বাকি একটি অভিযোগ, অঙ্ক সর্বোচ্চ ১.৫ বিলিয়ন পেসো
২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারাহ দুতার্তের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করেছে সিনেটের অভিশংসন আদালত। ফলে বাকি রয়েছে ব্যাখ্যাতীত সম্পদের অভিযোগ, যেখানে আইনজীবী ও হিসাবরক্ষক আলেকজান্ডার ক্যাব্রেরা ৮১৭ মিলিয়ন থেকে ১.৫ বিলিয়ন পেসোর একটি হিসাব তুলে ধরেছেন। ৯ নভেম্বর কার্যক্রম আবার শুরু হলে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য ও প্রমাণ উপস্থাপন শুরু করার কথা রয়েছে।
সূচিপত্র
- বাকি একটি অভিযোগ, অঙ্ক সর্বোচ্চ ১.৫ বিলিয়ন পেসো
- মামলা থেকে সিনেট যে অভিযোগগুলো বাদ দিল
- কেন অভিযোগপক্ষ বিচারকে সীমিত করল
- সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগে আসলে কী রয়েছে
- জবাব দেওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রতিরক্ষা পক্ষের আপত্তি
- করোনা নজির ও আদালতের এখতিয়ার
- জনসমক্ষে আলোচনা করা যাবে, তবে সীমা বহাল
- পদত্যাগের কথা নাকচ দুতার্তের, অন্য অভিযোগের তদন্ত চলছে
- সময়সূচি ও রায়ের গুরুত্ব
- মূল বিষয়গুলো
এই সিদ্ধান্তে গোপন তহবিল, শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের ঘুষ এবং প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রকে গুরুতর হুমকির অভিযোগগুলো আদালতের চূড়ান্ত ভোটের বাইরে চলে গেল। তবে এসব অভিযোগে এটি খালাস নয়। সভাপতিত্বকারী কর্মকর্তা সিনেটর ফ্রান্সিস এসকুদেরো রায় দিয়েছেন, প্রত্যাহার করা অভিযোগগুলোতে সিনেটররা দোষী বা নির্দোষ—কোনোটিই ঘোষণা করবেন না।
বাকি থাকা দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে দুতার্তে ও তাঁর স্বামী মানাসেস কারপিওর কথিত অঘোষিত সম্পদ এবং নিষিদ্ধ ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয় রয়েছে। সংবিধান লঙ্ঘন এবং জনআস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে তাঁকে অপসারণের আবেদন করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছে অভিযোগপক্ষ। দুতার্তে অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন; সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আদালত এখনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।
মামলার পরিধি সংকুচিত করার সিদ্ধান্তের আগে বাদ দেওয়া দুটি অভিযোগ নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে জনসমক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। প্রধান প্রতিরক্ষা আইনজীবী শিলা সিসন যুক্তি দেন, দুতার্তে নিজের প্রমাণ উপস্থাপনের আগেই অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করলে ক্ষতিকর অভিযোগগুলো জনসমক্ষে থেকে যাবে, অথচ আদালতে সেগুলোর জবাব দেওয়ার সমান সুযোগ তিনি পাবেন না।
এই রায়ে প্রত্যাহার করা অভিযোগগুলো নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনার অধিকার নিয়েও আলাদা বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। এসকুদেরো ওই অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ওপর অভিশংসন আদালতের বিধিনিষেধ তুলে নেন। তবে প্রতিরক্ষা পক্ষ আপত্তি জানায় এবং সিনেটর ফ্রান্সিস পাংলিনান পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে আলোচনার জন্য আদালতের কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার সময়ও বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি।
মামলা থেকে সিনেট যে অভিযোগগুলো বাদ দিল
