পর্যটকদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা
বেপরোয়া বিদেশি পর্যটকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেশজুড়ে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সতর্ক করে বলা হয়েছে, অপরাধীদের ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করে বহিষ্কার করা হতে পারে। পর্যটকদের আচরণে দেশের পর্যটন ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিভিন্ন প্রদেশের স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ নির্দেশনা এসেছে।
সূচিপত্র
ফিলিপাইনে ৪৮তম আসিয়ান সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় ৮ মে এ সতর্কবার্তা দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব আরসিত সাম্পানথারাত। তিনি বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যটকদের অনুপযুক্ত আচরণ থাইল্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে এবং কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন।
জবাবদিহির বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন আরসিত। তিনি বলেন, জাতীয়তা যা-ই হোক, আইন লঙ্ঘন করলে ব্যতিক্রম ছাড়াই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি দায়িত্বে দেওয়া বক্তব্যে আরসিত সাম্পানথারাত বলেন, আইনভঙ্গকারীদের প্রতি সরকার কোনো পক্ষপাত দেখাবে না।
সবকিছুই আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। থাই হোক বা বিদেশি, কেউ আইন ভাঙতে পারে না। থাইল্যান্ডে আসা বিদেশিরা প্রভাবশালী ব্যক্তির মতো আচরণ করতে, বেআইনি কাজ করতে, স্বাগতিক দেশের মানুষকে হেনস্তা করতে কিংবা থাই নৈতিকতা, সংস্কৃতি বা ঐতিহ্যের পরিপন্থী আচরণ করতে পারেন না। বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার জন্য কারও প্রভাবশালী যোগাযোগ নেই, কারণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা এ ধরনের ব্যবস্থা মেনে নেন না।
বক্তব্যটি এমন ধারণা দূর করার বৃহত্তর উদ্যোগের প্রতিফলন, যেখানে মনে হতে পারে যে সম্পদ বা বিদেশি পরিচয়ের কারণে স্থানীয় আইন থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়। নতুন আইন প্রণয়নের বদলে বিদ্যমান আইন প্রয়োগের নির্দেশ পেয়েছেন সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এতে বোঝা যাচ্ছে, পরিবর্তনটি আইন সংস্কারে নয়, বরং আইন প্রয়োগে।
যেসব জনসমক্ষে ঘটে যাওয়া ঘটনা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছে
জনসমক্ষে যৌন কর্মকাণ্ডে জড়িত বিদেশিদের নিয়ে ব্যাপক প্রচার পাওয়া একের পর এক ঘটনার পর এ অভিযান শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের আচরণ থাইল্যান্ডের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। ৫ মে ফুকেটের ব্যস্ত পর্যটন এলাকায় তিন চাকার একটি ট্যাক্সির ভেতরে যৌন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এক স্প্যানিশ পুরুষ ও এক পেরুভীয় নারীকে দেখতে পায় পুলিশ। তারা ঘটনার কথা স্বীকার করেন এবং জনসমক্ষে অশালীন আচরণবিষয়ক আইনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ হাজার বাত জরিমানা হতে পারে। কর্মকর্তারা তাদের ভিসা বাতিল, কালো তালিকাভুক্ত এবং বহিষ্কারের উদ্যোগ নেন।
এ ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। এর আগের মাসে ফুকেটের একটি সৈকতে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার ভিডিও অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর এক ফরাসি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে বহিষ্কারের মুখে পড়তে হয়। বছরের শুরুর দিকে তিন চাকার ট্যাক্সির ভেতরে একই ধরনের আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের জন্ম দিলে আরেক ফরাসি দম্পতিকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
নৈশজীবন ও সৈকতের পার্টির গন্তব্য হিসেবে পরিচিত হলেও সামাজিকভাবে রক্ষণশীল থাই সমাজে এসব ঘটনা উত্তেজনা তৈরি করেছে। জনসমক্ষে স্নেহ প্রকাশ সাধারণত ভালো চোখে দেখা হয় না, আর অশালীন আচরণ স্থানীয় রীতিনীতির সরাসরি বিরোধী। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রক্ষাই এ কঠোর অভিযানের লক্ষ্য। বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে আরও কড়া তল্লাশির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ পদক্ষেপের সময় নিয়ে পর্যটন খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা গেছে, আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এপ্রিলে মোট বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ৭ শতাংশ কমেছে। ওই মাসে ইউরোপীয় পর্যটক কমেছেন প্রায় ১৬ শতাংশ। এ বছর থাইল্যান্ডে প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ বিদেশি পর্যটক আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা আগের বছরের প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখের তুলনায় সামান্য বেশি। তবে ইউরোপীয় পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শিল্পসংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকেরা উদ্বিগ্ন।
জনপ্রিয় গন্তব্যে জিরো টলারেন্স কার্যকর
ব্যাংককের কঠোর নির্দেশনা কয়েকটি প্রাদেশিক সরকার ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু করেছে। স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োগব্যবস্থাও সাজানো হচ্ছে। ফুকেটে গভর্নর নিরাত পংসিথাওর্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নিরাপত্তা সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যটকদের সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
দ্বীপ প্রদেশটিতে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে এবং গুরুতর আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডে থাকার অনুমতি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করবে কর্তৃপক্ষ। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাতে ধরা পড়লে কাউকে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই সরাসরি আদালতে পাঠাবে পুলিশ। গভর্নর নিরাত জোর দিয়ে বলেছেন, ফুকেট পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত শহরই থাকবে, তবে তাঁদের স্থানীয় সংস্কৃতি ও বাসিন্দাদের অধিকারকে সম্মান করতে হবে।
এদিকে সুরাত থানিতে গভর্নর চুম্ফোত ওয়ান্নাচাটসিরি কো ফা-ঙ্গান, কো সামুই ও কো তাও দ্বীপে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করা ইসরায়েলি নাগরিকদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের কেউ কেউ কাজের জন্য পর্যটক ভিসা ব্যবহার করেছেন; অন্যদের বিরুদ্ধে অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংস্থাগুলো নামসর্বস্ব মালিকানার মাধ্যমে পরিচালিত ব্যবসাও তদন্ত করছে। এ ব্যবস্থায় কাগজে-কলমে থাই নাগরিকেরা কোম্পানির মালিক থাকেন, কিন্তু প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ থাকে বিদেশিদের হাতে। শ্রম ও ব্যবসাবিষয়ক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগে অভিবাসন পুলিশ, নিরাপত্তা সংস্থা এবং প্রাদেশিক কর্মসংস্থান দপ্তর একযোগে কাজ করছে।
নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নজরদারি থেকে বোঝা যায়, কর্তৃপক্ষের মনোযোগ শুধু জনসমক্ষে আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভিসার বিভিন্ন শ্রেণির ব্যাপক অপব্যবহার এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন অবৈধ বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায়ও তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আচরণবিধি লঙ্ঘন ও শ্রম আইন ভঙ্গ, দুই ক্ষেত্রেই ব্যবস্থা নিয়ে আইনি সীমার বাইরে কাজ করা পর্যটকদের চাপে থাকা নাগরিকদের আস্থা ফেরাতে চায় সরকার।
নতুন পরিস্থিতিতে পর্যটকদের যা জানা দরকার
থাই কর্মকর্তাদের বার্তা স্পষ্ট: আন্তর্জাতিক পর্যটকদের স্বাগত জানানো হবে, তবে তাঁদের স্থানীয় আইন ও সাংস্কৃতিক প্রত্যাশা মেনে চলতে হবে। যেসব ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ জোরদার হবে, সরকার তা স্পষ্ট করেছে। দেশটিতে আসার আগে পর্যটকদের নতুন পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনে রাখা উচিত।
জনসমক্ষে শালীনতা এখন উদ্বেগের প্রধান বিষয়। জনসমক্ষে নগ্নতা, খোলা জায়গায় যৌন আচরণ এবং পবিত্র স্থান বা সাংস্কৃতিক আকর্ষণের কাছে মাতাল অবস্থায় বিশৃঙ্খলা করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরিমানার পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনকারীদের বহিষ্কার ও কালো তালিকাভুক্তির ঝুঁকি রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাঁদের পুনরায় থাইল্যান্ডে প্রবেশও নিষিদ্ধ হতে পারে।
গাড়ি চালানোর নিয়মও উল্লেখযোগ্যভাবে কঠোর হয়েছে। পর্যটকদের বৈধ লাইসেন্স সঙ্গে রাখতে হবে এবং পুলিশ আর সতর্ক করে ছেড়ে দেবে না। যথাযথ কাগজপত্র দেখাতে না পারলে আদালতে যেতে হবে। পর্যটন এলাকায় প্রশিক্ষণ বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বিদেশিদের মোটরবাইক ভাড়া নেওয়াকে ঘিরে যে বিরোধ দেখা দেয়, তা মোকাবিলাই এ ব্যবস্থার লক্ষ্য।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি সচেতনতামূলক উদ্যোগও বাড়াচ্ছে সরকার। পর্যটন কর্তৃপক্ষ জনপ্রিয় স্থানগুলোতে দৃশ্যমান সাইনবোর্ডের সংখ্যা বাড়ানো, একাধিক ভাষায় নির্দেশিকা বিতরণ এবং পর্যটকদের পৌঁছানোর আগেই শিষ্টাচারের নিয়ম জানাতে বিমান সংস্থা ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। পর্যটকেরা যেন প্রচলিত পর্যটনপথের ভেতরে ও বাইরে যথাযথ আচরণ বোঝেন, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলোও এ প্রচারের আওতায় রয়েছে, যেখানে পোশাকবিধি ও আচরণবিধির গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি। মন্দিরে প্রবেশ বা উৎসবে অংশ নেওয়ার সময় দর্শনার্থীদের কাঁধ ও হাঁটু ঢেকে রাখতে হবে, যেখানে প্রয়োজন জুতা খুলতে হবে এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটায় এমন আচরণ এড়াতে হবে। এসব নিয়ম থাইল্যান্ডের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ভিত্তি গড়ে তোলা শতাব্দীপ্রাচীন বৌদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতিফলন।
কঠোর নজরদারির আঞ্চলিক প্রবণতা
বিদেশি পর্যটকদের ব্যবস্থাপনা নতুন করে পর্যালোচনা করছে শুধু থাইল্যান্ড নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোতে ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করা, স্থানীয় আইন ভাঙা বা সাংস্কৃতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করা পর্যটকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সমান্তরাল এ উদ্যোগগুলো পর্যটন ব্যবস্থাপনায় আঞ্চলিকভাবে আরও দৃঢ় অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
ইন্দোনেশিয়ায় অভিবাসন ও সংশোধনাগারবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্প্রতি বালিতে টহল ও বেপরোয়া পর্যটকদের নজরদারির জন্য ১০০ কর্মকর্তার একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। মোটরসাইকেল ও গাড়ি নিয়ে দলটি নিয়মিত ও আকস্মিক টহল দেয় কাংগু, সেমিনিয়াক, কুটা ও নুসা দুয়াসহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। অভিবাসন আইন লঙ্ঘন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে কর্মকর্তারা শরীরে লাগানো ক্যামেরা ও নিরাপত্তা জ্যাকেট ব্যবহার করেন।
অভিবাসনমন্ত্রী আগুস আন্দ্রিয়ান্তো বলেন, বালিতে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে ভিসার মেয়াদ অতিক্রম এবং লাইসেন্সবিহীন বিদেশি ব্যবসার ঘটনা দ্রুত বেড়েছে। বালির স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যথাযথ অনুমতি ছাড়াই বিদেশিরা ভিলা ভাড়া, মোটরবাইক বিক্রি এবং অনানুষ্ঠানিক ট্যুর গাইডের ব্যবসা করছেন।
কঠোর পরিবেশ সত্ত্বেও ইউরোপীয় পর্যটকদের কাছে ইন্দোনেশিয়ায় ছুটি কাটানোর চাহিদা শক্তিশালী রয়েছে। ভ্রমণ প্ল্যাটফর্ম আগোডার তথ্যে দেখা গেছে, এ গ্রীষ্মে ইউরোপীয় পর্যটকদের কাছে এশিয়ার সবচেয়ে বেশি খোঁজ করা গন্তব্য ছিল বালি। আঞ্চলিক অনুসন্ধানের মোট পরিমাণে থাইল্যান্ডের পর দ্বিতীয় স্থানে ছিল ইন্দোনেশিয়া। ব্যাংকক ও কো সামুইও তালিকায় ওপরের দিকে ছিল। এতে বোঝা যায়, গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলো থেকে ভ্রমণের আগ্রহ এখনো কঠোর ব্যবস্থায় কমেনি।
