৬৮টি কোম্পানির তদন্তের মধ্যে আইনে পরিবর্তনের প্রস্তাব
প্রতি পরিবারে সর্বোচ্চ দুই হেক্টর জমি পোড়ানোর অনুমতির সঙ্গে যুক্ত ‘স্থানীয় প্রজ্ঞা’ বিধানটি তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইন্দোনেশিয়া। এদিকে কোম্পানির ছাড়পত্রের আওতাধীন এলাকায় আগুনের ঘটনা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চলমান বন ও ভূমির আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। পরিবেশমন্ত্রী জুমহুর হিদায়াত বলেন, ছাড়পত্রধারী ৬৮টি কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ করে যাচাই করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজন হিসেবে কয়েক ডজন ব্যক্তির নাম এসেছে।
সূচিপত্র
- ৬৮টি কোম্পানির তদন্তের মধ্যে আইনে পরিবর্তনের প্রস্তাব
- বিদ্যমান দুই হেক্টরের বিধানের অর্থ
- যেভাবে প্রস্তাবটির বিকাশ
- অনাবাদি ছাড়পত্রের জমি কেন তদন্তের আওতায়
- ছাড়পত্র স্থগিত মানেই দোষী সাব্যস্ত নয়
- পরিকল্পনার অংশ সাশ্রয়ী বিকল্প
- ২০২৩ সালের আগুনবিষয়ক বিশ্লেষণে যা উঠে এসেছে
- পানির সংকটে আগুন নেভানোর লক্ষ্যমাত্রা কঠিন
- স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জলবায়ু দাবির পরিমাপ আলাদা হওয়া দরকার
- মূল বিষয়
প্রস্তাবটি পরিবেশ সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯-এর ৬৯(২) অনুচ্ছেদকে লক্ষ্য করে। এতে নির্দিষ্ট কিছু ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে জমি পরিষ্কারের আইনি সুযোগ তুলে নেওয়া হবে; ইন্দোনেশিয়ায় আগুন দিয়ে জমি পরিষ্কারের ওপর প্রথমবারের মতো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না। ৬৯(১)(h) অনুচ্ছেদে আগেই আগুন দিয়ে জমি পরিষ্কার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জুমহুর বলেন, ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর সরকার এ সংশোধনের প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে, যা ডিপিআর নামে পরিচিত, পাঠাতে সম্মত হয়েছে। ১৩ অক্টোবর জাকার্তায় প্রাসাস্তি ইন্দোনেশিয়া পলিসি ফোরাম ২০২৬-এর পর তিনি উদ্যোগটি নিয়ে আবার কথা বলেন। সংশোধনীটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি এবং সংসদীয় সময়সূচিও ঘোষণা করা হয়নি।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জমি পরিষ্কারের সময় আগুন জ্বালানোর এই বিধান থেকে এমন আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, যা পরে পরিষ্কার করা জমির বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।
"দুই হেক্টর পর্যন্ত জমিতে আগুন দেওয়ার অনুমতি দেয়—এমন অনুচ্ছেদটি তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। আগুন দিয়ে জমি পরিষ্কারের বিধানটি আমরা সরিয়ে দেব," বলেন জুমহুর।
আরেকটি পৃথক প্রস্তাবে পোড়া এবং আগে কখনো চাষ না হওয়া ছাড়পত্রের জমিকে শিল্পভিত্তিক বাগানে, যেমন পাম তেলের বাগানে, রূপান্তর ঠেকানোর কথা বলা হয়েছে। দুটি পদক্ষেপের লক্ষ্য দুটি ভিন্ন প্রণোদনা মোকাবিলা করা: পরিবারের জন্য কম খরচে জমি পরিষ্কার এবং উন্নয়নের অপেক্ষায় থাকা জমিতে আগুন লাগিয়ে সম্ভাব্য বাণিজ্যিক লাভ।
দুটি প্রস্তাবই এখনো আইনি প্রক্রিয়াধীন। আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে কি না, সে সন্দেহও তদন্ত করে যাচাই করতে হবে; শুধু আগুন কোথায় লেগেছে, তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
বিদ্যমান দুই হেক্টরের বিধানের অর্থ
সাধারণ নিষেধাজ্ঞা ও ‘স্থানীয় প্রজ্ঞা’ বিধানের পার্থক্যই বিতর্কের কেন্দ্রে। বন ও পরিবেশ আইন বিশেষজ্ঞ সাদিনো বলেন, আইনটি এর ব্যাখ্যামূলক পাঠসহ পড়তে হবে। সেখানে স্থানীয় ফসলের জাত চাষের জন্য প্রতি পরিবারে সর্বোচ্চ দুই হেক্টর জমিতে আগুন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে; আগুন ছড়ানো ঠেকাতে জমির চারপাশে অগ্নিরোধক ফাঁক রাখার শর্তও রয়েছে।
