২০২৭ সালের উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোটের ফর্মুলা চূড়ান্ত, কংগ্রেস চায় ১৭৫ থেকে ২০০ আসন: সপা সাংসদ

পড়তে 10 মিনিট
SP MP Says INDIA Bloc Formula Is Set for 2027 UP Polls as Congress Seeks 175 to 200 Seats

আসন বণ্টন বাকি থাকলেও জয়ের ফর্মুলা চূড়ান্ত বলে দাবি

সমাজবাদী পার্টির (সপা) সাংসদ রামাশঙ্কর রাজভর ‘বিদ্যার্থী’ বলেছেন, ২০২৭ সালের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোটের ফর্মুলা চূড়ান্ত হয়েছে। তবে কংগ্রেস রাজ্যের ৪০৩টি আসনের মধ্যে ১৭৫ থেকে ২০০টিতে লড়তে চাইছে এবং দলটির নেতারা বলছেন, এ নিয়ে আরও আলোচনা হবে।

সূচিপত্র
  1. আসন বণ্টন বাকি থাকলেও জয়ের ফর্মুলা চূড়ান্ত বলে দাবি
  2. বিধানসভায় বড় অংশ চাইছে কংগ্রেস
  3. এই আলোচনায় জয়ের সম্ভাবনা কীভাবে বিচার করা হবে?
  4. দুই নির্বাচনের ফল দুই দলের যুক্তিকে শক্তি জোগায়
  5. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন শীর্ষ নেতারা
  6. আলোচনা যেভাবে এগিয়েছে
  7. সংগঠন পুনর্গঠনের সঙ্গে নিজেদের দাবি যুক্ত করছে কংগ্রেস
  8. ছোট দলগুলো নির্বাচনী সমীকরণ জটিল করছে
  9. ইশতেহার ঘোষণায় নতুন কী আসবে
  10. মূল কথা

লোকসভায় সেলেমপুরের প্রতিনিধিত্বকারী রাজভর বলেন, প্রতিটি দল সেই আসনগুলোতে লড়বে, যেখানে তাদের জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, বিস্তারিত শিগগিরই জানানো হবে এবং সপা ২৬ নভেম্বর নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করবে।

দলগুলোর প্রকাশ্য অবস্থান থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এখনো বাকি থাকার ইঙ্গিত মেলে: দুই দল আসন বণ্টনে কোনো সমঝোতার কথা ঘোষণা করেনি। রাজভর নিজেই বলেছেন, শীর্ষ নেতারা আসন নির্ধারণ করবেন। অন্যদিকে, কংগ্রেসের উত্তর প্রদেশবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম বলেছেন, আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা করতে দুই দলের নেতৃত্ব বৈঠকে বসবে।

সংখ্যার ভিত্তিতে প্রাপ্যতা নয়, বরং নির্বাচনী সক্ষমতার কথা তুলে ধরে রাজভর এই পদ্ধতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন:

সমাজবাদী পার্টি সেই আসনগুলোতে লড়বে, যেখানে জয়ের সক্ষমতা তাদের আছে, আর কংগ্রেস লড়বে সেই আসনগুলোতে, যেখানে জয়ের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই নির্বাচনে নির্দিষ্ট কতটি আসনে লড়া হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়; জয়ই গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনায় কংগ্রেস কতটি আসন পাবে, সেই সংখ্যার পাশাপাশি কোন কোন আসন তারা দাবি করতে পারবে, সেটিও রয়েছে। কংগ্রেসের তালিকায় এমন কিছু আসন আছে, যেখানে বর্তমানে সপা বিধায়ক রয়েছেন। সম্ভাব্য কংগ্রেস প্রার্থীদের সম্পর্কেও তথ্য চায় সপা। ফলে সংখ্যাগত দাবি নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়েও গড়িয়েছে।

