ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় পাম তেলের বাজার এখন দেশের ভেতরেই
২০২৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় অভ্যন্তরীণভাবে ২৪.৬ মিলিয়ন টন পাম তেল ব্যবহৃত হয়েছে, যা উৎপাদনের রেকর্ড ৫৩ শতাংশ। এই চাহিদার সঙ্গে খাতটির বন উজাড়ের ঝুঁকির ৬৭ শতাংশ সংশ্লিষ্ট। অভ্যন্তরীণ ক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত বন উজাড়ের ঝুঁকির পরিমাণ ৬২৯,০০০ হেক্টরে পৌঁছেছে। ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য ভারতে রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত পরিমাণ ছিল ৭১,৪০০ হেক্টর। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি প্রায় ৮.৮ গুণ বেশি।
সূচিপত্র
- ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় পাম তেলের বাজার এখন দেশের ভেতরেই
- জ্বালানি নীতি অভ্যন্তরীণ বাজারের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে
- তথ্য কী এবং কোন সময়ের হিসাব রাখে
- জাতীয় পর্যায়ে বন উজাড় কমলেও পাপুয়ায় চাপ বাড়ছে
- রপ্তানিতে এগিয়ে ভারত, চীনকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় পাকিস্তান
- রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে চার গোষ্ঠীর প্রাধান্য, তবে অজানা তথ্য বাড়ছে
- বন সুরক্ষার অঙ্গীকার বাণিজ্যকে আওতায় আনে, তবে অতিরিক্ত সুফলের প্রমাণ নেই
- বন উজাড় কমলেও পিটভূমি থেকে নির্গমন অব্যাহত
- আগুনের ঝুঁকি ও কৃষক সহায়তা দেখায়, কাজ এখনো বাকি
- জবাবদিহি জোরদার করতে যা যা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে
- মূল তথ্য
ট্রেস ও তাদের ইন্দোনেশীয় অংশীদার অরিগা নুসান্তারা ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর জাকার্তায় এসব তথ্য তুলে ধরে। এতে বিশ্বের বৃহত্তম পাম তেল উৎপাদক দেশের অভ্যন্তরীণ ক্রেতাদের দিকে নজর পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশ রপ্তানি মানদণ্ড ও কোম্পানিগুলোর বন সুরক্ষার অঙ্গীকারের আওতায় থাকলেও, এখন সবচেয়ে বড় বাজারটি ইন্দোনেশিয়ার ভেতরেই। গবেষকেরা চান, ক্রেতা ও পণ্য সংগ্রহের স্থান সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করা হোক।
ট্রেসের পাম তেলবিষয়ক সর্বশেষ বিশ্লেষণে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের সরবরাহ শৃঙ্খলের পাশাপাশি ২০২৫ সালের বনভূমি হ্রাসের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০২৪ সালে উৎপাদন ৪৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছালেও পাম তেলের জন্য নতুন করে বনভূমি রূপান্তরের পরিমাণ ঐতিহাসিক মাত্রার তুলনায় অনেক কম ছিল, প্রায় ৩২,০০০ হেক্টর।
এই সংখ্যাগুলো ভিন্ন বিষয়ের বর্ণনা দেয়। অভ্যন্তরীণ চাহিদার সঙ্গে যুক্ত ৬২৯,০০০ হেক্টর বন উজাড়ের ঝুঁকির পরিমাপ; ২০২৪ সালে অভ্যন্তরীণ ক্রেতাদের জন্য যত বনভূমি সাফ করা হয়েছে, তা নয়। ট্রেসের ঝুঁকি নিরূপণ পদ্ধতিতে বর্তমান উৎপাদন ও বাণিজ্যের সঙ্গে বাগানের আওতাধীন জমিতে অতীতে বনভূমি সাফের তথ্য যুক্ত করা হয়। বার্ষিক বনভূমি হ্রাসের পরিমাপে নির্দিষ্ট বছরে নতুন করে বনভূমি রূপান্তরের পরিমাণ দেখা হয়। এ দুটিকে গুলিয়ে ফেললে ওই বছরের বনভূমি সাফের পরিমাণ অনেক বেশি বলে মনে হবে।
এই পার্থক্য থেকেই বিশ্লেষণের মূল টানাপোড়েনটি বোঝা যায়: অতীতের তুলনায় অনেক কম নতুন বন উজাড় করে ইন্দোনেশিয়া বেশি পাম তেল উৎপাদন করতে পারে, অথচ দেশটির বর্তমান সরবরাহ শৃঙ্খলে এখনো উল্লেখযোগ্য বনভূমি হ্রাসের ছাপ এবং পানি নিষ্কাশন করা পিটভূমি থেকে নির্গমন অব্যাহত রয়েছে।
জ্বালানি নীতি অভ্যন্তরীণ বাজারের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে
ইন্দোনেশিয়ার পাম তেল উৎপাদনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের অংশ ২০১৮ সালের ৩২ শতাংশ থেকে ২০২০ সালে ৪০ শতাংশ, এরপর ২০২২ সালে ৪৪ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৫৩ শতাংশে উঠেছে। ছয় বছরে এই বৃদ্ধি ২১ শতাংশ-পয়েন্ট। অভ্যন্তরীণ চাহিদার মধ্যে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার ও শিল্পে প্রক্রিয়াজাতকরণ রয়েছে; শুধু রান্নার তেল নয়।
ট্রেসের মতে, ২০২৪ সালের চাহিদা বৃদ্ধিতে বি৩৫ বায়োডিজেল বাধ্যবাধকতা এবং ডোমেস্টিক মার্কেট অবলিগেশন ভূমিকা রেখেছে। বি৩৫ বলতে ৩৫ শতাংশ বায়োডিজেল মেশানো ডিজেলকে বোঝায়। ডোমেস্টিক মার্কেট অবলিগেশন অনুযায়ী, রপ্তানির আগে উৎপাদকদের পাম তেলের একটি অংশ অভ্যন্তরীণ বাজারে বরাদ্দ করতে হয়। এসব নীতির লক্ষ্য জ্বালানি নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করা; তবে এর ফলে বন সুরক্ষায় ইন্দোনেশিয়ার ক্রয় সিদ্ধান্ত ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ট্রেসের আগের বিশ্লেষণে উদ্ধৃত ইন্দোনেশিয়ার পাম তেল সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে অভ্যন্তরীণ পাম তেল ব্যবহারের অর্ধেকের বেশি গিয়েছিল বায়োডিজেল ও ওলিওকেমিক্যাল তৈরিতে। ওলিওকেমিক্যাল হলো তেল ও চর্বি থেকে তৈরি রাসায়নিক, যা সাবান ও ডিটারজেন্টের মতো পণ্যে ব্যবহৃত হয়। সর্বশেষ বিশ্লেষণে ২০২৪ সালের জন্য এ ধরনের বিভাজনের সমতুল্য তথ্য নেই। তাই ওই বছরের অভ্যন্তরীণ বন উজাড়ের ঝুঁকির কতটা বিশেষভাবে জ্বালানি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তা এতে নির্ধারণ করা যায় না।
ট্রেসের তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুনে সরকার বি৫০-এর দিকে এগোনোর ঘোষণা দেয়; এতে থাকবে ৫০ শতাংশ বায়োডিজেল। পরবর্তী বি৫০ বাস্তবায়ন সময়সূচিতে ১ জুলাই থেকে আইনি কার্যকারিতা, ৯ জুলাই উদ্বোধন এবং ১ অক্টোবর থেকে পূর্ণ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এগুলো একই ঘটনার পরস্পরবিরোধী তারিখ নয়, বরং বাস্তবায়নের পৃথক ধাপ।
ইয়াসান মাদানি বেরকেলানজুতানের নেতৃত্বে করা এক পৃথক মূল্যায়নে অনুমান করা হয়েছে, ২০৩০ সালে বায়োডিজেল ও বায়োইথানলের সরবরাহ ২৬.৬ মিলিয়ন কিলোলিটারে পৌঁছাতে পারে, যেখানে সড়ক পরিবহনে চাহিদা হবে ৪২ মিলিয়ন কিলোলিটার। এই সম্ভাব্য ঘাটতি জ্বালানি সরবরাহের সামগ্রিক ভারসাম্য নিয়ে, পাম তেলজনিত বন উজাড়ের পূর্বাভাস নয়। তবু সরবরাহের সীমাবদ্ধতার সঙ্গে সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা মিলিয়ে দেখার গুরুত্ব এটি তুলে ধরে।
তথ্য কী এবং কোন সময়ের হিসাব রাখে
