। দিনের শুরুর দিকে দর ছিল ২,৪১৫ তাইওয়ান ডলার; পতন বাড়লে তা নেমে ২,৩৯৫ তাইওয়ান ডলারে পৌঁছায়। এরপর দর নামে উল্লেখিত সর্বনিম্ন ২,৩৯০ তাইওয়ান ডলারে। সর্বোচ্চ ৩৫ তাইওয়ান ডলারের পতন প্রায় ১.৪৪ শতাংশ।
শতকরা হিসাবে মিডিয়াটেকের দর আরও বেশি কমে। শেয়ারটির প্রারম্ভিক দর ছিল ৪,২০৫ তাইওয়ান ডলার, যা আগের দিনের সমাপনী দরের চেয়ে ৩০ তাইওয়ান ডলার কম। দর ৪,০০০ তাইওয়ান ডলারে নামায় ২৩৫ তাইওয়ান ডলারের পতন দাঁড়ায় প্রায় ৫.৫৫ শতাংশে।
হোন হাই লেনদেনের শুরুর দিকে কিছুটা বেশি স্থিতিশীলতা দেখিয়ে সর্বোচ্চ ২৫২.৫০ তাইওয়ান ডলারে ওঠে। তবে শেয়ারটির লেনদেনও কম দরে, ২৫০ তাইওয়ান ডলারে শুরু হয় এবং পরে ২৪৭ তাইওয়ান ডলারে নামে। আগের দিনের ২৫১.৫০ তাইওয়ান ডলারের সমাপনী দরের তুলনায় এ দর প্রায় ১.৭৯ শতাংশ কম।
কোম্পানির আকারের ভিত্তিতে তাইএক্সে শেয়ারের ওজন নির্ধারিত হয়। তাই বড় কোম্পানির শেয়ারের ওঠানামা ছোট প্রতিষ্ঠানের সমপরিমাণ দর পরিবর্তনের চেয়ে সূচকে বেশি প্রভাব ফেলে। ফলে টিএসএমসি ও অন্যান্য বড় ইলেকট্রনিকস কোম্পানির শেয়ার বিক্রি হলে বাজারের কিছু অংশ ইতিবাচক থাকলেও প্রধান সূচক দ্রুত নিচে নামতে পারে।
ডেল্টা ইলেকট্রনিকসের দর ৩ শতাংশের বেশি কমে ১,৪৮৫ তাইওয়ান ডলারে নেমে দুর্বলতা আরও বাড়ায়। ইলেকট্রনিকস খাতের সূচক ২ শতাংশের বেশি এবং সেমিকন্ডাক্টর সূচক ১.৫ শতাংশের বেশি কমে, যা প্রযুক্তি খাতের আরও বিস্তৃত অংশে চাপের ইঙ্গিত দেয়।
আর্থিক খাতের শেয়ারের উত্থান, ছোট কোম্পানির গতি হারানো
আর্থিক খাতের শেয়ার ছিল বাজারের স্পষ্ট শক্তিশালী অংশগুলোর একটি। সকালের লেনদেনে খাতটির সূচক ১ শতাংশের বেশি বাড়ে। মেমোরি ও ডিসপ্লে কোম্পানির শেয়ারেও শুরুতে দর বাড়ে, যদিও বিক্রির চাপ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ স্থিতিশীলতা কমে আসে।
ডিসপ্লে প্যানেল নির্মাতা এউওর শেয়ার প্রথমে বাড়লেও পরে কমে যায়। দর প্রায় ৪ শতাংশ পড়ে ৩৪ তাইওয়ান ডলারে নামে। প্লাস্টিক খাতের শেয়ারও নিম্নমুখী হয়; এ খাতের সূচক প্রায় ১ শতাংশ কমে।
তাইওয়ানের এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত অনেক ছোট কোম্পানির শেয়ার অনুসরণকারী টিপিএএক্স সূচক প্রথমে ০.২৮ শতাংশ বাড়ে, পরে নিচে নামে। এ উল্টে যাওয়া দেখায়, প্রধান বোর্ড দুর্বল থাকলেও ছোট কোম্পানির শেয়ার তুলনামূলক ভালো করার যে প্রাথমিক চিত্র ছিল, তা সকালজুড়ে স্থায়ী হয়নি।
তবে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য উত্থান বজায় ছিল। ফ্যারাডে টেকনোলজির দর দিনের সর্বোচ্চ সীমা ২৩১.৫০ তাইওয়ান ডলারে পৌঁছায়। ফিটিপাওয়ার ইন্টিগ্রেটেড টেকনোলজির শেয়ার ৭.৮১ শতাংশ বেড়ে ২০৭ তাইওয়ান ডলারে দাঁড়ায়, ভিআইএ ল্যাবসের দর ৫.৯৯ শতাংশ বেড়ে ১৪১.৫০ তাইওয়ান ডলারে ওঠে, এলিট সেমিকন্ডাক্টর মাইক্রোইলেকট্রনিকস টেকনোলজি ৫.০৮ শতাংশ এবং ক্রোমা এইটিই সকালের লেনদেনে ৪.৪৯ শতাংশ বাড়ে।