বিধানসভায় বড় অংশ চাইছে কংগ্রেস

গৌতম বলেন, শুক্রবার তাঁর মন্তব্যের কয়েক দিন আগে কংগ্রেস তাদের প্রাথমিক তালিকা সপা নেতাদের দিয়েছে। তিনি নির্দিষ্ট দাবি না জানিয়ে একটি পরিসর তুলে ধরেন:

সঠিক সংখ্যা বলতে পারছি না, তবে আমরা ১৭৫ থেকে ২০০টি আসনের তালিকা জমা দিয়েছি।

১৭৫ থেকে ২০০টি আসনে লড়ার সুযোগ পেলে বিধানসভার মোট ৪০৩টি আসনের প্রায় ৪৩% থেকে ৫০% পাবে কংগ্রেস। এতে সপা ও অন্য শরিকদের জন্য ২০৩ থেকে ২২৮টি আসন থাকবে। ফলে বিরোধী জোটের নেতৃত্বে কার কতটা ভূমিকা থাকবে, সে বিষয়ে এই দাবি একটি বড় সিদ্ধান্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জমা দেওয়া তালিকার বর্ণনাও ভিন্ন ভিন্ন। কিছু বিবরণে কংগ্রেস সূত্র তালিকায় প্রায় ১৭০টি আসনের কথা বলেছে, অন্য একটি বিবরণে সংখ্যাটি ১৮০। আর গৌতম প্রকাশ্যে ১৭৫ থেকে ২০০টির কথা বলেছেন। ব্লক উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্নাতক আসনের বিধান পরিষদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর অখিলেশ যাদব ১৭০টি আসন নিয়ে আলোচনার কথা স্বীকার করেন। তবে তিনিও বিজেপিকে হারানোর লক্ষ্যেই জোর দেন।

কংগ্রেস সূত্র আলোচনায় দলের সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কেও ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেছে। কেউ বলেছেন, ১১৫ থেকে ১২০টির কম আসন নিতে দলটি অনিচ্ছুক; অন্যরা ৮০ থেকে ৯০টি আসনে সমঝোতার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। সপার অভ্যন্তরে ৫০ থেকে ৮০টি আসনের কথা আলোচিত হয়েছে, যার মধ্যে আরও সীমিতভাবে ৬০ থেকে ৭০টির প্রস্তাবও রয়েছে। এই সীমিত প্রস্তাব কংগ্রেসকে জানানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।

দুই দল একসঙ্গে লড়ার বিস্তৃত অঙ্গীকার করলেও আসন বণ্টন নিয়ে কঠিন দর-কষাকষি কেন চলছে, তা এই ভিন্ন ভিন্ন পছন্দ থেকেই বোঝা যায়। কংগ্রেস দলীয় উপস্থিতি পুনর্গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন চায়; সপা এমন আসন ধরে রাখতে চায়, যেখানে তাদের ধারণা, তাদের প্রার্থীদের অবস্থান শক্তিশালী।

এই আলোচনায় জয়ের সম্ভাবনা কীভাবে বিচার করা হবে?

সপার প্রস্তাবিত মাপকাঠি সরল: যে শরিক কোনো আসনে জয়ের জন্য সবচেয়ে ভালো অবস্থানে, আসনটি তাদেরই দেওয়া হোক। এই মাপকাঠি প্রয়োগ করতে প্রার্থী, স্থানীয় সংগঠন, আগের ভোটের ধারা এবং জনসমর্থন নিয়ে সমঝোতা দরকার।

নির্বাচনী সম্ভাবনা ও সাংগঠনিক শক্তি বিবেচনায় কংগ্রেস তাদের পছন্দের আসনগুলোকে এ, বি, সি ও ডি—এই চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে। দলীয় সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘এ’ শ্রেণিতে সমঝোতার সুযোগ কম, ‘বি’ শ্রেণিতে কিছুটা সমন্বয়ের সুযোগ আছে এবং ‘সি’ ও ‘ডি’ শ্রেণির আসনগুলোতে দর-কষাকষির সুযোগ বেশি।

