প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার সামনে উৎপাদনের সময়সীমা
চীনা আগ্রাসন ধীর করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যে বিপুলসংখ্যক চালকবিহীন ব্যবস্থা তৈরির কথা, তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্র এখনো তা গড়ে তুলতে পারেনি বলে ২০ অক্টোবর ২০২৬ তাইপেতে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের চেয়ারম্যান র্যান্ডাল শ্রাইভার। তাইওয়ান চালকবিহীন যানবাহনে ছয় বছরের ব্যয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আরও কেনাকাটার কথা ভাবছে। তবে বড় কিছু অস্ত্র সরবরাহের সময় নির্ধারিত হয়েছে ২০৩০ সাল থেকে।
সূচিপত্র
- প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার সামনে উৎপাদনের সময়সীমা
- সংখ্যা ও সমন্বয় কেন গুরুত্বপূর্ণ
- তাইওয়ানের ২৪ হাজার কোটি তাইওয়ানি ডলারের পরিকল্পনা বার্ষিক বাজেটের মাধ্যমে চলবে
- তাইওয়ানের পূর্বে চীনা টহলে চাপ বাড়ছে
- ড্রোনের হুমকির মোকাবিলায় চলমান কামানও গুরুত্বপূর্ণ
- প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহের সময়সূচি আলাদা
- যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারে ঘাটতি ও বিক্রিতে বিলম্বের চাপ
- মূল বিষয়
শ্রাইভার বলেন, গোলাবারুদ ও অন্যান্য জরুরি সক্ষমতার ঘাটতি ১ আগস্ট ২০২৭-এর পরও অন্তত কয়েক বছর অব্যাহত থাকবে। ওই তারিখের মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পিপলস লিবারেশন আর্মিকে বলপ্রয়োগে তাইওয়ান দখলের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর রয়েছে। এটি সামরিক প্রস্তুতির লক্ষ্য, ঘোষিত আগ্রাসনের তারিখ নয়।
তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হলো অর্থ, শিল্প সক্ষমতা ও সামরিক পরিকল্পনাকে এমন সরঞ্জামে রূপ দেওয়া, যা বিভিন্ন ইউনিট বাস্তবে সমন্বিতভাবে ব্যবহার করতে পারে। বিপুলসংখ্যক ড্রোন সংগ্রহের পাশাপাশি তাইওয়ান কামানকে আরও চলনসই করছে, যোগাযোগব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে কাজ করার জন্য ক্রুদের প্রস্তুত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী শ্রাইভার ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারোর বর্ণনা করা একটি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। পাপারো বলেছিলেন, চালকবিহীন ব্যবস্থা ব্যবহার করে আগ্রাসন ব্যাহত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা পদক্ষেপের জন্য সময় কেনার মাধ্যমে তিনি তাইওয়ান প্রণালিকে চালকবিহীন ব্যবস্থার এক নরকে পরিণত করতে চান। শ্রাইভার সতর্ক করে বলেন, পরিকল্পনাটি এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি।
তবে মনে রাখবেন, ‘নরক’ তৈরির ধারণাটি অনেকটাই উচ্চাভিলাষী। আমরা এখনো তা বাস্তবে গড়ে তুলিনি।
তাইওয়ানের জন্য বাস্তব প্রশ্ন হলো, আগামী কয়েক বছরে কতটা কার্যকর প্রতিরক্ষাসক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব। অর্থায়নের সিদ্ধান্ত, উৎপাদনের সময়সূচি ও প্রশিক্ষণ—সবই এর ওপর প্রভাব ফেলে।
সংখ্যা ও সমন্বয় কেন গুরুত্বপূর্ণ
শ্রাইভারের যুক্তি, আধুনিক যুদ্ধে প্রযুক্তি দ্রুত উৎপাদন ও মোতায়েন করতে পারা পক্ষ ক্রমেই বেশি সুবিধা পাচ্ছে। সবচেয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ড্রোন ধ্বংসের সরঞ্জাম থাকাই পুরো কাজ নয়। সশস্ত্র বাহিনীর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত অপারেটর এবং সেগুলো ব্যবহারের কার্যকর পরিকল্পনাও দরকার।
সামরিক কার্যপরিকল্পনা হলো বিভিন্ন বাহিনী কীভাবে একসঙ্গে কাজ করবে, তার পরিকল্পনা। তাইওয়ানের ক্ষেত্রে এর অর্থ হতে পারে, চালকবিহীন উড়োজাহাজ এগিয়ে আসা বাহিনী শনাক্ত করবে, অন্য ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তুর তথ্য পাঠাবে, আর চলমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষায় কামান বা সামুদ্রিক ড্রোন আক্রমণ চালাবে।
সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির স্টেসি পেটিজন ও মলি ক্যাম্পবেল ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক প্রস্তাবে চালকবিহীন ব্যবস্থা, কামান, মাইন ও চলমান আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষার কথা বলেন। প্রতিটি স্তর আক্রমণকারী বাহিনীর সামনে নতুন সমস্যা তৈরি করবে এবং অন্য স্তরগুলোর টিকে থাকতেও সহায়তা করবে।
অক্টোবরে বর্ণিত পরিকল্পনায় ২ লাখের বেশি আকাশ ও সামুদ্রিক ড্রোন এবং ১ হাজারের বেশি চালকবিহীন জলযান সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রতিরক্ষা প্রচেষ্টায় উৎপাদন সক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বড় বহর পরিচালনার জন্য রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং ব্যবহারের পুরো সময়জুড়ে নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থাও প্রয়োজন।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরোধের কথা তুলে ধরে শ্রাইভার বলেন, আক্রমণকারীকে তার লক্ষ্য অর্জন থেকে বিরত রেখে একটি প্রতিরক্ষাকারী পক্ষ নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে। তিনি এই কৌশলটি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন।
ইউক্রেনকে আমরা জিততে দেখছি, কারণ তারা হারছে না।
তাইওয়ানের জন্য তাঁর যুক্তি হলো, কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম প্রতিরক্ষা আক্রমণকারীকে দ্রুত জয় পেতে বাধা দিতে পারে। লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সহায়তা নেটওয়ার্কের পাশাপাশি চালকবিহীন ব্যবস্থাও সেই প্রচেষ্টার একটি অংশ।
তাইওয়ানের ২৪ হাজার কোটি তাইওয়ানি ডলারের পরিকল্পনা বার্ষিক বাজেটের মাধ্যমে চলবে
তাইওয়ানের আইনসভা ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতা জোরদার ও চালকবিহীন যানবাহন শিল্প উন্নয়ন আইন’ পাস করে। আইনটিতে ছয় বছরে ২৪ হাজার কোটি তাইওয়ানি ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭৩৬ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দের বিধান রয়েছে। বছরে প্রাথমিক বরাদ্দ ৪ হাজার কোটি তাইওয়ানি ডলার।
আইনের বিধান অনুযায়ী, বার্ষিক বাজেট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। ২৪ হাজার কোটি তাইওয়ানি ডলারের এই উদ্যোগকে বিশেষ বাজেট হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে, তবে আইনে নির্ধারিত ব্যবস্থা হলো ধারাবাহিক বার্ষিক বরাদ্দ। প্রয়োজন হলে মোট বরাদ্দ ও বার্ষিক বরাদ্দ—দুটিই বাড়ানো যেতে পারে।
অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবে। সামরিক কেনাকাটাসংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বে থাকবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা, গবেষণায় ভর্তুকি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি আমদানি, সাইবার নিরাপত্তা পর্যালোচনা এবং পরীক্ষার স্থান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এই দায়িত্ব বণ্টনের ফলে কর্মসূচিটির শিল্প ও সামরিক—দুই ধরনের লক্ষ্য থাকছে: তাইওয়ানে চালকবিহীন যানবাহন তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং প্রতিরক্ষা অভিযানের উপযোগী সরঞ্জাম সরবরাহ করা। সাইবার নিরাপত্তা পর্যালোচনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ড্রোনের কার্যকারিতা আংশিকভাবে নির্ভর করে এর সফটওয়্যার ও নিয়ন্ত্রণ সংযোগ সুরক্ষিত রাখার ওপর।
মন্ত্রিসভা আলাদাভাবে সম্পূরক বাজেটের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ১ হাজার ৪৫৭ কোটি তাইওয়ানি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে ৫৫৯ কোটি তাইওয়ানি ডলার চালকবিহীন ব্যবস্থা, ড্রোনসহ অন্যান্য সরঞ্জামের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত সম্পূরক ব্যয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশ এটি। তাইওয়ানের কেনাকাটার অগ্রাধিকারে চালকবিহীন সরঞ্জাম কতটা গুরুত্ব পেয়েছে, তা এই হিসাব থেকে স্পষ্ট।
তাইওয়ানের পূর্বে চীনা টহলে চাপ বাড়ছে
জুন থেকে তাইওয়ানের পূর্বদিকে নিয়মিত টহল দিচ্ছে চীনের কোস্ট গার্ড। দ্বীপের এই দিকটি তাইওয়ানের বৃহত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশাধিকারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাইওয়ানের কর্মকর্তাদের ধারণা, সামরিক, আধাসামরিক ও বেসামরিক সম্পদ ব্যবহার করে সামুদ্রিক অবরোধের মহড়া হতে পারে এই তৎপরতা।
অবরোধের লক্ষ্য হবে দ্বীপে যাতায়াত সীমিত করা এবং জাহাজ চলাচল ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করা। তাইওয়ান প্রণালি পেরিয়ে সম্ভাব্য অবতরণের পাশাপাশি উপকূলের চারপাশের হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতিও তাইওয়ানকে নিতে হবে।
শ্রাইভার বলেন, আপাতদৃষ্টিতে বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার তৎপরতাও বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবিকে এগিয়ে নিতে পারে। তিনি এই অব্যাহত টহলকে আইনগত যুক্তি, রাজনৈতিক চাপ ও তথ্যপ্রচারের বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন।
এটি আইনগত যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক ও তথ্যযুদ্ধেরই সম্প্রসারণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার এই ভূমিকাকে তারা কার্যকর করে তুলতে থাকলে তা অত্যন্ত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করবে।
তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ একই আলোচনাসভায় বলেন, তাইওয়ানের পূর্বদিকের জলসীমায় চীনের কোনো আইনি দাবি নেই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই জলসীমাকে চীনের বলে দাবি করেছে এবং তৎপরতাকে আইনসম্মত বলে সমর্থন জানিয়েছে। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে, তবে তাইওয়ান সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
২০ অক্টোবর পরে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৭টি সামরিক উড়োজাহাজের অংশগ্রহণে চীনের যৌথ যুদ্ধ-প্রস্তুতি টহলের খবর জানায়। এর মধ্যে ছিল পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এইচ-৬ বোমারু বিমান। কোস্ট গার্ডের টহল ও সামরিক তৎপরতার সমন্বয় তাইওয়ানের ওপর একসঙ্গে কয়েক ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
ড্রোনের হুমকির মোকাবিলায় চলমান কামানও গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিপক্ষের ড্রোনের হুমকি মোকাবিলাতেও নিজেদের প্রস্তুত করছে তাইওয়ান। অক্টোবরে নির্ধারিত নীতিগত দিকনির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরবর্তী প্রজন্মের সব হাউইটজার এবং ১২০ ও ৮১ মিলিমিটারের মর্টার যানবাহনে স্থাপন করতে হবে।
গোলাবর্ষণের পর কামান দলের সামনে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ থাকে। ড্রোন তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারে, আর রাডার গোলাকে অনুসরণ করে সেটি যে কামান থেকে ছোড়া হয়েছে, সেই কামান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যানবাহনে স্থাপন করা অস্ত্র দ্রুত গোলাবর্ষণের অবস্থান ছাড়তে পারে; অন্যদিকে, টেনে নেওয়ার গাড়িতে জুড়তে হয় এমন সরঞ্জাম গুটিয়ে নিতে বেশি সময় লাগে।
