২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে টানা নয় দিনের ভ্রমণের চাপ
নিনয় অ্যাকুইনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এনএআইএ) ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার যাত্রীর সমাগম আশা করছে। ৩০ অক্টোবর সবচেয়ে ব্যস্ত দিন হতে পারে; ওই দিন যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজারে পৌঁছাতে পারে। আন্ডাসের ছুটিতে যাত্রীদের চাপ সামলাতে বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিউ এনএআইএ ইনফ্রা কর্পোরেশন (এনএনআইসি) অতিরিক্ত পুলিশি টহল, নিরাপত্তা তল্লাশির কর্মী, পরিবহনসেবা ও যাত্রী সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূচিপত্র
- ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে টানা নয় দিনের ভ্রমণের চাপ
- সবচেয়ে ব্যস্ত কার্যক্রম কখন হবে?
- প্রবেশপথ ও তল্লাশিকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা
- অতিরিক্ত কর্মকর্তা ও দ্রুত সাড়াদান দল প্রস্তুত রাখছে ইমিগ্রেশন
- ইমিগ্রেশনের ৭৮টি ই-গেটে কী বদল আসবে
- সড়কের যানজট, টার্মিনাল বদল ও ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় দরকার
- যাত্রীরা কোথায় সহায়তা পাবেন
- যাত্রার আগে যা প্রস্তুত রাখবেন
- মূল তথ্য
এনএনআইসির হিসাবে, এই পূর্বাভাস ২০২৫ সালের একই সময়ে রেকর্ড করা ১২ লাখ ৪০ হাজার যাত্রীর তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ বেশি। নয় দিনে যাত্রী বাড়বে প্রায় ১০ হাজার। ফিলিপাইনে অল সেইন্টস ডে ও অল সোলস ডেকে ঘিরে পালিত আন্ডাসে পরিবারগুলো নিজ নিজ শহরে ফেরে এবং কবরস্থান পরিদর্শন করে, ফলে যাতায়াতের চাপ বাড়ে।
৩০ অক্টোবর চাপের বড় অংশ সামলাতে হবে। ওই দিন ১ লাখ ৪৯ হাজার যাত্রীর পূর্বাভাস ছুটির সময়ের দৈনিক গড় প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজারের চেয়ে ১০ হাজার বেশি। যাত্রীদের জন্য চ্যালেঞ্জ শুধু বিমানে ওঠা নয়; টার্মিনালে পৌঁছানো, তল্লাশি পার হওয়া এবং সঠিক গেট খুঁজে পাওয়াও এর অংশ।
এনএনআইসি টার্মিনাল ২-এ সার্বক্ষণিক একটি কমান্ড সেন্টার চালাবে। সেখানে বিমানবন্দরের কর্মীদের সঙ্গে এয়ারলাইন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার, পরিবহনসেবা প্রদানকারী ও সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় করা হবে। টার্মিনালের প্রবেশপথ, ইমিগ্রেশন কাউন্টার, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা ও বিমানের পার্কিংয়ের প্রস্তুতিও এর আওতায় রয়েছে; এসব স্থানে ভিড় হলে যাত্রার একাধিক ধাপ প্রভাবিত হতে পারে।
ফিলিপাইনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও (সিএএপি) বিমানবন্দরগুলোতে ব্যাপক যাত্রীচাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস, এ বছর যাত্রীর সংখ্যা ৪০ লাখে পৌঁছাবে, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩৭ লাখ। ৩ লাখ বা প্রায় ৮ শতাংশের এই বৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে, যাত্রীরা অন্যান্য বিমানবন্দর দিয়েও যাতায়াত করায় শুধু ম্যানিলাতেই চাপ সীমাবদ্ধ থাকবে না।
সবচেয়ে ব্যস্ত কার্যক্রম কখন হবে?
