অদৃশ্য দূষণের পরিচিত তুলনা
১৪ অক্টোবর বিকেল ৪টায় নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জি হেংয়ের তৈরি একটি ওয়েবসাইট হিসাব করে দেখায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় সিঙ্গাপুরের গড় সূক্ষ্ম কণা দূষণের সংস্পর্শে থাকা মোটামুটি ৪.৪টি সিগারেট খাওয়ার সমান। এর দ্বিতীয় হিসাবটি ছিল আরও লক্ষণীয়: সর্বশেষ ঘণ্টার দূষণের মাত্রা যদি পুরো এক দিন স্থায়ী হতো, তাহলে তা ৯.৪টি সিগারেটের সমতুল্য হতো।
সূচিপত্র
- অদৃশ্য দূষণের পরিচিত তুলনা
- ধোঁয়াশার মাত্রা কীভাবে সিগারেটের সংখ্যায় রূপ নেয়?
- ধোঁয়াশার বিভিন্ন পরিমাপ কেন বিভ্রান্তিকর হতে পারে
- পাঁচ অঞ্চল ও ঘণ্টাভিত্তিক হালনাগাদ
- স্কুলগুলো দিনের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনছিল
- কখন স্কুল বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে?
- যে তারিখগুলো পরিবারের নজরে রাখা দরকার ছিল
- রসিকতা থেকে জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ
- মূল বিষয়গুলো
২১ বছর বয়সী ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের শিক্ষার্থী জি হেং How Much Haze Have You Smoked Today? তৈরি করেছেন, যাতে বাইরে যাওয়ার আগে মানুষ যে সংখ্যাগুলো দেখে, সেগুলো বুঝতে পারে। তিনি এক সপ্তাহে নিজেই এটি তৈরি করেন। শুরুতে তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের জন্য বানিয়েছিলেন, যাঁরা সিঙ্গাপুরের ধোঁয়াশা-সংক্রান্ত নানা পরিমাপকে বিভ্রান্তিকর মনে করতেন।
রেডিটে শেয়ার করার পর ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ক্যালকুলেটরটি দিনে প্রায় ২,০০০ বার দেখা হয়। এর জনপ্রিয়তার সময়েই সিঙ্গাপুরজুড়ে বাস্তব কিছু পরিবর্তন ঘটে: পশ্চিমাঞ্চলে সূক্ষ্ম কণার ঘনত্ব খুব উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে কয়েকটি স্কুল বাইরের কার্যক্রম বাতিল করে।
ওয়েবসাইটটিতে ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির (এনইএ) সরকারি তথ্য, আঞ্চলিক দূষণের পরিমাপ এবং জি হেংয়ের নিজস্ব হিসাব একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। সিগারেটের সংখ্যাটি একটি আনুমানিক তুলনা, যার ভিত্তি হলো গড় শ্বাস-প্রশ্বাসের হারে বাইরে দূষিত বাতাসের অবিরাম সংস্পর্শ। কেউ কোথায় সময় কাটান এবং কী ধরনের বাতাসে শ্বাস নেন, তার ওপর তাঁর প্রকৃত সংস্পর্শ নির্ভর করে।
ধোঁয়াশার মাত্রা কীভাবে সিগারেটের সংখ্যায় রূপ নেয়?
পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা বার্কলে আর্থের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ঘনমিটারে ২২ মাইক্রোগ্রাম পিএম২.৫-যুক্ত বাতাসে ২৪ ঘণ্টা শ্বাস নেওয়া মোটামুটি একটি সিগারেট খাওয়ার সমতুল্য। দূষণের ঘনত্বকে আরও পরিচিত একটি সংখ্যায় রূপ দিতে জি হেং এই সম্পর্ক ব্যবহার করেন।
পিএম২.৫ বলতে বাতাসে ভাসমান ২.৫ মাইক্রোমিটার বা তার চেয়ে ছোট কণাকে বোঝায়। আকারে ক্ষুদ্র হওয়ায় এগুলো ফুসফুসের গভীরে পৌঁছাতে পারে। প্রতি ঘনমিটারে মাইক্রোগ্রাম এককে ঘনত্ব বোঝায়, নির্দিষ্ট পরিমাণ বাতাসে এই উপাদান কতটা রয়েছে।
হিসাবটি সরল: পুরো দিনের গড় পিএম২.৫ ঘনত্বকে ২২ দিয়ে ভাগ করলে আনুমানিক সিগারেট-সমতুল্য পাওয়া যায়। ওয়েবসাইটের ৪.৪ সংখ্যাটি আগের ২৪ ঘণ্টার হিসাব। আর ৯.৪ সংখ্যাটি ধরে নেয়, সর্বশেষ ঘণ্টার ঘনত্ব একটি কাল্পনিক পুরো দিন ধরে বজায় ছিল।
৯.৪-কে ৪.৪ দিয়ে ভাগ করলে দ্বিতীয় সংখ্যাটি প্রথমটির প্রায় ২.১ গুণ। সহজ ভাষায়, সর্বশেষ ঘণ্টার দূষণ আগের দিনের গড়ের চেয়ে বেশি ছিল। দুটি সংখ্যা ভিন্ন সময়কাল বোঝায়: একটি গত দিনের হিসাব, অন্যটি সর্বশেষ ঘনত্বে পুরো এক দিন থাকলে কী হতে পারত তার হিসাব।
সংস্পর্শের মাত্রা বোঝানোর উপায় হিসেবে জি হেং এই তুলনা তুলে ধরেছেন এবং এর সীমাবদ্ধতা বোঝাতে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা মূল্যায়ন নয়, আনুমানিক হিসাব। বাইরে ধোঁয়াশা যতই থাকুক, ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
ধোঁয়াশার বিভিন্ন পরিমাপ কেন বিভ্রান্তিকর হতে পারে
সিঙ্গাপুরের বাসিন্দারা পলিউট্যান্ট স্ট্যান্ডার্ডস ইনডেক্স (পিএসআই) এবং পিএম২.৫-এর ঘনত্ব, দুই ধরনের পরিমাপই দেখেন। পিএসআই বায়ুর মানকে একটি সূচক-স্কেলে প্রকাশ করে, আর পিএম২.৫-এর পরিমাপ সূক্ষ্ম কণার ঘনত্ব জানায়। তাই একই সময়ের দূষিত বাতাস বোঝালেও সংখ্যাগুলোর অর্থ আলাদা।
সময়কালও বিভ্রান্তি বাড়ায়। এনইএর সরকারি ২৪ ঘণ্টার পিএসআই দীর্ঘ সময়ের পরিস্থিতি প্রতিফলিত করে, আর ঘণ্টাভিত্তিক পিএম২.৫-এর পরিমাপ সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে। ফলে হঠাৎ অবনতি হলে তা ঘণ্টাভিত্তিক সংখ্যায় আরও স্পষ্ট দেখা যেতে পারে।
আরও সহজভাবে তথ্য দেখানোর ইচ্ছার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জি হেং ব্যায়াম করার মতো দৈনন্দিন সিদ্ধান্তের উদাহরণ দেন।
আমার মনে হয়, ২৪ ঘণ্টার পিএসআই অনেকটা রিয়ারভিউ আয়নায় তাকিয়ে গাড়ি চালানোর মতো; এখন দৌড়াতে বের হওয়া উচিত কি না, তা বুঝতে এতে সাহায্য হয় না," তিনি বলেন। "এক ঘণ্টার পিএম২.৫-এর পরিমাপও বেশ ভালো, কিন্তু ২৪ ঘণ্টার পিএসআইয়ের সঙ্গে এর স্কেল আলাদা হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
জি হেংয়ের ওয়েবসাইটে এনইএর সরকারি ২৪ ঘণ্টার পিএসআইয়ের পাশাপাশি তাঁর নিজস্ব এক ও তিন ঘণ্টার পিএসআইয়ের অনুমান দেখানো হয়। এই স্বল্পমেয়াদি হিসাবগুলো পিএম২.৫-এর ঘনত্ব থেকে করা। তাই পাঠকদের প্রতিটি সংখ্যার সময়কাল এবং কে সেটি তৈরি করেছে, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
পাঁচ অঞ্চল ও ঘণ্টাভিত্তিক হালনাগাদ
