ফেরত পাঠানোর আদেশেও মেয়েকে ঘরে ফেরাতে পারেননি তিনি
দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের সগুইপো শহরের পিয়োসন-মিয়নে ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটের দিকে একটি পার্ক করা গাড়িতে চার বছর বয়সী এক মেয়ে ও তার বাবার মরদেহ পাওয়া যায়। মেয়েটির অস্ট্রেলীয় মা বলেন, আদালত থেকে মেয়েকে ফেরত পাঠানোর আদেশ পাওয়ার পরও তিনি কয়েক মাস ধরে পুলিশকে শিশুটিকে খুঁজে বের করতে, তার নিরাপত্তা যাচাই করতে এবং বাবার কাছ থেকে আলাদা করতে অনুরোধ করেছিলেন।
সূচিপত্র
শুধু ‘বি.’ নামে পরিচিত মা বলেন, ৩০ মার্চ প্রাথমিক রায়ে তিনি জয়ী হন এবং ৩০ সেপ্টেম্বর আপিলেও জেতেন। ২ অক্টোবর তিনি জেজু প্রাদেশিক পুলিশ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়েকে খুঁজে বের করা ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে বলা হয়েছিল, কোনো কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি এবং পরে কেউ তাঁকে ফোন করবেন। তিনি বলেন, সেই ফোন আর আসেনি।
১৩ অক্টোবর বি. বলেন, দক্ষিণ কোরীয় পুলিশের কাছে বারবার সাহায্য চাওয়ার পাশাপাশি তিনি অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেও সহায়তা চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, এত কেঁদেছেন যে চোখের পানি ফুরিয়ে গেছে।
কোরীয় পুলিশ আমার ফোনের জবাব দেয়নি, আমার অনুরোধেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তারা আমাকে উপেক্ষা করেছে। আমি আর কী করতে পারতাম?
পরিবারের অভিযোগ, বাবা শিশুটিকে হত্যা করেছেন। গাড়ির ভেতরে একটি কয়লার ব্রিকেট এবং তাঁর জন্য নির্ধারিত খোলা হয়নি এমন বিষণ্নতার ওষুধ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এসব তথ্য এককভাবে মৃত্যুর চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক কারণ বা ঘটনাক্রম প্রমাণ করে না। মামলার বিবরণে পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক পরীক্ষার কোনো ফল উল্লেখ করা হয়নি।
বিতর্কের মূল বিষয়, ১২ অক্টোবরের আগে কর্তৃপক্ষ কী জানত এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে তারা কী করেছিল। পুলিশ জানায়, তারা ঘটনাগুলোর বিবরণ গুছিয়ে পরে জানাবে। ফলে ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় মায়ের অভিযোগের বিস্তারিত কোনো জবাব জনসমক্ষে আসেনি।
কীভাবে শিশুটি দক্ষিণ কোরিয়ায় আসে
‘এ.’ নামে পরিচিত এবং চল্লিশোর্ধ্ব বলে বর্ণিত বাবা অস্ট্রেলিয়ায় থাকতেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানের হেফাজত নিয়ে মামলা চলার সময় আগের বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে তিনি বি.-এর সম্মতি ছাড়াই মেয়েকে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিয়ে আসেন।
বি. হেগ কনভেনশনের আওতায় শিশুকে ফেরত পাঠানোর মামলা করেন। এ প্রক্রিয়ায় সাধারণত বিবেচনা করা হয়, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে নিয়ে যাওয়া শিশুকে তার স্বাভাবিক বসবাসের দেশে ফেরত পাঠানো উচিত কি না। শিশুকে ফেরত পাঠানোর মামলা কোন অভিভাবক চূড়ান্তভাবে হেফাজত পাবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত থেকে আলাদা।
একটি বিবরণে ৩০ মার্চের সিদ্ধান্তকে বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকরের অনুমতি দেওয়া সিউল পারিবারিক আদালতের রায় বলা হয়েছে। অন্য একটি বিবরণে মামলাটি অস্ট্রেলিয়ায় হয়েছে এবং সেটিকে হেফাজত-সংক্রান্ত রায় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ফলে আদালত এবং সিদ্ধান্তের প্রকৃতি নিয়ে বিবরণগুলোতে অমিল রয়েছে। বি.-এর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর আইনি পদক্ষেপটি ছিল হেগ কনভেনশনের আওতায় শিশুকে ফেরত পাঠানোর মামলা এবং ৩০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় আপিলেও তিনি জয়ী হন।
মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে নিতে বি. এপ্রিলে দক্ষিণ কোরিয়া যান। তত দিনে এ. সিউল ছেড়ে সগুইপোতে চলে গিয়েছিলেন। বি. বলেন, তিনি শিশুকে নিয়ে বারবার জায়গা বদল করছিলেন, ফলে ফেরত পাঠানোর আদেশ কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ে।
নিখোঁজের অভিযোগ ও সংক্ষিপ্ত নিরাপত্তা যাচাই
বি. তাঁর নিখোঁজ ব্যক্তির প্রতিবেদনটি ১৩ এপ্রিল দাখিলের কথা বলেন, অন্য বিবরণগুলোতে তা এপ্রিলের শুরুর দিকে করা হয়েছিল বলে সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সগুইপো পুলিশকে মেয়েকে খুঁজে বের করতে এবং আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকরে সহায়তা করতে বলেন।
বি.-এর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ বাবার ও শিশুটির সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করে। এরপর শিশুটি নিরাপদ আছে বলে মনে করে নিখোঁজের মামলাটি বন্ধ করে দেয়। তিনি বলেন, মেয়েটি আসলে কোথায় থাকছিল, তা পুলিশ নিশ্চিত করেনি বা শুরুতে সরাসরি গিয়ে তার পরিস্থিতি যাচাই করেনি।
আরও অনুরোধের পর এপ্রিলে পুলিশ এ. ও শিশুটিকে নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য একটি পুলিশ ফাঁড়িতে ডাকে। বি. বলেন, ওই সাক্ষাৎ প্রায় দুই মিনিট স্থায়ী হয়েছিল এবং শিশুটি কোথায় থাকছে তা খুঁজে বের করতে বা তাকে বাবার কাছ থেকে আলাদা করতে পরবর্তী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ওই সাক্ষাতের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ: অভিযোগটি এই নয় যে পুলিশ কখনো শিশুটির সঙ্গে যোগাযোগই করেনি। অভিযোগ হলো, তাদের যোগাযোগে মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে মায়ের উদ্বেগের নিরসন হয়নি বা আদালতের ফেরত পাঠানোর আদেশ কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। বি. বলেন, মা-মেয়ে বা বাবা-মেয়ে জুটি মোটেল বদলাচ্ছে কি না কিংবা খোলা জায়গায় রাত কাটাচ্ছে কি না, তা কেউ যাচাই করেনি। এগুলো তদন্তের জন্য তাঁর উদ্বেগ ছিল, তাদের বসবাসের ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য নয়।
আগের নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে
এপ্রিল মাসে বি. পুলিশের কাছে সাহায্য চাওয়ার আগে, ২২ মার্চ এ.-এর বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের সন্দেহে একটি প্রতিবেদন করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়েছিল, শিশুটি বারবার কাঁদছিল। ওই অভিযোগের পর পুলিশ ও সগুইপো সিটি কর্তৃপক্ষ মাঠপর্যায়ে দুটি তদন্ত চালায় বলে জানা গেছে।
নির্যাতনের সন্দেহে প্রতিবেদন করা মানেই নির্যাতন ঘটেছে বলে প্রমাণিত হওয়া নয়। তবে মায়ের অভিযোগের ক্ষেত্রে এর অস্তিত্ব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই শিশু ও বাবাকে নিয়ে কর্তৃপক্ষ এর আগেও উদ্বেগের কথা পেয়েছিল।
বি. বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাওয়ার পরই তিনি মার্চের ওই অভিযোগের কথা জানতে পারেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় নিখোঁজের প্রতিবেদন দাখিল করার সময় পুলিশ তাঁকে এ বিষয়ে জানায়নি বলে তিনি জানান।
মূল বিবরণে আরও বলা হয়েছে, বি.-এর অনুসন্ধানের জবাবে বিচার মন্ত্রণালয় জানতে পারে, মার্চের নির্যাতনের অভিযোগ বা জুনে শিশুটিকে খুঁজে বের করার অনুরোধ নিয়ে পুলিশের কোনো প্রতিবেদন লেখা হয়নি। অন্য বিবরণগুলোতে কাগজপত্রের ঘাটতিকে নির্যাতনের তদন্তের পর ফলাফলসংক্রান্ত প্রতিবেদন না থাকার বিষয় হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কোনো নথি এখানে পুনরুৎপাদন করা হয়নি, তাই তাদের অনুসন্ধানের সুনির্দিষ্ট পরিধি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বি. বলেন, ১৩ অক্টোবর তিনি পুলিশকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আগের অভিযোগের বিষয়ে তাঁকে কেন জানানো হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা স্বীকার করেন যে তাঁরা বিষয়টি যাচাই করেননি এবং ক্ষমা চান। তদন্তের ফলাফলের প্রতিবেদন না থাকার কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা পাননি বলেও তিনি জানান।
অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেও অনুরোধ অব্যাহত
অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাওয়ার পরও বি. অস্ট্রেলীয় দূতাবাস ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মেয়ের অবস্থান ও নিরাপত্তা সম্পর্কে তথ্য জানতে চেষ্টা চালিয়ে যান। তিনি বলেন, শিশুটিকে খুঁজে বের করতে এবং সম্ভাব্য নির্যাতনের বিষয়টি যাচাই করতে অস্ট্রেলীয় পুলিশ এপ্রিলে ও জুলাইয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরীয় পুলিশের কাছে অনুরোধ পাঠায়।
ইন্টারপোল জাতীয় পুলিশ বাহিনীগুলোর মধ্যে সহযোগিতার একটি মাধ্যম। ওই মাধ্যমে অনুরোধ পাঠানো হলেই কর্মকর্তারা কী যাচাই করেছেন, শিশুটিকে খুঁজে পেয়েছেন কি না বা এরপর কী সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন, তা প্রমাণ হয় না। তাই এসব অনুরোধকে নিশ্চিত কোনো জবাব থেকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
বি. আরও বলেন, মে ও জুনে তিনি জেজু পুলিশকে বারবার ফোন করে সাবেক স্বামীর শারীরিক-মানসিক অবস্থা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন এবং শিশুটিকে তাঁর কাছ থেকে আলাদা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর মানসিক আঘাতজনিত সমস্যার চিকিৎসায় এ.-কে ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। পরে বি. কর্তৃপক্ষকে বলেন, তাঁর বিশ্বাস, এ. ঠিকমতো ওষুধ খাচ্ছিলেন না।
এসব বক্তব্য মায়ের উদ্বেগের বিবরণ, স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো চিকিৎসা মূল্যায়ন নয়। মানসিক রোগ নির্ণয় বা ওষুধের ব্যবস্থাপত্র থাকলেই কারও সহিংসতার ঝুঁকি প্রমাণিত হয় না। তাঁর অভিযোগের প্রশ্ন হলো, নির্দিষ্ট সতর্কবার্তা, আগের নির্যাতনের অভিযোগ এবং চলমান ফেরত পাঠানোর মামলার প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ শিশুটির নিরাপত্তা যাচাই করেছিল কি না।
দেশ ছাড়ার পরিকল্পনার খবরের পর জরুরি পদক্ষেপ
২ অক্টোবর এ. সগুইপোর শিশুযত্ন কেন্দ্রে যোগাযোগ করে জানান, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন, তাই শিশুটি আর সেখানে আসবে না বলে জানা গেছে। বি. ওই বার্তার কথা জানতে পেরে অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের মাধ্যমে জরুরি পদক্ষেপ চান।
৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত শিশুটির পাসপোর্ট বাতিল করে বলে জানা গেছে। দেশ ছাড়তে বাধা দেওয়ার ব্যবস্থা হিসেবে এ পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এতে বিদেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা মোকাবিলা করা হয়েছিল। তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় শিশুটি কোথায় থাকছিল, তা এর মাধ্যমে জানা যায়নি বা সুরক্ষামূলক হস্তক্ষেপের জন্য মায়ের অনুরোধেরও সমাধান হয়নি।
বি. বলেন, প্রস্তাবিত বিদেশযাত্রা, এ.-এর আচরণ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ এবং মেয়েকে খুঁজে বের করে সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনের কথা জানাতে তিনি ২ অক্টোবর জেজু প্রাদেশিক পুলিশ সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন। ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত, অর্থাৎ মরদেহ উদ্ধারের পরদিনও, তিনি কোনো ফোন পাননি বলে জানান।