এনএনআইসির প্রস্তুতি ২৭ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত পুরো ভ্রমণকালকে ঘিরে। ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন ও সিএএপি ৩০ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। এনএআইএতে যাত্রীসংখ্যা সর্বোচ্চ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া দিনের সঙ্গেই এই মোতায়েন শুরু হবে।
যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো হলো:
- ২৭ অক্টোবর: এনএআইএতে নয় দিনের ছুটিকালীন ভ্রমণ শুরু।
- ৩০ অক্টোবর: এনএআইএতে সবচেয়ে ব্যস্ত দিন হতে পারে; যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজার। অতিরিক্ত ইমিগ্রেশন ও সিএএপি কর্মী মোতায়েন শুরু।
- ১ ও ২ নভেম্বর: ভ্রমণকালেই অল সেইন্টস ডে ও অল সোলস ডে পড়েছে।
- ৩ নভেম্বর: ঘোষিত অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েনের সময় শেষ।
- ৪ নভেম্বর: এনএনআইসির যাত্রী পূর্বাভাসের আওতায় থাকা শেষ দিন।
৩০ অক্টোবরের বাইরে অন্য দিন যাত্রা করলেও যাত্রীদের সারির জন্য বাড়তি সময় রাখা উচিত। ছুটির পুরো সময়ে আসা-যাওয়ার ব্যস্ত সময় অনুযায়ী কর্মী, কাউন্টার ও পরিবহনসেবা সমন্বয় করার পরিকল্পনা করেছে এনএনআইসি।
প্রবেশপথ ও তল্লাশিকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা
টার্মিনালের প্রবেশপথ, কার্বসাইড এলাকা ও পার্কিং স্থানে পুলিশি টহল বাড়ানো হবে। যাত্রী ও যানবাহন টার্মিনালে ঢোকার আগে যেখানে জড়ো হয়, সেখানে নিরাপত্তা জোরদারে কে-৯ ইউনিট মোতায়েন এবং প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ কঠোর করারও পরিকল্পনা করেছে এনএনআইসি।
ব্যস্ত সময়ে অতিরিক্ত তল্লাশিকর্মী ও চেকপয়েন্ট চালু থাকবে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সিএএপি আরও কঠোর ব্যাগেজ তল্লাশি, অতিরিক্ত সাধারণ ও নিরাপত্তাকর্মী এবং সহায়তা ডেস্কের ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে।
বিমানে ওঠার আগে যাত্রীদের কয়েকটি ধাপের তল্লাশি পার হতে হয়; এর একটি হলো নিরাপত্তা পরীক্ষা। ভ্রমণের নথি হাতের কাছে রাখা এবং ব্যাগেজসংক্রান্ত বিধিনিষেধ মেনে চললে সারির সামনে পৌঁছানোর পর এড়ানো সম্ভব এমন বিলম্ব কমতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবহন বিভাগ, ম্যানিলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, পরিবহন নিরাপত্তা কার্যালয়, ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশ-এভিয়েশন সিকিউরিটি গ্রুপ, ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন, ব্যুরো অব কাস্টমস এবং ব্যুরো অব কোয়ারেন্টাইন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে দেশে প্রবেশকারী যাত্রী ও পণ্য পরীক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন দায়িত্ব তাদের।
সিএএপির জনতথ্য কর্মকর্তা বিয়া বার্নার্দো বলেন, পরিবহন বিভাগের ‘অপলান বিয়াহেং আইয়োস’-এর আওতায় সংস্থাগুলো সমন্বয় করছে। যাত্রার বিভিন্ন ধাপের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের একসঙ্গে কাজ করার এই প্রস্তুতিতে বিমানবন্দরের এক চেকপয়েন্টে দেখা দেওয়া সমস্যার সঙ্গে অন্যত্র তার প্রভাবও মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
অতিরিক্ত কর্মকর্তা ও দ্রুত সাড়াদান দল প্রস্তুত রাখছে ইমিগ্রেশন
ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের মুখপাত্র আনিশা হাজি হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি টার্মিনালে দ্রুত সাড়াদান দল প্রস্তুত রাখা হবে। সারি দীর্ঘ হলে বা এনএআইএর স্বয়ংক্রিয় ইমিগ্রেশন গেট সাময়িকভাবে অচল হলে এসব দল অতিরিক্ত কর্মকর্তা পাঠাতে পারবে।
হাসান বলেন, কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে রাখতে ব্যস্ততম মোতায়েনের সময়ে ছুটির অনুমোদন সীমিত করছে ব্যুরো। কর্মী মোতায়েনের ব্যবস্থা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন:
আমাদের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ছুটিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছি। ৩০ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত আমরা বার্ষিক ছুটির অনুমোদন সীমিত রাখছি, যাতে অতিরিক্ত কর্মী দরকার হলে মোতায়েনের জন্য কর্মকর্তা পাওয়া যায়।
যাত্রীর সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও কোয়ারেন্টাইন কাউন্টারের ব্যবস্থা করা হবে; প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাউন্টার খোলা হবে। এসব তল্লাশির উদ্দেশ্য আলাদা: ইমিগ্রেশন কোনো ব্যক্তির দেশে প্রবেশ বা দেশত্যাগের অনুমতি যাচাই করে, কাস্টমস পণ্য পরীক্ষা করে এবং কোয়ারেন্টাইন কর্তৃপক্ষ প্রাসঙ্গিক স্বাস্থ্যবিধি সামলায়।
যন্ত্রপাতি বিকল হলে সাড়া দিতে কারিগরি দলও প্রস্তুত থাকবে। ব্যস্ত সময়ে কোনো প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে তা সামলাতে কারিগরি কর্মী ও অতিরিক্ত কর্মকর্তা, দুই ধরনের জনবলই প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
ইমিগ্রেশনের ৭৮টি ই-গেটে কী বদল আসবে
ছুটির মৌসুমে টার্মিনাল ১ ও ৩-এ ইমিগ্রেশনের ৭৮টি স্বয়ংক্রিয় ই-গেট চালু থাকবে। এনএনআইসির ভাষ্য, ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের তল্লাশিসংক্রান্ত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যোগ্য যাত্রীরা এসব গেট দিয়ে প্রায় ২০ সেকেন্ডে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
ই-গেট যোগ্য যাত্রীদের ইমিগ্রেশন তল্লাশির একটি অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করে। যোগ্যতা ও অতিরিক্ত তল্লাশির প্রয়োজনীয়তা ইমিগ্রেশনের নিয়মের ওপর নির্ভরশীল। ঘোষিত প্রক্রিয়াকরণের সময়টি শুধু গেটে সম্পন্ন হওয়া কাজের জন্য; সারি ও বিমানে ওঠার আগের অন্যান্য ধাপের জন্যও যাত্রীদের সময় রাখতে হবে।
ঘন ঘন ভ্রমণকারীদের ই-গেট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন হাসান। তাঁর মতে, এতে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা "সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা বা হুমকি হতে পারেন এমন যাত্রীদের দিকে মনোযোগ দিতে" পারবেন। কোন লেন ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে ইমিগ্রেশন কর্মীদের নির্দেশনা যাত্রীদের মেনে চলা উচিত।
ছুটিকালীন কার্যক্রমে সহায়ক পরিবর্তনের মধ্যে উন্নত ফ্লাইট তথ্য প্রদর্শক, টার্মিনালে যাতায়াতের সুবিধা ও অপেক্ষার স্থান এবং অতিরিক্ত যাত্রীসেবার কথাও উল্লেখ করেছে এনএনআইসি। টার্মিনালগুলোতে নতুন রেস্তোরাঁ, খাবারের স্থান ও লাউঞ্জ চালু হয়েছে, ফলে প্রয়োজনীয় তল্লাশি শেষ করে যাত্রীরা অপেক্ষা করার আরও জায়গা পাবেন।
সড়কের যানজট, টার্মিনাল বদল ও ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় দরকার
বিমানবন্দর ঘিরে যানবাহনের চাপ সামলাতে সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করবে এনএনআইসি এবং ট্রাফিক মার্শাল মোতায়েন করবে। ব্যস্ত সময়ে ট্যাক্সি ও শাটলসেবা সমন্বয় করা হবে। যাত্রীর চাহিদা এবং ফ্লাইটের আসা-যাওয়ার ব্যস্ত সময় বিবেচনায় টার্মিনালগুলোর মধ্যে শাটল চলাচলের সময়সূচিও নির্ধারণ করা হবে।
বাড়ি থেকে রওনা দেওয়ার আগে যাত্রীদের নিজেদের নির্ধারিত টার্মিনাল যাচাই করা উচিত। ভুল টার্মিনালে গেলে অতিরিক্ত যাতায়াত করতে হবে, এমন সময়ে যখন সংযোগ সড়ক ও শাটলসেবায় এরই মধ্যে চাপ থাকতে পারে।
যাত্রীদের ব্যাগ বহনে সহায়তার জন্য অতিরিক্ত পোর্টার ও ব্যাগেজ ট্রলি রাখা হবে। টার্মিনালের প্রবেশপথ, চেক-ইন কাউন্টার ও বোর্ডিং গেটে ভিড়ের পাশাপাশি ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং বিমানের চলাচলও নজরদারিতে রাখবে বিমানবন্দর দলগুলো।
বিমানবন্দরের এয়ারসাইডে, অর্থাৎ বিমানের চলাচল করা সংরক্ষিত এলাকায়, অতিরিক্ত ও অনির্ধারিত ফ্লাইটের পার্কিংয়ের ব্যবস্থা সমন্বয় করবেন কর্মীরা। এয়ারক্রাফট স্ট্যান্ড হলো বিমানে যাত্রী ওঠানো, নামানো বা সেবার জন্য নির্ধারিত পার্কিং স্থান। স্ট্যান্ডের সংখ্যা সীমিত হলে আসা ও ছেড়ে যাওয়া বিমানের ব্যবস্থাপনায় বিলম্ব হতে পারে।
বিমান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা ও ফ্লাইটের বিঘ্ন মোকাবিলায় এনএনআইসি এয়ারলাইন এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলারদের সঙ্গে কাজ করবে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলাররা বিমান পরিষেবা ও ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা দল। পুরো ভ্রমণকালজুড়ে চিকিৎসা, অগ্নিনির্বাপণ, নিরাপত্তা, প্রকৌশল ও কারিগরি দল দায়িত্বে থাকবে।
