নতুন গ্রাফিকসের পাশাপাশি ফিরছে পরিচিত হাইরুল
নিনটেন্ডো ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর নিনটেন্ডো সুইচ ২-এর জন্য The Legend of Zelda: Ocarina of Time প্রকাশ করবে। ১৯৯৮ সালের এই অ্যাডভেঞ্চারে যুক্ত হচ্ছে নতুন মুভমেন্ট কন্ট্রোল, নতুনভাবে সাজানো ধাঁধা এবং এক অপ্রচলিত সংগীতের সুবিধা: খেলোয়াড়েরা কনসোলের মাইক্রোফোনে সুর গুনগুন করলে লিংক তার ওকারিনায় সেই সুর বাজাবে।
সূচিপত্র
- নতুন গ্রাফিকসের পাশাপাশি ফিরছে পরিচিত হাইরুল
- লিংকের উদ্দেশ্য কী?
- লাফ দেওয়ার সুবিধায় ঘরের ধাঁধা শেখানোর ধরন বদলেছে
- পুরোনো ধাঁধায় নতুন সমাধান
- সমৃদ্ধ পরিবেশে নজর রাখা কঠিনও হতে পারে
- ওকারিনা সাড়া দেবে আপনার নিজের সুরে
- থ্রেডস অব টাইম ও ফোনের সঙ্গী
- বসদের সঙ্গে ফের লড়াই ও অ্যামিবো পুরস্কার
- ৫ নভেম্বরের আগে গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
- মূল বিষয়গুলো
নিনটেন্ডোর অফিশিয়াল গেম পেজে জাপানে ডাউনলোড সংস্করণের দাম ৭,৯৮০ ইয়েন এবং ফিজিক্যাল সংস্করণের দাম ৮,৯৮০ ইয়েন বলা হয়েছে, উভয় দামেই কর অন্তর্ভুক্ত। ফিজিক্যাল সংস্করণটির দাম ডাউনলোড সংস্করণের চেয়ে ১,০০০ ইয়েন বেশি, অর্থাৎ প্রায় ১২.৫ শতাংশ বেশি।
১৪ অক্টোবর প্রকাশিত নতুন পরিচিতিমূলক ভিডিওতে বন্মাদেন নামে একটি জায়গার কথা বলা হয়েছে, যার জাপানি নাম 万魔殿। সেখানে খেলোয়াড়েরা পরাজিত দানবদের সম্পর্কে জানতে এবং আবার ডানজনের বসদের চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন। স্মার্টফোনের সুবিধা ও নতুন অ্যামিবো মূর্তি রিমেকটিকে মূল অ্যাডভেঞ্চারের বাইরেও বিস্তৃত করেছে, যদিও সদ্য ঘোষিত দুটি মূর্তি ২০২৭ সালে প্রকাশের কথা রয়েছে।
পরিবর্তনগুলো অ্যাডভেঞ্চারের ভেতরেও এসেছে। প্রিভিউ সেশনে দেখা গেছে নতুনভাবে সাজানো লাফের চ্যালেঞ্জের আড়ালে লুকানো একটি তলোয়ার, ফরেস্ট টেম্পলে ভিন্ন বিপদসহ একটি লড়াই এবং বিস্তৃত সংলাপ, যাতে হাইরুলের বাসিন্দাদের বলার মতো আরও কথা আছে। লিংক এখন দ্রুত দৌড়াতে, ক্যামেরা অবাধে ঘোরাতে এবং দ্রুত নির্বাচন মেনু দিয়ে সরঞ্জাম বদলাতেও পারবে।
নিনটেন্ডো ৬৪ গেমটিকে নতুন করে হাজির করার পদ্ধতি সম্পর্কে জেলডা সিরিজের প্রযোজক এইজি আওনুমা সংক্ষেপে বলেছেন:
বিশ্বস্ত পুনর্ব্যাখ্যা
প্রিভিউতে দেখা মূল সিদ্ধান্তটির সঙ্গে কথাটি মানানসই: নিনটেন্ডো অ্যাডভেঞ্চারের পরিচিত পথ ধরে রেখেছে, তবে বিভিন্ন ঘর, লড়াই ও সংলাপের ধরন বদলেছে। পুরোনো খেলোয়াড়েরা জায়গাগুলো চিনতে পারবেন, কিন্তু আগের সমাধান মনে থাকলেই সব সময় চলবে না।
লিংকের উদ্দেশ্য কী?