শুধু প্রধান সূচকের শিরোনাম দেখে যতটা বোঝা যায়, বাজারের চিত্র ছিল তার চেয়ে জটিল। বড় চিপ কোম্পানির শেয়ার সূচককে নিচে টানছিল, আর্থিক খাতের শেয়ার বাড়ছিল এবং সামগ্রিক দরপতনের মধ্যেও নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারে কেনাকাটা চলছিল।
বিপরীতমুখী ইউএমসি ও উইন সেমিকন্ডাক্টরস
আরেক বড় চিপ নির্মাতা ইউনাইটেড মাইক্রোইলেকট্রনিকস করপোরেশনের (ইউএমসি) শেয়ার দিনের শুরুর লেনদেনে ৫ শতাংশের বেশি কমে ১১৮.৫০ তাইওয়ান ডলারে নামে। পরে তা দিনের সর্বনিম্ন দরসীমা ১১৫.৫০ তাইওয়ান ডলারে পৌঁছায়। লেনদেনের পরিমাণ ২ লাখ ৩০ হাজার লট ছাড়িয়ে যায়।
তাইওয়ানের দৈনিক দরসীমা নির্ধারণের নিয়মে এক সেশনে বেশির ভাগ স্বতন্ত্র শেয়ারের দর কতটা বাড়তে বা কমতে পারবে, তা সীমাবদ্ধ করা হয়। কোনো শেয়ার সর্বনিম্ন দরসীমায় পৌঁছালে সেটি দিনের অনুমোদিত দরসীমার তলানিতে চলে যায়; আর সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছালে থাকে দরসীমার শীর্ষে।
উইন সেমিকন্ডাক্টরস উল্টো দিকে গিয়ে ৫৯৪ তাইওয়ান ডলারের সর্বোচ্চ দরসীমায় পৌঁছায়। তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৪.৫৫ তাইওয়ান ডলার আয় করেছে। লেনদেনের পরিমাণ ৫০ হাজার লট ছাড়ায়। কোম্পানিটি গ্যালিয়াম আর্সেনাইড ব্যবহার করে চিপ তৈরি করে; যোগাযোগ ও রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির কিছু যন্ত্রাংশে এ উপাদান ব্যবহৃত হয়।
ইউএমসির দরপতন এবং উইন সেমিকন্ডাক্টরসের উত্থানের বৈপরীত্য বৃহত্তর প্রযুক্তি শেয়ার বিক্রির চাপের মধ্যে কোম্পানিভিত্তিক ফলাফলের গুরুত্ব তুলে ধরে। কিছু চিপ নির্মাতার শেয়ার বিনিয়োগকারীরা জোরেশোরে বিক্রি করলেও, আয়ের খবরের কারণে চাহিদা তৈরি হওয়া অন্য কোম্পানির শেয়ার কিনছিলেন।
শুরুর উত্থানের পর দুর্বল তাইওয়ান ডলার
প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৩২.৩৯ তাইওয়ান ডলারে লেনদেন শুরু করে তাইওয়ান ডলার; আগের সেশনের তুলনায় এ দর ০.০২৮ তাইওয়ান ডলার বেশি। শেয়ারের দর দুর্বল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রাটিও দিক বদলায়। এর বিনিময় হার ৩২.৪ ও ৩২.৫ তাইওয়ান ডলার অতিক্রম করে, পরে ৩২.৫৬৪ তাইওয়ানে পৌঁছায়।
সর্বোচ্চ দুর্বল অবস্থানে মুদ্রাটির দর আগের সমাপনী দরের তুলনায় ০.১৪৬ তাইওয়ান ডলার কমে যায়। মধ্যাহ্নে বিনিময় হার ছিল ৩২.৫৩৩ তাইওয়ান ডলার, যা আগের চেয়ে ০.১১৫ তাইওয়ান ডলার দুর্বল। তাইপে ফরেক্স ইনকরপোরেটেডে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১.২১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিনিময় হার দিয়ে এক মার্কিন ডলার কিনতে কত তাইওয়ান ডলার প্রয়োজন, তা বোঝানো হয়। ফলে হার ৩২.৩৯ থেকে ৩২.৫৬৪-এ ওঠার অর্থ তাইওয়ান ডলার দুর্বল হয়েছে: একই এক ডলার কিনতে এখন বেশি স্থানীয় মুদ্রা লাগছে।
