বিতর্কিত ঘোষণাপত্র নিয়ে নাম পুনর্বহালের আবেদন
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট দিল্লির ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে শুনানির তারিখ এগিয়ে ২৮ অক্টোবর নির্ধারণ করেছে। দাবি ও আপত্তি জানানোর ৩০ অক্টোবরের সময়সীমার দুই দিন আগে এই শুনানি হবে। আগে নিবন্ধিত যেসব ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তাদের ওপর প্রযোজ্য একটি শর্তকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদনকারীরা এই পদক্ষেপ চেয়েছিলেন। তাদের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে ফর্ম ৬: নিবন্ধন পুনর্বহালের আবেদনকারীদের এমন একটি ঘোষণায় স্বাক্ষর করতে বলা হচ্ছে, যেখানে বলা হয় তারা প্রথমবারের মতো ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করছেন।
সূচিপত্র
- বিতর্কিত ঘোষণাপত্র নিয়ে নাম পুনর্বহালের আবেদন
- সরকারি ফর্ম ৬-এ আসলে কী বলা আছে
- শাস্তির সতর্কবার্তাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
- দিল্লিতে কত ভোটারের নাম বাদ পড়েছে?
- চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রও
- নোটিশ ও তথ্য যাচাই নিয়ে বৃহত্তর মামলা
- আদালতের পদক্ষেপে সময়সীমার প্রভাব
- দিল্লির আবেদনসংক্রান্ত পরিসংখ্যানে কী দেখা যায়
- ২৮ অক্টোবরের শুনানিতে কী বিবেচনা হবে
- মূল বিষয়গুলো
আবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) আগে দিল্লির মোট ভোটারের ৩২.৭৮ শতাংশ, অর্থাৎ ৪,৭৫৬,৭২২ জন ভোটারকে খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অনুপস্থিত বা স্থানান্তরিত ভোটার, মৃত্যু এবং একই নাম একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত থাকার মতো শ্রেণিতে তাদের রাখা হয়েছে। আবেদনকারীদের বক্তব্য, যাঁরা নাম পুনর্বহাল চান, তাঁদের জন্য ফর্ম ৬-ই একমাত্র পথ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আসন্ন সময়সীমার বিষয়টি তুলে ধরার পর শুনানি ৩০ অক্টোবর থেকে এগিয়ে আনে। ভূষণ ও আইনজীবী নেহা রাঠি স্বচ্ছতা বিষয়ক কর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ ও অমৃতা জোহরির পক্ষে আছেন।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আদালত একটি আদেশ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে:
আমরা এমন একটি আদেশ দেওয়ার কথা ভাবছি, যা পরিস্থিতির সমাধান করবে।
এই বিরোধে দুটি বাস্তব সমস্যা একত্র হয়েছে: আগে নিবন্ধিত একজন ভোটার কীভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে পূরণ করবেন এবং দাবি জানানোর সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে তাঁর নাম পুনর্বহালের আবেদন কত দ্রুত বিবেচনা করা যাবে। ভোটার তালিকা হলো নিবন্ধিত ভোটারদের সরকারি তালিকা। নাম পুনর্বহাল চাইলে এমন একটি প্রক্রিয়া দরকার, যা তাঁর পরিস্থিতি যথাযথভাবে নথিভুক্ত করবে এবং কর্মকর্তাদের তাঁর যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ দেবে।
সরকারি ফর্ম ৬-এ আসলে কী বলা আছে
ভারতের নির্বাচন কমিশনের সরকারি ফর্ম ৬-এর শিরোনাম "নতুন ভোটারদের আবেদনপত্র"। এতে ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালার ১৩(১) ও ২৬ নম্বর বিধির উল্লেখ রয়েছে। আবেদনকারীরা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে ফর্মটি জমা দেন।