Ocarina of Time-এর শুরু কোকিরি বনে, যেখানে লিংকই একমাত্র ছেলে যার কোনো পরী-সঙ্গী নেই। নাভি এসে তাকে বনের রক্ষক গ্রেট ডেকু ট্রির কাছে নিয়ে গেলে তার জীবন বদলে যায়। শুরুতেই অনুসন্ধান, কথোপকথন, সরঞ্জাম সংগ্রহ ও লড়াইয়ের পরিচয় পাওয়া যায়, এরপর লিংককে পাঠানো হয় বিস্তৃত পৃথিবীতে।
একসময় লিংক ফরেস্টের স্পিরিচুয়াল স্টোন সঙ্গে নিয়ে বন ছেড়ে হাইরুল ক্যাসলের দিকে যায়। সেখানে তার দেখা হয় প্রিন্সেস জেলডার সঙ্গে। তিনি রাজ্যের ওপর আসন্ন বিপদ টের পেয়েছেন এবং একটি পবিত্র রাজ্যে যাওয়ার পথ জানেন।
সেখানে প্রবেশ করতে লাগে তিনটি স্পিরিচুয়াল স্টোন এবং রাজকীয় ধন, ওকারিনা অব টাইমে বাজানো একটি নির্দিষ্ট সুর। বাকি স্টোনগুলোর খোঁজ করতে গিয়ে লিংক ট্রাইফোর্সকে ঘিরে বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ট্রাইফোর্স হাইরুলের দেবতাদের সঙ্গে সম্পর্কিত এক কিংবদন্তির শক্তি।
অ্যাডভেঞ্চারে লিংককে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক, দুই রূপেই দেখা যায়। ডানজনগুলো শত্রু, তালাবদ্ধ দরজা ও ধাঁধায় ভরা আবদ্ধ এলাকা। এগোতে হলে জায়গার বিন্যাস বুঝতে হয় এবং সঠিক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হয়। গুলতি, ধনুক বা অন্য কোনো জিনিস পথ খোলার ক্ষেত্রে লড়াই জেতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
রিমেকটিতে Breath of the Wild বা Tears of the Kingdom-এর মতো স্বাধীনতা নয়, বরং নির্দিষ্ট ধারায় এগোনো আবিষ্কারের পথই রাখা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। নতুন মুভমেন্টের সুবিধায় কখনো কখনো সংক্ষিপ্ত পথ নেওয়া যাবে, যেমন বনের একটি কুঁড়েঘরের ছাদে ওঠা; তবে মূল যাত্রাপথে খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট গন্তব্য ও চ্যালেঞ্জের দিকে পরিচালিত করা হবে।
লাফ দেওয়ার সুবিধায় ঘরের ধাঁধা শেখানোর ধরন বদলেছে
এখন বোতাম চাপলেই লিংক লাফ দিতে পারে এবং হাইরুল ফিল্ডের মতো জায়গায় দ্রুত দৌড়াতে পারে। নিনটেন্ডো ৬৪-এর মূল সংস্করণে উপযুক্ত কিনারার দিকে দৌড়ালে লিংক নিজে থেকেই লাফ দিত। খেলোয়াড়কে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ দেওয়ায় চলাফেরার ধরন যেমন বদলেছে, তেমনি ডিজাইনাররা কী ধরনের কাজ দিতে পারবেন, সেটাও বদলেছে।
প্রিভিউ প্রতিবেদনে বিভিন্ন কন্ট্রোল সেটিংসের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে X বা B বোতামে লাফ দেওয়া এবং Y বোতামে সেটি নির্ধারণের বিকল্প রয়েছে। একটি প্রিভিউতে বলা হয়েছে, স্বয়ংক্রিয় লাফের বদলে বোতাম-নিয়ন্ত্রিত লাফ এসেছে; অন্যটিতে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়েরা পুরোনো কন্ট্রোল পদ্ধতিও রাখতে পারবেন। বিভিন্ন সেশনে যে ব্যবহারিক পরিবর্তনটি দেখানো হয়েছে, তা হলো—লিংক কখন মাটি ছাড়বে, সেটি বেছে নেওয়ার সুযোগ।
ক্যামেরাও বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে। ডান দিকের স্টিক দিয়ে ক্যামেরা অবাধে ঘোরানো যায়, এমনকি ক্যাসল টাউনে, যেখানে মূল গেমে নির্দিষ্ট দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করা হতো। দূরপাল্লার অস্ত্রেও মোশন-এইমিং আছে; কন্ট্রোলার কাত করে লক্ষ্য ঠিক করা যায়।
একটি প্রিভিউতে গেমটি প্রতি সেকেন্ডে ৬০টি ফ্রেমে চলতে দেখা গেছে, অর্থাৎ ওই সেশনে প্রতি সেকেন্ডে ৬০ বার ছবি হালনাগাদ হয়েছে। দ্রুত আইটেম নির্বাচনের সঙ্গে নতুন কন্ট্রোলগুলো সাম্প্রতিক জেলডা গেমগুলোর পরিচিত কিছু কাজকে পুরোনো কাঠামোর এই অ্যাডভেঞ্চারে নিয়ে এসেছে।
পুরোনো ধাঁধায় নতুন সমাধান
কোকিরি সোর্ডের চ্যালেঞ্জটি কন্ট্রোল অনুযায়ী নিনটেন্ডোর ধাঁধা নতুনভাবে সাজানোর একটি প্রাথমিক উদাহরণ। মূল গেমে এর বাক্সটি ছিল গোলাকার পাথর টহল দেওয়া এক গোলকধাঁধার কোণে। তলোয়ারটি পেতে গিয়ে খেলোয়াড়েরা ক্যামেরার অবস্থান বদলানো এবং ত্রিমাত্রিক জায়গায় নিরাপদে চলাচল করতে শিখতেন।
রিমেকে বাক্সটি ঘরের মাঝখানে উঁচু একটি মঞ্চে রাখা হয়েছে, আর পাথরটি সেটিকে ঘিরে গড়ায়। তলোয়ার পেতে খেলোয়াড়দের লাফ দিতে হবে। নতুন মুভমেন্ট শেখার প্রয়োজন হয়, এমন পর্যায়েই ঘরটি এখন খেলোয়াড়দের সেই কাজটি শেখায়।
গ্রেট ডেকু ট্রির ভেতরে ভাসমান একটি মঞ্চ বদলে পরিবেশের সঙ্গে মিশে থাকা ভেঙে পড়া সেতু হয়েছে। প্রিভিউতে দেখা অন্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে একটি পথে কম স্কালটুলা এবং মইয়ের পাশ থেকে লতাগুল্ম সরিয়ে দেওয়া। প্রথম ডানজনটি এখনো লড়াই ও ধাঁধা সমাধানের পরিচয় করায়, তবে বেশ কিছু খুঁটিনাটি বদলে সাজানো হয়েছে।
ফরেস্ট টেম্পলের পরিচিত বিন্যাসের বেশির ভাগ রাখা হলেও নির্দিষ্ট কিছু বাধা বদলানো হয়েছে। ব্লক-ধাঁধার ঘরে একটি লিফট যোগ হয়েছে। আর মশালের মধ্য দিয়ে ছোড়া তীরে একটি সুইচ গলিয়ে ফেলার চ্যালেঞ্জ থেকে ঘূর্ণায়মান স্তম্ভ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তলোয়ারধারী কঙ্কাল-শত্রু স্ট্যালফসের সঙ্গে লড়াইয়ে আরও বড় পরিবর্তন দেখা যায়। মূল গেমের লড়াইয়ের জায়গায় মাঝখানে একটি গর্ত ছিল, যার ওপর দিয়ে শত্রুরা চলাচল করার সময় লিংক পড়ে