বিদেশি বিনিয়োগ দুই বাজারকে যুক্ত করতে পারে। তাইওয়ানের শেয়ার কিনতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিদেশি মুদ্রা বদলে তাইওয়ান ডলার নিতে পারেন। আবার বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়ার সময় এর উল্টোটা হতে পারে। দিনের শেষে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের নিট হিসাব এবং বিদেশে পাঠানো অর্থের পরিমাণ দেওয়া হয়নি।
এশিয়ার মুদ্রাগুলোর দর একেক রকম ছিল। প্রতি মার্কিন ডলারে জাপানি ইয়েনের বিনিময় হার ১৫৭ থেকে ১৫৮-এর মধ্যে ওঠানামা করে। আগের দিনের বড় পতনের পর দক্ষিণ কোরীয় ওনও কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তাইওয়ানের মুদ্রা তার শেয়ারবাজারের সঙ্গে দুর্বল হয়।
ফেডের বিরতিতেও প্রযুক্তি শেয়ারে কেন স্বস্তি ফিরল না
ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মিলে যায়। তবে দুই কর্মকর্তা হার বাড়ানোর পক্ষে থাকায় এবং অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় আরও কড়াকড়ির সম্ভাবনা আলোচনায় থাকে।
ফেডারেল রিজার্ভের ২৮ অক্টোবরের বিবৃতি ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির ১০-২ ভোটে অনুমোদিত হয়। এতে বলা হয়: "ফেডারেল রিজার্ভের দ্বৈত লক্ষ্য পূরণে সহায়তার জন্য কমিটি ফেডারেল ফান্ডস হারের লক্ষ্যসীমা ৩-৩/৪ থেকে ৪ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" লিসা ডি. কুক ও বেথ এম. হ্যামাক ভিন্নমত পোষণ করেন। তাঁরা লক্ষ্যসীমা ১/৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর পক্ষে ছিলেন।
ফেড মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের উপাত্তের ওপরও নজর রাখছিল। সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার অর্থ বর্তমান ঋণব্যয় বহাল থাকা। তাই এ ব্যয় ব্যবসায়িক বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কোম্পানির মুনাফায় কী প্রভাব ফেলবে, তা বিনিয়োগকারীদের বিবেচনা করতে হয়।
মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন ছিল বাড়তি চাপের আরেকটি উৎস। ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন সরকারি বন্ডের ফলন উঁচু অবস্থানে ছিল। বন্ডের ফলন বাড়লে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি হয় এবং বেশি দামের শেয়ার কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে; বিশেষত যেসব শেয়ারের বড় অংশের মূল্য নির্ভর করে বহু বছর পরের সম্ভাব্য মুনাফার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত লেনদেন শেষ হওয়ার পর অ্যালফাবেটের শেয়ারের দর দ্রুত কমে যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ থেকে যথেষ্ট মুনাফা আসবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। সময়টি গুরুত্বপূর্ণ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সূচকগুলোর উত্থান ছিল নিয়মিত লেনদেনের প্রতিফলন। কিন্তু পরে অ্যালফাবেটের দরপতন এশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় নতুন আরেকটি বিষয় যোগ করে।