তাইওয়ানের বর্তমান অস্ত্রভান্ডারে এম১০৯এ২ ও এম১০৯এ৫ স্বচালিত হাউইটজার, এম১১০এ২ ভারী কামান এবং টেনে নেওয়া কামান রয়েছে। তাদের মর্টার বাহিনীর বড় অংশও হাতে বহন বা আলাদা পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি শুধু একটি অস্ত্র বদলানোর চেয়ে অনেক ব্যাপক।
এম১০৯এ৭-এর প্রাথমিক প্যাকেজে রয়েছে ৬০টি হাউইটজার, ৬০টি এম৯৯২এ৩ গোলাবারুদ সরবরাহের যান, ১৩টি এম৮৮এ২ উদ্ধারকারী যান, ৪২টি অগ্নিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ৪ হাজার ৮০টি প্রিসিশন গাইডেন্স কিট। ২০৩০ সাল থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা। গোলাবারুদ সরবরাহ ও উদ্ধারকারী যান অন্তর্ভুক্ত থাকায় বোঝা যায়, শুধু কামান কেনাই যথেষ্ট নয়: ক্রুদের কাছে গোলাবারুদ পৌঁছে দিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যান সরিয়ে নিতে বা মেরামত করতে হবে।
চিতা কর্মসূচির আওতায় ১০৫ মিলিমিটারের কামান বহনকারী ১৭৮টি চাকাযুক্ত যান তৈরিরও পরিকল্পনা করছে তাইওয়ান। ২০২৭ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে উৎপাদনের কথা রয়েছে। আগে অর্ডার করা ২৯টির পাশাপাশি আরও ৮২টি হিমার্স লঞ্চার সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে। হিমার্স একটি চলমান ব্যবস্থা, যা গাইডেড রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
কামান সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার কর্মসূচির কেনাকাটার সিদ্ধান্ত, বাজেট ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এই পরিবর্তনের সময় প্রস্তুতি ধরে রাখার বড় দায়িত্ব বর্তমান ইউনিটগুলোর ওপরই রয়েছে।
প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহের সময়সূচি আলাদা
২০২৬ সালের ২৫ আগস্ট সিনচুর কেংজিকৌতে তাইওয়ানের কামান মহড়ায় বর্তমানে ব্যবহৃত অস্ত্র নিয়ে দ্রুত মোতায়েন, গোলাবর্ষণ ও অবস্থান ত্যাগের অনুশীলন করা হয়। এতে অংশ নেয় ২১তম আর্টিলারি কমান্ড, ২৬৯তম কম্বাইন্ড আর্মস ব্রিগেড, ২০৬তম ও ১০৯তম পদাতিক ব্রিগেড এবং লানইয়াং এরিয়া কমান্ড।
মহড়ায় রক্ষণাবেক্ষণ পরীক্ষা এবং এম১০৯এ২ ও এম১১০এ২ ব্যবস্থা ও টেনে নেওয়া কামান দিয়ে কৌশলগত গোলাবর্ষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। কামান দলের জন্য তাৎক্ষণিক পরিবর্তনটি পদ্ধতিগত: দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া, অভিযান সম্পন্ন করা এবং প্রতিপক্ষ আঘাত হানার আগেই অবস্থান বদলানো।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো দেখায়, বর্তমান প্রশিক্ষণ কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি কেনাকাটা ও উৎপাদনসূচির সঙ্গে মিলে চলছে:
- ২৫ আগস্ট ২০২৬: কেংজিকৌতে কামানের প্রস্তুতি ও দ্রুত অবস্থান বদলের মহড়া দেয় তাইওয়ান।
- ২৭ আগস্ট ২০২৬: চালকবিহীন যানবাহন ও প্রতিরক্ষা শিল্প উন্নয়নে ছয় বছরে ২৪ হাজার কোটি তাইওয়ানি ডলার বরাদ্দের আইন পাস করে আইনসভা।
- ২০ অক্টোবর ২০২৬: পরিকল্পিত চালকবিহীন প্রতিরক্ষা এখনো অসম্পূর্ণ বলে তাইপেতে সতর্ক করেন শ্রাইভার।
- ২০২৭ থেকে ২০৩৩: ১৭৮টি চিতা চাকাযুক্ত কামানবাহী যান উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
- ১ আগস্ট ২০২৭: শ্রাইভারের উল্লেখ করা চীনা সামরিক প্রস্তুতির খবর অনুযায়ী নির্ধারিত লক্ষ্যতারিখ।
- ২০৩০ সাল থেকে: এম১০৯এ৭ হাউইটজারের প্রাথমিক চালান আসার কথা।
এম১০৯এ৭-এর প্রথম চালান প্রত্যাশিত ২০২৭ সালের সামরিক প্রস্তুতির লক্ষ্যতারিখের প্রায় তিন বছর পর। ফলে নিকট ভবিষ্যতে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা নির্ভর করবে বর্তমান সরঞ্জাম, উন্নত কৌশল এবং আরও আগে মোতায়েন করা সম্ভব এমন নতুন ব্যবস্থার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারে ঘাটতি ও বিক্রিতে বিলম্বের চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনে প্রতিরক্ষা দপ্তরকে চালকবিহীন ব্যবস্থা এবং সেগুলো ধ্বংসের জন্য তৈরি ব্যবস্থা উন্নয়ন ও মোতায়েনে তাইওয়ানের সঙ্গে যৌথ কর্মসূচি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর জন্য যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনও এর অন্তর্ভুক্ত।
এতে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি সম্পূর্ণ সরঞ্জাম তাইওয়ানের কেনার বাইরেও সহযোগিতার পথ তৈরি হয়েছে। তবে উৎপাদন সংগঠিত করা এবং তৈরি ব্যবস্থাগুলো সামরিক ইউনিটে একীভূত করার মতো বাস্তব কাজ এখনো বাকি।
শ্রাইভার সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী আগে থেকেই চাপে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ মোতায়েনের পর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় বিমানবাহী রণতরির ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, চীনের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সমন্বিত চাপ যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের ওপর আরও বেশি চাহিদা সৃষ্টি করবে।
অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রেও রয়েছে আলাদা সময়সূচি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিসেম্বরে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিলেও তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র প্যাকেজে তখনো অনুমোদন দেননি। মে মাসে বেইজিংয়ে শির সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প এ ধরনের বিক্রিকে আলোচনার দর-কষাকষির হাতিয়ার বলে বর্ণনা করেন।
শ্রাইভার আশা করেন, চীনে এপেক সম্মেলন এবং ফ্লোরিডায় জি-২০ সম্মেলনে ট্রাম্প-শি বৈঠকের সম্ভাবনার পর ২০২৭ সালে প্রস্তাবিত প্যাকেজ নিয়ে অগ্রগতি হবে। তাঁর ধারণা, এটি ভাগ করে দেওয়া হতে পারে অথবা বিভিন্ন বিক্রয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন হতে পারে। সরাসরি বাণিজ্যিক বিক্রিতে কোম্পানির কাছ থেকে সরঞ্জাম কেনা হয়, আর বিদেশি সামরিক বিক্রয় পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
তাইওয়ানের মূল কাজ হলো এই ভিন্ন ভিন্ন সময়সূচিকে একসঙ্গে মেলানো। বার্ষিক বাজেট দিয়ে উৎপাদন চালাতে হবে, সরবরাহ পাওয়া সরঞ্জাম ব্যবহারের জন্য ক্রুদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে, আর চলমান অস্ত্রের জন্য এমন সরবরাহ ও যোগাযোগব্যবস্থা দরকার, যা আক্রমণের মধ্যেও টিকে থাকতে পারে। প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা অনুমোদন করা আর তা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত কার্যকর ইউনিট প্রস্তুত রাখার মধ্যে যে দূরত্ব, শ্রাইভারের সতর্কতার মূল বিষয় ছিল সেটিই।
মূল বিষয়
- শ্রাইভারের মতে, চীনা আগ্রাসন ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে চালকবিহীন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিপুল বহর তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্র এখনো গড়ে তুলতে পারেনি।
- তাইওয়ানের আইনসভা ছয় বছরে ২৪ হাজার কোটি তাইওয়ানি ডলারের কাঠামো অনুমোদন করেছে, যা বার্ষিক বাজেটের মাধ্যমে বরাদ্দ হবে।
- প্রস্তাবিত সম্পূরক প্রতিরক্ষা বাজেটে চালকবিহীন ব্যবস্থার জন্য ৫৫৯ কোটি তাইওয়ানি ডলার রয়েছে।
- তাইওয়ানের পূর্বদিকে চীনা কোস্ট গার্ডের টহল সম্ভাব্য অবরোধের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
- ভবিষ্যতের কামান যানবাহনে স্থাপনের পরিকল্পনা করছে তাইওয়ান। এম১০৯এ৭-এর প্রাথমিক চালান ২০৩০ সাল থেকে আসার কথা।
- প্রস্তাবিত ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন অস্ত্র প্যাকেজে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন এখনো মেলেনি।