ট্রেসের পাম তেলবিষয়ক ডেটাসেট ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর। প্রিভিউতে ২,৩৬২,৮৮৬টি রেকর্ড ও ৩৪টি কলাম রয়েছে; এর মধ্যে বাণিজ্যের বছর, প্রক্রিয়াজাতকরণ মিল, শোধনাগার এবং উৎপাদন প্রদেশের তথ্য আছে। সঙ্গে থাকা তথ্য ও পদ্ধতির সংস্করণ ১.২.৫ হিসেবে চিহ্নিত।
কালানুক্রমে পরিমাপ করা বছরগুলোকে পরবর্তী নীতিগত উন্নয়ন ও প্রকাশনার তারিখ থেকে আলাদা করে দেখানো হয়েছে:
- ২০১৮: ইন্দোনেশিয়ার পাম তেল উৎপাদনের ৩২ শতাংশ অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহৃত হয়।
- ২০২২: অভ্যন্তরীণ ব্যবহার ৪৪ শতাংশে পৌঁছায়; একই সঙ্গে শিল্প পর্যায়ে পাম তেলজনিত বন উজাড় ২০২১ সালের সর্বনিম্ন মাত্রা থেকে সামান্য বাড়ে।
- ২০২৪: অভ্যন্তরীণ ব্যবহার ২৪.৬ মিলিয়ন টনে পৌঁছায় এবং পাম তেলের জন্য বার্ষিক বন উজাড় হয় প্রায় ৩২,০০০ হেক্টর।
- ২০২৫: পাপুয়ায় পাম তেলজনিত বন উজাড় বেড়ে ৭,৩০০ হেক্টরের বেশি হয়।
- জুন ২০২৬: সরকার বি৫০ চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করে।
- ৯ অক্টোবর ২০২৬: ট্রেস সরবরাহ শৃঙ্খলের ডেটাসেট হালনাগাদ করে।
- ১৩ অক্টোবর ২০২৬: ট্রেস ও অরিগা জাকার্তায় গবেষণার ফল তুলে ধরে।
জাতীয় পর্যায়ে বন উজাড় কমলেও পাপুয়ায় চাপ বাড়ছে
সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পাম তেলের জন্য বার্ষিক বন উজাড় ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের গড় ১৬৬,৫৪৪ হেক্টরের তুলনায় প্রায় ৮১ শতাংশ কম ছিল। উৎপাদন উচ্চ থাকা সত্ত্বেও এটি বড় ধরনের হ্রাস। তবে এর অর্থ এই নয় যে নতুন করে বনভূমি রূপান্তর বন্ধ হয়েছে, কিংবা প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে তা কমেছে।
২০২৪ সালকে ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন বলার ক্ষেত্রেও একটি সতর্কতা রয়েছে। ট্রেসের সর্বশেষ ব্যাখ্যায় ৩২,০০০ হেক্টরের হিসাবটিকে ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন বলা হয়েছে, কিন্তু আলোচনায় ২০২১ সালকেও সর্বনিম্ন পর্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; এরপর সামান্য বৃদ্ধি ঘটে। ট্রেসের ২০২৪ সালের পাম তেলবিষয়ক বিশ্লেষণে শিল্প পর্যায়ে পাম তেলজনিত বন উজাড় ২০২২ সালে ১৮ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে যে তথ্যটি পাওয়া যায় তা হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোর বন উজাড় ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন মাত্রার কাছাকাছি; পরপর প্রতিটি বছরে নতুন সর্বনিম্ন রেকর্ড হয়নি।
ভৌগোলিক প্রবণতা আরও উদ্বেগজনক। পাপুয়ায় পাম তেলের জন্য বার্ষিক বন উজাড় ২০২৪ সালের প্রায় ৩,৬০০ হেক্টর থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৭,৩০০ হেক্টরের বেশি হয়। গোল করা এই হিসাব ধরে বৃদ্ধি প্রায় ৩,৭০০ হেক্টর, অর্থাৎ ১০০ শতাংশের বেশি। ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার পাম তেলজনিত বন উজাড়ের ৫৬ শতাংশ ঘটে কালিমান্তানে।
আগের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে শিল্প পর্যায়ে পাম তেলজনিত বন উজাড়ের ৭২ শতাংশ ঘটেছে কালিমান্তানের চারটি প্রদেশে। এই আঞ্চলিক গড়কে নতুন এক বছরের হিসাবের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যায় না, তবে উভয় তথ্যেই বনভূমি রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে কালিমান্তান উঠে এসেছে। ইন্দোনেশিয়ার পাম তেল উৎপাদনের প্রায় ৯৬ শতাংশ আসে সুমাত্রা ও কালিমান্তান থেকে।
আগের মূল্যায়নে তেলপাম ছাড়ের ভেতরে ২.৪ মিলিয়ন হেক্টর অক্ষত বনভূমিও চিহ্নিত করা হয়েছিল। এটি আগের গবেষণার ফল, ২০২৬ সালের হালনাগাদ তালিকা নয়। বার্ষিক বন উজাড় কম হলেই ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নের অবসান হয় না, কারণ পাম তেলের জন্য বরাদ্দ জমিতে এখনো বন থাকতে পারে।
রপ্তানিতে এগিয়ে ভারত, চীনকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় পাকিস্তান
২০২৪ সালেও ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম বিদেশি পাম তেলের বাজার ছিল ভারত; সেখানে ৪.৩৭ মিলিয়ন টন পাম তেল পাঠানো হয়। এই পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় ২১ শতাংশ এবং ২০১৮ সালের সর্বোচ্চ মাত্রার তুলনায় ৩২ শতাংশ কম। ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রাধান্যের পেছনে দেশের ভেতরে ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কয়েকটি বড় রপ্তানি বাজারে ক্রয় হ্রাস, দুটিই ভূমিকা রেখেছে।
পাকিস্তানে রপ্তানি ২০ শতাংশ বেড়ে ৩.১৫ মিলিয়ন টন হওয়ায় দেশটি দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্যে পরিণত হয়। চীনে রপ্তানি ৪৪ শতাংশ কমে ২০২৩ সালের ৪.৪৭ মিলিয়ন টন থেকে ২০২৪ সালে ২.৪৮ মিলিয়ন টনে নেমে আসে; এতে চীন তৃতীয় স্থানে নেমে যায়। ট্রেসের মতে, চীনা ক্রেতারা সস্তা দেশীয় সয়াবিন তেলের দিকে ঝুঁকেছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের সীমিত অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা দেশটির আমদানিনির্ভরতা বজায় রেখেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি ২০১৮ সালের ৩.৭৮ মিলিয়ন টন থেকে কমে ২০২৪ সালে ১.৯ মিলিয়ন টনে দাঁড়ায়, যা প্রায় অর্ধেক। ট্রেস এই পতনের মূল কারণ হিসেবে ইইউর নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্দেশিকা—রেড টু—উল্লেখ করেছে। বন উজাড়ের উদ্বেগে এই নির্দেশিকার আওতায় পাম তেলভিত্তিক জৈব জ্বালানি ধাপে ধাপে বন্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর পণ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কঠোর অঙ্গীকারও ভূমিকা রেখেছে।
আগের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১ ও ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়া, চীন ও ভারত সম্মিলিতভাবে ইন্দোনেশিয়ার পাম তেলজনিত বন উজাড়ের ঝুঁকির ৭৫ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল। এসব দেশে পাঠানো প্রতি টন পণ্যের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকি ইইউতে পাঠানো পণ্যের প্রায় দ্বিগুণ ছিল। এই আগের হিসাবগুলো বুঝিয়ে দেয়, শুধু ইউরোপীয় আমদানিতে ব্যবস্থা নিলে খাতটির বনভূমির ছাপের বৃহত্তম অংশ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে চার গোষ্ঠীর প্রাধান্য, তবে অজানা তথ্য বাড়ছে
রয়্যাল গোল্ডেন ঈগল, সিনার মাস, মুসিম মাস ও উইলমার—এই চার গোষ্ঠী ২০২৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার পাম তেল রপ্তানির ৫২ শতাংশ সামলেছে। ২০১৮ সালে চতুর্থ অবস্থানে থাকা রয়্যাল গোল্ডেন ঈগল ১৫.৫ শতাংশ অংশ নিয়ে বৃহত্তম রপ্তানিকারক হয়েছে।
মাঝারি আকারের রপ্তানিকারকদের মধ্যে কেপিএন কর্প ২০১৮ সালের ১৫তম অবস্থান থেকে ২০২৪ সালে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। পারমাতা হিজাউ উল্টো পথে নেমে পঞ্চম থেকে ১২তম অবস্থানে গেছে। এই পরিবর্তনগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পণ্য সংগ্রহের স্বচ্ছতা শুধু বৃহত্তম গোষ্ঠীগুলোর স্থির তালিকায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।
একই সময়ে, ট্রেসের হিসাবে রপ্তানি পরিমাণের অজানা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ অংশ ২০১৮ সালের ১ শতাংশের কম থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে প্রায় ১৭ শতাংশে পৌঁছেছে। বাণিজ্যের তথ্যভান্ডারে চালানের রেকর্ড না থাকায় এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে ট্রেস জানায়। অজানা শ্রেণিবিভাগ মানেই চালানগুলো অবৈধভাবে সাফ করা জমি থেকে এসেছে, এমন প্রমাণ নয়। তবে এতে বাণিজ্যের সঙ্গে সরবরাহকারী ও পরিবেশগত ঝুঁকির যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়।
ট্রেসের গবেষক আদেলিনা চন্দ্র অভ্যন্তরীণ ক্রেতাদের বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ এবং তারা কোথা থেকে পণ্য সংগ্রহ করেন, সেই তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ ব্যবহার এখন উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি হওয়ায়, মূলত রপ্তানিকে ঘিরে তৈরি তথ্য প্রকাশব্যবস্থায় বাজারের বড় একটি অংশ খতিয়ে দেখা কঠিন থেকে যায়।
পৃথক একটি পাম তেলের ভুল লেবেলিং নিয়ে তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছিল, বেশি কর এড়াতে রপ্তানিকারকেরা পাম তেলকে মিলের বর্জ্য হিসেবে দেখিয়েছিলেন। ওই তদন্ত ট্রেসের চালানের তথ্য না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে না, আর ইউরোপীয় ক্রেতারা এই কৌশল সম্পর্কে জানতেন বলে অভিযোগও করা হয়নি। এটি যাচাইয়ের একটি ভিন্ন সমস্যার দিক তুলে ধরে: পণ্যের ঘোষিত শ্রেণি জানা থাকলেই সরবরাহ শৃঙ্খলে আসলে কী পরিবহন হয়েছে, তা সব সময় নিশ্চিত হওয়া যায় না।
বন সুরক্ষার অঙ্গীকার বাণিজ্যকে আওতায় আনে, তবে অতিরিক্ত সুফলের প্রমাণ নেই
বন উজাড় এড়ানোর আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার রয়েছে এমন কোম্পানিগুলোর আওতায় ছিল ২০২৪ সালে নথিভুক্ত ইন্দোনেশীয় পাম তেল রপ্তানির প্রায় ৯৩ শতাংশ। আগের গবেষণায় এই আওতা ৮৫ শতাংশের বেশি বলে জানানো হয়েছিল। এই শতাংশগুলো পর্যবেক্ষণ করা বা নথিভুক্ত বাণিজ্যের হিসাব; অজানা অংশ বাড়ছে বলে এই বিষয়টি বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার।
কর্মদক্ষতার প্রমাণ সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করা উচিত। ২০২২ সালের এসইআই মূল্যায়নে দেখা যায়, এ ধরনের অঙ্গীকারকারী রপ্তানিকারকদের প্রতি টনে বন উজাড়ের ঝুঁকি তাদের প্রতিযোগীদের তুলনায় ৭০ শতাংশ ছিল। ট্রেসের গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সান্তা বারবারার রবার্ট হাইলমায়ার গবেষণা প্রকাশের সময় এই ফল তুলে ধরেন।