প্রত্যাহার করা অনুচ্ছেদগুলোতে তিন ধরনের আলাদা অভিযোগ ছিল। প্রথম অনুচ্ছেদে ভাইস প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও শিক্ষা বিভাগে গোপন তহবিলের কথিত অপব্যবহার বা আত্মসাতের কথা ছিল। তৃতীয় অনুচ্ছেদে শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ছিল। চতুর্থ অনুচ্ছেদে গুরুতর হুমকির অভিযোগ ছিল; এর মধ্যে মার্কোস, ফার্স্ট লেডি এবং হাউসের সাবেক এক স্পিকারকে হত্যার শর্তসাপেক্ষ হুমকির অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত।
এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দুতার্তে কথিতভাবে বলেছিলেন, তাঁকে আগে হত্যা করা হলে ওই ব্যক্তিদের হত্যা করার ব্যবস্থা তিনি করে রেখেছেন—এই অভিযোগ থেকেই হুমকির বিষয়টি ওঠে। দুতার্তে ও তাঁর শিবির তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে।
অভিযোগপক্ষ কত দূর এগিয়েছিল, তার ভিত্তিতে প্রত্যাহারের বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করেন এসকুদেরো। গোপন তহবিল ও গুরুতর হুমকির অনুচ্ছেদ দুটি পুনরায় আনার সুযোগ না রেখে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর রায় অনুযায়ী, একই মেয়াদে এবং ২০তম কংগ্রেস চলাকালে দুতার্তের বিরুদ্ধে এগুলো আবার আনা, নতুন করে দায়ের বা বিচার করা যাবে না।
ঘুষের অনুচ্ছেদটি পুনরায় আনার সুযোগ রেখে প্রত্যাহার করা হয়েছে, কারণ কৌঁসুলিরা এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। এই পার্থক্যের ফলে পরে আরেকটি কার্যক্রমের সম্ভাবনা খোলা থাকছে; তবে এর মানে এই নয় যে আরেকটি মামলা দায়ের হয়েছে বা তা অবশ্যই হবে।
ঘটনার ক্রম কীভাবে বর্ণনা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার তিনটি অনুচ্ছেদই প্রত্যাহার করা হয়েছে। অন্যগুলো বলছে, কৌঁসুলিরা আগের সপ্তাহেই ঘুষের অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন এবং পরে বাকি দুটি বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে ফলাফল নিয়ে প্রতিবেদনগুলো একমত: প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ অনুচ্ছেদে রায় হবে না।
কেন অভিযোগপক্ষ বিচারকে সীমিত করল
হাউসের অভিযোগপক্ষের প্যানেলের নেতৃত্বে থাকা বাতাঙ্গাসের দ্বিতীয় জেলার প্রতিনিধি জারভিল লুইস্ত্রো বলেন, জনগণ, আদালত, অভিযোগপক্ষ ও প্রতিরক্ষা পক্ষের বিষয়গুলো বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাসাই সিটিতে সিনেটের এক সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি কৌঁসুলি লর্না কাপুনানের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে তিনি একে প্যানেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলে বর্ণনা করেন।
লুইস্ত্রোর মূল যুক্তি ছিল, দ্বিতীয় অনুচ্ছেদটি একাই টিকে থাকতে পারে। অভিশংসন আদালতে তিনি বলেন, অন্য তিনটি অনুচ্ছেদ চালিয়ে না গিয়েও ওই অভিযোগের ভিত্তিতে দুতার্তেকে অপসারণের আবেদন করার মতো প্রমাণ রয়েছে।
"আমরা মনে করি, প্রমাণগুলো যথেষ্ট ও জোরালো এবং সংবিধান লঙ্ঘন ও জনআস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে অভিযুক্তকে পদ থেকে অপসারণের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করে," বলেন লুইস্ত্রো।
দীর্ঘ কার্যক্রম নিয়ে জনসাধারণের অধৈর্যতা এবং সিনেটরদের আইন প্রণয়নসংক্রান্ত দায়িত্বের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। চারটির মধ্যে তিনটি অনুচ্ছেদ বাদ দেওয়ায় রায়ের অপেক্ষায় থাকা অভিযোগের সংখ্যা ৭৫ শতাংশ কমেছে, তবে এতে বাকি শুনানি কতটা সংক্ষিপ্ত হবে তা নিশ্চিত হয় না।
আর কতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য দেওয়ার প্রয়োজন হবে না, তা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে মতভেদ রয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে সংখ্যা ৩২ বলা হয়েছে, অন্য একটিতে বলা হয়েছে ১২। প্রত্যাহারের ফলে পরিকল্পিত সাক্ষ্যগ্রহণ যে কমেছে, তা স্পষ্ট; তবে সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। প্রতিরক্ষা পক্ষের উল্লেখ করা ১৪ জন সাক্ষী বলতে ইতিমধ্যে যাঁদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে তাঁদের বোঝানো হয়েছে, ভবিষ্যতে যাঁদের সাক্ষ্য বাতিল হবে তাঁদের নয়।
সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগে আসলে কী রয়েছে
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে শুধু দুতার্তের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ থাকার দাবি করা হয়নি। এতে তাঁর সম্পদ, দায় ও নিট সম্পদের বিবরণী—যা সালন (SALN) নামে পরিচিত—থেকে সম্পদ বাদ পড়ার অভিযোগ রয়েছে। সংবিধানে নিষিদ্ধ ব্যবসায়িক স্বার্থ থেকে সরে না আসার অভিযোগও এতে রয়েছে। কারপিওর কথিত নিষিদ্ধ ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়টিও এর অন্তর্ভুক্ত।
সালন হলো কোনো কর্মকর্তার সম্পদ, ঋণ ও নিট সম্পদের ঘোষণা। ফিলিপাইনের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিবছর এই বিবরণী জমা দিতে হয়। এ মামলায় সিনেটরদের সম্পদের পরিমাণকেই অসদাচরণের প্রমাণ হিসেবে না ধরে, তথ্য গোপন ও ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়ে অভিযোগপক্ষের দাবিগুলো মূল্যায়ন করতে হবে।
অভিযোগ প্রত্যাহারের আগের সপ্তাহে আদালত অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিল, ব্যাংক ও বিমা কোম্পানির কর্মকর্তা এবং ক্যাব্রেরার সাক্ষ্য শুনেছে। বাকি অভিযোগের সমর্থনে কৌঁসুলিরা কর বিভাগের কর্মকর্তাদেরও হাজির করেন।
দুতার্তে ও কারপিওর ৮১৭ মিলিয়ন থেকে ১.৫ বিলিয়ন পেসোর ব্যাখ্যাতীত সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন ক্যাব্রেরা। এটি সাক্ষ্যগ্রহণে উপস্থাপিত একটি অভিযোগ, সিনেটের সিদ্ধান্ত নয়। নিম্ন ও উচ্চ হিসাবের মধ্যে ৬৮৩ মিলিয়ন পেসোর পার্থক্য থাকায় হিসাবটি কীভাবে করা হয়েছে, তা মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জনসমক্ষে বর্ণনা করা প্রমাণের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক নথি ও সাক্ষীর বক্তব্য রয়েছে। তাঁদের সাক্ষ্য দেওয়া থেকেই নিজে নিজে প্রমাণ হয় না যে সম্পদ গোপন করা হয়েছে বা ব্যবসায়িক স্বার্থ বেআইনি ছিল। প্রতিরক্ষা পক্ষের জবাব এবং সিনেটরদের মূল্যায়নের অপেক্ষায় রয়েছে এসব দাবি।
জবাব দেওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রতিরক্ষা পক্ষের আপত্তি
সিসন বলেন, প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেনি প্রতিরক্ষা পক্ষ। তাঁদের আপত্তি ছিল, শুনানিতে অভিযোগপক্ষ ইতিমধ্যে অভিযোগ ও প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপন করার পর প্রতিরক্ষা পক্ষ কীভাবে এগোবে, তা কে ঠিক করতে পারে—সেই প্রশ্নে।
তিনি যুক্তি দেন, অভিযোগপক্ষের প্রমাণ খণ্ডন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে ছিলেন দুতার্তে। অভিযোগ ও জবাবের ভারসাম্য গুরুতরভাবে নষ্ট হলে বিচারপ্রক্রিয়া বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও প্রতিরক্ষা পক্ষ সতর্ক করে। এটি আইনজীবীর তোলা আইনি আপত্তি; বিচার অবৈধ—এমন কোনো রায় নয়।
লুইস্ত্রোর জবাব, জেরা করার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা পক্ষ সাক্ষীদের চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পেয়েছে এবং অন্য মঞ্চেও প্রত্যাহার করা অভিযোগগুলোর জবাব দিতে পারবে। আদালতের বাইরে জনসমক্ষে বক্তব্য আদালতের কার্যক্রমে প্রতিরক্ষা পক্ষের নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের বিকল্প হতে পারে—এই ধারণা নাকচ করেন সিসন।