ফর্মে নাম, একজন আত্মীয়ের বিবরণ, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, বর্তমান ঠিকানা এবং সহায়ক নথিপত্র চাওয়া হয়। ঘোষণাপত্রে ভারতীয় নাগরিকত্ব এবং আবেদনকারী উল্লেখিত ঠিকানায় সাধারণত কত দিন ধরে বসবাস করছেন, সে বিষয়েও বলা আছে।
নির্বাচন কমিশনের ফর্মে নিচের ঘোষণাটি রয়েছে:
আমি প্রথমবারের মতো ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করছি এবং কোনো বিধানসভা কেন্দ্র/লোকসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় আমার নাম নেই।
সংশোধনের সময় যাঁর নাম বাদ পড়েছে, আগে নিবন্ধিত এমন কারও জন্য অসুবিধাটি বাক্যটির প্রথম অংশে। তিনি আবার নিবন্ধনের আবেদন করছেন, অথচ ফর্মে আবেদনটিকে প্রথমবারের আবেদন হিসেবে বর্ণনা করতে বলা হয়েছে।
আদালতে ভূষণ সমস্যাটি এভাবে তুলে ধরেন যে, লোকজনকে ঘোষণা দিতে হচ্ছে তাঁরা আগে কখনো ভোট দেননি। মুদ্রিত ফর্মে অবশ্য ভিন্ন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে: এতে প্রথমবারের মতো ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার কথা বলা হয়েছে। অতীতে ওই ব্যক্তি সত্যিই ভোট দিয়েছিলেন কি না, তা-নির্বিশেষে আগে নিবন্ধিত থাকার বিষয়টিই তাই আবেদনকারীদের আপত্তির কেন্দ্রে।
শাস্তির সতর্কবার্তাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
ফর্ম ৬-এ ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারার বিষয়ে আবেদনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। এতে এমন কোনো বক্তব্য বা ঘোষণার কথা বলা হয়েছে, যা মিথ্যা এবং আবেদনকারী মিথ্যা বলে জানেন বা বিশ্বাস করেন, অথবা সত্য বলে বিশ্বাস করেন না। এতে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান উল্লেখ রয়েছে।
ভরদ্বাজ ও জোহরির যুক্তি, বর্তমান পুনর্বহাল প্রক্রিয়ায় আগে তালিকাভুক্ত ভোটারদের অগ্রহণযোগ্য অবস্থায় ফেলা হচ্ছে। তালিকায় নিজেদের নাম ফেরাতে তাঁদের এমন ভাষায় স্বাক্ষর করতে বলা হচ্ছে, যা তাঁদের পরিস্থিতির ক্ষেত্রে তথ্যগতভাবে ভুল বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনটিতে একে "মৌলিক অসংগতি" বলা হয়েছে।
আইনি সতর্কবার্তার কারণে বিষয়টি নিছক দাপ্তরিক ভুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। স্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদনকারী তাঁর ঘোষণা নিশ্চিত করেন। তাই আবেদনে এমন একটি পথ চাওয়া হয়েছে, যাতে ভোটাররা নিজেদের নিবন্ধনের ইতিহাস সত্যনিষ্ঠভাবে জানাতে পারেন এবং কর্মকর্তারা তাঁদের নাম তালিকাভুক্ত করা উচিত কি না, তা নির্ধারণ করতে পারেন।
আবেদনকারীদের পক্ষে উপস্থিত হয়ে ভূষণ বেঞ্চের কাছে দুটি সম্ভাব্য সমাধানের প্রস্তাব দেন:
ইসি-র উচিত তাঁদের ফর্ম ৮ [স্থানান্তরিত ভোটারদের জন্য] জমা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া, অথবা এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের জন্য নতুন ফর্ম তৈরি করা।
ঠিকানা পরিবর্তন ও সংশোধনের মতো কাজে ফর্ম ৮ ব্যবহার করা হয়। নির্বাচন কমিশনকে উপযুক্ত পুনর্বহাল-ব্যবস্থা তৈরি করতে এবং আগে তালিকাভুক্ত ভোটারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এমন ঘোষণায় স্বাক্ষর করতে না বলতে আবেদনে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিতর্কিত ফর্ম ৬-এর শর্তগুলোর বৈধতা বা বিকল্প প্রক্রিয়া নিয়ে আদালত এখনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।
দিল্লিতে কত ভোটারের নাম বাদ পড়েছে?
আবেদনে বাদ পড়া ৪,৭৫৬,৭২২ জন ভোটারের যে সংখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা সংশোধনের আগে ভোটার তালিকায় থাকা প্রায় প্রতি তিনটি নামের একটির সমান। ৩১ আগস্ট প্রকাশিত খসড়া তালিকায় ভোটার আছেন প্রায় ৯৭ লাখ, যেখানে এই প্রক্রিয়ার আগে ছিলেন আনুমানিক ১ কোটি ৪৫ লাখ।
বাদ পড়া নামগুলোকে এএসডিডি শ্রেণিতে রাখা হয়েছে, যার অর্থ অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা একই নাম একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত। এসব শ্রেণি থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিভিন্ন কারণ বোঝা যায়। যিনি ঠিকানা বদলেছেন, তাঁর নতুন ঠিকানায় নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে। আর একই নাম একাধিকবার থাকার অর্থ একজন ব্যক্তির নাম একাধিক জায়গায় তালিকাভুক্ত।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৪৩ লাখ ৩২ হাজারের বেশি ভোটার স্থানান্তরিত হয়েছেন বা অনুপস্থিত ছিলেন, ২ লাখ ৮২ হাজারের বেশি ভোটার মারা গেছেন এবং ১ লাখ ৪১ হাজারের বেশি ভোটার একাধিক স্থানে নিবন্ধিত ছিলেন। ফলে সবচেয়ে বড় শ্রেণিটি ছিল স্থানান্তরিত বা অনুপস্থিত হিসেবে নথিভুক্ত ব্যক্তিদের।
ভরদ্বাজ ও জোহরির আবেদনে এই প্রক্রিয়ার পর তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা আগে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের আবেদনে এমন একটি পদ্ধতি চাওয়া হয়েছে, যাতে প্রত্যেক আবেদনকারীকে প্রথমবার নিবন্ধন করছেন—এভাবে বিবেচনা না করেই দাবিগুলো যাচাই করা যায়। এতে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা এবং তালিকায় ওই ব্যক্তির আগের অবস্থান, দুই বিষয়ই বিবেচনা করা সম্ভব হবে।
চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রও
আবেদনে এসআইআর নির্দেশিকার অধীনে ফর্ম ৬ ও ৮-এর পাশাপাশি চাওয়া আলাদা একটি ঘোষণাপত্রকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এটি দ্বিতীয় একটি আইনি প্রশ্ন: বিধিবদ্ধ ফর্মে আগে থেকেই থাকা ভাষা এবং অতিরিক্ত নথি চাওয়ার এখতিয়ার—দুটিই একসঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
আবেদন অনুযায়ী, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ২৮ নম্বর ধারায় বিধি তৈরির প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি চালু করা হয়েছে, তাই এর আইনগত কার্যকারিতা নেই। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যুক্ত পুরোনো তথ্য চাওয়ার বিষয়টিও আবেদনকারীরা চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিধিবদ্ধ সংশোধনের বদলে নির্বাহী নির্দেশের মাধ্যমে এসব শর্ত চালু করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শের পর কেন্দ্রীয় সরকার সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ২৮ নম্বর ধারার অধীনে বিধি তৈরি করতে পারে। পরে সেই বিধি সংসদের উভয় কক্ষে পেশ করতে হয়; কক্ষ দুটি চাইলে তা সংশোধন বা বাতিল করতে পারে। সহজ ভাষায়, আবেদনকারীদের যুক্তি হলো, প্রয়োজনীয় আইনি ক্ষমতা ছাড়া প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ নতুন শর্ত যোগ করা যায় না।
আবেদনে ২৬ সেপ্টেম্বরের নির্বাচন কমিশনের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির উল্লেখ রয়েছে। তাতে বলা হয়েছিল, এসআইআর সময়ের বাইরে অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র লাগবে না এবং তখন শুধু ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালায় নির্ধারিত ফর্ম ব্যবহার করা হবে। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির একই উদ্দেশ্যে ভিন্ন নথির শর্ত প্রয়োগের বিরোধিতা করেছেন আবেদনকারীরা।
ভরদ্বাজ ও জোহরি একটি নির্দিষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থাও চেয়েছেন: অন্তর্ভুক্তি বা পুনর্বহালের কোনো আবেদন অন্যথায় বিবেচনাযোগ্য হলে, শুধু এসআইআরের অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র জমা না দেওয়ার কারণে তা খারিজ করা যাবে না। অতিরিক্ত নথি নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অনুরোধে দাবিটি বিবেচনার সুযোগ থাকবে।
