এআই চাহিদায় রপ্তানি আদেশে নতুন রেকর্ড
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সরঞ্জামের চাহিদায় চিপ, সার্ভার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যের ক্রয় বেড়ে যাওয়ায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তাইওয়ানের রপ্তানি আদেশের পরিমাণ রেকর্ড ১১৪.২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই বৃদ্ধি ৬২.৪ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রণালয় (MOEA) ২০ অক্টোবর এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। টানা ২০ মাস ধরে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির ধারাও অব্যাহত রয়েছে।
সূচিপত্র
- এআই চাহিদায় রপ্তানি আদেশে নতুন রেকর্ড
- দুই প্রযুক্তি খাতেই মোট আদেশের পাঁচ ভাগের চার ভাগ
- প্রধান বাজারগুলোতে রেকর্ড, এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা
- প্রকৃত রপ্তানিও মাসিক বড় অঙ্কে পৌঁছেছে
- কারখানা সম্প্রসারণে যন্ত্রপাতি ও উপকরণ খাতের লাভ
- ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার বাইরে ফ্ল্যাট প্যানেল
- রেকর্ড ত্রৈমাসিকের পর ২০২৬ সালের শেষ মাসগুলোর পালা
- অক্টোবরের পূর্বাভাসেও আরেকটি শক্তিশালী মাসের ইঙ্গিত
- মূল তথ্য
ইলেকট্রনিকস এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিপণ্য মিলিয়ে ৯১.৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আদেশ এসেছে, যা মাসিক মোটের প্রায় ৮০ শতাংশ। আদেশের সবচেয়ে বড় উৎস ছিল যুক্তরাষ্ট্র; দেশটি থেকে এসেছে ৪৫.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আদেশ, যা মোটের প্রায় ৩৯.৭ শতাংশ।
রেকর্ডের এই মাসে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আদেশের পরিমাণও বেড়ে ৮১৯.২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি। বছরের শেষ হতে তখনো তিন মাস বাকি, কিন্তু এরই মধ্যে তাইওয়ানের আদেশের পরিমাণ আগের পূর্ণ বছরের রেকর্ড ৭৪৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারকে ৭৫.৫ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১০.২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
এই প্রবৃদ্ধি সব খাতে সমান ছিল না। ফ্ল্যাট প্যানেলসহ আলোক-ইলেকট্রনিক পণ্যের আদেশ কমেছে। মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, কিছু প্রচলিত শিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা এখনো গ্রাহকদের চাহিদার চেয়ে বেশি। তাইওয়ানের উৎপাদন খাতের উল্লম্ফন মূলত এআইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ ঘিরেই কেন্দ্রীভূত রয়েছে।
দুই প্রযুক্তি খাতেই মোট আদেশের পাঁচ ভাগের চার ভাগ
সেপ্টেম্বরে ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকারীরা ৪৭.৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আদেশ পেয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭১ শতাংশ বেশি। এ বৃদ্ধির পেছনে সমন্বিত সার্কিট উৎপাদন, মেমোরি চিপ তৈরি ও চিপ নকশায় এআই উন্নয়নের সহায়ক ভূমিকার কথা বলেছে MOEA। সমন্বিত সার্কিট বা আইসি হলো এমন একটি চিপ, যাতে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ বা সংরক্ষণের জন্য ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক উপাদান থাকে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো আরও ৪৩.৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আদেশ পেয়েছে, যা ৮৭.৩ শতাংশ বেশি। এ প্রবৃদ্ধিতে এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ভোক্তা ইলেকট্রনিকসের চাহিদা সহায়তা করেছে। ক্লাউড কম্পিউটিং বলতে ব্যবহারকারীর নিজস্ব যন্ত্রের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যবহৃত কম্পিউটিং ক্ষমতা ও সংরক্ষণব্যবস্থাকে বোঝায়।
দুটি শ্রেণি একই প্রযুক্তি ব্যয়চক্রের ভিন্ন অংশকে তুলে ধরে। চিপ কোম্পানিগুলো কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় প্রসেসর ও মেমোরি সরবরাহ করে। অন্যদিকে, সার্ভার ও যোগাযোগ সরঞ্জাম নির্মাতারা এসব যন্ত্রাংশ দিয়ে গ্রাহকের ব্যবহারের উপযোগী ব্যবস্থা তৈরি করে। ফলে এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণে তাইওয়ানের একাধিক শিল্পে একই সময়ে আদেশ তৈরি হতে পারে।
