বাজারে জিওর প্রবেশে শেয়ারপ্রতি ২৩৯ রুপি মুনাফা
ভারতের বৃহত্তম প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) লেনদেন শুরু হওয়ার দিন বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, মুম্বাইয়ের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (এনএসই) জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার ১,৩৫৮ রুপিতে লেনদেন শুরু হয়। ১,১১৯ রুপির প্রস্তাবমূল্যের চেয়ে এ দর প্রায় ২১% বেশি। তালিকাভুক্তির পর মুকেশ আম্বানির টেলিকম ও ডিজিটাল ব্যবসাটির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৩১.৫২ বিলিয়ন ডলার। ভারতের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে এটি তার মূল প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
সূচিপত্র
- বাজারে জিওর প্রবেশে শেয়ারপ্রতি ২৩৯ রুপি মুনাফা
- আইপিওর অর্থ কোথায় যাবে
- ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য শুরুর দরের অর্থ
- প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের হাত ধরে চাহিদা বেড়েছে
- রিলায়েন্সের ডিজিটাল ব্যবসার নতুন বাজার অবস্থান
- বিস্তৃত বাজারে দরপতনের সময় জিওর উত্থান
- আম্বানি পরিবারের করপোরেট মাইলফলক
- প্রস্তাব থেকে তালিকাভুক্তির পথে
- বিনিয়োগকারীদের নজরে যা থাকবে
- মূল বিষয়গুলো
৩০,২১৩ কোটি রুপির এ প্রস্তাবের একটি সুনির্দিষ্ট আর্থিক অগ্রাধিকার রয়েছে: জিও তার টেলিকম সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স জিও ইনফোকমের ঋণের একাংশ পরিশোধে ২৭,৫০০ কোটি রুপি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে। তোলা অর্থের প্রায় ৯১% এ খাতে যাবে। বাকি অর্থ সাধারণ করপোরেট কাজে ব্যবহারের কথা রয়েছে।
সর্বনিম্ন ১২ শেয়ারের লট পাওয়া একজন বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রে, লেনদেন শুরুর দরে ওই শেয়ারের মূল্য ১৩,৪২৮ রুপি থেকে বেড়ে ১৬,২৯৬ রুপি হয়েছে। কর ও লেনদেন খরচের আগে মুনাফা ২,৮৬৮ রুপি। এই হিসাব লেনদেন শুরুর দরের ভিত্তিতে; শেয়ার বিক্রির সময়কার দামের ওপর বিনিয়োগকারী কত অর্থ পাবেন, তা নির্ভর করবে।
ভারতের সামগ্রিক শেয়ারবাজারে তীব্র দরপতনের মধ্যেই জিওর শেয়ারের প্রাথমিক উত্থান ঘটে। জুন ২০২৬-এর শেষে ৫৩৩.৩ মিলিয়ন টেলিকম গ্রাহক, মেটা ও গুগলের সমর্থন এবং তেল ও রাসায়নিক খাতের বাইরে আম্বানির ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটিতে বিনিয়োগ করছিলেন।
আইপিওর অর্থ কোথায় যাবে
জিও ২৭ কোটি নতুন শেয়ার, অর্থাৎ ২৭০ মিলিয়ন শেয়ার, ১,০৬৫ থেকে ১,১১৯ রুপির মূল্যসীমার সর্বোচ্চ দরে ইস্যু করেছে। শেয়ারের সংখ্যা চূড়ান্ত প্রস্তাবমূল্য দিয়ে গুণ করলে ৩০,২১৩ কোটি রুপির ইস্যুর আকার পাওয়া যায়।
প্রস্তাবটিতে সব শেয়ারই ছিল নতুন ইস্যু; বিদ্যমান শেয়ারধারীদের পক্ষ থেকে বিক্রির কোনো প্রস্তাব ছিল না। সহজভাবে বললে, কোম্পানির জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে জিও নতুন মালিকানার অংশ বিক্রি করেছে। এ প্রস্তাবের মাধ্যমে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরা তাঁদের শেয়ার বিক্রি করেননি।