দেশ ছাড়ার পরিকল্পনার খবরটি আসে ৩০ সেপ্টেম্বর আপিলে তাঁর জয়ের মাত্র দুই দিন পর। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে অনুকূল আদালতের রায় এবং পাসপোর্ট বাতিলের জরুরি সিদ্ধান্তের পর শিশুটির মৃত্যু হয়।
১২ অক্টোবরের আগের ঘটনাক্রম
প্রতিবেদনগুলোতে কয়েক মাস ধরে বারবার আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের কথা উঠে এসেছে। এপ্রিলের নিখোঁজের প্রতিবেদন করার সঠিক তারিখ এবং মার্চের রায়ের জন্য কোন আদালত দায়ী ছিল—এমন কিছু বিবরণে ভিন্নতা রয়েছে।
- আগের বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে: এ. বি.-এর সম্মতি ছাড়াই শিশুটিকে অস্ট্রেলিয়া থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিয়ে আসেন বলে জানা গেছে।
- ২২ মার্চ: শিশু নির্যাতনের সন্দেহে অভিযোগ করা হয়। পুলিশ ও সগুইপো সিটি কর্তৃপক্ষ মাঠপর্যায়ে দুটি তদন্ত চালায় বলে জানা গেছে।
- ৩০ মার্চ: বাধ্যতামূলকভাবে রায় কার্যকরের অনুমতি দিয়ে একটি অনুকূল রায় বি. পান বলে জানা গেছে, যদিও আদালত ও মামলার ধরন নিয়ে বিবরণে অমিল রয়েছে।
- এপ্রিল: বি. দক্ষিণ কোরিয়া যান, পুলিশের সহায়তা চান এবং নিখোঁজের প্রতিবেদন দাখিল করেন, যার তারিখ তিনি ১৩ এপ্রিল বলে উল্লেখ করেছেন। পুলিশ ভিডিও কলে এবং পরে একটি ফাঁড়িতে শিশুটির সঙ্গে যোগাযোগ করে।
- এপ্রিল থেকে জুলাই: বি. বলেন, তিনি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অনুরোধ জানানো অব্যাহত রাখেন। অস্ট্রেলীয় পুলিশও এপ্রিলে ও জুলাইয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
- ৩০ সেপ্টেম্বর: বি. বলেন, শিশুকে ফেরত পাঠানোর মামলায় পরবর্তী আপিলেও তিনি জয়ী হন।
- ২ ও ৩ অক্টোবর: এ. যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার কথা জানান বলে জানা গেছে। বি. পুলিশের কাছে সুরক্ষা চান এবং পরদিন অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত শিশুটির পাসপোর্ট বাতিল করে বলে জানা গেছে।
- ১২ অক্টোবর: সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটের দিকে একটি পার্ক করা গাড়িতে শিশুটি ও তার বাবার মরদেহ পাওয়া যায়।
পুলিশের প্রতিশ্রুত বিবরণ দেওয়ার কোনো তারিখ জানানো হয়নি এবং আগের প্রতিটি অনুরোধ কীভাবে সামলানো হয়েছিল, তা প্রতিষ্ঠা করে এমন পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানও নেই। অমীমাংসিত প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে কাগজপত্রের ঘাটতি, সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং মৃত্যুর আগে কেন আলাদা করা বা ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা হয়নি।
মূল বিষয়গুলো
- ১২ অক্টোবর সগুইপোর একটি গাড়িতে চার বছর বয়সী এক মেয়ে ও তার বাবার মরদেহ পাওয়া যায়।
- মায়ের অভিযোগ, শিশুটিকে খুঁজে বের করা ও সুরক্ষার জন্য বারবার অনুরোধ করেও কার্যকর পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি।
- ২২ মার্চ শিশু নির্যাতনের সন্দেহে করা অভিযোগের পর দুটি মাঠপর্যায়ের তদন্ত হয়েছিল বলে জানা গেছে, তবে বি. বলেন, এপ্রিলে সাহায্য চাইতে গিয়ে তাঁকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি।
- শিশুকে ফেরত পাঠানোর মামলায় ৩০ সেপ্টেম্বরের আপিলজয়সহ অনুকূল সিদ্ধান্ত পেয়েছিলেন বি., কিন্তু তাঁর মেয়ে ফেরত আসেনি।
- যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পরিকল্পনার পর ৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত শিশুটির পাসপোর্ট বাতিল করে বলে জানা গেছে।
- পুলিশ পরে ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে মৃত্যুর কারণ বা আগের সতর্কবার্তাগুলো কীভাবে সামলানো হয়েছিল, তার পূর্ণ বিবরণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।






