ব্যাংককের যাত্রীরা পাচ্ছেন ডিজিটাল র্যাবিট কার্ড
ব্যাংককে নির্বাচিত গ্যালাক্সি স্মার্টফোনে র্যাবিট ভার্চুয়াল কার্ড আনছে স্যামসাং। ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে এটি চালু হবে, আর ২৬ অক্টোবরের মধ্যে সব উপযুক্ত মডেলে সুবিধাটি পৌঁছানোর কথা। যাত্রীরা বিটিএস সুখুমভিত, সিলম ও গোল্ড লাইন, এমআরটি পিংক ও ইয়েলো লাইন এবং ব্যাংককের বিআরটি বাসে ডিজিটাল কার্ডটি ব্যবহার করতে পারবেন।
সূচিপত্র
- ব্যাংককের যাত্রীরা পাচ্ছেন ডিজিটাল র্যাবিট কার্ড
- কোন রেললাইন ও বাসে এটি ব্যবহার করা যাবে?
- নির্দিষ্ট মেশিনে নৌযানের টিকিট কেনা যাবে
- ভার্চুয়াল কার্ড কীভাবে চালু করবেন
- কোন গ্যালাক্সি ফোনগুলো উপযুক্ত?
- ২০ বাথের ক্যাশব্যাক যেভাবে কাজ করবে
- নিবন্ধন ও মনে রাখার মতো তারিখ
- পরিবহন বদলের যাত্রায় ঘাটতি পূরণ করতে পারে সম্প্রসারণ
- দৈনন্দিন ওয়ালেট ব্যবহারে যাত্রাকে কাজে লাগাতে চায় স্যামসাং
- মূল বিষয়গুলো
র্যাবিট কার্ড পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ব্যাংকক স্মার্টকার্ড সিস্টেমের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এই সেবায় স্যামসাং ওয়ালেটের ভেতরেই থাকবে ট্রানজিট কার্ড। অ্যাকাউন্ট চালু করে তাতে টাকা যোগ করার পর যাত্রীরা ফিজিক্যাল র্যাবিট কার্ডের বদলে ফোন ট্যাপ করে উপযুক্ত গেট পার হতে পারবেন। র্যাবিট পেমেন্ট গ্রহণকারী নির্দিষ্ট নৌযানের টিকিট মেশিন ও দোকানেও এটি ব্যবহার করা যাবে।
স্যামসাংয়ের ওয়ালেটের আনুষ্ঠানিক পৃষ্ঠায় সমর্থিত রুট, ডিভাইস ও চালুর ধাপের তালিকা রয়েছে। তবে বিভিন্ন পরিবহন নেটওয়ার্কের মধ্যে যাতায়াতকারীদের জন্য এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা থাকছে: এমআরটি ব্লু ও পার্পল লাইন বর্তমানে আলাদা পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করে, তাই এই র্যাবিট সেবার আওতায় নেই।
প্রচারমূলক অফারে নিবন্ধিত প্রতিটি ভার্চুয়াল কার্ডে যোগ্য দুটি রেলযাত্রার জন্য কার্যকর ভাড়া ২০ বাথ হবে; যাত্রার পর ক্যাশব্যাক দেওয়া হবে। প্রথম ১০ হাজার কার্ডের জন্য নিবন্ধন শুরু হবে ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর। বরাদ্দ শেষ হয়ে গেলে তার আগেই, অন্যথায় ৩১ ডিসেম্বর প্রচারটি শেষ হবে।
যাত্রীদের জন্য তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হলো, সমর্থিত রুটে ফিজিক্যাল র্যাবিট কার্ড সঙ্গে না রাখলেও চলবে। তবে প্রচারমূলক সাশ্রয়ের আওতা অনেক সীমিত: যাত্রীরা আগে স্বাভাবিক ভাড়া দেবেন, আর কেবল তাঁদের প্রথম দুটি যোগ্য যাত্রায় ক্যাশব্যাক পাবেন।
কোন রেললাইন ও বাসে এটি ব্যবহার করা যাবে?