দুই খাতে মিলিয়ে ৯১.৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আদেশের পর বাকি সব শ্রেণির জন্য থাকে ২২.৯১ বিলিয়ন ডলার। এ কেন্দ্রীভবন তাইওয়ানের প্রবৃদ্ধির গতি এবং প্রধান প্রযুক্তি খাতের বাইরের উৎপাদকদের অসম অভিজ্ঞতা—দুটিই ব্যাখ্যা করতে সহায়তা করে।
প্রধান বাজারগুলোতে রেকর্ড, এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আদেশ আগের বছরের তুলনায় ৭৯.৪ শতাংশ বেড়ে ৪৫.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। MOEA-র পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধান হুয়াং ওয়েই-চিয়ে বলেন, মার্কিন গ্রাহকদের চাহিদা বাড়িয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিপণ্য।
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট (ASEAN) ২০.৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আদেশ দিয়েছে। এরপর রয়েছে চীন ও হংকং, ১৮.২১ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রসহ এই বাজারগুলো থেকে মোট ৮৪.৪৪ বিলিয়ন ডলারের আদেশ এসেছে, যা সেপ্টেম্বরে মোট আদেশের প্রায় ৭৩.৯ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও হংকং, ইউরোপ এবং ASEAN—প্রতিটি বাজারেই মাসিক আদেশের পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসব বাজারে প্রবৃদ্ধি এসেছে ভিন্ন ভিন্ন পণ্যের সমন্বয়ে, যা তাইওয়ানের কারখানাগুলো কোথায় ব্যবসা পাচ্ছে তার আরও বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে।
হুয়াং বলেন, চীন থেকে চাহিদায় এগিয়ে ছিল মেমোরি পণ্য। ইউরোপের আদেশে চালিকা শক্তি ছিল সার্ভার ও স্মার্টফোন, আর ASEAN-এর চাহিদায় সহায়তা করেছে মেমোরি পণ্য ও আইসি নকশা। মেমোরি চিপে কম্পিউটিং ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকে, যা পরে ব্যবহারের জন্য উদ্ধার করা যায়। ফলে উন্নত কম্পিউটিং সরঞ্জাম ও দৈনন্দিন ইলেকট্রনিক যন্ত্র—দুটির ক্ষেত্রেই এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
আঞ্চলিক পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, আদেশের উৎস কোথায়। তাইওয়ানের শুল্ক রপ্তানি পরিসংখ্যান অর্থ মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে প্রকাশ করে; এতে সীমান্ত পেরিয়ে পাঠানো পণ্যের হিসাব থাকে। দুটি পরিমাপে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ভিন্ন ভিন্ন ধাপ ধরা পড়ে।
প্রকৃত রপ্তানিও মাসিক বড় অঙ্কে পৌঁছেছে
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সেপ্টেম্বরের বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই মাসে তাইওয়ান বিদেশে ৮৭.২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য পাঠিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬০.৯ শতাংশ বেশি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ ৮ অক্টোবর এ তথ্য প্রকাশ করে।
আমদানি ৫১.৭ শতাংশ বেড়ে ৬৩.৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। রপ্তানি থেকে আমদানি বাদ দিলে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ২৩.৬৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, বিদেশ থেকে কেনা পণ্যের চেয়ে তাইওয়ান যে পণ্য বিদেশে বিক্রি করেছে তার মূল্য এই পরিমাণ বেশি।
রপ্তানি আদেশের হিসাবে কোম্পানিগুলোর বুক করা ব্যবসা ধরা হয়, আর শুল্ক রপ্তানির হিসাবে মাসে পাঠানো পণ্যের হিসাব থাকে। কোনো আদেশ পরে পূরণ হতে পারে, আবার তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের বাইরে উৎপাদনের ব্যবস্থাও করতে পারে। তাই এই পরিসংখ্যান দুটি আলাদা প্রশ্নের উত্তর দেয়: কোম্পানিগুলো কত ব্যবসা পাচ্ছে, আর তাইওয়ান থেকে কত পণ্য বাইরে যাচ্ছে।
সেপ্টেম্বরে আদেশের মোট পরিমাণ শুল্ক রপ্তানির মূল্যের চেয়ে ২৬.৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি ছিল। নির্দিষ্ট আদেশের সঙ্গে পণ্য পাঠানোর সম্পর্ক বুঝতে হলে সরবরাহের সময়সূচি ও উৎপাদনের স্থান জানতে হয়। অর্থনীতি অনুসরণকারী পাঠকদের জন্য সাধারণভাবে ইতিবাচক ইঙ্গিত হলো, দুই পরিমাপেই বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬০ শতাংশ ছিল।