নোটিশ ও তথ্য যাচাই নিয়ে বৃহত্তর মামলা
নতুন আবেদনটি ভরদ্বাজ ও জোহরির নির্বাচন কমিশন এবং আরেক বিবাদীর বিরুদ্ধে করা দেওয়ানি রিট পিটিশন নং ১১৮৮/২০২৬-এর অংশ। মূল মামলায় এসআইআরের নোটিশ পাওয়া দিল্লির ভোটারদের নাম এবং প্রতিটি নোটিশ দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
"যৌক্তিক অসংগতি" শনাক্ত করতে ব্যবহৃত মানদণ্ড, সংজ্ঞা, অ্যালগরিদমের পরামিতি এবং কার্যপদ্ধতির নির্দেশিকা প্রকাশ করতে চান আবেদনকারীরা। এ ক্ষেত্রে শব্দটি ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের সময় চিহ্নিত অসংগতিকে বোঝায়। অ্যালগরিদমের পরামিতি হলো কোনো কম্পিউটার প্রক্রিয়া কোন রেকর্ডকে চিহ্নিত করবে, তা নির্ধারণে ব্যবহৃত সেটিং বা নিয়ম।
২২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে জানায়, ভোটারদের কাছে নোটিশ প্রায় "যান্ত্রিকভাবে" পাঠানো হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আদালত অতিরিক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা এবং যৌক্তিক অসংগতি শনাক্তের ভিত্তি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চায়।
খসড়া তালিকার প্রায় ৩৩ লাখ ভোটারকে যৌক্তিক অসংগতি রয়েছে বা মানচিত্রভুক্ত করা যায়নি—এমন শ্রেণিতে রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ সংশোধন প্রক্রিয়ায় তাঁদের সঙ্গে মেলানো যায়নি। এই ধরনের প্রায় ২০ লাখ মামলার যাচাই সম্পন্ন হয়েছিল। গোল করে দেওয়া এই সংখ্যা থেকে হিসাব করলে, প্রতিবেদন অনুযায়ী যাচাই হওয়া সংখ্যার বাইরে প্রায় ১৩ লাখ মামলা তখনো ছিল।
মামলার দুটি অংশ একই প্রক্রিয়ার পরপর দুটি ধাপ নিয়ে। মূল আবেদনে রেকর্ডগুলো কেন চিহ্নিত হয়েছে এবং নোটিশ কেন পাঠানো হয়েছে, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। নতুন আবেদনে বাদ পড়া নাম ফিরিয়ে আনতে চান—এমন ব্যক্তিদের জন্য কার্যকর পথ চাওয়া হয়েছে, যাতে কর্মকর্তারা তাঁদের আবেদন বিবেচনা করতে পারেন।
আদালতের পদক্ষেপে সময়সীমার প্রভাব
দিল্লিতে দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩০ অক্টোবর করা হয়েছিল। মূল মামলার শুনানি বর্ধিত সময়সীমা শেষ হওয়ার দিন ধার্য থাকায় আবেদনকারীরা আগেভাগে শুনানির আবেদন করেন।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো হলো:
- ৩১ আগস্ট: এসআইআর প্রক্রিয়ার পর নির্বাচন কমিশন দিল্লির খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে।
- ১৬ সেপ্টেম্বর: ৪৭ লাখের বেশি নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে ভরদ্বাজ ও জোহরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
- ২২ সেপ্টেম্বর: নোটিশ জারি নিয়ে আদালত প্রশ্ন তোলে এবং যৌক্তিক অসংগতি বিষয়ে সুরক্ষাব্যবস্থা ও ব্যাখ্যা চায়।
- ২৬ সেপ্টেম্বর: এসআইআর সময়ের বাইরে অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র ব্যবহারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়।
- ২৮ অক্টোবর: দিল্লির এসআইআর-সংক্রান্ত আবেদন ও নতুন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
- ৩০ অক্টোবর: দাবি ও আপত্তি দাখিলের বর্ধিত সময়সীমা শেষ হবে।
সংশোধিত শুনানির তারিখে আবেদনকারীদের চাওয়া প্রতিকার বিবেচনার জন্য সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে আদালতের হাতে দুই দিন থাকবে। ভূষণ যুক্তি দেন, ২৮ অক্টোবর শুনানি হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ভোটারদের জন্য সময় খুব কম। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেঞ্চ একটি আদেশ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।
আগের এক শুনানিতে আদালত আরও স্পষ্ট করেছিল যে সংশোধিত ফর্ম ৬-কে তারা সমর্থন বা প্রত্যাখ্যান—কোনোটিই করেনি এবং এর বৈধতা নিয়ে বিচার করেনি। ফলে আসন্ন শুনানিতে বিতর্কিত শর্তগুলোর পাশাপাশি দাবি জানানোর সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে তৈরি হওয়া তাৎক্ষণিক সমস্যাটিও বিবেচনা করা হবে।