চিপ তৈরি, ইলেকট্রনিকস উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে তাইওয়ানের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এ বিনিয়োগচক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা নিয়ে প্রত্যাশা তাদের শেয়ারের পক্ষে যেতে পারে। আবার গ্রাহকদের ব্যয় ও মুনাফা নিয়ে সংশয় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দ্রুত বদলে দিতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে নজর
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারের সিদ্ধান্ত ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঘোষণা করার কথা ছিল। এরপর ৩০ অক্টোবর সিদ্ধান্ত জানানোর কথা ছিল জাপান ব্যাংকের। বাজারের ক্যালেন্ডারে পরবর্তী নির্ধারিত ঘটনা ছিল এ দুটি সিদ্ধান্ত।
বিনিয়োগকারীদের সাধারণ প্রত্যাশা ছিল, জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। গভর্নর কাজুও উয়েদা আরেক দফা সুদ বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন কি না, তা ছিল মনোযোগের কেন্দ্রে। সিদ্ধান্তের আগে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর ছিল ১৫৭ থেকে ১৫৮-এর কাছাকাছি।
তাইওয়ানের বাজারে তাৎক্ষণিক চিত্র ছিল স্পষ্ট: সর্বোচ্চ পতনের সময় প্রধান সূচক আগের দিনের উত্থান হারায়, বড় ইলেকট্রনিকস কোম্পানির শেয়ার কমে এবং স্থানীয় মুদ্রার দর ডলারে ৩২.৫ তাইওয়ান ডলারের সীমা ছাড়িয়ে দুর্বল হয়। আর্থিক খাতের শেয়ার ও নির্বাচিত প্রযুক্তি কোম্পানির উত্থান কিছুটা সহায়তা দিলেও, সকালের লেনদেনে বিক্রির চাপ বৃহত্তম কোম্পানিগুলোর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।
মূল বিষয়গুলো
- ২৯ অক্টোবর তাইএক্স সর্বোচ্চ ৯৮০.৫১ পয়েন্ট বা প্রায় ২.০৮ শতাংশ কমে ৪৬,০৫৫.০৭-এ নামে।
- সর্বোচ্চ পতন আগের দিনের ৯৩৯.৩৫ পয়েন্টের উত্থানকে ছাড়িয়ে যায়।
- লেনদেনে টিএসএমসির দর ২,৩৯০, মিডিয়াটেকের ৪,০০০ এবং হোন হাইয়ের ২৪৭ তাইওয়ান ডলারে নামে।
- আর্থিক খাতের শেয়ার ১ শতাংশের বেশি বাড়ে। ইউএমসি সর্বনিম্ন দরসীমায় এবং উইন সেমিকন্ডাক্টরস সর্বোচ্চ দরসীমায় পৌঁছায়।
- মধ্যাহ্নে ৩২.৫৩৩ তাইওয়ান ডলারে পৌঁছানোর আগে মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাইওয়ান ডলারের দর ৩২.৫৬৪-এ নামে।
- ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখে। ইউরোপ ও জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত ছিল পরবর্তী নির্ধারিত ঘটনা।






