ছোট অংশীদারত্ব নিয়ে ফিরছে ওয়েই পরিবার
তাইপে ১০১ ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর নিশ্চিত করেছে, ভবনটির মালিক প্রতিষ্ঠানটির ১৭.২৭৪ শতাংশ শেয়ার তাইওয়ান ইতোচু ইনভেস্টমেন্ট চেং মেই ভেঞ্চার ক্যাপিটালের কাছে হস্তান্তর করবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি টিং হসিন গ্রুপের ওয়েই ইং-চিয়াও। এই লেনদেনের মধ্য দিয়ে আট বছর পর শেয়ারহোল্ডারদের কাতারে ফিরছে ওয়েই পরিবার। ২০১৮ সালে টিং হসিন তাদের অংশীদারত্ব জাপানি বাণিজ্যিক গোষ্ঠীটির কাছে বিক্রি করেছিল।
সূচিপত্র
ভবনটির মালিক তাইপে ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার করপোরেশন শেয়ারহোল্ডার হিসেবে চেং মেইকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বিনিয়োগের সময় ইতোচুর অংশগ্রহণ ও অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে। এই ঘোষণার ফলে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে বাজারে আগের জল্পনার অবসান হলো।
ওয়েইয়ের কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি আর্থিক বিনিয়োগকারী হিসেবে কাজ করবেন এবং সরকারি বিনিয়োগে সমর্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থাপনা দলকে সমর্থন ও সম্মান করবেন। তাইপে ১০১-এর ব্যবস্থাপনায় তিনি যুক্ত হবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর্থিক বিনিয়োগকারীরা সাধারণত দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার বদলে লভ্যাংশ ও শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করেন।
ফিরে আসা এই বিনিয়োগের পরিমাণ ২০১৮ সালে টিং হসিনের বিক্রি করা ৩৭.১৭ শতাংশ শেয়ারের তুলনায় অনেক কম। চেং মেইয়ের ১৭.২৭৪ শতাংশ অংশীদারত্ব ওই আগের অংশের অর্ধেকেরও কম। ২০২৫ সালে কেনাকাটার পর সরকারি বিনিয়োগে সমর্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ শেয়ার। ফলে ওয়েই পরিবারের প্রত্যাবর্তন এমন এক মালিকানা কাঠামোর মধ্যে হচ্ছে, যেখানে ওই গোষ্ঠীরই প্রাধান্য রয়েছে।
ঘোষণায় শেয়ার কেনার মূল্য বা লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার তারিখ জানানো হয়নি। নিশ্চিত হওয়া তথ্য হলো, ইতোচুর অবশিষ্ট শেয়ার হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে এবং ক্রেতা হিসেবে চেং মেইয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
শেয়ার কিনছে কে?
অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ব্যবসায়িক নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী, চেং মেই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই। টিং হসিন গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ওয়েই ইং-চিয়াও প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধিত প্রতিনিধি। এর নিবন্ধিত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগ, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, বিনিয়োগ পরামর্শ এবং ব্যবস্থাপনা পরামর্শ।
শেয়ার অধিগ্রহণকারী আইনি সত্তা হলো চেং মেই। টিং হসিন বা ওয়েই পরিবারের প্রত্যাবর্তনের উল্লেখ বিনিয়োগের পেছনে থাকা ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক স্বার্থকে বোঝায়; তাইপে ১০১-এর নতুন শেয়ারহোল্ডার হচ্ছে চেং মেই নিজেই।
ওয়েইয়ের কার্যালয় জানিয়েছে, তাইপে ১০১-এর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়ে তিনি আশাবাদী এবং অন্য শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকুক, তা প্রত্যাশা করেন। বিদ্যমান ব্যবস্থাপনা দলকে সমর্থন করাই তাঁর পরিকল্পিত ভূমিকার মূল বিষয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাইপে ১০১-ও এই পরিবর্তনকে শেয়ারহোল্ডার পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বিনিয়োগ সমন্বয়ের ইতোচুর সিদ্ধান্তকে তারা সম্মান করে এবং স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ও শেয়ারহোল্ডার এবং সমাজের জন্য দীর্ঘস্থায়ী মূল্য তৈরির লক্ষ্যে সব শেয়ারহোল্ডারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
সরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতেই প্রধান নিয়ন্ত্রণ
সরকারি বিনিয়োগে সমর্থিত ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের মার্চে তাইপে ১০১-এ তাদের শেয়ার বাড়ায়: মেগা ইন্টারন্যাশনাল কমার্শিয়াল ব্যাংক, ফার্স্ট ব্যাংক, তাইওয়ান কো-অপারেটিভ ব্যাংক, হুয়া নান ফিন্যানশিয়াল হোল্ডিংস, চ্যাং হোয়া ব্যাংক এবং তাইওয়ান বিজনেস ব্যাংক।
ইতোচু ও অন্যান্য শেয়ারহোল্ডারের ছেড়ে দেওয়া শেয়ার কেনার মাধ্যমে এই অংশীদারত্ব বাড়ানো হয়। ইতোচুর শেয়ার ৩২.১৪ শতাংশ থেকে কমে ১৭.২৭ শতাংশে দাঁড়ায়, আর সরকারি বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সম্মিলিত মালিকানা বেড়ে হয় প্রায় ৭০ শতাংশ। প্রতি শেয়ার ৩৮.৭ তাইওয়ান ডলারে (এনটি ডলার) লেনদেনের কথা জানানো হয়; ব্যয় হয় ৯.৪৫ বিলিয়ন এনটি ডলারের বেশি।
ইতোচুর শেয়ার ৩২.১৪ শতাংশ থেকে ১৭.২৭ শতাংশে নামায় ১৪.৮৭ শতাংশ-পয়েন্ট কমে। ফলে জাপানি গোষ্ঠীটির হাতে এখন যে শেয়ার রয়েছে, সেটিই চেং মেইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। সর্বশেষ লেনদেনে একজন বড় বেসরকারি শেয়ারহোল্ডারের জায়গায় আরেকজন আসছে, তবে অনেক বড় সরকারি বিনিয়োগ-গোষ্ঠীর অংশীদারত্ব অপরিবর্তিত থাকছে।
ইতোচু যুক্ত হওয়ার পর থেকে মালিকানার ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ২০১৮ সালের ঘোষণায় ওই লেনদেনের পর প্রত্যাশিত মালিকানা হিসেবে সরকারি অংশ ৫২.১ শতাংশ, ইতোচুর ৩৭.২ শতাংশ এবং অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ১০.৭ শতাংশ দেখানো হয়েছিল। এর সঙ্গে তুলনা করলে, ২০২৫ সালের কেনাকাটার পর সরকারি বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রায় ৭০ শতাংশ মালিকানা প্রায় ১৮ শতাংশ-পয়েন্ট বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
টিং হসিনের প্রবেশ ও প্রস্থান
মাস্টার কং ইনস্ট্যান্ট নুডলস ব্যবসার মাধ্যমে বেড়ে ওঠা টিং হসিন ২০০৯ সালে তাইপে ১০১-এর শেয়ার কেনা শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ওয়েই পরিবারের হাতে প্রায় ৩৭.১৭ শতাংশ শেয়ার আসে। আনুমানিক ৭ থেকে ৮ বিলিয়ন এনটি ডলারে কেনা এই শেয়ারগুলোর প্রাথমিক ক্রয়মূল্য ছিল প্রতি শেয়ার প্রায় ১৩ এনটি ডলার।
এই অংশীদারত্বের ফলে তাইওয়ানের অন্যতম পরিচিত ভবনের পেছনের প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগকারী হয়ে ওঠে টিং হসিন। এই মালিকানার মাধ্যমে একই সম্পত্তির একাধিক ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে শপিং মল, অফিস ভাড়া এবং পর্যবেক্ষণ ডেক।
২০১৪ সালে টিং হসিনের তেল ব্যবসা-সংশ্লিষ্ট খাদ্যনিরাপত্তা কেলেঙ্কারিতে গোষ্ঠীটির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পরই তাইপে ১০১-এ বিনিয়োগ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় তারা। ওই বছরের শেষ দিকে টিং হসিন তাদের শেয়ারের একটি অংশ ক্যাথে ফিন্যানশিয়াল ও সিটিবিসি ফিন্যানশিয়ালের কাছে বিক্রির বিষয়ে আলোচনা করেছিল।
শেষ পর্যন্ত ক্রেতা হয় ইতোচু। ২০১৮ সালে টিং হসিন তাদের পুরো অংশীদারত্ব ৬৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিক্রি করে, যা সে সময় প্রায় ২০.২ বিলিয়ন এনটি ডলার বলে জানানো হয়েছিল। শেয়ার হস্তান্তর সম্পন্ন হয় ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই, যদিও আগের একটি বিবরণে আগস্টে সম্পন্ন হওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তাই নতুন এই কেনাকাটা আগের চুক্তির উল্টো দিক: ২০১৮ সালে ওয়েই পরিবার ইতোচুর কাছে শেয়ার বিক্রি করেছিল, আর এখন ওয়েইয়ের প্রতিনিধিত্বে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান ইতোচুর অবশিষ্ট শেয়ার কিনছে। বিনিয়োগের পরিমাণ এবং মালিকানার সামগ্রিক ভারসাম্য, দুটোই এর মধ্যে বদলে গেছে।
২০১৮ সালের চুক্তিতে খাদ্য ব্যবসায় বিনিয়োগেরও অবসান হয়
তাইপে ১০১-এ ইতোচুর প্রবেশ ছিল টিং হসিনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের বৃহত্তর পুনর্বিন্যাসের অংশ। ২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তাদের ২০১৮ সালের লেনদেন-সংক্রান্ত ঘোষণায় জাপানি প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর তারা টিং হসিনের হোল্ডিং কোম্পানিতে নিজেদের অবশিষ্ট ১৭.৮ শতাংশ অংশীদারত্ব বিক্রি করতে এবং তাইপে ফিন্যানশিয়াল সেন্টার করপোরেশনে টিং হসিনের পুরো ৩৭.২ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনতে সম্মত হয়েছিল।
তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি লেনদেনটির অনুমোদন দেয়। ইতোচু জানায়, এরপর বিক্রি ও কেনাকাটা সম্পন্ন করতে বাকি থাকা বিষয়গুলো নিয়ে তারা কাজ করবে।
ইতোচু ২০০৯ সালে টিং হসিনের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছিল এবং ২০১৫ সালে সেই বিনিয়োগের একটি অংশ বিক্রি করে। ২০১৭ সালের চুক্তির মাধ্যমে ওই অংশীদারত্ব থেকে তাদের প্রস্থান সম্পন্ন হয়, আর একই সঙ্গে তারা তাইপে ১০১-এর মালিক প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করে।
সম্পত্তিতে বিনিয়োগের কারণ ব্যাখ্যা করে ইতোচুর করপোরেট বিবৃতিতে বলা হয়েছিল:
ইতোচু নির্ধারণ করেছে যে টিএফসিসিতে বিনিয়োগ থেকে লভ্যাংশের মতো স্থিতিশীল নগদ আয়ের প্রত্যাশা করা যায় এবং যথাযথ পরিচালন ব্যবস্থাপনায় আবাসন ব্যবসায় ইতোচুর অভিজ্ঞতাও কাজে লাগানো যেতে পারে।
বণ্টনের জন্য থাকা অর্থ থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান শেয়ারহোল্ডারদের যে অর্থ দেয়, সেটিই লভ্যাংশ। ইতোচুর ব্যাখ্যায় দেখা যায়, সম্পত্তি ব্যবসায় তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগের পাশাপাশি নিয়মিত নগদ আয়ও ছিল বিনিয়োগের একটি প্রধান কারণ।
আগের বিনিয়োগ থেকে কত আয় হয়েছিল
টিং হসিনের তাইপে ১০১-এ প্রথম বিনিয়োগের কেনা ও বিক্রির দাম থেকেই বোঝা যায় কেন তা নজর কেড়েছিল। প্রতি শেয়ারের ক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ১৩ এনটি ডলার, আর ২০১৮ সালে বিক্রির মূল্য ছিল প্রায় ৩২.৯ এনটি ডলার।
এই হিসাব অনুযায়ী, খরচ ও কর বাদ দেওয়ার আগে প্রতি শেয়ারে লাভ হয় প্রায় ১৯.৯ এনটি ডলার। বিক্রিমূল্য ছিল প্রাথমিক ক্রয়মূল্যের প্রায় ২.৫ গুণ। শেয়ারহোল্ডার থাকার সময় টিং হসিন আনুমানিক ৩ বিলিয়ন এনটি ডলার লভ্যাংশও পেয়েছিল।
শেয়ার বিক্রি ও লভ্যাংশ মিলিয়ে মোট লাভ প্রায় ১৬ বিলিয়ন এনটি ডলার বলে ধারণা করা হয়। হিসাবগুলো আনুমানিক: বিক্রির ঘোষিত ২০.২ বিলিয়ন এনটি ডলার, ৭ থেকে ৮ বিলিয়ন এনটি ডলারের ক্রয়মূল্য এবং ৩ বিলিয়ন এনটি ডলার লভ্যাংশ ধরে খরচ ও কর বাদ দেওয়ার আগে মোট লাভ দাঁড়ায় আনুমানিক ১৫.২ থেকে ১৬.২ বিলিয়ন এনটি ডলার।
২০২৫ সালে প্রতি শেয়ার ৩৮.৭ এনটি ডলারের দাম ২০১৮ সালের ঘোষিত ৩২.৯ এনটি ডলারের বিক্রিমূল্যের চেয়ে প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। এই তুলনা তাইপে ১০১-এর শেয়ারের ঐতিহাসিক দামের একটি ভিত্তি দেয়। চেং মেইয়ের নতুন কেনাকাটার শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ভবনটির পেছনের ব্যবসাগুলো
ইতোচুর করপোরেট বিবরণ অনুযায়ী, তাইপে ফিন্যানশিয়াল সেন্টার করপোরেশন একটি শপিং মল পরিচালনা করে, অফিস ভাড়া দেয় এবং পর্যবেক্ষণ ডেকের ব্যবস্থাপনা করে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কিনলে কোনো একক খুচরা বা পর্যটন ব্যবসার বদলে আয়ের একাধিক উৎসের সঙ্গে বিনিয়োগকারীর সংযোগ তৈরি হয়।
২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, আগের বছরে শপিং মলটির বিক্রি ছিল ২৩ বিলিয়ন এনটি ডলার এবং পর্যবেক্ষণ ডেকে দর্শনার্থী ছিল প্রায় ১৫ লাখ। পরিচালন-সংক্রান্ত তথ্যে ২.৫৭ বিলিয়ন এনটি ডলারের মুনাফা এবং শেয়ারপ্রতি ১.৭৫ এনটি ডলার বিতরণের কথাও উল্লেখ করা হয়।
মলের বিক্রির পরিমাণ শপিং সেন্টারের বেচাকেনার মাত্রা বোঝায়। প্রাসঙ্গিক ব্যয় পরিশোধের পর প্রতিষ্ঠানের হাতে যে অর্থ থাকে তা হলো মুনাফা, আর শেয়ারপ্রতি বিতরণ করা অর্থ হলো লভ্যাংশ। এই সূচকগুলো সম্পত্তিটির বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক বুঝতে সাহায্য করে।
২০২৫ সালে ঘোষিত ৩৮.৭ এনটি ডলার শেয়ারদরে ১.৭৫ এনটি ডলার লভ্যাংশ ওই দামের প্রায় ৪.৫ শতাংশ। এই হিসাব লভ্যাংশ ও ওই কেনার দামের মধ্যে একটি সরল তুলনা দেয়; ভবিষ্যৎ লভ্যাংশ নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত ও আর্থিক ফলাফলের ওপর।
মালিকানা পরিবর্তনের ঘটনাক্রম
২০০৯ সালে ওয়েই পরিবারের প্রথম বিনিয়োগ থেকে শুরু করে ইতোচুর ধাপে ধাপে শেয়ার কমানো পর্যন্ত এক ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে তাদের প্রত্যাবর্তন ঘটছে। প্রধান তারিখগুলো হলো:
- ২০০৯: টিং হসিন তাইপে ১০১-এর শেয়ার কেনা শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩৭.১৭ শতাংশ শেয়ার জমা করে।
- ২০১৪: টিং হসিনের তেল ব্যবসা-সংশ্লিষ্ট খাদ্যনিরাপত্তা কেলেঙ্কারির পর বিনিয়োগ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানটি।
- ২১ ডিসেম্বর, ২০১৭: ইতোচু টিং হসিনে তাদের অবশিষ্ট অংশীদারত্ব বিক্রি এবং তাইপে ১০১-এ টিং হসিনের শেয়ার কেনার বিষয়ে সম্মত হয়।
- ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮: তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ লেনদেনটির অনুমোদন দেয়।
- ৩০ জুলাই, ২০১৮: ইতোচুর কাছে শেয়ার হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।
- মার্চ ২০২৫: ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটায় সরকারি বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর মালিকানা প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছায়, আর ইতোচুর অংশ কমে ১৭.২৭ শতাংশ হয়।
- ১৪ জুলাই, ২০২৬: চেং মেই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২৭ অক্টোবর, ২০২৬: ইতোচুর অবশিষ্ট ১৭.২৭৪ শতাংশ শেয়ার চেং মেইয়ের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা নিশ্চিত করে তাইপে ১০১।
এখন প্রধান পরিবর্তন হলো বড় বেসরকারি বিনিয়োগকারীর পরিচয়। ইতোচু তাদের অবশিষ্ট অংশীদারত্ব হস্তান্তর করছে, চেং মেইয়ের মাধ্যমে ওয়েই পরিবার ফিরছে, আর ওয়েইয়ের ঘোষিত ভূমিকা হবে আর্থিক বিনিয়োগকারী হিসেবে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনাকে সমর্থন করা।
মূল বিষয়গুলো
- ইতোচুর পুরো ১৭.২৭৪ শতাংশ শেয়ার চেং মেই ভেঞ্চার ক্যাপিটালের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তাইপে ১০১।
- চেং মেইয়ের প্রতিনিধি টিং হসিন গ্রুপের ওয়েই ইং-চিয়াও; তাঁর কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি আর্থিক বিনিয়োগকারী হিসেবে কাজ করবেন।
- শেয়ার কেনার দাম ও লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার তারিখ জানানো হয়নি।
- ২০২৫ সালের কেনাকাটার পর সরকারি বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ শেয়ার।
- টিং হসিন ২০১৮ সালে তাদের আগের ৩৭.১৭ শতাংশ অংশীদারত্ব ৬৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে ইতোচুর কাছে বিক্রি করেছিল।
- ফিরে আসা অংশীদারত্ব টিং হসিনের আগের শেয়ারের অর্ধেকেরও কম।