ঋণ পরিশোধের অর্থ পাওয়ার কথা থাকা সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স জিও ইনফোকম গ্রুপটির মোবাইল সংযোগ, স্থির ব্রডব্যান্ড এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল সেবা পরিচালনা করে। এর ঋণ কমালে আইপিওটি কেবল জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ারবাজারের দর নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ থাকে না; পরিচালনাকারী টেলিকম ব্যবসাটির আর্থিক অবস্থার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়।
২৭,৫০০ কোটি রুপি বরাদ্দের পর প্রস্তাবের খরচ হিসাবের আগে অন্যান্য করপোরেট কাজে ব্যয়ের জন্য মোট তোলা অর্থের ২,৭১৩ কোটি রুপি অবশিষ্ট থাকে। জিও ৫জি, ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতেও সম্প্রসারণ করছে, যদিও ঘোষিত অর্থব্যবহারে ঋণ পরিশোধকেই প্রথমে রাখা হয়েছে।
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য শুরুর দরের অর্থ
খুচরা বিনিয়োগকারীরা সর্বোচ্চ ১৪ লট বা ১৬৮ শেয়ারের জন্য আবেদন করতে পারতেন। শেয়ারপ্রতি ১,১১৯ রুপি দরে এর জন্য ১,৮৭,৯৯২ রুপির আবেদন প্রয়োজন ছিল। লেনদেন শুরুর ১,৩৫৮ রুপি দরে একই সংখ্যক শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ২,২৮,১৪৪ রুপি, অর্থাৎ বেড়েছে ৪০,১৫২ রুপি।
এই হিসাব প্রযোজ্য সেই বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রে, যিনি বাস্তবে সব ১৬৮টি শেয়ার পেয়েছেন। খুচরা বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দের তুলনায় আবেদন বেশি হওয়ায় সর্বোচ্চ সংখ্যক শেয়ারের জন্য আবেদন করলেই যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ মিলবে, তা নিশ্চিত ছিল না।
শেয়ারপ্রতি প্রাথমিক মুনাফা ছিল ২৩৯ রুপি। তালিকাভুক্তির আগে গ্রে মার্কেটের লেনদেন-সংকেতে প্রায় ২৪৭ রুপি বা ২২.১০% প্রিমিয়ামের ইঙ্গিত ছিল, যা থেকে সম্ভাব্য শুরুর দর ১,৩৬৬ রুপি হতে পারত। এনএসইতে প্রকৃত শুরুর দর ওই ইঙ্গিতের চেয়ে ৮ রুপি কম ছিল।
গ্রে মার্কেট হলো এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরুর আগে শেয়ারে স্বার্থ কেনাবেচার একটি অনানুষ্ঠানিক বাজার। সেখানে উদ্ধৃত প্রিমিয়াম তালিকাভুক্তির আগের প্রত্যাশা প্রতিফলিত করেছিল। লেনদেন শুরু হওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা এক্সচেঞ্জের দর দেখে সেই দরের ভিত্তিতে কেনা বা বেচার সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন।
প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের হাত ধরে চাহিদা বেড়েছে
২১ থেকে ২৩ অক্টোবরের আবেদনপর্বে জিওর গণপ্রস্তাবে ২২.১৯ গুণ আবেদন জমা পড়ে। প্রস্তাবিত শেয়ারের তুলনায় বিনিয়োগকারীরা কত শেয়ারের আবেদন করেছেন, সাবস্ক্রিপশনের হিসাব তা বোঝায়। ২২.১৯ গুণ চাহিদা মানে, প্রতি প্রস্তাবিত শেয়ারের বিপরীতে ২২টিরও বেশি শেয়ারের আবেদন করা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক বিস্তারিত হিসাবে যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের সাবস্ক্রিপশন ছিল ৭০.৫৫ গুণ এবং খুচরা বিনিয়োগকারীদের ২.৭২ গুণ; অন্য প্রকাশিত হিসাবে এ হার যথাক্রমে ৬৭ গুণ ও ২.৭৬ গুণ। প্রাতিষ্ঠানিক নয় এমন বিনিয়োগকারীদের সাবস্ক্রিপশন ছিল ১৪ গুণ। যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের মধ্যে বিনিয়োগ তহবিল ও বিমা কোম্পানির মতো বড় পেশাদার বিনিয়োগকারীরা থাকেন।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আবেদন শুরুর আগে ২১২ জন অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে ৮,১১০ কোটি রুপি সংগ্রহ করে জিও। সাধারণ প্রস্তাবের আগে এসব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর জন্য শেয়ার বরাদ্দ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল ব্ল্যাকরক, ক্যাপিটাল গ্রুপ, ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস ও টি. রো প্রাইসের পাশাপাশি দেশীয় মিউচুয়াল ফান্ড ও বিমা কোম্পানি।
অ্যাঙ্কর বরাদ্দের জন্য আবেদন প্রায় ২.৫ লাখ কোটি রুপিতে পৌঁছায়, যা বরাদ্দের পরিমাণের ৩০ গুণেরও বেশি। পুরো প্রস্তাবে আবেদন ৭ লাখ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে বলে জানানো হয়। আবেদন শুরুর ১০০ মিনিটের মধ্যেই প্রস্তাবটি পুরোপুরি সাবস্ক্রাইব হয়। আবেদনকারীদের চাওয়া অর্থের পরিমাণ জিওর শেষ পর্যন্ত তোলা অর্থের চেয়ে অনেক বেশি ছিল, কারণ অনেক আবেদন পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
রিলায়েন্সের ডিজিটাল ব্যবসার নতুন বাজার অবস্থান
জিওর শুরুর দর কোম্পানিটিকে ভারতী এয়ারটেল ও এইচডিএফসি ব্যাংকের ওপরে তুলে দেয়, ফলে বাজার মূলধনের হিসাবে এটি ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম তালিকাভুক্ত কোম্পানি হয়। শেয়ারের দরকে মোট শেয়ারের সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে বাজার মূলধন পাওয়া যায়, যা কোম্পানির ইকুইটির বাজারমূল্য নির্দেশ করে।
প্রস্তাবমূল্যে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলো জিওর মূল্য প্রায় ১০৮.৩ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছিল। ১৩১.৫২ বিলিয়ন ডলারের শুরুর মূল্যায়ন ছিল এর চেয়ে প্রায় ২৩.২২ বিলিয়ন ডলার বেশি। প্রতি শেয়ারের জন্য বিনিয়োগকারীরা যে বেশি দাম দিতে প্রস্তুত ছিলেন, তা এই বৃদ্ধিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ জিওর ওপরে অবস্থান ধরে রাখে। ফলে তালিকাভুক্তির পর শীর্ষ দুই স্থানে একই মূল প্রতিষ্ঠানের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ দুটি কোম্পানি জায়গা পায়। পাশাপাশি গ্রুপটির টেলিকম ও ডিজিটাল ব্যবসায় সরাসরি শেয়ার কেনার সুযোগ পান সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
২০২০ সালে মেটা ও গুগল বেসরকারি ইকুইটি প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জিও প্ল্যাটফর্মসে বিনিয়োগ করে। মৌলিক মোবাইল সংযোগের বাইরেও সেবা গড়ে তোলার সময়ে এ দুই বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নবতালিকাভুক্ত কোম্পানিটির সম্পর্ক রয়েছে।
বিস্তৃত বাজারে দরপতনের সময় জিওর উত্থান
জিওর লেনদেন শুরুর প্রস্তুতির সময় ভারতের প্রধান সূচকগুলো চাপে ছিল। লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনসেক্স ৭২,৮৭২-এ নেমে যায়। এদিকে প্রাথমিক লেনদেনে নিফটি ২২,৫৪০-এ পৌঁছায়, যা আগের দিনের ২২,৭৪৯-এর সমাপনী দর থেকে কম।
প্রাথমিক দরপতনে প্রযুক্তি সেবা খাতের শেয়ারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইনফোসিসের দর ৪.৫০%, টেক মাহিন্দ্রার ৩.৫০%, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের ৩% এবং এইচসিএল টেকের ২.৫০% কমে। এসব দরপতনের বিপরীতে জিওর শুরুর উত্থান ছিল উল্লেখযোগ্য।
ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দর ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারের ওপরে ছিল, যা মূল্যস্ফীতি ও ব্যবসায়িক ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়। তেলের দাম বাড়লে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়তে পারে, যার ফলে পরিবারগুলোর বাজেট ও কোম্পানির ব্যয় চাপে পড়ে।
বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার দিকেও নজর রাখছিলেন। এশিয়ার অন্য বাজারগুলোতে ওয়াল স্ট্রিটের উত্থানের পর শেয়ারের দর বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি ৫.০৭% এবং জাপানের নিক্কেই ২২৫ ১.৩৬% বেড়েছে। এসব উত্থান সত্ত্বেও ভারতে লেনদেনের শুরুটা ছিল দুর্বল।
আম্বানি পরিবারের করপোরেট মাইলফলক
মুকেশ আম্বানি স্ত্রী নীতা আম্বানি এবং তাঁদের সন্তান আকাশ, ইশা ও অনন্তকে নিয়ে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির অনুষ্ঠানে যোগ দেন। জিওর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকাশ আম্বানি মঞ্চে আইপিওর ঘণ্টা বাজানোর সময় পরিবারের সঙ্গে ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অনন্ত আম্বানি রিলায়েন্স ও জিওর ইতিহাস নিয়ে বক্তব্য দেন, আর মুকেশ আম্বানিকে দৃশ্যত আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। তেল ও রাসায়নিকের সমন্বিত ব্যবসা থেকে ভোক্তা সেবা ও প্রযুক্তি খাতজুড়ে বিস্তৃত ব্যবসায় রিলায়েন্সকে সম্প্রসারণের পারিবারিক পরিকল্পনায় এটি ছিল বড় পদক্ষেপ। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সেই পদক্ষেপের একটি প্রকাশ্য রূপ দেখা যায়।
এ তালিকাভুক্তিকে দুই দশকের মধ্যে রিলায়েন্সের প্রথম তালিকাভুক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তালিকাভুক্তিকে ঘিরে কোম্পানির প্রচারের ব্যাপকতা তুলে ধরে ভারতের প্রধান সংবাদপত্রগুলো প্রথম পাতায় জিওর বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে, যেখানে ভারতকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
এখন অর্ধশত কোটিরও বেশি টেলিকম গ্রাহক নিয়ে জিও একটি পৃথকভাবে লেনদেনযোগ্য ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। তালিকাভুক্তির গুরুত্ব অনুষ্ঠানের বাইরেও বিস্তৃত: ভারতের যোগাযোগ বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশকে সেবা দেওয়া কোম্পানিটির জন্য বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিনের বাজারমূল্য নির্ধারণ করতে পারবেন।
প্রস্তাব থেকে তালিকাভুক্তির পথে
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আবেদন থেকে এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরু—এক সপ্তাহের মধ্যেই এ পথ পাড়ি দেয় জিও। প্রধান তারিখ ও মাইলফলকগুলো হলো:
- জুন ২০২৬-এর শেষ: রিলায়েন্স জিও ইনফোকমের গ্রাহকসংখ্যা ছিল ৫৩৩.৩ মিলিয়ন।
- সাধারণ আবেদন শুরুর আগে: ২১২ জন অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে জিও ৮,১১০ কোটি রুপি তোলে।
- ২১ অক্টোবর: ১,০৬৫ থেকে ১,১১৯ রুপির মূল্যসীমা নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আবেদন শুরু হয়।
- ২৩ অক্টোবর: আবেদনপর্ব শেষ হয়; মোট সাবস্ক্রিপশন দাঁড়ায় ২২.১৯ গুণ।
- ২৮ অক্টোবর: ১,১১৯ রুপির প্রস্তাবমূল্যের বিপরীতে এনএসইতে জিওর লেনদেন শুরু হয় ১,৩৫৮ রুপিতে।