কারখানা সম্প্রসারণে যন্ত্রপাতি ও উপকরণ খাতের লাভ
সেপ্টেম্বরে যন্ত্রপাতি উৎপাদকরা ২.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আদেশ পেয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২১.৫ শতাংশ বেশি। বেস মেটালের আদেশ ২৯.৭ শতাংশ বেড়ে ২.৪৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। রাসায়নিক পণ্যের আদেশ বেড়েছে ২২.৮ শতাংশ, হয়েছে ১.৭১ বিলিয়ন ডলার। প্লাস্টিক ও রাবার পণ্যের আদেশ বেড়েছে ১১.৪ শতাংশ, হয়েছে ১.৫৩ বিলিয়ন ডলার।
MOEA জানিয়েছে, সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহকারীদের উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং সরঞ্জাম ও কাঁচামাল কেনার সঙ্গে এ চাহিদার একটি অংশের যোগ রয়েছে। চিপ কারখানার জন্য শুধু চিপের নকশা থাকলেই চলে না; উৎপাদন বাড়াতে যন্ত্রপাতি, নির্মাণসামগ্রী এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণও লাগে। ফলে প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় ইলেকট্রনিকসের বাইরের শ্রেণিতে থাকা সরবরাহকারীদেরও কাজ এনে দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় পেট্রোলিয়াম ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের আদেশের মূল্যও বেড়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ পরিসংখ্যানে অর্থমূল্যে আদেশ মাপা হয়, তাই কেনা পণ্যের পরিমাণের পাশাপাশি দামের পরিবর্তনও প্রতিবেদিত মূল্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
হুয়াং সতর্ক করে বলেন, প্রচলিত পণ্যে প্রবৃদ্ধি এখনো এআই সরবরাহশৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত শিল্পেই কেন্দ্রীভূত। কিছু প্রচলিত খাতে এখনো অতিরিক্ত সরবরাহ ও উৎপাদন সক্ষমতার চাপ রয়েছে, অর্থাৎ গ্রাহকেরা যতটা কিনছেন তার চেয়ে বেশি উৎপাদন করা সম্ভব। তার মূল্যায়নে কারখানায় বিনিয়োগের ফলে পুনরুদ্ধারের আভাস মিললেও অন্য খাতগুলোতে চাপ অব্যাহত রয়েছে।
ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার বাইরে ফ্ল্যাট প্যানেল
সেপ্টেম্বরে আলোক-ইলেকট্রনিক পণ্যের আদেশ আগের বছরের তুলনায় ৫.৬ শতাংশ কমে ১.৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফ্ল্যাট প্যানেলের চাহিদা কমে যাওয়াকেই এ পতনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে MOEA। স্ক্রিন ও ডিসপ্লেতে ফ্ল্যাট প্যানেল ব্যবহার করা হয়।
চিপ ও কম্পিউটিং সরঞ্জামের দ্রুত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে এ পতন ঘটেছে। তাইওয়ানের প্রযুক্তি শিল্পের ভেতরেও বিভিন্ন পণ্যে গ্রাহকদের ব্যয়ের গতি ভিন্ন ছিল। এআই অবকাঠামো সরবরাহকারীরা আদেশ বাড়ার সুফল পেয়েছে, আর ফ্ল্যাট প্যানেলের ধীর চাহিদার ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মাসটি তুলনামূলক দুর্বল ছিল।
সেপ্টেম্বরের মোট আদেশের প্রায় ১.৭ শতাংশ ছিল আলোক-ইলেকট্রনিক পণ্য। মোটে এই খাতের অংশ কম হওয়ায় এর আদেশ কমলেও তাইওয়ান কীভাবে জাতীয় রেকর্ড গড়তে পেরেছে, তা বোঝা যায়। তবে এ খাতের কোম্পানি ও কর্মীদের জন্য জাতীয় মোটের চেয়ে নিজেদের আদেশের হিসাবই উৎপাদন পরিকল্পনায় বেশি প্রাসঙ্গিক।
রেকর্ড ত্রৈমাসিকের পর ২০২৬ সালের শেষ মাসগুলোর পালা
তৃতীয় প্রান্তিকে আদেশের পরিমাণ রেকর্ড ১০.২৯ ট্রিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেশি। প্রথম নয় মাসে আদেশের মোট পরিমাণ ছিল ২৬.৭৫ ট্রিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার, যা আগের বার্ষিক রেকর্ড ২৪.২৮ ট্রিলিয়ন ডলারকেও ছাড়িয়ে গেছে।
হুয়াং বলেন, বার্ষিক মোট ৩৫.৯১ ট্রিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার ছাড়াতে চতুর্থ প্রান্তিকে ৯.১৭ ট্রিলিয়ন ডলারের আদেশ প্রয়োজন। অতীতের প্রবণতা এবং এআই পণ্যের অব্যাহত চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সীমা অতিক্রম হবে বলে আশা করছেন।
রেকর্ডটি যেভাবে তৈরি হয়েছে, তার প্রধান তারিখ ও সময়কাল নিচে তুলে ধরা হলো:
- জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬: ত্রৈমাসিক রেকর্ড ১০.২৯ ট্রিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলারের আদেশ এসেছে, যা ৬৫ শতাংশ বেশি।
- সেপ্টেম্বর ২০২৬: মাসিক রপ্তানি আদেশ ১১৪.২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে; বার্ষিক প্রবৃদ্ধির ধারা টানা ২০ মাসে গড়িয়েছে।
- ৮ অক্টোবর ২০২৬: অর্থ মন্ত্রণালয় সেপ্টেম্বরের শুল্ক বাণিজ্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করে; এতে ৮৭.২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি দেখানো হয়।
- ২০ অক্টোবর ২০২৬: MOEA সেপ্টেম্বরের আদেশের পরিসংখ্যান এবং অক্টোবরের পূর্বাভাস প্রকাশ করে।
ত্রৈমাসিক ও ক্রমপুঞ্জীভূত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে আদেশ বৃদ্ধির ফল একটি দীর্ঘতর প্রবৃদ্ধির ধারাকে এগিয়ে নিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষে শেষ প্রান্তিকে প্রবেশের আগেই তাইওয়ানের আদেশের পরিমাণ আগের পূর্ণ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
অক্টোবরের পূর্বাভাসেও আরেকটি শক্তিশালী মাসের ইঙ্গিত
MOEA-র পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অক্টোবরে রপ্তানি আদেশ ১১২.৫ বিলিয়ন থেকে ১১৫.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে থাকতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬২ থেকে ৬৭ শতাংশ বেশি। এ সীমা সেপ্টেম্বরে গড়া রেকর্ডের কাছাকাছি; এর সর্বোচ্চ অঙ্কটি রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাবে।
এআইয়ের চাহিদা এবং মৌসুমি ব্যবসায়িক তৎপরতার শীর্ষ সময় আদেশ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হয়েছিল। নিউ তাইওয়ান ডলারে মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস ছিল, অক্টোবরে আদেশ ৩.৬৭ ট্রিলিয়ন থেকে ৩.৭৮ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকবে। এতে প্রথম ১০ মাসের মোট পরিমাণ দাঁড়াবে ৩০.৪২ ট্রিলিয়ন থেকে ৩০.৫৩ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যে।
পুরো বছরের জন্য মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস ছিল, আদেশের পরিমাণ ১.১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়াবে; ২০২৫ সালে তা ছিল ৭৪৩.৭ বিলিয়ন ডলার। ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছালে প্রবৃদ্ধির হার হবে প্রায় ৪৭.৯ শতাংশ। সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান প্রকাশের সময় অক্টোবর ও পুরো বছরের এই অঙ্কগুলো ছিল পূর্বাভাস।
তাৎক্ষণিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, তাইওয়ানের চিপ ও কম্পিউটিং সরবরাহশৃঙ্খলে বিপুল ব্যবসা আসছে, যার সংশ্লিষ্ট চাহিদা যন্ত্রপাতি ও উপকরণ উৎপাদকদের কাছেও পৌঁছাচ্ছে। ফ্ল্যাট প্যানেল এবং কিছু প্রচলিত শিল্পে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা দেখায়, এই সম্প্রসারণের সুফল সর্বত্র সমানভাবে পৌঁছায়নি।
মূল তথ্য
- ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আদেশ রেকর্ড ১১৪.২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬২.৪ শতাংশ বেশি।
- ইলেকট্রনিকস এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে মোট আদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ এসেছে।
- তাইওয়ানের বৃহত্তম আদেশের বাজার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ৪৫.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আদেশ দিয়েছে।
- প্রকৃত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৮৭.২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের, বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ২৩.৬৩ বিলিয়ন ডলার।
- যন্ত্রপাতি, ধাতু, রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও রাবার খাতে আদেশ বেড়েছে; আলোক-ইলেকট্রনিক পণ্যে কমেছে ৫.৬ শতাংশ।
- জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের আদেশ আগের পূর্ণ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ২০২৬ সালে আদেশ ১.১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়াবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে MOEA।