আতেনেও দে ম্যানিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিসি সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল হেনরি ইউসিংকো প্রতিরক্ষা পক্ষের উদ্বেগের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি যুক্তি দেন, জনসমক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের পর গোপন তহবিল ও হুমকির অভিযোগ প্রত্যাহার করা দুতার্তের ন্যায্য প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। তবে তাঁর এই মূল্যায়ন প্রত্যাহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত থেকে আলাদা।
এ বিরোধে এমন দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা যায়, যা অন্যথায় একই মনে হতে পারে: কোনো অভিযোগের বিষয়ে সিনেটরদের সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত কি না, এবং ইতিমধ্যে শোনা প্রমাণ খণ্ডনের সুযোগ অভিযুক্তের থাকা উচিত কি না। এসকুদেরো রায় দিয়েছেন, প্রত্যাহার করা অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রতিরক্ষা পক্ষকে প্রমাণ দিতে হবে না। তিনি আরও বলেন, অভিযোগপক্ষ ও প্রতিরক্ষা পক্ষের পালাক্রমে বক্তব্য উপস্থাপনের ব্যবস্থা থাকলে প্রতিরক্ষা পক্ষ জবাব দেওয়ার আগেই অভিযোগ প্রত্যাহারের পরিস্থিতি এড়ানো যেতে পারে।
করোনা নজির ও আদালতের এখতিয়ার
অভিযোগপক্ষ কোন কোন অনুচ্ছেদ নিয়ে এগোবে, তা বেছে নেওয়ার ক্ষমতার পক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতি রেনাতো করোনার বিরুদ্ধে অভিশংসন কার্যক্রমের নজির তুলে ধরেন লুইস্ত্রো। মূল প্রতিবেদনে সেই নজিরকে ২০১১ সালের ঘটনা বলা হয়েছে এবং একে করোনা অভিশংসন বিচার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। দুতার্তের মামলায় বিরোধের মূল বিষয় নজিরটির সঙ্গে যুক্ত বছর নয়, বরং অভিযোগ প্রত্যাহারের সময়।
সিসন বলেন, করোনার বিরুদ্ধে আটটি অনুচ্ছেদের মধ্যে পাঁচটি বাদ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতে প্রমাণ উপস্থাপনের আগেই। দুতার্তের ক্ষেত্রে গোপন তহবিল ও গুরুতর হুমকির অভিযোগে কৌঁসুলিরা ইতিমধ্যে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আগের প্রত্যাহার সিনেটে এখনকার ন্যায্যতাসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করেনি।
এ বিষয়ে কোনো এক পক্ষ একাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে—এই ধারণাও নাকচ করেন এসকুদেরো। তিনি বলেন, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সেগুলো অভিশংসন আদালতের এখতিয়ারে পড়ে; প্রত্যাহারের আবেদন আদালতের সিদ্ধান্ত ও বিবেচনার অধীন।
এ পার্থক্য থেকেই বোঝা যায়, লুইস্ত্রোর ঘোষণার পর কেন আদালতের রায় প্রয়োজন হয়েছিল। কৌঁসুলিরা কোন অভিযোগ নিয়ে এগোতে চান, তা বেছে নিয়েছিলেন; তবে প্রত্যাহারের অনুমতি দেওয়া হবে কি না এবং এর আইনি পরিণতি কী হবে, তা আদালত ঠিক করেছে।
জনসমক্ষে আলোচনা করা যাবে, তবে সীমা বহাল
প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে অভিশংসন আদালতের অধীনস্থ বিচারাধীন মামলা নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা, রুল ১৮, তুলে নেন এসকুদেরো। বিচারাধীন মামলার গুণাগুণ নিয়ে জনসমক্ষে বক্তব্য সীমিত রাখে এই বিধিনিষেধ, যাতে কার্যক্রম সুরক্ষিত থাকে। প্রত্যাহার করা অভিযোগগুলোর বিচার আর বাকি নেই—এটাই ছিল তাঁর যুক্তি।
রায় অনুযায়ী, অভিযোগপক্ষ, দুতার্তে, তাঁদের নিজ নিজ আইনজীবী এবং সাক্ষীরা প্রত্যাহার করা অভিযোগগুলো নিয়ে জনসমক্ষে কথা বলতে পারবেন। এসকুদেরো বলেন, ওই অভিযোগগুলো আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অংশ না থাকায় দুতার্তেকে জবাব দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।
