টেবিল থেকে বেঁচে যাওয়া খাবারে থাকতে পারে অদৃশ্য ঝুঁকি
আওয়ার ট্যাম্পিনিস হাব হকার সেন্টারে ৬০ বা ৭০ বছর বয়সী বলে ধারণা করা এক ব্যক্তি প্রতিদিন খাবার খেয়ে যাওয়া লোকজনের ফেলে রাখা খাবার সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্যাকেট করেন। তিনি এক বাসিন্দাকে বলেছেন, খাবারের অপচয় এড়াতে চান এবং রাতের খাবার হিসেবে এগুলো খাবেন।
সূচিপত্র
- টেবিল থেকে বেঁচে যাওয়া খাবারে থাকতে পারে অদৃশ্য ঝুঁকি
- ট্যাম্পিনিসে প্রতিদিনের অভ্যাস
- ওয়াংয়ের ভাষ্য, তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে অর্থ নয়, অপচয়
- ভিন্ন সময়ে দেখা মেলে ভিন্ন অভ্যাসের
- তারিখসহ পর্যবেক্ষণগুলোতে যা দেখা যায়
- সময় ও তাপমাত্রা কেন গুরুত্বপূর্ণ
- খাদ্য ভাগাভাগির পক্ষের এক কর্মীর সতর্কবার্তা
- সহায়তা শুরু হয় ব্যক্তিকে বোঝার মধ্য দিয়ে
- মূল বিষয়গুলো
চায়নাটাউনের পিপলস পার্ক ফুড সেন্টারেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা একই ধরনের আচরণের কথা জানিয়েছেন। সেখানে দুই বা তিনজন বয়স্ক পুরুষ বারবার টেবিল ও ট্রে ফেরত দেওয়ার জায়গা থেকে খাবার সংগ্রহ করেন। ২০২২ সালের ৩ নভেম্বর প্রকাশিত আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অন্তত সাতজন বয়স্ক মানুষ নিয়মিত সেখানে উচ্ছিষ্ট খাবার সংগ্রহ করেন বা খান।
এই ঘটনাগুলো দুটি উদ্বেগ সামনে এনেছে: মানুষ কেন অপরিচিতদের ফেলে যাওয়া খাবার খাচ্ছেন, এবং তাঁদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি উপেক্ষা না করে কীভাবে তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা যায়। পাসির রিসের ৮৪ বছর বয়সী ওয়াং বলেছেন, খাবার কেনার সামর্থ্য তাঁর আছে, কিন্তু খাবার ফেলে দিতে দেখলে তাঁর খারাপ লাগে। অন্য পুরুষেরা তাঁদের কারণ জানাননি।
সিঙ্গাপুর ফুড এজেন্সি (এসএফএ) তাদের খাদ্যনিরাপত্তা নির্দেশিকায় বলেছে, ৫° সেলসিয়াস থেকে ৬০° সেলসিয়াসের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া সবচেয়ে দ্রুত বাড়ে। পরিবেশনের আগ পর্যন্ত রান্না করা গরম খাবার ৬০° সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় রাখতে এবং ঠান্ডা খাবার ৪° সেলসিয়াস বা তার কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে সংস্থাটি পরামর্শ দিয়েছে।
হকার সেন্টারের টেবিলে পড়ে থাকা খাবার সাধারণত এই নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের বাইরে থাকে। খাবার সংগ্রহকারী ব্যক্তি হয়তো জানেন না সেটি কখন রান্না করা হয়েছে, কতক্ষণ সেখানে পড়ে ছিল বা আগের ক্রেতা খাওয়ার সময় সেটির কী হয়েছিল।
ট্যাম্পিনিসে প্রতিদিনের অভ্যাস
আওয়ার ট্যাম্পিনিস হাবের ওই বাসিন্দা জানিয়েছেন, তিনি প্রতিদিন বয়স্ক লোকটিকে টেবিল থেকে আধখাওয়া খাবার প্যাকেট করতে দেখেন। হকার সেন্টারের কিছু কর্মীও তাঁকে খাবার সংগ্রহ করতে দেখেছেন, তবে ঝামেলা এড়াতে তাঁরা হস্তক্ষেপ করেননি।
এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আরেক বয়স্ক পুরুষের কথা বলেছেন, যিনি চার থেকে পাঁচ বছর ধরে প্রতিদিন একই কাজ করছেন। তিনি জানান, লোকটি সেন্টার থেকে পানীয়ও কেনেন। এ থেকে বোঝা যায়, ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘদিনের অভ্যাস; যদিও কখন থেকে শুরু হয়েছে বা তাঁর পরিস্থিতি কী, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।
রাতের খাবারের জন্য খাবার বাড়িতে নিয়ে গেলে সংগ্রহ ও খাওয়ার মধ্যবর্তী সময় আরও বাড়ে। লোকটির বক্তব্যে খাবার কীভাবে বহন, সংরক্ষণ বা পুনরায় গরম করা হয়, তা বলা নেই। এসব ধাপ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রান্না করা খাবার যথাযথভাবে গরম বা ঠান্ডা না রেখে কুসুম গরম অবস্থায় রাখলে ব্যাকটেরিয়া বাড়তে পারে।
কর্মীদের তাঁর সঙ্গে কথা বলতে অনীহাও একটি বাস্তব সমস্যা তুলে ধরে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও দোকানের কর্মীরা একই ব্যক্তিকে বারবার দেখতে পারেন, কিন্তু খাবার বা অর্থ নিয়ে অযাচিত প্রশ্ন করলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ওয়াংয়ের ভাষ্য, তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে অর্থ নয়, অপচয়
চায়নাটাউনে ওয়াং তাঁর অভ্যাসের সরাসরি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ৮৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি জানান, তিনি পাসির রিসে থাকেন, তাঁর পরিবার ও সন্তান আছে এবং সাক্ষাৎকারের কয়েক মাস আগে চায়নাটাউনে যাওয়া শুরু করেন, কারণ সেখানকার প্রাণবন্ত পরিবেশ তাঁর ভালো লাগে। সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি ফিরে যান।
ওয়াং বলেছেন, খাবার কেনার সামর্থ্য তাঁর আছে। তবে ক্রেতাদের প্রচুর খাবার ফেলে যেতে দেখলে তাঁর খারাপ লাগে; এর মধ্যে মাছ এবং প্রায় অক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকা খাবারও রয়েছে।
অন্যের উচ্ছিষ্ট খাবার খাওয়ার কথা স্বীকার করা বয়স্ক ক্রেতা ওয়াং তাঁর কারণ এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন:
খাবারটা তখনো গরম থাকে," তিনি বলেন। "এত খাবার নষ্ট হয়। তাই আমি খাই।
খাবার গরম থাকায় তাঁর কাছে তা খাওয়ার উপযোগী মনে হতে পারে। তবে রান্না করা খাবার গরম রাখার জন্য এসএফএর নির্দেশিকায় নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বলা হয়েছে: ৬০° সেলসিয়াসের বেশি। খাবার কুসুম গরম মনে হলেও তা এমন তাপমাত্রার মধ্যে থাকতে পারে, যেখানে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়ে।
ওয়াং আরও বলেছেন, উচ্ছিষ্ট খাবার খেতে দেখেছেন এমন লোকেরা সাধারণত নিজেদের মতো থাকতেন। তাঁর বক্তব্য তাঁর নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেয়; অন্যরা কেন খাবার সংগ্রহ করেন, তা জানতে তাঁদের নিজস্ব বক্তব্য প্রয়োজন।
ভিন্ন সময়ে দেখা মেলে ভিন্ন অভ্যাসের
পিপলস পার্ক এলাকায় ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দোকান চালানো ৫২ বছর বয়সী বিক্রেতা দু বলেন, প্রতিদিন প্রায় তিনজন উচ্ছিষ্ট খাবার খেতে আসেন; অন্য এক প্রতিবেদনে তিন থেকে চারজন বয়স্ক মানুষের কথা বলা হয়েছে। দু জানান, কেউ কেউ রাত ৮টা বা ৯টার দিকে আসেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহ কোয়ান নিয়মিত আসা শুরু করার সময় হিসেবে সকাল ১০টার কথা বলেছেন, আর অন্য কর্মীরা দুপুরের খাবারের সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন।
দোকানের ৫০ বছর বয়সী সহকারী মা বলেন, একজন লোককে ক্রেতারা চলে যাওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আধখাওয়া খাবার খেতে শুরু করতে দেখেছেন। দু জানান, কখনো কখনো ক্রেতারা উচ্ছিষ্ট খাবার সংগ্রহকারীদের জন্য খাবার কিনে দেন।
২০২২ সালের নভেম্বরের প্রতিবেদনে অন্তত সাতজন নিয়মিত খাবার সংগ্রহকারীর কথা বলা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজন সকালে খাবার সংগ্রহ করতেন, আর বিকেল ও সন্ধ্যায় আরও চারজন বয়স্ক পুরুষকে একই কাজ করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ সেন্টারেই খেতেন; একজন খাবার নিয়ে যাওয়ার জন্য বাক্স বা ব্যাগ এনেছিলেন।
এই পর্যবেক্ষণগুলো নির্দিষ্ট সময়ে দেখা মানুষদের বর্ণনা, একটানা হিসাব নয়। এগুলো আরও দেখায়, সবার জন্য একই ব্যবস্থা উপযোগী নাও হতে পারে: কেউ পরে খাওয়ার জন্য খাবার সংগ্রহ করেন, আবার কেউ অপরিষ্কার টেবিলে বসে সঙ্গে সঙ্গেই খেয়ে নেন।
তারিখসহ পর্যবেক্ষণগুলোতে যা দেখা যায়
সবচেয়ে স্পষ্ট ধারাবাহিক বিবরণ পাওয়া যায় ২০২২ সালের অক্টোবরের কয়েকটি পরিদর্শন এবং পরে সমাজ ও পরিবার উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে। ট্যাম্পিনিসের ঘটনাগুলো ও ওয়াংয়ের সাক্ষাৎকারের বছর উল্লেখ করা হয়নি, তাই সেগুলো এই তারিখভিত্তিক ধারার বাইরে।
- ২১ অক্টোবর, ২০২২: সকাল ১০টার দিকে এক ব্যক্তিকে ট্রে ফেরত দেওয়ার জায়গায় একটি প্লেটের খাবার খেতে দেখা যায়। পরে তিনি একটি টেবিলে পড়ে থাকা নুডলস খুঁজে পান। আরেক নিয়মিত খাবার সংগ্রহকারীকে দুপুর ১টার দিকে খাবার খুঁজতে দেখা যায়।
- ২২ অক্টোবর, ২০২২: মি. হং নামে পরিচিত ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি আগের ক্রেতাদের ব্যবহৃত চামচ-কাঁটা দিয়ে পড়ে থাকা নুডলস খান এবং বিয়ার পান করেন।
- ২৮ অক্টোবর, ২০২২: এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পরিচিত আরেক নিয়মিত উচ্ছিষ্ট খাবার সংগ্রহকারীকে তিন বোতল বিয়ার কিনতে দেখা যায়।
- ৩ নভেম্বর, ২০২২: ঘটনাগুলো নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বয়স্ক ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দিতে মন্ত্রণালয় তৃণমূলের স্বেচ্ছাসেবক ও হকারদের সঙ্গে কাজ করছে।
পানীয়ের দোকানের সহকারী মি. ঝাং বলেন, মি. হং তাঁর কাছ থেকে বিয়ার কিনেছিলেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহ কোয়ানও উচ্ছিষ্ট খাবার খাওয়া এক ব্যক্তিকে পানীয় কিনতে দেখার কথা বলেছেন। অন্যদিকে, ওয়াং স্পষ্টভাবেই বলেছেন, খাবার কেনার টাকা তাঁর আছে।
একটি কেনাকাটার ভিত্তিতে কারও আর্থিক পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা যায় না। সহায়তাকারীদের জন্য পরবর্তী কার্যকর পদক্ষেপ হলো ওই ব্যক্তির খাবারের সুযোগ, বসবাসের অবস্থা এবং সহায়তা গ্রহণে তাঁর আগ্রহ সম্পর্কে জানতে চাওয়া। মি. হং কেন উচ্ছিষ্ট খাবার খাচ্ছিলেন, তা ব্যাখ্যা করতে চাননি।
সময় ও তাপমাত্রা কেন গুরুত্বপূর্ণ
হকার সেন্টারে এমন আচরণ নিয়ে মন্তব্য করা এক চিকিৎসক সতর্ক করে বলেছেন, অপরিচিতদের ফেলে যাওয়া খাবার খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়া ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। চিকিৎসক জানান, রান্না করা খাবার দুই ঘণ্টার বেশি বাইরে পড়ে থাকলে নষ্ট হতে পারে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি।
এসএফএর পরামর্শে এর পেছনের প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ৫° সেলসিয়াস থেকে ৬০° সেলসিয়াস তাপমাত্রার বিপজ্জনক সীমায় ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়তে পারে। খাবার যথেষ্ট গরম বা ঠান্ডা রাখলে এই প্রক্রিয়া ধীর হয়। রান্না করা খাবার সাধারণ পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রায় ফেলে রাখলে ব্যাকটেরিয়া বেড়ে ওঠার সুযোগ বাড়ে।
কতক্ষণ ধরে খাবার সংগ্রহের জন্য পড়ে ছিল, হিসাবের সেটিই একমাত্র বিষয় নয়। কোনো ক্রেতা চলে যাওয়ার ঠিক পর নুডলস তুলে নিলেও, খাবারটি তার আগে কতক্ষণ টেবিলে ছিল, তা সংগ্রহকারী জানেন না। রাতের খাবারের জন্য প্যাকেট করলে সময়ের ব্যবধান আরও বাড়ে।
খাবার ধরার সময়ও দূষণের আরেকটি ঝুঁকি তৈরি হয়। ব্যবহৃত চামচ-কাঁটা, হাত বা ক্রেতার সংস্পর্শ থেকে জীবাণু ছড়াতে পারে। সংরক্ষিত রান্না করা খাবারের একটি অংশ পরিষ্কার পাত্রে তুলে রাখতে এসএফএ পরামর্শ দেয়, যাতে বাকি খাবার দূষণ থেকে সুরক্ষিত থাকে।
সংরক্ষিত রান্না করা খাবার অন্তত ৭৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কমপক্ষে দুই মিনিট গরম করতে এবং একবারের বেশি পুনরায় গরম না করতে এসএফএ পরামর্শ দিয়েছে। খাবার ঠান্ডা হওয়ার পর পরিষ্কার, ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রেখে ফ্রিজে বা ফ্রিজারে রাখার কথাও বলা হয়েছে। পরিত্যক্ত প্লেট থেকে খাবার সংগ্রহকারী ব্যক্তির সাধারণত সেটি কীভাবে সামলানো হয়েছে, তা জানার উপায় থাকে না।
খাদ্য ভাগাভাগির পক্ষের এক কর্মীর সতর্কবার্তা
ফ্রিগ্যান ইন সিঙ্গাপুরের সহপ্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল টে অপরিচিতদের ফেলে যাওয়া খাবার না খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ফ্রিগ্যান চর্চায় অপচয় কমানোর লক্ষ্যে অব্যবহৃত খাবার ও অন্যান্য জিনিস বিনা মূল্যে গ্রহণ করা হয়।
টে বলেন, খাবার কতক্ষণ বাইরে পড়ে ছিল, তা জানা না যাওয়াই উচ্ছিষ্ট সংগ্রহে নিরুৎসাহিত করার একটি কারণ:
"আমি [উচ্ছিষ্ট খাবার খেতে] উৎসাহ দিই না, কারণ খাওয়ার আগে খাবারটি কতক্ষণ বাইরে পড়ে ছিল, তা আমরা জানি না," টে বলেন।
পোকামাকড় বা আগের ক্রেতার মাধ্যমে, যেমন অসুস্থ কারও কাছ থেকে, খাবার দূষিত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও টে সতর্ক করেছেন। তাঁর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে খাবারটি কতক্ষণ অযত্নে ছিল এবং এর আগে অন্য মানুষের সংস্পর্শে এসেছে কি না।
ক্রেতারা টেবিলে থাকা অবস্থাতেই তাঁদের সঙ্গে কথা বলে, তাঁরা যে খাবার শেষ করতে পারবেন না তা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি; চলে যাওয়ার পর খাবার তুলে নেওয়া নয়। তাঁর মতে, এ ধরনের কথোপকথন ক্রেতাদের খাবারের অপচয় সম্পর্কে আরও সচেতন করতে পারে।
ভাগ করে দেওয়া যেকোনো খাবারের ক্ষেত্রেই এসএফএর খাবার ব্যবস্থাপনা ও তাপমাত্রাসংক্রান্ত নির্দেশনা প্রাসঙ্গিক। খাবারের অপচয় কমাতে চাইলে সংস্থাটির পরামর্শ অনুযায়ী যতটুকু খাওয়া সম্ভব, ততটুকুই কেনা একটি সহজ উপায়: যতটা খাওয়া হবে বলে ধারণা, তার বেশি অর্ডার না দেওয়া।
সহায়তা শুরু হয় ব্যক্তিকে বোঝার মধ্য দিয়ে
২০২২ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়ায় সমাজ ও পরিবার উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানায়, সংশ্লিষ্ট বয়স্ক ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তারা তৃণমূলের স্বেচ্ছাসেবক ও হকারদের সঙ্গে কাজ করছে। প্রয়োজন হলে আর্থিক সহায়তা বা খাবারের সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
তখন মন্ত্রণালয় জনসাধারণকে 1800-222-0000 নম্বরে ফোন করতে, ফ্যামিলি সার্ভিস সেন্টার বা সোশ্যাল সার্ভিস অফিসে যোগাযোগ করতে, অথবা কারও সঙ্গে সহায়তা সংস্থার যোগাযোগ করিয়ে দিতে OneService অ্যাপের Help Neighbour সুবিধা ব্যবহার করতে বলেছিল। ২০২২ সালের ওই প্রতিক্রিয়ায় যোগাযোগের এই উপায়গুলোই দেওয়া হয়েছিল।
ব্যক্তিগতভাবে মূল্যায়ন করা লোকজনের ক্ষেত্রে কী ফল হয়েছিল বা পরবর্তী হালনাগাদের কোনো তারিখ জানানো হয়নি। ট্যাম্পিনিসের ঘটনাগুলোতেও খাবার সংগ্রহকারী পুরুষদের সঙ্গে সমাজসেবা কর্মীরা যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।
ওয়াংয়ের ব্যাখ্যা, কর্মীদের পর্যবেক্ষণ এবং মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া একটি বাস্তবসম্মত পদ্ধতির কথা তুলে ধরে: প্রত্যেকে কেন খাবার সংগ্রহ করছেন তা বোঝা, প্রয়োজন হলে সহায়তা দেওয়া এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি সরাসরি মোকাবিলা করা। খাবারের অপচয় কমানো এবং বয়স্কদের নিরাপদে প্রস্তুত খাবার পাওয়ার ব্যবস্থা করা, দুটোই একসঙ্গে করা সম্ভব।
মূল বিষয়গুলো
- আওয়ার ট্যাম্পিনিস হাব ও পিপলস পার্ক ফুড সেন্টারে বয়স্ক পুরুষদের ক্রেতাদের উচ্ছিষ্ট খাবার সংগ্রহ বা খেতে দেখা গেছে।
- ৮৪ বছর বয়সী ওয়াং বলেছেন, খাবার কেনার সামর্থ্য তাঁর আছে এবং অপচয় অপছন্দ করেন বলে তিনি উচ্ছিষ্ট খাবার খান।
- ২০২২ সালের নভেম্বরের এক প্রতিবেদনে পিপলস পার্কে অন্তত সাতজন নিয়মিত খাবার সংগ্রহকারীর কথা বলা হয় এবং তাঁদের শনাক্ত করে সহায়তা দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের কথা জানানো হয়।
- এসএফএ বলেছে, ৫° সেলসিয়াস থেকে ৬০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়া সবচেয়ে দ্রুত বাড়ে এবং পরিবেশনের আগ পর্যন্ত রান্না করা গরম খাবার ৬০° সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় রাখতে পরামর্শ দিয়েছে।
- টেবিলে পড়ে থাকা খাবার কতক্ষণ সংরক্ষিত ছিল, কীভাবে সামলানো হয়েছে এবং দূষিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে; বিশেষ করে পরে খাওয়ার জন্য বাড়িতে নিয়ে গেলে।