ড. রবার্ট হাইলমায়ার বলেন, “পাম তেলের সরবরাহ শৃঙ্খলে শূন্য-বন উজাড় অঙ্গীকার (জেডডিসি) এবং বন উজাড়ের কম ঝুঁকির মধ্যে যোগসূত্রের এটাই প্রথম স্পষ্ট প্রমাণ।”
পরবর্তী বিশ্লেষণে অঙ্গীকার থাকা ও না-থাকা রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে বার্ষিক বন উজাড়ের মাত্রা একই রকম পাওয়া যায়: প্রতি ১,০০০ টনে যথাক্রমে ০.২৭ ও ০.২৩ হেক্টর। সর্বশেষ ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে অঙ্গীকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছাড়গুলোতে বার্ষিক বন উজাড় ১ শতাংশের নিচে ছিল; তবে অঙ্গীকারবিহীন ছাড়ের তুলনায় অতিরিক্ত হ্রাস দেখা যায়নি।
এই ফলাফলগুলো ভিন্ন পরিমাপ, সময়কাল ও বিশ্লেষণের একক নিয়ে। অতীতের বন উজাড়ের কারণে সৃষ্ট ছাপ কম থাকা আর বার্ষিক বন উজাড়ের হার কম হওয়া এক বিষয় নয়; আর কোনো তুলনাই একা প্রমাণ করে না, অঙ্গীকার না থাকলে কী হতো। অংশগ্রহণকারী কোম্পানির বাইরেও এসব অঙ্গীকারের প্রভাবে চর্চায় পরিবর্তন এসে থাকতে পারে বলে ট্রেস জানিয়েছে; তবে তুলনার আওতার বাইরে এই সম্ভাবনা যাচাই করা হয়নি।
বন উজাড় কমলেও পিটভূমি থেকে নির্গমন অব্যাহত
পাম বাগানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পিটভূমি দেবে যাওয়ার কারণে ২০২৪ সালে প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নির্গমন হয়েছে। পিটভূমির আগুনসহ এটি ট্রেসের মূল্যায়নে খাতটির মোট নির্গমনের প্রায় ৮৫ শতাংশের জন্য দায়ী। কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য বলতে বিভিন্ন গ্রিনহাউস গ্যাসের উষ্ণায়ন প্রভাবকে একই মাপকাঠিতে প্রকাশ করা বোঝায়।
পিটভূমি হলো জলাভূমিতে জমে থাকা জৈব পদার্থ। চাষাবাদের জন্য পানি নিষ্কাশন করলে সেই পদার্থ পচনের সংস্পর্শে আসে, কার্বন নির্গত হয় এবং ভূমির উপরিভাগ দেবে যায়। শুকনো পিটভূমিতে আগুন লাগার ঝুঁকিও বাড়ে। মূল ভূমি রূপান্তরের অনেক পরেও এসব প্রক্রিয়া চলতে পারে। তাই নতুন বন উজাড় কমলেই নির্গমনও সমান হারে কমবে, এমন নয়।
ট্রেসের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভূমি রূপান্তর, পিটভূমি দেবে যাওয়া ও পিটভূমির আগুন মিলিয়ে মূল্যায়ন করা বার্ষিক নির্গমন গড়ে ২১৫ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য ছিল। এ সময় ভূমি রূপান্তরজনিত নির্গমন ৫৮ শতাংশ কমেছে। কৃষি উপকরণ ব্যবহার থেকে শুরু করে পরিশোধন, পরিবহন ও চূড়ান্ত ব্যবহার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এই পরিসংখ্যান নয়।
স্টকহোম এনভায়রনমেন্ট ইনস্টিটিউটের ২০২৪ সালের নির্গমন মূল্যায়নে ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত শিল্প উৎপাদনের বার্ষিক গড় নির্গমন ২২০ মিলিয়ন টন বলে জানানো হয়েছিল; এর প্রায় ৯২ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল পিটভূমি দেবে যাওয়া ও আগুন। নতুন ৮৫ শতাংশের হিসাবটি ২০২৪ সালের, আগের সময়কালের একই গড় নয়। তাই এ দুই অংশকে অগ্রগতির সরাসরি মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