এই অনুমতি প্রমাণের নথি অবাধে প্রকাশের সুযোগ দেয় না। এসকুদেরো বলেন, সুরক্ষিত নথি ও অন্যান্য উপকরণের গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুরক্ষা বহাল থাকবে। কোনো অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার হয়েছে বলে সেসব সুরক্ষার আওতায় থাকা প্রমাণ কপি, বিতরণ বা আপলোড করা যাবে না।
সিসন আপত্তি জানান, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে অভিশংসন বিচার শেষ হওয়ার আগেই দুতার্তের বিরুদ্ধে অনিয়ন্ত্রিত অভিযোগ তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাংলিনান রায়ের ওই অংশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। দুতার্তের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিরক্ষা পক্ষের বক্তব্য জানানোর অপেক্ষায় এসকুদেরো আবেদনটি বিবেচনার জন্য রেখে দেন।
প্রতিরক্ষা পক্ষের মন্তব্য না আসা এবং আদালত বিষয়টি বিবেচনা না করা পর্যন্ত প্রত্যাহার করা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে। প্রতিরক্ষা পক্ষের মুখপাত্র মাইকেল পোয়া সতর্ক করেন, আঞ্চলিক বিচার আদালতের আলাদা একটি প্রকাশনা-নিষেধাজ্ঞা গুরুতর হুমকির মামলাটি নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনায় এখনো বাধা দিতে পারে। তাই সিনেট আদালতের অনুমতি পক্ষগুলোর ওপর থাকা সব বিধিনিষেধের নিষ্পত্তি নাও করতে পারে।
পদত্যাগের কথা নাকচ দুতার্তের, অন্য অভিযোগের তদন্ত চলছে
মঙ্গলবার ৫২তম ফিলিপাইন বিজনেস কনফারেন্স অ্যান্ড এক্সপোতে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বেচ্ছায় পদ ছাড়ার কোনো সম্ভাবনা নাকচ করেন দুতার্তে। তিনি বলেন, তাঁর আইনি দল অভিযোগগুলো খণ্ডন করার পরিকল্পনা করেছে এবং সরকারের কাছ থেকে ন্যায্য আচরণ পাওয়ার আশা তিনি করেন না।
আমি পদত্যাগ করব না। ভাইস প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে আমি কখনোই পদত্যাগ করব না।
অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা দুর্বল করার চেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন দুতার্তে। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে আরও অভিযোগ ও বৈরী প্রচারের মুখে পড়বেন বলেও তিনি জানান। এসব বক্তব্য তাঁর অবস্থান তুলে ধরে; আদালতের বিবেচনাধীন অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি করে না।
অভিশংসন শুনানির বাইরেও অন্যান্য অভিযোগের কার্যক্রম চলছে। আগের সোমবার ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানায়, দুতার্তের সম্পত্তি নিয়ে তারা তদন্ত করছে। এর মধ্যে তাঁর সালনে কৃষিজমি হিসেবে ভুলভাবে ঘোষিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে এমন জমিও অন্তর্ভুক্ত।
সাবেক সিনেটর আন্তোনিও ত্রিলানেস চতুর্থ আলাদাভাবে অভিযোগ করেন, দুতার্তে ও কারপিও চীনা সরকারের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছেন। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্য রদুলফো গ্রাসিও জুনিয়র এবং নিজেকে অর্থ বহনকারী বলে বর্ণনাকারী রামিল মাদ্রিয়াগাও অর্থ পৌঁছে দেওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছেন। দুতার্তে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এই তদন্ত ও অভিযোগগুলোকে দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। অভিশংসনের তিনটি অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে এসব আলাদা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হয় না; আবার তদন্ত চলছে মানেই অন্যায় প্রমাণিত হয়েছে, এমনও নয়।
সময়সূচি ও রায়ের গুরুত্ব
মঙ্গলবারের সিদ্ধান্তটি বিচার শুরুর ৩৯তম দিনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিচার শুরু হয়েছিল ৬ জুলাই। পরবর্তী নির্ধারিত ধাপে ৯ নভেম্বর প্রতিরক্ষা পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের কথা। সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা অ্যালান পিটার কায়েতানো বলেন, অভিশংসন বিচারের জন্য সংবিধানে কোনো সময়সীমা নির্ধারিত নেই। বাজেট নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে যত সময় প্রয়োজন, সিনেটররা নিতে পারেন।