ট্র্যাকারটি সিঙ্গাপুরের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের দূষণের মাত্রা আলাদা করে দেখায়। দ্বীপের এক অংশে দূষণ অন্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি হলে এই আঞ্চলিক তথ্য কাজে আসে। দ্বীপের গড় হিসাব বিভিন্ন স্থানের পরিস্থিতি একত্র করে, আর আঞ্চলিক পরিমাপ বাসিন্দাদের তাঁদের অবস্থানের কাছাকাছি পরিস্থিতি জানায়।
জি হেং সরাসরি এনইএর অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস বা এপিআই থেকে তথ্য নেন। এপিআইয়ের মাধ্যমে সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, ফলে প্রতিটি নতুন পরিমাপ কাউকে হাতে করে কপি না করলেও তাঁর ওয়েবসাইট হালনাগাদ হয়।
জি হেংয়ের ভাষ্য, সাধারণত প্রতি ঘণ্টার শুরু হওয়ার এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে তথ্য হালনাগাদ হয়। তিনি বলেন, কখনও কখনও এনইএর জনসাধারণের জন্য তৈরি ধোঁয়াশাবিষয়ক ওয়েবসাইট হালনাগাদ হতে প্রায় ১০ মিনিট সময় নিতে দেখেছেন। সময়ের এই তুলনা তাঁর নিজের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে করা।
সরকারি পরিমাপ ও শিক্ষার্থীর নিজস্ব হিসাব পাশাপাশি থাকায় প্রতিটি সংখ্যার পাশের লেবেল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জি হেং বলেন, ব্যবহারকারীরা কী দেখছেন তা বোঝাতে তিনি পরিমাপগুলোর কাছেই সতর্কবার্তা রেখেছেন।
"আমার প্রতিটি পরিমাপের কাছেই বেশ কিছু সতর্কবার্তা দিয়েছি! কাউকে বিভ্রান্ত করা আমার একেবারেই কাম্য নয়," তিনি বলেন।
স্কুলগুলো দিনের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনছিল
১৪ অক্টোবর বিকেল ৩টায় পশ্চিম সিঙ্গাপুরে ঘণ্টাভিত্তিক পিএম২.৫-এর ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ২৮৮ মাইক্রোগ্রামে পৌঁছায়; বিকেল ৪টায় তা ছিল ২৫১। দুটি পরিমাপই ২৫০-এর বেশি, যা খুব উচ্চ ঘনত্বের সীমা।
এই মাত্রায় পরবর্তী এক ঘণ্টা বাইরের কার্যক্রম যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার পরামর্শ দেয় এনইএ। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুস বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাইরের কার্যক্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ম্যারিস স্টেলা হাই স্কুল বাইরের ক্রীড়া কার্যক্রম বাতিল করে, নান হুয়া হাই স্কুল অন্তত একটি সহশিক্ষা কার্যক্রম বাতিল করে এবং পাসির রিস সেকেন্ডারি স্কুল ফুটবল কার্যক্রম বাতিল করে। পাসির রিস সেকেন্ডারি শিক্ষকেদের আরও জানায়, শিক্ষার্থীদের স্কুল-পরবর্তী কার্যক্রম কমিয়ে আনা এবং বিরতির সময় ঘরের ভেতরে খাওয়া উচিত।
সিএইচআইজে (কেলক) অভিভাবকদের জানায়, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর শারীরিক শিক্ষা এবং বাইরে খেলাধুলাসহ সব বাইরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বাসা থেকে খাবার আনা শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে খাবে। আর যারা খাবার কিনবে বা আগে থেকে অর্ডার করা খাবার পাবে, তারা খাওয়ার পর শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবে।
সেন্ট অ্যান্ড্রুজ স্কুল (জুনিয়র) অভিভাবকদের জানায়, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা শারীরিক শিক্ষার পোশাক পরে স্কুলে আসতে পারবে। একসঙ্গে এই পরিবর্তনগুলো দেখায়, ধোঁয়াশার পরিমাপ কীভাবে দৈনন্দিন রুটিনে প্রভাব ফেলে, ক্রীড়া কার্যক্রম থেকে শুরু করে শিশুরা বিরতির সময় কোথায় থাকবে, সবকিছুতেই।
কখন স্কুল বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে?
দৈনন্দিন কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা এবং স্কুল বন্ধের বিষয়টি বিবেচনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওই) আলাদা আলাদা পরিমাপক ব্যবহার করে। দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘণ্টাভিত্তিক পিএম২.৫-এর পরিমাপ বদলাতে পারে বলে সেই অনুযায়ী স্কুলগুলো কার্যক্রমের মাত্রা ও ধরন ঠিক করে। পরের দিনের কার্যক্রমের সিদ্ধান্তে ২৪ ঘণ্টার পিএসআইয়ের পূর্বাভাসও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
১০ অক্টোবর অভিভাবকদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টার পিএসআই ২০০ ছাড়ালে বায়ু পরিশোধক চালু রেখে, বায়ু চলাচলের ভালো ব্যবস্থা আছে এমন আবদ্ধ স্থানে পাঠদান চলবে। স্কুলগুলো বাইরের কার্যক্রম ও ঘরের ভেতরে কঠোর ব্যায়াম বন্ধ রাখবে, স্কুল-পরবর্তী কার্যক্রম কমিয়ে আনবে এবং বিরতির সময় শিক্ষার্থীদের ঘরের ভেতরে খাওয়ার ব্যবস্থা করবে।
শিক্ষামন্ত্রী ডেসমন্ড লি বলেন, পরের দিনের পূর্বাভাস বিপজ্জনক পর্যায়ে গেলে, অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার পিএসআই ৩০০ ছাড়ালে, এমওই স্কুল বন্ধ এবং জাতীয় পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। আগের দিন সন্ধ্যা ৮টার দিকে স্কুল ও এমওইর সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বন্ধের এই ব্যবস্থা এমওইর কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল এবং বিশেষ শিক্ষা স্কুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। জুনিয়র কলেজ, সেন্ট্রালাইজড ইনস্টিটিউট এবং ইন্টিগ্রেটেড প্রোগ্রাম স্কুলের জুনিয়র কলেজ বিভাগ অতিরিক্ত ধোঁয়াশা-সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে খোলা থাকবে।
স্কুল বন্ধ থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা বাড়িতে বসে পড়াশোনা করবে, আর এমওইর কিন্ডারগার্টেনগুলো বাড়িতে করার জন্য কার্যক্রম দেবে। যেসব শিক্ষার্থীর উপস্থিত হওয়া প্রয়োজন, তাদের স্কুল ও পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে গ্রহণ করা হবে। বন্ধের সময় শিক্ষার্থী পরিচর্যা ও কিন্ডারগার্টেন কেয়ার কেন্দ্রগুলো সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
যে তারিখগুলো পরিবারের নজরে রাখা দরকার ছিল
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, ঘণ্টাভিত্তিক পরিমাপের অবনতি এবং স্কুলের কার্যক্রমে নির্ধারিত পরিবর্তনগুলো ধারাবাহিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল:
- ১০ অক্টোবর: ২৪ ঘণ্টার পিএসআই ২০০ ছাড়ালে স্কুলে কী সতর্কতা নেওয়া হবে, তা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। কোন পরিস্থিতিতে স্কুল বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে, তা ডেসমন্ড লি ব্যাখ্যা করেন।
- ১৪ অক্টোবর, বিকেল ৩টা: পশ্চিম সিঙ্গাপুরে ঘণ্টাভিত্তিক পিএম২.৫-এর পরিমাপ প্রতি ঘনমিটারে ২৮৮ মাইক্রোগ্রামে পৌঁছায়।
- ১৪ অক্টোবর, বিকেল ৪টা: পশ্চিমাঞ্চলে পরিমাপ ছিল ২৫১। শিক্ষার্থীর ট্র্যাকার আগের দিনের জন্য ৪.৪টি সিগারেটের সমতুল্য দেখায়, আর সর্বশেষ ঘণ্টার মাত্রা ২৪ ঘণ্টা বজায় থাকলে দেখায় ৯.৪।
- ১৫ ও ১৬ অক্টোবর: সিএইচআইজে (কেলক) বাইরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময় নির্ধারণ করে।
- আগের দিন সন্ধ্যা ৮টার দিকে: পরের দিন স্কুল বন্ধ রাখার কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা ঘোষণার জন্য এমওইর নির্ধারিত সময়।
উল্লেখিত স্কুলগুলোর পদক্ষেপ ছিল কার্যক্রম বাতিল ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা; ব্যাপকভাবে স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নির্ভর করত পূর্বাভাস ও মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর। তাই পরিবারের সদস্যদের দূষণের পরিমাপের পরিবর্তনের পাশাপাশি স্কুলের বার্তার দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন ছিল।
রসিকতা থেকে জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ
জি হেং বলেন, সিগারেট ক্যালকুলেটরটি বন্ধুদের মধ্যে রসিকতা হিসেবে শুরু হয়েছিল এবং প্রথমে এটি ছিল একটি গৌণ ফিচার। পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়ে তিনি ওয়েবসাইটটি আরও বেশি মানুষের সঙ্গে শেয়ার করেন।
নিজে কখনও ধূমপান করেননি বলে জানানো এই শিক্ষার্থী আশা করেন, তুলনাটি তরুণদের ধোঁয়াশাকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে সাহায্য করবে। তাঁর লক্ষ্য হলো, দূষণের অপরিচিত একটি পরিমাপকে এমন কিছুর সঙ্গে তুলনা করা, যার বিপদ মানুষ আগে থেকেই চেনে।
ধূমপানের বিরোধিতার কথা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জি হেং এই উদ্দেশ্যের কথা বলেন।
আমি ধূমপান না করার পক্ষে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। ধোঁয়াশাকে সিগারেটের সঙ্গে তুলনা করাটা সত্যিই কিছুটা পরিহাসের মনে হয়। তবে হয়তো ধোঁয়াশাকে সিগারেটের মতোই বিপজ্জনক হিসেবে দেখা উচিত, কারণ আমার মনে হয় কিছু তরুণ ধোঁয়াশার বিপদকে কম করে দেখছে।
ধোঁয়াশা কেটে যাওয়ার পরও অনির্দিষ্টকাল ওয়েবসাইটটি চালু রাখার পরিকল্পনা তাঁর। বাসিন্দাদের জন্য এর প্রধান ব্যবহারিক অবদান হলো, এক জায়গায় একাধিক পরিমাপ তুলে ধরা এবং দূষণের মাত্রাকে পরিচিত একটি মাপকাঠির সঙ্গে তুলনা করা। পরিস্থিতির অবনতি হলে কী করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয় সরকারি স্বাস্থ্য পরামর্শ ও স্কুলের ঘোষণা।
মূল বিষয়গুলো
- এনটিইউর শিক্ষার্থী জি হেং দূষণের পরিমাপ সহজে বোঝানোর জন্য এক সপ্তাহে ধোঁয়াশা ট্র্যাকারটি তৈরি করেন।
- ১৪ অক্টোবর বিকেল ৪টায় ট্র্যাকারটি আগের ২৪ ঘণ্টার জন্য ৪.৪টি সিগারেটের সমতুল্য দেখায়; সর্বশেষ ঘণ্টার মাত্রা পুরো এক দিন স্থায়ী হলে দেখায় ৯.৪।
- এই তুলনায় বার্কলে আর্থের হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে: প্রতি ঘনমিটারে ২২ মাইক্রোগ্রাম পিএম২.৫-যুক্ত বাতাসে ২৪ ঘণ্টা থাকলে তা একটি সিগারেটের সমতুল্য।
- ওয়েবসাইটটি এনইএর তথ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীর নিজস্ব এক ও তিন ঘণ্টার পিএসআইয়ের হিসাব একত্র করে।
- পশ্চিম সিঙ্গাপুরে ঘণ্টাভিত্তিক পিএম২.৫-এর মাত্রা খুব উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে স্কুলগুলো বাইরের কার্যক্রম কমিয়ে আনে।
- পরের দিনের ২৪ ঘণ্টার পিএসআইয়ের পূর্বাভাস ৩০০ ছাড়ালে এমওই স্কুল বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে; আগের দিন সন্ধ্যা ৮টার দিকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।