দিল্লির আবেদনসংক্রান্ত পরিসংখ্যানে কী দেখা যায়
দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে কর্তৃপক্ষ ফর্ম ৬-এর ২২০,৬৪৫টি আবেদন পেয়েছে। একই সময়ে ফর্ম ৮-এর ৮৩,০০৪টি, ফর্ম ৭-এর ৯,২৪৩টি এবং ফর্ম ৬এ-এর ৩৯৩টি আবেদন পাওয়া গেছে।
ফর্ম ৬-এ ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা হয়, ফর্ম ৮ ঠিকানা পরিবর্তন বা সংশোধনের জন্য এবং ফর্ম ৭ নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে বা নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করতে ব্যবহৃত হয়। বিদেশে বসবাসকারী ভোটারদের নিবন্ধনের জন্য ফর্ম ৬এ। এই সংখ্যাগুলো সংশোধনকালে চলা বিভিন্ন ধরনের কাজের চিত্র তুলে ধরে।
আবেদনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এতে উদ্ধৃত পরিসংখ্যান অনুসারে, ৩১ আগস্ট থেকে ৪ অক্টোবরের মধ্যে ফর্ম ৭-এর ৩,২০০টির বেশি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে; একই সময়ে ফর্ম ৬-এর ৫৬৯টি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রশাসনিক পরিভাষায়, কোনো আবেদনের বিষয়ে কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত সম্পন্ন করলে সেটিকে নিষ্পত্তি বলা হয়।
সময়সীমার আগে নাম পুনর্বহালের সুযোগ নিয়ে আবেদনকারীদের উদ্বেগের মূলে রয়েছে এসব সংখ্যা। আবেদনের পরিমাণ, দাবি যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় সময় এবং আবেদনকারীকে যে ভাষায় স্বাক্ষর করতে হয়—সবকিছুই প্রভাব ফেলে বাদ পড়া কোনো ভোটারের আবেদন দাবি জানানোর প্রক্রিয়ায় দ্রুত নিষ্পত্তি করা যাবে কি না, তার ওপর।
২৮ অক্টোবরের শুনানিতে কী বিবেচনা হবে
আগে নিবন্ধিত ভোটারদের নাম পুনর্বহাল চাওয়ার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা দিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। প্রস্তাবিত বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, যথাযথ ক্ষেত্রে ফর্ম ৮ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া অথবা তাঁদের পরিস্থিতি সঠিকভাবে তুলে ধরে এমন আলাদা ফর্ম বা ঘোষণাপত্র তৈরি করা।
অতিরিক্ত এসআইআর ঘোষণাপত্র এবং পুরোনো ভোটার তালিকার সঙ্গে যুক্ত তথ্য চাওয়ার বিষয়েও বেঞ্চ চ্যালেঞ্জগুলো বিবেচনা করবে। বিতর্কিত অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ার একমাত্র কারণে যোগ্য আবেদন খারিজ না করার দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা।
দিল্লির তাৎক্ষণিক সমস্যাটি সীমিত পরিসরের হলেও এর পরিণতি গুরুত্বপূর্ণ: তালিকায় ফিরতে চাওয়া ভোটারের এমন কাগজপত্র দরকার, যা তাঁর আগের নিবন্ধনের ইতিহাসের সঙ্গে মেলে। বৃহত্তর মামলায় প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচন কমিশন কীভাবে সন্দেহজনক রেকর্ড শনাক্ত করে, নোটিশের ব্যাখ্যা দেয় এবং তার পরের আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করে। ৩০ অক্টোবরের সময়সীমার ঠিক আগে ২৮ অক্টোবরের শুনানিতে এসব বিষয় আদালতের সামনে আসবে।
মূল বিষয়গুলো
- দিল্লির এসআইআর শুনানি ৩০ অক্টোবর থেকে এগিয়ে ২৮ অক্টোবর নির্ধারণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট; দাবি জানানোর সময়সীমা সামনে।
- আবেদনে বলা হয়েছে, সংশোধনের আগে ভোটারদের ৩২.৭৮ শতাংশ বা ৪,৭৫৬,৭২২ জনকে খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
- সরকারি ফর্ম ৬-এ আবেদনকারীকে ঘোষণা দিতে হয় যে তিনি প্রথমবারের মতো ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করছেন।
- ফর্মে সতর্ক করা হয়েছে, জেনেশুনে মিথ্যা ঘোষণা দিলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
- ভরদ্বাজ ও জোহরি উপযুক্ত পুনর্বহাল-প্রক্রিয়া চান এবং অতিরিক্ত এসআইআর ঘোষণাপত্রকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
- বিতর্কিত ফর্ম ৬-এর শর্তগুলোর বৈধতা নিয়ে আদালত এখনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।