স্যামসাংয়ের আনুষ্ঠানিক তালিকায় রয়েছে পাঁচটি রেললাইন: বিটিএস সুখুমভিত, সিলম ও গোল্ড, এবং এমআরটি পিংক ও ইয়েলো। এমআরটির দুটি রুট অন্তর্ভুক্ত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোন পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয় তার ওপর গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে; শুধু এমআরটি নাম থাকলেই হবে না।
সুখুমভিত লাইনটি সামুত প্রাকানের খে থেকে খু খট পর্যন্ত চলে। সিলম লাইন বাং ওয়া ও ন্যাশনাল স্টেডিয়ামকে যুক্ত করেছে, আর গোল্ড লাইন ক্রুং থন বুড়ি ও খলং সানকে যুক্ত করে। ইয়েলো লাইন লাত ফ্রাও থেকে সামরং পর্যন্ত এবং পিংক লাইন ননথাবুরি সিভিক সেন্টার থেকে মিন বুড়ি পর্যন্ত চলে।
সাথন ও রাচাপ্রুয়েকের মধ্যবর্তী রুটে বিআরটি যাত্রীরাও ভার্চুয়াল কার্ডটি ব্যবহার করতে পারবেন। এসব স্টপ যথাক্রমে বিটিএস চং ননসি ও তালাত ফ্লুর সঙ্গে সংযুক্ত, ফলে রেল ও বাস মিলিয়ে যাত্রার ক্ষেত্রেও ফোনটি কাজে লাগবে।
এমআরটি ব্লু ও পার্পল লাইনে সমর্থিত ব্যাংক কার্ড, প্রিপেইড কার্ড বা অন্য কোনো টিকিটের মতো বিকল্প পেমেন্ট পদ্ধতি লাগবে। তাদের ইএমভি কনট্যাক্টলেস ব্যবস্থা র্যাবিটের থেকে আলাদা পদ্ধতিতে উপযুক্ত পেমেন্ট কার্ড গ্রহণ করে। তাই সমর্থিত বিটিএস লাইন থেকে ব্লু লাইনে বদল করলে যাত্রার ওই অংশের জন্যও আলাদা পেমেন্টের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
নির্দিষ্ট মেশিনে নৌযানের টিকিট কেনা যাবে
স্যামসাংয়ের আনুষ্ঠানিক পৃষ্ঠায় অংশগ্রহণকারী নৌযানের টিকিট মেশিনের ১১টি অবস্থানের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেগুলো হলো সাথন ১, সাথন ২, রাচাওং, রাচিনি, থা চাং ১, থা চাং ২, থা মহারাত, ফ্রা নক, ফ্রা আর্থিত, বিটিএস সাফান তাকসিন এবং থা তিয়েন। চালুর বিবরণে ১০টি পিয়ারে সেবার কথা বলা হয়েছে; আনুষ্ঠানিক তালিকায় বিটিএস সাফান তাকসিনসহ ১১টি মেশিনের অবস্থান রয়েছে।
অংশগ্রহণকারী মেশিনে ফোন ব্যবহার করে টিকিট কিনতে পারবেন যাত্রীরা। চালুর বিবরণ অনুযায়ী, কমলা, হলুদ, হলুদ-সবুজ ও লাল পতাকাবাহী চাও ফ্রায়া এক্সপ্রেস বোট এবং নীল পতাকাবাহী চাও ফ্রায়া ট্যুরিস্ট বোটের টিকিট কেনা যাবে। র্যাবিট পেমেন্ট গ্রহণকারী দোকানেও ভার্চুয়াল কার্ডটি ব্যবহার করা যাবে।
ভার্চুয়াল কার্ড কীভাবে চালু করবেন
নতুন গ্রাহকদের প্রথমে মাই র্যাবিট অ্যাকাউন্ট খুলে র্যাবিট ওয়ালেট চালু করতে হবে। সেবাটির জন্য টাকা রাখার অ্যাকাউন্ট এটিই। প্রকাশিত নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় থাই জাতীয় পরিচয়পত্র ও মুখমণ্ডলের ছবি স্ক্যান করে যাচাইয়ের শর্ত রয়েছে। আবেদনকারীদের থাই নাগরিক অপশনটি বেছে নিতে বলা হয়েছে; বিদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য নিবন্ধনের কোনো পদ্ধতির উল্লেখ নেই।