সপা কংগ্রেসের কাছে চাওয়া আসনগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম জানাতে বলেছে। তাদের নেতাদের যুক্তি, আসন বণ্টন আংশিকভাবে নির্ভর করা উচিত কে আসলে নির্বাচনে লড়বেন তার ওপর। কংগ্রেস প্রতিনিধিরা আপত্তি জানিয়েছেন যে নামগুলো জানালে তা তাদের দলের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ হবে।

আরেকটি সমস্যা হলো, কংগ্রেসের তালিকায় থাকা প্রায় এক ডজন আসনে সপার বর্তমান বিধায়ক রয়েছেন। কংগ্রেস নেতাদের দাবি, ২০২৭ সালে ওই আসনগুলোতে তাদের দলের জয়ের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, সপা নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ওই আসন ছেড়ে দেওয়া তাদের জন্য বিশেষভাবে কঠিন হবে।

তাই কোনো বর্তমান বিধায়কের জন্য জোটের চুক্তির অর্থ হতে পারে, একই দলের প্রতীক নিয়ে আবার নির্বাচনে লড়ার সুযোগ হারানো। স্থানীয় কংগ্রেস কর্মীদের ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করতে পারে, বছরের পর বছর সংগঠনের কাজের পর তারা নিজেদের দলের প্রার্থী পাবেন, নাকি শরিক দলের প্রার্থীর হয়ে প্রচার করবেন।

বিজ্ঞাপন

দুই নির্বাচনের ফল দুই দলের যুক্তিকে শক্তি জোগায়

২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচন সপার সবচেয়ে শক্তিশালী সংখ্যাগত যুক্তি। কংগ্রেস এককভাবে ৩৯৯টি আসনে লড়ে দুটিতে জয়ী হয়; ভোটের হার ছিল ২.৩৩%। সপা ছোট শরিকদের সঙ্গে জোট করে ১১১টি আসনে জয়ী হয় এবং প্রায় ৩৬% ভোট পায়।

২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস সপার সঙ্গে জোট করে ১১৪টি আসনে লড়ে সাতটিতে জয় পেয়েছিল। ২০২২ সালে আসনসংখ্যা কমে দুটিতে নেমে আসায় সপা নেতারা প্রার্থী ও স্থানীয় শক্তি নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য মূল্যায়ন ছাড়া কংগ্রেসকে বড় অংশ দিতে সতর্ক।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন কংগ্রেসের জন্য তুলনামূলকভাবে আশাব্যঞ্জক সূচনা এনে দিয়েছে। উত্তর প্রদেশে দলটি ছয়টি লোকসভা আসনে জয়ী হয়, আর সপা জেতে ৩৭টিতে। দুই দলের মোট ৪৩টি আসন বিজেপির ৩৩টির চেয়ে ১০টি বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৩৮টি বিধানসভা অংশে এগিয়ে ছিল এবং আরও ৪২টিতে দ্বিতীয় হয়েছিল। একটি বিধানসভা অংশ হলো কোনো লোকসভা আসনের সেই অংশ, যা রাজ্যের একটি বিধানসভা আসনের সঙ্গে মেলে। এই দুই সংখ্যা মিলিয়ে ৮০টি এলাকা চিহ্নিত হয়, যেখানে এগিয়ে থাকা বা দ্বিতীয় হওয়ার ভিত্তিতে আলোচনার দাবি তুলছে কংগ্রেস।

গৌতম লোকসভা নির্বাচনে জোটের সাফল্যের কৃতিত্ব রাহুল গান্ধীর প্রভাব এবং কংগ্রেসের শক্তিশালী সংগঠনকে দিয়েছেন। সপা তাদের তুলনামূলকভাবে অনেক বড় বিধানসভাগত উপস্থিতির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই ২০২৭ সালের প্রার্থী বাছাইয়ে ২০২২ সালের রাজ্য নির্বাচন ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলকে প্রতিটি দল কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তার ওপরও আলোচনা নির্ভর করছে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন শীর্ষ নেতারা