পিটভূমিতে পাম তেল উৎপাদনের আওতাধীন এলাকা ২০১৫ সালের প্রায় ১.২৮ মিলিয়ন হেক্টর থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১.৬৪ মিলিয়ন হেক্টর হয়েছে, প্রায় ২৮ শতাংশ। এই ক্রমবর্ধমান এলাকা দেখায়, নতুন করে পিটভূমি রূপান্তর ঠেকানো এবং আগে থেকেই পানি নিষ্কাশন করা জমির ব্যবস্থাপনা—জলবায়ু মোকাবিলার দুটি আলাদা কাজ।
আগুনের ঝুঁকি ও কৃষক সহায়তা দেখায়, কাজ এখনো বাকি
ট্রেসের সর্বশেষ বিশ্লেষণে উদ্ধৃত ম্যাপবায়োমাস ফায়ার মান্থলির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে ৬৭৭,৭৪৩ হেক্টর জমি পুড়েছে। এই হিসাব ইন্দোনেশিয়ার পুড়ে যাওয়া এলাকার; পাম তেলের কারণে জমিগুলো পুড়েছে, তা প্রমাণ করে না। তবু অরিগার নির্বাহী পরিচালক টাইমার মানুরং বলেন, ম্যাপবায়োমাস ইন্দোনেশিয়ার মানচিত্রে দেখা গেছে, উত্তোলনমূলক শিল্পের ছাড়প্রাপ্ত এলাকাগুলোর মধ্যে পাম তেল ছাড়ে সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ড নথিভুক্ত হয়েছে।
ট্রেস আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্টে ছয়টি প্রদেশে স্থল ও আকাশপথে জরুরি কার্যক্রম চালানো হয়। আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থার নথি অনুযায়ী, দক্ষিণ কালিমান্তানে টানা ৬০ দিনের বেশি বৃষ্টি হয়নি। ট্রেসের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে বন ও পিটভূমি সুরক্ষা আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ, জলাভূমির পানি ফিরিয়ে আনা এবং পুনরুদ্ধার।
কৃষকদের চ্যালেঞ্জ কিছুটা ভিন্ন, তবে বিষয়টি পরস্পর সম্পর্কিত। ক্ষুদ্র কৃষকেরা তেলপাম বাগানের ৩২ শতাংশের ব্যবস্থাপনা করেন এবং ইন্দোনেশিয়ার পাম তেলের ৩৫ শতাংশ উৎপাদন করেন। পুরোনো গাছ বদলে নতুন গাছ লাগালে বিদ্যমান জমিতেই উৎপাদন বাড়তে পারে। কিন্তু কৃষকেরা জমির মালিকানা নিয়ে অনিশ্চয়তা, দুর্বল পণ্য-অনুসরণ ব্যবস্থা এবং নতুন গাছ ফলন দেওয়া পর্যন্ত ফসল বিক্রির আয় না থাকার মতো সমস্যায় পড়েন।
ক্ষুদ্র কৃষকের পাম তেল পুনরোপণ কর্মসূচি, পিএসআর নামে পরিচিত, ২০২৪ সালে অনুদান দ্বিগুণ করে প্রতি হেক্টরে ৬০ মিলিয়ন রুপিয়াহ করেছে। তা সত্ত্বেও ওই বছর ১২০,০০০ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪১ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৩১ শতাংশে পৌঁছানো সম্ভব হয়। প্রকাশিত এই শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় প্রয়োগ করলে যথাক্রমে প্রায় ৪৯,২০০ ও ৩৭,২০০ হেক্টর হয়।
২০২৬ সালে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৫০,০০০ হেক্টর করা হয়। আগস্টের মধ্যে ২০,২২৯ হেক্টরে পুনরোপণ হয়েছে, যা কমানো লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪০.৫ শতাংশ। জমির মালিকানার নথি না থাকা, আইনিভাবে নির্ধারিত বনাঞ্চলের সঙ্গে জমির সীমানা মিলে যাওয়া এবং পুনরোপণের সময় আয় হারানো এখনো বাধা। বৃহত্তর বাগান জব্দ অভিযান জমির আইনি অবস্থাকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে, যদিও পিএসআরে অংশগ্রহণে এর প্রভাব ট্রেস পরিমাপ করেনি।
জবাবদিহি জোরদার করতে যা যা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে
এই ফলাফলগুলো তিনটি পরস্পর-সম্পর্কিত অগ্রাধিকারের দিকে ইঙ্গিত করে: অভ্যন্তরীণ পণ্য সংগ্রহের তথ্য দৃশ্যমান করা, অবশিষ্ট বন রক্ষা করা এবং চাষাধীন পিটভূমি থেকে নির্গমন কমানো। এক ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে অন্যগুলোর প্রয়োজন মেটে না। রপ্তানির অঙ্গীকারে অপ্রকাশিত অভ্যন্তরীণ ক্রয় অন্তর্ভুক্ত হয় না, আর নতুন বন উজাড় কমলেও বহু বছর আগে পানি নিষ্কাশন করা জমি থেকে নির্গমন বন্ধ হয় না।
অর্থনৈতিক স্বার্থও বড়। ট্রেসের হিসাব অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার জিডিপিতে খাতটির অবদান প্রায় ৪.৫ শতাংশ, ২০২৪ সালে রপ্তানি আয় ২৭.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান ১৬.৫ মিলিয়নের বেশি। তাই জবাবদিহি উন্নত করার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কৃষক ও অভ্যন্তরীণ শিল্পকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
কয়েকটি সিদ্ধান্ত ও পরিমাপ এখনো অসম্পূর্ণ। বিশ্লেষণে অভ্যন্তরীণ ক্রেতাদের পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র, ২০২৪ সালে খাদ্য ও জ্বালানির মধ্যে বন উজাড়ের ঝুঁকির বিভাজন, কিংবা বি৫০-এর কারণে অতিরিক্ত বনভূমির ছাপের হিসাব নেই। এতে বন আইন সংশোধন ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিয়ে আইন প্রণয়নের বিতর্কের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু ভোটের তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত আগুন ও পুনরোপণের হিসাব আংশিক বছরের, চূড়ান্ত ফল নয়।
ক্ষুদ্র কৃষকদের ক্ষেত্রে উন্নত পণ্য-অনুসরণ ব্যবস্থার পাশাপাশি জমির অধিকার স্বীকৃতির সহজ উপায় এবং ব্যবহারিক পুনরোপণ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে, ইইউর বন উজাড়বিষয়ক বিধিমালাসহ কঠোর শর্তের কারণে এমন কৃষকেরা বাদ পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন, যারা জমি ও সরবরাহের পথের নথি দিতে পারেন না—এমনকি বিদ্যমান বাগানে উৎপাদন উন্নত করলেও।
মূল তথ্য
- ২০২৪ সালে অভ্যন্তরীণ ব্যবহার ২৪.৬ মিলিয়ন টনে পৌঁছায়, যা ইন্দোনেশিয়ার পাম তেল উৎপাদনের ৫৩ শতাংশ।
- বন উজাড়ের ঝুঁকির ৬৭ শতাংশের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ক্রয় যুক্ত; ভারতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির তুলনায় এটি প্রায় ৮.৮ গুণ।
- অতীতের বন উজাড়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি এবং ২০২৪ সালে পাম তেলের জন্য নতুন করে সাফ করা প্রায় ৩২,০০০ হেক্টর জমি এক বিষয় নয়।
- ২০২৫ সালে পাপুয়ায় পাম তেলজনিত বন উজাড় দ্বিগুণের বেশি হয়; জাতীয় বন উজাড়ের ৫৬ শতাংশ ঘটে কালিমান্তানে।
- চারটি করপোরেট গোষ্ঠী রপ্তানির ৫২ শতাংশ সামলেছে; রপ্তানির প্রায় ১৭ শতাংশের উৎস অজানা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়েছে।
- ২০২৪ সালে পিটভূমি দেবে যাওয়া ও আগুনের কারণে মূল্যায়ন করা খাতটির নির্গমনের প্রায় ৮৫ শতাংশ হয়েছে।
- অনুদান বাড়লেও ক্ষুদ্র কৃষকদের পুনরোপণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি; জমির নথি ও আয় হারানো এখনো বাধা।