যেতে পারত। রিমেকে গর্তের বদলে অগভীর অ্যাসিডের পুকুর রাখা হয়েছে। কঙ্কালগুলো সেটি পার হতে পারলেও লিংক এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরিবর্তিত লড়াইয়ে লিংককে কিনারার কাছে থাকতে হয়, তবে পরে আসা শত্রুরা এখন পুরো লড়াইয়ের জায়গা ভরাট করা কোনো মঞ্চে চড়ে না এসে অ্যাসিড থেকে উঠে আসে। চলাচলের সীমাবদ্ধতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় লড়াইয়ের মূল ধারণা পরিচিত থাকলেও এর ধরন বদলে গেছে। নতুন কাটসিনে ফরেস্ট টেম্পলের প্রতিপক্ষদের উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে।
সমৃদ্ধ পরিবেশে নজর রাখা কঠিনও হতে পারে
কোকিরি বনে এখন কাঠের গায়ে নকশা, শ্যাওলা, মাশরুম, বয়ে চলা পানি এবং গাছের ফাঁক দিয়ে আসা আলো দেখা যায়। লিংকের পোশাকে সেলাই, সূচিকর্ম, কাপড় ও চামড়ার খুঁটিনাটি রয়েছে। রিমেকটি কার্টুনধর্মী শৈলী ধরে রেখেও এর পৃষ্ঠতল ও পরিবেশকে অনেক বেশি বিশদ করেছে।
ক্যাসল টাউনে শিল্পনকশার পাশাপাশি অবাধ ক্যামেরা সুবিধাও কাজে লাগে। প্রিভিউতে দেখা রাস্তাগুলোতে পতাকা, ফুল, সন্ধান চেয়ে টাঙানো পোস্টার এবং আস্তাবল রয়েছে; কিছু চরিত্রের অবস্থানও বদলেছে। কথোপকথনে দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো ব্যাখ্যাও যোগ হয়েছে। যেমন, এক দোকানদার বলছে, মিডোর অবরুদ্ধ করে রাখা পথের কারণে পণ্য পুনরায় মজুত করতে সমস্যা হচ্ছে।
ফরেস্ট টেম্পলে মেঝের ওপর কুয়াশা, জীর্ণ স্থাপত্য এবং উজ্জ্বল রঙিন কাচ এর ভৌতিক আবহকে জোরালো করেছে। এসব খুঁটিনাটি ডানজনের বিভিন্ন অংশকে স্বতন্ত্র রূপ দিয়েছে, তবে আঁকাবাঁকা করিডর ও ভূতের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা আগের মতোই আছে।
একটি প্রিভিউ সেশনে বাড়তি খুঁটিনাটির ব্যবহারিক অসুবিধাও দেখা গেছে: একজন খেলোয়াড় প্রয়োজনীয় চাবি রাখা একটি বাক্স চোখ এড়িয়ে ফেলেন এবং এগোতে নির্দেশনা দরকার হয়। সাজসজ্জার সমৃদ্ধি খেলোয়াড়দের পথ দেখানো দৃশ্যমান সংকেতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে। প্রিভিউতে দেখানো এলাকাগুলোতে নিনটেন্ডোর চ্যালেঞ্জ হলো, হাইরুলকে অনুসন্ধানের উপযোগী আকর্ষণীয় করে তোলা, আবার গুরুত্বপূর্ণ জিনিস সহজে খুঁজে পাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা।
ওকারিনা সাড়া দেবে আপনার নিজের সুরে
নিনটেন্ডোর ভাষ্য অনুযায়ী, ওকারিনা এমন এক বাদ্যযন্ত্র, যার শক্তিতে সময় নিয়ন্ত্রণ, পথ খোলা এবং মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে দেওয়া যায়। সুর বাজানো লিংকের মাধ্যমে হাইরুলকে বদলানো ও সমস্যা সমাধানের অংশ, অর্থাৎ অ্যাডভেঞ্চারে সংগীত একটি কার্যকর হাতিয়ার।
রিমেকে শব্দের মাধ্যমে অংশ নেওয়ার নতুন উপায় যোগ হয়েছে। নিনটেন্ডোর গেম পেজ অনুযায়ী, নিনটেন্ডো সুইচ ২-এর বিল্ট-ইন মাইক্রোফোনের দিকে সুর গুনগুন করলে লিংক সেই সুর অনুযায়ী ওকারিনা বাজাবে। আসল বাদ্যযন্ত্রে বাজানো সুরেও ব্যবস্থা সাড়া দেয়।
নিনটেন্ডো সতর্ক করেছে, বাইরের মাইক্রোফোন ব্যবহার করলে শব্দ ঠিকভাবে শনাক্ত নাও হতে পারে। তাই সংগীতভিত্তিক ইনপুট নিয়ে পরীক্ষা করতে চাইলে খেলোয়াড়দের সরঞ্জাম-সংক্রান্ত এই সতর্কতা মাথায় রাখতে হবে।
সেপ্টেম্বরের গেমপ্লে উপস্থাপনাতেও আসল ওকারিনা অব টাইম বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে খেলার নমুনা দেখানো হয়। যন্ত্রটির দুটি ধরন—বাদ্যযন্ত্র সংস্করণ এবং ইলেকট্রিক সংস্করণের—কথা বলা হয়েছে। এসব পণ্যের দাম ও প্রকাশের তারিখ জানানো হয়নি।
কন্ট্রোলারের বোতাম চাপার চেয়ে সংগীতের এই ব্যবহার অংশগ্রহণের ভিন্ন ধরন যোগ করে: খেলোয়াড় সুর দেন, আর গেমের ভেতরে লিংক তার জবাব দেয়। গল্পের একটি কেন্দ্রীয় অংশকে খেলোয়াড়দের নিজেদের হাতে বাজিয়ে দেখার সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই সুবিধা।
থ্রেডস অব টাইম ও ফোনের সঙ্গী
থ্রেডস অব টাইম রিমেকের অ্যাডভেঞ্চার লগ, যা পজ মেনু থেকে খোলা যায়। প্রিভিউ সেশনে দেখা গেছে, এতে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নথিবদ্ধ হয় এবং পরের গন্তব্যের দিকনির্দেশ দেওয়া হয়। বিরতির পর আবার খেলতে বসলে, লিংকের যাত্রার ধারাবাহিকতা মনে করতে এটি সাহায্য করবে; পুরোপুরি স্মৃতির ওপর নির্ভর করতে হবে না।
এই লগ অ্যাডভেঞ্চারের নির্দিষ্ট ধারায় এগোনোর কাঠামোর সঙ্গেও মানানসই। পরের ধাপ খুলতে খেলোয়াড়দের কোনো কথোপকথন মনে করতে, নির্দিষ্ট কাউকে খুঁজে বের করতে বা কোনো জায়গায় যেতে হতে পারে। নির্দেশনাগুলো হাতের কাছে থাকলে ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা সহজ হয়।
নিনটেন্ডো সুইচ অ্যাপের একটি সঙ্গী পরিষেবা, জেলডা নোটস, স্মার্টফোনে মানচিত্রসহ বিভিন্ন তথ্য যোগ করে। অক্টোবরের উপস্থাপনায় ‘টুডেজ রেকর্ড’ ও ‘রিউমার কুয়েস্টস’ নামে সুবিধাও পরিচয় করানো হয়; নামগুলো জাপানি বর্ণনা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে।
টুডেজ রেকর্ডে খেলোয়াড়েরা ওই দিনের খেলা ফিরে দেখতে পারেন। রিউমার কুয়েস্টসে ফোনে দেখানো ছবি গেমের ভেতরে জায়গা খুঁজে বের করার সূত্র হিসেবে কাজ করে। ফলে পরের গল্পের লক্ষ্যের দিকে এগোনোর বাইরেও হাইরুলের নতুন করে তৈরি করা দৃশ্যপট খুঁটিয়ে দেখার আরেকটি কারণ পাওয়া যায়।
প্রিভিউতে দ্রুত আইটেম নির্বাচন ও কণ্ঠস্বরের ভাষা বেছে নেওয়ার সুবিধাও দেখা গেছে। অ্যাডভেঞ্চার লগের পাশাপাশি এসব পরিবর্তন অনুসন্ধানের পুনরাবৃত্ত কাজগুলোকে গুরুত্ব দেয়: লক্ষ্য মনে করা, সরঞ্জাম বেছে নেওয়া এবং তথ্য ঘাঁটা।
বসদের সঙ্গে ফের লড়াই ও অ্যামিবো পুরস্কার
বন্মাদেন গেমজগতের একটি নতুন জায়গা, যেখানে লিংকের আগে পরাজিত করা দানবদের মূর্তি রয়েছে। খেলোয়াড়েরা সেসব প্রাণীর বৈশিষ্ট্য দেখে নিতে এবং ডানজনের বসসহ শক্তিশালী শত্রুদের সঙ্গে আবার লড়তে পারবেন।
এই সুবিধায় শেষ করা লড়াইগুলো চলমান অ্যাডভেঞ্চারের অংশ হয়ে থাকে। কঠিন লড়াই অনুশীলন করতে বা পছন্দের কোনো বসের সঙ্গে আবার লড়তে চাইলে খেলোয়াড়েরা মূল গল্পে শুধু একবার সেই লড়াইয়ের মুখোমুখি হওয়ার বদলে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে তা করতে পারবেন।
নিনটেন্ডো অ্যামিবো ব্যবহারের পুরস্কারের কথাও নিশ্চিত করেছে। অ্যামিবো হলো সংগ্রহযোগ্য মূর্তি, যেগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ গেম স্ক্যান করতে পারে। নতুন চাইল্ড লিংক ও চাইল্ড জেলডা মূর্তি বিশেষ নকশার মুখোশ খুলে দেবে। The Legend of Zelda সিরিজের অন্য অ্যামিবো থেকেও অ্যাডভেঞ্চারে কাজে লাগার মতো জিনিস পাওয়া যাবে।
নতুন দুটি মূর্তি ২০২৬ সালের নভেম্বরে গেমটি প্রকাশের পর, ২০২৭ সালে আসার কথা রয়েছে। নিনটেন্ডো বলেছে, মূর্তিগুলো স্ক্যান করলে মুখোশ পুরস্কার হিসেবে পাওয়া যাবে, তবে সেগুলোর বাড়তি প্রভাবের বিস্তারিত জানায়নি। বিদ্যমান জেলডা মূর্তিগুলো অ্যাডভেঞ্চারের জিনিস পাওয়ার আলাদা উপায়।
৫ নভেম্বরের আগে গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
জেলডা সিরিজের ৪০তম বার্ষিকীর বছরেই রিমেকটি আসছে। প্রথম গেমটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে, আর নিনটেন্ডো ৬৪-এ Ocarina of Time এসেছিল ২১ নভেম্বর, ১৯৯৮। সুইচ ২ সংস্করণটি মূল গেমের ২৮তম বার্ষিকীর ১৬ দিন আগে প্রকাশিত হবে।
নিনটেন্ডোর প্রকাশনা কার্যক্রমে রয়েছে সেপ্টেম্বরের গেমপ্লে প্রদর্শন, অক্টোবরের পরিচিতিমূলক ভিডিও এবং অ্যাডভেঞ্চারের নির্বাচিত অংশ নিয়ে প্রিভিউ সেশন। এসব সেশন প্রায় ৩০ মিনিট থেকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত চলেছে; খেলোয়াড়েরা শুরুর দিকের এলাকা এবং ফরেস্ট টেম্পলের কিছু অংশ ঘুরে দেখেছেন।
- ১৯৮৬: The Legend of Zelda সিরিজের যাত্রা শুরু।