- মে ২০২৬: প্রতিনিধি পরিষদ চারটি অনুচ্ছেদে দুতার্তেকে অভিশংসিত করে।
- ৬ জুলাই ২০২৬: সিনেটে অভিশংসন বিচার শুরু হয়।
- সেপ্টেম্বর ২০২৬: অংশ নিতে সক্ষম সিনেটরদের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করার ভোটের সীমা নির্ধারণে সিনেট একটি ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
- ১৩ অক্টোবর ২০২৬: আদালত প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করে; দ্বিতীয় অনুচ্ছেদটি বাকি থাকে।
- ৯ নভেম্বর ২০২৬: কার্যক্রম আবার শুরু হওয়ার কথা; প্রতিরক্ষা পক্ষের প্রমাণ ও সাক্ষী উপস্থাপন শুরু করার কথা রয়েছে।
ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় সীমা চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ আসনের সিনেট সংবিধানে নির্ধারিত সব সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ শর্তকে অংশ নিতে সক্ষম সিনেটরদের দুই-তৃতীয়াংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। এতে প্রয়োজনীয় ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪। পূর্ণ ২৪ সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ হবে ১৬ ভোট। প্রতিবেদন অনুযায়ী গৃহীত ব্যাখ্যায় প্রয়োজনীয় ভোটের সংখ্যা দুই কমেছে।
এখনো কোনো রায় দেওয়া হয়নি। দোষী সাব্যস্ত হলে দুতার্তেকে পদ থেকে অপসারণ এবং সরকারি পদে থাকা থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে, যা ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতাকে ঝুঁকিতে ফেলবে। মামলার পরিধি সংকুচিত হওয়ায় সিনেটররা কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন তা বদলেছে, কিন্তু সম্ভাব্য পরিণতিগুলো দূর হয়নি।
প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বাগং আলিয়ানসাং মাকাবায়ান। সংগঠনটির সভাপতি রেনাতো রেয়েস জুনিয়র বলেন, গোপন তহবিল নিয়ে বিতর্ক অভিশংসনের উদ্যোগের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল এবং জনগণ এ বিষয়ে নিষ্পত্তি পাওয়ার অধিকারী। আদালতের সিদ্ধান্তে ওই অভিযোগে কোনো রায় হবে না, যদিও এ নিয়ে ইতিমধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।
মূল বিষয়গুলো
- ব্যাখ্যাতীত সম্পদ, সম্পদের বিবরণী এবং নিষিদ্ধ ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়ে দ্বিতীয় অনুচ্ছেদটিই শুধু সিনেটের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
- ক্যাব্রেরা ৮১৭ মিলিয়ন থেকে ১.৫ বিলিয়ন পেসোর ব্যাখ্যাতীত সম্পদের অভিযোগ করেছেন। সিনেট এই হিসাবকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে গ্রহণ করেনি।
- গোপন তহবিল ও গুরুতর হুমকির অভিযোগ পুনরায় আনার সুযোগ না রেখে প্রত্যাহার করা হয়েছে; ঘুষের অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে পুনরায় আনার সুযোগ রেখে।
- অভিযোগপক্ষের প্রমাণ জনসমক্ষে শোনার পর অভিযোগগুলো বাদ দেওয়ার ন্যায্যতা নিয়ে প্রতিরক্ষা পক্ষ আপত্তি জানিয়েছে।
- বর্তমান সিনেটের রায়ে প্রত্যাহার করা অভিযোগগুলো নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা করা যাবে, তবে গোপনীয়তার সুরক্ষা এবং অন্য আদালতের সম্ভাব্য বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে।
- ৯ নভেম্বর প্রতিরক্ষা পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ উপস্থাপন শুরু করার কথা। দুতার্তে অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না।






