ভঙ্গুর পর্যটন পুনরুদ্ধারের মধ্যে প্রস্তাবিত ভ্রমণ কর
থাইল্যান্ডের অর্থ মন্ত্রণালয় দেশ ছাড়ার প্রতিবার ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে ১,০০০ বাথ প্রস্থান কর নেওয়ার পক্ষে। থাই নাগরিক ও বিদেশি—উভয় ভ্রমণকারীকেই এই কর দিতে হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত প্রস্থান কর আইনের বিষয়ে রাজস্ব বিভাগের পরামর্শ গ্রহণ ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এই ব্যবস্থা অনুমোদিত বা চালু হয়নি।
সূচিপত্র
- ভঙ্গুর পর্যটন পুনরুদ্ধারের মধ্যে প্রস্তাবিত ভ্রমণ কর
- ১,০০০ বাথের হার আইনে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা থেকে আলাদা
- বিমানের টিকিট থেকেই কর আদায়ের পরিকল্পনা
- শিল্প খাত কেন মোট ২,৫৭০ বাথের হিসাব করছে
- ভ্রমণ করতে পারার সামর্থ্যের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে পর্যটন সংগঠনগুলো
- পর্যটকের সংখ্যা দেখায় কেন সময়টা গুরুত্বপূর্ণ
- উড়োজাহাজ সংস্থার উদ্বেগ শুধু বিদেশগামী ছুটির ভ্রমণে সীমাবদ্ধ নয়
- রাজস্ব যাবে বাজেটে, নির্দিষ্ট পর্যটন তহবিলে নয়
- প্রস্তাবিত দুটি ফি, আদায়ের কৌশল এখনও অনির্ধারিত
- মূল বিষয়গুলো
পর্যটন ব্যবসাগুলো যখন পর্যটকের চাহিদা কমে যাওয়া এবং বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা মাশুল সম্প্রতি বাড়ার মুখে পড়েছে, তখন এ প্রস্তাব এসেছে। থাই হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্থান কর এবং আলাদাভাবে প্রস্তাবিত পর্যটক প্রবেশ ফি—দুটিই বর্তমান বিমানবন্দর মাশুলের সঙ্গে চালু হলে একজন বিদেশি ভ্রমণকারীর মোট মাশুল হতে পারে ২,৫৭০ বাথ। চার সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে তা দাঁড়াবে ১০,২৮০ বাথ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব লাভারন সাংস্নিত বলেছেন, প্রস্থান কর অভ্যন্তরীণ পর্যটনে অর্থায়নে সহায়তা করতে পারে এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর চাপ কমাতে পারে। পর্যটন সংগঠনগুলোর যুক্তি, ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে আরও অর্থ আদায় করলে যাত্রীর চাহিদা কমতে পারে, উড়োজাহাজ সংযোগ দুর্বল হতে পারে এবং সরকারের আয়ের চেয়ে ব্যবসার ক্ষতি বেশি হতে পারে।
তাই মূল বিরোধটি প্রস্তাবিত ১,০০০ বাথ পরিশোধের চেয়েও বড়। কারা এই কর দেবেন, আগমন ও প্রস্থানের ফি পরস্পরের সঙ্গে মিলে দ্বৈত মাশুল তৈরি করবে কি না এবং অতিরিক্ত কর আয় ও পর্যটন-উড়োজাহাজ খাতে সম্ভাব্য ক্ষতির ভারসাম্য সরকার কীভাবে পরিমাপ করবে—এসব বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত।
১,০০০ বাথের হার আইনে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা থেকে আলাদা
মন্ত্রণালয়ের পছন্দের প্রাথমিক হারকে প্রস্তাবিত আইনি সর্বোচ্চ সীমা—প্রতি প্রস্থানে ৫,০০০ বাথ—থেকে আলাদা করে দেখাতে চেয়েছেন লাভারন। প্রস্তাবে বর্ণিত কাঠামো অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের বিধিমালায় পরিশোধযোগ্য অর্থ নির্ধারণ করা হবে, আর আইনে এই সীমা অতিক্রম করতে মন্ত্রণালয়কে বাধা দেওয়া হবে।