অগ্নিরোধক ফাঁক হলো এমন একটি ফালি, যা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় আগুন ছড়ানো বাধাগ্রস্ত করার জন্য রাখা হয়। ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে জমি পরিষ্কারের জন্য বর্ণিত শর্তগুলোর একটি এটি; তবে সব আবহাওয়া বা ভূমির অবস্থায় আগুন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তার নিশ্চয়তা নয়।
সাদিনো বলেন, এই বিধান বন বা যেকোনো দুই হেক্টর জমিতে আগুন দেওয়ার সাধারণ অনুমতি নয়। এর সীমা নির্ধারিত হয় চাষের উদ্দেশ্য, কাজটি করা পরিবার এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থার মাধ্যমে। একটি বিবরণে প্রতি পরিবারকে বছরে দুই হেক্টর পর্যন্ত জমিতে আগুন দেওয়ার সুযোগের কথা বলা হয়েছে। অন্য আইনি বিবরণগুলোতে পরিবারের জন্য সীমা উল্লেখ থাকলেও বার্ষিক সময়সীমা নির্দিষ্ট করা হয়নি। সংশোধনী নিয়ে আলোচনায় বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার।
সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য হলো ৬৯(২) অনুচ্ছেদের সঙ্গে যুক্ত ‘স্থানীয় প্রজ্ঞা’ বিধান, ৬৯(১)(h) অনুচ্ছেদের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া নয়। পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট ভাষা ও পরিধি নির্ধারণে সংশোধনীর খসড়া প্রয়োজন হবে।
যেভাবে প্রস্তাবটির বিকাশ
অক্টোবরের এই উদ্যোগের আগে প্রেসিডেন্ট আগুন দেওয়া ঠেকানো এবং বিকল্প ব্যবস্থা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি, পরপর কয়েকটি প্রশাসনের সময় দ্রুত আগুন নেভানো, সম্প্রদায়কে সহায়তা এবং অপরাধীদের শাস্তির সমন্বয়ে যে নীতিগত পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে, সেটিও আরও এগিয়ে নিচ্ছে এ উদ্যোগ।
- ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১: জাকার্তায় জাতীয় সমন্বয় সভায় প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো প্রতিদিন নজরদারি, দ্রুত ব্যবস্থা, আগুন দেওয়ার স্থায়ী বিকল্প এবং কঠোর শাস্তির আহ্বান জানান।
- ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪: জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক দপ্তর ইন্দোনেশিয়ার ২০২৩ সালের দাবানল নিয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করে। এতে জমিতে আগুন দেওয়ার অর্থনৈতিক কারণ এবং ঐতিহ্যবাহী কৃষকদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।
- ২৪ আগস্ট, ২০২৬: রিয়াউয়ের পেকানবারুতে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো আগুন দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা জোরদার, জমি পরিষ্কারে সহায়তার ব্যবস্থা এবং কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা তদন্তের নির্দেশ দেন।
- ১২ অক্টোবর, ২০২৬: জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এ ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধিদলের প্রস্তুতির সময় আইনে সংশোধনের প্রস্তাব পাঠাতে সম্মতির কথা জানান জুমহুর।
- ১৩ অক্টোবর, ২০২৬: জাকার্তায় প্রাসাস্তি ইন্দোনেশিয়া পলিসি ফোরামে সংশোধনী, ছাড়পত্রের আওতাধীন জমির তদন্ত এবং আগুন নেভানোর প্রচেষ্টা নিয়ে কথা বলেন জুমহুর।
ফোরামে দেওয়া বক্তব্যের তারিখ হিসেবে প্রতিবেদনগুলো ১৩ অক্টোবরের সঙ্গে একমত, তবে সপ্তাহের দিন নিয়ে মতভেদ রয়েছে: একটিতে সোমবার, অন্যগুলোতে মঙ্গলবার বলা হয়েছে। নীতিগত ঘোষণার তারিখ ধারাবাহিকভাবে ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে।
অনাবাদি ছাড়পত্রের জমি কেন তদন্তের আওতায়