যাত্রীরা কোথায় সহায়তা পাবেন
টার্মিনাল ১, ২ ও ৩-এর আগমন ও প্রস্থান এলাকায় যাত্রী সহায়তা ডেস্ক সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। এসব ডেস্ক থেকে দিকনির্দেশনা, ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য, চিকিৎসা সহায়তা ও অন্যান্য যাত্রীসেবা পাওয়া যাবে।
কার্যক্রমসংক্রান্ত সমস্যা ও বিঘ্ন মোকাবিলায় টার্মিনাল ২-এর কমান্ড সেন্টার সমন্বয় করবে। যাত্রীরা নিজেদের টার্মিনালের ভেতরেই সহায়তা ডেস্কে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন; যেমন দিকনির্দেশনা বা যাত্রায় প্রভাব ফেলা কোনো সমস্যা সম্পর্কে তথ্যের প্রয়োজন হলে।
অনুমোদিত বিমানবন্দর পরিবহনসেবা ব্যবহার করতে এবং অবৈধভাবে যাত্রী ধরার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিমানবন্দরের কর্মী বা পুলিশকে জানাতে যাত্রীদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে এনএনআইসি। সহায়তা প্রয়োজন হলে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাবের ওপর নির্ভর না করে যাত্রীরা ডেস্কে যেতে পারেন।
যাত্রার আগে যা প্রস্তুত রাখবেন
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের অন্তত তিন ঘণ্টা এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের অন্তত দুই ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছে এনএনআইসি। কখন বাড়ি থেকে বের হবেন, তা ঠিক করার সময় সড়কের যানজট ও নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য বাড়তি সময় রাখা উচিত।
যাত্রীদের ফ্লাইটের অবস্থা ও নির্ধারিত টার্মিনাল যাচাই, সুযোগ থাকলে অনলাইনে চেক-ইন, ভ্রমণের নথি প্রস্তুত এবং এয়ারলাইনের ব্যাগেজ বিধিনিষেধ দেখে নেওয়া উচিত। আগে থেকেই বিমানবন্দর সংস্থাগুলোর পরামর্শ নজরে রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন হাসান। ইমিগ্রেশনে অপেক্ষার সময় ব্যুরোর ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে জানা যাবে।
eTravel-এর মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হয় এমন আন্তর্জাতিক যাত্রীদের নির্ধারিত আগমন বা যাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। সরকারি eTravel প্ল্যাটফর্ম বা eGovPH অ্যাপে নিবন্ধন বিনামূল্যে করা যায়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই তা সম্পন্ন করলে টার্মিনাল পার হওয়ার সময় একটি কাজ কম থাকে।
কী ধরনের অতিরিক্ত কর্মী ও সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তা জানিয়েছে এনএনআইসি; তবে অতিরিক্ত কর্মকর্তা, চেকপয়েন্ট বা শাটল ট্রিপের সংখ্যা নির্দিষ্ট করেনি। যাত্রার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন হালনাগাদ তথ্যের জন্য যাত্রীদের সর্বশেষ ফ্লাইট ও বিমানবন্দর-সংক্রান্ত পরামর্শ দেখা উচিত।
মূল তথ্য
- ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এনএআইএতে প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার যাত্রীর প্রত্যাশা, ২০২৫ সালের একই সময়ে যা ছিল ১২ লাখ ৪০ হাজার।
- ৩০ অক্টোবর সবচেয়ে ব্যস্ত দিন হতে পারে; যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজার।
- টার্মিনাল ২-এর কমান্ড সেন্টার এবং টার্মিনাল ১, ২ ও ৩-এর সহায়তা ডেস্ক সার্বক্ষণিক চালু থাকবে।
- ৩০ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত ইমিগ্রেশন ও সিএএপি কর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
- টার্মিনাল ১ ও ৩-এ ইমিগ্রেশনের ৭৮টি ই-গেট চালু রয়েছে; যোগ্য যাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াকরণে প্রায় ২০ সেকেন্ড লাগে।
- আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের তিন ঘণ্টা এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের দুই ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- eTravel নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলে তা বিনামূল্যে করা যায় এবং নির্ধারিত আগমন বা যাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।