অখিলেশ যাদব প্রকাশ্যে বলেছেন, দুই দলের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পরস্পরবিরোধী না ধরে উভয় দলকে শক্তিশালী করা উচিত। শুক্রবার লখনউয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সপা সভাপতি ও উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেন:

কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য হলো বিজেপিকে সরানো। বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আমরা মানুষকে বিষয়টি বোঝাব, এবং তা করব। বিজেপিকে হারাতে জোট কার্যকরভাবে এগিয়ে যাবে।

সপার রাজ্যসভার সাংসদ জাভেদ আলিও বলেছেন, জোট ও আসন বণ্টন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন শীর্ষ নেতৃত্ব। সপা মুখপাত্র ফখরুল হাসান চান্দ বলেছেন, জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে এবং দিল্লি ও লখনউয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত হবে।

বিজ্ঞাপন

চূড়ান্ত দর-কষাকষিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি অখিলেশ যাদব এবং সপার জ্যেষ্ঠ নেতা রামগোপাল যাদব অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র কংগ্রেসের উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং রাজ্য সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

কংগ্রেস মুখপাত্র অংশু अवस्थী বলেছেন, জোট বজায় রাখা নিয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই। মতবিরোধের মূল বিষয় হলো জোটের শর্ত। সপা সাংসদ শিব পাল সিং প্যাটেলের যুক্তি, কংগ্রেসকে ৫০টি আসন দিলেও জয়ের সম্ভাবনাময় আসন হাতছাড়া হতে পারে। অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ এমন সমঝোতার পক্ষে কথা বলেছেন, যাতে তার দলের রাজনৈতিক পরিসর সুরক্ষিত থাকে।

আলোচনা যেভাবে এগিয়েছে

আলোচনার পাশাপাশি সাংগঠনিক পরিবর্তন, নেতৃত্বের বৈঠক এবং আসন নিয়ে ক্রমেই প্রকাশ্য দাবিদাওয়া সামনে এসেছে। শুরুতে দ্রুত সমঝোতার দাবি থেকে আসন ও প্রার্থী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বিতর্কটি কীভাবে এগিয়েছে, তা এই ধারাবাহিকতা দেখায়।

  • ২১ সেপ্টেম্বর: সাহারানপুরের সাংসদ ইমরান মাসুদ প্রকাশ্যে অখিলেশ যাদবকে দ্রুত জোট চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান।
  • ২ অক্টোবর: সাংগঠনিক রদবদলের অংশ হিসেবে কংগ্রেস মাসুদকে উত্তর প্রদেশের কার্যকরী সভাপতি নিয়োগ করে।
  • ৩ অক্টোবর: রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পর স্বামী প্রসাদ মৌর্য ঘোষণা করেন, তাঁর আপনি জনতা পার্টি ইন্ডিয়া জোটে যোগ দেবে।
  • ১৩ অক্টোবর: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র সপা সাংসদ রাজীব রাইয়ের সঙ্গে কংগ্রেসের আসন তালিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
  • ১৯ অক্টোবর: প্রিয়াঙ্কা রাজ্য কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে শুধু মোট আসন নয়, আসনগুলোর মানের ওপর গুরুত্ব দিতে বলেন।
  • ২৩ অক্টোবর: কংগ্রেসের আসন শ্রেণিবিভাগ এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে বিরোধের বিস্তারিত সামনে আসে।
  • ২৬ নভেম্বর: রাজভর বলেন, সপা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করবে।
  • ২০২৭ সালের শুরুর দিকে: উত্তর প্রদেশে পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা।

বুধবার গৌতম বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার তিনি জমা দেওয়া তালিকা ও নেতৃত্ব পর্যায়ে পরবর্তী আলোচনার কথা বলেন। শনিবার রাজভরের ফর্মুলা চূড়ান্ত হওয়ার দাবির সঙ্গেই ছিল তাঁর এই বক্তব্য যে আসনের চূড়ান্ত বণ্টন দলীয় নেতারা নির্ধারণ করবেন।

প্রার্থীদের প্রস্তুতির সময় দিতে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করতে চেয়েছিল কংগ্রেস। এটি ছিল সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য দলের নির্ধারিত লক্ষ্য। আর সপা ইশতেহার প্রকাশের তারিখ হিসেবে রাজভর ২৬ নভেম্বরের কথা বলেছেন।

সংগঠন পুনর্গঠনের সঙ্গে নিজেদের দাবি যুক্ত করছে কংগ্রেস

সব ৪০৩টি বিধানসভা আসনে সংগঠন শক্তিশালী করতে ‘সংগঠন সৃজন’ উদ্যোগ নিয়েছে কংগ্রেস। আসনের শ্রেণিবিভাগ এই কাজ এবং স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা মতামতের সঙ্গে যুক্ত।

বিজ্ঞাপন

পূর্বাঞ্চল ও আওধ হয়ে বলিয়া থেকে মিরাট পর্যন্ত একটি প্রস্তাবিত রাজনৈতিক পদযাত্রারও পরিকল্পনা করছে দলটি। কংগ্রেস নেতারা সংবিধান ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে প্রচারের বিষয় করতে চান। তাদের দাবি, দলিত ভোটার, সংখ্যালঘু এবং যাদব নন—এমন অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে তারা সম্ভাবনা দেখছেন।

প্রস্তুতির আরেকটি অংশ হলো নেতৃত্বে পরিবর্তন। মাসুদের নিয়োগের পাশাপাশি কংগ্রেস রাজ্য সভাপতি অজয় রাইয়ের বদলে বিধায়ক আরাধনা মিশ্র ‘মোনা’কে দায়িত্ব দিয়েছে। কয়েকজন দলীয় নেতা এই পরিবর্তনের সঙ্গে সপার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টার সম্পর্ক দেখিয়েছেন এবং সপা নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন।

প্রার্থীদের জনসমর্থন ও দীর্ঘদিনের প্রচার চালানোর আর্থিক সক্ষমতাও বিবেচনা করছে কংগ্রেস। দলের এক কর্মকর্তা বলেছেন, আর্থিক সংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া পদ্ধতিতে ব্যতিক্রম করে সাধারণ পটভূমি থেকে আসা শক্তিশালী প্রার্থীদেরও সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

২০২২ সালের নির্বাচনী প্রচারে কংগ্রেস কিছু প্রার্থীকে ৭০ লাখ রুপি পর্যন্ত দিয়েছিল এবং পরে অভিযোগ এসেছিল যে অর্থ পুরোপুরি নির্বাচনী কাজে ব্যয় করা হয়নি। এমন বিবরণের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পুরো সময় সক্রিয় থাকতে পারবেন, এমন প্রার্থী চায় দলটি। কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রার্থী দিতে পারবে—এমন প্রমাণ চাওয়া সপার দাবির সঙ্গেও এই উদ্বেগ মিলে যায়।

ছোট দলগুলো নির্বাচনী সমীকরণ জটিল করছে

বিজেপির নেতৃত্বে রয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট। ২০১৭ সালে উত্তর প্রদেশে ক্ষমতায় আসার পর আরেকটি মেয়াদের জন্য চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। জোটে রয়েছে রাষ্ট্রীয় লোক দল, আপনা দল (এস), নিষাদ পার্টি এবং সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি।

এই দলগুলোর মধ্যে দুটি—রাষ্ট্রীয় লোক দল ও সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি—২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সপার সঙ্গে লড়েছিল, পরে তারা এনডিএতে যোগ দেয়। তাদের এই অবস্থান পরিবর্তনের ফলে ২০২৭ সালের আলোচনা আগের রাজ্য নির্বাচনের তুলনায় ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হচ্ছে।