মাই র্যাবিটের বিদ্যমান ব্যবহারকারীরা স্যামসাং ওয়ালেটে গিয়ে কার্ড যোগ করার অপশন বেছে নিয়ে ট্রানজিট কার্ড নির্বাচন করবেন, তারপর র্যাবিট ভার্চুয়াল কার্ড বেছে নেবেন। স্যামসাংয়ের নির্দেশনায় মাই র্যাবিট পিন দেওয়া, সেবার শর্ত মেনে নেওয়া এবং উল্লেখিত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে সম্মতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এরপর ব্যবহারকারীরা কার্ডের নকশা বেছে নিয়ে ইস্যু করার ধাপ সম্পন্ন করবেন এবং ‘অ্যাড টু স্যামসাং ওয়ালেট’ নির্বাচন করবেন। চালু হওয়ার পর যাত্রার আগে কার্ডে টাকা যোগ করতে হবে। সেটআপ নির্দেশনায় ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে র্যাবিট ওয়ালেটে টাকা যোগ করার কথা বলা হয়েছে।
স্যামসাংয়ের সাধারণ নির্দেশনায় কার্ড ইস্যু ফি দেওয়ার কথা থাকলেও, চালুর ঘোষণায় বলা হয়েছে প্রথম ভার্চুয়াল কার্ডের ফি মওকুফ করা হবে। ফি বা মওকুফের বিস্তারিত শর্ত জানানো হয়নি। গ্রাহকদের নিশ্চিত করার আগে চালুর সময় প্রদর্শিত চার্জ দেখে নেওয়া উচিত।
নিবন্ধনের আগে স্যামসাং ওয়ালেট ও মাই র্যাবিট—দুটিই আপডেট করে নেওয়া উচিত। স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই অ্যাকাউন্ট যাচাই সম্পন্ন করে টাকা যোগ করলে ব্যস্ত গেটে দাঁড়িয়ে সেটআপ করতে হবে না।
কোন গ্যালাক্সি ফোনগুলো উপযুক্ত?
নির্দিষ্ট কয়েকটি মডেলেই সুবিধাটি ব্যবহার করা যাবে। স্যামসাংয়ের আনুষ্ঠানিক তালিকায় রয়েছে গ্যালাক্সি এস২২, এস২৩, এস২৪, এস২৫ ও এস২৬ সিরিজ, তালিকাভুক্ত এদের এফই সংস্করণ এবং গ্যালাক্সি এস২১ এফই। তালিকায় থাকা গ্যালাক্সি এ মডেলগুলো হলো এ৩৬ ৫জি, এ৩৭ ৫জি, এ৫৬ ৫জি ও এ৫৭ ৫জি।
ফোল্ডেবল ফোনের তালিকা গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড৪ থেকে ফোল্ড৮ পর্যন্ত, যার মধ্যে ফোল্ড৮ আলট্রাও রয়েছে; আর জেড ফ্লিপ৪ থেকে ফ্লিপ৮ পর্যন্ত, যার মধ্যে ফ্লিপ৭ এফই রয়েছে। সফটওয়্যারের প্রকাশিত শর্ত হলো ওয়ান ইউআই ৮.০ বা অ্যান্ড্রয়েড ১৬ কিংবা তার পরের সংস্করণ। ওয়ান ইউআই হলো অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক স্যামসাংয়ের সফটওয়্যার ইন্টারফেস। তাই ব্যবহারকারীদের ফোনের মডেল এবং তাতে ইনস্টল করা সফটওয়্যার—দুটিই যাচাই করতে হবে।
স্যামসাং জানিয়েছে, স্ক্রিন না খুলে বা পাসওয়ার্ড না দিয়েই ‘ট্যাপ অ্যান্ড গো’ ফিচারটি কাজ করবে। কোম্পানির আরও দাবি, ফোনের ব্যাটারি শেষ হলেও ট্যাপ করে পেমেন্ট করা যাবে। ব্যাটারি শেষ হওয়ার পর কতক্ষণ এ সুবিধা চালু থাকবে, তা জানানো হয়নি।
২০ বাথের ক্যাশব্যাক যেভাবে কাজ করবে
ভাড়ার প্রচারটি ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে, বরাদ্দ থাকা সাপেক্ষে। বিটিএস সুখুমভিত, সিলম ও গোল্ড লাইন এবং এমআরটি ইয়েলো ও পিংক লাইনের যোগ্য যাত্রায় এটি প্রযোজ্য। বিআরটি যাত্রা, নৌযানের টিকিট ও দোকানের কেনাকাটা ঘোষিত রেল-যাত্রা প্রচারের আওতায় নেই।
যাত্রার সময় যাত্রীরা স্বাভাবিক ভাড়া দেবেন। ২০ বাথের বেশি যে অর্থ, তা পরদিন ভার্চুয়াল কার্ডের সঙ্গে যুক্ত র্যাবিট ওয়ালেটে ফেরত দেওয়া হবে। উদাহরণস্বরূপ, ৪৫ বাথের যোগ্য ভাড়ায় যাত্রী প্রথমে ৪৫ বাথ দেবেন, পরে ২৫ বাথ ফেরত পাবেন।
ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভার্চুয়াল কার্ড ও এর সঙ্গে যুক্ত র্যাবিট ওয়ালেট সক্রিয় ও ব্যবহারযোগ্য থাকতে হবে। তাই পরদিন টাকা ফেরত পাওয়ার আশা থাকলেও যাত্রার সময় পুরো ভাড়া দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত টাকা রাখতে হবে।
এই অফারের বরাদ্দ ১০ হাজার নিবন্ধিত কার্ড ও ২০ হাজার ক্যাশব্যাক-যোগ্য যাত্রা; প্রতিটি কার্ডে সর্বোচ্চ দুটি যোগ্য যাত্রা করা যাবে। বিজ্ঞাপিত ২০ বাথের ভাড়া ওই দুটি যাত্রার জন্য, নভেম্বর ও ডিসেম্বরের সব যাত্রার জন্য নয়। কেউ প্রতিদিন যাতায়াত করলে এক দিনেই যাওয়া-আসার দুই যাত্রায় অফারটি ব্যবহার করতে পারবেন।
নিবন্ধন ও মনে রাখার মতো তারিখ
যোগ্য ব্যবহারকারীদের যাত্রার আগে প্রচারটিতে নিবন্ধন করতে হবে। এসএমএসে SAVE লিখে একটি স্পেস দিয়ে নিজের ১৩ সংখ্যার র্যাবিট ভার্চুয়াল কার্ড নম্বর যোগ করে 4694100 নম্বরে পাঠানো যাবে। প্রতিটি এসএমএসের খরচ ৩ বাথ, আর নিবন্ধনের ফল জানিয়ে ফিরতি বার্তাও পাঠানো হবে।
নিবন্ধনের অন্য মাধ্যম হলো স্যামসাং থাইল্যান্ডের আনুষ্ঠানিক লাইন অ্যাকাউন্ট @samsungth; সেখানেও একই SAVE বার্তা ও কার্ড নম্বর পাঠাতে হবে। স্যামসাং ওয়ালেটে কার্ড যোগ করা এবং ক্যাশব্যাকের জন্য নিবন্ধন করা আলাদা দুটি ধাপ।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো হলো:
- জানুয়ারি ২০২৬: থাইল্যান্ডে ডিজিটাল ট্রাভেল কার্ড চালু করতে র্যাবিটের সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দেয় স্যামসাং।
- ২০ অক্টোবর ২০২৬: ধাপে ধাপে র্যাবিট ভার্চুয়াল কার্ড চালু শুরু হবে।
- ২৬ অক্টোবর ২০২৬: সব উপযুক্ত গ্যালাক্সি মডেলে সুবিধাটি পৌঁছানোর প্রত্যাশা স্যামসাংয়ের।
- ১ নভেম্বর ২০২৬: প্রচারে নিবন্ধন ও যোগ্য যাত্রা শুরু হবে।
- ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬: বরাদ্দ আগে শেষ না হলে প্রচারটি শেষ হবে।
- ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ: পরিবহন পেমেন্টে আরও সংযোগ চালুর লক্ষ্য স্যামসাংয়ের।
পরিবহন বদলের যাত্রায় ঘাটতি পূরণ করতে পারে সম্প্রসারণ
২০২৬ সালের শেষ নাগাদ রেড লাইন, এয়ারপোর্ট রেল লিংক, এমআরটি ব্লু ও পার্পল লাইন এবং ব্যাংকক মাস ট্রানজিট অথরিটির বাসে পেমেন্ট সুবিধা যোগ করার পরিকল্পনা স্যামসাংয়ের। র্যাবিট ভার্চুয়াল কার্ডের বর্তমান তালিকাভুক্ত রুটের বাইরে পরিবহন পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ এগুলো। তবে কবে থেকে চালু হবে এবং পেমেন্টের বিস্তারিত ব্যবস্থা কী হবে, তা জানানো হয়নি।
ব্যাংককের অনেক রেলযাত্রীকে এক লাইন থেকে অন্য লাইনে বদল করতে হয়, তাই এই ঘাটতিগুলো গুরুত্বপূর্ণ। স্যামসাংয়ের হিসাবে, ব্যাংকক মহানগর এলাকায় বসবাসকারী বা কাজ ও পড়াশোনার জন্য আসা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ; প্রতিদিন গণপরিবহনে যাত্রা হয় ৪৫ লাখের বেশি এবং রেলে প্রায় ১৪ লাখ ৩০ হাজার যাত্রা হয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, রেল ব্যবহারকারীদের প্রায় ৪৬ শতাংশকে অন্তত একবার লাইন বদলাতে হয়; আর নৌপথে প্রতিদিন যাতায়াত করেন প্রায় ৭০ হাজার যাত্রী।