এনএসই ও বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ—দুই জায়গাতেই শেয়ার তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা ছিল। এ প্রতিবেদনে শুরুর দর ও বিনিয়োগকারীদের মুনাফার হিসাব এনএসইতে তালিকাভুক্তির ভিত্তিতে করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের নজরে যা থাকবে
কয়েকটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান প্রস্তাবমূল্যে কোম্পানিটির মূল্যায়ন আকর্ষণীয় বলে মনে করেছে এবং সম্ভাব্য মুনাফার কথা বলেছে। তাদের মূল্যায়নে প্রতিযোগিতা, বিপুল মূলধনী ব্যয় এবং ভারতের টেলিকম বিধিমালায় পরিবর্তনকে ঝুঁকি হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্পেকট্রাম, লাইসেন্স এবং ফি এ ব্যবসার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্পেকট্রাম হলো মোবাইল নেটওয়ার্কে কল ও ডেটা আদান-প্রদানে ব্যবহৃত রেডিও তরঙ্গের কম্পাঙ্কের পরিসর। এসব তরঙ্গে ব্যবহারের সুযোগ, পরিচালনার অনুমতি এবং সংশ্লিষ্ট চার্জ নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত টেলিকম কোম্পানির ব্যয় ও বিনিয়োগ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
জিওর পরিকল্পিত ঋণ পরিশোধ বিনিয়োগকারীদের জন্য তহবিলের একটি নির্দিষ্ট ব্যবহার পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেবে। ভবিষ্যৎ আর্থিক ফলাফলেও দেখা যাবে, বিশাল গ্রাহকভিত্তি থেকে আয় এবং নেটওয়ার্ক ও ডিজিটাল সেবায় ব্যয়ের মধ্যে কোম্পানিটি কীভাবে ভারসাম্য রাখে। ২৭,৫০০ কোটি রুপির ঋণ পরিশোধ কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
ভারতে তালিকাভুক্তির ব্যস্ত সময়েও জিওর বাজারে আগমন ঘটেছে। এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর এ পর্যন্ত ২৪৬টি আইপিও নিয়ে সংখ্যার হিসাবে বিশ্বে প্রথম স্থানে ছিল ভারত। তবে তোলা অর্থের পরিমাণে ১৩.৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে দেশটির অবস্থান ছিল চতুর্থ; এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, চীনের মূল ভূখণ্ড ও হংকং এগিয়ে ছিল। তেলের দাম, সুদের হারের সিদ্ধান্ত এবং শেয়ারের অস্থিরতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মধ্যে জিওর আগমন ওই বাজারে বড় একটি টেলিকম ও ডিজিটাল ব্যবসা যুক্ত করেছে।
মূল বিষয়গুলো
- এনএসইতে জিওর লেনদেন শুরু হয় ১,৩৫৮ রুপিতে, যা ১,১১৯ রুপির প্রস্তাবমূল্যের চেয়ে প্রায় ২১% বেশি।
- তালিকাভুক্তির পর জিওর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৩১.৫২ বিলিয়ন ডলার; ভারতে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের পর দ্বিতীয় স্থানে।
- ৩০,২১৩ কোটি রুপির আইপিওতে ছিল ২৭ কোটি নতুন শেয়ার; বিদ্যমান শেয়ারধারীরা কোনো শেয়ার বিক্রি করেননি।
- জিও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে ২৭,৫০০ কোটি রুপি, অর্থাৎ তোলা অর্থের প্রায় ৯১%, ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে।
- সর্বনিম্ন বরাদ্দের ১২ শেয়ারের মূল্য লেনদেন শুরুর দরে কর ও খরচের আগে ২,৮৬৮ রুপি বেড়েছে।
- প্রস্তাবটি ২২.১৯ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে; চাহিদা বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বড় ভূমিকা রেখেছেন।
- ভারতের প্রধান সূচক ও বড় প্রযুক্তি সেবা কোম্পানির শেয়ারের দরপতনের সময় জিওর শেয়ারের উত্থান ঘটেছে।