বোর্নিও দ্বীপের ইন্দোনেশীয় অংশ কালিমান্তানের অনাবাদি ছাড়পত্রের জমিতে আগুনের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন জুমহুর। ছাড়পত্রের মাধ্যমে কোনো কোম্পানি নির্দিষ্ট এলাকায় কার্যক্রম চালানোর অধিকার পায়, তবে তা অনুমতিপত্র ও আইনি বাধ্যবাধকতার শর্তসাপেক্ষ। ওই সীমানার ভেতরে আগুন লাগলে জমিটি কীভাবে ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষা করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, এখনো চাষ শুরু হয়নি এমন জমিতে বারবার আগুন লাগা সন্দেহজনক, কারণ এর মাধ্যমে বাগানের জমি তৈরির প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত হতে পারে। তিনি এ পরিস্থিতির সঙ্গে উৎপাদনশীল বাগানে লাগা আগুনের তুলনা করেন, যেখানে বিদ্যমান ফসল পুড়ে যায় এবং কোম্পানির ব্যবসায় সরাসরি ক্ষতি হয়।
এই পার্থক্য তদন্তের কারণ হতে পারে, অপরাধের প্রমাণ নয়। আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে, অন্য জায়গা থেকে ছড়িয়ে এসেছে, নাকি অন্য কোনো পরিস্থিতিতে ঘটেছে—তা নির্ধারণে মাঠপর্যায়ের যাচাই ও প্রমাণ দরকার। ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দেওয়া প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
আগুনের পর জমি ব্যবহারের সম্ভাব্য সুবিধা বন্ধ করাই প্রস্তাবিত রোপণ নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য। অনাবাদি জমিতে আগুন লাগার পর সেটি পাম তেল বা অন্য কোনো শিল্পফসলের জন্য উন্নয়ন করা গেলে, কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, জমি রূপান্তরের কম খরচের পথ হয়ে উঠতে পারে আগুন দেওয়া।
কোথাও পদক্ষেপটিকে শিল্পফসলের ওপর নিষেধাজ্ঞা, আবার কোথাও পোড়া ও খালি ছাড়পত্রের জমিতে বাগানজাত পণ্য চাষের নিষেধাজ্ঞা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর সুনির্দিষ্ট পরিধি, আইনি ভিত্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো প্রকাশ্যে চূড়ান্ত হয়নি। আগে কোনো ফসল ছিল না এমন জমিতে পুনরায় রোপণের বদলে ভবিষ্যতে সেখানে চাষের ওপর বিধিনিষেধ বলা বেশি যথাযথ।
ছাড়পত্র স্থগিত মানেই দোষী সাব্যস্ত নয়
ছাড়পত্রধারী ৬৮টি কোম্পানির কার্যক্রম স্থগিত করা প্রয়োগ ও যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ। এতে প্রমাণ হয় না যে ৬৮টি কোম্পানিই ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছে; প্রতিটি কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়েছে, এমন তথ্যও ঘোষণায় নেই।
জুমহুর বলেন, বিশেষ করে ছাড়পত্রের আওতাধীন এলাকায় আগুন লাগলে কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর দায়বদ্ধতার নীতি অনুসরণ করা উচিত। পরিবেশ আইনে কঠোর দায়বদ্ধতা বলতে সাধারণত দোষ প্রমাণের প্রচলিত শর্ত ছাড়াই দায় নির্ধারণ বোঝায়। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধমূলক কাজ করেছে, তা প্রমাণ করার বিষয়টি এর থেকে আলাদা।
মন্ত্রী আরও বলেন, আগুন লাগানোর সন্দেহ রয়েছে এমন কোম্পানি এবং যাদের জমি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের আলাদা করতে যাচাই দরকার। তাই পরিবেশগত দায়, আগুন ঠেকানোর বাধ্যবাধকতা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দেওয়ার প্রমাণ—এই পৃথক প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি কর্তৃপক্ষ।
আগস্টে প্রাবোওর নির্দেশনায় কোম্পানিগুলোর সম্পৃক্ততা তদন্তের জন্য পুলিশ, কৌঁসুলি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বলা হয়েছিল। দায়ী প্রমাণিত কোম্পানির কার্যক্রমের অনুমতিপত্র বাতিল করার কথাও ছিল। সাদিনো বলেন, পরিবারের জমি পোড়ানোসংক্রান্ত বিধান পর্যালোচনার কারণে বিদ্যমান বিধিমালার অধীনে আগুন ঠেকানো ও মোকাবিলায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দায় কমে না।
এই বক্তব্যগুলোর বিবরণে কোনো কোম্পানির নাম, তদন্ত শেষে পাওয়া সিদ্ধান্ত বা সন্দেহভাজন কয়েক ডজন ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় জানানো হয়নি। প্রয়োগমূলক পদক্ষেপের পরিসর বোঝা গেলেও, কতটি তদন্তের ফলে শাস্তি বা মামলা হবে, তা এসব পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় না।