যাতায়াতের একটি অংশে কাজ করা ফোন কার্ড সঙ্গে রাখার প্রয়োজন কমাতে পারে, কিন্তু পরের নেটওয়ার্কে পেমেন্টের ব্যবস্থাও যাত্রীদের করতে হবে। স্যামসাংয়ের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ ধরনের আরও সংযুক্ত যাত্রা ওয়ালেট সেবার আওতায় আসবে। বর্তমান সেবা থেকে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সুবিধা পাবেন সেই যাত্রীরা, যাঁদের নিয়মিত রুট ইতিমধ্যে র্যাবিট গ্রহণ করে।
দৈনন্দিন ওয়ালেট ব্যবহারে যাত্রাকে কাজে লাগাতে চায় স্যামসাং
কোম্পানির চালুর ঘোষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে থাইল্যান্ডে স্যামসাং ওয়ালেটের অ্যাকাউন্ট ছিল প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার; এর মধ্যে সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিলেন প্রায় ৩ লাখ। অর্থাৎ সক্রিয় অ্যাকাউন্টের হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। ২০২৭ সালে ১০ লাখ অ্যাকাউন্ট এবং ৮০ শতাংশ সক্রিয় ব্যবহারকারীর হার অর্জনের লক্ষ্য স্যামসাংয়ের।
এই লক্ষ্য পূরণ হলে সক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৮ লাখ, যেখানে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ছিল ৩ লাখ। মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি করতে হবে, আর সক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রায় ২.৭ গুণে বাড়াতে হবে। যাত্রীরা সাধারণ কর্মসপ্তাহে বারবার ব্যবহার করতে পারবেন—এমন একটি সেবা দিচ্ছে এই পরিবহন উদ্যোগ।
থাই স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের মোবাইল এক্সপেরিয়েন্স ব্যবসার প্রেসিডেন্ট সিত্তিচোক নপচিনাবুতর বলেছেন, ভাড়ার প্রচারের উদ্দেশ্য হলো সেবাটির সঙ্গে পরিচিতি বাড়ানো ও দৈনন্দিন ব্যবহার উৎসাহিত করা। উপযুক্ত গাড়ি ও ভবনের জন্য ডিজিটাল কি এবং থাই এয়ারওয়েজসহ আরও ১৪টি এয়ারলাইনের বোর্ডিং পাসও সমর্থন করে স্যামসাং। দৈনন্দিন কাজকর্মের আরও বেশি কিছু ওয়ালেটে আনতে যাত্রাকেই সূচনা হিসেবে দেখছে কোম্পানিটি।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের ২০ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে উপযুক্ত গ্যালাক্সি ফোনে ধাপে ধাপে র্যাবিট ভার্চুয়াল কার্ড চালু হবে।
- সমর্থিত পরিবহনের মধ্যে রয়েছে বিটিএসের তিনটি লাইন, এমআরটি পিংক ও ইয়েলো, বিআরটি এবং অংশগ্রহণকারী নৌযানের টিকিট মেশিন।
- এখন এমআরটি ব্লু ও পার্পল লাইনে অন্য পেমেন্ট পদ্ধতি লাগবে।
- প্রকাশিত অ্যাকাউন্ট সেটআপে থাই পরিচয় যাচাই ও মুখমণ্ডলের ছবি স্ক্যান করে যাচাই করতে হয়।
- ক্যাশব্যাক প্রচারে নিবন্ধিত প্রতিটি কার্ডে দুটি যোগ্য রেলযাত্রা অন্তর্ভুক্ত; যোগ্য কার্ডের সংখ্যা ১০ হাজার।
- যাত্রীরা আগে স্বাভাবিক ভাড়া দেবেন; ২০ বাথের বেশি অর্থ পরদিন ফেরত পাবেন।
- নিবন্ধন শুরু ১ নভেম্বর; বরাদ্দ শেষ না হলে প্রচারটি ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।
- ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আরও রেল ও বাসে পেমেন্ট সুবিধা যুক্ত করার লক্ষ্য স্যামসাংয়ের।