আঞ্চলিক এ প্রবণতা ভারসাম্য রক্ষার কঠিন চিত্র তুলে ধরে। দেশগুলো পর্যটন আয়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তবে লাগামহীন পর্যটকের সংখ্যা ও অসম্মানজনক আচরণের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে স্থানীয় নাগরিকদের সোচ্চারতা বাড়ছে। বিদ্যমান আইন আরও ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করে সরকারগুলো অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ও সামাজিক কাঠামো, দুটিই রক্ষা করতে চায়।
অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রক্ষা
থাইল্যান্ডের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি পর্যটন। আতিথেয়তা থেকে পরিবহন পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় এ খাত থেকে। এ বছর দেশটিতে প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ বিদেশি পর্যটক আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা আগের বছরের প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখের চেয়ে বেশি। রাজ্যটি বিদেশিদের প্রতি বৈরী, এমন ধারণা তৈরি হলে এ সংখ্যা কমে যেতে পারে; বিশেষ করে ভিয়েতনাম, জাপান ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা যখন বাড়ছে।
তবে কর্মকর্তারা বলছেন, সম্মানজনক আচরণ করা পর্যটকদের ভয়ের কিছু নেই। এ অভিযান বৈধ পর্যটন সীমিত করার বদলে নির্দিষ্টভাবে বেআইনি আচরণকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে। শিল্প খাতের সংগঠনগুলো মোটের ওপর এসব পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে। তাদের মতে, অল্পসংখ্যক পর্যটকের বিশৃঙ্খল আচরণে বেশির ভাগ পর্যটকের অভিজ্ঞতা ম্লান হতে পারে এবং নিরাপদ, পরিবারবান্ধব পরিবেশ খোঁজা সচ্ছল পর্যটকেরা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।
স্থানীয় রীতিনীতি সম্পর্কে অতিথিদের জানাতে হোটেল ও ট্যুর অপারেটরদের সচেতনতামূলক প্রচারে অংশ নিতে বলা হয়েছে। কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে লবিতে ও বুকিং নিশ্চিতকরণের বার্তায় আচরণবিধি প্রদর্শন শুরু করেছে। লক্ষ্য হলো, লঙ্ঘন ঘটার আগেই তা ঠেকানো, যাতে গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের প্রয়োজন কমে।
সীমান্ত বন্ধ না করে আচরণবিধি জোরদারের মাধ্যমে থাইল্যান্ড সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে চায়। দীর্ঘদিন ধরে থাকা নিয়মগুলো আগে অসমভাবে প্রয়োগ করা হলেও কৌশলটির সাফল্য নির্ভর করবে সারা দেশের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ কতটা ধারাবাহিকভাবে সেগুলো কার্যকর করতে পারে তার ওপর। ব্যয় ও ইতিবাচক মুখে-মুখে প্রচারের মাধ্যমে শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখা লাখ লাখ সুশৃঙ্খল পর্যটককে দূরে সরিয়ে না দিয়েই এই ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
মূল কথা
- আইন ভাঙা, স্থানীয়দের ভয় দেখানো বা অনুপযুক্ত আচরণ করা বিদেশি পর্যটকদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শাস্তির মধ্যে রয়েছে ভিসা বাতিল ও বহিষ্কার।
- ফুকেটে জনসমক্ষে অশালীন আচরণের আলোচিত ঘটনাগুলো, যার মধ্যে স্প্যানিশ, পেরুভীয় ও ফরাসি নাগরিকেরা জড়িত ছিলেন, দ্রুত অভিযান শুরু করতে প্রভাব ফেলেছে।
- ফুকেট অপরাধীদের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। অন্যদিকে সুরাত থানি কো ফা-ঙ্গান, কো সামুই ও কো তাও দ্বীপে ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে দীর্ঘদিন থাকা এবং নামসর্বস্ব ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
- পর্যটকদের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে রাখতে হবে, জনসমক্ষে নগ্নতা বা খোলা জায়গায় যৌন কর্মকাণ্ড এড়াতে হবে এবং বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও স্থানীয় রীতিনীতি সম্মান করতে হবে।
- ইন্দোনেশিয়ার বালিতেও একই ধরনের অভিযান চলছে। সেখানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারী ও লাইসেন্সবিহীন বিদেশি ব্যবসা শনাক্ত করতে বিশেষ টাস্কফোর্স পর্যটন এলাকায় টহল দিচ্ছে।