পরিকল্পনার অংশ সাশ্রয়ী বিকল্প
ইন্দোনেশিয়ার বন ছাড়পত্রধারী সমিতি, যা এপিএইচআই নামে পরিচিত, বিধান সংশোধনের পক্ষে। তবে সমিতির চেয়ার সোয়ারসো বলেন, আগুন দেওয়া থেকে সরে আসতে সম্প্রদায়গুলোর বাস্তব সহায়তা দরকার। জমি পরিষ্কারের অন্য পদ্ধতিগুলো সাশ্রয়ী করতে তিনি সরঞ্জাম, কারিগরি নির্দেশনা ও অর্থায়নের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সোয়ারসো বলেন, শুধু জমির আয়তন দিয়ে নিরাপত্তা নির্ধারণ করা যায় না। আবহাওয়া, ভূমির বৈশিষ্ট্য, পানির সরবরাহ, সরঞ্জাম ও জনবলের প্রাপ্যতাও আগুন নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কি না, তাতে প্রভাব ফেলে। তাঁর অবস্থান আইনি পরিবর্তনের সঙ্গে তা বাস্তবায়নে সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের সক্ষমতাকে যুক্ত করে।
ছাড়পত্রের আওতাধীন এলাকার বাইরে জমি পরিষ্কারে অর্থের প্রয়োজন এমন স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য সমাধান খোঁজার কথা বলেছেন জুমহুর। দক্ষিণ সুমাত্রা, কালিমান্তান এবং নির্দিষ্ট আরও কিছু এলাকার জন্য সম্ভাব্য সহায়তা দেওয়া হবে। আগুনে নির্গমন এড়িয়ে জমি পরিষ্কারের ব্যয় মেটাতে জলবায়ু তহবিল ব্যবহার করা যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবিত সহায়তার জন্য এখনো অর্থায়ন নিশ্চিত কোনো কর্মসূচি, প্রকাশিত যোগ্যতার নিয়ম, বাজেট বা শুরুর তারিখ নেই। সম্ভাব্য পরিসর নিয়েও বিবরণে পার্থক্য রয়েছে: একটিতে বলা হয়েছে, মোট এলাকা কয়েক হাজার হেক্টরেরও কম; অন্যটিতে জুমহুরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এলাকা কয়েক লাখ হেক্টরে পৌঁছাবে না। কোনোটিতেই যাচাই করা মোট পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি।
প্রাবোওর আগস্টের প্রস্তাবে আরেকটি পথের কথা ছিল: বাসিন্দারা স্থানীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সহায়তার আবেদন করবেন, কৃষকগোষ্ঠীগুলো পরিকল্পিতভাবে জমি পরিষ্কারের কাজ পরিচালনা করবে এবং সমবায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র-ভর্তুকিপ্রাপ্ত কেআরইউআর ঋণ নিয়ে এর অর্থায়ন করা হতে পারে। ঋণ ও জলবায়ু তহবিল আলাদা উপকরণ; এ দুটির মধ্যে চূড়ান্ত সম্পর্ক কী হবে, তা ঘোষণা করা হয়নি।
আদিবাসী ও স্থানীয় সম্প্রদায়, আঞ্চলিক সরকার এবং শিক্ষাবিদদের সঙ্গে পরামর্শের আহ্বান জানিয়েছেন সাদিনো। তিনি আরও বলেন, আইনের পরিবর্তন করতে হলে বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি ও আঞ্চলিক বিধিমালায় সমন্বয় আনতে হবে।
২০২৩ সালের আগুনবিষয়ক বিশ্লেষণে যা উঠে এসেছে
২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক দপ্তরের ২০২৩ সালের দাবানল বিশ্লেষণ বর্তমান বিতর্কের পেছনের ঝুঁকিগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপ দেয়। এতে বলা হয়, ২০২৩ সালে ১১ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমি পুড়েছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় পাঁচ গুণ।
বিশ্লেষণে ৯৮ শতাংশ আগুনের জন্য মানুষের কর্মকাণ্ডকে দায়ী করা হয়েছে এবং ফসল, বিশেষ করে পাম তেল চাষের জন্য কম খরচে জমি পরিষ্কারকে অন্যতম প্রধান কারণ বলা হয়েছে। ২০২৩ সালে আগুন বেড়ে যাওয়ার পেছনে এল নিনোর সঙ্গে সম্পর্কিত দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক অবস্থাকেও বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মানুষের দেওয়া আগুন ও শুষ্ক আবহাওয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে: একটি আগুনের সূত্রপাত ঘটায়, অন্যটি তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন করে তোলে।