ভ্রমণকারীদের জন্য এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: ৫,০০০ বাথ প্রস্তাবিত প্রাথমিক মাশুল নয়। ভবিষ্যতে হার নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য, যাতে সীমাহীনভাবে মাশুল বাড়ানো না যায়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব লাভারন তাঁর পছন্দের হার ব্যাখ্যা করতে আগের একটি প্রস্থান করের সঙ্গে তুলনা করেছেন:
অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করে, ১,০০০ বাথ মাশুল উপযুক্ত হবে, কারণ ২০ বছরেরও বেশি আগে আমরা ৫০০ বাথ নিতাম।
অঙ্কের হিসাবে প্রস্তাবিত প্রাথমিক হার আগের ৫০০ বাথের মাশুলের দ্বিগুণ। এই তুলনায় মূল্যস্ফীতি বা এর মধ্যবর্তী বছরগুলোতে পারিবারিক আয়ের পরিবর্তন বিবেচনা করা হয়নি।
৫,০০০ বাথের সর্বোচ্চ সীমার আইনি অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনে এ ক্ষমতা আগেই রয়েছে; অন্যদিকে, পরামর্শ গ্রহণের বিবরণে এটিকে প্রস্তাবিত আইনের অংশ বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন মাশুল চালুর আগে আইন প্রয়োজন; এর মধ্যে বিদেশি ভ্রমণকারীদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের আইনি ভিত্তি অন্তর্ভুক্ত। কোনো বিবরণ থেকেই বোঝায় না যে প্রস্তাবিত ১,০০০ বাথ কর এখনই দিতে হবে।
বিমানের টিকিট থেকেই কর আদায়ের পরিকল্পনা
বিমানবন্দরে যাত্রীদের আলাদা করে অর্থ পরিশোধ করতে না বলে বিমানের টিকিটের দামের সঙ্গে করটি যুক্ত করার পক্ষে লাভারন। তিনি এই পদ্ধতির তুলনা করেছেন কেনাকাটার সময় মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আদায়ের সঙ্গে।
তিনি আগের ব্যবস্থার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ভ্রমণকারীরা যন্ত্র থেকে একটি স্লিপ নিয়ে পাসপোর্ট পরীক্ষার সময় সেটি দেখাতেন। তাঁর মতে, সবার ক্ষেত্রে মাশুলটি প্রযোজ্য হলে টিকিটের মাধ্যমে আদায় করা আরও সুবিধাজনক ও কার্যকর হবে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে থাইল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া সব জাতীয়তার যোগ্য বিমানযাত্রীদের আওতায় আনা হবে। মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত নীতি হলো, থাই ও বিদেশি—উভয় ভ্রমণকারীই দেশের সম্পদ ব্যবহার করেন, তাই উভয়ের ওপরই কর প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যোগ্যতার বিস্তারিত শর্ত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে এখনও মূল্যায়ন প্রয়োজন।
টিকিটের মাধ্যমে কর আদায় করলে ভ্রমণকারীদের পরিচিত একটি লেনদেন প্রক্রিয়ার মধ্যেই তা যুক্ত হবে। তবে এ জন্য উড়োজাহাজ সংস্থা, টিকিট বিক্রেতা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় দরকার হবে। বাস্তবায়নের আগে আদায়ব্যবস্থা, সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি এবং দেশত্যাগী যাত্রীর তথ্য নিয়ে আরও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রণালয়ের।
শিল্প খাত কেন মোট ২,৫৭০ বাথের হিসাব করছে
থাই হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবটিতে তিনটি আলাদা মাশুল যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল একটি এখন কার্যকর; বাকি দুটি প্রস্তাবিত। তাই পুরো অঙ্কটিকে বর্তমানে ভ্রমণের জন্য দিতে হয় এমন খরচ হিসেবে দেখানো বিভ্রান্তিকর হবে।
- ১,১২০ বাথ: এয়ারপোর্টস অব থাইল্যান্ড পরিচালিত ছয়টি বিমানবন্দরে বর্তমানে কার্যকর আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা মাশুল।
- ৪৫০ বাথ: আকাশপথে আসা বিদেশি পর্যটকদের জন্য প্রস্তাবিত ফি।
- ১,০০০ বাথ: অর্থ মন্ত্রণালয়ের পছন্দের প্রস্থান কর।
২০২৬ সালের ২০ জুন যাত্রীসেবা মাশুল ৭৩০ বাথ থেকে বাড়িয়ে ১,১২০ বাথ করা হয়। সুবর্ণভূমি, ডন মুয়াং, চিয়াং মাই, মে ফাহ লুয়াং চিয়াং রাই, ফুকেট ও হাট ইয়াই বিমানবন্দরে এই মাশুল প্রযোজ্য এবং তা বিমানের টিকিটের দামের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
এই বৃদ্ধি ছিল ৩৯০ বাথ, বা প্রায় ৫৩.৪%। প্রস্তাবিত দুটি ব্যবস্থা কোনো সমন্বয় ছাড়াই যুক্ত হলে, অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী মোট মাশুল বর্তমান ১,১২০ বাথ বিমানবন্দর মাশুলের চেয়ে ১,৪৫০ বাথ বেশি হবে। কোনো আগমন ফি যুক্ত হওয়ার আগেই শুধু প্রস্তাবিত প্রস্থান কর চার ভ্রমণকারীর জন্য ৪,০০০ বাথ যোগ করবে।
২,৫৭০ বাথের হিসাবটি একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি, গৃহীত সরকারি প্যাকেজ নয়। এতে নির্দিষ্ট যাত্রীসেবা মাশুলের আওতাধীন বিমানবন্দর ব্যবহারকারী একজন বিদেশি ভ্রমণকারীর ক্ষেত্রে তিনটি অঙ্ক প্রয়োগ করা হয়েছে। আগমন ও প্রস্থানে—দুই ক্ষেত্রেই পর্যটকদের কাছ থেকে মাশুল নেওয়া এড়ানোর উপায় বিবেচনা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়, যা এই হিসাব বদলে দিতে পারে।
ভ্রমণ করতে পারার সামর্থ্যের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে পর্যটন সংগঠনগুলো
মন্ত্রণালয়ের প্রধান যুক্তি হলো, যাঁদের বিদেশে ছুটি কাটানোর আর্থিক সামর্থ্য আছে, তাঁদের কাছ থেকে রাজস্ব সংগ্রহ করে থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ পর্যটনে সহায়তা করা। থাই ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কালায়ানি আসানি এই ধারণার বিরোধিতা করে বলেছেন, ভ্রমণের সামর্থ্য থাকলেই আয় বা আরেকটি কর দেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণিত হয় না।
তাঁর সংগঠনের যুক্তি, নির্দিষ্ট অঙ্কের মাশুল ভ্রমণকারীদের ওপর অসম প্রভাব ফেলতে পারে। বিদেশ ভ্রমণ কেবল অবকাশযাপনের জন্য নয়; বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পেশাগত সুযোগেরও পথ তৈরি করে। চূড়ান্ত বিধিতে ছাড়ের ব্যবস্থা না থাকলে, প্রতিবার দেশত্যাগের সময় নেওয়া অর্থ এই উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে পার্থক্য করবে না।
থাই ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের দাবিতে অর্থমন্ত্রী একনিতি নিতিথানপ্রাপাসের কাছে আবেদন করেছে। অনলাইন পরামর্শে অস্পষ্ট প্রশ্ন এবং উত্তরদাতাদের পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা না থাকার বিষয়েও তারা উদ্বেগ জানিয়েছে। এগুলো সংগঠনটির আপত্তি; এসবের ভিত্তিতে পরামর্শের ফল অবৈধ প্রমাণিত হয় না।
সংগঠনটি আরও বলেছে, বিদেশে তাদের পর্যটনসেবার ভোগ সম্পন্ন হলেও বিদেশগামী পর্যটন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে ভ্যাট দেয়। এটি কর ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলাদা আপত্তি; প্রস্তাবিত প্রস্থান কর ভ্যাটের বিকল্প হবে—এমন প্রমাণ নয়।
থাই হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি থিয়েনপ্রাসিত চাইয়াপাত্রানুন সতর্ক করে বলেছেন, আরেকটি মাশুল আকাশপথে ভ্রমণের চাহিদা কমাতে পারে এবং থাইল্যান্ডের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা দুর্বল করতে পারে। অ্যাসোসিয়েশন অব থাই ট্রাভেল এজেন্টসও প্রস্তাবটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এসব আপত্তি থাইল্যান্ডে আসা পর্যটকদের সেবা দেওয়া ব্যবসা এবং বিদেশ ভ্রমণকারী বাসিন্দা—উভয় পক্ষেরই উদ্বেগ তুলে ধরে।
পর্যটকের সংখ্যা দেখায় কেন সময়টা গুরুত্বপূর্ণ
পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৩২.৯৭ মিলিয়ন; বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ১.৫৪ ট্রিলিয়ন বাথ। ২০২৪ সালের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা ৭.২৩% কমেছে, আর আয় কমেছে ৪.৭১%।
পর্যটকের সংখ্যার তুলনায় আয় কম হারে কমার অর্থ, পর্যটক আগমনের চেয়ে তাঁদের ব্যয় তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। তবে পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যায়, বিশেষ করে যেসব ব্যবসা ঘন ঘন আঞ্চলিক ভ্রমণের ওপর নির্ভরশীল।
বিভিন্ন বাজারে পরিস্থিতি ছিল একেক রকম। ২০২৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে পর্যটকের সংখ্যা ৮.৭১% কমে এবং চীন থেকে কমে ৩৩.৫৫%; অন্যদিকে ভারত থেকে পর্যটকের সংখ্যা ১৬.৮২% বাড়ে এবং রাশিয়া থেকে বাড়ে ৮.৮০%। ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স থেকে পর্যটকের সংখ্যা সর্বোচ্চ ঐতিহাসিক পর্যায়ে পৌঁছায়।
আয়ের বৃদ্ধিও ছিল ভিন্ন ভিন্ন: ভারত থেকে আয় ২২.৬১%, রাশিয়া থেকে ৯.৭৭% এবং যুক্তরাজ্য থেকে ২১.৭০% বেড়েছে। এই প্রবৃদ্ধি দেখায়, দেশভেদে থাইল্যান্ডের পর্যটন খাতের দুর্বলতা একরকম ছিল না। তাই শুধু জাতীয় মোট হিসাব দেখে নির্দিষ্ট অঙ্কের ভ্রমণ মাশুলের সম্ভাব্য প্রভাব বিচার করা কঠিন।
২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত থাইল্যান্ডে প্রায় ২৪ মিলিয়ন বিদেশি পর্যটক এসেছিলেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪% কম। থাইল্যান্ডের পর্যটন কর্তৃপক্ষ চলতি বছর প্রায় ৩৩ মিলিয়ন পর্যটক আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে, যা ২০২৫ সালের ৩২.৯৭ মিলিয়নের চেয়ে মাত্র ৩০,০০০ বেশি। এই পূর্বাভাস ২০১৯ সালে রেকর্ড করা প্রায় ৪০ মিলিয়ন পর্যটকের চেয়ে কম।
পর্যটকের সংখ্যা ৩২.৯৭ মিলিয়নের নিচে নামলে, অন্তত ১৯৯৫ সালের পর মহামারিকালের বাইরে প্রথমবার টানা দুই বছরে পতন ঘটবে। থাই হোটেল অ্যাসোসিয়েশন আরও বলেছে, আসিয়ান বাজার থেকে পর্যটক প্রায় ২০% কমেছে এবং ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে পর্যটন কার্যক্রম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকবে বলে তারা আশা করছে।
উড়োজাহাজ সংস্থার উদ্বেগ শুধু বিদেশগামী ছুটির ভ্রমণে সীমাবদ্ধ নয়
থাই ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সতর্কতা, বিদেশগামী যাত্রী কমে গেলে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো ফ্লাইটের সংখ্যা কমাতে পারে, যা থাইল্যান্ডে আসা পর্যটনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাদের যুক্তি, থাইল্যান্ডকে বিদেশি গন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করা ফ্লাইটগুলো দুই দিকের ভ্রমণ চাহিদার ওপর নির্ভরশীল।
হোটেল প্রতিনিধিরাও নতুন রুট কমে যাওয়া বা ফ্লাইটসেবা হ্রাসের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এতে বিদেশি পর্যটকদের পছন্দের সুযোগ সীমিত হতে পারে এবং ভাড়ার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে থাইল্যান্ডকে আঞ্চলিক বিমান চলাচলকেন্দ্র করার সরকারি উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও তা সাংঘর্ষিক হতে পারে।
এগুলো শিল্প সংগঠনগুলোর চিহ্নিত সম্ভাব্য পরিণতি, করের নিশ্চিত প্রভাব নয়। করটি এখনও চালু হয়নি, আর পর্যটকের সংখ্যায় এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কোনো পরিমাণগত মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়নি।
যাত্রীদের আচরণ, ভ্রমণ খরচ, উড়োজাহাজ সংস্থা, ছোট ব্যবসা এবং পর্যটন ও বিমান চলাচল খাতের কর্মসংস্থান বিবেচনায় নিয়ে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে থাইল্যান্ডের পর্যটন কাউন্সিল। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির সঙ্গে নিট কর আয়ের পূর্বাভাসের তুলনাও তারা চায়। এতে আদায় করা অর্থের পরিমাণ এবং সরকারি অর্থব্যবস্থা ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে এর সামগ্রিক প্রভাব আলাদা করে বোঝা যাবে।
রাজস্ব যাবে বাজেটে, নির্দিষ্ট পর্যটন তহবিলে নয়
লাভারন বলেছেন, প্রচলিত রাষ্ট্রীয় বাজেটের সম্পদের ওপর অতটা নির্ভর না করে এই কর অভ্যন্তরীণ পর্যটনে সহায়তা করতে পারে। আর্থিক শৃঙ্খলার প্রমাণ হিসেবেও তিনি এ করকে তুলে ধরেছেন; দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা মূল্যায়নের সময় ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থাগুলো বিষয়টি বিবেচনা করে।
আর্থিক প্রেক্ষাপটে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৩% থেকে ৪% বাজেট ঘাটতি রয়েছে। ঘাটতি মানে সরকার যত আয় করে তার চেয়ে বেশি ব্যয় করে; ব্যয় ও অন্যান্য আয় অপরিবর্তিত থাকলে অতিরিক্ত রাজস্ব এই ব্যবধান কমাতে পারে।
প্রস্তাবের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্থিক শৃঙ্খলার কাঠামোর মধ্যে সম্পদের আরও ভালো ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো। তবে প্রস্থান কর থেকে পাওয়া অর্থ প্রথমে কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাবে জমা হবে। অভ্যন্তরীণ পর্যটনে কোনো বরাদ্দ হলে তা প্রচলিত বাজেট প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে।
এ কারণে এই কর নির্দিষ্ট খাতে বরাদ্দ করা মাশুল থেকে আলাদা; নির্দিষ্ট খাতে বরাদ্দ করা মাশুলের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা সংস্থার কাছে যায়। অভ্যন্তরীণ পর্যটনে সহায়তা করা মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত উদ্দেশ্য, তবে কর আদায় হলেই পর্যটন খাতে নির্দিষ্ট বরাদ্দ নিশ্চিত হবে না।
বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণবিমা বা জরুরি চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য অর্থ ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও বলেছেন লাভারন। প্রস্তাবের বিবরণে কোনো চূড়ান্ত বরাদ্দ বা পরিমাণগত রাজস্ব পূর্বাভাস নির্ধারণ করা হয়নি।
প্রস্তাবিত দুটি ফি, আদায়ের কৌশল এখনও অনির্ধারিত
পর্যটন ও ক্রীড়ামন্ত্রী সুরাসাক ফানচারোয়েনওয়াকুল আলাদাভাবে আকাশপথে আসা বিদেশি পর্যটকদের ওপর ৪৫০ বাথ ফি আরোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এক অনলাইন পরামর্শে ৮০%-এর বেশি উত্তরদাতা এ প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছেন।
এই সমর্থন আগমন ফি-সংক্রান্ত, প্রস্থান কর নিয়ে নয়। দুটি পরামর্শকে একক জনমত হিসেবে দেখা উচিত নয়, বিশেষ করে প্রস্থান করের পরামর্শের কিছু দিক নিয়ে ভ্রমণ এজেন্টরা প্রশ্ন তুলছেন।
দুটি ব্যবস্থা যেন পরস্পরের সঙ্গে মিলে দ্বৈত মাশুল তৈরি না করে, সে উপায় বিবেচনা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। একটি পদ্ধতি হতে পারে, যাত্রার কেবল এক দিক—যেমন প্রস্থানের সময়—ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে মাশুল নেওয়া; আর সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ পর্যটক বিমার জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে। কোনো চূড়ান্ত ব্যবস্থা ঘোষণা করা হয়নি।
নিশ্চিত তারিখ এবং প্রস্তাবিত আইনি পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা হলো:
- ২০ জুন, ২০২৬: এয়ারপোর্টস অব থাইল্যান্ডের ছয়টি বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা মাশুল বেড়ে ১,১২০ বাথ হয়।
- ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: প্রস্তাবিত প্রস্থান কর আইনের বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ শুরু হয়।
- ১০ অক্টোবর, ২০২৬: চলতি বছরে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ মিলিয়ন।
- ২৯ অক্টোবর, ২০২৬: প্রস্থান করের বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ শেষ হওয়ার নির্ধারিত তারিখ।
- আইন পাস হলে: খসড়ায় রয়্যাল গেজেটে প্রকাশের ১৮০ দিন পর কার্যকর হওয়ার বিধান রয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, কার্যকারিতা শুরুর আগে কেনা টিকিটের ক্ষেত্রে যাত্রী আইন কার্যকর হওয়ার দিন বা তার পরে যাত্রা করলেও ছাড় প্রযোজ্য হবে। আইন পাস ও প্রকাশিত না হওয়ায় কার্যকর হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই। ভ্রমণকারীদের বর্তমানে প্রস্তাবিত কর দিতে হচ্ছে না।
চূড়ান্ত হার, যোগ্যতার নিয়ম, টিকিটের মাধ্যমে আদায়ের ব্যবস্থা, আগমন ফির সঙ্গে সমন্বয় এবং রাজস্বের বাজেট বরাদ্দ—এসব সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। পর্যটন সংগঠনগুলো সরকারকে প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার আগে অর্থনৈতিক মূল্যায়ন প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে ভ্রমণের চাহিদা ও কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাবের সঙ্গে রাজস্বের যুক্তি যাচাই করা যায়।
মূল বিষয়গুলো
- অর্থ মন্ত্রণালয় থাই ও বিদেশি ভ্রমণকারী—উভয়ের জন্য ১,০০০ বাথ প্রস্থান করের পক্ষে; এটি এখনও কার্যকর হয়নি।
- প্রস্তাবিত আইনি সর্বোচ্চ সীমা ৫,০০০ বাথ, পছন্দের প্রাথমিক হার থেকে আলাদা।
- পরামর্শ গ্রহণ ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে; বাস্তবায়নের আগে আইন পাস করা প্রয়োজন।
- হোটেল শিল্পের ২,৫৭০ বাথের হিসাবে একটি কার্যকর বিমানবন্দর মাশুল এবং দুটি প্রস্তাবিত ফি যুক্ত করা হয়েছে।
- পর্যটন সংগঠনগুলো রাজস্ব, যাত্রীর চাহিদা, উড়োজাহাজসেবা ও কর্মসংস্থান নিয়ে মূল্যায়ন চায়।
- রাজস্ব নির্দিষ্ট পর্যটন তহবিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে না গিয়ে কেন্দ্রীয় বাজেটে জমা হবে।
- প্রস্থান কর ও প্রস্তাবিত আগমন ফি কীভাবে একসঙ্গে কার্যকর হবে, সরকার তা এখনও ঠিক করেনি।