- ২১ নভেম্বর, ১৯৯৮: নিনটেন্ডো ৬৪-এর জন্য Ocarina of Time প্রকাশিত হয়।
- ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: নিনটেন্ডোর জেলডা বার্ষিকী উপস্থাপনায় ৫ নভেম্বর প্রকাশের তারিখ ঘোষণা এবং গেমপ্লে দেখানো হয়।
- ১৪ অক্টোবর, ২০২৬: নতুন পরিচিতিমূলক ভিডিওতে বন্মাদেন, স্মার্টফোনের সুবিধা ও অ্যামিবো পুরস্কার দেখানো হয়।
- ৫ নভেম্বর, ২০২৬: রিমেকটি শুধু নিনটেন্ডো সুইচ ২-এর জন্য প্রকাশিত হবে।
- ২০২৭: চাইল্ড লিংক ও চাইল্ড জেলডা অ্যামিবো মূর্তি প্রকাশের কথা রয়েছে।
প্রিভিউগুলোতে নিনটেন্ডোর পদ্ধতি ধারাবাহিকভাবে একই রকম দেখা গেছে: মূল অ্যাডভেঞ্চার পরিচিত থাকছে, তবে নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ, চলাফেরা ও উপস্থাপনায় যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। দেখানো খেলার বেশির ভাগই শুরুর যাত্রা ও ফরেস্ট টেম্পল নিয়ে; পরের ডানজনগুলোতে কী পরিবর্তন এসেছে, তা এখনো জানানো হয়নি।
ফিরে আসা খেলোয়াড়দের কাছে আকর্ষণ হলো পরিচিত হাইরুল, যেখানে ঘরবাড়ির যথেষ্ট পরিবর্তন নতুন করে মনোযোগ দিতে বাধ্য করবে। নতুন খেলোয়াড়দের জন্য পুরোনো অ্যাডভেঞ্চার কাঠামোর সঙ্গে অবাধ ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ, লক্ষ্য নথিবদ্ধ করার লগ এবং আরও নমনীয় মুভমেন্ট রয়েছে। সবচেয়ে স্বতন্ত্র সংযোজনটি বর্ণনা করা সবচেয়ে সহজ: একটি সুর গুনগুন করুন, আর লিংকও সঙ্গে বাজাবে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর নিনটেন্ডো সুইচ ২-এর জন্য Ocarina of Time প্রকাশিত হবে।
- জাপানে ডাউনলোড সংস্করণের দাম ৭,৯৮০ ইয়েন এবং ফিজিক্যাল সংস্করণের দাম ৮,৯৮০ ইয়েন; উভয় দামেই কর অন্তর্ভুক্ত।
- নতুন কন্ট্রোলে রয়েছে বোতাম চেপে লাফ, দ্রুত দৌড়, অবাধ ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ ও মোশন-এইমিং।
- অ্যাডভেঞ্চারের কাঠামোর বেশির ভাগ পরিচিত থাকলেও প্রিভিউতে দেখা ধাঁধা ও ফরেস্ট টেম্পলের লড়াই নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।
- নিনটেন্ডো নিশ্চিত করেছে, গুনগুন করে বা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে লিংককে তার ওকারিনায় সাড়া দিতে বলা যাবে।
- থ্রেডস অব টাইম যাত্রার অগ্রগতি নথিবদ্ধ করে, আর জেলডা নোটস স্মার্টফোনে সঙ্গী-সেবা যোগ করে।
- বন্মাদেনে পরাজিত দানবদের সম্পর্কে জানা এবং বসদের আবার চ্যালেঞ্জ করা যায়।
- চাইল্ড লিংক ও চাইল্ড জেলডা অ্যামিবো ২০২৭ সালে আসার কথা; এগুলো বিশেষ নকশার মুখোশ খুলে দেবে।