বিশ্লেষণে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২,৬০৮টি হটস্পট রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল ৪৪১টি। অর্থাৎ সংখ্যাটি প্রায় ৫.৯ গুণ। দক্ষিণ কালিমান্তান, মধ্য কালিমান্তান ও দক্ষিণ সুমাত্রা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোর মধ্যে ছিল; বিকল্প জমি পরিষ্কারের সহায়তা নিয়ে এখন যেসব এলাকা আলোচনায় আছে, সেগুলোর সঙ্গেও এ অঞ্চলগুলোর মিল রয়েছে।
হটস্পট হলো শনাক্ত করা তাপের সংকেত; এগুলো পোড়া জমির আয়তনের সরাসরি পরিমাপ নয় কিংবা প্রমাণিত ইচ্ছাকৃত আগুনের সংখ্যাও নয়। হটস্পটের মোট সংখ্যা তুলনা করার সময় শনাক্তকরণের সময়কাল ও পদ্ধতির পার্থক্যও বিবেচনা করতে হয়।
বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে, আগুনের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঐতিহ্যবাহী কৃষকদের ওপর অসমভাবে বেশি প্রভাব ফেলার কারণে সমালোচিত হয়েছে, অথচ বড় কোম্পানিগুলোর পরিবেশগত প্রভাব বেশি। এ তথ্য আইনি বিধিনিষেধের সঙ্গে সাশ্রয়ী বিকল্প এবং পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে আইন প্রয়োগের পক্ষে যুক্তি জোগায়।
পানির সংকটে আগুন নেভানোর লক্ষ্যমাত্রা কঠিন
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা, যা বিএনপিবি নামে পরিচিত, তার সঙ্গে আলোচনার পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে—এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই—আগুন নেভানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন জুমহুর। অক্টোবরের ফোরামে এটি ছিল তাঁর নির্ধারিত লক্ষ্য, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে—এমন নিশ্চয়তা নয়।
পানির সীমিত সরবরাহ এবং আগুনে পানি ফেলতে ব্যবহৃত উড়োজাহাজ পরিচালনার অসুবিধার কথা তিনি উল্লেখ করেন। ইন্দোনেশিয়া কয়েক দশ হাজার কর্মী মোতায়েন করেছে; জেলা ও প্রাদেশিক প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থা এ কাজে যুক্ত।
ইন্দোনেশিয়াজুড়ে আগস্টে আগুন নেভানোর তৎপরতা এবং কালিমান্তানে সেপ্টেম্বরে পিটের আগুন মোকাবিলার পরও এ চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সেখানে স্বেচ্ছাসেবীরা মাটির নিচের আগুনে পৌঁছাতে পাম্প, পাইপ ও অস্থায়ী কুয়া ব্যবহার করেছিলেন। শুকনো পিট মাটির নিচে ধিকিধিকি জ্বলতে পারে এবং নিভে গেছে বলে মনে হওয়া এলাকায় আবার আগুন ধরাতে পারে। তাই পানি পৌঁছানোর ব্যবস্থা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিদেশি সহায়তার প্রস্তাব এলে তা কতটা কাজে লাগবে, সেই ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে বলে জানান জুমহুর। ইন্দোনেশিয়ার বিদ্যমান মোতায়েনের পাশে অল্পসংখ্যক অতিরিক্ত কর্মী সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে; আর অতিরিক্ত উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে পরিচালন পরিস্থিতি ও পানির প্রাপ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকা দরকার।
আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া নতুন নয়। মন্ত্রিসচিবালয়ের ২০২১ সালের প্রতিরোধবিষয়ক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো কর্মকর্তাদের প্রতিদিন হটস্পট পর্যবেক্ষণ, গ্রাম পর্যায়ে ব্যবস্থা এবং জলাধার, খাল, কুয়া ও অন্যান্য পদ্ধতিতে পিটভূমি ভেজা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তৎকালীন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট উইদোদো সতর্ক করে বলেছিলেন, আগুন নেভানো কঠিন হয়ে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়।
"প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিন। দেরি করবেন না, কারণ অনেক দেরি হয়ে গেলে এবং আমরা যত খুশি পানি ছোড়ার উড়োজাহাজ পাঠালেও, আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে আগুন নেভানো কঠিন হবে," বলেন প্রেসিডেন্ট।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জলবায়ু দাবির পরিমাপ আলাদা হওয়া দরকার
সরকার বলছে, ধোঁয়াসংশ্লিষ্ট তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ মোকাবিলা কার্যক্রমের অংশ; শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী বিশেষভাবে বিপদের মুখে। আইনে প্রস্তাবিত সংশোধনীর সঙ্গে এ ধরনের অসুস্থতার কোনো হালনাগাদ জাতীয় পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।
জাতিসংঘের দুর্যোগবিষয়ক বিশ্লেষণে কালিমান্তান ও সুমাত্রায় বায়ুর মানের মারাত্মক অবনতির কথা বলা হয়েছে; ধোঁয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়েছে। বারবার ধোঁয়ার সংস্পর্শে স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং পরিবহন, পর্যটন ও দৈনন্দিন জীবনে বিঘ্নের বিষয়টিও এতে তুলে ধরা হয়েছে।
আগুন এড়ানো গেলে নির্গমন কমানো সম্ভব—এই যুক্তিতে বিকল্প জমি পরিষ্কারের সহায়তাকে জলবায়ু অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত করেছেন জুমহুর। তবে পুড়ে যাওয়া জমির আয়তন দিয়ে জলবায়ুতে প্রভাবের পরিমাপ কেন যথেষ্ট নয়, তা জাতিসংঘের বিশ্লেষণে দেখা যায়: এতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে আগুনে পোড়া এলাকার বড় অংশ ছিল ঝোপঝাড় ও অবক্ষয়িত বন; পোড়া জমির আয়তন বেশি হলেও ২০২২ সালের তুলনায় গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কম ছিল।
কী ধরনের উদ্ভিদ ও মাটি পুড়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। পিটে জমে থাকা জৈব পদার্থের কারণে আগুন মাটির নিচে পৌঁছালে সঞ্চিত কার্বন নির্গত হতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী ধোঁয়াও তৈরি হতে পারে। জমি পরিষ্কারে সহায়তা পাওয়া হেক্টরের সংখ্যা গণনা করলেই এড়ানো নির্গমন পরিমাপ করা যাবে না।
তাই পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো হবে সুনির্দিষ্ট: প্রস্তাবিত সংশোধনীর ভাষা, পরামর্শের ব্যবস্থা, বিকল্প জমি পরিষ্কারের অর্থায়ন এবং পোড়া ছাড়পত্রের জমিতে চাষ সীমিত করার আইনি কাঠামো। কোনো শুনানি, ভোট, সহায়তা দেওয়ার সময়সীমা বা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। আপাতত জুমহুরের লক্ষ্য, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চলমান আগুন নেভানো।
মূল বিষয়
- ইন্দোনেশিয়া ২০০৯ সালের ৩২ নম্বর আইনের ৬৯(২) অনুচ্ছেদ সংশোধনের পরিকল্পনা করছে; এতে প্রতি পরিবারে সর্বোচ্চ দুই হেক্টর জমিতে আগুন দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ‘স্থানীয় প্রজ্ঞা’ বিধান তুলে নেওয়া হবে।
- আইনে আগেই আগুন দিয়ে জমি পরিষ্কার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির বিদ্যমান বিধানে স্থানীয় ফসল ও অগ্নিরোধক ফাঁকের শর্ত রয়েছে।
- জুমহুর বলেন, ছাড়পত্রধারী ৬৮টি কোম্পানির কার্যক্রম যাচাইয়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন হিসেবে কয়েক ডজন ব্যক্তির নাম এসেছে।
- আরেকটি প্রস্তাবে পোড়া এবং আগে কখনো চাষ না হওয়া ছাড়পত্রের জমিতে শিল্পভিত্তিক চাষ সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এর আইনি বিস্তারিত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
- দক্ষিণ সুমাত্রা, কালিমান্তান ও অন্যান্য এলাকার সম্প্রদায়গুলোর জন্য জলবায়ু তহবিলসহ বিকল্প জমি পরিষ্কারের সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
- জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৩ সালে ১১ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমি পুড়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, আগুনের নিষেধাজ্ঞা ঐতিহ্যবাহী কৃষকদের ওপর অসমভাবে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।
- সংশোধনীটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি এবং সংসদীয় সময়সূচিও ঘোষণা করা হয়নি। চলমান আগুন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নেভানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন জুমহুর।