আম আদমি পার্টির নেতা সঞ্জয় সিং এবং নিষাদ পার্টির প্রধান সঞ্জয় নিষাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে সপা। আম আদমি পার্টি ইন্ডিয়া জোটের বাইরে, আর নিষাদ পার্টি এনডিএর শরিক। সঞ্জয় নিষাদ ও সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির নেতা ওম প্রকাশ রাজভর ক্ষমতাসীন জোট ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি।

স্বামী প্রসাদ মৌর্যের আপনি জনতা পার্টি ইন্ডিয়ায় যোগ দেওয়ার ঘোষণায় বিরোধী পক্ষের আলোচনায় আরেক সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী যুক্ত হয়েছে। বহুজন সমাজ পার্টি আলাদা একটি নির্বাচনী শক্তি হিসেবেই রয়েছে।

প্রতিটি নতুন শরিকের জন্য সীমিত সংখ্যক আসনের মধ্যে আরেকটি দাবি তৈরি হয়। কংগ্রেসের দাবি বিধানসভার প্রায় অর্ধেক আসনের কাছাকাছি গেলে, সপাকে নিজেদের প্রার্থীদের পাশাপাশি ছোট দলগুলোকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ভারসাম্য রাখতে হবে। এসব সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে কোন স্থানীয় নেতারা প্রার্থী হবেন, কারা সরে দাঁড়াবেন এবং প্রতিটি আসনে বিরোধীদের প্রচার কতটা ঐক্যবদ্ধ হবে।

বিজ্ঞাপন

ইশতেহার ঘোষণায় নতুন কী আসবে

রাজভর বলেছেন, সপার ইশতেহারের প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং এতে জনজীবনের জরুরি বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। তিনি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ২৬ নভেম্বর ঘোষণা করেছেন, তবে তাঁর বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতির কথা বলেননি।

ইশতেহার এলে আসন বণ্টনের আলোচনার বাইরে গিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো সামনে আসবে। আপাতত জনপরিসরের আলোচনায় জোটের কাঠামোই প্রাধান্য পাচ্ছে: কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত কত আসন পাবে, কোন আসনগুলো পাবে, প্রার্থী বাছাই এবং সপার বর্তমান বিধায়কদের আসন নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি।

পরবর্তী বড় অগ্রগতি হবে নেতৃত্বের এমন ঘোষণা, যাতে সমঝোতায় নির্ধারিত আসনগুলোর নাম থাকবে অথবা আলোচনা কীভাবে এগোবে তা ব্যাখ্যা করা হবে। এতে প্রার্থী ও স্থানীয় দলীয় সংগঠনগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতির বাস্তব ভিত্তি পাবে। পাশাপাশি রাজভরের ভাষ্য অনুযায়ী, সপা তাদের নীতিগত কর্মসূচিও উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত।

মূল কথা

  • সপা সাংসদ রামাশঙ্কর রাজভরের দাবি, ইন্ডিয়া জোটের ফর্মুলা চূড়ান্ত; প্রতিটি দল যেখানে জয়ের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে লড়বে।
  • কংগ্রেস নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম বলেছেন, উত্তর প্রদেশের ৪০৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৭৫ থেকে ২০০টির তালিকা জমা দিয়েছে তাঁর দল।
  • দুই দল আসন বণ্টনে সমঝোতার কথা ঘোষণা করেনি; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শীর্ষ নেতাদের হাতে রয়েছে।
  • আলোচনায় রয়েছে প্রার্থীদের নাম, আসনের শ্রেণিবিভাগ এবং সপা বিধায়কদের দখলে থাকা প্রায় এক ডজন আসন।
  • ২০২২ সালে কংগ্রেস জিতেছিল দুটি বিধানসভা আসন, সপা ১১১টি। ২০২৪ সালে উত্তর প্রদেশে দুই দল মিলে ৪৩টি লোকসভা আসনে জয়ী হয়।
  • সপার ইশতেহার প্রকাশের তারিখ হিসেবে রাজভর ২৬ নভেম্বর ঘোষণা করেছেন। ২০২৭ সালের শুরুর দিকে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে