শক্তিশালী এল নিনোর তাপ, খরা ও ধোঁয়াশার মধ্যে দাবানল মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়া

পড়তে 8 মিনিট
শক্তিশালী এল নিনোর তাপ, খরা ও ধোঁয়াশার মধ্যে দাবানল মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়া

বাড়তে থাকা জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অগ্নিনির্বাপকেরা

তীব্র শুষ্ক মৌসুমে আরও বড় সংকটের ঝুঁকি বাড়ায়, কয়েক ডজন হেলিকপ্টারের সহায়তায় প্রায় ৫০ হাজার অগ্নিনির্বাপক ও দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মী ইন্দোনেশিয়াজুড়ে দাবানলের বিরুদ্ধে লড়ছেন। দেশটির বন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে দেশজুড়ে ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি বন ও ভূমি পুড়ে গেছে। ২০২৩ সালের পুরো বছরে যত এলাকা পুড়েছিল, এ পরিমাণ তার দ্বিগুণ।

সূচিপত্র
  1. বাড়তে থাকা জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অগ্নিনির্বাপকেরা
  2. পিটের আগুন নেভানো এত কঠিন কেন
  3. এল নিনো কীভাবে আবহাওয়া বদলে দিচ্ছে
  4. আগুন ছড়ালেও মেঘ বীজায়নের সুযোগ নেই
  5. খরা হুমকিতে ফেলছে কৃষি, পানির সরবরাহ ও অর্থনীতি
  6. সীমান্ত পেরিয়ে ধোঁয়া ছড়াচ্ছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি
  7. সংকটের কেন্দ্রে এখনো ভূমি ব্যবস্থাপনা
  8. যা জানা দরকার

সবচেয়ে দৃশ্যমান আগুনটি জ্বলছে পূর্ব জাভার ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরু জাতীয় উদ্যানে, যেখানে প্রায় ৭৪৩ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। আগুনে শুকনো তৃণভূমি, উদ্ভিদরাজি ও সংরক্ষিত এডেলওয়েইস ফুল পুড়ে গেছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ছে পেনানজাকানের দিকে, যেখান থেকে মাউন্ট ব্রোমোর সুপরিচিত দৃশ্য দেখা যায়।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ উদ্যানটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। কেউ আহত হননি, কিংবা কোনো ভবন খালি করার খবরও পাওয়া যায়নি। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যটক, কর্মী ও আশপাশের জনপদকে সুরক্ষিত রাখতে এই বন্ধের সিদ্ধান্ত জরুরি।

ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী জ্যামারি চ্যানিয়াগো বলেন, এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমের চূড়ান্ত সময়ে বন ও ভূমিতে আগুন লাগার ঝুঁকি বেড়েছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে আগুনের পরিস্থিতি সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় উদ্ভিদ আরও শুকিয়ে যাবে এবং বাতাস আগুন ছড়াতে সাহায্য করবে।

পিটের আগুন নেভানো এত কঠিন কেন

সুমাত্রা ও বোর্নিওর বিভিন্ন এলাকায়ও অগ্নিনির্বাপকেরা কাজ করছেন, যেখানে বিস্তীর্ণ পিটভূমিতে আগুন জ্বলছে। কর্তৃপক্ষ রিয়াউ, জাম্বি ও দক্ষিণ সুমাত্রার পাশাপাশি মধ্য কালিমান্তান ও দক্ষিণ কালিমান্তানেও আগুনের খবর দিয়েছে। জাম্বিতে তিনটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টারের সহায়তায় হাজার হাজার কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

পিট হলো আংশিক পচে যাওয়া উদ্ভিদ উপাদান, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী জলাবদ্ধ মাটিতে জমা হয়েছে। সাধারণ খনিজ মাটির তুলনায় এতে অনেক বেশি কার্বন জমা থাকতে পারে। বাগান বা কৃষিকাজের জন্য পিটভূমি থেকে পানি নিষ্কাশন করা হলে মাটি অত্যন্ত দাহ্য হয়ে ওঠে। আগুন মাটির নিচে ছড়িয়ে পড়ে কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে জ্বলতে পারে, ফলে তা শনাক্ত করা ও নেভানো কঠিন হয়।

গভীর পিট, সীমিত পানির সরবরাহ, প্রবল বাতাস ও দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর অসুবিধা জাম্বিতে আগুন নেভানোর কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। উপরিভাগে আগুন নিয়ন্ত্রণে মনে হলেও মাটির নিচে তা জ্বলতে থাকতে পারে। সাধারণ অগ্নিনির্বাপণের কাজে ব্যবহৃত পানি সেখানে জ্বলন্ত উপাদান পর্যন্ত নাও পৌঁছাতে পারে।

পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলো সতর্ক করে বলেছে, ভূমির ব্যবহার পরিবর্তনের কারণে বিপদ বাড়ছে। মধ্য কালিমান্তানে খাদ্য উৎপাদনের জন্য নির্ধারিত পিটভূমি রয়েছে, যার মধ্যে ধান চাষও অন্তর্ভুক্ত। ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম পরিবেশবাদী সংগঠন ওয়ালহির জানাং পালানুংকাই বলেন, পানি নিষ্কাশন করা পিটভূমিতে চাষাবাদ হলে আগের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

আমরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন পিটভূমিতে চলমান ধান চাষের কার্যক্রম নিয়ে, বলেন জানাং পালানুংকাই।

এ উদ্বেগ মধ্য কালিমান্তানের সাবেক মেগা রাইস প্রকল্পের কথা মনে করিয়ে দেয়। ১৯৯০-এর দশকে বড় বড় খাল খনন করে পিটের উঁচু ভূমি থেকে পানি নিষ্কাশন করা হয়। এতে ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সময় জমিটি অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলোর মতে, বাগানের জন্য বরাদ্দ জমির ওপর দুর্বল নজরদারি ও ভূমি পরিষ্কারের কাজ ঝুঁকি বাড়িয়েই চলেছে।

বিজ্ঞাপন

এল নিনো কীভাবে আবহাওয়া বদলে দিচ্ছে

বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের পানি কয়েক মাস ধরে অস্বাভাবিক উষ্ণ থাকলে এল নিনো শুরু হয়। এই উষ্ণতা সারা বিশ্বের বায়ুচাপ, বাতাস ও বৃষ্টিপাতের ধরনে বিঘ্ন ঘটায়। এ সময় সাধারণত ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় অংশে বৃষ্টি কম হয় এবং তাপমাত্রা বাড়ে।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা—যা বিএমকেজি নামে পরিচিত—সতর্ক করেছে, ২০২৬ সালের শুষ্ক মৌসুম স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘ ও তীব্র হবে। কোনো কোনো এলাকায় মাসে ২০ মিলিমিটারেরও কম বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চল, যার মধ্যে জাভা, বালি, নুসা তেঙ্গারা, দক্ষিণ সুমাত্রা ও দক্ষিণ পাপুয়া রয়েছে।

এল নিনো কতটা শক্তিশালী হবে, তা নিয়ে পূর্বাভাসে ভিন্নতা রয়েছে। কিছু পূর্বাভাসে মাঝারি বা শক্তিশালী এল নিনোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাভাসদাতারা এর অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও দেখিয়েছেন। ব্যতিক্রমী শক্তিশালী এল নিনো বোঝাতে কখনো কখনো অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘গডজিলা এল নিনো’ কথাটি ব্যবহার করা হয়, যদিও এটি কোনো বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিভাগ নয়।

এল নিনোর সঙ্গে অন্যান্য জলবায়ু ধরনও মিলিত হয়। ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোলের ইতিবাচক দশা ইন্দোনেশিয়ার বৃষ্টিপাত আরও কমাতে পারে। দুই ধরন একসঙ্গে দেখা দিলে অতীতের দাবানলের মৌসুমগুলো প্রায়ই আরও ভয়াবহ হয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করেছে, ২০২৬ সালের এল নিনো ইন্দোনেশিয়ার বাইরেও আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলবে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, অনেক স্থলভাগে তাপমাত্রা বাড়বে এবং তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে। সংস্থাটির মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, ঝুঁকির মুখে থাকা জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখতে পূর্বাভাস অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

পূর্বাভাস নিজে থেকে দুর্যোগ ঠেকায় না; মানুষই তা ঠেকায়, বলেন সেলেস্তে সাউলো।

আগুন ছড়ালেও মেঘ বীজায়নের সুযোগ নেই

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বৃষ্টি ঘটানোর উপায় হিসেবে কর্তৃপক্ষ আবহাওয়া পরিবর্তন বা সাধারণভাবে মেঘ বীজায়নের কথা বিবেচনা করেছিল। এ পদ্ধতিতে উপযুক্ত মেঘে লবণের মতো কণা ছড়ানো হয়, যাতে পানির ফোঁটা বা বরফকণা তৈরি হয়ে বৃষ্টি হিসেবে ঝরে পড়ে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এ উপায় কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে সংকটপূর্ণ সময়জুড়ে মেঘ বীজায়নের উপযোগী বৃষ্টিবাহী মেঘ নেই। বনমন্ত্রী রাজা জুলাই আন্তোনি বলেন, তাই কর্মীরা উড়োজাহাজ থেকে পানি ছিটানো এবং মাটিতে কাজ করা দলের ওপর নির্ভর করছেন।

পরিষ্কার আকাশ থেকে মেঘ বীজায়নের মাধ্যমে বৃষ্টি তৈরি করা যায় না। এ জন্য পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও উপযুক্ত বায়ুমণ্ডলীয় গঠনসহ মেঘ প্রয়োজন। তীব্র শুষ্ক মৌসুমে উপযুক্ত মেঘ না থাকলে অগ্নিনির্বাপকদের সামনে আগুন ঠেকাতে মাটিতে প্রতিরোধক রেখা খনন, পানি পাম্প করা এবং আকাশ থেকে আগুনের ওপর পানি ছিটানো ছাড়া আর বেশি উপায় থাকে না।

নতুন করে আগুন লাগতে পারে এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের আহ্বান জানাচ্ছে। ফেলে দেওয়া সিগারেটের অবশিষ্টাংশ, নজরদারিবিহীন রান্নার আগুন এবং আগুন দিয়ে জমি পরিষ্কারের কাজ দ্রুত শুকনো ঘাস বা ক্ষতিগ্রস্ত পিটে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে। মালয়েশিয়া ও অন্যান্য প্রতিবেশী এলাকার কাছাকাছি প্রদেশগুলোতে টহল, আগুনের হটস্পট পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কতার ওপরও কর্মকর্তারা জোর দিচ্ছেন।

খরা হুমকিতে ফেলছে কৃষি, পানির সরবরাহ ও অর্থনীতি

দাবানলের জরুরি পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত খরা সংকটের অংশ। ইন্দোনেশিয়ার গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৪৯২টি স্থানে খরা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে ৪৪২টি স্থানের কাজ শেষ হয়েছে, আর ৫০টি স্থানে কাজ চলছে।

এই পদক্ষেপে ২২ হাজার ২১০ হেক্টর ধানখেত সুরক্ষিত হয়েছে এবং ১ লাখ ৫৫ হাজার ২২৮ জনকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়েছে। অধিকাংশ কাজ হয়েছে জাভায়। সেখানে ৩০৫টি স্থান, ১২ হাজার ৮৭৫ হেক্টর কৃষিজমি এবং ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি বাসিন্দা সহায়তা পেয়েছেন।

অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে জরুরি ভিত্তিতে পানি বিতরণ, সেচ ব্যবস্থাপনার উন্নতি, গভীর নলকূপ স্থাপন, পানির মজুত রক্ষণাবেক্ষণ এবং খরা সহনশীল ফসলের জাত ব্যবহার। ফসলহানির প্রভাব কমাতে সরকার কৃষি বিমা ও চালের মজুতের কথাও বিবেচনা করছে।

অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া বলেন, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্যাকেজ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো। এ বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এখনো আলোচনা চলছে। সরকারের পরিকল্পনাকারীদের ধারণা, আগেভাগে পদক্ষেপ না নিলে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ক্ষতির পরিমাণ ২ কোয়াড্রিলিয়ন রুপিয়ার বেশি হতে পারে, যা প্রায় ১১ হাজার ১০০ কোটি ডলার।

এল নিনোর কারণে ধান, পাম তেল ও কফির উৎপাদন কমতে পারে। একই সময়ে ঘরে ঘরে পাখা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে পারে। জলাধারে পানির স্তর কমে গেলে সেচ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনও হ্রাস পেতে পারে। পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যাওয়ায় মৎস্য ও জলজ চাষও চাপে পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

সীমান্ত পেরিয়ে ধোঁয়া ছড়াচ্ছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি

ইন্দোনেশিয়ার আগুন প্রায়ই আঞ্চলিক ধোঁয়াশা তৈরি করে। মৌসুমি বাতাসের দিক বদলালে সুমাত্রা ও বোর্নিওর ধোঁয়া মালাক্কা প্রণালি পেরিয়ে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে পৌঁছাতে পারে।

মালয়েশিয়ার সারাওয়াক ও সেলাঙ্গরের কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যে অস্বাস্থ্যকর বায়ুর মান রেকর্ড করা হয়েছে। সেরিয়ানে বায়ুদূষণ সূচক ছিল ১৮৫, আর কুচিংয়ে ১৬৫। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সময় বাতাস কালিমান্তানের আগুনের ধোঁয়া সারাওয়াকের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।

ধোঁয়াশায় পিএম২.৫ নামে পরিচিত সূক্ষ্ম কণা থাকে, যা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে হাঁপানি, হৃদ্‌রোগ ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বাড়াতে পারে। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও বাইরে কাজ করা ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। পেকানবারুতে ধোঁয়াশার কারণে প্রধান বিমানবন্দরে দৃশ্যমানতা কমেছে। রিয়াউয়ের অন্যান্য এলাকার বাসিন্দারাও দীর্ঘস্থায়ী ধোঁয়ার খবর দিয়েছেন।

শুষ্ক আবহাওয়ায় ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও অনিরাপদ পানির কারণে হওয়া রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা কঠিন হয়ে পড়ায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ রোগ পর্যবেক্ষণ, জনসাধারণের জন্য সতর্কবার্তা এবং বিশুদ্ধ পানির সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অতীতের দাবানলের মৌসুমগুলো বিপদের সম্ভাব্য ব্যাপ্তি দেখায়। ২০১৫ সালের আগুনে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরজুড়ে ব্যাপক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল এবং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছিলেন কয়েক লাখ মানুষ। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সালের এল নিনোর সময়ের আগুনও বন, পিটভূমি ও জনস্বাস্থ্যের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করেছিল।

সংকটের কেন্দ্রে এখনো ভূমি ব্যবস্থাপনা

আবহাওয়ার কারণে আগুনের ঝুঁকি বাড়ছে, তবে অনেক আগুনের সূত্রপাত হয় মানুষের কর্মকাণ্ডে। ক্ষুদ্র কৃষকেরা জমি পরিষ্কারের জন্য আগুন ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে বাগানের কাজ ও অবৈধভাবে জমি পরিষ্কার করার ফলে আরও বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলোর মতে, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রায়ই বৈষম্য দেখা যায়। যেসব বাগানের জন্য বরাদ্দ জমিতে বারবার আগুন লাগে, সেসব প্রতিষ্ঠানের তুলনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বেশি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে পাম তেল ও কাঠ উৎপাদনের জন্য বরাদ্দ অনেক জমির ভেতরে আগুনের হটস্পট শনাক্ত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নজরদারি জোরদার করা, পিটভূমিতে পানির স্তর পুনরুদ্ধার এবং অবহেলা বা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনায় চারটি বিস্তৃত ক্ষেত্র রয়েছে: কৃষি ও বন, জ্বালানি ও পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং মৎস্য ও খাদ্য। কর্মকর্তারা আগুনের বিরুদ্ধে টহলের সঙ্গে সেচ মেরামত, পিটভূমি পুনরুদ্ধার, জরুরি পানির সরবরাহ এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল রোগ মোকাবিলার পরিকল্পনা সমন্বয় করছেন।

তাৎক্ষণিক কাজ হলো বছরের সবচেয়ে শুষ্ক মাসগুলোতে বর্তমান আগুনের বিস্তার ঠেকানো। দীর্ঘমেয়াদি কাজ হলো পানি নিষ্কাশন করা পিট, দুর্বল ব্যবস্থাপনায় থাকা বরাদ্দ জমি এবং আগুনপ্রবণ এলাকায় উন্নয়নের কারণে তৈরি ঝুঁকি কমানো। এসব পরিবর্তন না হলে প্রতিটি তীব্র এল নিনো মৌসুমি শুষ্ক সময়কে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে পরিণত করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

যা জানা দরকার

  • ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়েছে।
  • ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরু জাতীয় উদ্যানে প্রায় ৭৪৩ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।
  • প্রায় ৫০ হাজার অগ্নিনির্বাপক ও দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মী আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত রয়েছেন।
  • বৃষ্টিবাহী উপযুক্ত মেঘ না থাকায় মেঘ বীজায়ন করা যাচ্ছে না।
  • খরা মোকাবিলার কাজ ৪৯২টি স্থানে পৌঁছেছে এবং ১ লাখ ৫৫ হাজার ২২৮ জনকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করেছে।
  • ধোঁয়ার কারণে মালয়েশিয়ার কিছু এলাকায় বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।
  • আগুনের জন্য আগস্ট ও সেপ্টেম্বরকে সবচেয়ে বিপজ্জনক মাস বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে